তনু হত্যা মামলায় সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, রেড নোটিশ জারির নির্দেশ

ডেস্ক নিউজ : কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান (তনু) হত্যা মামলায় সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৮ বিকেলে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (১) আদালতের বিচারক মুমিনুল হক এ আদেশ দেন।

কুমিল্লা আদালত পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ জানান, যাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হয়েছে তারা হলেন তৎকালীন কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান ওরফে জাহিদ এবং সৈনিক শাহীন আলম।

মামলার নথি অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের সময় জাহিদ কুমিল্লা সেনানিবাসের ১২ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার গড়ঘাটা এলাকায়। শুরু থেকেই তনুর পরিবারের অভিযোগ, নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্বে ছিলেন জাহিদ। বর্তমানে তার বয়স ৪৮ বছর। তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়েছেন বা অবসরে পাঠানো হয়েছেন।

অপর আসামি শাহীন আলম হত্যার সময় ২ সিগন্যাল ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে। সূত্র জানিয়েছে, তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তার বয়স ৩৭ বছর এবং তিনিও অবসর নিয়েছেন বা অবসরে পাঠানো হয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম আদালতে আবেদন করে সন্দেহভাজন এই দুই সাবেক সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ চান। একই আবেদনে তিনি তনু হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত কোনো তদন্ত-তথ্য সেনাবাহিনীর কাছে থাকলে তা তদন্ত কর্মকর্তার কাছে সরবরাহের অনুরোধ করেন। সোমবার মামলার ধার্য তারিখে আদালত এ আদেশ দেন।

তবে তদন্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘আজ মামলাটির ধার্য তারিখ ছিল। আমরা কুমিল্লায় যাইনি। আদালত কী নির্দেশ দিয়েছেন, সেটি এখনো জানতে পারিনি। আদেশের কপি হাতে পেলে বিস্তারিত বলা যাবে।’

এদিকে মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে সোমবার সকাল ১১টার দিকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। তার পক্ষে কোনো জামিন আবেদন না হওয়ায় আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বর্তমানে তার বয়স ৫২ বছর। ২০২৩ সালে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন বা অবসরে পাঠানো হন। গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের সময় তিনিও কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।

নতুন তথ্য ও তদন্ত অগ্রগতি
সম্প্রতি মামলার তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। তনুর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা নমুনায় আরও একজনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। ডিএনএ পরীক্ষায় তনুর পোশাকে মোট চারজনের নমুনা মিলেছে। আগে তিনজনের শুক্রাণু পাওয়া যাওয়ার তথ্য প্রকাশিত হলেও নতুন ব্যক্তির ক্ষেত্রে রক্তের নমুনা মিলেছে।

প্রেক্ষাপট
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের কাছাকাছি ঝোপের মধ্যে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং দীর্ঘদিন ধরে মামলাটির তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চলছে।




২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আট শিশুর মৃত্যু

ডেস্ক নিউজঃ সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেজনক হাম এবং নিশ্চিত হামে মোট আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার ৯২ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৮০ হাজার ১০৪ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৯৩ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা নয় হাজার ৭৭৯ জন।

গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৫ হাজার ২৩৭ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬১ হাজার ২৭৮ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে সাত জনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৫৩৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে।




সড়ক বাতির বিদ্যুৎ সাশ্রয় শিখতে ফ্রান্সে যেতে চান রাজশাহী সিটির প্রশাসক, প্রধানমন্ত্রীর ‘না’

ডেস্ক নিউজঃ রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমানের ফ্রান্স সফরের প্রস্তাব অনুমোদন দেননি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি মন্তব্য করেছেন, প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট নন এমন কর্মকর্তার বিদেশ সফরের যৌক্তিকতা নেই। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী এ ধরনের সফরে অংশ নিতে পারেন।

স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ফ্রান্সভিত্তিক আউটডোর লাইটিং অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (এএলএসি) পরিদর্শন এবং বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী স্ট্রিট লাইটিং প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা নিতে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান ও নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) এ বি এম আসাদুজ্জামান সুইটের ফ্রান্স সফরের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। সোমবার এ বিষয়ে অনুশাসন দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি সালেহ শিবলী এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

প্রস্তাবের নোটে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, স্ট্রিট লাইটিং প্রযুক্তি বিষয়ে প্রকৌশলীর অর্জিত জ্ঞান সিটি করপোরেশনের কাজে লাগবে। তবে প্রশাসক প্রকৌশলী নন, তাই তার এ সফরে অংশগ্রহণের বিশেষ গুরুত্ব নেই। প্রয়োজনে শুধু নির্বাহী প্রকৌশলীকে সফরের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।

একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্ভাবনী প্রকল্পে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও অন্যান্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।

এর আগে মশকনিধন-সংক্রান্ত উদ্ভাবনী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেনসহ পাঁচ কর্মকর্তার যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়নি। সে সময় প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, মশকনিধনের উপায় জানতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রয়োজন নেই; দেশের বাস্তব পরিবেশ থেকেই কার্যকর পদ্ধতি উদ্ভাবন সম্ভব।

সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অবস্থান নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঈদুল আজহার আগে কেরানীগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের নাম পরিবর্তন করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নামে করার একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়নি। পরিবর্তে নতুন প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে নামকরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সরকারি সূত্রগুলোর মতে, সাম্প্রতিক এসব সিদ্ধান্তে বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়তা ও পেশাগত সংশ্লিষ্টতাকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের পরিবর্তে নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার নীতির প্রতিফলন ঘটেছে।




বাংলাদেশে প্রতি বছর ৩৫ লাখ টন খাদ্য অপচয় হয়

ডেস্ক নিউজঃ খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা ইউনেপের ২০২৪ সালের ফুড ওয়েস্ট ইনডেক্স প্রতিবেদনে বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৩৫ লাখ টন খাদ্য অপচয়ের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে, তবে প্রতিবেদনে যে সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে তা সামগ্রিক সংখ্যা।

সোমবার (৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান খাদ্য প্রতিমন্ত্রী। বিকাল ৩টায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়।

কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের লিখিত প্রশ্নে জানতে চান জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা ইউনেপের ২০২৪ সালের ফুড ওয়েস্ট ইনডেক্সের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বাংলাদেশে প্রতি বছর যে পরিমাণ খাদ্য উৎপাদন হয় তার একটি বড় অংশই চলে যায় ময়লার ঝুঁড়িতে, যা প্রায় ৩৫ লাখ টন। দেশে খাদ্যের অপচয় রোধকল্পে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে আপনার মন্ত্রণালয় কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে?

লিখিত জবাবে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা ইউনেপের ২০২৪ সালের ফুড ওয়েস্ট ইনডেক্স প্রতিবেদনে বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৩৫ লাখ টন খাদ্য অপচয়ের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে, তবে প্রতিবেদনে যে সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে তা সামগ্রিক সংখ্যা। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে খাদ্যশস্য সংগ্রহ করে তা খাদ্য গুদাম ও সাইলোতে সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে। সরকারের বিভিন্ন খাতে খাদ্য গুদাম ও সাইলো থেকে খাদ্যশস্য বিতরণ হয়ে থাকে। ওই ব্যবস্থাপনায় কিছু খাদ্যশস্য নষ্ট হয়। তবে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উদ্যোগ যেমন- নতুন আধুনিক সাইলো ও খাদ্য গুদাম নির্মাণ, সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে খাদ্যশস্য সংরক্ষণ, পরিবহণ সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সচেতনতা বৃদ্ধিসহ অন্যান্য প্রচেষ্টার মাধ্যমে খাদ্যশস্যের অপচয় পর্যায়ক্রমে কমানো হচ্ছে।

২০২৪-২৫ অর্থ বছরে খাদ্যশস্য ঘটাতি ১৮৮৮৭ দশমিক ৩৪৭ মেট্রিক টন

মো. আব্দুল বারী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে খাদ্যশস্যর মোট ঘাটতি বা অপচয়ের পরিমাণ ছিল ১৮৮৮৭ দশমিক ৩৪৭ মেট্রিক টন; যা শতকরা হিসাবে শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ। অন্যদিকে ২০২৩-২০২৪ অর্থ-বছরের মোট ঘাটতি বা অপচয়ের পরিমাণ ২১৩২৯ দশমিক ৮৮ মেট্রিক টন; যা শতকরা হিসাবে শূন্য দশমিক ৩১৬ শতাংশ। উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের ঘাটতি আগের অর্থ-বছর থেকে হ্রাস পেয়েছে।

লিখিত প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, খাদ্য নিরাপত্তা ও নিরাপদতা নিশ্চিতকরণ এবং দেশে খাদ্যের অপচয় রোধকল্পে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদিত পণ্যের অপচয় ও ক্ষতি রোধে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ নিম্নোক্ত নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।




ড. ইউনূস-নুরজাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

ডেস্ক নিউজঃ দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ও শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলা এবং সময়মতো হামের টিকা আমদানিতে ব্যর্থতার অভিযোগ এনে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগমসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের আবেদন করা হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) সকালে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে মামলার আবেদন করেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী আশুতোষ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলার আবেদন আদালতে দাখিল করা হয়েছে, তবে এ বিষয়ে এখনো শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি।

মামলায় ড. মুহাম্মদ ইউনূস ছাড়াও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম, সাবেক স্বাস্থ্য সচিব সাইদুর রহমান, ড. ইউনূসের তৎকালীন বিশেষ সহকারী ডা. সায়েদুর রহমান এবং সাবেক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আবু জাফরকে আসামি করা হয়েছে।

আবেদনে অভিযোগ করা হয়, হামের টিকা সংকট ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার কারণে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

মামলার বাদী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, ‘অন্তর্বতী সরকারের কাজের অবহেলার কারণ এবং টিকা আমদানিতে জটিলতার কারণে বিদেশি ভ্যাকসিন আমদানি বন্ধ করে দিয়ে পরবর্তীতে টেন্ডারের মাধ্যমে প্রক্রিয়ায় গিয়ে বন্ধ করে দেয়। যার কারণে এই রোগ সারাদেশে ছড়িয়ে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় যারা দোষী তাদের শাস্তি চাচ্ছি। ভবিষ্যতে কোনো সরকার যেন কোমলমতি শিশুদের প্রতি অবহেলা করতে না পারে সেটাই চাচ্ছি।’

এর আগে, গত ২০ মে হামের টিকা পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ইউনিসেফ। সেখানে সংস্থাটির প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স জানান, টিকা সংকটের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে ১০ বার সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ এবং এ বিষয়ে ৫টি চিঠিও দেওয়া হয়েছিল। তবে, টিকা ক্রয়ে অর্থ নয়; বরং ক্রয়সংক্রান্ত জটিলতার কারণেই সংকট তৈরি হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাড়িয়েছে ৬২০ জনে।




হাসপাতাল নিজেই এখন আইসিইউতে : সংসদে সানসিলা জেবরিন

ডেস্ক নিউজঃ মানুষের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কথা যে হাসপাতালের, সেই হাসপাতাল আজ নিজেই আইসিইউতে চলে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা।

রবিবার (৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনে ৭১ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি এসব কথা বলেন।

সংসদে ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা বলেন, শেরপুরের ১৭ লাখ মানুষের একমাত্র ভরসা সদর হাসপাতালের করুণ বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরতে মহান জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়েছি। যে হাসপাতাল মানুষের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কথা, সেই হাসপাতাল আজ নিজেই আইসিইউতে চলে গেছে।

শেরপুর সদরের চরাঞ্চলের রাস্তাঘাটের বেহাল দশার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে যখন একজন অসুস্থ ব্যক্তি, মুমূর্ষু রোগী কিংবা গর্ভবতী মা জীবন বাঁচানোর শেষ আশায় শেরপুর সদর হাসপাতালে আসেন, তখন হাসপাতালের বেড না পেয়ে মেঝে, বারান্দা কিংবা করিডোরে দিনের পর দিন তাদের কাতরাতে হয়। বিষয়টি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।

হাসপাতালের চরম জনবল সংকটের চিত্র তুলে ধরে এই সংসদ সদস্য বলেন, সেখানে সিনিয়র কনসালট্যান্টের ১০টির মধ্যে ১০টি পদই শূন্য। প্রতিদিন ৭০০ রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক, নার্স, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীরা। হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে, কিন্তু চালক নেই। নয় তলা ভবন রয়েছে, কিন্তু রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত লিফট নেই।

তিনি আরো বলেন, করোনাকালীন প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আইসিইউ ও সিসিইউ ইউনিটের বেহাল দশার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে বর্তমানে শেরপুর সদর হাসপাতালের ওই ইউনিটগুলো অকেজো হয়ে পড়ে আছে। দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ থাকায় ইউনিটটি এখন মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসামগ্রী ও যন্ত্রপাতিও চুরি হয়ে যাচ্ছে। হাসপাতালের একটি অংশ দালাল, চোর, ছিনতাইকারী ও মাদকসেবীদের অপরাধের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। পাশেই ময়লার ডাস্টবিনের দুর্গন্ধে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ডা. সানসিলা জেবরিন বলেন, ২০১৮ সালের পর থেকে এই সদর হাসপাতালে স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো স্টাফ নিয়োগ দেওয়া হয়নি। গত আট বছরে ছয়বারের মতো নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ দেওয়া হলেও কোনো এক অদৃশ্য শক্তির কারণে পরীক্ষাটি বারবার পিছিয়ে যায়।




পুশ-ইন ও সীমান্ত হত্যা ইস্যুতে বিএসএফকে কড়া বার্তা দিবে বিজিবি

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে সাম্প্রতিক পুশ-ইন, সীমান্ত হত্যা ও আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগকে সামনে রেখে শুরু হচ্ছে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের চার দিনব্যাপী সীমান্ত সম্মেলন। এবারের বৈঠকে সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন ইস্যুতেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে যাচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

সোমবার (৮ জুন) শুরু হতে যাওয়া বিজিবি ও ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলনকে ঘিরে দুই দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে নারী-শিশুসহ বহু মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে বিএসএফ—এমন অভিযোগ তুলেছে বিজিবি।

বিজিবির দাবি, সীমান্তে তাদের তৎপরতায় একের পর এক পুশ-ইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তবে এসব ঘটনা শুধু সীমান্ত নিরাপত্তার নয়, বরং মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক আইন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বিজিবি সদর দপ্তরের উপ-মহাপরিচালক (মিডিয়া) কর্নেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ মাহমুদ আজম জানিয়েছেন, ডিজি পর্যায়ের এবারের সীমান্ত সম্মেলনে বিজিবির মূল এজেন্ডা থাকবে সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন। এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে বিএসএফের কাছে কড়া প্রতিবাদ জানানো হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও উত্থাপন করা হবে।

তিনি বলেন, আকাশসীমা লঙ্ঘন করে ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার, মাদক ও অন্যান্য চোরাচালান, সীমান্তে অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল স্থাপন, স্থায়ী সীমান্ত পিলার নির্মাণ, আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর তৎপরতা এবং ভারতীয় গণমাধ্যমে সীমান্তকেন্দ্রিক উসকানিমূলক সংবাদ প্রকাশের বিষয়গুলোও বৈঠকে আলোচনায় আসবে।

বিজিবি সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ থেকে ৬ জুন পর্যন্ত মাত্র চার দিনে ঝিনাইদহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, লালমনিরহাট ও পঞ্চগড় সীমান্ত দিয়ে বিএসএফের সহযোগিতায় ২৩টি পুশ-ইনের চেষ্টায় দুই শতাধিক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। বিজিবি দাবি করেছে, তারা প্রতিটি প্রচেষ্টা প্রতিহত করেছে।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অন্তত ২ হাজার ৪৬৩ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে শতাধিক ব্যক্তিকে পরবর্তীতে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকশ রোহিঙ্গাও ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

পুশ-ইন ঠেকাতে সীমান্তে টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। সীমান্তজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থাও বজায় রাখা হয়েছে।

বিজিবির অভিযোগ, এসব পুশ-ইনের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব যাচাই, কূটনৈতিক যোগাযোগ কিংবা আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে না। অন্যদিকে ভারতের দাবি, যাদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে তারা বাংলাদেশি নাগরিক। তবে ঢাকা স্পষ্ট করে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন ও প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যাচাই ছাড়া কাউকে গ্রহণ করা হবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, পুশ-ইন ইস্যু এখন সীমান্ত ব্যবস্থাপনার গণ্ডি ছাড়িয়ে মানবাধিকার, কূটনীতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। ফলে চলমান সীমান্ত সম্মেলন দুই দেশের সম্পর্কের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।




প্রবেশ করল মৌসুমি বায়ু, বর্ষাকালের সূচনা

ডেস্ক নিউজঃ ছয়দিন পরেই বর্ষাকাল। আষাঢ় আসছে। তার আগে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের শেষ প্রান্ত টেকনাফ দিয়ে প্রবেশ করেছে বর্ষাবাহী মৌসুমি বায়ু। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে এক সপ্তাহ দেরিতে এলো এই সঘন মেঘমালা নিয়ে বায়ু। দেশে সাধারণত ৩১ মে থেকে ১ জুনের মধ্যে মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করে। চট্টগ্রাম অঞ্চলে মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করলেও তা সারা দেশে ছড়াতে মধ্য জুন অব্দি লেগে যেতে পারে। তবে আগামী ১২ কিংবা ১৩ জুন থেকে কিছুটা বর্ষার বৃষ্টির আমেজ শুরু হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এখনই ভ্যাপসা গরম-তাপপ্রবাহ প্রশমিত হচ্ছে না; মৌসুমি বায়ু সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ার পূর্ব পর্যন্ত তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। আগামী ৮ কিংবা ৯ জুন থেকে আবারও তাপপ্রবাহ শুরু হয়ে তা দুই-তিন দিন থাকতে পারে। আগত বর্ষাবাহী মৌসুমি বায়ুকে এখন লড়তে হবে সক্রিয় পশ্চিমা লঘুচাপের সঙ্গে। আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক জানান, এই দুই বায়ুপ্রবাহের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে আগামী কয়েক দিন বৃষ্টি কিছুটা কমে যেতে পারে। তিনি জানান, বিশেষ করে ৯ থেকে ১০ জুন বৃষ্টি কম হতে পারে। সারা দেশে মৌসুমি বায়ু ছড়িয়ে পড়তে চলতি মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। চলতি বছর বর্ষা মৌসুমে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে আগেই সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থা।

আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় বায়ুপ্রবাহ এল নিনোর সক্রিয়তার কারণেই এবার বৃষ্টি কম হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাংলাদেশে মোট বৃষ্টির বেশির ভাগ হয় জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয় জুলাই মাসে, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হয় জুনে। টানা কয়েক দিনের তাপপ্রবাহের পর শুক্রবার থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এতে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। পশ্চিমা লঘুচাপের কারণে যে বৃষ্টি হচ্ছে, তাতে দীর্ঘক্ষণ শীতলতা থাকে না। কিন্তু পুবালি বাতাস আসার পর প্রকৃতিতে দীর্ঘস্থায়ী শীতলতা দেখা দেয়। মৌসুমি বায়ু প্রবেশের প্রভাবে দেশের আবহাওয়ার কী ধরনের পরিবর্তন হয়ে থাকে এমন প্রশ্নে আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক বলেন, গ্রীষ্মকালীন মেঘ ও বাতাস সাধারণত উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয়ে থাকে; মৌসুমি বায়ু প্রবেশে ফলে এখন তা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হবে। এছাড়া, দক্ষিণা বাতাসে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বেড়ে তাপপ্রবাহ প্রশমিত হয়ে দেশে এক ধরনের স্বস্তিদায়ক আবহাওয়ার ধারা সৃষ্টি হবে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, মৌসুমি বায়ুর এই আগমন কৃষিখাতের জন্য ইতিবাচক। বিশেষ করে আমন ধানের বীজতলা তৈরি ও চাষাবাদের জন্য এই বৃষ্টিপাত অত্যন্ত সহায়ক হবে। তবে টানা ভারী বৃষ্টিতে সবজি খেতের যাতে ক্ষতি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, গ্রীষ্মকালীন হঠাত্ বৃষ্টিতে ক্ষণিকের স্বস্তি মিলে; এখন মৌসুমি বায়ু দেশে প্রবেশ করায় দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টি হতে পারে। এতে তাপমাত্রা দ্রুত কমে স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করবে।



রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত

ডেস্ক নিউজঃ রাজধানী ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রোববার (৭ জুন) রাত ১১টা ৩৬ মিনিটের দিকে কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী এ কম্পন অনুভূত হয়। এতে অনেক মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ঘরবাড়ি ও উঁচু দালান থেকে বাইরে বের হয়ে আসেন।

তবে ভূমিকম্পে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে অ্যানড্রয়েড আর্থকোয়েক অ্যালার্ট সিস্টেম জানায়, ভুটানের পুনাখার ৫ কিলোমিটার দূরে এ ভূমিকম্পের উৎপত্তি। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৩।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ভুটানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পুনাখার ১৫ কিলোমিটার পশ্চিম উত্তর–পশ্চিমে ৫ দশমিক ৬ মাত্রার এই ভূমিকম্প হয়। ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে।
রংপুর, সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাট, কুষ্টিয়া, গাইবান্ধা, নীলফামারী, সৈয়দপুর, বগুড়া, শেরপুরসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ভূকম্পন অনুভূত হওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রথম আলোর প্রতিনিধিরা।
এই ভূম্পিকম্পের প্রভাবে ভারত, নেপাল ও চীনেও কম্পন অনুভূত হয়েছে।



জেট ফুয়েলের দাম লিটারে ১৫ টাকা ৬৭ পয়সা কমালো বিইআরসি

ডেস্ক নিউজ : বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ সংস্থার জন্য জেট এ-১ (জেট ফুয়েল) এর দাম কমিয়েছে।

রোববার (৭ জুন) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে সংস্থাটি জানায়, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ক্ষেত্রে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১৫ টাকা ৬৭ পয়সা এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে ০.১০ মার্কিন ডলার কমানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ রুটের এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য জেট এ-১ ফুয়েলের দাম লিটার প্রতি ১৫ টাকা ৬৭ পয়সা কমিয়ে ১৬৫ টাকা ৮৮ পয়সা থেকে ১৫০ টাকা ২১ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিইআরসি’র সচিব মো. নজরুল ইসলাম সরকার জানান, আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের জন্য এই দাম লিটার প্রতি ০.১০১৫ ডলার কমিয়ে ১.০৮২৩ মার্কিন ডলার থেকে ০.৯৮০৮ মার্কিন ডলার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নতুন এই মূল্য আজ ৭ জুন, ২০২৬ তারিখ রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে।

বিইআরসি জানায়, গত ২২ মে, ২০২৬ থেকে ৪ জুন, ২০২৬ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে প্লাটস রেটের গড় মূল্য বিবেচনা করে এই দাম নির্ধারন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এবং পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড (পিওসিএল)-এর প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩ এর ৩৪ (৪) এবং ৩৪ (৬) ধারা অনুযায়ী বিইআরসি আজ একটি গণশুনানি করে।

গণশুনানিতে ২২ মে ২০২৬ থেকে ৪ জুন ২০২৬ পর্যন্ত জেট এ-১ ফুয়েলের প্লাটস রেটের বিস্তারিত মূল্যের পাশাপাশি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) নিষ্পত্তিতে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বিবেচনা করে জুনের জন্য এই মূল্য নির্ধারন করেছে বিইআরসি।