স্পাই ইউনিভার্সে নতুন মিশন ‘আলফা’, চমকে দিলেন আলিয়া

বিনোদন ডেস্ক : বলিউডের জনপ্রিয় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান যশ রাজ ফিল্মস আবারও তাদের স্পাই ইউনিভার্সে নতুন মাত্রা যোগ করল। প্রকাশ পেল তাদের নতুন সিনেমা ‘আলফা’র টিজার, যেখানে প্রথমবারের মতো এক ভয়ংকর ও প্রশিক্ষিত নারী ঘাতকের ভূমিকায় দেখা গেছে আলিয়া ভাটকে।

টিজারে অ্যাকশন, আবেগ ও রহস্যের মিশ্রণে গড়া এই চরিত্র ইতোমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি করেছে। পরিচালনা করেছেন শিব রাওয়াইল এবং প্রযোজনা করেছেন আদিত্য চোপড়া।

টিজারে দেখা যায়, ছোটবেলা থেকেই বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গড়ে তোলা হয় আলিয়ার চরিত্রকে। তার ১৮তম জন্মদিনেই তাকে প্রথম হত্যার দায়িত্ব দেওয়া হয়, যা থেকেই শুরু হয় তার বিপজ্জনক যাত্রা। চরিত্রটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ‘আলফা’ নামের একটি গোপন প্রোগ্রাম, যেখানে ভবিষ্যৎ যোদ্ধাদের তৈরি করা হয়।

সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আছেন ববি দেওল এবং অনিল কাপুর। পাশাপাশি আরেক প্রধান চরিত্রে রয়েছেন শর্বরী ওয়াঘ, যার ভূমিকা নিয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।

নির্মাতারা জানিয়েছেন, ‘আলফা’ মূলত নারীকেন্দ্রিক একটি অ্যাকশন থ্রিলার, যেখানে দুই নারী চরিত্রের শক্তি ও মানসিক দৃঢ়তাকে কেন্দ্র করে গল্প এগিয়েছে। ভিএফএক্স ও পোস্ট-প্রোডাকশনের কারণে মুক্তির তারিখ পরিবর্তন করে সিনেমাটি ৩ জুলাই ২০২৬-এ বিশ্বব্যাপী মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, যশ রাজ ফিল্মস স্পাই ইউনিভার্স শুরু হয় ‘এক থা টাইগার’ দিয়ে, এরপর ‘পাঠান’, ‘ওয়ার’ এবং ‘টাইগার’ সিরিজের মাধ্যমে এটি বলিউডের অন্যতম সফল অ্যাকশন ফ্র্যাঞ্চাইজিতে পরিণত হয়েছে। এবার সেই ইউনিভার্সে যুক্ত হচ্ছে আলিয়ার ‘আলফা’, যা ঘিরে ইতোমধ্যেই দর্শকদের প্রত্যাশা তুঙ্গে।




৬০টি কেমোথেরাপি দেওয়া হয়েছে, লন্ডনে কেমন আছেন অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন

বিনোদন ডেস্ক : চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় নায়ক এবং ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বর্তমানে জীবনের এক কঠিন অধ্যায় অতিক্রম করছেন। দীর্ঘ অভিনয়জীবন ও সামাজিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার পর এখন তার সময় কাটছে চিকিৎসা, হাসপাতাল এবং পরিবারের সদস্যদের সান্নিধ্যে।

ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত ইলিয়াস কাঞ্চন গত বছর থেকে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সেখানে মেয়ের বাসায় অবস্থান করে চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রয়েছেন তিনি। গত বছরের আগস্টে লন্ডনের একটি হাসপাতালে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমারের একটি বড় অংশ অপসারণ করা সম্ভব হলেও জটিলতার ঝুঁকির কারণে পুরো টিউমার সরানো যায়নি।

পরবর্তীতে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, তিনি ব্রেন ক্যানসারে আক্রান্ত। এরপর থেকেই তার চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ চলমান রয়েছে। পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করে যাচ্ছেন।

অস্ত্রোপচারের শেষে শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসাযাত্রা। প্রথম ধাপে টানা তিন মাস কেমোথেরাপি নেওয়ার পাশাপাশি বর্তমানে চলছে দ্বিতীয় ধাপের ওরাল থেরাপি। পরিবার-ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, সপ্তাহে পাঁচ দিন করে ১২ সপ্তাহের চিকিৎসায় এরই মধ্যে প্রায় ৬০টি কেমোথেরাপি নিতে হয়েছে এই অভিনেতাকে। এরপর তিন মাসের প্রথম ধাপের ওরাল থেরাপি শেষ করে তিনি এখন দ্বিতীয় ধাপের আরও তিন মাসের ওরাল থেরাপি নিচ্ছেন।

তবে এত দীর্ঘ চিকিৎসার পরও ইলিয়াস কাঞ্চনের শারীরিক অবস্থার আশানুরূপ উন্নতি হয়নি বলে জানিয়েছেন নিসচার ভাইস চেয়ারম্যান লিটন এরশাদ। বুধবার (১০ জুন) সকালে তিনি বলেন, ‘ইলিয়াস কাঞ্চন ভাইয়ের শারীরিক অবস্থা মোটামুটি আগের মতোই রয়েছে। উন্নতিও নেই। বর্তমানে যে থেরাপি চলছে, তা আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত চলবে। এরপর চিকিৎসকেরা তার শারীরিক অবস্থা কী, তা নতুন করে জানাবেন এবং পরবর্তী করণীয় কী, তা জানাবেন।

চিকিৎসকের বরাতে লিটন এরশাদ জানালেন, অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসার যে স্থানে ছিল, এখনো সেখানেই রয়েছে। যদিও তা শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়ে পড়েনি। এটিকে ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন চিকিৎসকেরা। তাদের আশা, দ্বিতীয় ধাপের ওরাল থেরাপি শেষ হলে শারীরিক অবস্থার কিছু উন্নতি দেখা যেতে পারে।

তবে প্রতিদিনের বাস্তবতা সহজ নয়। লিটন এরশাদ জানান, কাঞ্চন ভাই এখন ধীরে ধীরে কথা বলতে পারেন, কিন্তু কথাবার্তায় জড়তা রয়েছে। অনেক সময় কয়েক মিনিট কথা বলার পর তিনি পুরো বাক্য শেষ করতে পারেন না। একটি পূর্ণ বাক্য শেষ করতেও কষ্ট হয় তার। খাবারদাবার মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও নিয়মিত সময়মতো খাওয়ার অভ্যাসটিও আগের মতো নেই।

একসময় চলচ্চিত্রের শুটিং, সামাজিক কর্মসূচি আর নিরাপদ সড়ক আন্দোলন নিয়ে যার দিন-রাত কেটে যেত, সেই মানুষটির সময় এখন কাটছে হাসপাতালের ফলোআপ আর মেয়ের লন্ডনের বাড়ির চারদেয়ালের মধ্যে। স্বভাবতই এই পরিবর্তন তাকে অস্থির করে তোলে। তবু পরিবারের ভালোবাসাই হয়ে উঠেছে তার সবচেয়ে বড় শক্তি।

মেয়ে, জামাতা এবং নাতি–নাতনিদের সঙ্গেই কাটছে তার বেশির ভাগ সময়। কখনো তাদের সঙ্গে বাইরে ঘুরতে যাওয়া, কখনো পারিবারিক আড্ডা—এই ছোট ছোট মুহূর্তই কিছুটা স্বস্তি এনে দিচ্ছে তার দীর্ঘ চিকিৎসাজীবনে। সম্প্রতি পরিবারের সঙ্গে কাটানো কিছু হাসিমুখের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন তিনি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সুস্থতার পথ এখনো দীর্ঘ।




দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা ৫ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস

আবহাওয়া ডেস্কঃ বাংলাদেশে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর (বর্ষা) প্রবেশের ফলে আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণেরও সম্ভাবনা রয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু ইতোমধ্যে বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ পর্যন্ত বিস্তার লাভ করেছে। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে এটি দেশের বাকি এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর প্রভাবে সারা দেশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়বে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে এবং ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় দমকা হাওয়া ও বজ্রপাতসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণেরও সম্ভাবনা রয়েছে।

এ সময়ে দিনের তাপমাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন না এলেও কোথাও কোথাও সামান্য ওঠানামা হতে পারে। তবে বৃষ্টির কারণে দক্ষিণাঞ্চলের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায়, ১০৬ মিলিমিটার। এছাড়া চাঁদপুরে ৬৭ মিলিমিটার, সিলেটে ৫৮ মিলিমিটার এবং কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

এদিকে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে, ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ফরিদপুর, নারায়ণগঞ্জ, নওগাঁর বদলগাছী ও নোয়াখালীর রামগতিতে ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনের পর দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।




প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে

ডেস্ক নিউজঃ প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

বুধবার (১০জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের চতুর্থ দিনে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের এক প্রশ্নোত্তরে তিনি এসব কথা বলেন। সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনের সভাপতিত্ব করছেন।

কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম প্রশ্ন রেখে বলেন, সম্প্রতি আপনি জেলা প্রশাসক সম্মেলনে দুর্নীতি ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার ব্যাপারে কড়া সতর্কবার্তাসহ জনস্বার্থে অনেকগুলো নির্দেশনা দিয়েছেন। জনস্বার্থে আপনার ওই নির্দেশনাসমূহ কী কী?

জবাবে তারেক রহমান বলেছেন, জেলা প্রশাসক সম্মেলন ২০২৬-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ও কমিশনারদের বেশ কয়েকটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণপূর্বক প্রতিরোধমূলক ও দমনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জটিলতা পরিহার করে দ্রুত বাস্তবসম্মত ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। নিয়োগ, বদলি ও পদায়নে সততা, মেধা ও দক্ষতাকে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে অনুসরণ করতে হবে। প্রশাসনিক কাঠামোর কার্যকারিতা বৃদ্ধি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকল্পে প্রয়োজনীয় সংস্কারমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেবা প্রদান ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী, দক্ষ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত করতে হবে। আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণসহ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং সরকারি সেবা প্রদান হয়রানিমুক্ত, বিলম্বমুক্ত ও স্বচ্ছ রাখতে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।



পুলিশের জন্য ১৮২ কোটি টাকায় গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত

ডেস্ক নিউজঃ সরকার বাংলাদেশ পুলিশের অপারেশনাল সক্ষমতা বাড়াতে ২১২টি ডাবল কেবিন পিকআপ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮২ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

বুধবার (১০ জুন) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উত্থাপিত প্রস্তাব অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি (ডিপিএম) অনুসরণ করে যানবাহনগুলো কেনা হবে। অনুমোদিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ১৮২ কোটি ৩২ লাখ টাকার চুক্তির আওতায় এসব পিকআপ সরবরাহ করবে।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, টহল কার্যক্রম পরিচালনা, অপরাধ দমন এবং জরুরি অভিযানে পুলিশের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে এসব যানবাহন কেনা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন পিকআপ যুক্ত হলে মাঠপর্যায়ে পুলিশের চলাচল ও অপারেশনাল সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।




বিয়ে বিতর্কের মামলায় জিতে তামিমা লিখলেন ‘আলহামদুলিল্লাহ’

ডেস্ক নিউজঃ ডিভোর্স না দিয়ে অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় খালাস পেয়েছেন ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রীর তামিমা সুলতানা তাম্মি। এরপরই নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তামিমা।

মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া স্ট্যাটাসে শুকরিয়া আদায় করেন তিনি।

ফেসবুকে তামিমা লিখেছেন, আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ আমাদের হারতে দেন নাই। অবশেষে সত্যের জয় হলো। আইনের প্রতি শুরু থেকেই আস্থা ছিল, তাই আইনের প্রতি সম্মান রেখে বলছি- ধন্যবাদ।

তিনি লিখেছেন, শুধু মাত্র সঠিক তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে সুষ্ঠ বিচার কার্যকর করার জন্য… সকল প্রকার মিথ্যা অপপ্রচার এবং মনগড়া কাহিনীকে উপেক্ষা করে, সত্যকে প্রাধান্য দিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার জন্য আদালতকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

এর আগে, আজ দুপুরের ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জশিতা ইসলামের আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় নাসির-তামিমা উভয়ই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, ৬ মে বাদী ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুনানি শেষে একই আদালত রায় ঘোষণার এ তারিখ ধার্য করেন। ওইদিন শুনানিতে তাদের সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে প্রার্থনা করেন বাদীপক্ষ। তবে তাদের নির্দোষ দাবি করে খালাসের প্রার্থনা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও রাকিবের বিয়ে হয়। তাদের আট বছরের একটি মেয়েও রয়েছে। তাম্মি পেশায় একজন কেবিন ক্রু। ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও ক্রিকেটার নাসির হোসেনের বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা রাকিবের নজরে আসে। পরে পত্র-পত্রিকায় তিনি ঘটনার বিষয়ে সম্পূর্ণ জানেন। রাকিবের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক চলমান অবস্থাতেই তামিমা নাসিরকে বিয়ে করেছেন; যা ধর্মীয় এবং রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ। তাম্মিকে প্রলুব্ধ করে নিজের কাছে নিয়ে গেছেন নাসির। তামিমা ও নাসিরের এমন অনৈতিক ও অবৈধ সম্পর্কের কারণে রাকিব ও তার আট বছর বয়সী কন্যা মারাত্মকভাবে মানসিক বিপর্যস্ত হয়েছেন। আসামিদের এমন কার্যকলাপে রাকিবের চরমভাবে মানহানি হয়েছে, যা তার জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

দণ্ডবিধির ৪৯৭, ৫০০ এবং ৩৪ ধারায় মামলাটির আবেদন করা হয়েছিল। মামলায় আগের বিয়ে গোপন থাকা অবস্থায় অন্যত্র বিয়ে, অন্যের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে নিয়ে যাওয়া, ব্যভিচার ও মানহানির অভিযোগ আনা হয়।

২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে পিবিআই’র পুলিশ পরিদর্শক (নি.) শেখ মো. মিজানুর রহমান তিনজনকে দোষী উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। পরের বছরে ২৪ জানুয়ারি আদালত নাসির-তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন। তবে এ মামলার অপর আসামি তামিমার মা সুমি আক্তারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে নাসির ও তামিমার বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। এরপর রিভিশন আবেদন ও পরবর্তীকালে তা খারিজ হলে মামলার বিচার কার্যক্রম আবারও শুরু হয়৷

২০২৩ সালের মার্চে বাদী রাকিবের সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মোট ১০ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়।

পরে আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন ও সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়, যেখানে তামিমা দাবি করেন যে, তিনি আইনগতভাবে আগের স্বামীকে তালাক দিয়েই নাসির হোসেনকে বিয়ে করেছেন।




দেশকে এগিয়ে নিতে বিজ্ঞান চর্চায় জোর দেওয়ার আহ্বান জুবাইদা রহমানের

ডেস্ক নিউজঃ দেশকে এগিয়ে নিতে বিজ্ঞান চর্চায় জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের মাধ্যমে দেশের মানুষের বহু সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। সব ক্ষেত্রে সুস্থ প্রতিযোগিতা সমাজে উজ্জ্বল সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে।

পরিবেশের সুরক্ষা এবং দেশের বিভিন্ন সমস্যায় বৈজ্ঞানিক সমাধান বের করতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বড় অবদান রাখতে পারেন বলে মনে করেন তিনি।

বুধবার (১০ জুন) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ এবং ‘ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীর খোঁজে’ বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডা. জুবাইদা রহমান এসব কথা বলেন।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে ছিল এ আয়োজন।

সেখানে ডা. জুবাইদা রহমান আরও বলেন, বৃক্ষরোপণ শুধু গতানুগতিক কর্মসূচির মধ্যে না রেখে জনগণের অংশগ্রহণে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে সবুজ বিপ্লবে রূপ দেওয়া যায়।




লাইসেন্স ছাড়াই ১৭ বছর ধরে উড়োজাহাজের পাইলট, অবশেষে গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ প্রয়োজনীয় ও উচ্চতর লাইসেন্স ছাড়াই প্রায় ১৭ বছর ধরে শত শত বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার অভিযোগে কানাডার এক সাবেক পাইলটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওন্টারিও প্রদেশের পিল অঞ্চলের পুলিশ দীর্ঘ চার মাস তদন্তের পর এয়ার কানাডার সাবেক ক্যাপ্টেন জিওফ্রে ওয়ালের বিরুদ্ধে জালিয়াতিসহ বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগ এনেছে।

বুধবার (১০ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

পিল আঞ্চলিক পুলিশের তথ্য অনুযায়ী ৫৯ বছর বয়সী জিওফ্রে ওয়াল ২০০৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে জাল পাইলট লাইসেন্স ব্যবহার করে দেশের ভেতরে এবং আন্তর্জাতিক রুটে ৯০০টিরও বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করেছেন। ২০২৫ সালে অবসরে যাওয়ার আগে তিনি এয়ার কানাডা কর্তৃপক্ষ এবং বেসামরিক বিমান চলাচল প্রশাসন উভয় পক্ষকেই নিজের যোগ্যতার নথিপত্র নিয়ে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখেছিলেন বলে পুলিশ প্রমাণ পেয়েছে। অভিযুক্ত ওয়ালের একটি বৈধ সাধারণ বাণিজ্যিক পাইলট লাইসেন্স থাকলেও বড় যাত্রীবাহী বিমান চালানোর জন্য বাধ্যতামূলক ‘এয়ারলাইন ট্রান্সপোর্ট পাইলট লাইসেন্স’ ছিল না।

সাবেক এই ক্যাপ্টেনের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, ভুয়া নথি ব্যবহার, জাল ট্রেডমার্ক নিজের কাছে রাখা এবং জননিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটানোর মতো বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পিল আঞ্চলিক পুলিশের প্রধান নিশান দুরাইআপ্পা এক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন যে এই জালিয়াতি সরাসরি জননিরাপত্তা এবং গণআস্থার ওপর আঘাত হেনেছে কারণ অভিযুক্ত ব্যক্তি ৯০০টিরও বেশি ফ্লাইটে লাখ লাখ যাত্রীর জীবন ঝুঁকিতে ফেলেছেন।

অন্যদিকে এয়ার কানাডা কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখার কথা জানালেও দাবি করেছে যে এর ফলে যাত্রী নিরাপত্তা কোনোভাবেই বিঘ্নিত হয়নি। বিমান সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে যে তাদের প্রতিটি পাইলটকে প্রতি ছয় মাসে বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ এবং বছরে একবার প্রত্যয়িত পাইলটের অধীনে ফ্লাইটের দক্ষতা পরীক্ষা দিতে হয়। জিওফ্রে ওয়াল তার পুরো কর্মজীবনে এই প্রশিক্ষণগুলোতে সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন এবং বড় বিমান নিখুঁতভাবে চালানোর উচ্চ দক্ষতা প্রদর্শন করেছিলেন।

কানাডার এই জাতীয় বিমান সংস্থাটি আরও জানিয়েছে যে এই ঘটনা জানার পরপরই উক্ত পাইলটকে সক্রিয় ডিউটি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং বিষয়টি সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রান্সপোর্ট কানাডাকে অবহিত করা হয়। পরবর্তীতে তাদের সকল পাইলটের লাইসেন্স অডিট বা পুনঃযাচাই করে অন্য কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক সংস্থা ফ্লাইট সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রধান এবং লাইসেন্সধারী পাইলট হাসান শাহিদি এই ঘটনাকে ব্যতিক্রমী ও বিরল বলে উল্লেখ করেছেন।

হাসান শাহিদি আল জাজিরাকে বলেন যে এখানে মূল সমস্যা কোনো অদক্ষ মানুষের বিমান চালানো নয়, বরং একজন পাইলট কর্তৃক দীর্ঘ বছর ধরে মূল প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মকে ফাঁকি দেওয়া। এই ঘটনাটি লাইসেন্স যাচাইকরণ এবং সামগ্রিক নজরদারি প্রক্রিয়ার দুর্বলতাকে নির্দেশ করে যা এত বছর ধরে ধামাচাপা পড়েছিল। তবে পাইলট প্রশিক্ষিত থাকায় সাধারণ যাত্রীরা কোনো চরম ঝুঁকির মুখে পড়েননি বলেও তিনি মনে করেন।

সূত্র: আল জাজিরা




মহাকাশ থেকে ধরা পড়ল নজরকাড়া ‘সাউদার্ন লাইটস’

ডেস্ক নিউজঃ মহাকাশ থেকে তোলা এক অসাধারণ দৃশ্য সবাইকে মুগ্ধ করেছে। নাসার একজন নভোচারী স্পেসএক্স ড্রাগন মহাকাশযান থেকে দক্ষিণ মেরুর আকাশে দেখা যাওয়া ‘সাউদার্ন লাইটস’ বা অরোরা অস্ট্রালিসের একটি দারুণ টাইম-ল্যাপস ভিডিও ধারণ করেছেন।

নাসার নভোচারী জেসিকা মেয়ার বর্তমানে স্পেসএক্স ড্রাগন ক্যাপসুলে একটি মিশনে কাজ করছেন। গত সপ্তাহান্তে এই বিরল দৃশ্যটি ধারণ করেন তিনি। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে জানান, এই প্রাকৃতিক আলোর খেলায় তিনি গভীরভাবে মুগ্ধ হয়েছেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, সবুজাভ আলো তরঙ্গের মতো নেচে চলেছে এবং আশ্চর্যের বিষয় হলো—এটি সরাসরি মহাকাশযানের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

জেসিকা মেয়ার বলেন, আগেও তিনি অরোরা দেখেছেন, কিন্তু এভাবে মহাকাশযানের একেবারে নিচে এত জীবন্তভাবে নাচতে তিনি আগে কখনো দেখেননি।

এই মনোমুগ্ধকর আলোর মূল কারণ একটি শক্তিশালী সৌর ঝড়। সূর্য থেকে প্রচণ্ড শক্তিসম্পন্ন চার্জযুক্ত কণার ঢেউ বের হয়ে মহাকাশ পেরিয়ে পৃথিবীর দিকে আসে। পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র এই কণাগুলোকে উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর দিকে নিয়ে যায়। সেখানে এসে কণাগুলো বায়ুমণ্ডলের গ্যাসের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এই সংঘর্ষের ফলেই সৃষ্টি হয় রঙিন আলোর পর্দার মতো দৃশ্য, যাকে আমরা অরোরা বলি।

উত্তর গোলার্ধে বসবাসকারী মানুষরা ‘নর্দার্ন লাইটস’ তুলনামূলকভাবে বেশি দেখতে পান। কিন্তু দক্ষিণ মেরুর এই ‘সাউদার্ন লাইটস’ দেখা অনেক কঠিন। কারণ এটি সাধারণত অ্যান্টার্কটিকা ও দক্ষিণ মহাসাগরের ওপরেই দেখা যায়—যেখানে মানুষের বসবাস খুবই কম।

মহাকাশে থাকা নভোচারীরা পৃথিবীর চারপাশে ঘণ্টায় হাজার হাজার কিলোমিটার গতিতে ঘুরতে ঘুরতে এই দৃশ্য পুরোপুরি বাধাহীনভাবে দেখতে পান। ফলে তারা এমন একটি দৃষ্টিকোণ থেকে এই ঘটনাগুলো দেখেন, যা পৃথিবীতে থাকা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়।

জেসিকা মেয়ারের ধারণ করা এই ভিডিও ইতোমধ্যে অনলাইনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই প্রথমবারের মতো এত কাছ থেকে এবং ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে অরোরা দেখার সুযোগ পেয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের ভিডিও শুধু সৌন্দর্য নয়, বরং আমাদের পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ও মহাকাশের ভৌত প্রক্রিয়া বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।




বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর শান্তিরক্ষীরা: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘শান্তিরক্ষাীদের আত্মত্যাগ প্রমাণ করে শুধু মাতৃভূমির স্বাধীনতা রক্ষাই নয়, জাতিসঙ্ঘের পতাকা তলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বদ্ধ পরিকর।’

বুধবার (১০ জুন) আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত অবস্থায় ২০২৫ সালে সুদানে শাহাদাতবরণকারী ৬ সেনাসদস্যের স্ত্রীর হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেন। ওই হামলাসহ সম্প্রতি চলমান মিশনগুলোতে আহত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের হাতেও সম্মাননা তুলে দেন তিনি। এছাড়া বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া সদস্যদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের অবদানের পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত দেশের সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর ২ লাখেরও বেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের ৪৩টি দেশে প্রায় ৬৩টি মিশনে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানেও ৪ হাজার ২১২ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের ৯টি মিশনে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন এবং হাইতিতে নতুন একটি মিশনে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে পুরুষের পাশাপাশি বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্যের সাহসী অংশগ্রহণের প্রশংসা করে তিনি বলেন, নারী সদস্যদের এই সক্রিয়তা শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সশস্ত্র বাহিনীর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক এবং সেনাবাহিনীর একজন মেজরই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। এই গৌরবকে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য অনন্ত প্রেরণার উৎস হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বাহিনীর শৃঙ্খলা ও চেইন অফ কমান্ডের ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, অতীতে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর স্বাধীনতার ঘোষকের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী যেভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল, ঠিক তেমনি ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে সশস্ত্র বাহিনীর ওপর আসা সর্বগ্রাসী আঘাতসহ সব ধরণের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে বাহিনীকে এগিয়ে যেতে হবে। ইউনিফর্মধারী বাহিনীর জন্য প্রফেশনালিজম, ইউনিটি, ডিসিপ্লিন এবং চেইন অফ কমান্ড বজায় রাখা অপরিহার্য বলে তিনি সতর্ক করেন।

বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও প্রযুক্তির বিবর্তনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এবং প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়নের ফলে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জগুলো এখন অনেক বেশি বহুমুখী ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রথাগত যুদ্ধের বাইরে এখন সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, মিডিয়া অপপ্রচার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট নিরাপত্তা সংকট বিশ্বশান্তির নতুন অন্তরায় হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতিসংঘ মিশনসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে সরকার সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে পর্যায়ক্রমিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও সাংবিধানিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ সবসময় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং পারস্পরিক রাষ্ট্রীয় মর্যাদার নীতিতে বিশ্বাস করে। সংবিধানে ব্যক্ত হওয়া বিশ্বশান্তি ও আন্তর্জাতিক সহ-অবস্থানের প্রতি দেশ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। বাংলাদেশ যেকোনো আগ্রাসন ও সংঘাতের বিরুদ্ধে একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তুলতে বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং জাতিসংঘের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল।

আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস ২০২৬ উদযাপনের লক্ষ্যে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের শীর্ষনেতৃবৃন্দ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীসহ বিভিন্ন দেশের বিদেশি কূটনীতিক ও প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিলেন।