তৃতীয় ভাসমান টার্মিনাল স্থাপন নিয়ে আগামী মাসের মধ্যেই সিদ্ধান্ত: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ : জ্বালানি সংকট কাটাতে আগামী মাসের মধ্যেই তৃতীয় ভাসমান টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে বলে ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। যার ফলাফল আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে দৃশ্যমান হবে বলে জানান তিনি।

বুধবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বৈঠক শেষে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান সাংবাদিকদের বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে তৈরি পোশাক খাতের বিভিন্ন সংকট ও সমস্যার কথা তুলে ধরেছি। বিশেষ করে শিল্পকারখানায় তীব্র জ্বালানি সংকট এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অডিট ব্যবসায় কোন ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, তা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়ে সমাধান চেয়েছি। 
তিনি বলেন, আসন্ন এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনকে (স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণ) সামনে রেখে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মতো প্রধান রপ্তানি বাজারে ‘মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি’ (এফটিএ) স্বাক্ষরের জন্য সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে।

একইসঙ্গে এক্সচেঞ্জ রেট ফ্লেক্সিবল রাখা এবং পোশাক রপ্তানিতে প্রণোদনার হার বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বিজিএমইএ-এর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

ব্যবসায়ীদের সমস্যা সমাধানের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কী বলেছেন, এমন প্রশ্নে বিজিএমইএ প্রেসিডেন্ট বলেন, জ্বালানি সংকট এক বছরের মধ্যে কিছুটা কমবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জ্বালানি সমস্যা সমাধানে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা আগামী এক-দেড় বছরের মধ্যে দৃশ্যমান হবে এবং আগামী মাসের মধ্যে আরেকটি এফএসআরইউ স্থাপনের সিদ্ধান্ত হবে।

বিজিএমইএ প্রেসিডেন্ট বলেন, পোশাক খাতের সমস্যাগুলোর মধ্যে কোনগুলো এনবিআর এবং কোনগুলো বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্পর্কিত, তা সুনির্দিষ্টভাবে লিখিত আকারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সমস্যাগুলো পর্যালোচনা করে দ্রুত সমাধানের সুপারিশ দেওয়ার জন্য বাণিজ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ কমিটি একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি কাজ করবে বলে প্রধানমন্ত্রী আমাদের জানিয়েছেন, যোগ করেন বিজিএমইএ প্রেসিডেন্ট।




ইরানের পিকঅ্যাক্স পরমাণু কেন্দ্রে হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানের পিকঅ্যাক্স পর্বতে নির্মীয়মাণ কথিত পারমাণবিক কেন্দ্রে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন। হরমুজ প্রণালিতে দুই দেশের সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই এই নতুন ঘোষণা এল। ‘কুহ-এ কোলং গাজ লা’ নামে পরিচিত এই কেন্দ্রটি তেহরান থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দক্ষিণে নাতানজ পারমাণবিক কেন্দ্রের পাশে পাহাড়ের গভীরে অবস্থিত। ২০২৫ সালে ইরান ও ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধের সময় মার্কিন হামলায় নাতাঞ্জ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পিকঅ্যাক্স পর্বতের এই গভীর কেন্দ্রটি অক্ষত ছিল।

হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, ইরান হয়ত পাহাড়ের অত গভীরে সেনট্রিফিউজ সরিয়ে নিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থাকা সবচেয়ে শক্তিশালী বোমার ধ্বংসক্ষমতাকেও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। তা সত্ত্বেও খুব শীঘ্রই সেই এলাকায় হামলা চালানো হবে বলে দাবি করেন তিনি। তবে পিকঅ্যাক্স পর্বতের কেন্দ্রটিতে আসলে কী রাখা হয়েছে তা এখনও অস্পষ্ট, কারণ জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা এখনও সেখানে প্রবেশের সুযোগ পায়নি।

প্রায় ২.৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই ভূগর্ভস্থ স্থাপনাটি ঘিরে রয়েছে বিমান বিধ্বংসী কামান, নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর। উপগ্রহ চিত্রে দেখা একাধিক প্রবেশপথ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, এই সুবিধাজনক কেন্দ্রটি মাটির অন্তত ১০০ মিটার গভীরে অবস্থিত। ২০২০ সালে নাতাঞ্জ কেন্দ্রে বিস্ফোরণের পর ইরান পাহাড়ের গভীরে এই আধুনিক ও বিশাল কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ শুরু করে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভূগর্ভস্থ এই সুরক্ষার সুযোগ নিয়ে ইরান সেখানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং সেনট্রিফিউজ তৈরির কাজ চালাতে পারে।

ইরানের এই ধরনের গভীর ভূগর্ভস্থ সামরিক ও পারমাণবিক আস্তানাগুলো ধ্বংস করতেই যুক্তরাষ্ট্র তৈরি করেছিল ‘জিবিইউ-ফিফ্টি সেভেন’ বোমা, যা মাটির অন্তত ৬০ মিটার গভীরে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম। মার্কিন কর্মকর্তারা আগে পর পর দুটি এমন বোমা ফেলে গভীর লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার কৌশল নিয়ে আলোচনা করলেও পিকঅ্যাক্স পর্বতের মতো গভীর কোনো কেন্দ্র আদৌ এই বোমায় ধ্বংস করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকে যাচ্ছে।




সরকারি নির্দেশেই দিল্লিতে ইন্টারনেট বন্ধ, দাবি টেলিকম সংস্থাগুলোর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের দিল্লিতে সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ‘চলো সংসদ’ মিছিলের কারণে সরকার আংশিক ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রেখেছিল বলে জানিয়েছে টেলিকম পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলো। অপরদিকে এই সাময়িক স্থগিতাদেশের কোনো কপি সরকারের পক্ষ থেকে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, সকাল ১০টার দিকেই মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এয়ারটেল, জিও এবং ভি (Vi)-সহ বিভিন্ন টেলিকম পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাকে (TSP) এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। দুটি বড় টেলিকম সংস্থার কর্মকর্তারা সরকারি নির্দেশ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সন্ধ্যা ৬টার দিকে পরিষেবা পুনরায় চালু করা হয়। তবে, কোন সরকারি কর্তৃপক্ষ এই নির্দেশ জারি করেছিল, তা জানা যায়নি।

ডিজিটাল অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘ইন্টারনেট ফ্রিডম ফাউন্ডেশন’ (IFF) ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে টেলিকম পরিষেবা স্থগিত করার প্রতিটি আদেশ অবশ্যই প্রকাশ করতে হবে। এর কারণ লিখিতভাবে নথিবদ্ধ করতে হবে। বিধিনিষেধটি আনুপাতিক হতে হবে এবং সম্ভাব্য সবচেয়ে কম কঠোর পদক্ষেপটিই গ্রহণ করতে হবে। এটি অনির্দিষ্টকাল ধরে চলতে পারে না। এটি বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা এবং একটি পর্যালোচনা কমিটির দ্বারা যাচাই-বাছাইয়ের আওতাভুক্ত। আজকের এই ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনাটিকে যদি আমরা আইনি কাঠামোর নিরিখে বিচার করি, তবে দেখা যায়—আদেশটি অপ্রকাশিত রাখা হয়েছে, যা ‘অনুরাধা ভাসিন বনাম ভারত সরকার’ মামলা এবং ‘সাসপেনশন রুলস, ২০২৪’-এর লঙ্ঘন।

সংগঠনটি আরও উল্লেখ করেছে যে, সরকার যদি আদেশটি জনসমক্ষে প্রকাশ না করে, তবে কোনো উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ আদেশটি জারি করেছে কি না এবং পর্যালোচনা কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা খতিয়ে দেখবে কি না—তা যাচাই করা সম্ভব নয়।

আইএফএফ (IFF)-এর মতে, অপ্রকাশিত আদেশ মানেই জবাবদিহিহীন আদেশ। আদালতের সামনে একে চ্যালেঞ্জ করা যায় না এবং সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক নিশ্চিত করা বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার বিষয়টি তখন অর্থহীন বা অলীক হয়ে পড়ে।

ভারতে ইন্টারনেট বন্ধের ইতিহাস-

আইএফএফ (IFF)জানায়, নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সময় ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে দিল্লির বেশ কিছু এলাকায়—যেমন জামিয়া নগর, সিলমপুর এবং মান্ডি হাউসে মোবাইল সেবা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। সেটাই ছিল দেশের রাজধানীতে ইন্টারনেট বন্ধের তখনই প্রথম ঘটে।

এরপর একইভাবে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে কৃষকদের আন্দোলনের সময় গাজিপুর, টিকরি, সিংঘু,  মুকারবা চক, নাংলোই এবং এর আশেপাশের এলাকায় অনুরূপ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।

হ্যাশট্যাগ কিপইটঅন (#KeepItOn) জোটের ২০২৬ সালের মার্চ মাসের একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালে ভারতে ৬৫ বার ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের ঘটনা ঘটেছে এবং ২০১৬ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে নথিভুক্ত ২,১০২টি ইন্টারনেট বিভ্রাটের ঘটনার মধ্যে ৯২০টির জন্যই দায়ী ভারত।




করতোয়া নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ : গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার চকরহিমাপুর পূর্বপাড়া শ্মশানঘাট-সংলগ্ন করতোয়া নদীর ভাঙন রোধ এবং বসতবাড়ি ও ফসলি জমি রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বুধবার বিকেল চারটার দিকে উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের চকরহিমাপুর পূর্বপাড়া শ্মশানঘাট এলাকায় এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সাপমারা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সায়োয়ার মণ্ডল, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মনির হোসেন সরকার, ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আলম সরদার, জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সদস্য ও প্রভাষক সজল দেবনাথ এবং সহকারী শিক্ষক নিকুঞ্জ দেবনাথ।

বক্তারা বলেন, করতোয়া নদীর ভাঙন দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। গত কয়েক দিনে নদীগর্ভে একটি মাদ্রাসাসহ শতাধিক বিঘা ফসলি জমি বিলীন হয়েছে। ভাঙনের কারণে ঢাকা–দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, ঈদগাহ মাঠ, শ্মশানঘাট, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুটি হিন্দুপাড়া এবং বিস্তীর্ণ ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে বলে তারা দাবি করেন।

তারা আরও বলেন, ভাঙন রোধে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আবেদন জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা গাছের ডালপালা ও বাঁশ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন। তবে এতে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না।

মানববন্ধন থেকে বক্তারা করতোয়া নদীর ভাঙন রোধে দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান। তাদের ভাষ্য, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে নদীপাড়ের গ্রামটি অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।




বাংলাদেশকে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের কাতারে রাখছে দক্ষিণ আফ্রিকা

ক্রীড়া ডেস্ক : অস্ট্রেলিয়া যা, ইংল্যান্ড যা, দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বাংলাদেশও তা। বিশেষ করে বাংলাদেশের যে পেস ইউনিট, টাইগারদের আর এখন খাটো করে দেখার কোনো সুযোগই নেই। দক্ষিণ আফ্রিকার তারকা ক্রিকেটার অ্যাইডেন মারক্রাম তাই ‘তিনটি বড় সিরিজ’ এর সামনে দাঁড়িয়ে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের সমান সম্মান দিলেন বাংলাদেশকে।

সামনে বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়া সফর। এরপর টাইগাররা যাবে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে, খেলবে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ। বাংলাদেশকে আতিথেয়তা দেওয়ার আগে অস্ট্রেলিয়ার সাথে সিরিজ আছে দক্ষিণ আফ্রিকারও। এছাড়া ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও দ্বিপাক্ষিক সিরিজে লড়তে হবে প্রোটিয়াদের।

সব মিলিয়ে বড় চ্যালেঞ্জই দেখছেন মারক্রাম। দক্ষিণ আফ্রিকার টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক বাংলাদেশকে একটু বিশেষভাবেই সমীহ করছেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের কীর্তি আছে টাইগারদের। বাকি দুই ফরম্যাটে বাংলাদেশ দল ইদানীং দারুণ পারফর্ম করছে, সাম্প্রতিক জিম্বাবুয়ে সফরে হারারে টেস্টের ব্যর্থতা বাদ দিলে; যে ম্যাচে পরীক্ষানিরীক্ষার আশ্রয় নিয়েছিল টাইগাররা।

টানা কয়েকটি হোম সিরিজ শুরুর আগে মারক্রাম বলেছেন, ‘আমরা অবশেষে আবারও ঘরের মাঠে সব ফরম্যাটে- সাদা বল ও লাল বলের ক্রিকেটে ফিরছি। ২০১৮ সালের পর প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়াকে ঘরের মাঠে পাওয়াটা একটি রোমাঞ্চকর সিরিজ উপহার দেবে। ইংল্যান্ড সবসময়ই এমন এক দল যাদেরকে হারানোর পথ খোঁজাটাই আনন্দের।’

এরপরই প্রোটিয়া তারকা তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের কথা। নাহিদ রানা, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলামদের নিয়ে গড়া বাংলাদেশের পেস আক্রমণ দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে হয়ে উঠতে পারে ভয়ংকর। এ কারণে বাংলাদেশকে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের কাতারেই রাখলেন মারক্রাম।

তিনি বলেন, ‘আর বাংলাদেশও দেখিয়ে দিয়েছে যে তাদের নতুন পেস আক্রমণ বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেবে। তাই সামনে তিনটি বড় সিরিজ রয়েছে আমাদের।’

এদিকে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে দক্ষিণ আফ্রিকা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। শিরোপা ধরে রাখতে এবারো তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। মারক্রাম বলেন, ‘আমরা স্পষ্টতই আবারও বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছি। ঘরের মাঠে এই গ্রীষ্মটা যদি আমরা খুব ভালোভাবে কাটাতে পারি, তবে আমার মনে হয় ফাইনালে ওঠার ক্ষেত্রে আমাদের দারুণ সুযোগ থাকবে।’

এ সময় মারক্রামের কাছে জানতে চাওয়া হয়- জ্যাক ক্যালিস ও বেন স্টোকসের মধ্যে কে সেরা অলরাউন্ডার। জবাবে স্বদেশী পূর্বসূরিকে এগিয়ে রেখে তিনি বলেন, ‘জ্যাক ক্যালিস- তিনিই আসল রাজা। আমার মতে, তিনি এযাবৎকালের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার, আর হ্যাঁ, এখানেই সব কথার শেষ।’




লিওনেল মেসিকে বিশ্বকাপের সেরা ফুটবলার ঘোষণা আইএফএফএইচএসের

ক্রীড়া ডেস্ক : সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে শিরোপা জিততে না পারলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের সুবাদে অনন্য এক স্বীকৃতি পেলেন লিওনেল মেসি। ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে রানার্সআপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হলেও, পরিসংখ্যান ও পারফরম্যান্স সূচকের ভিত্তিতে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে মেসিকে ঘোষণা করেছে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব ফুটবল হিস্ট্রি অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিকস (আইএফএফএইচএস)।

ফিফা অবশ্য অফিসিয়াল গোল্ডেন বলের পুরস্কার দিয়েছিল স্পেনের অধিনায়ক রদ্রিকে, যেখানে মেসি পান সিলভার বল এবং কিলিয়ান এমবাপ্পে পান ব্রোঞ্জ বল।

গত সোমবার এক অফিসিয়াল বিবৃতিতে আইএফএফএইচএস জানায়, কোনো খেলোয়াড়ের আবেগ বা খ্যাতির ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং তাদের নিজস্ব তথ্যনির্ভর বৈজ্ঞানিক সূচকের ভিত্তিতে এই মূল্যায়ন করা হয়েছে। ম্যাচ রেটিং, গোল, অ্যাসিস্ট এবং বিশেষ করে নকআউট পর্বে দলের জয়ে প্রভাব—এই বিষয়গুলোকে নির্দিষ্ট ওজনের ভিত্তিতে হিসাব করেই মেসিকে সেরা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
টুর্নামেন্টে ৩৯ বছর বয়সী মেসি ৭টি ম্যাচে মোট ৬২৬ মিনিট মাঠে থেকে ৮টি গোল করার পাশাপাশি করিয়েছেন আরও ৪টি, অর্থাৎ তিনি সরাসরি ১২টি গোল বা গোলে অবদান রেখেছেন। পুরো টুর্নামেন্টে তার প্রতি ম্যাচের গড় রেটিং ছিল ৮.৩৩। বিশেষ করে নকআউট পর্বের কঠিন ম্যাচগুলোতে দলের জন্য তিনি যে পার্থক্য গড়ে দিয়েছিলেন, সেটিকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে পরিসংখ্যানভিত্তিক এই সংস্থাটি।
আইএফএফএইচএস স্পষ্ট জানিয়েছে, মেসির এই স্বীকৃতি কোনো এক-দুটি ম্যাচের ঝলক নয়, বরং গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে ফাইনাল পর্যন্ত টানা সর্বোচ্চ মানের পারফরম্যান্সের নিখুঁত পরিসংখ্যানগত প্রতিফলন। ১৯৯১ সাল থেকে ফুটবলের ইতিহাস ও পরিসংখ্যান নিয়ে কাজ করা এই সংস্থাটির মানদণ্ডেই প্রমাণিত হলো, ২০২৬ সালের বৈশ্বিক মঞ্চে সেরা প্রভাবটি রেখেছেন খোদ লিওনেল মেসিই।



বিয়ে করলেন ইউটিউব তারকা মিস্টার বিস্ট

বিনোদন ডেস্ক : অবশেষে বিয়ে করলেন বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ও শীর্ষ উপার্জনকারী ইউটিউবার মিস্টার বিস্ট (আসল নাম জিমি ডোনাল্ডসন)। দীর্ঘদিনের প্রেমিকা ও দক্ষিণ আফ্রিকান কনটেন্ট ক্রিয়েটর থিয়া বয়সেনের সঙ্গে নতুন জীবনে পা রাখলেন ২৮ বছর বয়সী এই তারকা। ব্রিটিশ ধনকুবের রিচার্ড ব্র্যানসনের ব্যক্তিগত নেকার দ্বীপে পরিবার ও ঘনিষ্ঠ ৭০ জন অতিথির উপস্থিতিতে অত্যন্ত গোপনীয় ও ঘরোয়া পরিবেশে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

গত ১৪ জুলাই থেকে শুরু হয়ে সপ্তাহজুড়ে চলে এই রাজকীয় বিয়ের উদযাপন। ৭৪ একরের এই দ্বীপে বিয়ের মূল আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি অতিথিদের জন্য কাইটসার্ফিং, স্নরকেলিং এবং বন্যপ্রাণীদের সঙ্গে সময় কাটানোর মতো নানা আনন্দদায়ক ব্যবস্থার আয়োজন করা হয়েছিল। পারিবারিক এক বন্ধুর উপস্থিতিতে তারা একে অপরের কাছে আমৃত্যু পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বিয়ের বিশেষ এই দিনে মিস্টার বিস্ট বেছে নিয়েছিলেন রালফ লরেনের স্যুট, আর কনে থিয়া বয়সেনের পরনে ছিল নিকোল প্লাস ফেলিসিয়া কুচারের নজরকাড়া ওয়েডিং ড্রেস।

অঙ্গীকার পর্ব শেষে নবদম্পতি লেডি গাগা ও ব্রুনো মার্সের জনপ্রিয় গান ‘ডাই উইথ আ স্মাইল’-এর তালে তাদের প্রথম নাচ পরিবেশন করেন। জমকালো এই আয়োজনে অতিথিদের জন্য সুশি, ওয়াগিউ বিফসহ বাহারি খাবারের পাশাপাশি পরিবেশন করা হয় কনের পছন্দের ক্যারেট কেক। গভীর রাত পর্যন্ত চলা এই পার্টিতে লাইভ ব্যান্ডের পরিবেশনার পাশাপাশি তাস ও বিভিন্ন বোর্ড গেমসের মতো ঘরোয়া খেলাধুলার মধ্য দিয়ে আনন্দের সময় পার করেন অতিথিরা।

নিজেদের পরিচয় ও সম্পর্কের বিষয়ে জানা যায়, ২০২২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের সময় এক যৌথ বন্ধুর মাধ্যমে থিয়া বয়সেনের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ হয় জিমির। প্রথম দেখাতেই তাদের মধ্যে এক দারুণ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের বড়দিনে নিজেদের বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে থিয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দেন মিস্টার বিস্ট। পৃথিবীর অন্যতম জনপ্রিয় ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও নিজের বিয়ের মূল দিনটি ক্যামেরার ঝলকানি থেকে দূরে রেখে কেবল প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটাতে চেয়েছেন এই ইউটিউবার।

বিয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে থিয়া বয়সেন অনুভূতি প্রকাশ করে জানান, এটি ছিল একদম স্বর্গের মতো এক অভিজ্ঞতা। কাজের ব্যস্ততার কারণে সবাইকে একসঙ্গে পাওয়া যায় না, তাই সব প্রিয়জনকে এক জায়গায় পেয়ে তাদের ভীষণ ভালো লেগেছে। এখন থেকে তারা প্রতি বছর অন্তত এক সপ্তাহের জন্য হলেও সব বন্ধুবান্ধব ও পরিবারকে নিয়ে এমন আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন বলেও জানান তিনি।

বর্তমানে দুজনেই নতুন উদ্যমে নিজেদের কাজ ও পরবর্তী জীবনের অ্যাডভেঞ্চার শুরু করার কথা ব্যক্ত করেছেন।




দল থেকে গাজী নজরুলকে বহিষ্কার, সংসদ সদস্য পদ নিয়ে প্রশ্ন

ডেস্ক নিউজঃ নৈতিক স্খলনের দায়ে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করেছে জামায়াতে ইসলামী। এখন জনমনে প্রশ্ন উঠেছে গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্যের পদ থাকবে কি না বা তার এমপি পদের কী হবে?

বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে দলটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত বিষয়ে সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় তাকে গঠনতন্ত্রের ৬২ নাম্বার ধারা অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ওই বৈঠকে।

একই সাথে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে অবহিত করার সিদ্ধান্ত হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

এমপি পদ হারানো নিয়ে সংবিধানের ধারায় কী আছে?
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্য পদ তখনই শূন্য হয়, যদি কোনও সদস্য যে রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচিত হয়েছেন, সেই দল থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন, অথবা সংসদে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দেন।

আইনজীবীদের মতে, দলীয় বহিষ্কার বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলে ৭০ অনুচ্ছেদের অধীনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংসদ সদস্য পদ বাতিল হওয়ার সুযোগ নেই।

তবে ফৌজদারি মামলায় তিনি যদি এমনভাবে দণ্ডিত হন, যাতে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ ও প্রাসঙ্গিক আইনের অধীনে তিনি সংসদ সদস্য থাকার অযোগ্য হয়ে পড়েন, তখন বিষয়টি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হবে। আসন শূন্য হওয়ার প্রশ্ন দেখা দিলে সংবিধানের ৬৭(২) অনুযায়ী বিষয়টি রাষ্ট্রপতির নিকট যাবে এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনের মতামত গ্রহণ করে সিদ্ধান্ত দেবেন।

এছাড়া, কোনও ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়া, নৈতিক বিতর্ক তৈরি হওয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা বা অভিযোগ ওঠার কারণে সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হওয়ার কোনও বিধান সংবিধানে নেই। সংবিধানে এমন কোনও অনুচ্ছেদ নেই, যেখানে শুধু অভিযোগ বা নৈতিক সমালোচনার ভিত্তিতে সরাসরি সদস্যপদ বিলুপ্তি হবে।




সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট সিঙ্গাপুরের, বাংলাদেশের অবস্থান ৯৭

ডেস্ক নিউজঃ বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় ফের পিছিয়েছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের জুলাই মাসে প্রকাশিত হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান নেমে এসেছে ৯৭তম স্থানে। বছরের শুরুতে যদিও এ অবস্থান ছিল ৯৫তম স্থানে। একই অবস্থানে রয়েছে উত্তর কোরিয়াও।

লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স মঙ্গলবার (২১ জুলাই) তাদের ওয়েবসাইটে সর্বশেষ সূচক প্রকাশ করে। বিশ্বের ১৯৯টি দেশের পাসপোর্ট এবং ২২৭টি সম্ভাব্য ভ্রমণ গন্তব্যের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ সূচক তৈরি করা হয়েছে। কোনো দেশের নাগরিক আগাম ভিসা ছাড়া বা অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধায় কতটি দেশে প্রবেশ করতে পারেন, সেটিই এই সূচকের মূল ভিত্তি।

সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা বর্তমানে আগাম ভিসা ছাড়া বা অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধায় বিশ্বের ৩৫টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। জানুয়ারি ২০২৬ এবং ২০২৫ সালের সূচকে এ সংখ্যা ছিল ৩৭। অর্থাৎ ছয় মাসের ব্যবধানে বাংলাদেশ দুইটি ভিসামুক্ত বা সহজ ভিসা সুবিধার গন্তব্য হারিয়েছে।

তবে ভিসামুক্ত দেশের সংখ্যা কমলেও গত বছরের এ সময়ের থেকেও তিন ধাপ উন্নত হয়েছে বাংলাদেশের অবস্থান। সেসময় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০০তম। নতুন সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে ৯৭তম অবস্থানে রয়েছে উত্তর কোরিয়া। ২০২৫ সালের সূচকে উত্তর কোরিয়ার অবস্থান ছিল ৯৯তম। সর্বশেষ হালনাগাদে দেশটির অবস্থানেরও পরিবর্তন হয়েছে এবং দুই দেশ একই কাতারে এসেছে।

বাংলাদেশের মতো উত্তর কোরিয়ার পাসপোর্ট দিয়ে মোট ৩৫টি দেশে কোনো অগ্রিম ভিসা ছাড়া প্রবেশ করা যায়। এর মধ্যে সম্পূর্ণ ভিসামুক্ত দেশের সংখ্যা প্রায় ৮ থেকে ১০টি। বাকি প্রায় ২৫ থেকে ২৭টি দেশে উত্তর কোরিয়ার নাগরিকরা ভিসা অন অ্যারাইভাল বা পৌঁছানোর পর ভিসা নেওয়ার সুবিধা পান।

বিগত কয়েক বছরের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০২০ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৯৮তম। এরপর ২০২১ সালে নেমে যায় ১০৮তম স্থানে। ২০২২ সালে অবস্থান হয় ১০৩তম এবং ২০২৩ সালে ১০১তম। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ আবার ৯৭তম স্থানে উঠে আসে। ২০২৫ সালে অবস্থান নেমে যায় ১০০তমে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে উন্নতি হয়ে ৯৫তম হলেও জুলাইয়ে তা আবার ৯৭তম হয়েছে।

সূচকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের মর্যাদা ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর। দেশটির নাগরিকরা আগাম ভিসা ছাড়াই বিশ্বের ১৯২টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এসব দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত বা সহজ প্রবেশযোগ্য গন্তব্য ১৮৮টি।

তৃতীয় স্থানে রয়েছে সুইডেন, যার পাসপোর্ট দিয়ে ১৮৭টি দেশে ভ্রমণ করা যায়। চতুর্থ স্থানে রয়েছে বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে ও স্পেন। এসব দেশের নাগরিকরা ১৮৬টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়াই যেতে পারেন।

পঞ্চম স্থানে রয়েছে অস্ট্রিয়া, গ্রিস, মাল্টা, পর্তুগাল ও সুইজারল্যান্ড। এসব দেশের নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে ১৮৫টি গন্তব্য। ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য। সপ্তম স্থানে আছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, চেক প্রজাতন্ত্র, লাটভিয়া, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, স্লোভাকিয়া ও স্লোভেনিয়া। অষ্টম স্থানে রয়েছে ক্রোয়েশিয়া ও এস্তোনিয়া। নবম স্থানে লিচেনস্টেইন ও লিথুনিয়া এবং দশম স্থানে রয়েছে আইসল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র।

এবার ও একই অবস্থানে রয়েছে ফুটবলের দুই পরাশক্তি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। দুটি দেশের অবস্থান ১৬তম এবং তাদের নাগরিকরা আগাম ভিসা ছাড়াই ১৬৯টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন।

যুদ্ধরত ইউক্রেন রয়েছে ৩১তম এবং রাশিয়া ৪৭তম অবস্থানে। ইউক্রেনের নাগরিকরা ১৪২টি এবং রাশিয়ার নাগরিকরা ১১৪টি দেশে ভিসামুক্ত বা সহজ প্রবেশ সুবিধা পান।

ইসরায়েল রয়েছে ১৮তম অবস্থানে। দেশটির নাগরিকরা ১৬৬টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। অন্যদিকে ইরান ও ফিলিস্তিন যৌথভাবে ৯৬তম অবস্থানে রয়েছে, যেখানে ভিসামুক্ত গন্তব্য ৩৭টি।

মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরব রয়েছে ৫৪তম অবস্থানে। চীন কসোভোর সঙ্গে যৌথভাবে ৬০তম এবং হাইতি ও ভিয়েতনাম রয়েছে ৮৭তম স্থানে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট মালদ্বীপের। দেশটি ৫২তম অবস্থানে রয়েছে এবং তাদের নাগরিকরা ৯৩টি দেশে ভিসামুক্ত বা সহজ প্রবেশ সুবিধা পান। এরপর রয়েছে ভারত, যার অবস্থান ৮১তম এবং ভিসামুক্ত গন্তব্য ৫৫টি। ভুটান রয়েছে ৮৮তম স্থানে, মিয়ানমার ৯১তম এবং শ্রীলঙ্কা ৯৪তম অবস্থানে।

বাংলাদেশ রয়েছে ৯৭তম স্থানে, যেখানে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধার দেশ ৩৫টি। বাংলাদেশের ঠিক পরেই ৯৮তম অবস্থানে রয়েছে নেপাল। দেশটির নাগরিকরা ৩৪টি দেশে সহজে ভ্রমণ করতে পারেন।

অন্যদিকে পাকিস্তান রয়েছে ১০১তম অবস্থানে এবং তাদের নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত গন্তব্য ২৯টি। সিরিয়া ১০৩তম, ইরাক ১০২তম এবং আফগানিস্তান ১০৪তম অবস্থানে রয়েছে। আফগানিস্তানের নাগরিকরা মাত্র ২২টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারেন, যা সূচকের সর্বনিম্ন।




গণপূর্তে বদলি স্থবিরতা, দীর্ঘদিন একই পদে প্রভাবশালী কর্মকর্তারা; স্বচ্ছতা-জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন

বিশেষ প্রতিবেদকঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মস্থলে থাকা একাধিক প্রকৌশলীকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, নিয়মিত বদলি কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা কিছু কর্মকর্তা দীর্ঘ সময় ধরে একই পদে বহাল রয়েছেন। এতে প্রশাসনিক ভারসাম্য, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরে বর্তমানে মাঠপর্যায়ে প্রায় ১৭০ জন নির্বাহী প্রকৌশলী, ৩০০ জন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, ২২০ জন সহকারী প্রকৌশলী এবং প্রায় ১২০০ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলী কর্মরত রয়েছেন। নির্বাহী প্রকৌশলী পর্যন্ত বদলির ক্ষমতা প্রধান প্রকৌশলীর হাতে থাকলেও গত কয়েক মাস ধরে বড় ধরনের বদলি না হওয়ায় কর্মকর্তাদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে একই জায়গায় দায়িত্ব পালনকারী কিছু কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ও স্থাপনার নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন। অন্যদিকে, মেধাবী ও যোগ্য কর্মকর্তারা মূল্যায়ন না পাওয়ার অভিযোগ করে হতাশা প্রকাশ করছেন।

ই/এম শাখায় দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার অভিযোগ:
গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রিক্যাল/মেকানিক্যাল (ই/এম) শাখার কয়েকজন কর্মকর্তার দীর্ঘদিন ঢাকায় অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ অনুযায়ী— নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) মো. ইউছুফ দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর ই/এম কারখানা বিভাগে দায়িত্ব পালনের পর ঢাকার বাইরে বদলি হলেও সেখানে যোগদান না করে রিজার্ভে ছিলেন।

পরবর্তীতে অল্প সময়ের মধ্যে আবার ঢাকার ই/এম বিভাগ-১৩ এবং পরে ই/এম বিভাগ-১ এ দায়িত্ব পান বলে অভিযোগ রয়েছে।
নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী মাশফিক আহমেদ প্রায় সাত বছর ঢাকার পিএন্ডডি জোনে স্টাফ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ই/এম বিভাগ-২ এ দায়িত্ব পান এবং দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে রয়েছেন বলে অভিযোগ।

নির্বাহী প্রকৌশলী নিয়াজ মো. তানভীর আলম ই/এম বিভাগ-৩ এ দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের পর ই/এম বিভাগ-৪ এ দায়িত্ব পান এবং বর্তমানে সেখানেই আছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন দীর্ঘ সময় ঢাকায় কর্মরত থাকার পর সংসদ ভবনের সাউন্ড সিস্টেম বিভ্রাটের ঘটনায় বদলির মুখে পড়লেও পরবর্তীতে আবার ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পান বলে অভিযোগ।

এছাড়া মো. আবু তালেব, মো. তরিকুল আলম, মো. তামজিদ হোসেন, সমীরন মিস্ত্রী ও মো. জাহাঙ্গীর আলম-এর দীর্ঘদিন ঢাকায় অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ।

ই/এম বিভাগ-৫ ঘিরে ‘সিন্ডিকেট’ অভিযোগ : গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম বিভাগ-৫ নিয়ে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিভাগটিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী বলয় কাজ করছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ তামজীদ হোসেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, তার সময়ে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, ঠিকাদার নির্বাচন, কমিশন বাণিজ্য এবং সরকারি কাজের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় একটি নির্দিষ্ট চক্রের প্রভাব রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে তামজীদ হোসেন দাবি করেছেন, একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং তিনি সরকারি বিধি মেনেই দায়িত্ব পালন করছেন।

ই-জিপি ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন :
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি ই-জিপি (e-GP) ও আইবাস++ (iBAS++) ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিয়মবহির্ভূতভাবে বহিরাগত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

কিছু কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত আইডি ব্যবহার করে বহিরাগতদের মাধ্যমে টেন্ডার, বিল ও আর্থিক নথির কাজ পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঠিকাদার নিয়ন্ত্রণ ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ :
অভিযোগ রয়েছে, ই/এম বিভাগের বিভিন্ন কাজে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়া হয়। এসি, লিফট, সাবস্টেশন ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম সরবরাহে নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড বা প্রতিষ্ঠানের প্রতি ঝোঁকের অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ঠিকাদার।

তাদের দাবি, সাধারণ ঠিকাদারদের বিল দীর্ঘদিন আটকে থাকলেও একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর বিল দ্রুত নিষ্পত্তি হয়। এছাড়া কয়েকজন ঠিকাদারের অভিযোগ, কাজ পেতে এবং বিল ছাড় করাতে ‘পার্সেন্টেজ’ দেওয়ার চাপ রয়েছে।

দীর্ঘদিন ঢাকায় থাকা কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রশ্ন :
গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঢাকা ডিভিশন-৪ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ রানাকে নিয়েও দীর্ঘদিন একই এলাকায় থাকার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি প্রায় ছয় বছর ধরে ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। এর আগে শেরেবাংলা নগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তার অধীনে শত শত কোটি টাকার প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান ও বাস্তবায়ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারকে ঘিরে প্রশ্ন : গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. শামীম আখতার-এর সময় বদলি, পদায়ন ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে বিভিন্ন মহলে অভিযোগ উঠেছে।

কিছু কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, তার আমলে নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তাকে বারবার ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে শামীম আখতারের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

জিগাতলা কোয়ার্টারের কাজ নিয়ে অভিযোগ : জিগাতলা সরকারি অফিসার্স কোয়ার্টারের মাল্টিপারপাস হলে এলইডি ডিসপ্লে, কনফারেন্স সিস্টেম ও সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন সংক্রান্ত কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, কাজ সম্পন্ন না করেই বিল প্রদান করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রশাসনিক সংস্কারের দাবি :
গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকা কর্মকর্তাদের বিষয়ে একটি নিরপেক্ষ পর্যালোচনা প্রয়োজন। তাদের মতে, নিয়মিত বদলি, সম্পদের হিসাব যাচাই, প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতা ফিরিয়ে আনা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন একই জায়গায় দায়িত্ব পালন করলে স্বার্থের সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ে। তাই প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী সময়মতো বদলি ও দায়িত্ব পরিবর্তন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।