সিনেমায় নিজেকে ‘ফ্লপ অভিনেতা’ সম্বোধন, ভক্তদের ক্ষোভ নিয়ে মুখ খুললেন অক্ষয়

বিনোদন ডেস্ক : বলিউড সুপারস্টার অক্ষয় কুমারের মুক্তিপ্রতীক্ষিত সিনেমা ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’-এর ট্রেলার প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই নেটদুনিয়ায় একটি নির্দিষ্ট সংলাপ নিয়ে তুমুল চর্চা চলছে। ট্রেলারে অক্ষয়কে ‘ফ্লপ অভিনেতা’ বলে সম্বোধন করা হয়েছে, যা নিয়ে তার ভক্তদের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।

সম্প্রতি মুম্বাইয়ে সিনেমাটির ট্রেলার প্রকাশ অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেতা। তিনি ভক্ত ও দর্শকদের এই সংলাপটিকে ব্যক্তিগতভাবে না নিয়ে সিনেমার চরিত্রের খাতিরে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়, নির্মাতারা কেন তার জন্য এই নির্দিষ্ট শব্দটি বেছে নিলেন? জবাবে অক্ষয় কুমার বলেন, এটিকে ছবির গল্প এবং চরিত্রের প্রেক্ষাপট থেকেই বোঝা উচিত, তার বাস্তব জীবনের ক্যারিয়ারের ওপর কোনো ব্যক্তিগত মন্তব্য হিসেবে নয়। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের অভিব্যক্তি বা সংলাপ প্রায়শই একটি চরিত্রের অংশ বা আখ্যানের প্রয়োজনে তৈরি করা হয়।

রসিকতার সুরে অক্ষয় বলেন, আমাদের কখনো বলা হয় না যে বাস্তব জীবনের কোনো খোঁচা বা কটাক্ষ হিসেবে এই সংলাপগুলো ব্যবহার করতে হবে। আমি নিশ্চিত আপনারা অত্যন্ত বুদ্ধিমান দর্শক। যখনই কোনো সিনেমা দেখবেন, তখন তা সিনেমার চরিত্রের আলোকেই বিচার করবেন। আমার জন্য খারাপ লাগার কারণে আপনাদের ধন্যবাদ, তবে দয়া করে এটিকে এত গুরুত্ব সহকারে নেবেন না।

চার মিনিট ১০ সেকেন্ডের ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’-এর ট্রেলারটিতে দেখা গেছে, কমেডি ও অ্যাকশনের এক দারুণ মিশ্রণ। এবার সিনেমার পটভূমি চেনা শহর ছাড়িয়ে চলে গেছে গভীর জঙ্গলে, যেখানে একগুচ্ছ ভুল বোঝাবুঝির কারণে একদল অভিনেতা এক বড়সড় বিপদে জড়িয়ে পড়েন। গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন অক্ষয় কুমার, যিনি এমন এক অভিনেতার চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যার পর পর কয়েকটি সিনেমা ফ্লপ হওয়ায় তিনি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। জ্যাকলিন ফার্নান্দেজের বিপরীতে একটি নতুন প্রজেক্টে সুযোগ পাওয়ার পর তার ভাগ্য বদলাতে শুরু করে। তবে সিনেমার শুটিং করতে গিয়ে পুরো ক্রু যখন ভারত সীমান্তের কাছাকাছি একটি গ্রামে পৌঁছায়, তখন গল্পে নতুন মোড় নেয়। গ্রামের সাধারণ মানুষ এই অভিনেতাদের বাস্তব জীবনের আসল সেনা বা বীর ভেবে ভুল করে এবং জ্যাকি শ্রফের নেতৃত্বাধীন একটি বিপজ্জনক গ্যাংয়ের হাত থেকে তাদের রক্ষা করার অনুরোধ জানায়। এই চরম বিভ্রান্তি থেকেই তৈরি হয় একের পর এক হাসির পরিস্থিতি, যেখানে অক্ষয়ের চরিত্রটিকে বারবার সবাইকে মনে করিয়ে দিতে দেখা যায় যে তিনি কেবল একজন অভিনেতা, বাস্তব জীবনের কোনো হিরো নন।

আহমেদ খান পরিচালিত এবং ফিরোজ এ নাদিয়াদওয়ালা, রাকেশ ডাং ও বেদান্ত বিকাশ বালি প্রযোজিত বহু প্রতীক্ষিত এই সিনেমাটি আগামী ২৬ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে।




যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক বা শান্তি চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে যে আলোচনা চলছে, তা স্পষ্টভাবে নাকচ করে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। দীর্ঘদিনের বৈরিতা নিরসনে দুই দেশ চুক্তির খুব কাছে পৌঁছে গেছে বলে যে দাবি উঠেছে, তাকে আপাতত ‘গুঞ্জন’ বলেই অভিহিত করেছেন তিনি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার যে প্রক্রিয়া চলছে, তা এখনো চূড়ান্ত কোনো পরিণতির দিকে যায়নি। সংবাদমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “যেকোনো চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার আগে তা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা বা খবর প্রচার করা থেকে বিরত থাকা উচিত। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখার লক্ষ্যে সব তথ্য উপযুক্ত সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জনসাধারণের সামনে প্রকাশ করা হবে।” অর্থাৎ, গণমাধ্যমে চুক্তির ধারা বা শর্তাবলি নিয়ে যেসব তথ্য প্রকাশিত হচ্ছে, সেগুলোকে তিনি এখনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেননি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যে এক অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এর মধ্যে গত ৮ এপ্রিল দুই দেশের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এরপর গত এক সপ্তাহে বেশ কয়েকবার সংঘাতের ঘটনা ঘটলেও, দুই দেশ কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রেখেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে সম্প্রতি ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হলেও, ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে আলোচনার বর্তমান ধীরগতি ও সতর্ক অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে কোনো প্রকার আপস করার আগে বেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র চাইছে শর্তসাপেক্ষে (পারফরম্যান্স-ভিত্তিক) এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে। আব্বাস আরাগচির এই কঠোর অবস্থানের মাধ্যমে ইরান মূলত বোঝাতে চেয়েছে যে, তারা চাপের মুখে বা তড়িঘড়ি করে কোনো চুক্তি করতে রাজি নয়।

সামগ্রিক পরিস্থিতিতে, শান্তি চুক্তির বিষয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের কূটনৈতিক দরকষাকষি যে এখনও অনেক দূর বাকি—ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য তারই প্রমাণ। চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো দাবিকে নির্ভরযোগ্য মনে না করার আহ্বানই জানিয়েছেন তিনি।




শনিবার কক্সবাজার সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ : একদিনের সফরে আগামীকাল শনিবার সকালে কক্সবাজার যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন একথা জানান।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার বিমানযোগে কক্সবাজার যাবেন। কক্সবাজার নেমে সড়ক পথে চকরিয়ায় পিএমখালীতে পাতলী খাল পুনঃখনন, মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপন কর্মসূচির উদ্বোধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। রাতের ফ্লাইটেই তিনি ঢাকায় ফিরবেন।’

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবার পরে কক্সবাজারে তারেক রহমানের এটি প্রথম সফর। দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন এবং বিকালে চকরিয়া বাস টার্মিনালে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভা, সন্ধ্যায় সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মেরিন ড্রাইভ সড়ক ঘুরে দেখবেন। প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী নতুন উপজেলার ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করবেন।




মিরাজকে নিয়েই শেষ ওয়ানডের দল ঘোষণা বিসিবির

ক্রীড়া ডেস্ক : অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ছক্কা হাঁকিয়ে বাংলাদেশকে জয় এনে দেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। এতে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিজেদের করে নেয় টাইগাররা। তবে দলকে জয় এনে দেওয়ার পর হাসপাতালে যেতে হয়েছিল মিরাজ।

শুক্রবার (১২ জুন) হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন মিরাজ। টাইগার অধিনায়ককে নিয়েই সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) মাথায় আঘাত নিয়েই বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন মিরাজ। সতর্কতার স্বার্থে ম্যাচ শেষ হওয়ার পরই হাসপাতালে পাঠানো হয় তাকে। দুইবার স্ক্যান করানো হলেও সেখানে খারাপ কিছু ধরা পড়েনি। ১২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে থাকার পর বাসায় ফিরেছেন মিরাজ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় দলের ম্যানেজার নাফিস ইকবাল।
বিসিবির পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘মিরাজ বাসায় ফিরেছে। ১২ ঘণ্টার মতো পর্যবেক্ষণে ছিল। তার মাথায় একটা বাউন্সারে আঘাত লেগেছিল, তারপর একটু বমি হয়। যেটা কিছুটা চিন্তার ছিল। এরপরও সে খেলা চালিয়ে যায়। খেলার পর দ্রুতই বিসিবির ডাক্তার, ফিজিওরা সিদ্ধান্ত নেন তাকে এভারকেয়ারে পাঠানো হবে।’
তৃতীয় ওয়ানডের জন্য বাংলাদেশের দল: মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, লিটন দাস, মোসাদ্দেক হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, রিশাদ হোসেন, তানভির ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরীফুল ইসলাম এবং নাহিদ রানা।



জুনের শেষেই চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, জানালেন ডেপুটি স্পিকার

ডেস্ক নিউজ : সরকার গঠনের পর দ্বিতীয় দ্বিপক্ষীয় বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে চীনকে বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জুনের শেষ সপ্তাহে তার এ সফর অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। তার মতে, এ সফর বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিংয়ে অনুষ্ঠিত সপ্তম চায়না-সাউথ এশিয়া কো-অপারেশন ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ তথ্য জানান জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

তিনি বলেন, সরকার গঠনের পর দ্বিতীয় দেশ হিসেবে চীন সফরের সিদ্ধান্ত দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে।

বক্তব্যে কায়সার কামাল বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭৭ ও ১৯৮০ সালের চীন সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ১৯৯১ ও ২০০২ সালের সফর সেই সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করে।

আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে ডেপুটি স্পিকার বলেন, বর্তমান বিশ্বে জ্বালানি সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর ঋণের চাপ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের অস্থিরতার মতো চ্যালেঞ্জ এককভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এজন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা ও বহুপক্ষীয় সংলাপের বিকল্প নেই।

তিনি সার্ককে আরও কার্যকর করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে পর্যবেক্ষক দেশ হিসেবে চীনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কায়সার কামাল বলেন, আন্তঃসীমান্ত অবকাঠামো, বাণিজ্য করিডোর, ডিজিটাল সংযোগ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, পর্যটন এবং তরুণদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। এতে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংযোগ যেমন জোরদার হবে, তেমনি বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলাও সহজ হবে।

ফোরামের পাশাপাশি বাংলাদেশি সংসদীয় প্রতিনিধিদল চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়ে এবং ইউনান প্রদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সেক্রেটারি ওয়াং নিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন, অর্থনৈতিক অঞ্চল, পর্যটন, তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণ এবং চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীনের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

চীনা নেতারা বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বর্তমান সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেন এবং সম্ভাব্য সব ক্ষেত্রে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এর আগে ডেপুটি স্পিকারের নেতৃত্বাধীন সংসদীয় দল ১০ম চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোজিশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। এবারের প্রদর্শনীতে থিম কান্ট্রি হিসেবে বাংলাদেশ ৮৪টি প্যাভিলিয়ন নিয়ে অংশগ্রহণ করছে। বিশ্বের ৯০টি দেশের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ বাণিজ্য মেলা কুনমিংয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।




বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নরা কি পরিমাণ অর্থ পাবে, বাকিরা পাবে কতো?

ক্রীড়া ডেস্ক : বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ট্রফি জয়ের লড়াইয়ে নামছে দলগুলো, তবে মাঠের এই লড়াই শুধু শ্রেষ্ঠত্বের ট্রফির জন্যই নয়, এর সাথে জড়িয়ে আছে বিশাল অঙ্কের আর্থিক পুরস্কারও। আজ ১১ জুন থেকে পর্দা উঠছে ফুটবলের মহাযজ্ঞের। ইতিহাসে এবারই প্রথমবারের মতো ৪৮টি দেশ নিয়ে মাঠে গড়াচ্ছে বিশ্বকাপের জমজমাট আসর। আর এই মহোৎসবে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর জন্য ট্রফির পাশাপাশি পানির মতো টাকা ঢালছে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা।

আসরে অংশ নেওয়া প্রতিটি দেশের জন্যই থাকছে বড় অঙ্কের অর্থ। মূল টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই প্রস্তুতি পর্বের খরচ সামলাতে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি ফুটবল ফেডারেশনকে প্রাথমিক অবস্থায় ১.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার করে দিচ্ছে ফিফা। এরপর মাঠের লড়াইয়ে দলগুলো যত সামনের দিকে এগোবে, তাদের উপার্জনের খাতা তত ভারী হতে থাকবে। গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পার করে নকআউট পর্বের প্রতিটি ধাপে পা রাখার সাথে সাথেই দলগুলোর অ্যাকাউন্টে যোগ হবে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার।

পুরস্কারের এই বিশাল অঙ্কের তালিকায় সবচেয়ে বড় জ্যাকপটটি পাবেন অবশ্যই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। আগামী ১৯ জুলাই মেটলাইফ স্টেডিয়ামের মহাকাব্যিক ফাইনালে যে দলটি সোনালী ট্রফি উঁচিয়ে ধরবে, তারা পুরস্কার হিসেবে ঘরে তুলবে রেকর্ড ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। রানার্স-আপ বা দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী দলটিও খুব বেশি পিছিয়ে থাকছে না, সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে তাদের পকেটে ঢুকবে ৩৩ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া টুর্নামেন্টে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান অর্জনকারী দল দুটি পাবে যথাক্রমে ২৯ মিলিয়ন এবং ২৭ মিলিয়ন ডলার।

ফিফার এই বিশাল আর্থিক বরাদ্দের ছোঁয়া পাবে কোয়ার্টার ফাইনাল ও শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলোও। পঞ্চম থেকে অষ্টম স্থানে থাকা প্রতিটি দল পাবে ১৯ মিলিয়ন ডলার করে। নকআউটের প্রথম রাউন্ড অর্থাৎ নবম থেকে ষোড়শ স্থান পর্যন্ত প্রতিটি দলের ভাগ্যে জুড়বে ১৫ মিলিয়ন ডলার। এমনকি গ্রুপ পর্বের বাধা টপকাতে না পারা ১৭ থেকে ৩২ নম্বর দলগুলো পাবে ১১ মিলিয়ন ডলার করে এবং একদম তলানির ৩৩ থেকে ৪৮তম স্থান পাওয়া দলগুলোর প্রত্যেকে পাবে ৯ মিলিয়ন ডলার করে। সব মিলিয়ে এবারের মেগা টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া দেশগুলোর পেছনে ফিফা মোট ৬৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি বিশাল বাজেট ঘোষণা করেছে।

সূত্র: মার্কা




হরমুজ দিয়ে ১০ কোটি ব্যারেল তেল নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র, বাস্তবতা কী বলে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কৌশলগত হরমুজ প্রণালী দিয়ে ‘গোপনে লাখ লাখ ব্যারেল’ তেল পরিবহন করে নিয়ে গেছে, যা তেলের বৈশ্বিক দামে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করেছে।

ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, চলমান উত্তেজনার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র সফলভাবে এই জলপথ দিয়ে তেল সরিয়েছে। তার ভাষায়, “আমরা লাখ লাখ ব্যারেল তেল বের করে এনেছি, কেউ কিছু টের পায়নি।”

তিনি আরও দাবি করেন, এই গোপন অভিযানের কারণেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯০ ডলারে স্থিতিশীল রয়েছে, যা যুদ্ধের শুরুতে ১০০ ডলারের ওপরে ছিল।

বিশ্বের মোট জ্বালানি বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ প্রবাহিত হয় এই সরু ও কৌশলগত জলপথ দিয়ে। চলমান সংঘাতের কারণে মার্চের শুরু থেকে হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়ে। ইরান ঘোষণা দেয়, তারা কোনও জাহাজকে এই প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেবে না। পরবর্তীতে নির্দিষ্ট কিছু ‘বন্ধু রাষ্ট্রের’ জাহাজের জন্য সীমিত অনুমতি দেওয়া হয়, তবে শর্ত থাকে যে, তাদের ইরানের সঙ্গে সমঝোতা করতে হবে।

এপ্রিলের ১৩ তারিখে, তেহরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির পাঁচ দিন পর, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজ ও বন্দর লক্ষ্য করে নৌ অবরোধ আরোপ করে।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের টানাপোড়েনের মধ্যে খুব সীমিত সংখ্যক জাহাজই প্রণালীটি পার হতে সক্ষম হয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে- যুক্তরাষ্ট্র কি সত্যিই ইরানের অনুমতি ছাড়া এই জলপথ দিয়ে কোটি কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন করতে পেরেছে?

ট্রাম্প কী দাবি করেছেন?
ট্রাম্প বলেন, সাম্প্রতিক অভিযানে ‘২২টি জাহাজ রাতে আলো নিভিয়ে পার করা হয়েছে’, কারণ ইরানের রাডার ব্যবস্থা নাকি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তিনি এই ‘গোপন মিশন’ প্রকাশ করছেন কারণ তেহরান বিষয়টি বুঝে ফেলেছে।

পরবর্তীতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে তিনি লেখেন, গত মাসে তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেন হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে তেলবাহী জাহাজ ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে ‘গোপন অভিযান’ পরিচালনা করতে।

তার দাবি অনুযায়ী, এই অভিযানের ফলে প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “২০০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে প্রণালী পার হয়েছে। এখন হরমুজ প্রণালী যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে, ইরানের নয়।”

তিনি ইরানের সামরিক শক্তিকে ‘পরাজিত’ ও তাদের অর্থনীতিকে ‘ধ্বংসপ্রায়’ বলেও মন্তব্য করেন।

তবে একই দিনে মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট কংগ্রেস শুনানিতে জানান, তিনি হরমুজ প্রণালী দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এমন কোনও বৃহৎ তেল পরিবহনের বিষয়ে অবগত নন। তবে তিনি স্বীকার করেন, কিছু ক্ষেত্রে মার্কিন সেনাবাহিনী জাহাজ চলাচলে সহায়তা করেছে। তিনি স্পষ্ট করেন, এসব জাহাজ ইরানি নয়।

গালফ অঞ্চলের সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারসহ বিভিন্ন দেশ এই প্রণালী ব্যবহার করে তাদের তেল রফতানি করে।

বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্র কি এই তেল সরাতে পেরেছে?
বিশ্লেষণে দেখা যায়, ট্রাম্পের দাবি বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, ১০ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন হয়েছে, যা যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতিতে পাঁচ দিনের সমুদ্রপথ বাণিজ্যের সমান। যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালী দিয়ে দৈনিক প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবাহিত হতো।

সেই হিসেবে, যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মোট সম্ভাব্য পরিবহনযোগ্য তেল প্রায় ২০০ কোটি ব্যারেল হওয়ার কথা ছিল, যদি স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকত।

এছাড়া যুদ্ধপূর্ব দৈনিক প্রায় ১৪০টি জাহাজ এই প্রণালী ব্যবহার করতো। সেই হিসাবে পাঁচ দিনের স্বাভাবিক ট্রাফিকেই প্রায় ৭০০টি জাহাজ পার হওয়ার কথা।

বর্তমান সময়ে বিভিন্ন ট্র্যাকিং ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যেও বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যায়। উইন্ডওয়ার্ড জানিয়েছে, গত পাঁচ সপ্তাহে প্রায় ৮০টি বাণিজ্যিক জাহাজ উপসাগর ত্যাগ করেছে। লয়েড’স লিস্ট বলছে সংখ্যা ১৪২টি, আর কেপলার জানিয়েছে সর্বোচ্চ ২৬৪টি জাহাজ পারাপার হয়েছে।

তবে এসব সংখ্যাও ট্রাম্পের দাবি করা ১০ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহনের সমর্থনে যথেষ্ট নয় বলে বিশ্লেষকদের মত।

অনেক জাহাজই ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে  (আইআরজিসি) কর প্রদান করে- প্রণালী পার হয়েছে। কিছু জাহাজ চীনা মুদ্রা ইউয়ানেও অর্থ পরিশোধ করেছে বলে জানা গেছে।

হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ কার নিয়ন্ত্রণে?
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বলছে, তারা বাণিজ্যিক জাহাজের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় করছে, তবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

অন্যদিকে ইরানের আইআরজিসি এই কৌশলগত জলপথে কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।

পাকিস্তান, ভারত ও রাশিয়ার মতো কিছু দেশ তেহরানের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে জাহাজ পরিবহন করছে।

ইরান এই প্রণালীকে নিজেদের ভূখণ্ডসংলগ্ন অর্থনৈতিক লাইফলাইন হিসেবে বিবেচনা করছে এবং জাহাজ চলাচলের জন্য বীমাসদৃশ ফি আরোপ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা সমালোচকরা এই ফি-কে অবৈধ ‘টোল বুথ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

তবে ইরান দাবি করছে, হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জলসীমার অংশ নয়; এটি ইরান ও ওমানের যৌথ নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা।

ফ্লোরিডাভিত্তিক এনএসআই ইনস্যুরেন্স গ্রুপের সিইও অস্কার সেকালি বলেন, “ভূগোলিক সুবিধাকে আর্থিক সুবিধায় রূপান্তরের প্রচেষ্টা এটি। প্রাচীন এই কৌশলই এখন নতুনভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, একটি বড় তেলবাহী জাহাজ প্রতিদিন প্রায় এক লাখ ডলার খরচ করে, এবং ১০০ দিনের বিলম্বে ক্ষতি দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ কোটি ডলার পর্যন্ত। তবে ইরানকে অর্থ প্রদান অনেক কোম্পানিই এড়িয়ে চলে, কারণ এতে নিষেধাজ্ঞা, আইনি ঝুঁকি ও বীমা জটিলতা তৈরি হতে পারে।

সূত্র: আল-জাজিরা




কিডনি ডায়ালাইসিসে খরচ কমাতে শুল্ক ছাড়ের প্রস্তাব

ডেস্ক নিউজ : কিডনি রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ প্রস্তাব কার্যকর হলে প্রতি ডায়ালাইসিসে রোগীদের খরচ প্রায় ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রস্তাবনা দেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের বিপুল সংখ্যক কিডনি রোগীর জীবন রক্ষায় ডায়ালাইসিস ফিল্টার একটি অত্যাবশ্যকীয় চিকিৎসা উপকরণ। কিন্তু বর্তমানে এই পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে উচ্চ করভার থাকায় রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

এ পরিস্থিতি বিবেচনায় ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে আরোপিত ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর (এআইটি) সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক সুবিধার কারণে রোগীদের প্রতি ডায়ালাইসিসে ব্যয় প্রায় ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী। এছাড়া মৃতদেহ সংরক্ষণে ব্যবহৃত মর্চুয়ারি (Mortuary) আমদানির ক্ষেত্রেও শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এ পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক থাকলেও তা কমিয়ে ১ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়াও ওষুধ শিল্পের জন্য কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ছাড় সুবিধার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে-

১) ক্যান্সারের ওষুধ তৈরির নতুন ৯টি কাঁচামাল আমদানি: দেশীয় ফার্মাসিউটিক্যালস শিল্পকে স্থানীয়ভাবে আন্তর্জাতিক মানের ও সাশ্রয়ী মূল্যের ক্যান্সার প্রতিরোধী ওষুধ উৎপাদনে সক্ষম ও স্বাবলম্বী করে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই খাতে কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে নতুন করে আরও ৯টি উপকরণ যুক্ত করে আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

২) Active Pharmaceutical Ingredient (API) তৈরির নতুন ৫১টি কাঁচামালের আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার: ওষুধ শিল্পের অধিকতর প্রসারকল্পে স্থানীয়ভাবে এপিআই উৎপাদনের লক্ষ্যে নতুন ৫১টি কাঁচামালের আমদানি শুল্ক শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

৩) ওষুধ শিল্পের নতুন ১৭টি কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ছাড়: আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি ওষুধের রফতানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বিদ্যমান রেয়াতি সুবিধা সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে নতুন করে আরও ১৭টি মৌলিক কাঁচামাল অন্তর্ভুক্ত করে আমদানি শুল্ক শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাবনা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

৪) ওষুধ শিল্পে ব্যবহৃত বায়োলজিক্যাল সেফটি ক্যাবিনেট আমদানিতে শুল্ক ছাড়: বায়োলজিক্যাল সেফটি ক্যাবিনেট আমদানিতে বিদ্যমান ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক হ্রাস করে ১ শতাংশ নির্ধারণপূর্বক এটিকে মূলধনী যন্ত্রপাতির রেয়াতি সুবিধা সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

৫) স্যান্ডউইচ প্যানেল রুম আমদানিতে শুল্ক ছাড়: ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অত্যাবশ্যকীয় স্যান্ডউইচ প্যানেল রুম, আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ৫ শতাংশ আমদানি শুল্কের পরিবর্তে ১ শতাংশ করার প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে বাজেটে।

সরকারের এসব উদ্যোগ চিকিৎসা খাতে ব্যয় কমানোর পাশাপাশি জনসাধারণের জন্য স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




শিল্পকলায় আজ থেকে ‘নতুন নাটকের উৎসব ২০২৬’

বিনোদন ডেস্ক : দেশীয় নাট্য সংস্কৃতির বিকাশ ও নতুন সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে আজ থেকে শুরু হচ্ছে আট দিনব্যাপী নতুন নাটকের উৎসব। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশেষ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম। নতুন নাটক তৈরি এবং দর্শকদের নাটকের প্রতি আরও বেশি আকৃষ্ট করাই এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য।

এবারের উৎসবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মোট আটটি নাট্যদল তাদের নতুন নাটক মঞ্চায়ন করবে। উদ্বোধনী দিনে দিনাজপুর নাট্য সমিতির বিশেষ নাটক প্রদর্শিত হবে। এছাড়া বান্দরবানের একটি ঐতিহ্যবাহী দলসহ দেশের নামকরা বেশ কয়েকটি নাট্য সংগঠন এই উৎসবে অংশ নিচ্ছে, যা নাটকপ্রেমীদের মাঝে আলাদা উদ্দীপনা তৈরি করেছে।

জাতীয় নাট্যশালার পরীক্ষণ থিয়েটার মিলনায়তনে প্রতিদিন সন্ধ্যায় মূল নাটক মঞ্চায়নের আগে থাকবে ঐতিহ্যবাহী বাংলা নাটকের গান পরিবেশনা। ঢাকা ও ঢাকার বাইরের আটটি দল এই সঙ্গীতানুষ্ঠানে অংশ নেবে।

এছাড়া উৎসবের অংশ হিসেবে আগামী ১৫ থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত তরুণ ও উদীয়মান নাট্যনির্দেশকদের কাজের দক্ষতা বাড়াতে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালারও আয়োজন করা হয়েছে।




শপিংমল-দোকানপাট খোলা রাখার নতুন সময় নির্ধারণ, আজ থেকেই কার্যকর

ডেস্ক নিউজঃ ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সারাদেশে আজ থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দোকানপাট, বিপণিবিতান ও শপিংমল খোলা খাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বেলা দুইটার দিকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। 

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দোকানপাট ও বিপণিবিতান খোলা রাখা যাবে।

জানা যায়, আজ দুপুরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ মোবাইল ফোনে দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় মন্ত্রী আজ থেকে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দোকানপাট ও বিপণিবিতান খোলা রাখার বিষয়টি জানিয়েছেন।

এসময় এই সিদ্ধান্তের জন্য দোকান মালিক সমিতির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদকে ধন্যবাদ জানান।

এর আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। পাল্টা হামলা করে ইরান। তারপর যুদ্ধ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। তখন জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২ এপ্রিল রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সীমা এক ঘণ্টা কমানো হয়।

একইসঙ্গে দোকানপাট ও শপিং মল (বিপণিবিতান) সন্ধ্যা ছয়টার সময় বন্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়, পরদিন থেকেই যা কার্যকর হয়। যদিও পরে দোকান ব্যবসায়ী সমিতির অনুরোধে সেই সময়সীমা এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়।

এর আগে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে দোকানপাট ও শপিং মল রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল বিদ্যুৎ বিভাগ। তবে ঈদের পর আবারও সন্ধ্যা ৭টায় দোকান-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শপিং মল যথারীতি বন্ধ রাখা হয়।