এবার ইরানে হামলা করলে ইসরায়েলকে একা লড়তে হবে: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন, ইরান ও হিজবুল্লাহর সঙ্গে পুনরায় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু করলে ইসরায়েলকে হয়তো সম্পূর্ণ একা লড়াই করতে হতে পারে। গত এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে ভয়াবহ সামরিক উত্তেজনার অবসান ঘটার পর তিনি এই মন্তব্য করলেন।

ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে উভয় পক্ষকে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানান এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার আলোচনায় কোনো প্রকার অজ্ঞতা বা বোকামির স্থান নেই বলে উল্লেখ করেন।

এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প মার্কিন-ইসরায়েল সম্পর্কের সম্ভাব্য টানাপোড়েনের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ‘আমি বিবিকে বলেছি, তোমার আরও সতর্ক হওয়া উচিত, তা না হলে খুব শিগগিরই তোমাকে একা হয়ে যেতে হবে।’

রোববার (৭ জুন) ইসরায়েলি বিমান বাহিনী লেবাননের রাজধানী বৈরুতে আকস্মিক ও ভয়াবহ বোমা হামলা চালালে এই নতুন সংঘাতের সূত্রপাত হয়। এই হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে উত্তর ইসরায়েল লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান, যার জবাবে সোমবার ভোরে ইরানের বিভিন্ন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং একটি পেট্রোমিক্যাল কারখানায় নিখুঁত বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী।

অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক টেলিভিশন ভাষণে ট্রাম্পের এই সতর্কবার্তার বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি জানান, ট্রাম্পের সাথে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং তারা প্রয়োজন অনুযায়ী তা প্রয়োগ করছে। নেতানিয়াহু আরও দাবি করেন যে, তেহরানের সন্ত্রাসী সরকারকে উপযুক্ত শিক্ষা দেওয়ার পর তারা আপাতত হামলা বন্ধ করেছে, তবে ইরান পুনরায় আক্রমণ করার ভুল করলে ইসরায়েল পূর্ণ শক্তি দিয়ে তার জবাব দেবে।

ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার অবশ্য দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যকার এই উত্তেজনাকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে রাজি হননি। তিনি ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যকার এই বাক্যবিনিময়কে দীর্ঘ বন্ধুত্বের মাঝে একটি সাময়িক উত্তপ্ত আলোচনা বলে অভিহিত করেছেন। তবে তিনি এটিও মনে করিয়ে দেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট খুব ভালো করেই জানেন যে ইসরায়েলের ওপর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হলে তেল আবিব কোনোভাবেই চুপচাপ বসে থাকবে না।

এই তীব্র আঞ্চলিক সংঘাতের জন্য ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সরাসরি ওয়াশিংটনকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, আমেরিকা এই যুদ্ধবিরতি আলোচনার অন্যতম প্রধান পক্ষ এবং মধ্যস্থতাকারী, তাই লোহিত সাগরে জাহাজ আটক বা দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসনের মতো যেকোনো যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনার জন্য মার্কিন প্রশাসনই সরাসরি দায়বদ্ধ থাকবে। তবে ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরিফ দাবি করেছেন, এই সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার এক নতুন উচ্চতা প্রদর্শিত হয়েছে, যা ইসরায়েলকে পুনরায় যুদ্ধবিরতির জন্য অনুরোধ করতে বাধ্য করেছে।

এই চরম উত্তেজনার মধ্যেও পর্দার আড়ালে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক শান্তি প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন যে তেহরান এখনো আলোচনার টেবিলে রয়েছে এবং জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি নিশ্চিত করেছেন যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরান নিয়মিত বার্তা বিনিময় করছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও একটি শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক সমাধানের জন্য সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।

এই সংঘাতের রেশ ধরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরাও সোমবার সকালে লোহিত সাগরে ইসরায়েলি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে হামলা চালিয়েছে, যা ইসরায়েলি বাহিনী আকাশেই ধ্বংস করে দেয়। একই সাথে দক্ষিণ লেবাননের টায়ার এবং নাবাতিয়েহ এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৪ জন লেবানিজ নাগরিক নিহত হয়েছেন। এই বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফিলিস বেনিস মন্তব্য করেছেন যে, ট্রাম্পের এই মৌখিক সতর্কবার্তা ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো কাজে আসবে না যতক্ষণ না আমেরিকা ইসরায়েলকে বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক আদালতে তাদের রক্ষা করা বন্ধ করছে।

সূত্র: আল জাজিরা




গরম আবহাওয়ায় বদলে যেতে পারে বিশ্বকাপের হিসাব-নিকাশ

ক্রীড়া ডেস্কঃ ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু শিরোপার লড়াই নয়, এটি বিভিন্ন দেশের ফুটবল সংস্কৃতি, কৌশল ও দর্শনেরও মিলনমেলা। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা দলগুলো নিজেদের স্বতন্ত্র খেলার ধরণ নিয়ে মাঠে নামে। আর এ কারণেই এবারের বিশ্বকাপ হতে পারে ভিন্ন ভিন্ন ফুটবল দর্শনের এক আকর্ষণীয় সংঘর্ষ।

বিশ্বকাপের অন্যতম শক্তিশালী দলগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, বলের নিয়ন্ত্রণভিত্তিক ফুটবলই এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় ধারা। বিশেষ করে ইউরোপের শীর্ষ দলগুলো প্রতিপক্ষের চেয়ে বেশি সময় বল নিজেদের দখলে রাখতে পছন্দ করে। গরম আবহাওয়ায় বলের পেছনে কম ছুটতে হওয়ায় এই কৌশল কার্যকর হতে পারে।

স্পেন এখনও বলের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করেই নিজেদের খেলা সাজায়, যদিও আগের তুলনায় তারা এখন বেশি সরাসরি আক্রমণে যায়। নেদারল্যান্ডসও একই ধরনের দর্শনে বিশ্বাসী, তবে তারা তুলনামূলকভাবে কিছুটা সতর্ক।

ফ্রান্স ও পর্তুগাল মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে। তারা বলের দখল রাখতে চায়, আবার প্রয়োজন হলে দ্রুত আক্রমণ ও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ওপরও নির্ভর করে। ২০১৮ সালে ফ্রান্স এই কৌশলেই বিশ্বকাপ জিতেছিল।

জুলিয়ান নাগেলসমানের অধীনে জার্মানি এখনও কিছুটা রহস্যময় দল। তবে সুযোগ পেলে তারা প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে উচ্চগতির চাপ প্রয়োগ ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে পছন্দ করে।

অন্যদিকে ইংল্যান্ড এবার কিছুটা ভিন্ন পথে হাঁটছে। তারা বেশি শারীরিক শক্তিনির্ভর ও দ্রুত পাল্টা আক্রমণভিত্তিক ফুটবলের দিকে ঝুঁকেছে। বলের নিয়ন্ত্রণভিত্তিক দলগুলোর ছন্দ নষ্ট করাই হতে পারে তাদের প্রধান লক্ষ্য।

এবারের বিশ্বকাপে আবহাওয়া বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তাপমাত্রা বেশি থাকায় খেলোয়াড়দের ওপর বাড়তি চাপ পড়বে। পাশাপাশি কিছু মাঠ ফুটবলের জন্য বিশেষভাবে নির্মিত নয়। ফলে বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুত পাসের খেলা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

এ কারণে দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলো কিছুটা সুবিধা পেতে পারে। গরম আবহাওয়া ও কঠিন মাঠে খেলার অভিজ্ঞতা তাদের রয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত আগের প্রতিটি বিশ্বকাপেই দক্ষিণ আমেরিকার দল শিরোপা জিতেছে।

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা সম্ভবত তাদের অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে ঘিরেই কৌশল সাজাবে। তবে ৩৮ বছর বয়সী মেসির ওপর চাপ কমাতে দলটি আরও সুসংগঠিত ও রক্ষণভিত্তিক ফুটবলের দিকেও ঝুঁকতে পারে।

ব্রাজিলও একই ধরনের পথ অনুসরণ করতে পারে। শক্তিশালী রক্ষণভাগের পাশাপাশি দ্রুতগতির আক্রমণভাগকে কাজে লাগিয়ে তারা ভারসাম্যপূর্ণ দল গড়ার চেষ্টা করবে।

অন্যদিকে এশিয়া, আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা ও মধ্য আমেরিকার তুলনামূলক কম আলোচিত দলগুলো রক্ষণ সামলে সুযোগ পেলেই পাল্টা আক্রমণে প্রতিপক্ষকে আঘাত করতে চাইবে।

সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপ শুধু সেরা দল খোঁজার মঞ্চ নয়, বরং বিভিন্ন ফুটবল দর্শন ও কৌশলের পরীক্ষাগারও হতে যাচ্ছে। বলের নিয়ন্ত্রণভিত্তিক ফুটবল হয়তো শুরুতে আধিপত্য দেখাবে, কিন্তু একটি দুর্দান্ত পাল্টা আক্রমণই পুরো হিসাব বদলে দিতে পারে। আর সেই অনিশ্চয়তাই বিশ্বকাপকে করে তোলে সবচেয়ে আকর্ষণীয়।




মেক্সিকোতে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে অনুশীলনে ইরানের ফুটবলাররা

ক্রীড়া ডেস্কঃ কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের বেস ক্যাম্প মেক্সিকোর তিজুয়ানায় প্রথম অনুশীলন করেছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল। সোমবার দলটির এই প্রথম অনুশীলনকে ঘিরে ছিল নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

মূলত টুর্নামেন্টের অন্যতম আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের বর্তমান উত্তেজনার কারণেই তাদের ঘিরে এমন বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

ইরানের এই হাই-প্রোফাইল অনুশীলন সেশনটি সাধারণ দর্শক ও মিডিয়ার জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ দরজার আড়ালে আয়োজন করা হয়েছিল। তবে তা সত্ত্বেও স্থানীয় ফুটবল অনুরাগী ও মেক্সিকান ভক্তরা ইরানের ফুটবলারদের এক নজর দেখার জন্য ট্রেনিং সেন্টারের আশেপাশে ভিড় জমান।

অনুশীলন কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর বেশ কিছু সমর্থক খেলোয়াড়দের কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ পান। সেখানে ভক্তদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন পর্তুগিজ ক্লাব পোর্তোর সাবেক তারকা ফরোয়ার্ড মেহেদি তারেমি। তিনি হাসিমুখে উপস্থিত ভক্তদের অটোগ্রাফ দেন এবং তাদের সঙ্গে থাকা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল অ্যালবামে স্বাক্ষর করেন।

বিশ্বকাপের প্রস্তুতি পর্বের শুরু থেকেই ইরান দলের ওপর বিশেষ নজর ছিল ফুটবল মহলের। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইরান দলের মূল বেস ক্যাম্প হওয়ার কথা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে। কিন্তু যাতায়াত ও লজিস্টিক প্রক্রিয়া গোছানোর মাঝপথেই সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। ফলে অ্যারিজোনার প্রকল্প ওখানকার মতো বাদ দিতে হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রাপ্তি এবং টুর্নামেন্টের অন্যান্য লজিস্টিক জটিলতার সুরাহা হওয়ার আগ পর্যন্ত ইরান দল অন্তর্বর্তীকালীন সময় হিসেবে তুরস্কে একটি বিশেষ প্রস্তুতি ক্যাম্প পরিচালনা করেছিল। পরে তুরস্ক থেকেই ইরান দলকে মেক্সিকোর ভিসা দেওয়া হয়। দলটি তুরস্ক থেকে স্পেনে যাত্রাবিরতি দিয়ে গতকাল মেক্সিকোতে পৌঁছায়।

এরইমধ্যে ইরানের ফুটবলার, কোচ ও কয়েকজন সাপোর্ট স্টাফকে বিশ্বকাপ খেলার ভিসা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে দলটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের ভিসা দেয়নি ট্রাম্পের সরকার। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে ফিফার কাছে চিঠিও দিয়েছে ইরান।

বিশ্লেষকদের মতে, শেষ মুহূর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ক্যাম্প করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে মেক্সিকোর সীমানায় মূল বেস ক্যাম্প স্থাপন করার এই সিদ্ধান্তটি মূলত তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যকার রাজনৈতিক বৈরী সম্পর্কের প্রভাব এড়ানোর একটি কৌশলগত বিকল্প। এর ফলে ইরান দল লজিস্টিক ও পরিচালনাগত ঝামেলা অনেকটাই কমিয়ে শান্তিতে মাঠের খেলায় মনোযোগ দিতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে।




প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলছে একনেক বৈঠক, উঠতে পারে ১২ প্রকল্প

ডেস্ক নিউজঃ চলতি অর্থবছরের ১২তম এবং বিএনপি সরকারের চতুর্থ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক চলছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ১০টা থেকে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে শুরু হওয়া এ সভায় সভাপতিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সভায় নতুন ও সংশোধিত মিলিয়ে ১২টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। এসব প্রকল্পে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ১০৬ কোটি টাকা। অবকাঠামো, পানিসম্পদ, স্বাস্থ্য, তথ্যপ্রযুক্তি, স্থানীয় সরকার, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সভায় প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ৮০০ একর জমিতে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন প্রকল্প অনুমোদন পেতে পারে বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরের আগে প্রকল্পটি অনুমোদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়াও শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষা আরো শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট সম্প্রসারণ প্রকল্প-২ নামে নতুন প্রকল্প প্রস্তাব উঠছে একনেকে। শিশু স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে নেওয়া এ প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪৪ কোটি টাকা। বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী জুলাই থেকে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত।

এ ছাড়া আনোয়ারা-বাঁশখালী-চকরিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন, সমন্বিত উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স নির্মাণ এবং বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল সম্প্রসারণসহ আরও কয়েকটি বড় প্রকল্পও অনুমোদনের জন্য একনেকে উপস্থাপন করা হচ্ছে।




সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ১৪ অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা

আবহাওয়া ডেস্কঃ দেশের ১৪ অঞ্চলে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। একইসঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

সতর্কবার্তায় বলা হয়, রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, টাংগাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলসমূহের উপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘন্টায় ৪৫-৬০ কি.মি. বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দর সমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।




চাকরির কথা বলে রাশিয়ায় পাঠিয়ে পরে যুদ্ধক্ষেত্রে, ৩ এজেন্সির লাইসেন্স স্থগিত

ডেস্ক নিউজঃ কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাংলাদেশি কর্মীদের রাশিয়ায় পাঠানোর পর ইউক্রেন যুদ্ধে সম্পৃক্ত করার অভিযোগে তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স স্থগিত করেছে সরকার। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক।

সোমবার (৮ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে ময়মনসিংহ-৬ আসনের সংসদ সদস্য কামরুল হাসানের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কাজের কথা বলে রাশিয়ায় পাঠানো ৩০ জন বাংলাদেশিকে যুদ্ধে সম্পৃক্ত করা হয়েছে বলে তাদের পরিবার সরকারের কাছে অভিযোগ করেছে। অভিযোগ পাওয়ার পরই সংশ্লিষ্ট তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তবে তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে জড়িত অনেক বাংলাদেশি সরাসরি বাংলাদেশ থেকে যাননি; তারা তৃতীয় কোনো দেশ হয়ে সেখানে গেছেন। এ ধরনের ক্ষেত্রে সরকারের করণীয় সীমিত।

এদিকে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত করতে সরকার কাজ করছে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও মন্ত্রী মালয়েশিয়া সফর করেছেন। আশা করা হচ্ছে, শিগগিরই দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর পথ সহজ হবে।

তিনি আরও জানান, গত বছরের ১ জুলাই থেকে চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৯ লাখ ৩৩ হাজার ৮১৫ জন বাংলাদেশির কর্মসংস্থান হয়েছে। আগামী অর্থবছরে প্রায় ১৪ লাখ কর্মী বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের মতো বন্ধ বা সীমিত শ্রমবাজার পুনরায় চালুর লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া বিদেশে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে ১৮টি দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে নুরুল হক বলেন, বিদেশে নামমাত্র কোম্পানি খুলে ভুয়া চাহিদাপত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে অতিরিক্ত কর্মী নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। এ কারণে বিদেশ থেকে পাঠানো চাহিদাপত্র যাচাই-বাছাই ও মনিটরিং আরও জোরদারের প্রয়োজন রয়েছে।

বিদেশগামী দরিদ্র কর্মীদের জন্য বিনা সুদে ঋণের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমানে ৮ শতাংশ সুদে জামানতবিহীন সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ঋণের পরিমাণ পাঁচ লাখ টাকায় উন্নীত করার চিন্তাভাবনা রয়েছে। তবে এখনো বিনা সুদে ঋণ দেওয়ার কোনো সরকারি কর্মসূচি চালু হয়নি।




ইউনূসের কালো আইনে অর্থনীতির সর্বনাশ

ডেস্ক নিউজ : বিচারের আগেই কি কাউকে ফাঁসি দেওয়া যায়? এ প্রশ্ন শুনে অনেকেই অবাক হবেন হয়তো, ভাববেন, এটা কি কখনো সম্ভব নাকি? আমাদের সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার স্বীকৃত রয়েছে। একজন নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উপযুক্ত আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে তাকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা আইনের শাসনের অন্যতম মৌলিক শর্ত। কিন্তু ইউনূস সরকারের দেড় বছরের শাসনকালে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং সংবিধান লঙ্ঘন করা হয়েছে প্রতি পদে।

ইউনূসের শাসনামলে সবচেয়ে বড় কালো আইন ছিল দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের সংশোধন। এ আইন সংশোধন করে আন্ডার কাভার তদন্তের নামে হয়রানি, বিচারের আগেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ, সম্পত্তি ক্রোক করার মতো স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ করে দেওয়া হয়।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের দুদক সংস্কার-সংক্রান্ত প্রতিবেদনের আলোকে আইন মন্ত্রণালয় থেকে দুদক আইন-২০০৪-এর অধিকতর সংশোধনের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করে গত ২৩ ডিসেম্বর। নতুন সরকার গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় গত ১২ মার্চ। এ দিনেই দুদক-সংক্রান্ত অধ্যাদেশসহ ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন করা হয়। ওই ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে পাস হয় ১১৩টি, বাতিল হয় সাতটি। বাকি ১৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এর মধ্যে দুদক সংশোধন অধ্যাদেশও ছিল। আইন অনুযায়ী, গত ১২ মার্চ অধিবেশনে উত্থাপনের দিন থেকে গত ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ৩০ দিন পার হওয়ার পর ওই ১৩টি অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারিয়েছে। গত ১১ এপ্রিল থেকেই আগের দুদক আইন-২০০৪ পূর্ণাঙ্গভাবে বহাল হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান সরকার অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ গ্রহণ না করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ ওই অধ্যাদেশ ছিল সংবিধানের মূল চেতনার পরিপন্থি। এতে তদন্ত ও বিচার ছাড়াই সম্পদ জব্দ করাসহ চরম স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। কাউকে বিনা বিচারে সাজা দেওয়া কেবল বেআইনি নয়, রীতিমতো অপরাধ। কিন্তু ইউনূস সরকার দেড় বছর ধরে এই কাজটি করছে এ অধ্যাদেশ জারি করে। ইউনূসের কালো আইন বাতিল হলেও এ আইনের আওতায় যারা হয়রানির শিকার হয়েছেন তাদের মুক্তি মেলেনি। অবৈধভাবে যাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছিল, যাদের বিদেশ ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় এবং যাদের সম্পত্তি বিচারের আগেই ক্রোক করা হয়েছিল, ইউনূসের কালো আইন বাতিলের ফলে সেসব কর্মকাণ্ড আপনাআপনিই আইনবহির্ভূত হয়ে যায়। তার পরও ভুক্তভোগীরা এখনো প্রতিকার পাননি।

দুর্নীতি দমন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ইউনূসের এ কালো আইনে প্রায় দেড় হাজার ব্যবসায়ী এবং নিরীহ মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে। তদন্তের আগেই প্রায় ১ হাজার শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিদের বিদেশযাত্রার নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ৫৫ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। এর ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের অর্থনীতি। ইউনূসের এ কালো আইনের কারণে ব্যবসায়ী, শিল্পপতি এবং উদ্যোক্তাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। অনেকে ব্যবসা বন্ধ করে দেন। ফলে নতুন করে বেকার হয়ে পড়ে কয়েক লাখ মানুষ। একদিকে বেকারত্ব বেড়েছে, অন্যদিকে নতুন বিনিয়োগ না হওয়ায় কর্মসংস্থান সংকুচিত হয়েছে।

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধের কারণে বহু ভালো ব্যবসায়ী নতুন করে ঋণখেলাপি হয়েছেন। খেলাপি ঋণের কারণে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। খেলাপি ঋণ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নানা ধরনের সুবিধা দেওয়ার পরও চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে দেশের ৬১ তফসিলি ব্যাংকের মধ্যে ৪৪টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে। একসঙ্গে এতগুলো ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি এর আগে কখনো হয়নি বলে জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। কেবল দুর্বল ব্যাংক নয়, এবার আর্থিক সূচকে ভালো অবস্থানে থাকা সিটি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, উত্তরা ব্যাংক ও বিদেশি মালিকানাধীন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকেরও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খেলাপি ঋণ বেড়েছে।

এটি ইউনূসের কালো আইনের ফল। যাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে তারা ঋণ পরিশোধ করবেন কীভাবে? আজ বিশ্বায়নের যুগে ব্যবসা করতে বিদেশ যেতেই হবে। কিন্তু বছরের পর বছর যদি উদ্যোক্তা, শিল্পপতিদের বিদেশে যেতে নিষেধাজ্ঞা থাকে তাহলে তারা ব্যবসা করবেন কীভাবে? বিদেশে যেতে না পারায় অনেকেই ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছেন। যার প্রভাব পড়েছে আর্থিক খাতে এবং অর্থনীতিতে।

বেসরকারি খাত এ কালো আইনের কারণে বিপর্যস্ত। দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি বেসরকারি খাত। ইউনূসের এ কালো আইনে দেশের অর্থনীতির সর্বনাশ হয়েছে। দুর্নীতি দমন এবং অর্থ পাচার এখন সব দেশেরই বড় সমস্যা। কিন্তু পৃথিবীর কোথাও এরকম নিকৃষ্ট কালো আইন নেই। ভারতে ১৯৮৮ সালে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন প্রণয়ন করা হয়, যা ২০১৮ সালে সংশোধন করা হয়।

অন্যদিকে, অর্থ পাচার প্রতিরোধে ২০০২ সালে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়। ভারতে দুর্নীতি তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাকে বলা হয় সিবিআই (কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা)। অন্যদিকে অর্থ পাচার তদন্ত করে ইডি (এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট)।

ভারতের আইনে তদন্তকারী সংস্থা আদালতের রায়ের আগে কারও সম্পত্তি বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করতে পারে না। শুধু চার্জশিট প্রদানের পর আদালতের অনুমতি-সাপেক্ষে লেনদেন সীমিত করতে পারে। যেন অভিযুক্ত ব্যক্তি পুরো টাকা উত্তোলন করে নিয়ে যেতে না পারে। ভারতে বিদেশযাত্রার নিষেধাজ্ঞা জারির ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলার চার্জশিট প্রদান করতে হয়। কেবল অভিযোগ আছে এ কারণে বিদেশযাত্রার নিষেধাজ্ঞা জারি করা যায় না।

এ বিষয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায় আছে। ভারতে বিশেষ পরিস্থিতিতে এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে। তবে কোনো অবস্থাতেই তা অনির্দিষ্টকালের জন্য নয়। এরকম নিষেধাজ্ঞা জারির সুনির্দিষ্ট কারণ এবং সময়কাল আদালতে পেশ করতে হয়। পাকিস্তানে এখনো ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি দমন আইন কার্যকর। যে আইনে একমাত্র আদালতে দোষী প্রমাণিত হলেই কেবল তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট কিংবা সম্পদ জব্দ করা যায়। পাকিস্তানে বিশেষ ক্ষমতা আইনে সর্বোচ্চ তিন মাসের জন্য বিদেশ ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা জারি করা যায়। এ ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কারণ উল্লেখ করতে হবে।

যুক্তরাজ্যে দুর্নীতি এবং অর্থ পাচার (Money Laundering) রোধে অত্যন্ত কঠোর আইনি কাঠামো রয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে ‘ক্লিন মানি’ বা স্বচ্ছ অর্থব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ করে। ব্রিবারি অ্যাক্ট-২০১০ (Bribery Act 2010), যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুর্নীতিবিরোধী আইন, যা ২০১১ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। এ আইনে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করার অধিকার নেই। শুধু ব্যাংক হিসাব বিবরণীর যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। প্রসিডিংস অব ক্রাইম অ্যাক্ট ২০০২ (Proceeds of Crime Act 2002-POCA) : এ আইনের অধীনে অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ (যেমন- দুর্নীতি, মাদক বা অপরাধের অর্থ) এ আইনে প্রাথমিক তদন্তের পর যুক্তিসংগত কারণ দেখিয়ে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ চিহ্নিত করে সাময়িকভাবে জব্দ করা যায়। কিন্তু এসব দেশে অন্তহীন সময়ের জন্য বিদেশ ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিধান নেই।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী একজন ব্যক্তিকে অন্তহীন মেয়াদে বিদেশ ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন। সংবিধানের ৩৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘জনস্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে বাংলাদেশের সর্বত্র অবাধ চলাফেরা, ইহার যে কোনো স্থানে বসবাস ও বসতিস্থাপন এবং বাংলাদেশ ত্যাগ ও বাংলাদেশে পুনঃপ্রবেশ করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে।’

বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ দুদক বনাম জি বি হোসেন মামলার ঐতিহাসিক রায়ে বলেছে, ‘একজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা আছে শুধু এ যুক্তিতে তাকে বিদেশে যেতে বাধা দেওয়া যায় না। কেবল ফৌজদারি মামলায় আছে এ অজুহাতে সংবিধানের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।’ (৭৪ ডিএলআর)।

ইউনূস আমলে কেবল সংবিধানের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়নি আপিল বিভাগের রায় অমান্য করে আদালত অবমাননা করা হয়েছে। বিএনপি সরকার এ কালো আইন বাতিল করেছে। কিন্তু এ আইনের মাধ্যমে যাদের সীমাহীন দুর্ভোগ হয়েছে তাদের হয়রানি থেকে মুক্তি মেলেনি। অনতিবিলম্বে সরকার এ কালো আইনের আওতায় যারা নিপীড়নের শিকার হয়েছেন তাদের পাশে দাঁড়াবে বলে আমাদের বিশ্বাস। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দিয়ে, বিদেশ ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে দেশে একটি সুস্থ, স্বাভাবিক বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে সরকার আশা করি আর বিলম্ব করবে না।

 




৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে ফিলিপাইনে নিহত বেড়ে ৩২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপের উপকূলে সোমবার ভোরে আঘাত হানা ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৩৪ জন। দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। ঘটনার পর অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করেছে সরকার।

ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল সারঙ্গানি প্রদেশের উপকূল থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে। এর কম্পন মিন্দানাওজুড়ে প্রবলভাবে অনুভূত হয় এবং প্রায় ৪২০ কিলোমিটার দূরে ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের মানাদো শহরেও কাঁপুনি টের পাওয়া যায়।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মিন্দানাওয়ে ধ্বংসাবশেষ ও ভূমিধসে ৩২ জন নিহত এবং ১৩৪ জন আহত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় সাত লাখ মানুষের বসবাসের শহর জেনারেল সান্তোস সিটি। সেখানে একাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কিছু স্থাপনা ধসে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ৪৪ বছর বয়সী জোজো কালমা বলেন, ‘এই প্রথম আমি এত শক্তিশালী ভূমিকম্প দেখলাম। সত্যিই নিজের চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। আমি আমার সন্তান এবং ভাগ্নির কথা ভাবছিলাম, যদি তাদের কিছু হয়ে যেত?’ ভূমিকম্পের সময় তিনি একটি ভবনের সামনে মোটরচালিত থ্রি-হুইলার ট্যাক্সি চালাচ্ছিলেন। পরে ভবনটি ধসে পড়লেও তিনি অক্ষত থাকেন। তাঁর সন্তানরা তখন স্কুলে ছিল, তবে তারা নিরাপদ আছে। তাঁর ভাইয়ের বাড়ি ধ্বংস হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় সরকারের প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে একটি ফাস্টফুড দোকানসংবলিত ভবন ধসে পড়ার দৃশ্য দেখা গেছে। ভবনটি ভেঙে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধুলার মেঘ ছড়িয়ে পড়ে এবং পথচারীরা আতঙ্কে ছুটোছুটি করতে থাকেন।

দীর্ঘ ছুটির পর স্কুল খোলার পরদিনই এই ভূমিকম্প আঘাত হানে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামরিক বাহিনী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোকে মোতায়েন করেছে সরকার।

ভূমিকম্পের পর দক্ষিণ ফিলিপাইন, উত্তর ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়ার বোর্নিও দ্বীপের সাবাহ রাজ্যে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। উপকূলীয় বাসিন্দাদের দ্রুত উঁচু স্থানে সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ছয় ঘণ্টার বেশি সময় পর সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।

এর আগে ১২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের আট মাস পর এ দুর্যোগ আঘাত হানল। গত বছর মধ্যাঞ্চলীয় সেবু দ্বীপের উপকূলে ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে ৭৯ জন নিহত হন। এর দুই সপ্তাহ পর মিন্দানাওয়ে ৭.৪ মাত্রাসহ আরও দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছিল।




২৭ বছর পর আসছে ‘আবার হঠাৎ বৃষ্টি’

বিনোদন ডেস্ক : বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনার জনপ্রিয় সিনেমা ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ মুক্তির প্রায় ২৭ বছর পর নতুন রূপে ফিরছে পর্দায়। ‘আবার হঠাৎ বৃষ্টি’ নামে নির্মিত এই রিমেকটি পরিচালনা করেছেন কামরুজ্জামান।

তিনি জানান, প্রায় তিন মাস আগে সিনেমাটির শুটিং শেষ হয়েছে। ইতোমধ্যে এটি সার্টিফিকেশন বোর্ডের ছাড়পত্রও পেয়েছে। এখন সব কিছু ঠিক থাকলে আসন্ন দুর্গাপূজায় ছবিটি মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে।

রিমেক নির্মাণের অভিজ্ঞতা নিয়ে কামরুজ্জামান বলেন, ‘এ ধরনের ছবি রিমেক করাটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমান সময়ের কথা মাথায় রেখে আমরা কাজটা করেছি। ছবিটি দেখার পর বাকিটা সবাই বলবেন।’

১৯৯৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ পরিচালনা করেছিলেন বাসু চ্যাটার্জি।

সিনেমাটির প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ফেরদৌস ও প্রিয়াঙ্কা ত্রিবেদী। নতুন সংস্করণে ফেরদৌসের চরিত্রে অভিনয় করেছেন আরিয়ান সারোয়ার এবং প্রিয়াঙ্কা ত্রিবেদীর চরিত্রে দেখা যাবে রাদিফা নারমিনকে।

এ ছাড়া ‘আবার হঠাৎ বৃষ্টি’ সিনেমায় আরো অভিনয় করেছেন আজাদ আবুল কালাম, ফারজানা ছবি, ক্রিস্টানো তন্ময়, কায়েস আরজু, মৌ খান ও ঝুনা চৌধুরীসহ অনেকে।

এটি আরিয়ান সারোয়ারের দ্বিতীয় সিনেমা হলেও প্রথমবার তিনি প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন। নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শুটিংয়ের আগে পুরো ছবিটি দেখেছি একাধিকবার।

ফেরদৌস ভাইকে অনুসরণ করেছি, তবে অনুকরণ নয়, পরিচালকের নির্দেশনা ও আমার মতো করে চরিত্রটা পর্দায় ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। তবে অভিনয়জীবনের শুরুতে এটা বড় একটা প্রাপ্তি এমন চরিত্রে অভিনয় করতে পারা।’

‘হঠাৎ বৃষ্টি’ বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনার অন্যতম সফল সিনেমাগুলোর একটি। মূল ছবিটি যৌথভাবে প্রযোজনা করেছিল বাংলাদেশের আশীর্বাদ চলচ্চিত্র ও ভারতের গ্রামকো ফিল্মস। আর নতুন রিমেক ‘আবার হঠাৎ বৃষ্টি’ প্রযোজনা করেছে আশীর্বাদ চলচ্চিত্র ও ইমপ্রেস টেলিফিল্ম।




বিশ্বকাপে বেশি গোল করবেন মেসি না রোনালদো? ভবিষ্যদ্বাণী এমবাপ্পের

ক্রীড়া ডেস্ক : ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হতে আর মাত্র ৩ দিন বাকি। ১১ জুন উদ্বোধনী ম্যাচের মধ্য দিয়ে পর্দা উঠবে ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসরের। বিশ্বকাপ ঘিরে ইতোমধ্যেই চলছে নানা আলোচনা। কে হবেন সর্বোচ্চ গোলদাতা, তা নিয়েও চলছে জোর জল্পনা। এমন সময় নিজের পছন্দের কথা জানিয়েছেন ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। আর সেখানে লিওনেল মেসির চেয়ে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকেই এগিয়ে রেখেছেন তিনি।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে এমবাপ্পের কাছে জানতে চাওয়া হয়, আসন্ন বিশ্বকাপে কোন ফুটবলার সবচেয়ে বেশি গোল করতে পারেন। একের পর এক তুলনায় তিনি স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালকে ফ্লোরিয়ান ভির্টজ, মেমফিস ডিপাই, মোহাম্মদ সালাহ ও আর্লিং হালান্ডের চেয়ে এগিয়ে রাখেন।

এরপর নিজের ক্লাব সতীর্থ ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে বেছে নেন তিনি। এমনকি ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনের চেয়েও ভিনিসিয়ুসকে এগিয়ে রাখেন। তবে ভিনিসিয়ুস ও মেসির মধ্যে একজনকে বেছে নিতে হলে এমবাপ্পে মেসির পক্ষেই মত দেন।

কিন্তু মেসি ও রোনালদোর তুলনা আসতেই সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেন ফরাসি অধিনায়ক। তাঁর বিশ্বাস, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে মেসির চেয়ে বেশি গোল করবেন রোনালদো। আর শেষ ধাপে যখন রোনালদো ও এমবাপ্পের মধ্যে তুলনা করা হয়, তখন তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেকেই এগিয়ে রাখেন।

এবারের বিশ্বকাপ এমবাপ্পের তৃতীয় আসর। ২০১৮ সালে তিনি ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন। ২০২২ সালে ফ্রান্সকে ফাইনালে তুললেও শিরোপা জেতাতে পারেননি। অন্যদিকে, মেসি ও রোনালদো দুজনই রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন। তাই অনেকের মতে, এটিই হতে পারে তাঁদের শেষ বিশ্বকাপ।

বিশ্বকাপের পরিসংখ্যানে অবশ্য এগিয়ে আছেন মেসি। আর্জেন্টিনার হয়ে ২৬টি বিশ্বকাপ ম্যাচে তিনি করেছেন ১৩ গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৮ গোল। অন্যদিকে, পর্তুগালের হয়ে ২২টি ম্যাচে রোনালদোর গোল সংখ্যা ৮।

তবে রোনালদোর সামনে এবার একটি বিশেষ চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এখনো কোনো গোল করতে পারেননি তিনি। ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই আক্ষেপ ঘোচানোর সুযোগ থাকবে পর্তুগাল অধিনায়কের সামনে।