৭৩ কোটি টাকায় ফিফা বিশ্বকাপের স্বত্ব কিনছে বিটিভি

ডেস্ক নিউজ : বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) জন্য ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সর্বমাধ্যম (অল মিডিয়া) সম্প্রচারস্বত্ব সরাসরি ফিফা থেকে ক্রয়ের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

রবিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত চলতি বছরের সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২৫তম সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির (ডিপিএম) মাধ্যমে ফিফার কাছ থেকে এই সম্প্রচারস্বত্ব ক্রয়ের অনুমোদন চেয়ে কমিটির কাছে প্রস্তাবটি উপস্থাপন করে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, এ সম্প্রচারস্বত্ব ক্রয়ে মোট চুক্তি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭২ কোটি ৭১ লাখ টাকা।

প্রস্তাবের আওতায়, বিটিভি ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ‘অল মিডিয়া রাইটস’ অর্জন করবে। যার ফলে রাষ্ট্রীয় এই সম্প্রচার মাধ্যমটি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে টুর্নামেন্টের পূর্ণাঙ্গ সম্প্রচার ও অনুষ্ঠান প্রচার করতে পারবে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কমিটি প্রস্তাবটির কারিগরি ও আর্থিক দিকসহ সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে এটি অনুমোদনের সুপারিশ করেছে।

আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা’র সাথে সরাসরি এই ক্রয় প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হবে।

সরকারি সম্প্রচার সেবার মাধ্যমে দেশের মানুষের কাছে আন্তর্জাতিক ক্রীড়ার বড় বড় আসর পৌঁছে দেওয়ার সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলনই এই উদ্যোগ।

প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত হওয়ার পর, দেশব্যাপী ফুটবলপ্রেমীরা বিটিভির মাধ্যমে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সরাসরি সম্প্রচার এবং এর সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবেন।




আবারও এশিয়ার শীর্ষ ধনী গৌতম আদানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতীয় শিল্পপতি গৌতম আদানি আবারও এশিয়ার শীর্ষ ধনীর মর্যাদা ফিরে পেয়েছেন। শুক্রবার (৫ জুন) তার মালিকানাধীন আদানি গোষ্ঠীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম এক লাফে বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পাওয়ায় এই পরিবর্তন এসেছে।

বিশ্বখ্যাত মার্কিন সাময়িকী ফোর্বসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাত্র এক দিনেই গৌতম আদানির সম্পদ প্রায় ২৫০ কোটি ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অভাবনীয় উত্থানের পর আদানির মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৯২০ কোটি মার্কিন ডলার। এর মাধ্যমে তিনি ভারতের আরেক শীর্ষ ব্যবসায়ী মুকেশ আম্বানি এবং জাপানের সফটব্যাংক গোষ্ঠীর প্রধান মাসায়োশি সনকে পেছনে ফেলে ধনীর তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করলেন। বর্তমানে আম্বানির সম্পদের পরিমাণ ৮ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। অন্যদিকে, জাপানের শেয়ারবাজারে হঠাৎ বড় ধরনের পতনের কারণে মাসায়োশি সনের সম্পদ কমে ৮ হাজার ৭০০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে।

ব্যবসায়িক পরিমণ্ডলে গৌতম আদানির এই আধিপত্য বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। আদানির মালিকানাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘আদানি পাওয়ার’ বাংলাদেশে প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ভূমিকা পালন করে আসছে ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যে অবস্থিত আদানির ১৬০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি।

শুক্রবার আদানির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে তাদের পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘আদানি গ্রিন এনার্জি’। এটির শেয়ারের দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ। এ ছাড়া তাদের বিদ্যুৎ সঞ্চালন, মূল প্রতিষ্ঠান, বন্দর পরিচালনা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সব মিলিয়ে আদানির ছয়টি তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত বাজারমূল্য এখন প্রায় ১৯ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত মাসে মার্কিন বিচার বিভাগ আদানির বিরুদ্ধে আনা একটি বড় ধরনের প্রতারণার অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর থেকেই তার ব্যবসায় সুবাতাস বইতে শুরু করে। অভিযোগ প্রত্যাহারের পর থেকে এ পর্যন্ত তার সম্পদ প্রায় ১ হাজার কোটি ডলার বেড়েছে। এর আগে গত বছরের নভেম্বরে তার বিরুদ্ধে ২৫ কোটি ডলারের একটি ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগ আনা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, সৌর বিদ্যুৎ সরবরাহের চুক্তি পেতে ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়া হয়েছে এবং সেই তথ্য গোপন করে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে শুরু থেকেই আদানি ও তার সহযোগীরা এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন।

সূত্র: মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস




বিয়ের সাজে অপু বিশ্বাস, ফেসবুক পোস্ট ঘিরে আলোচনা

বিনোদন ডেস্ক : প্রায়ই ভিন্ন ভিন্ন কারণে আলোচনায় থাকেন ঢাকাই ছবির জনপ্রিয় নায়িকা অপু বিশ্বাস। বিশেষ করে ব্যক্তিজীবন নিয়ে তাকে ঘিরে আলোচনা শেষ নেই। এবার অভিনেত্রীকে নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে তার সর্বশেষ ফেসবুক পোস্ট ঘিরে।

শনিবার সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুকে বিয়ের সাজে কয়েকটি নতুন ছবি প্রকাশ করেন অপু। যার ক্যাপশনে তিনি লিখেন, সৌকর্যই মূলত ব্যক্তিত্বের পরিচয় দেয়। এমন এক আভিজাত্য ধারণ করেছি, যেটা কোনো শব্দ না বলেও অনেক কিছু বলে দেয়।

ছবিগুলোতে তাকে গাঢ় বেগুনি রঙের শাড়িতে দেখা যায়, যেখানে সূক্ষ্ম জরি ও নকশার কাজ রয়েছে। পুরো সাজে গলা, কান ও হাতে মানানসই গয়না যুক্ত করে তাকে অভিজাত ও বিয়ের সাজের আদলে নিজেকে উপস্থাপন করতে দেখা যায়।

তার এই পোস্টে ভক্ত-অনুরাগীদের প্রশংসা যেমন এসেছে, তেমনি দেখা গেছে নানা আলোচনা-সমালোচনাও। অনেকেই তার লুক ও স্টাইলের প্রশংসা করলেও কেউ কেউ সম্প্রতি শাকিব খান ও শবনম বুবলীর সন্তানের প্রসঙ্গ টেনে মন্তব্য করছেন।

এর আগে, শুক্রবার শবনম বুবলী এক ফেসবুক পোস্টে জানান, তার ও শাকিব খানের সংসারে কন্যাসন্তানের জন্ম হয়েছে। তবে এ বিষয়ে শাকিব খানের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে, যেখানে শাকিব খানের সাবেক স্ত্রী অপু বিশ্বাসের প্রসঙ্গও উঠে আসছে। অপুর ব্যক্তিজীবন এবং শাকিব খানের সঙ্গে তার অতীত সম্পর্ক নিয়ে আগে থেকেই দর্শক ও নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে।




এবার বিসিবি সভাপতি নির্বাচিত হলেন তামিম ইকবাল

ক্রীড়া ডেস্ক : সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে জয় পান জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। এবার সভাপতিও নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

অবশ্য সভাপতি নির্বাচনে ভোটের প্রয়োজন পড়েনি। তামিমই একমাত্র সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন। তাই বিসিবির ১৮তম এবং নির্বাচিত ষষ্ঠ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন। সহ-সভাপতি হয়েছেন আপতত একজন। তিনি ফাহিম সিনহা।

রোববার (৭ জুন) মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে সকাল ১০টার দিকে শুরু ভোটগ্রহণ। বিকাল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়। প্রাপ্ত ভোটে ঢাকার ক্লাব থেকে জিতেছেন তামিম ইকবাল, মাসুদুজ্জামান, রফিকুল ইসলাম বাবু, ইয়াসির আব্বাস, ইসরাফিল খসরু, সাঈদ ইব্রাহিম, শাহনিয়ান তানিম, ফাহিম সিনহা, ইয়াসির ফয়সাল, আসিফ রাব্বানি, ডা: মাহবুব শামীম, সাকেফ আহমেদ সালাম।
যেখানে সর্বোচ্চ ৭৩ ভোট পেয়েছেন তামিম ইকবাল। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭২ ভোট পেয়েছেন সাইদ ইব্রাহিম আহমেদ এবং ইশরাফিল খসরু। এরপর মাসুদুজ্জামান ৭০ এবং ফয়সাল ইয়াসির পেয়েছেন ৬৮ ভোট।
ফাহিম সিনহা এবং শানিয়ান তানিম ৬৬টি করে ভোট পেয়েছেন। আসিফ রাব্বানী ৬৪, মির্জা ইয়াসির আব্বাস ৬৩টি ভোট পেয়েছেন। রফিকুল ইসলাম বাবু ৫৩ এবং ড. শামীম ৪১ ভোট পেয়েছেন । ক্লাব ক্যাটাগরিতে মোট ভোট ছিল ৭৬টি। এর মধ্যে ৭৪টি ভোট কাস্ট হয়েছে।



আজ সংসদ খুব কালারফুল দেখাচ্ছে: স্পিকার

ডেস্ক নিউজঃ আজ শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন। শুরুতেই, সংসদ সদস্যবৃন্দদের উদ্দেশে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বলেন, আজ সংসদ খুব কালারফুল দেখাচ্ছে।

স্পিকার আরও বলেন, সংসদ আজ নারী সদস্যদের আগমনে পূর্ণতা পেয়েছে। তাদেরকেও আমি অভিনন্দন জানাই।

এরপরই এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজানকে মোনাজাত পরিচালনার জন্য আহ্বান জানান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন।

উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি, অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে, বিএনপি সরকার গঠনের পর এটিই সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন।

রবিবার (৭ জুন) বিকাল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনে এই অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনে আগামী ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।




আদ্-দ্বীন হাসপাতালে মারা যাওয়া ৬ নবজাতকের পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেবে হাসপাতাল

ডেস্ক নিউজঃ রাজধানীর মগবাজারে বেসরকারি আদ্-দ্বীন হাসপাতালে কর্তৃপক্ষের অবহেলাজনিত কারণে মারা যাওয়া ছয় নবজাতকের পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

রোববার (৭ জুন) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আইনজীবী শিশির মনির এ কথা জানিয়েছেন।

শিশির মনির জানান, ‘প্রত্যেক পরিবারকে ৮০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পূর্বে ঘোষিত অন্যান্য সুযোগ সুবিধাও বহাল থাকবে। পরিবার ও কর্তৃপক্ষের যৌথ আলোচনায় এই ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে।’

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছিলেন, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ওই সময়ে চিকিৎসক না থাকা, নার্স, স্টাফ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলাজনিত কারণ স্পষ্টভাবে প্রমাণিত।

উল্লেখ্য, ঈদের ছুটির মধ্যে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ২৭ মে ভোরে হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে একসঙ্গে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা




ফাঁসির রায় শুনে যা বললেন রামিসার বাবা

ডেস্ক নিউজঃ রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে মাত্র আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর অত্যন্ত নির্মমভাবে গলা কেটে ও খণ্ড-বিখণ্ড করে হত্যার আলোচিত মামলার চূড়ান্ত রায় আজ ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার (৭ জুন) এই ঐতিহাসিক রায়ে আসামি সোহেল রানা এবং স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক মাসরুর সালেকীন।

জানা যায়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডের পাশাপাশি আসামি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অপরদিকে আসামি স্বপ্নাকে দণ্ডের পাশাপাশি দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড ভিকটিম রামিসার আইনগত উত্তরাধিকার পাবে।

ক্ষতিপূরণ না দিলে আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ভুক্তভোগীর মৃত রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এর আগে, কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রথমে আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে আনা হয়। এরপর ৮টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে আনা হয় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে। এসময় তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। রায় ঘোষণার আগে দুজনকেই এজলাসে তোলা হয়। বেলা ১১টার পর রায় পড়া শুরু করেন বিচারক।

এদিকে রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও তৎপর থাকতে দেখা গেছে।

এর আগে, গত ১৯ মে সকালে প্রতিবেশী ভাড়াটিয়ার ফ্ল্যাটের ভেতরে পাশবিক নির্যাতন ও নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিল ছোট্ট রামিসা। এই ঘটনার পর ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে শিশুকে জোরপূর্বক ধর্ষণ, মৃত্যু ঘটানো এবং পরবর্তীতে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে মরদেহ খণ্ড-বিখণ্ড করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। এ সময় তাকে কৌশলে নিজেদের বাসায় ডেকে নেন স্বপ্না। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে সোহেলের দরজার সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে সোহেলের শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বড় বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পান। পরে জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কল পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনা করে রাষ্ট্রপক্ষ ও আদালতের অভাবনীয় তৎপরতায় মাত্র ১৬ দিনের রেকর্ড সময়ের মধ্যে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন, সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা, আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন এবং চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ করে আজ রায়ের দিন ধার্য করা হয়েছে, যা দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও দ্রুততম আইনি মাইলফলক।

গত ২ জুন মামলার দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ট্রাইব্যুনাল চার্জশিটভুক্ত ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের জবানবন্দি ও জেরা অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন করেন। মামলার বাদী ও রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার অশ্রুসিক্ত জবানবন্দির মাধ্যমে এই সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে ভুক্তভোগীর মা পারভীন আক্তার, বড় বোন রাইসা আক্তার (ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে), চাচা, ফুপু, ফুপা, প্রতিবেশী, সুরতহাল প্রস্তুতকারী পুলিশ কর্মকর্তা, ময়নাতদন্তকারী ফরেনসিক চিকিৎসক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে নিজেদের জবানবন্দি দেন, যেখানে আসামিপক্ষের রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী মুসা কলিমউল্লাহ তাদের জেরা করেন। শুনানির সময় একের পর এক সাক্ষীর মুখে পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বিবরণ শুনে পুরো আদালতকক্ষে এক স্তব্ধ, শোক ও ক্ষোভের আবহ তৈরি হয় এবং উপস্থিত আইনজীবীসহ আদালত সংশ্লিষ্ট অনেকেই ডুকরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

আদালতে রামিসার সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী কর্মকর্তা এসআই মো. ইকবাল হোসেনের বিবরণ পুরো এজলাসকে স্তব্ধ করে দেয়। তিনি কান্নাভেজা কণ্ঠে জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি জর্জেটের ওড়না উদ্ধার করা হয়, যা দিয়ে শিশুটির মুখ শক্ত করে বেঁধে পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল। আসামিদের শয়নকক্ষের দরজার সামনে খাটের নিচে মাথা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রামিসার দেহ পড়ে ছিল এবং এক কোণায় রক্তমাখা একটি পানির বালতির ভেতর থেকে তার কাটা মাথাটি উদ্ধার করা হয়। লাশ চিরতরে গুম করার উদ্দেশ্যে নরপশুরা শিশুটির হাত-পা আলাদা করার পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার যৌনাঙ্গও ক্ষতবিশিষ্ট করে।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. নাসাদ জাবিন তার ময়নাতদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করেন, ২০ মে দুপুরে যখন তিনি মরদেহ গ্রহণ করেন, তখন শিশুটির মুখে নখের আঁচড়, দুই ঠোঁট কাটা, নাক ভাঙা এবং বুকের বাঁ পাশে তীব্র আঘাতের চিহ্ন ছিল। মূলত অত্যন্ত ধারালো অস্ত্র বা ছুরি দিয়ে গলা কেটে মাথা বিচ্ছিন্ন করার কারণেই রামিসার তাৎক্ষণিক মৃত্যু হয় এবং ফরেনসিক ও ডিএনএ টেস্টে মৃত্যুর পূর্বে তাকে পাশবিক উপায়ে ধর্ষণের অকাট্য আলামত মিলেছে।

সবশেষে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে মামলার মূল তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান জানান, ঘটনার পর রামিসার মা পারভীন আক্তার প্রতিবেশীদের নিয়ে ওই ফ্ল্যাটের সামনে গিয়ে ‘বোন দরজাটা খুলে দে, তোর কিছু হবে না’ বলে বারবার আকুতি জানালেও ঘরের ভেতর থেকে খুনি দম্পতি দরজা খোলেনি। কারণ, তারা তখন ভেতরে কমন বাথরুমে শিশুটিকে উপর্যুপরি আঘাত করে নিস্তেজ করার পর মৃত ভেবে লাশ গুম ও মাথা কাটার পৈশাচিক খেলায় লিপ্ত ছিল। এমনকি গ্রেপ্তারের আগ মুহূর্তে তারা রক্তাক্ত ঘরের গুরুত্বপূর্ণ সমস্ত আলামত ও আস্তরণ পানি দিয়ে ধুয়ে পুরোপুরি নষ্ট করার চেষ্টা চালিয়েছিল।




গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে এবার আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময়ে ফ্যাসিবাদী শাসন, শোষণ শুধু দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকারী কেড়ে নেয়নি বরং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মতন শিক্ষা ব্যবস্থাকেও প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত করে দিয়েছিল। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে এবার অবশ্যই আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে আমরা ইনশাআল্লাহ অবশ্যই ঘুরে দাঁড়াব।

রবিবার সকালে বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিতব্য ‘কর্মমুখী ও টেকনিক্যাল শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ’ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত ইতিহাসের প্রতিটি মাঠে যেসব সাহসী মানুষ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের অবদানকে সম্মান জানাতে হবে। আর সেজন্য আমাদের একটি জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষায়-দীক্ষায়, জ্ঞান-বিজ্ঞানে ও প্রযুক্তিতে নিজেদের প্রস্তুত রাখতে না পারলে আগামী দিনে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জে টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়বে।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আধুনিক এবং প্রযুক্তি নির্ভর উচ্চশিক্ষা বিস্তারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। কারণ সারা দেশে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজের সংখ্যা ২ হাজারেরও বেশি। এইসব প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে কমবেশি ৪০ লাখের মতন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। ইতোমধ্যে এক কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন পর্যায়ক্রমিকভাবে। উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাপনার সমস্যা সংকট এবং প্রতিবন্ধকতা নিরশন এবং শহর কিংবা গ্রামের যারা উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী তাদের জন্য সুযোগ নিশ্চিত করতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯২ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

তিনি বলেন, বিশ্ব এখন চতুর্থ বিপ্লবের যুগে প্রবেশ করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের অবাধ প্রসার ও ব্যবহার বর্তমানে মানুষের জন্য নানামুখী চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। অটোমেশন এবং এআই চালিত প্রযুক্তির কারণে হয়ত অনেক পুরোনো পেশায় কর্মসংস্থান যেমন ঝুঁকিতে পড়েছেন কিংবা অবলুপ্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে প্রচুর পরিমাণ নতুন নতুন ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগও হয়ত সৃষ্টি হয়েছে।




রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল রানা এবং স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ড

ডেস্ক নিউজঃ রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে মাত্র আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকেধর্ষণের পর অত্যন্ত নির্মমভাবে গলা কেটে ও খণ্ড-বিখণ্ড করে হত্যার আলোচিত মামলার চূড়ান্ত রায় আজ ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার (৭ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক মাসরুর সালেকীন আজ এই ঐতিহাসিক রায়ে আসামি সোহেল রানা এবং স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।

এর আগে, আজ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে আসামিদেরকে আদালতে আনা হয়।

এদিকে সমস্ত ফরেনসিক তথ্য, পারিপার্শ্বিক আলামত এবং আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী এই জঘন্য অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসিই একমাত্র কাম্য বলে দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

গত ১৯ মে সকালে প্রতিবেশী ভাড়াটিয়ার ফ্ল্যাটের ভেতরে পাশবিক নির্যাতন ও নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিল ছোট্ট রামিসা। এই ঘটনার পর ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে শিশুকে জোরপূর্বক ধর্ষণ, মৃত্যু ঘটানো এবং পরবর্তীতে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে মরদেহ খণ্ড-বিখণ্ড করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়।

ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনা করে রাষ্ট্রপক্ষ ও আদালতের অভাবনীয় তৎপরতায় মাত্র ১৬ দিনের রেকর্ড সময়ের মধ্যে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন, সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা, আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন এবং চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ করে আজ রায়ের দিন ধার্য করা হয়েছে, যা দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও দ্রুততম আইনি মাইলফলক।

গত ২ জুন মামলার দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ট্রাইব্যুনাল চার্জশিটভুক্ত ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের জবানবন্দি ও জেরা অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন করেন। মামলার বাদী ও রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার অশ্রুসিক্ত জবানবন্দির মাধ্যমে এই সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে ভিকটিমের মা পারভীন আক্তার, বড় বোন রাইসা আক্তার (ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে), চাচা, ফুপু, ফুপা, প্রতিবেশী, সুরতহাল প্রস্তুতকারী পুলিশ কর্মকর্তা, ময়নাতদন্তকারী ফরেনসিক চিকিৎসক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে নিজেদের জবানবন্দি দেন, যেখানে আসামিপক্ষের রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী মুসা কলিমউল্লাহ তাদের জেরা করেন। শুনানির সময় একের পর এক সাক্ষীর মুখে পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বিবরণ শুনে পুরো আদালতকক্ষে এক স্তব্ধ, শোক ও ক্ষোভের আবহ তৈরি হয় এবং উপস্থিত আইনজীবীসহ আদালত সংশ্লিষ্ট অনেকেই ডুকরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

আদালতে রামিসার সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী কর্মকর্তা এসআই মো. ইকবাল হোসেনের বিবরণ পুরো এজলাসকে স্তব্ধ করে দেয়। তিনি কান্নাভেজা কণ্ঠে জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি জর্জেটের ওড়না উদ্ধার করা হয়, যা দিয়ে শিশুটির মুখ শক্ত করে বেঁধে পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল। আসামিদের শয়নকক্ষের দরজার সামনে খাটের নিচে মাথা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রামিসার দেহ পড়ে ছিল এবং এক কোণায় রক্তমাখা একটি পানির বালতির ভেতর থেকে তার কাটা মাথাটি উদ্ধার করা হয়। লাশ চিরতরে গুম করার উদ্দেশ্যে নরপশুরা শিশুটির হাত-পা আলাদা করার পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার যৌনাঙ্গও ক্ষতবিশিষ্ট করে।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. নাসাদ জাবিন তার ময়নাতদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করেন, ২০ মে দুপুরে যখন তিনি মরদেহ গ্রহণ করেন, তখন শিশুটির মুখে নখের আঁচড়, দুই ঠোঁট কাটা, নাক ভাঙা এবং বুকের বাঁ পাশে তীব্র আঘাতের চিহ্ন ছিল। মূলত অত্যন্ত ধারালো অস্ত্র বা ছুরি দিয়ে গলা কেটে মাথা বিচ্ছিন্ন করার কারণেই রামিসার তাৎক্ষণিক মৃত্যু হয় এবং ফরেনসিক ও ডিএনএ টেস্টে মৃত্যুর পূর্বে তাকে পাশবিক উপায়ে ধর্ষণের অকাট্য আলামত মিলেছে।

সবশেষে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে মামলার মূল তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান জানান, ঘটনার পর রামিসার মা পারভীন আক্তার প্রতিবেশীদের নিয়ে ওই ফ্ল্যাটের সামনে গিয়ে ‘বোন দরজাটা খুলে দে, তোর কিছু হবে না’ বলে বারবার আকুতি জানালেও ঘরের ভেতর থেকে খুনি দম্পতি দরজা খোলেনি। কারণ, তারা তখন ভেতরে কমন বাথরুমে শিশুটিকে উপর্যুপরি আঘাত করে নিস্তেজ করার পর মৃত ভেবে লাশ গুম ও মাথা কাটার পৈশাচিক খেলায় লিপ্ত ছিল। এমনকি গ্রেপ্তারের আগ মুহূর্তে তারা রক্তাক্ত ঘরের গুরুত্বপূর্ণ সমস্ত আলামত ও আস্তরণ পানি দিয়ে ধুয়ে পুরোপুরি নষ্ট করার চেষ্টা চালিয়েছিল।




মিরপুর প্রেসক্লাবে ঈদ পুনর্মিলনী ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে মিরপুর প্রেসক্লাব, ঢাকা। আলোচনা সভায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন, দেশপ্রেম, স্বাধীনতা-পরবর্তী রাষ্ট্র গঠনে তাঁর অবদান এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মিরপুর প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা ও মাতৃ জগত পত্রিকার সম্পাদক খান সেলিম রহমান, মিরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম বদরুল আলম, সিনিয়র সহ-সভাপতি এসএম ইসলাম উকিল, সিনিয়র সহ-সভাপতি রাহাত খান, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান, সাবেক মিরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এম জামান, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, মিরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শিহাব উদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সাইমন, যুগ্ম সম্পাদক মনজুরুল আলম, যুগ্ম সম্পাদক সাংবাদিক সুমন খান, দপ্তর সম্পাদক এমএ গাফফার, অর্থ সম্পাদক জিএস জয়, সহ অর্থ সম্পাদক আব্দুল মালেক, যুগ্ম সম্পাদক রাজু আহমেদ, সহ -সম্পাদক জাকির হোসেন মোল্লা,সহ- সম্পাদক শাহাদাত হোসেন, সহ- সম্পাদক দুলাল হোসেন মিরপুর প্রেসক্লাবের সদস্য আলমগীর হোসেন, দুলাল হোসেন, রিয়া মনি, ডালিয়া আক্তার, মানিক মিয়া-সহ প্রায় ১০০ জন বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

এ সময় মিরপুর প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা ও মাতৃ জগত পত্রিকার সম্পাদক খান সেলিম রহমান বলেন,
“শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক, যিনি দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের জন্য আজীবন কাজ করেছেন। তাঁর আদর্শ ও দেশপ্রেম নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা আমাদের দায়িত্ব। জাতির জন্য তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”

সভাপতির বক্তব্যে মিরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম বদরুল আলম বলেন,
“শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের এক সাহসী প্রতীক। তাঁর আদর্শ, দেশপ্রেম এবং গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকার নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয়। তাঁর আত্মত্যাগ জাতি আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।”

মিরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শিহাব উদ্দিন বলেন,
“শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কেবল একজন রাষ্ট্রনায়ক নন, তিনি ছিলেন জাতীয় ঐক্য ও উন্নয়নের রূপকার। তাঁর রাজনৈতিক দর্শন ও দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা আমাদের অনুপ্রাণিত করে। তাঁর অবদান জাতি চিরকাল স্মরণ রাখবে।”

সিনিয়র সহ-সভাপতি এসএম ইসলাম উকিল তাঁর বক্তব্যে বলেন,
“জিয়াউর রহমানের আদর্শ ছিল দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করা। তিনি বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাঁর জীবনাদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”

সিনিয়র সহ-সভাপতি রাহাত খান বলেন,
“শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম। তাঁর নেতৃত্ব, সাহসিকতা এবং দেশপ্রেম আজও মানুষের হৃদয়ে অম্লান হয়ে আছে। তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাঁর আদর্শ বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।”

যুগ্ম সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সাইমন বলেন,
“বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী সংকটময় সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশকে স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন। তাঁর সততা, দেশপ্রেম ও কর্মনিষ্ঠা সাংবাদিক সমাজসহ সকল পেশাজীবীর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। আমরা তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাঁর আদর্শ ধারণ করে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।”

অনুষ্ঠানের দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন হাফেজ মাওলানা মোঃ রফিকুল ইসলাম। তিনি পবিত্র সূরা ইয়াসিন থেকে তেলাওয়াত করেন এবং মিলাদ মাহফিলের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

দোয়া মাহফিলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। একই সঙ্গে মিরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতির মরহুম মায়ের জন্যও বিশেষ দোয়া করা হয়। মহান আল্লাহ তায়ালা যেন তাঁদের জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন, সে প্রার্থনা করেন উপস্থিত সবাই।

সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত ঈদ পুনর্মিলনী ও দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা ভবিষ্যতেও মিরপুর প্রেসক্লাবকে সাংবাদিকদের ঐক্য ও পেশাগত উন্নয়নের একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।