ফুটবল বিশ্বকাপ : গোল্ডেন বুটের দৌড়ে কে এগিয়ে?

ক্রীড়া ডেস্কঃ এবারের ফুটবল বিশ্বকাপে ম্যাচ সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় গোলের সম্ভাবনাও বাড়ছে, আর সেই সঙ্গে আরও জমে উঠেছে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার ‘গোল্ডেন বুট’ নিয়ে আলোচনা। ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে এবার কার পায়ে উঠবে এই সম্মানজনক ট্রফি- সেই প্রশ্নেই এখন উত্তেজনা তুঙ্গে।

এবারের বিশ্বকাপ আসরে ম‍্যাচ বেড়েছে ৪০টি, আর সেই কারণেই গোলের রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনাও অনেক বেশি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সেই বাস্তবতায় বিশ্ব ফুটবলের সেরা ফরোয়ার্ডরা রয়েছেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে-কে জিতবেন গোল্ডেন বুট?

ফিফার তৈরি শীর্ষ গোলদাতাদের তালিকায় জায়গা পেয়েছেন লিওনেল মেসি, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, আর্লিং হালান্ড, কিলিয়ান এমবাপের মতো তারকারা। পাশাপাশি উঠে এসেছেন তরুণ সেনসেশন লামিনে ইয়ামালও।

কিলিয়ান এমবাপে (ফ্রান্স)

আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৯৮ ম্যাচে ৫৬ গোল করা এমবাপে বিশ্বকাপে ১৪ ম্যাচে করেছেন ১২ গোল। বয়স ২৭ হলেও ইতিমধ্যে বিশ্বকাপে দুইবার গোল্ডেন বুট জয়ের সম্ভাবনায় থাকা এই ফরোয়ার্ড এবারও অন্যতম ফেভারিট। ক্লাব ও জাতীয় দলে তার গোল করার ধারাবাহিকতা তাকে আলাদা অবস্থানে রাখছে।

হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড)

ইংল্যান্ড অধিনায়ক কেইন আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১১৩ ম্যাচে ৭৯ গোল করেছেন। বায়ার্ন মিউনিখে দারুণ ফর্মে থাকা এই স্ট্রাইকারের সামনে এবার ইতিহাস গড়ার সুযোগ—দুইবার গোল্ডেন বুট জেতা প্রথম খেলোয়াড় হওয়ার সম্ভাবনা।

মিকেল ওইয়ারসাবাল (স্পেন)

স্পেনের এই ফরোয়ার্ড এখন দুর্দান্ত ফর্মে আছেন। দেশের হয়ে শেষ ১৩ ম্যাচে ১৩ গোল করেছেন তিনি। যদিও বিশ্বকাপে আগে তার অভিজ্ঞতা নেই, তবে সতীর্থ পেদ্রি, ইয়ামাল ও উইলিয়ামসের কারণে তার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

আর্লিং হলান্ড (নরওয়ে)

আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৫০ ম্যাচে ৫৫ গোল- এমন পরিসংখ্যানই বলে দেয় কেন তিনি ‘গোল মেশিন’। ক্লাব ফুটবলে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ধারাবাহিকভাবে গোল করে যাচ্ছেন হলান্ড। প্রতিপক্ষ যেই হোক, গোল করার ক্ষমতায় তিনি অন্যতম শীর্ষে।

লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা)

আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১৯৯ ম্যাচে ১১৭ গোল করা মেসি বিশ্বকাপে ১৩ গোল করেছেন। বয়স বাড়লেও তার ফর্ম এখনও স্থির। আর্জেন্টিনার আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে এবারও তিনি বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।

ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো (পর্তুগাল)

২২৬ ম্যাচে ১৪৩ গোল করা রোনালদো এখনও জাতীয় দলে ধারাবাহিকভাবে গোল করে যাচ্ছেন। ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপগুলোতে তিনি গোল্ডেন বুটের আরেকটি সুযোগ খুঁজছেন।

লামিনে ইয়ামাল (স্পেন)

মাত্র ১৯ বছরের আগে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়া এই তরুণ উইঙ্গার ইতিমধ্যে আলোচনায়। গতি, ড্রিবলিং ও শট—সব মিলিয়ে তিনি বড় চমক হয়ে উঠতে পারেন।

উসমান দেম্বেলে, ভিনিসিউস জুনিয়র ও রাফিনিয়া

ফ্রান্স ও ব্রাজিলের এই তিন উইঙ্গারও আছেন আলোচনায়। বিশেষ করে দেম্বেলে ও ভিনিসিউস ক্লাব ফুটবলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। রাফিনিয়াও বার্সেলোনার আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের লড়াই হতে যাচ্ছে ইতিহাসের অন্যতম জমজমাট প্রতিযোগিতা। অভিজ্ঞতার সঙ্গে তরুণ প্রতিভার এই মিশেলে শেষ পর্যন্ত কে হাসবেন- তা এখনই বলা কঠিন।




ব্যাংক হিসাব খুলতে লাগবে টিআইএন, তবে ছাড় পাবেন শিক্ষার্থীরা

ডেস্ক নিউজঃ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) সনদ দাখিল বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থী ও বিশেষ কিছু শ্রেণির হিসাবধারীদের জন্য এই নিয়মে ছাড় পাবেন।

বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়েছে, স্টুডেন্ট অ্যাকাউন্ট ও নো-ফ্রিলস অ্যাকাউন্ট (সহজ শর্তে খোলা সুবিধাবঞ্চিতদের হিসাব) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃক গেজেটের মাধ্যমে টিআইএন গ্রহণের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ছাড়া অন্য যেকোনো ব্যক্তিকে এখন থেকে নতুন ব্যাংক হিসাব খোলার সময় বাধ্যতামূলকভাবে টিআইএন সনদ জমা দিতে হবে।

এদিকে, কর ফাঁকি রোধ ও রাজস্ব জাল বাড়াতে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও জোরদার করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেন্ট্রাল ডাটা ইন্টিগ্রেশন বা কেন্দ্রীয় তথ্য সমন্বয়ের মাধ্যমে এনবিআর-এর জাতীয় তথ্যভাণ্ডারকে জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক, ইউটিলিটি সেবা (বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি), সাব-রেজিস্ট্রি অফিসসহ অন্যান্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে।

বিকেলে অনুমোদিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বাজেটের বিশাল এই ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে সরকার।

প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে।

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এই বাজেট প্রস্তাব পেশ করা হবে। এটি দেশের ৫৫তম বাজেট। এছাড়া বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি আমীর খসরুর প্রথম বাজেট উপস্থাপন।

নিয়ম অনুযায়ী, সংসদে উপস্থাপনের আগে বাজেটটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হবে এবং পরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এতে সম্মতি জানিয়ে সই করবেন। ১ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে নতুন এই অর্থবছর।




মেসি, ম্যারাডোনা নাকি পেলে, সেরা ১০ বিশ্বকাপ কিংবদন্তির তালিকা প্রকাশ

ক্রীড়া ডেস্কঃ মেসি, ম্যারাডোনা নাকি পেলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে কারা সত্যিকারের সেরা? প্রায় এক শতাব্দীজুড়ে ২২টি আসর পেরিয়ে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে হাজারো তারকা খেললেও, তাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০ জন কিংবদন্তিকে বেছে নিয়েছে বিবিসি স্পোর্ট।

এই তালিকায় আছে ভিন্ন যুগের ভিন্ন স্টাইলের ফুটবলাররা, যারা বিশ্বকাপকে নিজেদের কীর্তিতে রঙিন করে তুলেছেন।

তালিকার দশম স্থানে আছেন ইংল্যান্ডের জিওফ হার্স্ট। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে তার হ্যাটট্রিক ইংল্যান্ডকে একমাত্র বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেয়। ঘরের মাঠে সেই স্মরণীয় জয় আজও ইংলিশ ফুটবলের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত।

নবম স্থানে আছেন ব্রাজিলের ক্যাফু। তিনি একমাত্র ফুটবলার যিনি টানা তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলেছেন। ১৯৯৪ সালে ব্রাজিলের শিরোপাজয়ী দলে ছিলেন তিনি, ১৯৯৮ সালে ফাইনালে হেরেছিলেন এবং ২০০২ সালে অধিনায়ক হিসেবে দলকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেন।

অষ্টম স্থানে ইতালির পাওলো রসি। ১৯৮২ বিশ্বকাপে তার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম নাটকীয় অধ্যায়। ম্যাচ ফিক্সিং কেলেঙ্কারির কারণে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফিরে এসে তিনি ব্রাজিলের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকসহ টুর্নামেন্টে ৬ গোল করেন এবং ইতালিকে শিরোপা এনে দেন। একই সঙ্গে তিনি গোল্ডেন বুট ও গোল্ডেন বল দুই পুরস্কারই জেতেন।

সপ্তম স্থানে ফ্রান্সের জিনেদিন জিদান। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে স্বাগতিক ফ্রান্সকে প্রথম বিশ্বকাপ এনে দিতে ফাইনালে তার দুই হেড গোল আজও ইতিহাসে অমর। তবে তার বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে উজ্জ্বলতার পাশাপাশি বিতর্কও ছিল ২০০৬ ফাইনালে লাল কার্ড দেখেই বিদায় নিতে হয়েছিল তাকে।

ষষ্ঠ স্থানে আছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ২০১৮ বিশ্বকাপে আলো ছড়ান তিনি, হন নতুন প্রজন্মের পোস্টার বয়। ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনালে হ্যাটট্রিক করে তিনি দেখিয়ে দেন যে বিশ্বমঞ্চে তিনি এখনো সবচেয়ে ভয়ঙ্করদের একজন।

পঞ্চম স্থানে পশ্চিম জার্মানির ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার। ‘ডের কাইজার’ নামে পরিচিত এই ডিফেন্ডার খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৭৪ সালে বিশ্বকাপ জেতেন এবং পরে কোচ হিসেবে ১৯৯০ সালে আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়েন যা খুব কম মানুষের পক্ষেই সম্ভব।

চতুর্থ স্থানে আছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০২২ বিশ্বকাপে তিনি আর্জেন্টিনাকে শিরোপা এনে দেন। পুরো টুর্নামেন্টে তার নেতৃত্ব, গোল, অ্যাসিস্ট এবং ফাইনালের অসাধারণ পারফরম্যান্স তাকে আধুনিক ফুটবলের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে দেয়।

তৃতীয় স্থানে ব্রাজিলের রোনালদো। ইনজুরির লড়াই পেরিয়ে ২০০২ বিশ্বকাপে তিনি দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেন। টুর্নামেন্টে আট গোল করে ব্রাজিলকে শিরোপা জেতান এবং ১৯৯৮ ফাইনালের ব্যর্থতার পর নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করেন।

দ্বিতীয় স্থানে আছেন আর্জেন্টিনার দিয়েগো ম্যারাডোনা। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে তার একক নৈপুণ্য ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা অধ্যায়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ‘হ্যান্ড অব গড’ ও পরের অবিশ্বাস্য ড্রিবলিং গোল তাকে অমর করে রেখেছে। পুরো টুর্নামেন্টে তার নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হয়।

আর তালিকার শীর্ষে আছেন ব্রাজিলের পেলে। তিনবার বিশ্বকাপ জেতা একমাত্র ফুটবলার তিনি। ১৭ বছর বয়সে ১৯৫৮ বিশ্বকাপে বিশ্বকে চমকে দেন, পরে ১৯৬২ ও ১৯৭০ বিশ্বকাপেও ব্রাজিলকে শিরোপা এনে দিয়ে ফুটবল ইতিহাসে নিজের অবস্থান চিরস্থায়ী করেন।

সূত্র: বিবিসি




নতুন পে-স্কেলে আলাদা বরাদ্দ থাকছে না

ডেস্ক নিউজঃ নতুন বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) আংশিকভাবে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা থাকলেও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এ খাতে আলাদা কোনো অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হচ্ছে না। 

তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান অন্য খাতের থোক বরাদ্দ ও অপ্রত্যাশিত ব্যয় বাবদ সংরক্ষিত অর্থ থেকে করা হবে।

প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ ৮৯ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ক্যাডার কর্মকর্তাদের বেতনের জন্য ১৩ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা, কর্মচারীদের বেতনের জন্য ৩০ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন ধরনের ভাতা বাবদ ৪৪ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। 

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে বরাদ্দ ছিল ৮৪ হাজার ১১৪ কোটি টাকা, যা সংশোধিত বাজেটে বেড়ে ৮৪ হাজার ৭৩৯ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আগামী অর্থবছরের শুরু অর্থাৎ জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামো আংশিকভাবে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রাথমিকভাবে মূল বেতন বৃদ্ধির প্রায় অর্ধেক সুবিধা কার্যকর করা হতে পারে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত পে কমিশন যে সুপারিশ করেছিল, তা সরাসরি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা কম।

পে কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনার জন্য সরকার একটি সচিব কমিটি গঠন করেছে। কমিটি এখনও তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সচিব কমিটি বেতন বৃদ্ধির হার কিছুটা কমিয়ে সংশোধিত প্রস্তাব দিতে পারে।

তবে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অর্থসংকট বড় বাধা হবে না বলে মনে করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাজেটে বিভিন্ন খাতে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া অপ্রত্যাশিত ব্যয়ের জন্য সংরক্ষিত অর্থও রয়েছে। প্রয়োজন হলে এসব উৎস থেকেই নতুন পে-স্কেলের ব্যয় নির্বাহ করা হবে।

ফলে বাজেটে আলাদা বরাদ্দ না থাকলেও সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়ন আগামী জুলাই থেকেই শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।




ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে ১০ টাকার স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন

ডেস্ক নিউজঃ বিশ্বকাপ ফুটবল-২০২৬ উপলক্ষ্যে ১০ টাকা মূল্যমানের স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে ৫০ টাকা মূল্যমানের খাম-সম্বলিত স্যুভেনির শিট এবং ৫ টাকা মূল্যমানের ডাটা কার্ডও প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এসময় বিশেষ সিলমোহর ব্যবহার করা হয়।

অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমন এবং ডাক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এস. এম. হারুনর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।




ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট নিয়ে আজ সংসদে যাচ্ছে তারেক রহমানের সরকার

ডেস্ক নিউজঃ দেশের অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনাকে এগিয়ে নিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট  নিয়ে আজ সংসদে যাচ্ছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। প্রস্তাবিত এই বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এটি দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট এবং বর্তমান সরকারের মেয়াদের প্রথম বাজেট। 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে স্পিকারের সভাপতিত্বে বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটিই তার প্রথম বাজেট।

এবারের বাজেটে অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দেশীয় শিল্পের সুরক্ষায় কর ব্যবস্থায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা সাধারণ মানুষের জন্যও কিছু স্বস্তিমূলক পদক্ষেপ থাকছে।

আগামী অর্থবছরের জন্য প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা আসবে সরকারের নিজস্ব উৎস থেকে, আর ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে বৈদেশিক সহায়তা ও প্রকল্প ঋণ থেকে। চলমান মেগা প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া এবং নতুন অবকাঠামো নির্মাণের জন্য এই বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে বিদ্যুৎ, গ্যাস, সার ও খাদ্য খাতে ভর্তুকি এবং প্রণোদনা বাবদ আগামী অর্থবছরে ১ লাখ ১৭ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

এই বিশাল ব্যয় নির্বাহে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছে রেকর্ড ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) একাই ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ের দায়িত্ব পালন করতে হবে। ভ্যাট খাত থেকে ২ লাখ ২৮ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা এবং আয়কর ও মূলধনী মুনাফা কর থেকে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হওয়ায় প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার থেকে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি তৈরি হবে। এই ঘাটতি মেটাতে সরকার বৈদেশিক উৎস থেকে প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে ব্যাংক খাত থেকেই নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা।

নতুন বাজেটে কর ও শুল্ক কাঠামোয় পরিবর্তনের কারণে বেশ কিছু পণ্যের দাম বাড়তে পারে। সিগারেট ও নিকোটিনজাত পণ্যের ওপর কর বৃদ্ধি করায় এসব পণ্যের দাম বাড়বে। একই সঙ্গে আমদানি করা কাজুবাদাম, হিমায়িত মাছ, বিদেশি প্রসাধনী ও এমএস রডের দামও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে দেশীয় ইলেকট্রনিকস শিল্পকে উৎসাহ দিতে ফ্রিজ, রেফ্রিজারেটর ও এসির উৎপাদন পর্যায়ের ভ্যাট কমানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ শিল্পের বিদ্যমান কর সুবিধাও বহাল থাকবে। এছাড়া ইলেকট্রিক গাড়ি, সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম, লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি এবং কিছু চিকিৎসা সরঞ্জামের ওপর শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে চাপ কমাতে চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ ও ভোজ্যতেলসহ ৬০টি কৃষিপণ্যের সরবরাহ পর্যায়ে উৎসে কর কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এবারের বাজেটের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে ব্যক্তি করদাতাদের জন্য পাঁচ বছরের আয়কর রোডম্যাপ ঘোষণা। প্রথম ধাপে করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করা হবে। পরবর্তী বছরগুলোতে ধাপে ধাপে তা ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। নারী, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং জুলাই অভ্যুত্থানের গেজেটভুক্ত যোদ্ধাদের জন্যও করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি করনীতি ও রাজস্ব সংস্কারের মাধ্যমে করব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য করা হবে। তবে রেকর্ড রাজস্ব আদায়, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বিপুল বাজেট ঘাটতি সামাল দেওয়াই আগামী অর্থবছরে সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে।




ঢাকা মিরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম বদরুল আলমের জন্মদিন উদযাপিত

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঢাকা মিরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম বদরুল আলমের জন্মদিন উপলক্ষে বুধবার এক আন্তরিক, আনন্দঘন ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দোয়া মাহফিল এবং অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মিরপুর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে কেক কাটা, শুভেচ্ছা বিনিময়, আপ্যায়ন এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিরপুর প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা এবং খবর বাংলাদেশের প্রকাশক ও সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন। তিনি জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে এস এম বদরুল আলমের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও পেশাগত সাফল্য কামনা করেন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মিরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক জনজাগরণ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক মোঃ শিহাব উদ্দিন, সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম ইসলাম উকিল, সিনিয়র সহ-সভাপতি ডক্টর এ জেড এম মাইনুল ইসলাম পলাশ, সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোঃ আলমগীর হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুমন খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সরদার মাজহারুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর আহমেদ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুন্না খান, দপ্তর সম্পাদক এম এ গাফফার, সাংবাদিক তাবাসসুম রিয়া মনি, সদস্য মানজারুল ইসলাম, আব্দুল মালেক, আলমগীর হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক নিপু আহমেদসহ অসংখ্য সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী।

অনুষ্ঠানে দেশের চলমান রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংবাদিকতা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ জাকির হোসেন বলেন, “সাংবাদিকতা সমাজের দর্পণ। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এস এম বদরুল আলম দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে সাংবাদিকতা এবং সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তার মতো অভিজ্ঞ ব্যক্তির নেতৃত্বে মিরপুর প্রেসক্লাব আরও এগিয়ে যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি। আমি তার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সার্বিক সফলতা কামনা করছি।”

জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মিরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম বদরুল আলম উপস্থিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আপনাদের ভালোবাসা, আন্তরিকতা ও শুভকামনায় আমি সত্যিই অভিভূত। সাংবাদিকতা একটি মহান দায়িত্বের পেশা। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থেকে জনগণের কল্যাণে কাজ করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। আমি সবসময় সাংবাদিক সমাজের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই।”

মিরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শিহাব উদ্দিন বলেন, “এস এম বদরুল আলম একজন অভিজ্ঞ, দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিক সংগঠক। তার নেতৃত্বে মিরপুর প্রেসক্লাব আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত হয়েছে। আমরা তার জন্মদিনে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই এবং তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ জীবন কামনা করি।”

সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম ইসলাম উকিল বলেন, “বদরুল আলম ভাইয়ের নেতৃত্ব, সততা ও সাংগঠনিক দক্ষতা আমাদের জন্য অনুকরণীয়। তিনি সবসময় সাংবাদিকদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেছেন। তার জন্মদিনে আমরা তার সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনা করছি।”
সিনিয়র সহ-সভাপতি ডক্টর এ জেড এম মাইনুল ইসলাম পলাশ বলেন, “মিরপুর প্রেসক্লাবকে একটি মর্যাদাপূর্ণ ও কার্যকর সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পেছনে বদরুল আলম ভাইয়ের অবদান অসামান্য। তিনি সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য ও পেশাদারিত্ব প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।”

সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন, “সাংবাদিকতা ও সমাজসেবায় এস এম বদরুল আলমের অবদান প্রশংসনীয়। তিনি সবসময় সত্য, ন্যায় ও গণমানুষের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার মতো নেতৃত্ব সাংবাদিক সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

অনুষ্ঠানের শেষে এস এম বদরুল আলমের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ, সাংবাদিক ও শুভানুধ্যায়ীদের অংশগ্রহণে জন্মদিনের কেক কেটে অনুষ্ঠানটি আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়।




বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের ৪০৪ মিলিয়ন ডলারের ঋণ-অনুদান চুক্তি

ডেস্ক নিউজ : দেশের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা খাতের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ৪০৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ ও অনুদান চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ।

বুধবার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং বিশ্বব্যাংকের মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং বিশ্বব্যাংকের পক্ষে ঢাকাস্থ বিশ্বব্যাংক কার্যালয়ের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) অর্থায়নে ‘হেলথ, নিউট্রিশন অ্যান্ড পপুলেশন সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এইচএনপিএডিপি)’ বাস্তবায়নের জন্য এ অর্থায়ন দেওয়া হচ্ছে। ইআরডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে ২৮৪ দশমিক ৭০ মিলিয়ন স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস (এসডিআর) বা সমপরিমাণ ৩৭৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা দেবে। পাশাপাশি, গ্লোবাল ফাইন্যান্সিং ফ্যাসিলিটি (জিএফএফ) থেকে ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান সহায়তা দেওয়া হবে। ফলে মোট অর্থায়নের পরিমাণ দাঁড়াবে ৪০৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এ অর্থায়নের আওতায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত মেয়াদে দু’টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।

এর মধ্যে ‘হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন সার্ভিসেস ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড সিস্টেম স্ট্রেন্দেনিং প্রজেক্ট’ স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অধীন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পটির লক্ষ্য হলো সারাদেশে, বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেবার মান ও প্রাপ্যতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা জোরদার এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের কার্যকারিতা উন্নয়ন।

অন্যদিকে, ‘ক্লাইমেট রেসপনসিভ রিপ্রোডাকটিভ হেলথ অ্যান্ড পপুলেশন সার্ভিসেস ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড সিস্টেম স্ট্রেন্দেনিং প্রজেক্ট ফর রেজাল্টস’ প্রকল্পটি স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অধীন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পটির উদ্দেশ্য হলো জলবায়ু সহনশীল ব্যবস্থাপনা ও পরিচালন কাঠামো শক্তিশালী করে প্রজনন স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা সেবার গুণগত সম্প্রসারণ, দক্ষতা ও সমতা বৃদ্ধি করা।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ৩৭৯ মিলিয়ন ডলারের ঋণ ৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ মোট ৩০ বছরে পরিশোধ করতে হবে। ঋণের উত্তোলিত অর্থের ওপর বার্ষিক ০ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ এবং ১ দশমিক ২৫ শতাংশ হারে সুদ প্রযোজ্য হবে। এছাড়া অনুত্তোলিত ঋণের ওপর বার্ষিক ০ দশমিক ৫০ শতাংশ হারে কমিটমেন্ট ফি প্রযোজ্য থাকবে।

তবে বিশ্বব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে চলতি অর্থবছরসহ এ কমিটমেন্ট ফি আদায় থেকে বিরত রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।




৪৮ দলের বিশ্বকাপ: কোন গ্রুপে সবচেয়ে কঠিন লড়াই?

ক্রীড়া ডেস্ক : ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ এখন পর্যন্ত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। ৪৮টি দল, ১২টি গ্রুপ এবং তিনটি আয়োজক দেশ—সব মিলিয়ে টুর্নামেন্টটি কেবল ফুটবল নয়, এক বিশাল বৈশ্বিক মহাযজ্ঞে পরিণত হয়েছে। গ্রুপ পর্বেই এবার দেখা যাচ্ছে অস্বাভাবিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, যেখানে ফেভারিট দলগুলোর পাশাপাশি একাধিক ডার্ক হর্স তৈরি করছে অঘটনের সম্ভাবনা।

এবার গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো ‘কোনো গ্রুপই সহজ নয়’। প্রতিটি গ্রুপেই অন্তত একটি করে দল রয়েছে, যারা বড় দলকে চাপে ফেলতে পারে বা অঘটন ঘটাতে পারে।

গ্রুপ A: আয়োজক মেক্সিকোর চাপ ও প্রত্যাশা

আয়োজক দেশ হিসেবে মেক্সিকো স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি চাপ ও প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে। উদ্বোধনী ম্যাচ তাদের জন্য বড় সুযোগ হলেও সাম্প্রতিক বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে যেতে না পারার ব্যর্থতা এখনো প্রশ্ন হয়ে আছে।

এ গ্রুপে দক্ষিণ কোরিয়া ধারাবাহিকভাবে বড় মঞ্চে ভালো পারফর্ম করে আসছে। অন্যদিকে চেক প্রজাতন্ত্রের মতো ইউরোপিয়ান দল বড় ম্যাচে অঘটন ঘটাতে সক্ষম। ফলে এই গ্রুপে কোনো ম্যাচই সহজ নয়।

গ্রুপ B: কানাডার স্বপ্ন, সুইস বাধা

নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো বড় সাফল্যের লক্ষ্য নিয়ে নামছে কানাডা। তবে ইউরোপের অভিজ্ঞ শক্তি সুইজারল্যান্ড এই গ্রুপের ফেভারিটদের অন্যতম।

কাতার ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনা প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে মধ্যম শক্তির দলগুলো এখানে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে।

গ্রুপ C: ব্রাজিলের সামনে কঠিন পরীক্ষা

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিল এবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার। কিন্তু গ্রুপ পর্বেই তাদের সামনে কঠিন বাধা।

২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো এখন আর কোনো আন্ডারডগ নয়, তারা এখন বিশ্ব ফুটবলের প্রতিষ্ঠিত শক্তি। স্কটল্যান্ডের শারীরিক ফুটবল এবং হাইতির অপ্রত্যাশিত আক্রমণ এই গ্রুপকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

গ্রুপ D: যুক্তরাষ্ট্রের হোম চ্যালেঞ্জ

আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র শক্তিশালী তরুণ স্কোয়াড নিয়ে খেলছে। তবে তাদের পথ সহজ নয়।

তুরস্ক ইউরোপের উদীয়মান শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া এবং প্যারাগুয়ে, দুটি দলই শারীরিক ও দ্রুতগতির ফুটবলে ভয়ঙ্কর প্রতিপক্ষ।

গ্রুপ E: জার্মানির পুনর্জাগরণের মঞ্চ

দুই বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর জার্মানি এবার ঘুরে দাঁড়াতে চায়। কিন্তু আফ্রিকার শক্তিশালী দল আইভরি কোস্ট এবং লাতিন আমেরিকার ধারাবাহিক দল ইকুয়েডর তাদের জন্য বড় বাধা।

এছাড়া কুরাসাও প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে এসে ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গ্রুপ F: সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ লড়াই

নেদারল্যান্ডস এখানে ফেভারিট হলেও জাপান সাম্প্রতিক বিশ্বকাপে বড় দলকে হারানোর ইতিহাস তৈরি করেছে।

সুইডেন ও তিউনিসিয়া শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবলের জন্য পরিচিত। ফলে এই গ্রুপে পয়েন্ট হারালেই বিদায়ের ঝুঁকি।

গ্রুপ G: বেলজিয়ামের শেষ অধ্যায়?

বেলজিয়াম-এর ‘গোল্ডেন জেনারেশন’-এর জন্য এটি শেষ বড় সুযোগ হতে পারে। তবে মিশর ও ইরান বড় অঘটনের ক্ষমতা রাখে। নিউজিল্যান্ডের মতো দলও এখানে সহজ প্রতিপক্ষ নয়।

গ্রুপ H: ইউরোপ-দক্ষিণ আমেরিকার শক্তির লড়াই

স্পেন ও উরুগুয়ে—দুটি বিশ্বকাপজয়ী শক্তি একই গ্রুপে। এখানে সৌদি আরব ইতিমধ্যেই বড় অঘটনের ইতিহাস লিখেছে। কেপ ভার্দেও নিজেদের প্রমাণ করতে প্রস্তুত।

গ্রুপ I: সম্ভাব্য ‘গ্রুপ অব ডেথ’

বিশেষজ্ঞদের মতে সবচেয়ে কঠিন গ্রুপ। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স এখানে ফেভারিট হলেও তাদের পথ সহজ নয়।

সেনেগাল আফ্রিকার সবচেয়ে শক্তিশালী দলগুলোর একটি। নরওয়ে-তে আছেন আরলিং হালান্ডের মতো বিশ্বমানের তারকা। ইরাকও লড়াইয়ের মাধ্যমে চমক দিতে পারে।

গ্রুপ J: আর্জেন্টিনার নতুন ইতিহাসের মিশন

ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবার টানা দ্বিতীয় শিরোপার লক্ষ্যে। ১৯৬২ সালের পর কেউ এই কীর্তি করতে পারেনি।

অস্ট্রিয়া ও জর্ডান এই গ্রুপে কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে প্রতিটি ম্যাচেই চাপ থাকবে আর্জেন্টিনার ওপর।

গ্রুপ K: পর্তুগাল বনাম কলম্বিয়ার লড়াই

পর্তুগাল ও কলম্বিয়া—দুটি দলই আক্রমণাত্মক ফুটবলের জন্য পরিচিত। উজবেকিস্তান প্রথমবার বিশ্বকাপে এসে নতুন ইতিহাস লিখতে চায়। কঙ্গোও দীর্ঘদিন পর ফিরে এসেছে, যা গ্রুপটিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

গ্রুপ L: ইংল্যান্ডের কঠিন পথ

ইংল্যান্ড ফেভারিট হলেও তাদের গ্রুপ মোটেও সহজ নয়।

ক্রোয়েশিয়া বড় টুর্নামেন্টে সবসময়ই শক্ত প্রতিপক্ষ। ঘানা আফ্রিকার অন্যতম বিপজ্জনক দল, আর পানামা প্রতিবারই উন্নতি করছে।

৪৮ দলের এই বিশ্বকাপ ফুটবলকে নিয়ে গেছে এক নতুন উচ্চতায়। এখন আর কোনো গ্রুপই সহজ নয়। প্রতিটি ম্যাচই হয়ে উঠতে পারে টার্নিং পয়েন্ট।

এবার বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হবে ফেভারিটদের চাপ সামলানো এবং ডার্ক হর্সদের উত্থান। আর সেই অপ্রত্যাশিত গল্পগুলোই হয়তো আবারও বিশ্বকে মনে করিয়ে দেবে, বিশ্বকাপ কেন সত্যিই ‘The Greatest Show on Earth’।




ইরানের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠিন হামলা চালাতে যাচ্ছি: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কোনও শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত না হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠিন হামলা চালাবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (১০ জুন) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানে হামলার বিষয়ে এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের পক্ষ থেকে একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার ঘটনার কথা জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‌‌‘আমরা তাদের ওপর হামলা চালাতে যাচ্ছি, খুব জোরালো হামলা চালাব এবং আবারও বোমাবর্ষণ শুরু করব।’

তিনি বলেন, বুধবারই ইরানে আঘাত হানা হবে। ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি চুক্তি চাই যা অর্থবহ, আমরা এমন একটি চুক্তি চাই, যা কার্যকর হবে।’

মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার ব্যাপারে ইরান ইতোমধ্যে সম্মতি জানিয়েছে। তবে চুক্তিটিতে এখনও স্বাক্ষর বাকি রয়েছে। দেখা যাক কী ঘটে। তবে আমরা গতকাল তাদের ওপর জোরালো আঘাত হেনেছি এবং আজ আবারও তাদের ওপর জোরালো আঘাত হানতে যাচ্ছি…।’

তিনি বলেন, আর চুক্তির ব্যাপারে কী হয় সেটিও আমরা দেখব। আমরা চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের শুধু ঝুলিয়ে রাখছে, আমাদের বোকা বানাচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স।