ক্যানসারে আক্রান্ত কথাসাহিত্যিক নাসরীন জাহান

বিনোদন ডেস্ক : মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত শক্তিমান কথাসাহিত্যিক নাসরীন জাহান। দুরূহ ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার পাশাপাশি তাকে লড়তে হচ্ছে কিডনি জটিলতার সঙ্গেও। নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যয় ক্রমেই বেড়ে যাওয়ায় তার চিকিৎসার খরচ বহন করা পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর চিকিৎসার জন্য মানবিক সহায়তার আবেদন জানানো হয়েছে।

নাসরীন জাহানের স্বামী কবি আশরাফ আহমদ জানান, এক বছরেরও বেশি সময় আগে তার ইউরিনারি ব্লাডারে ক্যানসার শনাক্ত হয়। এরপর থেকে নিয়মিত কেমোথেরাপি চলছে। ক্যানসারের পাশাপাশি তিনি কিডনি জটিলতায়ও ভুগছেন। গত কয়েক মাস ধরে তার রক্তের ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা ৬ দশমিক ৫-এর ওপরে রয়েছে।

ক্যানসারের মতো জটিল রোগের চিকিৎসা দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল। এর সঙ্গে কিডনির জটিলতা যুক্ত হওয়ায় নাসরীন জাহানের চিকিৎসা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

নাসরীন জাহানের চিকিৎসা সহায়তায় আন্তরিকতার সঙ্গে এগিয়ে আসার জন্য সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন সাহিত্যাঙ্গণের ব্যক্তিরা।

নাসরীন জাহানের চিকিৎসা সহায়তায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে অন্য প্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম।

তিনি বলেন, সংকটের সময়ে একজন মানুষের পাশে আরেকজন মানুষ দাঁড়াবে এটাই তো মানবিকতার সবচেয়ে সুন্দর পরিচয়। আসুন, আমরা সকলে মিলে কথাশিল্পী নাসরীন জাহানের পাশে দাঁড়াই। তাঁর পাশে দাঁড়াতে আমাদের এতটুকু সহযোগিতাই এখন অনেক বড় বিষয়।

পরিবারের পক্ষে দীর্ঘমেয়াদি এই চিকিৎসার ব্যয় বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে নাসরীন জাহানের নিকটাত্মীয় কবি ফরিদ কবির সুহৃদদের কাছে সহায়তার হাত বাড়ানোর অনুরোধ করেছেন। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে নাসরীন জাহানের নামে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাঠানোর ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

আর্থিক সহায়তা পাঠানোর ঠিকানা:
নাম: Nasreen Jahan
ব্যাংক: Mutual Trust Bank Limited
শাখা: Panthapath Branch
অ্যাকাউন্ট নম্বর: 00303 1001 2266
Taptap Send বা অন্য কোনো সুরক্ষিত অ্যাপের মাধ্যমে এই অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানো যেতে পারে।
SWIFT Code: MTBL BDDH
বিকাশ নম্বর: 01713006487

বাংলা সাহিত্যের শক্তিমান কথাসাহিত্যিক নাসরীন জাহান। প্রথম উপন্যাস ‘উড়ুক্কু’ প্রকাশের পরই পাঠকমহলে তিনি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। পরবর্তী সময়ে গল্প, উপন্যাস ও অন্যান্য লেখালেখির মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে তিনি নির্মাণ করেছেন নিজস্ব এক জগৎ। তার সাহিত্যকর্ম যেমন পাঠকের মনোযোগ কেড়েছে, তেমনই পেয়েছে সমালোচকদের মূল্যায়ন। বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ পেয়েছেন নানা পুরস্কার ও সম্মাননা। এ পর্যন্ত তার ৫০টিরও বেশি গ্রন্থ  প্রকাশিত হয়েছে।




শূন্য থেকে শিখরে, মেসির যে গল্প রূপকথাকেও হার মানায়

খেলাধুলা ডেস্কঃ আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরের সেই ছোট্ট ছেলেটিরও আর দশজনের ফুটবল খেলতে ভীষণ ভালো লাগতো। কিন্তু একটা জায়গায় সে ছিলো অন্যদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। ফুটবলটাকেই সে করেছিল সাধনার মহামন্ত্র, ধ্যানের মতো নিয়েছিল জীবনের সঙ্গে মিশিয়ে। আর সেই ছেলেটির নাম লিওনেল মেসি।

১৯৮৭ সালের ২৪ জুন রোজারিওতে জন্ম মেসির। শৈশব থেকেই বল পায়ে তার জাদু দেখা যেত। বয়স যখন মাত্র পাঁচ, তখনই লোকাল ক্লাব গ্রান্দোলির হয়ে খেলতে শুরু করেন। পরে যোগ দেন নিউয়েলস ওল্ড বয়েজে।

কিন্তু ফুটবলে যতটা দ্রুত ছুটছিলেন মেসি, তার শরীর যেন ততটা দ্রুত বাড়ছিলো না। মাত্র ১১ বছর বয়সে ধরা পড়ে গ্রোথ হরমোন ডেফিসিয়েন্সি। যে বয়সে অন্য শিশুরা নিশ্চিন্তে মাঠে ছুটছে, সেই বয়সে মেসির পরিবারকে ভাবতে হচ্ছে চিকিৎসার খরচ নিয়ে। প্রতিমাসে প্রয়োজন ছিল ব্যয়বহুল চিকিৎসার। পরিবারের পক্ষে সেই খরচ চালিয়ে যাওয়া সহজ ছিল না।

আর তখনই মেসির জীবনের সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নটি সামনে। অনেকেই বলতে শুরু করেন, এত ছোট গড়নের একটা ছেলে কি সত্যিই বড় ফুটবলার হতে পারবে?
কারো মতো উত্তরটা ছিল স্রেফ ‘না’। কিন্তু ফুটবলকে যিনি সাধনার মন্ত্র মানেন, তিনি অতো সহজে হাল ছাড়েন না। পায়ের বলটাই যেন শরীরের সীমাবদ্ধতা মানতে চাইত না।
এরপর মেসির জীবনে ঘটে সবচেয়ে বড় নাটকীয় ঘটনা।

২০০০ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে মেসি পাড়ি দেন স্পেনে। লক্ষ্য, বার্সেলোনার একাডেমিতে সুযোগ পাওয়া। কিন্তু বার্সেলোনার কর্মকর্তারাও প্রথমে সন্দিহান ছিলেন। ছেলেটার প্রতিভা নিয়ে সন্দেহ ছিল না, কিন্তু বয়স, শারীরিক গঠন আর চিকিৎসার খরচ সব মিলিয়ে সিদ্ধান্তটা সহজ ছিল না। শেষ পর্যন্ত এক রেস্তোরাঁয় বসে ঘটে যায় ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিখ্যাত ঘটনা। বার্সেলোনার তৎকালীন ক্রীড়া পরিচালক কার্লেস রেক্সাচ একটি ন্যাপকিনে লিখে দেন, মেসিকে দলে নেওয়ার ব্যাপারে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেই সঙ্গে এক টুকরো ন্যাপকিনেইও পর লেখা কয়েকটি লাইন বদলে দেয় ফুটবল ইতিহাস। বার্সেলোনার লা মাসিয়ায় শুরু হয় মেসির নতুন জীবন।

সেখানে ধীরে ধীরে সবাই বুঝতে শুরু করলেন, ছেলেটা শুধু প্রতিভাবান নয়, অসাধারণও বটে। বল পায়ে তার গতি, ড্রিবলিং, শরীরের ভারসাম্য আর গোল করার ক্ষমতা ছিল অন্যরকম। ২০০৪ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে বার্সেলোনার মূল দলে মেসির অভিষেক হয়। তারপর রূপকথার লিখতে শুরু করেন এলএম টেন। একটার পর একটা গোল। একটার পর একটা রেকর্ড। একের পর এক ট্রফি।

তবে সবকিছুর পরও মেসির গল্পে শুধু সাফল্য ছিল না, ছিল নিঃসঙ্গতাও। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন খুব শান্ত, লাজুক আর অন্তর্মুখী স্বভাবের। মাঠে যে মানুষটা কয়েকজন ডিফেন্ডারকে একসঙ্গে বোকা বানিয়ে দিতেন, মাঠের বাইরে সেই মানুষটাই ছিলেন ভীষণ চুপচাপ। আর জাতীয় দলের জার্সিতে তার পথটা ছিল আরও কঠিন।

আর্জেন্টিনার হয়ে খেলতে গিয়ে তাকে বারবার শুনতে হয়েছে, ক্লাবে যত বড় তারকা, জাতীয় দলের হয়ে ততটা সফল নন। অনেকে তো মেসিকে স্বার্থপরও ডাকতে শুরু করেছিলেন। ২০১৪ সালে বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির কাছে হার, তারপর ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে পরপর দুই হার। হতাশ হয়ে মেসিও হাল ছেড়িছিলেন, ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনি জাতীয় দল থেকে অবসর নিচ্ছেন।

তবে নিয়তি যার গল্প লেখার ভার নেয়, তার গল্প এমন মাঝপথে থামে না কিছুতেই। যেখান থেকে মনে হয় সব শেষ হয়ে গেছে, সেখান থেকেই হয় নতুন শুরু। অবসর ভেঙে ফেরা মেসি আরও বাড়ালেন ধার,পায়ের জাদু আর নেতৃত্বের গুণে ২০২১ সালে ব্রাজিলের মারাকানায় আর্জেন্টিনা কোপা আমেরিকা জেতালেন। মেসির হাতে উঠল প্রথম বড় আন্তর্জাতিক ট্রফি। অনেক বছরের অপেক্ষার পর দেশের হয়ে প্রথম বড় শিরোপা।

কিন্তু এরপরও একটা প্রশ্ন থেকেই গেল। মেসি কি বিশ্বকাপটা জিততে পারবেন? ঠিক তার মাঝেও এলো আরেকটা ধাক্কা ২০২১ সালেই তাকে ছাড়তে হলো প্রিয় ঘর বার্সেলোনা। ক্লাবটির সঙ্গে দুই দশকেরও বেশি সময়ের সম্পর্কের ইতি টানলেন তিনি। বিদায়ী সংবাদ সম্মেলনে তিনি কাঁদলেন, কাঁদালেনও।
যে ক্লাবের একাডেমিতে কিশোর বয়সে এসেছিলেন, যে ক্লাবকে নিজের ঘরের মতো মনে করতেন, সেই বার্সেলোনাকেই শেষ পর্যন্ত বিদায় বলতে হয়েছিল।

এরপর মেসির নতুন অধ্যায় শুরু হয় প্যারিসে। কিন্তু তার চোখ তখন এক জায়গাতেই, কাতার। বিশ্বকাপের অধরা স্বপ্ন পূরণে তখন তিনি আরও মগ্ন। বিশ্বকাপের শুরু আর্জেন্টিনার স্বপ্নের মতো হলো না। সৌদি আরবের কাছে প্রথম ম্যাচেই হার। অনেকেই তখন আবার প্রশ্ন তুললেন, মেসির বিশ্বকাপের স্বপ্ন কি এবারও অপূর্ণই থেকে যাবে?
কিন্তু মেসি যেন এবার অন্য কিছু ঠিক করে এসেছিলেন, মেক্সিকোর বিপক্ষে গোল;  পোল্যান্ডের বিপক্ষে জয়। এরপর অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, ক্রোয়েশিয়া; প্রতিটি ম্যাচে মেসি দলটাকে টেনে নিলেন একাই।

আর তারপর এল ১৮ ডিসেম্বর ২০২২, লুসাইল স্টেডিয়াম। এক পাশে আর্জেন্টিনা। অন্য পাশে ফ্রান্স। মাঠে মেসি আর এমবাপ্পের দ্বৈরথ। বিশ্বকাপের ফাইনাল যেন একটা সিনেমার শেষ দৃশ্য হয়ে থাকল। আর্জেন্টিনা এগিয়ে গেল। মেসি গোল করলেন। ডি মারিয়া গোল করলেন। মনে হচ্ছিল, বিশ্বকাপটা বুঝি আর্জেন্টিনারই। কিন্তু ফ্রান্স ফিরে এল। এমবাপ্পে করলেন একের পর এক গোল। ৯০ মিনিট শেষ। অতিরিক্ত সময়ও শেষের পথে। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ গড়াল টাইব্রেকারে।

সেই মুহূর্তে পুরো পৃথিবীর চোখ মেসির দিকে। আর তারপর… আর্জেন্টিনা জিতে গেল। মেসির হাতে উঠল সেই ট্রফি, যেটার জন্য তিনি বছরের পর বছর অপেক্ষা করেছেন।

২০২৬ সালের বিশ্বকাপেও চলেছে মেসির ঝলক; একাই দলকে টেনে নিয়েছেন ফাইনালে; যদিও সোনালি শিরোপা ছোঁয়া হয়নি; তবুও মেসির মাহাত্ম্য কমেনি মোটেও। ৩৯ বছরে তিনি যা করে দেখিয়েছেন, তাতেই অবাক হয়ে গেছে বিশ্ব, মুগ্ধতা নিয়ে দেখেছে কেবল তাকেই। এবার এলো বিদায়ে মাহেন্দ্র ক্ষণ, আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন নিজেই। তারপও কথা থেকে যায়; যে জীবন ফুটবলের, তাকে কি আসলে অন্য কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়। তিনি আছেন, থাকবেন; বিদায় নামের তিন শব্দেও মুছবে না তার পায়ের ছাপ।




দেড় দশক পর একসঙ্গে শাহরুখ-কারিনা

বিনোদন ডেস্কঃ বলিউডের জনপ্রিয় জুটি শাহরুখ খান ও কারিনা কাপুর খান। দীর্ঘ ১৫ বছর পর ফের একসঙ্গে বড় পর্দায় হাজির হবেন তারা। আর সেটি হবে সিদ্ধার্থ আনন্দের ‘কিং’ সিনেমার একটি বিশেষ গানে।

এর আগে, সবশেষ ২০১১ সালে ‘রা. ওয়ান’ ছবিতে দেখা গিয়েছিল এই দুই তারকাকে।

ভারতের বিনোদনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পিঙ্কভিলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‌‌‘কিং’ সিনেমায় ‘ড্যাডি কুল’ শিরোনামের একটি বিশেষ গানে অংশ নেবেন তারা। গানটি সিনেমার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্রের খবর, চলতি মাসের শেষ দিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় শাহরুখের সঙ্গে গানটির শুটিং করবেন কারিনা। এ কাজের জন্য প্রায় পাঁচ দিন সময় দিয়েছেন অভিনেত্রী। বড় পরিসরে গানটির শুটিংয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, এই গানটি গাইছেন আন্তর্জাতিক এক শিল্পী। তিনি কে? সেটা এখনো জানা যায়নি। তবে গুঞ্জন রয়েছে, গানটি গেয়েছেন এড শিরান। যিনি এই সময়ে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সংগীত তারকাদের একজন।

মজার বিষয় হলো, ‘ড্যাডি কুল’ গানে কারিনার সঙ্গে শাহরুখকে একেবারে নতুন রূপে দেখা যাবে। এর আগে ‘কাভি খুশি কাভি গম’ ও ‘ডন’-এর মতো সিনেমায় একসঙ্গে পর্দায় হাজির হয়েছেন এই দুই তারকা। তবে ‘কিং’-এ তাদের উপস্থিতি দর্শকদের মধ্যে নতুন করে উন্মাদনা সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, আগামী ২ নভেম্বর শাহরুখ খানের জন্মদিন উপলক্ষে ‘কিং’ সিনেমার নতুন কোনো ঝলক প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন নির্মাতারা। দর্শক-ভক্তরাও অপেক্ষায় আছেন ২ নভেম্বর থেকে ‘কিং’-এর প্রচারণা শুরু হবে ভেবে।

‘কিং’ ছবিতে শাহরুখের সঙ্গে আরও অভিনয় করবেন সুহানা খান, দীপিকা পাড়ুকোন, অভিষেক বচ্চন, অনিল কাপুর, জ্যাকি শ্রফ, রানি মুখার্জি, জয়দীপ আহলাওয়াত, আরশাদ ওয়ারসি ও রাঘব জুয়ালসহ একঝাঁক তারকা।




বন্ধুদের সঙ্গে না পেরে ভিন্ন চেষ্টা, ‘গোপন প্রতিভা’ ফাঁস করলেন জাহ্নবী

বিনোদন ডেস্কঃ প্যারিস ফ্যাশন উইকের মঞ্চ থেকে শুরু করে এআই বিতর্ক—কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের এক অদ্ভুত ও অজানা গুণ নিয়ে আলোচনায় এলেন বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি প্রকাশ করেছেন, তিনি নিজের জিভকে প্রায় ৩৬০ ডিগ্রি ঘোরাতে সক্ষম। নিজের এই ব্যতিক্রমী দক্ষতাকে অবশ্য নিজেই বেশ রসিকতার সুরে ‘একদমই অনর্থক ও বেকার একটি কৌশল’ বলে বর্ণনা করেছেন বি-টাউনের এই জনপ্রিয় তারকা।

আমেরিকান জীবনধারা ও ফ্যাশনবিষয়ক প্রকাশনা ‘দ্য কাট’-এর সঙ্গে এক বিশেষ আলাপচারিতায় অংশ নিয়েছিলেন জাহ্নবী। সেখানে তাকে এমন কোনো একটি লুকিয়ে রাখা দক্ষতার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়, যা সাধারণ মানুষের অজানা। এই প্রশ্নের জবাবে হাসিমুখেই তিনি তার এই ৩৬০ ডিগ্রি জিভ ঘোরানোর সক্ষমতার কথা ফাঁস করেন। সেই সঙ্গে জানান, বিষয়টি শুনতে যতটা অদ্ভুত লাগে, বাস্তবে এটি করা তার জন্য ততটাই সহজ।

এই বিশেষ দক্ষতাটি কীভাবে তিনি আয়ত্ত করলেন, সেটির পেছনে থাকা শৈশবের মজার ইতিহাসও শেয়ার করেছেন ‘দেভারা’ খ্যাত এই অভিনেত্রী। তিনি জানান, স্কুলের দিনগুলোতে তার সহপাঠীরা প্রায়ই জিভ দিয়ে নিজেদের নাক স্পর্শ করার চেষ্টা করত এবং প্রতিযোগিতা চলত। তবে চেষ্টার পরও তিনি সহপাঠীদের মতো জিভ দিয়ে নাক স্পর্শ করতে পারছিলেন না। বন্ধুদের কাছে নিজের বিশেষত্ব তুলে ধরা এবং তাদের তাক লাগিয়ে দেওয়ার তাগিদ থেকেই তিনি অন্য কিছু করার চেষ্টা শুরু করেন। সেই চেষ্টার ধারাবাহিকতায় শেষ পর্যন্ত জিভ ঘোরানোর এই অভিনব ও অস্বাভাবিক ‘পার্টি ট্রিক’ বা কৌশলটি তিনি রপ্ত করে ফেলেন।

তবে ব্যক্তিগত জীবনের এই হাল্কা মেজাজের খবরের পাশাপাশি সম্প্রতি একটি মারাত্মক এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সংক্রান্ত বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতেও পড়তে হয়েছে এই অভিনেত্রীকে। ২০২৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তার ও জুনিয়র এনটিআরের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘দেভারা: পার্ট ১’-এর ‘ছুটামাল্লে’ গানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি ডিপফেক বা বিকৃত এআই ভিডিও সম্প্রতি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভুয়া ভিডিওটিতে জাহ্নবীকে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অশালীনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, যা নিয়ে ইন্টারনেট দুনিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়।

এই ঘটনার পর চুপ থাকেননি জাহ্নবী। নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি দীর্ঘ বিবৃতি প্রকাশ করে প্রযুক্তির এমন অপব্যবহারের কড়া প্রতিবাদ জানান তিনি। নারীদের বস্তু হিসেবে তুলে ধরতে প্রযুক্তিকে ঢাল বানানোর তীব্র সমালোচনা করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া যেকোনো ধরনের কাল্পনিক বা বিকৃত কনটেন্ট ছড়ানো কেবল অপরাধই নয়, এটি অত্যন্ত পীড়াদায়ক এবং কারও ব্যক্তিগত পরিসরে গুরুতর আঘাত।

আইনি ও প্রযুক্তিগত জটিলতার এই নেতিবাচক পরিস্থিতি কাটিয়ে জাহ্নবী কাপুর এখন তার ভবিষ্যতের কাজগুলোতে মনোযোগ দিচ্ছেন। সামনের দিনে রাজ মেহতা পরিচালিত নতুন চলচ্চিত্র ‘লাগ যা গলে’-তে মুখ্য চরিত্রে দেখা যাবে তাকে। এই ছবিতে তার সহশিল্পী হিসেবে অভিনয় করছেন টাইগার শ্রফ এবং লক্ষ্য। বিগ বাজেটের এই সিনেমাটি ২০২৭ সালে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।




বগুড়ায় পুন্ড্র বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক সেমিনার

বগুড়া ব্যুরোঃ বগুড়ায় পুন্ড্র ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে শিক্ষকদের মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স সেল (আইকিউএসি) আয়োজিত এ সেমিনারের শিরোনাম ছিল ‘স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট ফর টিচার্স’।

সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ও সাবেক পুলিশ স্টাফ কলেজের রেক্টর এম. নাজমুল হক।

আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. আবু হানিফের সভাপতিত্বে সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. চিত্তরঞ্জন মিশ্র, বিওটির ভাইস চেয়ারম্যান রোটারিয়ান ডা. মো. মতিউর রহমান, ট্রেজারার (ডেজিগনেট) অধ্যাপক মুহাম্মদ মুনজুর মুরশিদুল আবেদীন, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল আহসান, মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. শহীদুর রহমানসহ বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও শিক্ষকরা।

সেমিনারে শিক্ষকদের পেশাগত জীবনে মানসিক চাপের কারণ, এর নেতিবাচক প্রভাব, কর্মক্ষেত্রে চাপ মোকাবিলার কার্যকর কৌশল এবং মানসিক সুস্থতা বজায় রাখার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক অনিন্দিতা পালের সঞ্চালনায় প্রাণবন্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্বের মধ্য দিয়ে সেমিনারটি শেষ হয়।




পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে কক্সবাজারে ৩০টি ইয়ামাহা মোটরসাইকেল হস্তান্তর

পর্যটক ডেস্কঃ কক্সবাজারে পর্যটকদের যাতায়াত আরও সহজ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও আনন্দদায়ক করতে মোটরসাইকেল রেন্টাল ব্যবসায়ীদের কাছে ৩০টি ইয়ামাহা এফজেড-এস ভার্সন ৪.০ মোটরসাইকেল হস্তান্তর করেছে ইয়ামাহা বাংলাদেশ। পর্যটকেরা যাতে মোটরসাইকেল ভাড়া নিয়ে কক্সবাজার শহর ও আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

‘ড্রাইভিং ট্যুরিজম, মোবিলিটি ইন কক্সবাজার’ ভাবনাকে সামনে রেখে এ আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের মতে, পর্যটকদের ব্যক্তিগত পরিবহনের সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি কক্সবাজারের পর্যটন অভিজ্ঞতাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

সম্প্রতি কক্সবাজারের হোটেল সি গালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মোটরসাইকেলগুলো ব্যবসায়ীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে এসিআই মোটরস ও ইয়ামাহার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং কক্সবাজারে ইয়ামাহার অনুমোদিত ডিলার মাহিন মোটরসের স্বত্বাধিকারী উপস্থিত ছিলেন।

হস্তান্তর করা মোটরসাইকেলগুলোর মধ্যে রয়েছে ইয়ামাহা এফজেড-এস ভার্সন ৪.০ মডেল। উন্নত নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার পাশাপাশি এতে রয়েছে অ্যান্টি-লক ব্রেকিং সিস্টেম (এবিএস) ও ট্র্যাকশন কন্ট্রোল সিস্টেমের (টিসিএস) মতো আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি। এসব সুবিধা মোটরসাইকেল চালানোর সময় নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সহায়তা করে। এ ছাড়া ফুয়েল ইনজেকশন (এফআই) প্রযুক্তি থাকায় বাইকটি জ্বালানি সাশ্রয়ী।

প্রতিটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে চালক ও আরোহীর জন্য দুটি করে সার্টিফায়েড হেলমেটও দেওয়া হয়েছে। এর ফলে পর্যটকেরা নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে মোটরসাইকেল ভাড়া নিয়ে কক্সবাজারের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার সুযোগ পাবেন।




সিংড়ায় ৫০ বক জবাই, তিন শিকারির কারাদণ্ড

নাটোর প্রতিনিধিঃ নাটোরের সিংড়ায় ৫০টি বকপাখি জবাই করে হত্যার অপরাধে তিন পাখি শিকারিকে দুই মাস করে কারাদণ্ড ও ২ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও সাত দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এ ছাড়া জবাই করা পাখি বস্তায় ভরে গোপনে বিক্রিতে সহযোগিতা করায় দুজনকে মোট ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে উপজেলার ডাহিয়া-বিয়াস সড়কে অভিযান চালিয়ে এ দণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রিফাত।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন পাকুরিয়া গ্রামের জনাব আলী (৩৮), বিলপাকুরিয়া গ্রামের কাহার (১৯) ও লিটন (৩০)। সহযোগী আবু হানিফকে ৭ হাজার এবং হোসেন আলীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জানান, কয়েক দিন ধরে একটি চক্র বকসহ বিভিন্ন পাখি শিকার করে জবাইয়ের পর বস্তায় ভরে সিংড়া পৌর শহরের পারসিংড়া বেদেপল্লীতে গোপনে বিক্রি করছিল। স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা ভ্যানচালক আবু হানিফের গতিবিধি অনুসরণ করে পাখিগুলো ভ্যানে তোলার সময় শিকারিদের আটক করেন।

সাইফুল ইসলাম বলেন, বর্ষা শেষে চলনবিলে বকসহ বিভিন্ন অতিথি পাখির আগমন ঘটে। দুর্গম এলাকায় রাতের আঁধারে এসব পাখি শিকার করে পরে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হয়। পাখি শিকার বন্ধে স্থানীয় মানুষের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।




আজকের নামাজের সময়সূচি, ৬ অক্টোবর ২০২৬

ইসলামিক ডেস্কঃ আজ মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩, ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৮।

ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—

জোহরের সময় শুরু দুপুর ১১টা ৫০ মিনিটে।

আসরের সময় শুরু ৪টা ২ মিনিটে।

মাগরিব ৬টা ৪৪ মিনিটে।

এশার সময় শুরু ৬টা ৫৭ মিনিট।

আগামীকাল ফজর শুরু ৪টা ৪১ মিনিটে

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৫টা ৪৩ মিনিট এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ৫১ মিনিটে।




ডেঙ্গুতে একদিনে রেকর্ড ১০ জনের মৃত্যু

ডেঙ্গু ডেস্কঃ ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৯৬ জন। চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ২৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ২০৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৫২ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ৪৮০ জন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ২৯৪ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ১৮৭ জন, খুলনা বিভাগে ৩০২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৯৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৯৯ জন, রংপুর বিভাগে ৭৫ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৮ জন রয়েছেন।

চলতি বছরের ৬ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ৯০ হাজার ৩৫৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে মোট ৮৪ হাজার ২৯৯ জন ডেঙ্গুরোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড়পত্র পেয়েছেন এক হাজার ৯৬৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে সারা দেশে মোট ২৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হন। এ সময়ে ডেঙ্গুতে ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়।

২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হন। এ সময়ে ডেঙ্গুতে ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়।

২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।




বিআইডব্লিউটিএর মেগা প্রকল্পে পাইলিং কেলেঙ্কারির অভিযোগ: ৫০০ মিমির বদলে ৩০০, ৪০.৫০ মিটারের স্থলে ২৩ মিটার—১০ রডের জায়গায় ৭, নকশা বদলে কোটি টাকা আত্মসাতের দাবি

বিশেষ প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) একটি বড় প্রকল্পের পাইলিং কাজে অনুমোদিত নকশা ও নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন মানা হয়নি—এমন অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নে পাইলের ব্যাস ও দৈর্ঘ্য কমানো এবং নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে কম রড ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রকল্পের ব্যয় ও কাজের হিসাব নিয়ে যেমন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তেমনি ভবিষ্যতে স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন প্রকল্প পরিচালক (পিডি) আবুল কালাম আজাদ মোল্লা এবং মূল ঠিকাদার আরশাদ পারভেজ। অভিযোগকারীদের দাবি, কার্যাদেশে যে ধরনের পাইলিং করার কথা বলা হয়েছিল, বাস্তবে তার চেয়ে ছোট আকারের পাইল তৈরি করা হয়েছে। অথচ এসব কাজের বিপরীতে বিল প্রস্তুত ও অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে কি না, সেটি যাচাই করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রকল্পের অনুমোদিত কার্যাদেশ ও সংশ্লিষ্ট নথিতে প্রতি পাইলের ব্যাস ৫০০ মিলিমিটার এবং দৈর্ঘ্য ৪০ দশমিক ৫০ মিটার রাখার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি পাইলের জন্য ১৬ মিলিমিটার ব্যাসের ১০টি রড ব্যবহারের কথা রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, বাস্তবে ৫০০ মিলিমিটারের পরিবর্তে প্রায় ৩০০ মিলিমিটার ব্যাসের পাইল করা হয়েছে। একইভাবে নির্ধারিত ৪০ দশমিক ৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের বদলে প্রায় ২৩ মিটার দৈর্ঘ্যের পাইল ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

শুধু পাইলের আকারেই নয়, রড ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পার্থক্যের অভিযোগ রয়েছে। কার্যাদেশে ১০টি রড ব্যবহারের কথা থাকলেও বাস্তবে সাতটি রড ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অর্থাৎ নকশা অনুযায়ী পাইলের ব্যাস, দৈর্ঘ্য ও রডের সংখ্যা—তিন ক্ষেত্রেই পরিবর্তন আনার অভিযোগ সামনে এসেছে।

এ ধরনের পরিবর্তন যদি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলগত অনুমোদন ছাড়া করা হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি শুধু আর্থিক অনিয়মের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। কারণ কোনো স্থাপনার ভিত্তি তৈরির ক্ষেত্রে পাইলের ব্যাস, গভীরতা, দৈর্ঘ্য এবং রডের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় প্রকৌশলগত হিসাবের ভিত্তিতে। তাই অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে এসব পরিবর্তন করা হলে স্থাপনার ধারণক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ উঠেছে, প্রকল্পের মূল অনুমোদিত নকশা অনুসরণ না করে সাইটে ‘TYPE-1’ ও ‘TYPE-2’ নামে দুটি বিকল্প ড্রয়িং ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব ড্রয়িংয়ের মাধ্যমে পাইলিংয়ের আকার বা নির্মাণ পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়ে থাকলে তার পেছনে কার অনুমোদন ছিল, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

প্রকল্পের মূল নকশা পরিবর্তন করতে হলে সাধারণত সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের যাচাই, প্রয়োজনীয় কারিগরি মতামত এবং অনুমোদন প্রয়োজন হয়। সংশোধিত নকশা অনুমোদনের পরই তা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের সুযোগ থাকার কথা। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, ‘TYPE-1’ ও ‘TYPE-2’ ড্রয়িং ব্যবহারের ক্ষেত্রে যথাযথ অনুমোদন ও ভেটিংয়ের বিষয়টি পরিষ্কার নয়।

এই দুটি ড্রয়িং কে তৈরি করেছেন, কোন কর্তৃপক্ষ তা অনুমোদন করেছে এবং মূল ডিজাইনের পরিবর্তনের আগে কোনো কারিগরি কমিটি বা সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর মতামত নেওয়া হয়েছিল কি না—এসব বিষয় নথিপত্র যাচাই করে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পাইলিংয়ের কাজ কম করার পাশাপাশি বিল তৈরিতেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বাস্তবে যতটুকু কাজ করা হয়েছে, তার চেয়ে বেশি কাজ দেখিয়ে মাপবই (এমবি) এবং রানিং বিল তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি অর্থের অতিরিক্ত বিল উত্তোলনের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, এসব বিলের মাধ্যমে প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম আজাদ মোল্লা ও ঠিকাদার আরশাদ পারভেজের মধ্যে অর্থ ভাগাভাগি হয়েছে। মূল কার্যাদেশ, বিল অব কোয়ান্টিটিজ বা BOQ, মাপবই, রানিং বিল, পেমেন্ট ভাউচার এবং প্রকল্পের অর্থ ছাড়ের নথি পর্যালোচনা করার পাশাপাশি সরেজমিনে পাইলের ব্যাস ও গভীরতা পরিমাপ করা প্রয়োজন।

প্রকল্পের পাইলিংয়ের রড সংক্রান্ত কাজ ‘মায়ের দোয়া কনস্ট্রাকশন’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে সাব-কন্ট্রাক্ট দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। মূল ঠিকাদার আরশাদ পারভেজের অধীনে থাকা কাজ অন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার ক্ষেত্রে চুক্তির শর্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

সরকারি প্রকল্পে সাব-কন্ট্রাক্টের সুযোগ থাকলে সেটি টেন্ডার ডকুমেন্ট ও মূল চুক্তির শর্ত অনুযায়ী হতে হয়। কোথাও অনুমোদন প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত সম্মতিও থাকার কথা। তাই ‘মায়ের দোয়া কনস্ট্রাকশন’ কীভাবে এই কাজে যুক্ত হলো, প্রতিষ্ঠানটির যোগ্যতা কী ছিল এবং এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর অনুমোদন ছিল কি না—এসব তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

এ ছাড়া প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম আজাদ মোল্লার পক্ষ থেকে পাঠানো ঠিকাদারি লাইসেন্স এবং কথিত সাব-কন্ট্রাক্টের মধ্যে কী সম্পর্ক রয়েছে, সেটিও স্পষ্ট করা দরকার বলে অভিযোগকারীরা মনে করছেন।

প্রকল্পের অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুললে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে। বিআইডব্লিউটিএর কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেছেন, তৎকালীন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রীর এপিএস বাশার এবং ঠিকাদার আরশাদ পারভেজের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে প্রকল্পের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে চাননি।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, প্রকল্প পরিচালক দায়িত্ব নেওয়ার পর কাজের গুণগত মানের চেয়ে অর্থনৈতিক সুবিধা নেওয়ার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। প্রকল্পের অনিয়ম নিয়ে কেউ তথ্য সংগ্রহ বা প্রশ্ন করলে তাকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে। এমনকি কথিত ভাড়াটে লোকজন ব্যবহার করে সাংবাদিকদের ভয় দেখানোর অভিযোগও করা হয়েছে।

তবে রাজনৈতিক প্রভাব, ভয়ভীতি কিংবা অর্থ ভাগাভাগির অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, আর্থিক লেনদেন এবং প্রকল্পের প্রশাসনিক নথি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

এই প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা বের করতে প্রথমেই দেখা প্রয়োজন কার্যাদেশে ৫০০ মিলিমিটার ব্যাস ও ৪০ দশমিক ৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের পাইল নির্ধারণের পর তা কীভাবে ৩০০ মিলিমিটার ও ২৩ মিটারে নামিয়ে আনা হলো। এই পরিবর্তনের লিখিত অনুমোদন ছিল কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

একইভাবে ১০টির পরিবর্তে সাতটি রড ব্যবহারের অনুমতি কে দিয়েছেন, তার কোনো লিখিত নথি রয়েছে কি না, ‘TYPE-1’ ও ‘TYPE-2’ ড্রয়িং কারা তৈরি করেছেন এবং কোন কর্তৃপক্ষ তা অনুমোদন করেছে—এসব প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন।

এর পাশাপাশি প্রকল্পের মাপবইয়ে কী পরিমাণ কাজ দেখানো হয়েছে এবং বাস্তবে কতটুকু কাজ হয়েছে, তার তুলনা করা জরুরি। ঠিকাদার আরশাদ পারভেজকে যে পরিমাণ বিল দেওয়া হয়েছে, সেটি বাস্তব কাজের পরিমাণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটিও যাচাই করতে হবে।

‘মায়ের দোয়া কনস্ট্রাকশন’-কে কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে মূল চুক্তিতে অনুমোদন ছিল কি না এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত সম্মতি নেওয়া হয়েছিল কি না, তাও তদন্তের অংশ হওয়া প্রয়োজন।

প্রকল্পের পাইলিংয়ের কাজে অনিয়ম হয়ে থাকলে এর প্রভাব শুধু সরকারি অর্থের ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভবিষ্যতে ওই পাইলের ওপর নির্মিত স্থাপনার ভার বহনের সক্ষমতা কমে যেতে পারে। বিশেষ করে পাইলের গভীরতা, ব্যাস ও রডের পরিমাণ প্রকৌশলগত হিসাবের বাইরে কমানো হলে কাঠামোর স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে।

এ কারণে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে শুধু কাগজপত্র দেখলেই হবে না; প্রয়োজনে প্রকল্পের পাইলগুলো প্রযুক্তিগতভাবে পরীক্ষা করাও প্রয়োজন। প্রকল্পের অনুমোদিত ডিজাইন, সংশোধিত ডিজাইন, ভেটিং নথি, BOQ, মাপবই, রানিং বিল, অর্থ পরিশোধের রেকর্ড, ব্যাংক লেনদেন, পাইলের বাস্তব মাপ এবং সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার রিপোর্ট একসঙ্গে পর্যালোচনা করা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।

বিআইডব্লিউটিএর গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পে অভিযোগগুলো সত্য কি না, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। বিশেষ করে অনুমোদিত নকশার সঙ্গে বাস্তব কাজের পার্থক্য, বিকল্প ড্রয়িংয়ের বৈধতা, পাইলের প্রকৃত মাপ, ব্যবহৃত রডের সংখ্যা, বিল-ভাউচারের যথার্থতা এবং সাব-কন্ট্রাক্ট দেওয়ার প্রক্রিয়া যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম আজাদ মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে তার বক্তব্য এই প্রতিবেদনে যুক্ত করা যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

এখন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং বিআইডব্লিউটিএর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সামনে মূল বিষয় হলো—প্রকল্পের নকশা ও কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ হয়েছে কি না, পরিবর্তন করা হয়ে থাকলে তার অনুমোদন ছিল কি না এবং সরকারি অর্থের বিপরীতে বাস্তবে যথাযথ কাজ সম্পন্ন হয়েছে কি না। এসব প্রশ্নের উত্তর বের করতে স্বাধীন প্রকৌশলগত ও আর্থিক তদন্ত প্রয়োজন।

তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সরকারি অর্থের ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে তা উদ্ধারের পাশাপাশি দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। আর অভিযোগের ভিত্তি না থাকলে সংশ্লিষ্ট নথি ও প্রকৌশলগত পরীক্ষার মাধ্যমে সেটিও স্পষ্ট করা দরকার। এতে প্রকল্পের স্বচ্ছতা যেমন নিশ্চিত হবে, তেমনি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়মের সুযোগও কমবে।