এ.এস.এম. আশরাফুজ্জামানকে ঘিরে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, কমিশন বাণিজ্য ও অবৈধ সম্পদের অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রকৌশল বিভাগ) এবং একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) এ.এস.এম. আশরাফুজ্জামানকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, কমিশন বাণিজ্য এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, কয়েকজন ঠিকাদার এবং বিভিন্ন সূত্রের দাবি অনুযায়ী, বিআইডব্লিউটিএ’র কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পে প্রভাব বিস্তার করে তিনি একটি শক্তিশালী বলয় গড়ে তুলেছেন, যার মাধ্যমে দরপত্র প্রক্রিয়া ও প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন বা সরকারি কোনো তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য এই প্রতিবেদকের কাছে পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ অনুযায়ী, চট্টগ্রামের মিরসরাই ও সন্দ্বীপ, কক্সবাজারের সোনাদিয়া এবং টেকনাফের সাবরাং ও জালিয়ার দ্বীপ এলাকায় বাস্তবায়নাধীন “Development of Jetties and Infrastructure at Mirsarai & Sandwip at Chattogram, Subrang and Jaliar Dwip at Teknaf and Sonadia Dwip at Cox’s Bazar” প্রকল্পকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, প্রকল্পের বিভিন্ন কাজ বণ্টন, দরপত্র মূল্যায়ন এবং বিল অনুমোদনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে। কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করেছেন, বড় টেন্ডারগুলো প্রকাশের আগেই নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং কমিশনের বিনিময়ে কার্যাদেশ পাইয়ে দেওয়ার একটি অনিয়মিত ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চালু রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ঠিকাদারের ভাষ্য, বিআইডব্লিউটিএ’র বড় কাজগুলোতে অংশ নিতে গেলে প্রভাবশালী একটি চক্রের সঙ্গে সমন্বয় করতে হয়। তাদের অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে দরপত্রে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে গোপনে দরমূল্যসংক্রান্ত তথ্য পৌঁছে দেওয়া হয় এবং নির্দিষ্ট কমিশনের বিনিময়ে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো সরকারি নথি বা আদালতে প্রমাণিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের দাবি, নদী খনন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং সমীক্ষা কার্যক্রমের কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কারিগরি যাচাই-বাছাই ছাড়াই কাজ পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পর্যাপ্ত মাটি পরীক্ষা কিংবা বিশেষজ্ঞ মতামত ছাড়া কিছু কার্যক্রম বাস্তবায়নের কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নদীভাঙন, চর জেগে ওঠা এবং নৌপথ সংকটের মতো সমস্যা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও অভিযোগ করেছেন, কিছু অবকাঠামোতে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ.এস.এম. আশরাফুজ্জামানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি চাকরির বেতন-ভাতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা। রাজধানীর বাসাবো, শান্তিনগর, আহমেদবাগ, মায়াকানন, মোহাম্মদপুর, বসিলা, ধানমন্ডি, সবুজবাগ, মুগদা, ফতুল্লা, কেরানীগঞ্জ, রূপগঞ্জ, পূর্বাচল, কালীগঞ্জ, সাভার ও আশুলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট, বাড়ি, জমি ও প্লট থাকার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া তার নিজ জেলা কুষ্টিয়াতেও পরিবারের নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের আরও অভিযোগ, এসব সম্পদের একটি অংশ সম্পদ বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়নি। তবে এই অভিযোগগুলোর সত্যতা সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি তদন্ত সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি নিজের অবস্থান শক্তিশালী করেছেন এবং বড় বড় প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রেখেছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তার প্রভাব কমেনি এবং তিনি আগের মতোই বিভিন্ন প্রকল্প ও দরপত্র প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। তবে এসব দাবির পক্ষেও স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে বাজেট সংকটের মধ্যেও শত শত কোটি টাকার নতুন টেন্ডার আহ্বানের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি। তাদের অভিযোগ, প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা ও অগ্রাধিকার যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করেই কিছু দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং এর পেছনে কমিশন বাণিজ্যের উদ্দেশ্য থাকতে পারে। যদিও এ অভিযোগেরও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।

বিআইডব্লিউটিএ’র কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তা ও সুশাসন নিয়ে কাজ করা বিশ্লেষকদের মতে, বড় উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে অনিয়মের ঝুঁকি বাড়ে। তারা মনে করেন, দরপত্র প্রক্রিয়া, প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি, কাজের মান এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সম্পদের উৎস নিয়ে কোনো অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা উচিত। তাদের মতে, সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহিতা প্রয়োজন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে এ.এস.এম. আশরাফুজ্জামানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তার প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট মহল, ভুক্তভোগী হিসেবে পরিচয় দেওয়া কয়েকজন ঠিকাদার এবং সুশাসনকর্মীরা এ.এস.এম. আশরাফুজ্জামানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসমূহ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তার এবং পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। তাদের মতে, বিআইডব্লিউটিএ’র মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমের স্বার্থেই জরুরি।




পিতা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ, অথচ জামায়াত এমপি জন্মেছেন ১৯৮১ সালে!

ডেস্ক নিউজঃ জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বিতর্কিত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা হাফেজ আব্দুল মুনতাকিমকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংসদে দেওয়া তার নিজের দাবি এবং নির্বাচনী হলফনামায় উল্লিখিত জন্মতারিখের মধ্যে এক বিশাল ও অবাস্তব অসঙ্গতি প্রকাশ পাওয়ায় এই বিতর্কের সূত্রপাত।

মূল ঘটনার সূত্রপাত ঘটে জাতীয় সংসদের একটি অধিবেশনে মুক্তিযোদ্ধা সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিলের ওপর আলোচনার সময়। ওই অধিবেশনে জামায়াতে ইসলামীকে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে আইনগতভাবে চিহ্নিত করার বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক চলছিল। এমন প্রেক্ষাপটে সংসদে নিজের অবস্থান ও বক্তব্য তুলে ধরতে গিয়ে এমপি আব্দুল মুনতাকিম দাবি করেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তার নিজের পরিবারের অসামান্য ও গৌরবোজ্জ্বল অবদান রয়েছে।

গত ১৪ জুন সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করে দেওয়া সেই বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমার বাবা, আমার দাদা যুদ্ধে শহীদ। আমার আব্বারা (বাবা-চাচা) ৭ ভাই, ৪ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জন, ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক।’

এই চাঞ্চল্যকর বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরপরই সচেতন মহল ও অনুসন্ধিৎসু ব্যক্তিরা তার নির্বাচনী হলফনামা এবং ব্যক্তিগত নথিপত্র খতিয়ে দেখতে শুরু করেন। আর তাতেই বেরিয়ে আসে এক অবিশ্বাস্য ও গাণিতিকভাবে অসম্ভব এক বৈপরীত্য। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তার হলফনামা এবং উন্মুক্ত তথ্যকোষ উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, সংসদ সদস্য হাফেজ আব্দুল মুনতাকিমের জন্ম তারিখ উল্লেখ রয়েছে ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি।

নিজের বক্তব্যের শেষ দিকে এই সংসদ সদস্য নিজেও বলেন, তার জন্ম ১৯৮১ সালে।

এই জন্মসাল সামনে আসার পরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা তার বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন। নেটদুনিয়ায় তীব্র সমালোচনা ও ট্রল করে অনেকেই প্রশ্ন করছেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যদি তার পিতা শহীদই হয়ে থাকেন, তবে যুদ্ধ শেষ হওয়ার দীর্ঘ ১০ বছর পর অর্থাৎ ১৯৮১ সালে আব্দুল মুনতাকিমের জন্ম কীভাবে সম্ভব হলো?

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ ভোটাররা হিসাব কষে বলছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্রের হিসাব অনুযায়ী তার বর্তমান বয়স ৪৪ বছর ১১ মাস, যা ১৯৮১ সালের জন্মতারিখের সাথে সম্পূর্ণরূপে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কিন্তু ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে বা যুদ্ধে শহীদ হওয়া কোনো পিতার পক্ষে ১৯৮১ সালে সন্তান জন্ম দেওয়া কেবল অলৌকিক বা গাণিতিকভাবেই অসম্ভব নয়, বরং এটি একটি চরম ও হাস্যকর মিথ্যাচার।

সংসদে দেওয়া এই স্ববিরোধী বক্তব্য নিয়ে এখন পর্যন্ত জামায়াত নেতা হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম বা তার দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।




চিলমারী নদীবন্দর প্রকল্পে ৩৩৫ কোটি টাকার মহাদুর্নীতি! বিআইডাব্লিউটিএর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে টেন্ডার কারসাজি, ভুয়া বিল ও লুটপাটের বিস্ফোরক অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডাব্লিউটিএ) বহুল আলোচিত চিলমারী নদীবন্দর স্থাপন প্রকল্পকে ঘিরে সামনে এসেছে ভয়াবহ দুর্নীতি, টেন্ডার কারসাজি, ভুয়া বিল, নিম্নমানের নির্মাণকাজ এবং শত কোটি টাকা লুটপাটের বিস্ফোরক অভিযোগ। প্রায় ৩৩৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকার এই মেগা প্রকল্পে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ও নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদ মোল্লাসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রকল্পের শুরুতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুযায়ী ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল প্রায় ২৩৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। পরে সংশোধিত ডিপিপির মাধ্যমে প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে করা হয় ৩৩৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত বরাদ্দ পাওয়া প্রায় ১০০ কোটি টাকার একটি বড় অংশ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

‘প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের’ নিয়ন্ত্রণে পুরো প্রকল্প : সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, সাবেক নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত পিডি আবুল কালাম আজাদ মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখেন। তার নেতৃত্বে আওয়ামীপন্থী কিছু কর্মকর্তা, প্রভাবশালী ঠিকাদার এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে, যারা প্রকল্পের বিভিন্ন কাজ নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেয়।

অভিযোগে যাদের নাম উঠে এসেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন— সাবেক প্রতিমন্ত্রীর এপিএস বাশার, ডি.জি. বাংলা (DG Bangla)-এর স্বত্বাধিকারী আরশাদ পারভেজ, ডিপন এন্টারপ্রাইজ (Dipn Enterprise)-এর স্বত্বাধিকারী সজল চন্দ্র দত্ত এবং আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় অর্থবিষয়ক সম্পাদক সুভাসসহ আরও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, আবুল কালাম আজাদ মোল্লার কথিত ভাগ্নে হিসেবে পরিচিত সজল চন্দ্র দত্তের প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে সাইট ডেভেলপমেন্টসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ দেওয়া হয়।

বালু ভরাট ছাড়াই কোটি কোটি টাকার বিল উত্তোলনের অভিযোগ : প্রকল্প এলাকায় অনুসন্ধানে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, সাইট ডেভেলপমেন্টের নামে প্রয়োজনীয় বালু ভরাট না করেই ভুয়া পরিমাপ ও বিল তৈরি করে কয়েক কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
তাদের দাবি, বাস্তবে যে পরিমাণ কাজ হয়েছে তার সঙ্গে বিলের কোনো মিল নেই। অনেক স্থানে কাজের অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায়নি, অথচ সরকারি অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে পূর্ণাঙ্গ কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে।

ভবন নির্মাণে নকশা লঙ্ঘন, পাইলিংয়ে ভয়াবহ অনিয়ম :
অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভবন নির্মাণে অনুমোদিত নকশা অনুসরণ না করা। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনায় সরকারি অনুমোদিত ড্রয়িংয়ের পরিবর্তে ভিন্ন নকশা ব্যবহার করা হয়েছে।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে পাইলিং কাজে। অফিস কার্যাদেশ অনুযায়ী প্রতিটি পাইলের পরিমাপ হওয়ার কথা ছিল— ব্যাস (Dia): 500 mm
দৈর্ঘ্য: 40.50 মিটার
16 mm রড: ১০টি
কিন্তু বাস্তবে ব্যবহার করা হয়েছে— ব্যাস (Dia): 300 mm
দৈর্ঘ্য: 23 মিটার
16 mm রড: ৭টি
ফলে নির্মিত অবকাঠামোর স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, পরিমাপ কমিয়ে বিপুল পরিমাণ নির্মাণসামগ্রী আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার সরকারি অর্থ লুট করা হয়েছে।

‘নিজস্ব ড্রয়িং’ বানিয়ে কাজ করানোর অভিযোগ :
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, পিডি আবুল কালাম আজাদ মোল্লা সাইটে TIPE-1 ও TIPE-2 নামে দুটি আলাদা ড্রয়িং ব্যবহার করে কাজ করিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব ড্রয়িংয়ে সরকারি অনুমোদিত নকশার তুলনায় কম পরিমাণ রড ও কম গভীরতার পাইলিংয়ের নির্দেশনা ছিল বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। স্থানীয়দের মতে, এ কৌশলের মাধ্যমে নির্মাণ ব্যয় কম দেখিয়ে বিপুল অর্থ আত্মসাতের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়।

ভূমি অধিগ্রহণে জালিয়াতির অভিযোগ : চিলমারী এলাকায় সরেজমিন অনুসন্ধানে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন ভূমি মালিক অভিযোগ করেন, ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ বিতরণ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।
তাদের দাবি, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বঞ্চিত করে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সুবিধা দেওয়া হয়েছে এবং ক্ষতিপূরণের অর্থ বণ্টনে নানা ধরনের জালিয়াতি সংঘটিত হয়েছে।

কাগজে এক ঠিকাদার, বিল গেছে অন্য প্রতিষ্ঠানের হিসাবে :
প্রকল্পের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগগুলোর একটি হলো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও বিল প্রদানের তথ্যের অসঙ্গতি।
প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, কাগজপত্রে ঠিকাদার হিসেবে KHANDAKER SHAHIN AHMED LTD & SIGN ENGINEERING LTD (KSL–SEL Joint Venture)-এর নাম থাকলেও বিল পরিশোধের প্রমাণ পাওয়া গেছে DG Bangla-এর এনআরবি ব্যাংক, মিরপুর শাখার হিসাবে। অভিযোগ রয়েছে, Memo No: 18.14.0000.298.19.021.23/279 নম্বর স্মারকের মাধ্যমে প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম আজাদ মোল্লার স্বাক্ষরিত পেমেন্ট সার্টিফিকেটও DG Bangla-এর অনুকূলে ইস্যু করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রকল্পের আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

‘কাজ না করেই ভাগাভাগি’—ফাঁস আর্থিক বণ্টনের তথ্য :
নাম প্রকাশ না করার শর্তে DG Bangla-এর এক কর্মকর্তা দাবি করেন, চাকরি রক্ষার স্বার্থে তাদের বিভিন্ন আর্থিক কাগজপত্র প্রস্তুত করতে হয়েছে।
তার দাবি অনুযায়ী, একটি আর্থিক হিসাবপত্রে দেখা যায়— DG Bangla – ৫৫% : ৩ কোটি ৩৭ লাখ ৫৩ হাজার ৩৫২ টাকা ৯৯ পয়সা, Clients + Consultant – ৪৫% : ২ কোটি ৭৬ লাখ ১৬ হাজার ৩৭৯ টাকা ৭২ পয়সা, ওই কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, দুর্নীতির অর্থ কারা পেয়েছেন এবং কীভাবে বণ্টন হয়েছে সে সম্পর্কিত আরও তথ্য তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

DIPU ENTERPRISE-এর হিসাবে জমা হয়েছে দুর্নীতির অর্থ : সূত্রগুলোর অভিযোগ, প্রকল্পের বড় একটি অংশের অর্থ DIPU ENTERPRISE-এর নামে পরিচালিত ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবটি পরিচালিত হয় পাবালী ব্যাংক পিএলসির ফরেন এক্সচেঞ্জ শাখার মাধ্যমে। এছাড়া বিপুল অঙ্কের নগদ লেনদেনের মাধ্যমেও অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে এখনো কোনো স্বাধীন নিরীক্ষা বা তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।

বক্তব্য এড়িয়ে গেলেন প্রকল্প পরিচালক :
অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম আজাদ মোল্লার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
তবে এক সাংবাদিক এর পাঠানো বার্তার জবাবে তিনি বর্তমান সরকারের এক প্রতিমন্ত্রীর ঠিকাদারি লাইসেন্সের কপি পাঠিয়ে দাবি করেন, প্রকল্পের কিছু কাজ ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছিল। তবে অভিযোগকারীরা বলছেন, সাব-কন্ট্রাক্টের বিষয়টি থাকলেও বিল প্রদানের পদ্ধতি ও আর্থিক লেনদেনের অসঙ্গতির ব্যাখ্যা এখনো স্পষ্ট নয়।

বিআইডাব্লিউটিএ কর্মকর্তাদের বিস্ফোরক দাবি :
বিআইডাব্লিউটিএর একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ছিল না এবং তৎকালীন নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রীর এপিএস বাশার ও ঠিকাদার আরশাদ পারভেজের প্রভাব এতটাই শক্তিশালী ছিল যে তাদের বাইরে গিয়ে কোনো কর্মকর্তা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেননি। তাদের ভাষ্য, প্রকল্পের বিভিন্ন ধাপে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক চাপ ছিল প্রকাশ্য গোপন সত্য।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি :
এদিকে চিলমারী নদীবন্দর প্রকল্পে উত্থাপিত এসব অভিযোগের পর স্থানীয় সচেতন মহল, নাগরিক সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ আর্থিক নিরীক্ষা, কারিগরি মূল্যায়ন এবং দুর্নীতি অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন।
তাদের মতে, সরকারি অর্থ লুটপাট, নিম্নমানের নির্মাণকাজ এবং টেন্ডার অনিয়মের অভিযোগ সত্য হলে এটি দেশের অন্যতম বড় অবকাঠামো দুর্নীতির ঘটনায় পরিণত হতে পারে। তাই বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

উল্লেখ্য: প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট সূত্র, স্থানীয়দের বক্তব্য এবং প্রাপ্ত নথিপত্রের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।




শ্রীমঙ্গলের অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার দুপুরে আকাশযোগে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে সেখান থেকে সড়কপথে শীমঙ্গলে যান তিনি। এরপর সেখানকার ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শ্রীমঙ্গলের মির্জাপুর ইউনিয়নে ১ নম্বর ওয়ার্ডে সুইলপুর গ্রামের ১৫৫ জনের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করেছেন। এছাড়া, ক্যানসার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় রোগে আক্রান্ত ৫ জনকে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক দেবেন। পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পাঁচজনের জীবনমান উন্নয়নে ১০ হাজার টাকা করে এককালীন আর্থিক অনুদান এবং পাঁচ শিক্ষার্থীকে ১০ হাজার টাকা করে এককালীন আর্থিক অনুদান দেবেন।

এছাড়া, দুঃস্থ, অসহায়, অসুস্থ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি ও গৃহহীন ১০০ জনকে ১০ হাজার টাকা করে বিশেষ অনুদানের চেক প্রদান করবেন। প্রধানমন্ত্রী টেকসই আবাসনের জন্য পাঁচজন চা-শ্রমিকের হাতে ২ লাখ টাকা করে বরাদ্দ পত্রও তুলে দেবেন।

শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীদের পাশাপাশি দলে দলে যোগদান করছেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। নানান রঙের পোশাক পরে সমাবেশস্থলে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষরাও এসেছেন। মাঠের একপাশে উপকারভোগীদেরকে বসিয়ে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীকে পেয়ে অনেকটাই উচ্ছ্বসিত দলীয় নেতাকর্মীরা।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারি দল বিএনপি।

সফরসূচি অনুযায়ী, এদিন সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় মৌলভীবাজার থেকে ওসমানী বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী। রাত সাড়ে ৮টায় ফের আকাশপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি।




দুপুরের মধ্যে ১০ জেলায় বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা

আবহাওয়া ডেস্কঃ দেশের অন্তত ১০ অঞ্চলে দুপুরের মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। একইসঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কার কথা জানায় সংস্থাটি।

বুধবার (১৭ জুন) দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দুপুর ১টা পর্যন্ত আবহাওয়া অধিদফতরের দেওয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের উপর দিয়ে পূর্ব/দক্ষিণ-পূর্বদিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিমি বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এসব এলাকার নদীবন্দর সমূহকে ০১ নম্বর (পুনঃ) ০১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।




মেসি ৩-০ আলজেরিয়া; আর্জেন্টিনার দারুণ সূচনা

ক্রীড়া ডেস্কঃ একেই বলে মাস্টারক্লাস, একেই বলে দুর্দান্ত-দারুণ। এমন সুন্দর শুরু করা যায়, সেটা কোনো দিন ভেবেছিলেন কি লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চিও। তিনি ভেবেছেন কিনা জানি না তবে তার নামের সাথে যার নামের শুরুটার মিল আছে কিছুটা, সেই লিওনেল মেসি দেখালেন পায়ের জাদুতে কি সুন্দর হয়ে উঠতে পারে ফুটবলের মোনালিসা।

মেসি নিজে হ্যাট্রিক করে দলকে জেতালেন দারুণ নৈপুণ্যে। যদিও ম্যাচের শেষ দিকে মেসিকে তুলে নেয়া হয়। তবে ততক্ষণে যা করার করে ফেলেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।

আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৭৬তম মিনিটে নিজের হ্যাট্রিক পূরণ করেন লিওনেল মেসি, দল এগিয়ে যায় ৩-০ গোলে। এর আগে ম্যাচের ৬০ মিনিটের মাথায় আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনাকে ২-০ গোলে এগিয়ে দিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

এই ম্যাচেই বিশ্বকাপে মেসি ১৬তম গোলের মাইলফলক ছুঁয়েছেন। এই গোলে মেসি ছুঁয়ে ফেললেন ১৬ গোল করা মিরোস্লাভ ক্লোসাকে।

ম্যাচের ১৭তম মিনিটেই নিজের প্রথম গোল পান মেসি। দি পলের কাছ থেকে বল পেয়ে ২৫ গজ দূর থেকে করলেন অসাধারণ এক গোল। বিশ্বকাপে মেসির করা ১৪তম গোলটি নিয়েই যায় বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া ম্যাচের প্রথমার্ধের পুরোটা জুড়ে ছিলেন লিওনেল মেসি। খেলার মাত্র পাঁচ মিনিটেই বল জালে পাঠান মেসি। গ্যালারিতে শুরু হয় উল্লাস, কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই সহকারী রেফারির পতাকা উঠলে সেই উদ্‌যাপন থেমে যায়। এরপর বাতিল হয় আলজেরিয়ার একটি গোলও।

এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে ইতিহাসের তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে ২০০ তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলছেন মেসি। এর আগে এই মাইলফলকের দেখা পেয়েছেন শুধু পর্তুগাল কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও কুয়েতের সাবেক ফরোয়ার্ড বাদের আল-মুতওয়া।

তবে বিশ্বকাপে দেশের হয়ে ২০০ তম ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতায় মেসিই প্রথম! এটি মেসির ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। ছেলেদের বিশ্বকাপে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের ছয়টি আসরে খেলার রেকর্ড গড়েছেন এই কিংবদন্তি।




রেকর্ডটা বাকি ছিল, সেটাও ছুঁয়ে ফেললেন মেসি

ক্রীড়া ডেস্কঃ বিশ্বকাপে প্রায় দুই দশকের অপেক্ষার অবসান হলো। অসংখ্য রেকর্ড, বিশ্বকাপ শিরোপা, গোল আর জাদুকরী পারফরম্যান্সের পর অবশেষে নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিকের দেখা পেলেন মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে আর্জেন্টিনার তিন গোলই এসেছে অধিনায়ক মেসির পা থেকে।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। এর ফলও পেয়ে যায় দ্রুত। প্রথমার্ধের ১৭ মিনিটে মিডফিল্ড থেকে রদ্রিগো দি পল বল বাড়িয়ে দেন মেসির কাছে। বল পেয়ে তিনি পরিচিত ভঙ্গিতে এগিয়ে যান এবং প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেন জোরালো শট।

আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান দুই হাত লাগাতে পারলেও সেই দুর্দান্ত শট ঠেকাতে পারেননি। বল জালে জড়িয়ে গেলে এগিয়ে যায় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

প্রথম গোলের পরও থামেননি তিনি। ৬০ মিনিটের মাথায় আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনাকে ২–০ গোলে এগিয়ে দিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। অ্যালেক্সিস ম্যাক আলিস্টারের বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হন আলজেরিয়ার গোলরক্ষক। ফিরতি শটে গোল করে বল জালে জড়ান মেসি।

এরপর আসে সেই বহুল প্রতীক্ষিত মুহূর্ত। ম্যাচের ৭৬ মিনিটে দ্রুতগতির এক পাল্টা আক্রমণে বল পান মেসি। মাঝমাঠ থেকে বল এগিয়ে দেন  এনসো ফের্নান্দেস। কয়েকজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে জালে বল জড়িয়ে দেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। সঙ্গে সঙ্গেই পূর্ণ হয় তার বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক।

গোলের পর দুই হাত আকাশের দিকে তুলে উদযাপন করেন মেসি। সতীর্থরা ছুটে এসে তাকে ঘিরে ধরেন, আর গ্যালারিজুড়ে শুরু হয় ‘মেসি, মেসি’ ধ্বনি।

বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির ষষ্ঠ আসর। ২০০৬ সালে জার্মানিতে প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছিলেন তিনি। এরপর ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬ প্রতিটি বিশ্বকাপেই গোল করেছেন। ২০১৪ সালে দলকে ফাইনালে তুলেছিলেন, ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষা শেষে বিশ্বকাপ জেতান। তবে এত সাফল্যের মাঝেও বিশ্বকাপে কখনো হ্যাটট্রিক করা হয়নি তার।

২০২২ বিশ্বকাপে সাত গোল করে গোল্ডেন বল জিতেছিলেন মেসি। সৌদি আরব, মেক্সিকো, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, ক্রোয়েশিয়া ও ফ্রান্সের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ গোল করলেও কোনো ম্যাচে তিন গোল করতে পারেননি। সেই অপূর্ণতাই পূরণ হলো এবার।

৩৯ বছর বয়সেও বিশ্বমঞ্চে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়ে চলেছেন মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে এই হ্যাটট্রিক শুধু আর্জেন্টিনাকে জয়ের পথে এগিয়ে নেয়নি, বিশ্বকাপ ইতিহাসে তার নতুন রেকর্ড আরও এক মাইলফলক।




সিলেট পৌঁছে শ্রীমঙ্গলের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজঃ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে কর্মসূচিতে যোগদানের জন্য সিলেটে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার সকালে সফরের অংশ হিসেবে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। এরপর সেখান থেকে সড়কপথে শ্রীমঙ্গলের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে সকাল থেকে সড়কের দু’পাশে অবস্থান নিয়েছেন দলের নেতাকর্মীরা। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।

জানা গেছে, দুপুর ১টায় শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শ্রীমঙ্গলের মির্জাপুর ইউনিয়নে ১ নম্বর ওয়ার্ডে সুইলপুর গ্রামের ১৫৫ জনের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করবেন। এছাড়া, ক্যানসার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় রোগে আক্রান্ত ৫ জনকে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক দেবেন। পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পাঁচজনের জীবনমান উন্নয়নে ১০ হাজার টাকা করে এককালীন আর্থিক অনুদান এবং পাঁচ শিক্ষার্থীকে ১০ হাজার টাকা করে এককালীন আর্থিক অনুদান দেবেন।

এছাড়া, দুঃস্থ, অসহায়, অসুস্থ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি ও গৃহহীন ১০০ জনকে ১০ হাজার টাকা করে বিশেষ অনুদানের চেক প্রদান করবেন। প্রধানমন্ত্রী টেকসই আবাসনের জন্য পাঁচজন চা-শ্রমিকের হাতে ২ লাখ টাকা করে বরাদ্দ পত্রও তুলে দেবেন।

উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. ইয়াকুব আলী বলেন, ১৯৭৮ সালে ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এই মাঠে এসে বক্তব্য দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। আজ ৪৮ বছর পর একই মাঠে এসে বক্তব্য দেবেন জিয়াউর রহমানের পুত্র তারেক রহমান। আমরা এই মহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় আছি।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারি দল বিএনপি। দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষজন প্রধানমন্ত্রীকে দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান চৌধুরী তুহিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনে আমরা আনন্দিত। চায়ের সবুজ গালিচায় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে আমরা প্রস্তুত আছি।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত। সমাবেশে ৩০/৪০ হাজার মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীকে দেখার জন্য সবাই অধীর আগ্রহে আছেন।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, উপজেলা ও পৌর প্রশাসন থেকে আমরা সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। আমরা স্থানীয় সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশিল সমাজসহ সর্বস্তরের জনগণকে সাথে নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রধানমন্ত্রীর আগমনের প্রত্যাশা করছি।

মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর নিকট ঋণী। উনি মাত্র চার মাসের মাথায় শ্রীমঙ্গলে আসছেন। এটা আমাদের জন্য অনেক খুশির। শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জের মানুষ আনন্দের বন্যায় ভাসছেন প্রধানমন্ত্রীকে এক নজর দেখার জন্য। ঝড়-বৃষ্টি হলেও জনসভার মাঠে মানুষ আসবে সামনে থেকে প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনতে।

এদিকে, সফরসূচি অনুযায়ী, এদিন সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় মৌলভীবাজার থেকে ওসমানী বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী। রাত সাড়ে ৮টায় ফের আকাশপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি।




সেলিমুজ্জামান খানের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে সংবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর মিরপুর এলাকায়, মিরপুর প্রেস ক্লাবের সহ- সভাপতি মোঃ সেলিমুজ্জামান খানের ওপর সন্ত্রাসী কায়দায় হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী দাবি করেছেন, পূর্ব বিরোধ ও কোরবানির বর্জ্য অপসারণকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়।

ঘটনার সময় স্থানীয় লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বলে জানা যায়। পরে ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা দ্রুত জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেন। কল পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহত অবস্থায় সেলিমুজ্জামানকে উদ্ধার করে তার নিজ বাসার দোতলায় নিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
পুলিশের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তীতে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে পুরো ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা এবং হামলাকারীদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা যায়।

এদিকে ভুক্তভোগীর পরিবার দাবি করেছে, ঘটনার পর থেকেই তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যার কারণে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার ঘর থেকে বের হতেও ভয় পাচ্ছেন।

ঘটনাটি ঘটে গত ২৯ মে ২০২৬ তারিখ আনুমানিক সন্ধ্যা শারীরিক অবস্থার বিষয়ে জানা গেছে, মাথায় আঘাত ৬টায়। ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, মিরপুর ১ নম্বর ব্লক, পাওয়ার পর তার চিকিৎসা করানো হয়েছে এবং সিটি | সি-বাড়ি নং ১ ও ৩, রোড নং ৯ এলাকার পার্শ্ববর্তী স্ক্যান করা হয়েছে। চিকিৎসকরা তাকে পর্যবেক্ষণে ভবনের বাসিন্দা জিতু, মিতু ও ফরহাদসহ কয়েকজনের রেখেছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা যায়। সঙ্গে কোরবানির বর্জ্য ফেলা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।
এই ঘটনার পর আজ ১৪ জুন ২০২৬ তারিখে মিরপুর প্রেসক্লাবে একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী, সাংবাদিক ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হামলা এবং তিনি জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে গভীরভাবে শঙ্কিত।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, প্রথমে তাদেরকে বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে না ফেলে রাস্তার পাশে রাখার বিষয়ে অনুরোধ করা হলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি মারাত্মক উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং অভিযুক্তরা তাকে লক্ষ্য করে কিল, ঘুষি, চড়-থাপ্পড় ও লাথি মারতে থাকে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশাসনের প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি আরও জানান, প্রাণ বাঁচাতে তিনি দ্রুত নিজের বাসার বলেন, “আমি ন্যায়বিচার চাই, দোষীদের দ্রুত আইনের গেটের ভেতরে আশ্রয় নেন। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, আওতায় আনা হোক। আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় সেখানে গিয়েও হামলাকারীরা থেমে থাকেনি। এক পর্যায়ে ভুগছে, আমরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছি না।”

জিতু নামে একজন বেলচা হাতে নিয়ে গেটের সামনে এসে এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে তিনি অভিযোগ তাকে মারার চেষ্টা করে এবং তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন করেন, ঘটনার পর থেকে তাকে ও তার পরিবারকে স্থানে এলোপাতাড়ি ঘুষি ও আঘাত করে বলে দাবি করা বিভিন্নভাবে হয়রানি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে তারা মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এদিকে স্থানীয়ভাবে দাবি করা হচ্ছে, ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজে পুরো ঘটনার দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে ফুটেজ যাচাই বা তদন্তের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
হয়।

ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, মাথায় গুরুতর আঘাত লাগার পর তিনি ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপরও হামলাকারীরা লাঠিসোটা নিয়ে গেটের সামনে ভাঙচুর ও আঘাত করতে থাকে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।




‘আপনার বাড়তি সময় শেষ হয়েছে, আগামী বছরের জন্য প্র্যাকটিস করতে থাকেন’

ডেস্ক নিউজ : ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি) আসনের জেবা আমিন খানকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বক্তব্য পেশ করার পরামর্শ দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার (১৬ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের অষ্টম দিনে জেবা আমিনকে এ পরামর্শ দেন স্পিকার।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আপনার বাড়তি সময় শেষ হয়েছে, আগামী বছরের জন্য প্র্যাকটিস করতে থাকেন।

মূলত জেবা আমিন খানকে তার বক্তব্য পেশ করার জন্যে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তিনি আরও বাড়তি সময় চান। সেই সময় শেষ হয়ে গেলে উনি আবারও স্পিকারের কাছে অনুরোধ করেন। 

পরবর্তীতে স্পিকার তাকে এই পরামর্শ দেন।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালে তিনি বিএনপির পক্ষ থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন পান এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে তার প্রার্থিতা ও মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন কমিশনে ও আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জ এলেও শেষ পর্যন্ত তা বৈধ ঘোষিত হয়।