সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন, তিন ধাপে বাস্তবায়ন

ডেস্ক নিউজঃ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা যুগোপযোগী করতে নতুন জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুমোদন করেছে সরকার। নতুন কাঠামোয় বিদ্যমান ২০টি বেতন গ্রেড বহাল রেখে মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ এবং সংশ্লিষ্ট যৌথবাহিনী নির্দেশাবলি ২০২৬ অনুমোদন করা হয়। নতুন বেতন স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।

জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ এবং সংশ্লিষ্ট বেতন কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর সচিব কমিটি সুপারিশ প্রণয়ন করে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে দেশের আর্থিক সক্ষমতা, সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান এবং যৌক্তিক বেতন কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতনস্কেল অনুমোদন করা হয়েছে।

নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাতও কিছুটা কমানো হয়েছে। বর্তমানে এ অনুপাত ১:৯.৯৪ থেকে কমিয়ে ১:৭.৮ করা হয়েছে। ফলে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

তিন ধাপে বাস্তবায়ন

অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ বিবেচনায় নিয়ে সরকার একসঙ্গে পুরো বেতনস্কেল বাস্তবায়ন না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ১ জুলাই ২০২৭ সালের মধ্যে মূল বেতন মোট তিন ধাপে কার্যকর হবে। তবে ভাতাসমূহ ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে একযোগে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সরকার বেতনস্কেল বাস্তবায়নে স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।

নতুন বেতনস্কেলের আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক সরকারি কর্মচারী এবং প্রায় ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন। এ জন্য সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক আর্থিক ব্যয়ের পরিমাণ আনুমানিক ১ লাখ ৭ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা হবে।

পেনশনেও পরিবর্তন

নতুন বেতনস্কেলে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সরকার ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ বা One Rank One Pension (OROP) ব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে সামরিক ও অসামরিক উভয় ক্ষেত্রে এটি একসঙ্গে বাস্তবায়নের জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় আপাতত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এর অংশ হিসেবে বয়স্ক পেনশনভোগীদের জীবনযাত্রার মান ও আর্থিক নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে স্ল্যাবভিত্তিক নিট পেনশনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। মাসিক ৯ হাজার টাকা বা তদূর্ধ্ব নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নিট পেনশন ১০০ শতাংশ, ৯ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৭৫ শতাংশ, ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকা বা তদূর্ধ্ব নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ফলে যারা দীর্ঘদিন আগে অবসরে গেছেন এবং তুলনামূলক কম নিট পেনশন পাচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হবে।

সব গ্রেডে মোবাইল ভাতা

সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদা পূরণে প্রথমবারের মতো প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রতি সন্তানের জন্য মাসিক ৩ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হবে। এ ছাড়া ইন্টারনেট ও ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যয়ের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে মোবাইল ভাতার আওতা বাড়ানো হয়েছে। এতদিন শুধু পঞ্চম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য মোবাইল ভাতা প্রযোজ্য থাকলেও নতুন বেতনস্কেলে সব গ্রেডের কর্মচারী মোবাইল ভাতা পাবেন।

সরকারের হিসাবে, নতুন বেতনস্কেল সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও কর্মোদ্যম বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষ, গতিশীল ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মূল্যস্ফীতির চাপ সামাল দিতে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের মাধ্যমে একই সঙ্গে সরকারি ব্যয়ের ওপর চাপও নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।




প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক চলছে।

সোমবার বিকেলে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে এই বৈঠক শুরু হয়।

এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ।

বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে, সকালে নতুন পে-স্কেল নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান, সরকারের ওপর সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাবসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং অর্থসচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে অতিরিক্ত কী পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন হবে এবং এর ফলে বাজেট ও অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, সে বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে এর আগে জানানো হয়েছিল।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হতে পারে। তবে পুরো বেতন কাঠামো একসঙ্গে বাস্তবায়ন না করে ধাপে ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।




তাজ ব্রিকস থেকে ফুলবাড়ীয়া কলেজ— কাস্টমস কর্মকর্তা ড. তাজুল ইসলামকে ঘিরে অনিয়মের নানা অভিযোগ, শত কোটি টাকার সম্পদের প্রশ্ন

বিশেষ প্রতিবেদক : সরকারি চাকরিতে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ব্যবসা, জমি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে কাস্টমস কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের মধ্যে রয়েছে শত কোটি টাকার কথিত অবৈধ সম্পদ অর্জন, ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে ব্যবসায়িক সুবিধা নেওয়া, ‘তাজ ব্রিকস’ ইটভাটায় নিয়ম না মানা এবং ফুলবাড়ীয়া কলেজের অর্থ ব্যবস্থাপনা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, দীর্ঘ চাকরিজীবনে সরকারি বেতন-ভাতা ও ঘোষিত আয়ের তুলনায় ড. তাজুল ইসলাম এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে যে পরিমাণ সম্পদ গড়ে উঠেছে, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ফুলবাড়ীয়া ও আশপাশের এলাকায় জমি, বাড়ি, ব্যবসা এবং অন্যান্য সম্পদ কেনার ক্ষেত্রে অর্থের উৎস কী ছিল, এসব সম্পদ কেনার টাকা তার বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না—তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য ও অভিযোগ অনুযায়ী, শুধু নিজের নামে নয়, পরিবারের সদস্য কিংবা ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নামেও সম্পদ রাখা হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। কারণ কারও নামে সম্পদ থাকলেই সেটির প্রকৃত অর্থদাতা বা ভোগদখলকারী কে, তা সবসময় সরাসরি বোঝা যায় না। এ কারণে জমির দলিল, নামজারি, খতিয়ান, ব্যাংক হিসাব, আয়কর নথি এবং সম্পদ বিবরণী যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

ড. তাজুল ইসলামকে ঘিরে আলোচনার আরেকটি বড় বিষয় ‘তাজ ব্রিকস’। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ইটভাটার কার্যক্রমে জমি ব্যবহারের অনুমতি, পরিবেশগত ছাড়পত্র, সরকারি অনুমোদন, ইটভাটার পরিচালনা এবং কাঁচামাল ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে।

বিশেষ করে ইটভাটাটি যে জমিতে পরিচালিত হচ্ছে, সেই জমির মালিকানা ও ব্যবহারের বৈধতা, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন এবং পরিবেশগত ছাড়পত্রের বিষয়গুলো যাচাই করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইটভাটার ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থ কীভাবে হিসাবভুক্ত করা হয়েছে এবং সেই অর্থের সঙ্গে ড. তাজুল ইসলাম বা তার পরিবারের সম্পদ বৃদ্ধির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের বিষয় বলে মনে করছেন তারা।

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে নিজের প্রভাব কাজে লাগিয়ে ড. তাজুল ইসলাম বিভিন্ন ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মাধ্যমে জমি কেনাবেচা, ব্যবসায়িক লেনদেন এবং অন্যান্য আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগ সত্য কি না, তা জানতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক লেনদেন, সম্পদ বিবরণী ও ব্যবসায়িক নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে ফুলবাড়ীয়া কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়ও ড. তাজুল ইসলামকে ঘিরে নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। কলেজের ভর্তি কার্যক্রম, বিভিন্ন অনুষ্ঠান, বার্ষিক বনভোজন, সাংস্কৃতিক আয়োজন, প্রচার-প্রচারণা এবং বিজ্ঞাপনসহ বিভিন্ন খাতে অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম মানা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

কলেজের সাধারণ তহবিল থেকে বিভিন্ন খাতে যে অর্থ খরচ হয়েছে, সেসব ব্যয়ের বিপরীতে যথাযথ বিল-ভাউচার ছিল কি না, কোন খাতে কত টাকা ব্যয় করা হয়েছে এবং গভর্নিং বডির অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

তবে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক, ল্যাব সহকারী ও অন্যান্য কর্মচারী নিয়োগকে কেন্দ্র করে। অভিযোগকারীদের দাবি, কলেজের বিভিন্ন পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যে নিয়োগসংক্রান্ত অনিয়মের পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা হতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৫ থেকে ৮ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো প্রার্থীকে অর্থের বিনিময়ে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না, নিয়োগ বোর্ডের সিদ্ধান্ত কীভাবে হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের যোগ্যতা কী ছিল এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে কোনো আর্থিক যোগাযোগ হয়েছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে নিয়োগসংক্রান্ত সব নথি, আবেদনপত্র, পরীক্ষার ফলাফল, সভার কার্যবিবরণী ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

অভিযোগ রয়েছে, কলেজের অর্থ ব্যবস্থাপনায় শুধু নিয়োগ নয়, বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও অন্যান্য কার্যক্রমের ব্যয় নিয়েও অসঙ্গতি ছিল। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রকৃত ব্যয়ের তুলনায় বেশি অর্থ দেখানো হয়েছে কি না, একই ধরনের খাতে একাধিকবার অর্থ ব্যয় হয়েছে কি না এবং বিজ্ঞাপন বা প্রচারের নামে দেওয়া অর্থের যথাযথ হিসাব রাখা হয়েছিল কি না—এসব বিষয় নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

এ কারণে কলেজের ব্যাংক হিসাব, ক্যাশবুক, আয়-ব্যয়ের হিসাব, বিল-ভাউচার, অডিট রিপোর্ট, গভর্নিং বডির সভার কার্যবিবরণী এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথি পর্যালোচনা করার দাবি উঠেছে। পাশাপাশি যেসব ব্যক্তি নিয়োগ পেয়েছেন এবং যারা নিয়োগ থেকে বাদ পড়েছেন, তাদের বক্তব্য নিলে নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে।

ড. তাজুল ইসলামের সম্পদ নিয়ে ওঠা অভিযোগের সঙ্গে ফুলবাড়ীয়া কলেজ ও ‘তাজ ব্রিকস’-এর কার্যক্রমের কোনো আর্থিক যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কলেজের কথিত অনিয়মের অর্থ কোথায় গেছে, কার মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে এবং সেই অর্থের কোনো অংশ জমি, বাড়ি, ব্যবসা বা অন্য কোনো সম্পদ তৈরিতে ব্যবহার হয়েছে কি না—এগুলো যাচাই ছাড়া অভিযোগের পূর্ণ চিত্র পাওয়া সম্ভব নয়।

অভিযোগকারীরা বলছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার বৈধ আয় এবং তার নামে বা পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য থাকলে তার উৎস অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। বিশেষ করে দীর্ঘ সময়ের চাকরিজীবনের আয়, পারিবারিক আয়, ব্যবসা থেকে পাওয়া অর্থ এবং জমি-বাড়ি কেনার ব্যয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা হিসাব করে দেখা জরুরি।

এ ক্ষেত্রে ড. তাজুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা জমি ও ভবনের দলিল, ব্যাংক হিসাব, আয়কর রিটার্ন, সম্পদ বিবরণী, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকানা এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথি পর্যালোচনা করলে প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে ‘তাজ ব্রিকস’-এর অনুমোদন ও আর্থিক হিসাব এবং ফুলবাড়ীয়া কলেজের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের নথিও পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী অবস্থানের কারণে দীর্ঘদিন এসব অভিযোগ নিয়ে কার্যকরভাবে অনুসন্ধান হয়নি। তবে এখন পুরোনো অভিযোগগুলো আবার সামনে আসায় ড. মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সম্পদ, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং ফুলবাড়ীয়া কলেজে তার দায়িত্ব পালনের সময়কার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।

অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্য বের করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত নথিপত্রভিত্তিক অনুসন্ধান করা। আয়কর ও সম্পদ বিবরণী থেকে শুরু করে জমির কাগজপত্র, ব্যাংক লেনদেন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের হিসাব, ইটভাটার অনুমোদন, কলেজের আয়-ব্যয় এবং নিয়োগসংক্রান্ত নথি একসঙ্গে যাচাই করা হলে ড. তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা বা অসত্যতা স্পষ্ট হতে পারে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ড. মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং ‘তাজ ব্রিকস’ কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও প্রকাশ করা প্রয়োজন। অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।




দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে পতন, ভরিতে কমলো কত

ডেস্ক নিউজঃ দেশের বাজারে স্বর্ণের গহনার দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে ৪ হাজার ৪৭৪ টাকা।

নতুন দাম অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের গহনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ২৫৪ টাকা।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের দাম কমার কারণে স্বর্ণের গহনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। সোমবার বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের বৈঠকে দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দাম কার্যকরের বিষয়টি জানানো হয়।




দুদকে তলব সাবেক সেনাপ্রধান শফিউদ্দিন আহমেদকে

ডেস্ক নিউজঃ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রবিবার দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিস পাঠানোর বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর তাকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়ে বক্তব্য দিতে বলা হয়েছে।

দুদকের পরিচালক আবুল হাসনাতের পাঠানো এ নোটিসে বলা হয়েছে, এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে ‘বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ’ পেয়েছে দুদক। অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদকের পরিচালক আবুল হাসনাতকে দলনেতা এবং উপ-পরিচালক মোজাম্মিল হোসেনকে সদস্য করে দুই সদস্যের একটি দল করা হয়েছে।

নোটিসে বলা হয়েছে, সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে শফিউদ্দিনের বক্তব্য শোনা ও গ্রহণ করা ‘একান্ত প্রয়োজন’। সে কারণে তাকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সঙ্গে নিয়ে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে।

নোটিসের তথ্য অনুযায়ী, শফিউদ্দিনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগের অনুসন্ধান প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর।

উল্লেখ্য, জেনারেল শফিউদ্দিন ২০২৪ সালের ২৩ জুন অবসরে যান।




চোরাচালান ও সীমান্ত হত্যা বন্ধে বিজিবিকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে রাষ্ট্রপতির আহ্বান

সীমান্ত রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের কাজের প্রশংসা করে বাহিনীকে চোরাচালান, মাদকপাচার, পুশ ইন ও সীমান্ত হত্যা বন্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ সোমবার দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

সাক্ষাৎকালে বিজিবি মহাপরিচালক দায়িত্বভার গ্রহণ করায় রাষ্ট্রপতিকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

তিনি এ সময় বাহিনীর সার্বিক কার্যক্রম এবং সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে বাহিনীতে অত্যাধুনিক ড্রোন ও আধুনিক প্রযুক্তি সন্নিবেশের উদ্যোগ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, সীমান্তে চোরাচালান, মাদক ও মানবপাচার বন্ধে অতন্দ্র প্রহরী বিজিবির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ সময় রাষ্ট্রপতি সীমান্ত রক্ষায় বাহিনীতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনে বিজিবির উদ্যোগের প্রশংসা করেন।  তিনি এ বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতারও আশ্বাস দেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




কারাগারে ফিলিস্তিনি নারীদের পানি দিচ্ছে না ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ফিলিস্তিনি নারী বন্দিদের কঠোর কারা-পরিস্থিতি নিয়ে অভিযোগ করায় তাদের সরাসরি শাসালেন দখলদার ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। রোববার (৩০ আগস্ট) প্রকাশিত একটি ভিডিওতে বেন-গভিরকে ওই বন্দিদের ধমক দেওয়ার পাশাপাশি নিজের বাস্তবায়িত কঠোর নীতি নিয়ে উল্লাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে বেন-গভিরকে ইসরায়েলের ডেমন কারাগারে আটক ফিলিস্তিনি নারী বন্দিদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। ভিডিওটি কবে ধারণ করা হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ভিডিওতে এক নারী বন্দি অভিযোগ করেন, কাআরাগারের পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ। তিন দিন ধরে তারা গোসল করতে পারেননি, পরিষ্কার পোশাক পাচ্ছেন না এবং চিকিৎসাসেবাও মিলছে না। ওই নারী বন্দি বলেন, আমরা তিন দিন ধরে গোসল করতে পারিনি। আমরা চিকিৎসা পাচ্ছি না এবং আমাদের পোশাকও পরিষ্কার নয়।

বন্দিরা জানান, নারী হিসেবে তাদের প্রয়োজনীয় মৌলিক সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে না। তাদের সেলে পর্যাপ্ত পানি ও স্বাভাবিক গোসলের ব্যবস্থার অভাব রয়েছে।

এসব অভিযোগে সহানুভূতি দেখানোর পরিবর্তে বেন-গভির তার সরকারের কঠোর নীতির পক্ষে অবস্থান নেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলের কারাগারে বন্দিদের আগের মতো ভালো পরিস্থিতি আর নেই এবং আমি নিজেই এর জন্য সরাসরি দায়ী। কারাগারে ভালো পরিস্থিতির দিন শেষ। এখন এটাই বাস্তবতা এবং এর জন্য আমি সরাসরি দায়ী। এই পরিস্থিতিতে আমি সন্তুষ্ট।

পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ফিলিস্তিনি বন্দিদের অভিযোগকে হাহাকার বলে কটাক্ষ করেন তিনি। তার দাবি, বন্দিদের জন্য কারাগারের সুযোগ-সুবিধা কমিয়ে ন্যূনতম পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়েছে। আমি এটি করতে পেরে গর্বিত।

বেন-গভিরের এই ভিডিও প্রকাশের পর ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও বন্দিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের বন্দিবিষয়ক কমিশন তার আচরণকে ‘বর্বরতা, ঘৃণা ও বর্ণবাদ’ বলে অভিহিত করেছে।

ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স ক্লাবও অভিযোগ করেছে, নারী বন্দিদের ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা তাদের মানবিক মর্যাদার ওপর আক্রমণ।

এটি বেন-গভিরের এমন কর্মকাণ্ডের প্রথম ঘটনা নয়। চলতি মাসের শুরুতেও তিনি এক ফিলিস্তিনি নারী বন্দির সঙ্গে কথা বলার ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন। ওই নারী খাবার ও পানির মান নিয়ে অভিযোগ করলে বেন-গভির তাকে বলেছিলেন, খাবার ভালো হওয়া উচিত নয়। এটা কোনো হোটেল নয়।

ইসরায়েলের রাজনীতিতে উগ্র ডানপন্থী হিসেবে পরিচিত বেন-গভির ২০২২ সালের শেষ দিকে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা বন্দিদের জন্য তিনি কঠোর কারা-নীতি প্রণয়ন করেছেন।




আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্সে অংশগ্রহণকারীদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শন

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেছেন মিরপুর সেনানিবাসস্থ ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি) এর আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্সে অংশগ্রহণকারী ৬২ জন সামরিক কর্মকর্তা।

সোমবার ঢাকার শেরেবাংলা নগরস্থ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন তারা।

এ সময় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, হেড অব ডেলিগেশন হিসাবে ব্রি. জে. মোহাম্মদ নাজমুল হক, বিএসপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, ফ্যাকাল্টি মেম্বার ও স্টাফ অফিসাররা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন উপলক্ষে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রতিরক্ষা সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন। সভায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়। এরপর প্রশ্ন-উত্তর পর্বে প্রাণবন্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।




বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের শুভেচ্ছা

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন ফ্যাসিস্ট সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের অন্যতম শরিক জোট জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের শীর্ষ নেতারা।

শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল) সভাপতি ব্যারিস্টার নাসিম খান, জোটের মুখপাত্র ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান এস এম শাহাদাৎ, গণদল চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এ টি এম গোলাম মাওলা চৌধুরী, বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান এম এন শাওন সাদেকী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ-আল-হারুন (সোহেল), ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন চন্দ্র দাস, জাগপা সভাপতি জাকির হোসেন রিয়াজ, এনডিপি মহাসচিব জামিল আহমেদ, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল বারেক, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পার্টির মহাসচিব সাইফুল ইসলাম, বিএমএল মহাসচিব রেজওয়ান মর্তুজা, ডিএলের সহ-সভাপতি মাহবুব আলম ও এনপিপির যুগ্ম-মহাসচিব সোহেল রানা প্রমুখ।

শুভেচ্ছা বিনিময়কালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আন্দোলনে বিএনপির সঙ্গে থেকে আন্দোলনকে বেগবান করেছিল। গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় করতে বর্তমানে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট পূর্বের মতো বিএনপির পাশে থেকে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়ক ব্যারিস্টার নাসিম খান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে দেশকে সমৃদ্ধশালী করতে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট বিএনপির পাশে থাকবে।




সিএনএন’র বিশ্লেষণ হরমুজ প্রণালীতে প্রভাব হারাচ্ছে ইরান?

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাত নিয়ে ‘ইরান জিতছে’—এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি বলছে, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে ইরানের দর-কষাকষির ক্ষমতা ততই কমে আসছে। এমন বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন

সংবাদমাধ্যমটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের ওপর ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়ে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি করেছে এবং তেহরানের ওপর নানা ছাড়ের দাবি জানিয়েছে। কিন্তু ইরান আত্মসমর্পণ করেনি। দেশটির সরকার এখনও ক্ষমতায় রয়েছে এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাও আঞ্চলিকভাবে হুমকি হয়ে আছে।

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করার সক্ষমতা ইরানের রয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন, হরমুজ প্রণালী দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা দেখা দিতে পারে।

তবে সিএনএনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি এখন আগের মতো নেই। যুদ্ধ মূলত দর-কষাকষির ক্ষমতা ও দীর্ঘ সময় চাপ সহ্য করার সক্ষমতার পরীক্ষা। সেই প্রতিযোগিতায় বর্তমানে ইরানের ওপরই চাপ বাড়ছে।

যুদ্ধের চতুর্থ পর্ব

সিএনএনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রায় ছয় মাসের সংঘাতটি চারটি পর্বে ভাগ করা যায়।

প্রথম পর্ব শুরু হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ব্যাপক মার্কিন বিমান হামলার মধ্য দিয়ে এবং প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে উচ্চমাত্রার সামরিক অভিযান চলে। দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয় ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার মাধ্যমে। এর ধারাবাহিকতায় ১৭ জুন ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরিত হয়।

তৃতীয় পর্ব শুরু হয় কয়েক সপ্তাহ পর, যখন ইরান আবার হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি ও হামলা শুরু করে। এর জেরে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হয়। তখন যুক্তরাষ্ট্রকে কার্যত হরমুজের নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে ছেড়ে দেওয়ার আহ্বানও ওঠে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সেখান থেকে সরে যায়নি।

জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নতুন করে সামরিক অবরোধ এবং দেশটির তেল বাণিজ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা জোরদার করে। একই সময়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালীতে নৌপথ পরিষ্কার করা এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।

এর ফলে ইরানের তেল রফতানির ওপর কার্যকর চাপ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। সিএনএনের উদ্ধৃত তথ্যানুযায়ী, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন যুদ্ধ শুরুর আগের মাত্রার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশে ফিরে এসেছে।

ফলে এখন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ইরানের ওপরই চাপ বেশি বাড়ছে। আর হরমুজ প্রণালীকে জিম্মি করে রাখার সক্ষমতা যদি তেহরান হারায়, তাহলে তার দর-কষাকষির ক্ষমতাও দ্রুত কমে যাবে।

দুর্বল অর্থনীতি আরও চাপে

বছরের পর বছর ধরে চলা নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার কারণে দুর্বল অবস্থায় ইরান এই যুদ্ধে জড়িয়েছে। যুদ্ধের পর পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরে ইরানের অর্থনীতি ৫ শতাংশের বেশি সংকুচিত হতে পারে। একই সময়ে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৭০ শতাংশে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।

ইরানি মুদ্রার মূল্যও ব্যাপকভাবে কমেছে। বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। ইরানের শ্রম মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা সম্প্রতি জানিয়েছেন, যুদ্ধের প্রথম তিন মাসেই দেশটিতে ১০ লাখের বেশি কর্মসংস্থান বিলুপ্ত হয়েছে।

এসব পরিস্থিতি ইঙ্গিত করছে, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা শুধু ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতের ওপর নির্ভর করছে না; এর সঙ্গে অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও গুরুত্বপূর্ণ।

হরমুজ নিয়ে ইরানের কৌশল

সিএনএনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরানের কৌশল ছিল হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন করে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ানো। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসনকে পিছু হটতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হতে পারে।

ইরান পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোতেও হামলা চালাতে পারে। পাশাপাশি ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিরাও লোহিত সাগর দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যাহত করার হুমকি দিতে পারে।

তবে এসব পদক্ষেপ ইরানের ওপর আরও সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে। ফলে তেহরানের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—হরমুজকে চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে যাবে, নাকি আন্তর্জাতিক চাপ কমাতে সমঝোতার পথে যাবে।

সিএনএনের বিশ্লেষণ বলছে, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের প্রভাব কমে গেলে দেশটির হাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দর-কষাকষির কার্যকর হাতিয়ারও খুব বেশি থাকবে না।