গণপূর্তের সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে বিপুল অবৈধ সম্পদের অভিযোগ, ঠিকাদারি সিন্ডিকেট ও প্রভাব খাটানোর নানা প্রশ্ন

বিশেষ প্রতিবেদকঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাইফুর রহমানকে ঘিরে বিপুল সম্পদ অর্জন, ঠিকাদারি ব্যবসায় প্রভাব বিস্তার এবং বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগিয়ে নেওয়ার নানা অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি খুলনা জোনের দায়িত্বে রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন গণপূর্তের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করার সময় ক্ষমতার প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। এসব সম্পদের প্রকৃত উৎস কী, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী একটি সময়ের সুযোগ নিয়ে সাইফুর রহমান গণপূর্তের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পান। এর মধ্যে আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং বগুড়া গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও ছিল। এসব পদে থাকাকালে সরকারি প্রকল্পের কাজ, বিল পরিশোধ এবং ঠিকাদারি কার্যক্রমে তার প্রভাব ছিল বলে কয়েকজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দাবি করেছেন।

সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ উঠেছে আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়কে ঘিরে। একাধিক ঠিকাদারের দাবি, ওই সময়ে বিভাগটিতে একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদারি গোষ্ঠীর প্রভাব তৈরি হয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কাজ পাওয়া থেকে শুরু করে বিল পরিশোধ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে ওই গোষ্ঠীর প্রভাব ছিল। এমনকি নির্দিষ্ট হারে অর্থ না দিলে ফাইলের কাজ এগোত না—এমন অভিযোগও করেছেন কয়েকজন ঠিকাদার। তাদের একজনের দাবি, বিভিন্ন ফাইলে স্বাক্ষর বা কাজ এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ অর্থ দাবি করা হতো। আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে একজন নারী হিসাব সহকারীকে কেন্দ্র করেও বিভিন্ন ধরনের আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, সাইফুর রহমানের সম্পদের পরিমাণ নিয়েও তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। অনুসন্ধানের প্রাথমিক তথ্যে ঢাকার মোহাম্মদপুর ও মিরপুরে তার দুটি বিলাসবহুল বাড়ি থাকার কথা জানা গেছে। পাশাপাশি পূর্বাচলে প্লট, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল এলাকায় একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি এবং বাজার রোড এলাকায় তিনতলা একটি মার্কেটের তথ্যও পাওয়া গেছে। তবে বাজার রোডের মার্কেটটি নিজের নয়, ভাইয়ের—এমন দাবি করেছেন সাইফুর রহমান।

এছাড়া সালাউদ্দিন সেনানিবাস মোড় এলাকায় আগে একটি এলপিজি ফিলিং স্টেশন ছিল এবং বর্তমানে সেখানে ‘সোনারতরী পার্ক’ নামে একটি স্থাপনার কথা জানা গেছে। এর কাছাকাছি প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের জমিতে ‘কাঠবাদাম’ নামে একটি রেস্টুরেন্ট থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে।

দেশের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রে সাইফুর রহমানের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সেখানে তার মেয়ে বসবাস করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। দেশ-বিদেশে থাকা এসব সম্পদ, ব্যবসা ও স্থাবর সম্পত্তির মূল্য বিবেচনায় নিয়ে তার মোট সম্পদের পরিমাণ অর্ধশত কোটি টাকার বেশি হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সম্পদের সঠিক পরিমাণ এবং বৈধ উৎস নির্ধারণের জন্য সরকারি নথি, আয়কর তথ্য, ভূমি রেকর্ড ও ব্যাংকিং লেনদেনসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা জরুরি।

সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে সাবেক ঠিকাদার জিকে শামীম এবং গোল্ডেন মনিরের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে। তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নেওয়া এবং প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রভাব বিস্তারের কথাও বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে। এমনকি হোটেল রেডিসান ও ওয়েস্টিনে তাদের অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে।

এদিকে ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের সময়ও সাইফুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় তিনি আওয়ামী লীগের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন দমনে অর্থনৈতিক সহযোগিতা করেছিলেন। এমনকি আন্দোলন ঘিরে সহিংস কর্মকাণ্ডে অর্থের জোগান দেওয়ার ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা ছিল—এমন কথাও বিভিন্ন মহলে শোনা যায়।

সব মিলিয়ে সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোকে কেন্দ্র করে তার সম্পদ, ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের সময়কার কর্মকাণ্ড এবং রাজনৈতিক যোগাযোগ নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে তার আয়-ব্যয়, সম্পদ বিবরণী, ব্যাংক হিসাব, ভূমি ও কোম্পানি সংক্রান্ত নথি এবং পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদ যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাইফুর রহমানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কাছ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি টাঙ্গাইলের সম্পদগুলো উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া এবং এজমালি সম্পত্তি বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে অন্যান্য অভিযোগকে সত্য নয় বলে উল্লেখ করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর ভিত্তি নেই।

তবে সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা বিপুল সম্পদের অভিযোগ, ঠিকাদারি কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের প্রকৃত সত্য জানতে প্রয়োজন নথিভিত্তিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত। তদন্তে অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগ অসত্য হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অবস্থানও পরিষ্কার করা সম্ভব হবে।




এআইভিত্তিক বাজার গোয়েন্দা ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা টিসিবির

ডেস্ক নিউজঃ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা, সম্ভাব্য সংকট এবং সরবরাহব্যবস্থায় কোথাও বিঘ্ন ঘটার আগাম তথ্য জানতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-ভিত্তিক বাজার গোয়েন্দা ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ বলেন, দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ শৃঙ্খল আরো কার্যকরভাবে সমন্বয় এবং বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণে এ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, ‘কোথায় সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটছে বা কোথায় বিঘ্ন ঘটতে পারে- এমন তথ্য দিতে পারে, টিসিবির জন্য এমন একটি ব্যবস্থা অত্যন্ত কার্যকর হবে।’

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বাজারের প্রবণতা ও সরবরাহ শৃঙ্খলের গতিবিধি বিশ্লেষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার যে বৃহত্তর পরিকল্পনা নিয়েছেন, তার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান টিসিবি চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, ‘এটি টিসিবির মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে, ইনশাআল্লাহ।’

আগস্টের শুরুতে কাঁচা মরিচের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ফয়সল আজাদ বলেন, অনেক সময় বাজারে কোনো পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার পর টিসিবি বিষয়টি জানতে পারে।

তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক একটি ব্যবস্থা বৃষ্টিপাত, পরিবহন ব্যবস্থায় বিঘ্ন, উৎপাদন, আমদানি, মূল্য, পণ্যের সরবরাহ ও সরবরাহ প্রবাহসহ বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য সংকটের আগাম সতর্কবার্তা দিতে পারবে।

প্রস্তাবিত এ ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে টিসিবি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত একটি মূল কমিটি ইতোমধ্যে কয়েক দফা বৈঠক করেছে।

টিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, প্রকল্পের কার্যপরিধি বা টার্মস অব রেফারেন্স (টিওআর) চূড়ান্ত হওয়ার পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নে একটি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের জন্য দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

বিভিন্ন পণ্যের দায়িত্ব বিভিন্ন সরকারি সংস্থার ওপর থাকায় আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় আরো জোরদার করা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি। বাজারদর ও পণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে নিয়মিত সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ফয়সল আজাদ বলেন, প্রয়োজন হলে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী টিসিবি তার নিয়মিত দায়িত্বের বাইরে থাকা পণ্য নিয়েও বাজারে হস্তক্ষেপ করে। অতীতে সংস্থাটি আলু বিক্রি করেছে এবং পেঁয়াজ সংগ্রহও করেছে, যদিও এসব পণ্য মূলত অন্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের আওতায় পড়ে।

বাড়ছে নিজস্ব গুদাম সক্ষমতা : অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে নতুন গুদাম নির্মাণ এবং পুরোনো কয়েকটি স্থাপনা পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনা করছে টিসিবি।

ফয়সল আজাদ জানান, উত্তরা এলাকায় একটি নতুন গুদাম নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া টিসিবির পুরোনো কয়েকটি ভবন সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে পুনর্নির্মাণ করা হবে।

টিসিবি নিজস্ব সংরক্ষণ সক্ষমতা প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন বাড়াচ্ছে। এর ফলে ধীরে ধীরে ভাড়ায় গুদাম নেওয়ার ব্যয় কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

টিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, সংস্থাটি ইতোমধ্যে স্বয়ংক্রিয় সরবরাহ ব্যবস্থার দিকে অনেক দূর এগিয়েছে। পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিন এবং নতুন একটি মোবাইল অ্যাপ চালু হলে কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং ভোক্তারাও আরো সুবিধা পাবেন।

অনলাইন লটারিতে ডিলার নির্বাচন : নতুন ডিলার নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে ফয়সল আজাদ বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুসরণ, জেলা প্রশাসনের যাচাই-বাছাই এবং অনলাইন লটারির মাধ্যমে ডিলার নির্বাচন করা হচ্ছে।

নতুন ব্যবস্থায় প্রতি ১ হাজার ৫০০ স্মার্টকার্ডধারীর জন্য একজন ডিলার রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, ডিলার নির্বাচনে বাইরের হস্তক্ষেপের সুযোগ কমানোর জন্যই এ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

টিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আবেদনপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর যোগ্য আবেদনকারীদের অনলাইন লটারির মাধ্যমে নির্বাচন করা হয়। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই।’

বাজারে জরুরি পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপের একটি ব্যবস্থা হিসেবে ট্রাক সেল কার্যক্রমও বজায় রাখছে টিসিবি। তবে, এটিকে নিয়মিত কার্যক্রম হিসেবে পরিচালনা করা হবে না বলে জানান তিনি।

পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে অথবা ঈদের মতো বিশেষ চাহিদার সময়ে প্রয়োজন হলে আবারও ট্রাক সেল শুরু করা হতে পারে।

জনবল, অর্থায়ন ও সংরক্ষণ সক্ষমতার সংকট :

টিসিবির কার্যক্রম পরিচালনায় জনবলসংকট, অর্থায়নের ব্যয়, পর্যাপ্ত সংরক্ষণাগারের অভাব এবং জেলা প্রশাসনের ওপর নির্ভরশীলতাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন টিসিবি চেয়ারম্যান।

বর্তমানে টিসিবিতে প্রায় ২৭৫ জন কর্মী রয়েছেন। অন্যদিকে সংস্থাটির বার্ষিক পণ্য ক্রয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত বছর টিসিবি প্রায় ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার পণ্য কিনেছে। চলতি অর্থবছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।

ক্রমবর্ধমান দায়িত্ব পালনে টিসিবির সাংগঠনিক কাঠামো সম্প্রসারণ এবং দেশের প্রায় ২১টি স্থানে কার্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বাজারভিত্তিক পণ্য সংগ্রহ, লাভজনক বিক্রয় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বাজার বিশ্লেষণের মতো নতুন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিশেষায়িত জনবলও প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন ফয়সল আজাদ।

অর্থায়নকে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, টিসিবি সাধারণত পণ্য সংগ্রহের জন্য সরকারের কাছ থেকে ঋণ পায়। তবে, ভর্তুকির অর্থ পেতে বিলম্ব হলে সংস্থাটির সুদের ব্যয় বেড়ে যায়।

এ কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের পাশাপাশি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকেও টিসিবি-কে ঋণ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বেসরকারি ব্যাংক অনেক সময় তুলনামূলক কম সুদে ঋণ দিতে পারে। এতে অর্থায়নের ব্যয় কমবে এবং শেষ পর্যন্ত সরকারের ভর্তুকির চাপও কমানো সম্ভব হবে।’

আমদানিকারকদের ভ্যাট সুবিধার প্রস্তাব :

টিসিবিতে আমদানি করা পণ্য সরবরাহকারী ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বিধানেও পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন টিসিবি চেয়ারম্যান।

বর্তমানে বিদেশ থেকে পণ্য সংগ্রহ করে টিসিবিতে সরবরাহকারী ব্যবসায়ীরা অনেক ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদকদের তুলনায় অতিরিক্ত ভ্যাট ব্যয়ের মুখে পড়েন বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘এই সমস্যার সমাধান হলে আরো বেশি সরবরাহকারী অংশ নিতে পারবেন। প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং এর ফলে পণ্য সংগ্রহের দামও কমতে পারে।’

যোগ্য সরবরাহকারীর সংখ্যা বাড়লে সীমিতসংখ্যক দেশীয় উৎপাদকের ওপর নির্ভরতাও কমবে বলেও মনে করেন তিনি।

মানের সঙ্গে আপস নয় : আগামী দিনের পরিকল্পনা সম্পর্কে টিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা, পণ্যের মান বজায় রাখা এবং প্রতিযোগিতামূলক পণ্য সংগ্রহ ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সরকারের ভর্তুকিনির্ভরতা কমানোই টিসিবির প্রধান লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ‘পণ্যের মানের সঙ্গে আমরা কোনো আপস করব না।’ ভোক্তাদের চাহিদা ও জরিপের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে নতুন পণ্যও যুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি।

ফয়সল আজাদ বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য মানুষকে এসব পণ্য কিনতে বাধ্য করা নয়। এগুলো ঐচ্ছিক। মানুষের প্রয়োজন হলে তারা কম দামে এসব পণ্য কিনতে পারবেন।’

চলমান সংস্কার কার্যক্রম, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বাজার গোয়েন্দা ব্যবস্থা, উন্নত পণ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়া এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে টিসিবি আরো দক্ষ হয়ে উঠবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এসব উদ্যোগ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে টিসিবির ভূমিকা আরো শক্তিশালী করবে বলেও মনে করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান।




৪৫ বছর পর মিলল মোজাফফরের ফোনে জিয়া হত্যার নতুন তথ্য

ডেস্ক নিউজঃ শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া বিশেষ প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা। হত্যাকাণ্ডের স্থান পরিদর্শন করে তিনি জানান, এবার অনেক অমীমাংসিত রহস্যের সুরাহা হবে। আর এসব ঘটনায় তাদের পথ দেখাচ্ছে মোজাফফরের ফোন।

গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যায় জড়িত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ৪৫ বছর ধরে পলাতক ছিলেন।

ঐতিহাসিক বিভিন্ন বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জিয়াউর রহমান হত্যার সময় তার কাছেই উপস্থিত ছিলেন মোজাফফর। ঘটনার পর ওই কক্ষে নথিপত্র তল্লাশি এবং মরদেহ সরানোর কাজে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তিনি গ্রেপ্তার হওয়ার পর কিছু অমীমাংসিত প্রশ্নের উত্তর খোঁজা শুরু হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডে কার কী ভূমিকা ছিল, তা জানতে অনুসন্ধান চলছে। খোঁজা হচ্ছে ডিজিটাল এভিডেন্সও। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসসহ বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করে নতুন কিছু তথ্য পাওয়ার দাবি করেছেন তদন্তের দায়িত্বে থাকা বিশেষ প্রসিকিউটর।

জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্তের দায়িত্ব পাওয়া বিশেষ প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা বলেন, জিয়াউর রহমানের মৃত্যুটা নিয়ে কিন্তু এখনো অনেক রহস্য রয়েছে। সে রহস্য উন্মোচনের ক্ষেত্রে মোজাফফর আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। কারণ, তার সঙ্গে দেশের ভেতর এবং দেশের বাইরের বেশ কিছু লোকের যোগাযোগ আমরা পেয়েছি। তারা আসলে কেউ রাষ্ট্রীয় কোনো ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না, কেনইবা এতদিন পর মোজাফফরের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করেছেন এবং কীভাবে মোজাফফর বাংলাদেশে প্রবেশ করল, কোন কারণে তিনি প্রবেশ করেছেন, কার পৃষ্ঠপোষকতায় তিনি থেকেছেন, কার ছত্রচ্ছায়ায় তিনি ব্যাংকে বিভিন্ন লেনদেন করেছেন সবকিছুই আমরা তদন্তের আওতায় আনছি।

জিয়াউর রহমান খুন হওয়ার পর সেনানিবাসে ফিরে আসা কর্মকর্তাদের মধ্যে দৃশ্যমান উচ্ছ্বাস ছিল। সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী ছিলেন মেজর জেনারেল মঞ্জুর। গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে পুলিশ হেফাজত থেকে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত কে দিয়েছিল, সে প্রশ্নেরও উত্তর খোঁজা হচ্ছে।

জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্তের দায়িত্ব পাওয়া বিশেষ প্রসিকিউটর আরও বলেন, কেন তৎকালীন প্রশাসক তাকে সেনা হেফাজতে নিয়েছিলেন, কোন আইনের বলে যেহেতু এটা একটি সিভিল হত্যাকাণ্ড, সিভিল এলাকায় মৃত্যু সংঘটিত হয়েছে পুলিশের হেফাজতে থাকা একজন সেনা কর্মকর্তাকে কারা নিয়ে গেল এবং পরবর্তীতে তার মৃত্যুর খবর সেখানে কীভাবে নিশ্চিত করা হলো, তার পোস্টমর্টেম কে করেছিলেন এবং সেখানে যে গুলি করা হয়েছিল, সেই তথ্য থাকলেও কমিশন তা নির্ণয় করতে পারেনি। আসলে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে কে গুলি করেছিল এবং মঞ্জুর কীভাবে নিহত হয়েছিলেন, সে বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত।

তিনি বলেন, তবে আশা করি, সেই সময়কার জীবিত যেসব সেনা কর্মকর্তা রয়েছেন অথবা তার ইমিডিয়েট জুনিয়ররা যারা রয়েছেন, সেই সঙ্গে গোয়েন্দা ও অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে রিপোর্টগুলো রয়েছে সবকিছুর সমন্বয়ে আমরা হয়তো এই মৃত্যুর কারণ কী ছিল, তা বের করতে পারব। এই ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তারা কী চেয়েছিল, সেটিও তদন্ত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রেসিডেন্টের পক্ষে একটি সিক্রেট পেপার তারা খোঁজার চেষ্টা করেছিল এ মর্মে আমরা কিছু তথ্য পেয়েছি। সেই সিক্রেট পেপারটি আসলে কী এবং তাকে হত্যা করার পর সে বিষয়টি নিয়ে কেন তাদের এত আগ্রহ ছিল, সেটিও আমরা তদন্ত করছি।

হত্যাকাণ্ডে লেফটেন্যান্ট মোসলেহ উদ্দিন, মেজর ফজলুল হক, ক্যাপ্টেন সালাউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ মো. মুনির এবং ক্যাপ্টেন মো. ইলিয়াসের সম্পৃক্ততাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এই প্রসিকিউটর।




বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আগামীকাল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আগামীকাল ১ সেপ্টেম্বর। ১৯৭৮ সালের এই দিনে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ছিলেন দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান।

 

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এক বাণীতে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সাহস, সংগ্রাম, ত্যাগ আর সাফল্যের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দিনটি বাংলাদেশি মানুষের জন্য আনন্দ, উদ্দীপনা ও প্রেরণার।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৮ সালের এই দিনে এক শুভ বিকেলে ঢাকার রমনা বটমূলের খোলা চত্বরে (রমনা রেস্তোরাঁ প্রাঙ্গণে) বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইতিহাসে বিএনপির প্রতিষ্ঠা ছিল একটি যুগান্তকারী ঘটনা।

তিনি বলেন, মানুষের বাকস্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি অভিশপ্ত একদলীয় ‘বাকশাল’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসে প্রথমেই দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় সময়ের প্রয়োজনে নতুন রাজনৈতিক দল বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ফলে, বাংলাদেশে বহুমাত্রিক গণতন্ত্রের নতুন করে পথচলা শুরু হয়।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে স্বাধীনতার মহান ঘোষক, সফল রাষ্ট্রনায়ক ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন তারেক রহমান।

একই সঙ্গে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া তাঁর সম্মোহনী ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্ব দিয়ে বিএনপি-কে বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্র কিংবা সুশাসন প্রতিষ্ঠাই নয়, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায়ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করেছে। দেশে যতবারই স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র হুমকির সম্মুখীন হয়েছে, ততবারই গণতন্ত্রকামী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মী, শুভার্থী ও সমর্থকগণ অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, দেশে গণতন্ত্র এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত যাঁরা প্রাণোৎসর্গ করেছেন, আহত হয়েছেন, তিনি সকল পর্যায়ের সেই নেতাকর্মীর অবদানকেও গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন।

বাণীতে তিনি বলেন, দেশে যতবারই জনগণ নির্ভয়ে অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, ততবারই বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদে সরকার পরিচালনার সময় দেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন, নারীশিক্ষার প্রসারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বিএনপি সরকারের আমলে নেওয়া হয়েছে।

দেশে গণতন্ত্র সমুন্নত রাখা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য বিএনপির উদ্যম ও উদ্যোগের ফলে দলটি দেশবাসীর কাছে এখন সর্বাধিক জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল।

তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অবসানের পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণ আবারও বিএনপি-কে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। দেশের জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই বিএনপি জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায়। সেই লক্ষ্যেই বাংলাদেশকে একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি সরকার নিরলসভাবে কাজ করে চলছে।

তিনি বলেন, জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অক্ষুণ্ন রেখে বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভার্থী দেশমাতৃকার সেবায় নিজেদের নিবেদন করে আগামী দিনগুলোতেও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে, ইনশাআল্লাহ।

বিএনপি বিশ্বাস করে, দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপির অপর নাম একটি জনকল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম।

এদিকে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে পাঁচ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। গত বুধবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামীকাল ১ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টায় বিএনপির নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।

সকাল ৯টায় বিএনপি চেয়ারম্যান ও  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ‘গণতন্ত্রের মা’ মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

আগামী ৫ সেপ্টেম্বর বেলা ৩টায় কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন-বাংলাদেশ মিলনায়তনে বিএনপি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দসহ দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীগণ এতে অংশগ্রহণ করবেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে পোস্টার প্রকাশ করা হবে।

এছাড়া বৃক্ষরোপণ ও মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন দলের যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

অনুরূপভাবে সারাদেশে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং এর ইউনিটগুলো ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সুবিধাজনক সময়ে আলোচনা সভা এবং অন্যান্য কর্মসূচি পালন করবে।

দেশের স্বাধীনতার জন্য বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতিকে উজ্জীবিত করেছিলেন। ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক ও শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে তিনি প্রেরণা জুগিয়েছিলেন।

দেশের এক ভয়াবহ ক্রান্তিকালে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার আগে দেশে যে অনাচার, অবিচার, গণতন্ত্র হরণ, হত্যা এবং মানুষের কথা বলা ও চলাচলের স্বাধীনতা লঙ্ঘিত হয়েছিল, ক্ষমতায় এসে তিনি সেগুলো পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা ও গণতন্ত্র এই তিনটি প্রত্যয় সামনে রেখে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এ চেতনাকে ধারণ করে তিনি দেশকে উন্নয়ন ও উৎপাদনের পথে এগিয়ে নিয়ে যান।




বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দলের প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির অংশ নিতে সকাল থেকে জিয়া উদ্যান এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। খণ্ড খণ্ড মিছিলের জড়ো হয়ে তারা বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন।

নেতারা বলেন, প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শনকে সামনে রেখে দলকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে হবে। একইসঙ্গে দেশের গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জাতীয় সংসদের চিফ হু্ইপ নুরুল ইসলাম মনি, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিসহ আরো অনেকে।




বাতিল হবে না সিন্ধু চুক্তি: আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে পাকিস্তানের স্বস্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার ঐতিহাসিক সিন্ধু নদীর পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে একটি বড় রায় দিয়েছে নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত। রায়ে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, এই চুক্তি এককভাবে স্থগিত বা বাতিল করার কোনো ক্ষমতা ভারতের নেই। চুক্তির আগের সব নিয়মকানুন সম্পূর্ণ বহাল রয়েছে। আদালতের এই সিদ্ধান্ত প্রকাশের পরপরই পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করে আদালতের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।

আদালতের প্যানেল সর্বসম্মতিক্রমে নির্দেশ দিয়েছেন যে, চুক্তিটি পুরোপুরি সচল রয়েছে। এর ফলে পশ্চিমের নদীগুলোতে নতুন যেকোনো বিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরি বা সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে ভারত চুক্তি অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য থাকবে। পাশাপাশি, রায়ে ভারত সরকারের ওপর একটি বিশেষ নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে।

বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের জুলাই মাসে বিশেষজ্ঞের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত ভারতে বাস্তবায়নাধীন ‘আরএইচইপি’ বাঁধের দেয়াল এবং সংশ্লিষ্ট প্রধান কাঠামোর একটি নির্দিষ্ট উচ্চতার ওপরে আর কোনো কনক্রিটের ঢালাই বা নির্মাণকাজ চালানো যাবে না।

বিশেষজ্ঞের সিদ্ধান্তের পরেও এই নিষেধাজ্ঞা আরও ৯০ দিন বহাল থাকবে। সেই সঙ্গে প্রকল্পের কাজ কত দূর এগোল, সে বিষয়ে আদালতকে নিয়মিত প্রতিবেদনও জমা দিতে হবে। আন্তর্জাতিক আদালতের এই আদেশ ও অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞাকে নিজেদের জন্য বড় জয় হিসেবে দেখছে ইসলামাবাদ।

পাকিস্তান সরকার জানিয়েছে, রায়ের পুরো বিবরণ প্রকাশ হওয়ার পর তা গভীরভাবে পরীক্ষা করা হবে। পাকিস্তান আশা করছে, এই রায়ের মাধ্যমে দুই দেশের আইনি বাধ্যবাধকতা আবার জোরদার হবে এবং আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে।




ভারতের উত্তরপ্রদেশে আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণ, নিহত ১১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের উত্তরপ্রদেশের কৌশাম্বী জেলায় একটি আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে ১১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় কারখানার পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি বাড়ি ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে পুলিশ।

সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে কৌশাম্বী জেলার মানৌরি গ্রামের পিপরি থানার আওতাধীন এলাকায় মানৌরি পাওয়ার হাউসের কাছে এ বিস্ফোরণ ঘটে।

জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ডিএম) অমিত পাল জানান, বিস্ফোরণের পর আহত ১১ জনকে প্রয়াগরাজের এসআরএন হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান। গুরুতর আহত আরও পাঁচজন একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।q

বিস্ফোরণের তীব্রতায় কারখানাটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি কারখানার পাশের পাঁচ থেকে ছয়টি বাড়িও ধসে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পরপরই শুরু হয় উদ্ধার অভিযান।

ঘটনার ভয়াবহতার কারণে ঘটনাস্থলের কাছ দিয়ে যাওয়া দিল্লি-হাওড়া রেলপথে প্রায় এক ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। বিস্ফোরণস্থলের কাছে পৌঁছে যাওয়া আজমের-শিয়ালদহ এক্সপ্রেসকে মানৌরি রেলস্টেশনে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। অন্যদিকে দিল্লি থেকে বারাণসীগামী বন্দে ভারত এক্সপ্রেসকে ঘটনাস্থলের আগের স্টেশন সৈয়দ সরাওয়ান রেলস্টেশনে থামিয়ে রাখা হয়।




‘তরুণদের মাঠে ফেরালে অপরাধ প্রবণতা কমবে’

ডেস্ক নিউজ : লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল বলেছেন, তরুণ সমাজকে খেলার মাঠে ফেরাতে পারলে অপরাধ প্রবণতা অনেকটাই কমে যাবে। তরুণদের খেলাধুলা ও সংগীত চর্চায় এগিয়ে নিতে প্রতিটি ইউনিয়নে মিনি স্টেডিয়ামের পাশাপাশি একটি করে ক্রীড়া ও সংগীত একাডেমি গড়ে তোলা হবে বলে জানান তিনি।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যায় সরকারি আদিতমারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষমেলায় ঐতিহ্যবাহী হাডুডু খেলার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সংসদ সদস্য বলেন, হাডুডু আমাদের জাতীয় খেলা হলেও বর্তমান প্রজন্ম তা ভুলতে বসেছে। নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের এসব ঐতিহ্য তুলে ধরতে হবে। গ্রামীণ ঐতিহ্য ফেরাতে আজকের এই আয়োজন পর্যায়ক্রমে পুরো আসনের প্রতিটি এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

আদিতমারী উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এই মেলায় হাডুডুর পাশাপাশি গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী পালাগানের আসরের আয়োজন করা হয়। গ্যালারিতে বসে খেলা ও সংগীত উপভোগ করেন এমপি রোকন উদ্দিন বাবুল। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজিজা বেগমসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা মেসির

ক্রীড়া ডেস্ক : আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলে দিলেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। জাতীয় দলের জার্সিতে ২০৭ ম্যাচ খেলার পর আন্তর্জাতিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এর মাধ্যমে আকাশি-সাদা জার্সিতে মেসির দীর্ঘ ২১ বছরের পথচলা শেষ হলো।

২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলে অভিষেক হয় মেসির। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের শিরোপা জেতার পাশাপাশি দুইবার কোপা আমেরিকা এবং একবার অলিম্পিকে স্বর্ণ জিতেছেন তিনি। এছাড়া, ২০১৪ ও ২০২৬ বিশ্বকাপে ফাইনালে হেরে রানার্সআপ হন। জাতীয় দলের হয়ে মেসির গোল সংখ্যা ১২৫টি।

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত জানিয়ে এক বিবৃতিতে মেসি জানান, এই সিদ্ধান্ত তাকে গভীরভাবে কষ্ট দিয়েছে। তবে এখন সময় এসেছে বলে মনে করছেন তিনি।

মেসি বলেন, এটি এমন একটি সিদ্ধান্ত, যা আমাকে কষ্ট দিয়েছে এবং এখনো ভেতর থেকে কষ্ট দেয়। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি, সময় এসে গেছে। আমি সবসময় নিজের সবটুকু দিয়েছি, শুধু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নয়, তারও আগে। এই জার্সির জন্য সবসময় লড়েছি। মাঠে সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি, যাতে আপনাদের আনন্দ দিতে পারি এবং ফুটবলের মাধ্যমে আর্জেন্টাইন হওয়ার গর্ব অনুভব করাতে পারি।”

নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তিকে আবেগঘন অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে মেসি আরও বলেন, সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে এবং জীবনের বিভিন্ন অধ্যায়েরও একসময় সমাপ্তি ঘটে।

জাতীয় দলের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, আর্জেন্টিনার হয়ে খেলাকে তিনি ভালোবেসেছেন, ভালোবাসেন এবং সবসময় ভালোবাসবেন।

জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদী মেসি। তিনি বলেন, আমি আমার সবকিছু দিয়েছি। দেওয়ার মতো আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। পাশাপাশি দারুণ কিছু তরুণ খেলোয়াড় উঠে আসছে, যারা এই দলে থাকার যোগ্য।

চলতি মাসে বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর পর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার চালিয়ে যাওয়া নিয়ে নিজের সংশয়ের কথা জানিয়েছিলেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। তখন তিনি বলেছিলেন, আরও কতদিন জাতীয় দলের হয়ে খেলে যেতে পারবেন, তা নিয়ে তার যথেষ্ট দ্বিধা রয়েছে। অবশেষে নিয়েই ফেললেন ক্যারিয়ারের অন্যতম কঠিন এক সিদ্ধান্ত।




সিপিএলে দল পেলেন মিরাজ

ক্রীড়া ডেস্ক : ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) এবার দল পেয়েছেন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। টুর্নামেন্টের মাঝপথে তাকে দলে ভিড়িয়েছে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স। ভারতের বিপক্ষে আফগানিস্তানের টি-টোয়েন্টি সিরিজে অংশ নিতে মোহাম্মদ নবি সিপিএল ছেড়ে গেলে তার পরিবর্তে খেলবেন মিরাজ।

বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডারকে দ্রুতই ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদ্দেশে রওনা দিতে হতে পারে। তবে গায়ানার সঙ্গে মিরাজের চুক্তি কত ম্যাচের জন্য হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।

আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু করবে আফগানিস্তান। সিরিজের জন্য এরই মধ্যে দল ঘোষণা করেছে আফগানিস্তান। ধারণা করা হচ্ছে, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই ভারতের উদ্দেশে রওনা হবেন নবি। ফলে সিপিএলের গ্রুপ পর্বে গায়ানার হয়ে বেশ কয়েকটি ম্যাচে তাকে পাওয়া যাবে না।

নবির অনুপস্থিতিতে তার বিকল্প হিসেবে মিরাজকে দলে নিয়েছে গায়ানার ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। এবারের আসরে এখন পর্যন্ত দুর্দান্ত শুরু করেছে দলটি। তিন ম্যাচ খেলে তিনটিতেই জয় পেয়েছে তারা। পয়েন্ট টেবিলে গায়ানার অবস্থান চতুর্থ এবং গ্রুপ পর্বে তাদের হাতে রয়েছে আরও সাতটি ম্যাচ।

মিরাজের জন্য অবশ্য সিপিএল নতুন কোনো মঞ্চ নয়। ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। এর আগে ২০১৭ সালে তাকে দলে নিয়েছিল ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্স। তবে সেই আসরে কোনো ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ হয়নি বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডারের।