জুনেই পে-স্কেলের গেজেট, গ্রেড-পেনশন নিয়ে বড় চমক

ডেস্ক নিউজঃ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি জুন মাসের মধ্যেই নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করা হতে পারে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য আসন্ন বাজেটে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব রয়েছে।

প্রস্তাবিত পে-স্কেলে বর্তমান ২০টি বেতন গ্রেড বহাল থাকলেও বেতনের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এই কাঠামো বাস্তবায়িত হলে নিম্ন ও উচ্চ—উভয় পর্যায়ের সরকারি চাকরিজীবীদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় কিছুটা সহায়তা করবে।

তবে অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার নতুন পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকে মূল বেতনের প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি কার্যকর হতে পারে। বাকি অংশ পরবর্তী দুই অর্থবছরে সমন্বয় করা হবে।

নতুন পে-স্কেলের আওতায় প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগীকেও অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তা করছে সরকার। বিশেষ করে কম পেনশনপ্রাপ্ত অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রস্তাবনায় কিছু ক্ষেত্রে পেনশন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুযোগ রাখার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

অন্যদিকে, সরকারি কর্মচারীদের একটি অংশ ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রেক্ষাপটে নতুন পে-স্কেল এক ধাপেই বাস্তবায়ন করা উচিত।

অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে এবং বাজারে ভোগব্যয় বৃদ্ধি পাবে। তবে এর ফলে সরকারের ব্যয়ভারও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে, যা রাজস্ব ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

তবে এখন পর্যন্ত নতুন পে-স্কেল ও গেজেট সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশ হয়নি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে সরকারি প্রজ্ঞাপন ও বাজেট ঘোষণার দিকেই নজর রাখতে হবে।




বদলি নেমেই পেনাল্টি থেকে গোল মেসির, বড় ব্যবধানে জয় আর্জেন্টিনার

ক্রীড়া ডেস্কঃ ইনজুরি কাটিয়ে মাঠে ফিরেই মেসির গোল, আর সেই প্রত্যাবর্তন ম্যাচে আর্জেন্টিনার বড় জয়। লিওনেল মেসির জাদুকরী ফেরাকে সামনে রেখে আইসল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি পর্বটা দারুণভাবে শেষ করলো ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। ফ্রান্স ২৪-এর এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। 

বুধবার (১০ জুন) বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় যুক্তরাষ্ট্রের জন হেয়ার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই প্রীতি ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য ছিল আর্জেন্টিনার।

ম্যাচের ৭০তম মিনিটে আর্জেন্টিনার ডাগআউট থেকে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন এক তরুণ তারকা। তিনি মাঠে নেমেই মাঝমাঠ থেকে দুর্দান্ত এক পাস বাড়ান লাওতারো মার্টিনেজের উদ্দেশ্যে। মার্টিনেজ গোল প্রায় দিয়েই দিচ্ছিলেন, কিন্তু আইসল্যান্ডের ডিফেন্ডার ডি-বক্সের ভেতরে তাঁকে অবৈধভাবে ফাউল করায় মাঠের রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। আর সেই পেনাল্টি থেকে ঠাণ্ডা মাথার নিখুঁত শটে গোল করতে কোনো ভুল করেননি অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ম্যাচের শেষভাগে আর্জেন্টিনার হয়ে ৩-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিতকারী শেষ গোলটি আসে লাওতারো মার্টিনেজের পা থেকে।

বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ শুরু হওয়ার আগে আর্জেন্টিনার জার্সিতে এটিই আর্জেন্টাইন জাদুকরের করা শেষ গোল। আর এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে পেনাল্টি থেকে সর্বোচ্চ গোল করার অনন্য রেকর্ড গড়ার প্রস্তুতিটা বেশ ভালোভাবেই সেরে নিলেন এলএমটেন।

দ্বিতীয়ার্ধে লাউতারো মার্টিনেজ ও আলেক্সিস ম্যাক-অ্যালিস্টার ফাঁকা পোস্টে বল পাঠাতে ব্যর্থ না হলে আলবিসেলেস্তেদের জয়ের ব্যবধান আরও বড় হতে পারতো।

এই ম্যাচে আর্জেন্টিনা উপহার দিয়েছে তাদের চিরায়ত ছোট পাসের সুন্দর ফুটবল। একইসঙ্গে দ্রুত কাউন্টারে ওঠায়ও মুন্সিয়ানা দেখিয়েছে স্ক্যালোনির দল।

এই জয়েই প্রস্তুতি শেষ আর্জেন্টিনার। আগামী ১৭ জুন কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

অবশ্য ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেই পেনাল্টি থেকে ৪টি গোল করে যৌথভাবে বিশ্বকাপে পেনাল্টি থেকে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড নিজের করে রেখেছিলেন মেসি। তবে আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপে পেনাল্টি থেকে আর একটি মাত্র গোল করলেই ফুটবল ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে তা এককভাবে নিজের করে নেওয়ার এক সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে মেসির সামনে। আলাবামার এই জয় নিশ্চিতভাবেই বিশ্বকাপে নামার আগে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের আত্মবিশ্বাস আকাশচুম্বী করে দিল।




মৃত্যুর গুজব উড়িয়ে দিয়ে তানিয়া বৃষ্টি নিজেই বললেন ‘ভালো আছি’

বিনোদন ডেস্ক : ছোটপর্দার আলোচিত অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম একজন তানিয়া বৃষ্টি। গত কয়েক মাস ধরেই তার শারীরিক অবস্থা খারাপ। এরইমধ্যে হঠাৎ তার অসুস্থতা ও মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন তার ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীরা। বিষয়টি জানতে পেরে গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে ভালো আছেন বলে জানিয়েছেন এ অভিনেত্রী।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দেশের একটি সংবাদমাধ্যমকে তানিয়া বৃষ্টি জানিয়েছেন, জীবিত আছেন তিনি, ভালো আছেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাসায় থেকে বিশ্রামে আছেন। বলেন, ‘মহান আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। বাসাতেই আছি আমি। পরিপূর্ণ বিশ্রামে আছি।’

তানিয়া বৃষ্টি জানান-এখন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে আছেন। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী চেকআপও করাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমার অ্যাপয়েন্টমেন্ট ডাক্তার রয়েছেন, সেখানে নিয়মিত চেকআপ করাতে হয়। আমি চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী চলছি।’

আগামী ২০ জুন কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হবে। এ জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন তানিয়া বৃষ্টি। তিনি বলেন, ‘দুটি সার্জারি হয়েছে, তৃতীয় সার্জারি করাতে কিছুটা সময় লাগবে। মাথায় নতুন করে কোনো জটিলতা যেন না হয়, এ কারণে বাসায় বেশি থাকি। এখন খুব একটা বাইরে বের হই না।’

এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এ অভিনেত্রী। পরে জানা যায়, মস্তিষ্কে টিউমার শনাক্ত হয়েছে। ওই মাসেই অস্ত্রোপচার করে টিউমার অপসারণ করা হয়। তারপর থেকে বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

তারপর গত ৯ মার্চ ভারতের চেন্নাইয়ে যান উন্নত চিকিৎসার জন্য। সেখান থেকে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে দেশে ফেরেন। এরপর থেকে বাসায় বিশ্রামে রয়েছেন।

এ অভিনেত্রী ওই সময় দেশে ফেরার পর সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক আরও একটি অস্ত্রোপচার করাতে হবে। কিন্তু সেটি এখনই করা যাবে না। এ জন্য কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তৃতীয় সার্জারিও করাতে হবে। যেহেতু কিছুটা সময় লাগবে, তাই এখন বিশ্রামে থেকে সেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, ছোটপর্দায় নিয়মিত অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন তানিয়া বৃষ্টি। ২০১৫ সালে ‘ঘাসফুল’ সিনেমার মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক হয়। পরে ২০১৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘গোয়েন্দাগিরি’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন এ অভিনেত্রী।




হরমুজ প্রণালীতে ‘চুইয়ে’ বের হচ্ছে তেল: সিএনএন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরান যুদ্ধের কারণে গত তিন মাস ধরে কার্যত অচল বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী। এর জেরে ইতিহাসের অন্যতম বড় জ্বালানি সরবরাহ সংকট চলছে বিশ্বজুড়ে। কিন্তু তারপরও কেন তেলের বাজার এখনও তুলনামূলক শান্ত? এটি যেন এই মুহূর্তে বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম বড় ধাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত তিন মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত চলছে। এর জেরে ইরান বন্ধ করে দিয়েছে হরমুজ প্রণালী। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মার্কিন নৌ অবরোধ। এতে হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়লেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আশঙ্কার তুলনায় তীব্রভাবে বাড়েনি।

মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগানের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধের আগের তুলনায় বর্তমানে এই পথে দৃশ্যমান জাহাজ চলাচল নেমে এসেছে মাত্র ১৫ শতাংশে।

তবে বিস্ময়করভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এখনও বড় ধরনের সংকটের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে একটি কারণ হতে পারে- হরমুজ প্রণালীর ওপর আরোপিত কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যেও কিছু পরিমাণ তেল গোপনে বা নজর এড়িয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে।

‘গোপন প্রবাহ’ সামলাচ্ছে বাজারের ধাক্কা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু তেলবাহী জাহাজ শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ করে নজরদারি এড়িয়ে হরমুজ প্রণালী পার হচ্ছে। এসব তেল পরিবহনকে বলা হচ্ছে ‘ক্ল্যান্ডেস্টাইন ফ্লো’ বা গোপন প্রবাহ।

জেপি মরগানের তথ্যানুযায়ী, মে মাসের শেষ দুই সপ্তাহে প্রতিদিন প্রায় ২১ লাখ ব্যারেল তেল এভাবে পরিবহন হয়েছে। যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৫৬ লাখ ব্যারেল তেল যেতো। সেই তুলনায় এই পরিমাণ কম হলেও বৈশ্বিক বাজারে চাপ কমানোর ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

জেপি মরগানের বৈশ্বিক পণ্যবাজার কৌশল বিভাগের প্রধান নাতাশা কানেভা এক নোটে লিখেছেন, “নৌ অবরোধ এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বড় পতন সত্ত্বেও আশ্চর্যজনক পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য এখনও হরমুজ প্রণালী দিয়ে পার হচ্ছে।”

‘ভূতের মতো’ জাহাজ চলাচল
র‌্যাপিডান এনার্জি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট বব ম্যাকন্যালি বলেন, গোপন তেল পরিবহন সংকটকে কিছুটা বিলম্বিত বা কম তীব্র করতে পারে।

তিনি বলেন, “আমরা ধারণা করেছিলাম যুদ্ধের পর হরমুজ দিয়ে তেল পরিবহন শূন্য থেকে ১০ শতাংশে নেমে আসবে। কিন্তু এই গোপন প্রবাহের কারণে প্রকৃত পরিমাণ কিছুটা বেশি হতে পারে।”

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই প্রবাহ সংকট পুরোপুরি এড়ানোর মতো যথেষ্ট নয়, বরং এটি শুধু বাজারের ওপর চাপ কিছুটা কমাচ্ছে।

পাইপার স্যান্ডলারের বৈশ্বিক জ্বালানি অর্থনীতিবিদ ও কৌশলবিদ জান স্টুয়ার্টের হিসাব অনুযায়ী, মে মাসে প্রতিদিন প্রায় ২৯ লাখ ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে বের হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২১ লাখ ব্যারেল এমন জাহাজ বহন করেছে, যেগুলো ইরানি সংস্থাকে ফি দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে প্রায় ৯ লাখ ব্যারেল ছিল ‘ভূতের মতো’ পরিবহন- অর্থাৎ ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে অন্ধকারে চলাচল করা জাহাজ।

স্টুয়ার্ট বলেন, “এই গোপন প্রবাহ সংকট সামলাতে সাহায্য করছে। বাস্তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার সক্ষমতা আমার ধারণার চেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।”

চীনের আমদানি কমানোও বড় কারণ
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম শুক্রবার ব্যারেলপ্রতি ৯৩ ডলারে নেমে আসে। যুদ্ধের আগে যেখানে দাম ছিল প্রায় ৭০ ডলার, সেখানে এটি বেশি হলেও সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ ১১৪ ডলারের তুলনায় কম।

তবে বাজার স্থিতিশীল থাকার পেছনে শুধু গোপন তেল পরিবহনই নয়, আরও কয়েকটি কারণ কাজ করছে।

পাইপার স্যান্ডলারের হিসাবে, প্রতিদিন প্রায় ৪৫ লাখ ব্যারেল তেল পারস্য উপসাগর থেকে বিকল্প পথে বের হচ্ছে। এর বড় অংশ যাচ্ছে সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে, যা দেশটির তেলক্ষেত্রগুলোকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

এছাড়া বিশ্বের অন্যতম বড় জ্বালানি ব্যবহারকারী দেশ চীন তেল আমদানি কমিয়ে দিয়েছে এবং নিজেদের বড় মজুত থেকে চাহিদা পূরণ করছে। এর ফলে বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ সংকটের চাপ কিছুটা কমেছে।

জেপি মরগানের কানেভা বলেন, চাহিদা কমে যাওয়া এবং প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মজুত পরিস্থিতি সামাল দিতে ভূমিকা রাখছে। তার মতে, প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি থাকা মানে এই নয় যে সংকট ছোট; বরং বাজার ব্যয়বহুল উপায়ে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছে।

সামনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে
তবে কিছু জ্বালানি বিশেষজ্ঞ আশঙ্কা করছেন, বাজার বর্তমানে বিকল্প ব্যবস্থার কারণে প্রকৃত ঝুঁকি পুরোপুরি বুঝতে পারছে না। যুদ্ধ শুরুর পর বাণিজ্যিক তেলের মজুত দ্রুত কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুত ১৯৮০-এর দশকের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ের দিকে যাচ্ছে।

জান স্টুয়ার্ট সতর্ক করে বলেন, “পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে যাচ্ছে।”

তিনি পূর্বাভাস দিয়ে বলেছেন, জুলাই ও আগস্টে ব্রেন্ট তেলের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ১৩০ ডলারে উঠতে পারে। এমন হলে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম প্রতি গ্যালন ৫ ডলারের বেশি হতে পারে, যেখানে বর্তমানে তা প্রায় ৪ দশমিক ২০ ডলার।

স্টুয়ার্টের মতে, আরও জরুরি তেল ছাড়তে এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ব্যবহার কমাতে হলে তেলের দাম দ্রুত বাড়ার প্রয়োজন হতে পারে।

তিনি বলেন, “মানুষকে পরিবর্তনে রাজি করাতে হবে। আর দাম বেশি হলে সেটি করা অনেক সহজ হয়।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালীর বর্তমান পরিস্থিতি সাময়িকভাবে বাজারকে স্থিতিশীল রাখলেও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

সূত্র: সিএনএন




কালবৈশাখী ঝড়ে গাছ উপড়ে যান চলাচল ব্যাহত

ডেস্ক নিউজ : কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া ও সিরাজদিখান উপজেলায় সড়কের ওপর গাছ উপড়ে পড়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এতে সৃষ্টি হয় সাময়িক যানজট।

মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া ও মানাবেরসহ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ঝড়ের কারণে গাছ উপড়ে পড়ে সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে যায়। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে গজারিয়া ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ অপসারণ করে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, একই দিন বিকেল ৪টার দিকে সিরাজদিখান উপজেলার রশুনিয়া এলাকায় একটি মালবোঝাই অটোরিকশার ওপর গাছ পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে সিরাজদিখান-নিমতলা সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

পরে সিরাজদিখান ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাছ অপসারণ করে সড়কটি পুনরায় যান চলাচলের উপযোগী করে তোলে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও অটোরিকশার চালক অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের ইউনিটগুলো সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।




২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

ক্রীড়া ডেস্ক : দীর্ঘ ২১ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ২০০৫ সালের কার্ডিফের স্মরণীয় জয়ের পর এবার আবারও শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে হারাল টাইগাররা। বৃষ্টি বিঘ্নিত প্রথম ওয়ানডেতে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে ৮৬ রানের বড় ব্যবধানে জয় পায় মেহেদী হাসান মিরাজের দল।

আজ মঙ্গলবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করে ২৮৪ রান তোলে বাংলাদেশ। পরে বৃষ্টির কারণে ম্যাচ থেমে যাওয়ার সময় অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শেষ হয় ৪২.২ ওভারে ৯ উইকেটে ১৯১ রানে। এরপর প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর বাংলাদেশকে জয়ী ঘোষণা করেন ম্যাচ অফিসিয়ালরা।

অস্ট্রেলিয়া রান তাড়ায় নামলে শুরুতেই আঘাত হানে টাইগার পেসাররা। ইনিংসের প্রথম বলেই ম্যাট শর্টকে বোল্ড করেন তাসকিন আহমেদ। পরের ওভারে মার্নাস লাবুশেনকে এলবিডব্লিউ করে অস্ট্রেলিয়াকে আরও চাপে ফেলেন মুস্তাফিজুর রহমান।

এরপর নাহিদ রানা ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের আগুনে বোলিংয়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে সফরকারীরা। কুপার কনোলি (৩৫), অ্যালেক্স ক্যারি (৪৭) ও ম্যাট রেনশসহ (২) একের পর এক ব্যাটারকে ফিরিয়ে দেয় বাংলাদেশ।

নাহিদ রানা ৪১ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা বোলিং পারফরম্যান্স করেন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ইতিহাসে সেরা বোলিং ফিগার এটি। মোসাদ্দেকও বল হাতে ২ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি দুর্দান্ত ক্যাচ ধরে দলের জয়ে বড় অবদান রাখেন।

এর আগে ব্যাট হাতে ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস খেলেন মোসাদ্দেক। দীর্ঘ প্রায় চার বছর পর দলে ফিরে ছয় নম্বরে নেমে ৭০ বলে ৮৬ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ৭ চার ও ৩ ছক্কা।

বাংলাদেশের পক্ষে নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ৬৭ রান এবং তানজিদ হাসান তামিম করেন ৫৪ রান। শেষ দিকে তাসকিন আহমেদ ১৫ বলে ২০ রান যোগ করেন।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে নাথান এলিস নেন সর্বোচ্চ ৩ উইকেট। এছাড়া ম্যাট রেনশ ও লিয়াম স্কট নেন ২টি করে উইকেট।

এই জয়ের মাধ্যমে ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের মাত্র দ্বিতীয় জয়, এবং ২০০৫ সালের কার্ডিফের পর প্রথম সাফল্য। একই মাঠে আগামী বৃহস্পতিবার সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে দুই দল।




জঙ্গল সলিমপুরে চার সড়ক নির্মাণ করছে সেনাবাহিনী

ডেস্ক নিউজঃ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকাকে স্থায়ীভাবে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে এনে সন্ত্রাসমুক্ত করার লক্ষ্যে ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড গত বৃহস্পতিবার থেকে এলাকায় চারটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করেছে।

সোমবার (৮ জুন) জঙ্গল সলিমপুরে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় ২৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের (ইসিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. কামরুল আল মাসুদ এ তথ্য জানান।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. কামরুল আল মাসুদ জানান, প্রকল্পের আওতায় ছিন্নমূল এলাকা থেকে আলীনগর উচ্চ বিদ্যালয়, আলীনগর থেকে টেক্সটাইল এলাকা হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, আলীনগর থেকে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ) সংলগ্ন ভাটিয়ারী-বালুচড়া লিংক রোড হয়ে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক পর্যন্ত এবং জঙ্গল সলিমপুরের অভ্যন্তরে আরও একটি সড়ক নির্মাণ করা হবে।

প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর বিস্তৃত জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সশস্ত্র অপরাধী চক্রের দখলে ছিল। ইয়াসিন ও রোকন বাহিনীর মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক অভিযানে বাধার পাশাপাশি অতীতে র‌্যাবের এক কর্মকর্তার মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে এ এলাকায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ভবিষ্যতে পুরো এলাকায় প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে আলীনগর স্কুলসংলগ্ন এলাকায় সড়ক প্রশস্তকরণ ও মাটি কাটার কাজ চলছে। নির্মাণাধীন সড়কের প্রস্থ হবে ১৮ ফুট।

২৬ ইসিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল আল মাসুদ জানান, পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে প্রকল্পে অন্তত তিনটি বড় সেতু, প্রয়োজনীয় সংখ্যক কালভার্ট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং পাহাড়ধস প্রতিরোধে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করা হবে। বর্ষা মৌসুমের চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বিশেষ প্রকৌশল কৌশল অনুসরণ করে কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে রাস্তার ভিত্তি তৈরির জন্য মাটি কেটে রাখা হলে বৃষ্টির পানিতে তা স্বাভাবিকভাবে শক্ত ও স্থিতিশীল হয়ে ওঠে, যা ভবিষ্যতে সড়কের স্থায়িত্ব বাড়াতে সহায়ক হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, পুরো কাজ সম্পন্ন করতে ছয় থেকে সাত মাস সময় লাগতে পারে। নির্মাণকাজ নির্বিঘ্ন রাখতে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি সমন্বিতভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।

উল্লেখ্য, গত ৩১ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শন করে এলাকাটিকে সন্ত্রাসমুক্ত করার ঘোষণা দেন। এরপর প্রশাসনের অনুরোধে সেনাবাহিনী এই সড়ক নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব গ্রহণ করে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, বরং দীর্ঘদিন অবহেলিত এই অঞ্চলকে রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার মূলধারায় ফিরিয়ে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।




মোবাইলে যেভাবে দেখবেন বিশ্বকাপ ফুটবল

ক্রীড়া ডেস্কঃ ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই বাংলাদেশের কোটি ফুটবলপ্রেমীর জন্য এক অন্যরকম উন্মাদনা। প্রিয় দলের খেলা দেখতে রাত জাগা, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা কিংবা পরিবারের সবাইকে নিয়ে টিভির সামনে বসার প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।

তবে শুধু টেলিভিশনেই নয়, এবার মোবাইল ফোন, ট্যাব কিংবা ল্যাপটপ থেকেও সহজেই উপভোগ করা যাবে বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ। ফলে ঘরের বাইরে থাকলেও খেলা মিস হওয়ার সুযোগ নেই।

রাষ্ট্রীয় চ্যানেল বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), টি স্পোর্টস এবং সময় টেলিভিশন বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো সরাসরি সম্প্রচার করবে। ফিফার কাছ থেকে সম্প্রচারস্বত্ব কিনে দেশের দর্শকদের জন্য এই সুযোগ নিশ্চিত করেছে চ্যানেলগুলো।

এদিকে টিভি সম্প্রচারের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি ডিজিটাল ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মও বিশ্বকাপ দেখার সুযোগ দিচ্ছে। নির্দিষ্ট সাবস্ক্রিপশন ফি পরিশোধ করে স্মার্টফোন ও অন্যান্য স্মার্ট ডিভাইসে বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখা যাবে।

মোবাইলে বিশ্বকাপ দেখতে চাইলে ব্যবহার করা যাবে মাই রবি, টফি এবং গ্রামীনফোনের বায়োস্কোপ অ্যাপ। এসব প্ল্যাটফর্মে লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরের ম্যাচগুলো উপভোগ করতে পারবেন দর্শকরা।

বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্বের মূল্য এবার ৩০ থেকে ৪০ লাখ মার্কিন ডলারের মধ্যে নির্ধারিত হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩৭ কোটি থেকে ৪৯ কোটি টাকারও বেশি।

তাই টেলিভিশন কিংবা মোবাইল—যে মাধ্যমই হোক না কেন, ফুটবলের ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ উপভোগ করার সুযোগ থাকছে দেশের কোটি সমর্থকের সামনে।




হাম উপসর্গে একদিনে তিনজনের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজঃ গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৯ জুন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মোট ৫৩৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৯ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৯৮০ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৯ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৮১ হাজার ৮৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৫৪ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ৯ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা নয় হাজার ৮৩৩ জন।

গত ১৫ মার্চ থেকে ৯ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৬ হাজার ১৭০ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৬২ হাজার ২৯২ জন।




ইউরোপে পাঠানোর নামে ৩১ লাখ টাকা আত্মসাৎ, চক্রের মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার ৩

ডেস্ক নিউজঃ ক্রোয়েশিয়া, পর্তুগাল, ইতালি ও সার্বিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চাকরি ও স্টুডেন্ট ভিসার প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া একটি প্রতারক চক্রের মূলহোতাসহ তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-৪)।

গ্রেপ্তাররা হলেন– শেখ মো. সাদী (৪১), মো. নাহিন (২৫) ও জাহাঙ্গীর আলম (২৪)। তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর পাইকপাড়ায় র‍্যাব-৪ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-৪ সদর কোম্পানির কমান্ডার মেজর শেখ আরমান হোসাইন হৃদয়।

তিনি জানান, গত ২৮ মে মো. রমাজন হোসেন খান নামে এক ব্যক্তি র‍্যাবের কাছে অভিযোগ করেন যে, তিনি ও তার শ্যালক বিদেশে পাঠানোর নামে বড় ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার পর র‍্যাব-৪ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (৮ জুন) রাতে উত্তরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রটির তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।

মেজর শেখ আরমান হোসাইন হৃদয় বলেন, গ্রেপ্তার শেখ মো. সাদী ‘জাহরা সাদী টিকিটিং অ্যান্ড ট্রাভেলিং’ ও ‘জেএস এডুকেশন অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস’ নামে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইউরোপে বৈধভাবে লোক পাঠানোর দাবি করতেন। তার সহযোগীদের সঙ্গে মিলে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তিকে ক্রোয়েশিয়া, পর্তুগাল, ইতালি ও সার্বিয়াসহ ইউরোপের উন্নত দেশে চাকরি ও বসবাসের সুযোগ করে দেওয়ার আশ্বাস দিতেন।

তদন্তে জানা যায়, ভুক্তভোগীরা প্রথমে ক্রোয়েশিয়ায় যাওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখালে চক্রটি তাদের ইতালিতে ওয়ার্ক পারমিটসহ পাঠানোর প্রস্তাব দেয়। এ জন্য জনপ্রতি ১৪ লাখ টাকা খরচ হবে বলে জানানো হয়। পরে বিভিন্ন চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ধাপে ধাপে ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাউকে বিদেশে পাঠাতে পারেনি চক্রটি।

প্রথমে ক্রোয়েশিয়া পাঠানোর কথা বলে ব্যর্থ হওয়ার পর ছয় মাস পর পর্তুগাল পাঠানোর আশ্বাস দেওয়া হয়। এ উদ্দেশ্যে ভুক্তভোগীদের ভারতীয় দূতাবাসে পাঠানো হলেও দীর্ঘ ৭২ দিন অপেক্ষার পরও কোনো অগ্রগতি হয়নি। একপর্যায়ে ভিসার মেয়াদও শেষ হয়ে যায়।

পরবর্তী সময়ে প্রতারকরা নিউজিল্যান্ডের ভিসা দেওয়ার কথা বলে কয়েক মাস পর একটি ভিসা দেখায়। পরে যাচাই করে সেটি ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়। এরপর সার্বিয়া হয়ে ইতালি পাঠানোর কথা বলে ভুক্তভোগীদের শ্রীলঙ্কায় পাঠানো হয়। সেখানে তাদের স্থানীয় একটি চক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে কৌশলে দেশে ফিরে এসে তারা বুঝতে পারেন যে, তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে মেজর শেখ আরমান হোসাইন হৃদয় বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন উন্নত দেশে পাঠানোর নামে অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করার কথা স্বীকার করেছে। তাদের প্রতারণার শিকার আরও অনেক ভুক্তভোগী থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিদেশে যেতে আগ্রহীদের কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের আগে যথাযথ যাচাই-বাছাই করার পাশাপাশি সরকারি অনুমোদন ও কাগজপত্র পরীক্ষা করা উচিত। অন্যথায় এ ধরনের প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে অনেকেই সর্বস্ব হারাতে পারেন।

গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।