নেপালে বন্যা-ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত ৯৩ হাজারের বেশি মানুষ: রেড ক্রস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : নেপালে ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৭৯ জন নিহত এবং ৯৭৭ জনের বেশি নিখোঁজ রয়েছেন। শুক্রবার দেশটির দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। এদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বুধবারের ঘটনায় আরও অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এতে দুই দেশের হিসাবে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮৪ জনে। দুই দেশের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সব মিলিয়ে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

বন্যায় অন্তত ৯৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে জরুরি সহায়তার প্রয়োজনের মধ্যে পড়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট ফেডারেশন (আইএফআরসি)।

বুধবার হিমালয়ের নেপালের লাংটাং ন্যাশনাল পার্ক এলাকায় একটি বিশাল হিমবাহের অংশ ভেঙে পড়ে। এতে বিপুল পরিমাণ পানি, কাদা, পাথর ও বরফ নেমে এসে নদী ও উপত্যকায় ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে। এতে একের পর এক গ্রাম, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস হয়ে যায়।

আইএফআরসি জানিয়েছে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক এলাকায় এখনও পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। বন্যার পানির তোড়ে সড়ক ও সেতু ধ্বংস হওয়ায় উদ্ধার কার্যক্রম মূলত হেলিকপ্টারনির্ভর হয়ে পড়েছে। সংস্থাটির নেপাল প্রতিনিধি ডেভিড ফিশার আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধারকাজ শুরু হলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

বন্যার পর উদ্ধার অভিযানও বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সীমান্তের কাছে ভূমিধসের ধ্বংসাবশেষ জমে তৈরি হওয়া একটি হ্রদ উপচে পড়ায় ত্রিশুলি নদীর পানি আবারও বাড়তে শুরু করে। এতে উদ্ধারকর্মীদের সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

নেপালের বিদুর শহরসহ বেশ কিছু এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র ভয়াবহ। বহু বাড়িঘর কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজছেন এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।

জাতিসংঘের নেপাল সমন্বয়কারী লিলা পিটার্স ইয়াহিয়া জানিয়েছেন, বন্যায় ৪০টির বেশি সেতু ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৪০ কিলোমিটারের বেশি সড়ক পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে।

এদিকে ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ নেপালে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে নেপাল সরকার জানিয়েছে, আপাতত তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীই উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে এবং বিদেশি সহায়তার প্রয়োজন নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিমবাহ গলে যাওয়া এবং চরম আবহাওয়ার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় নেপালের মতো পাহাড়ি অঞ্চলগুলো আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকিতে পড়ছে।




বিসিবি সভাপতির সঙ্গে রবিবার বসবেন ক্রিকেটাররা

ক্রীড়া ডেস্ক : বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ভবিষ্যৎ নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন জাতীয় দলের বর্তমান ও সাবেক ক্রিকেটাররা। রবিবার ক্রিকেটারদের সংগঠন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) ব্যানারে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, সাবেক অধিনায়ক মুমিনুল হক, বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম, ডানহাতি পেসার তাসকিন আহমেদ দলের সঙ্গে দেশে ফিরেননি। এই চার ক্রিকেটার অস্ট্রেলিয়ায় পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। সেপ্টেম্বরে প্রথম সপ্তাহে চার ক্রিকেটার পরিবারসহ দেশে ফিরবেন ছুটি কাটিয়ে। বাকি ক্রিকেটাররা গতকাল রাতে ম্যাকেই থেকে ব্রিসবেন ও সিঙ্গাপুর হয়ে ঢাকায় ফিরছেন। টেস্ট শেষ হওয়ার পরপরই টিকিট না পাওয়ায় ক্রিকেটারদের দেশে ফিরতে সময় বেশি লেগেছে। ম্যাকেইয়ে টেস্ট শেষ হয় মাত্র দুইদিনে। বাকি তিনদিন খেলা হয়নি। সে সময় ক্রিকেটাররা ম্যাকেইতে অবস্থান করেন। ঘুরে ফিরে কাটান। সে সময় ফিরতে না পারার কারণ, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ব্রিসবেন ফেরার টিকিট সংগ্রহ করতে পারেনি রাশ থাকায়। পূর্ব নির্ধারিত সূচী অনুযায়ীই গতকাল দেশে ফিরেছেন।

কয়েকদিন আগে বিসিবি সভাপতি তামিম আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমের বিপিএল আয়োজনের পরিকল্পনা নেই। দেশের সবচেয়ে জমজমাট ও আর্থিক সংগতির টুর্নামেন্ট বিপিএল। রবিবার বিসিবি সভাপতির সঙ্গে কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিথুনসহ জাতীয় দলের সাবেক ও বর্তমান জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা বসবেন।

চরম ব্যাটিং ব্যর্থতায় মাত্র দুদিনে ম্যাকেই টেস্ট হেরে যায় বাংলাদেশ। নিজেদের ২৬ বছরে ১৬১ টেস্ট ইতিহাসে এই প্রথম দুইদিনে টেস্ট হেরেছে টাইগাররা। দ্রুততম সময়ে টেস্ট হেরে যাওয়ায় বিশ্রামও পান  তিনদিন। নাজমুল হোসেন শান্তের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ২০০৩ সালের পর টেস্ট খেলতে অস্ট্রেলিয়া সফর করে। সফরে ডারউইন ও ম্যাকেইয়ে টেস্ট খেলেছেন নাজমুলরা। দীর্ঘ ২৩ বছর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলে বাজিমাত করেন টাইগাররা। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দাপুটে ক্রিকেট খেলে চারদিনে টেস্ট জেতে ৯ উইকেটে। ডারউইনে অবিশ্বাস্য ক্রিকেট খেলে সেঞ্চুরি করেন তানজিদ তামিম। ৯ উইকেট নেন হাসান মাহমুদ। ম্যাকেইয়ে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়ে দুদিনেই হেরে যায় টেস্ট। প্রথম ইনিংসে ৬৪ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৯৫ রান করে নাজমুল বাহিনী। হারলেও বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে সেরা বোলিং করেন শরিফুল। ৭ উইকেট নেন। দেশের বাইরে কোনো বোলারের এটাই সেরা বোলিং স্পেল।

ভালো-মন্দ মেশানো সিরিজ খেলে ক্রিকেটাররা এখন ঢাকায়। সেপ্টেম্বরে ভারতের বিপক্ষে ঘরের মাটিতে ৩টি করে ওয়ানডে ও টি-২০ ম্যাচ খেলার কথা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু সিরিজটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত না হলেও পিছিয়ে গেছে। সিরিজটি অবশ্য একেবারেই ভেস্তে যায়নি। আগামি জানুয়ারিতে হওয়ার একটা সম্ভাবনা রয়েছে। সিরিজ আয়োজনের জন্য সে সময় স্ক্যাজুয়াল খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে বিসিবি। সিরিজটির প্রথম স্ক্যাজুয়াল ছিল ২০২৫ সালের আগস্টে। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতায় সিরিজটি সে সময় না হয়ে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে নির্ধারিত হয়। কিন্তু এবারও হচ্ছে না। এ সময় ভারত সিরিজ খেলবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে। বিসিবিও চেষ্টা করছে ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যস্ত রাখতে। অক্টোবরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটি টেস্ট ও ৩টি ওয়ানডে খেলার কথা ছিল আফগানিস্তানের। জিম্বাবুয়ে সহ একটি ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে আফগান ক্রিকেট বোর্ড। সিরিজ শেষে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট খেলবে আফগানিস্তান।

বেশ অনেকদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল, চলতি বছর বিপিএল আয়োজন করতে চাইছেন না বিসিবি। কেননা বিসিবির বর্তমান কমিটি জানিয়েছে, বিপিএলের গত দুই আসরে ৪০ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। সেজন্যই বিপিএল আয়োজন করবে না। বিপিএল অনুষ্ঠিত না হলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পরবেন ক্রিকেটাররা। বিপিএলের পরিবর্তে বিসিবি অন্য কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা করবে কি না, এসব নিয়েই বিসিবি সভাপতির সঙ্গে বৈঠক করবেন কোয়াব সভাপতি ও অন্য সদস্যরা।




৩৫ কোটি টাকার অভিযোগ: জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলে আব্দুল আউয়ালের ‘রাম-রাজত্ব’ নিয়ে তোলপাড়

​নিজস্ব প্রতিবেদক : জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে (ডিপিএইচই) যেন নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করেই ক্ষমতার একচ্ছত্র বলয় গড়ে উঠেছে—এমন অভিযোগ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। আর সেই বলয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল আউয়াল। গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইয়ের প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য থাকার অভিযোগ সত্ত্বেও অস্বাভাবিক দ্রুততায় অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো তার দখলে যাওয়ার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে।

​অভিযোগ রয়েছে, নিজ পদের অতিরিক্ত হিসেবে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্বে থাকা আব্দুল আউয়াল মাত্র দুই মাসেরও কম সময়ে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব এবং একই সঙ্গে প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব বাগিয়ে নেন। ফলে অধিদপ্তরের শীর্ষ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে একই কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন নজিরবিহীন না হলেও অত্যন্ত অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো—তার বিরুদ্ধে গোয়েন্দা সংস্থার নেতিবাচক প্রতিবেদন থাকার অভিযোগ।

​এনএসআইয়ের প্রতিবেদনে গুরুতর তথ্য, তবুও ‘পুরস্কার’ !
​সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা—এনএসআইয়ের একটি প্রতিবেদনে আব্দুল আউয়ালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির গুরুতর তথ্য উঠে আসে। এমন প্রতিবেদন থাকার পর স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় তার দায়িত্ব পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠার কথা থাকলেও বাস্তবে ঘটেছে উল্টো।
​অভিযোগকারীদের দাবি, ওই প্রতিবেদনের বিষয়টি কার্যত পাশ কাটিয়ে সিনিয়র কর্মকর্তাদের ডিঙিয়ে আব্দুল আউয়ালকে দেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব। এরপর অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনি পান প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্বও।

​এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন—গোয়েন্দা প্রতিবেদনে যদি সত্যিই গুরুতর অভিযোগ থেকে থাকে, তাহলে সেই অভিযোগের নিষ্পত্তি না করেই তাকে কেন অধিদপ্তরের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দায়িত্ব দেওয়া হলো?

​’৩৫ কোটি টাকার খেলা’—দায়িত্ব পেতে বিপুল অর্থ লেনদেন ?
​আব্দুল আউয়ালকে ঘিরে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি হলো প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব বাগিয়ে নিতে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা লেনদেনের দাবি।
​অভিযোগ রয়েছে, কথিত এই বিপুল অর্থের মধ্যে ৫ কোটি টাকা সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদীকে এবং অবশিষ্ট অর্থ উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার কাছে পৌঁছেছে।

​তবে এই অর্থ লেনদেনের অভিযোগের স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে এসেছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। ফলে অভিযোগটির সত্যতা যাচাই করতে আর্থিক লেনদেন, ব্যাংক হিসাব, সম্পদ বিবরণী, কল রেকর্ড, দায়িত্ব প্রদানের নথি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ফাইল পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
​সিনিয়রদের টপকে এত দ্রুত উত্থান কীভাবে ?

​সরকারি প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণত জ্যেষ্ঠতা, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক প্রয়োজন বিবেচনা করা হয়। অথচ আব্দুল আউয়ালের ক্ষেত্রে অল্প সময়ের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী থেকে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এবং সেখান থেকে প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব পাওয়ার ঘটনায় সেই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

​সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার প্রশ্ন, একই কর্মকর্তাকে কেন একের পর এক শীর্ষ দায়িত্ব দেওয়া হলো? আরও বড় প্রশ্ন—তার চেয়ে জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা কি এই দায়িত্ব পাওয়ার যোগ্য ছিলেন না?

​সাবেক ছাত্রলীগ পরিচয় কি প্রভাবের কারণ ?
​আব্দুল আউয়ালের বিরুদ্ধে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের মাধ্যমে তিনি প্রশাসনের ভেতরে নিজের অবস্থান শক্ত করেন।
​তবে শুধু কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে অতীত সম্পৃক্ততা দুর্নীতির প্রমাণ নয়। তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সত্য কি না, তা নির্ধারণের জন্য প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত ও নথিভিত্তিক যাচাই।

​’রাম-রাজত্বে’ অধিদপ্তরের স্বাভাবিক প্রশাসন প্রশ্নের মুখে?
​একজন কর্মকর্তার হাতে একই সময়ে অধিদপ্তরের একাধিক শীর্ষ দায়িত্ব কেন্দ্রীভূত হওয়ায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রশাসনিক ভারসাম্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, যেখানে একটি দায়িত্ব পাওয়াই অনেক কর্মকর্তার জন্য দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার বিষয়, সেখানে একজন কর্মকর্তা অল্প সময়ের মধ্যে শীর্ষ তিনটি পদে দায়িত্ব পেলেন কীভাবে—এ প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন।

​বিশেষ করে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের অভিযোগ এবং কথিত ৩৫ কোটি টাকা লেনদেনের বিষয়টি সামনে আসায় পুরো প্রক্রিয়াটি এখন তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।

​তদন্ত হলেই বেরিয়ে আসতে পারে আসল রহস্য :
​আব্দুল আউয়ালের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিছক গুঞ্জন, নাকি এর পেছনে রয়েছে শক্ত প্রমাণ—তা বের করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। এ ক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে কথিত এনএসআই প্রতিবেদন, দায়িত্ব প্রদানের সব সরকারি আদেশ, জ্যেষ্ঠতা তালিকা, প্রশাসনিক নথি এবং কথিত ৩৫ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ খতিয়ে দেখা জরুরি। ​একই সঙ্গে সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী ও উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার কাছে অর্থ পৌঁছানোর অভিযোগেরও স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া—দুই ক্ষেত্রেই স্বচ্ছ তদন্ত অপরিহার্য।

​কারণ প্রশ্নটি শুধু একজন কর্মকর্তার পদায়ন নিয়ে নয়; প্রশ্নটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, সরকারি অর্থের সুরক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিয়ে। ​এখন দেখার বিষয়, গোয়েন্দা প্রতিবেদনের অভিযোগ কি সত্যিই ধামাচাপা পড়বে, নাকি ৩৫ কোটি টাকার কথিত লেনদেনের রহস্য উন্মোচনে শুরু হবে নিরপেক্ষ তদন্ত?




মিরপুর-১০-এ আন্দোলন প্রতিহতের তৎপরতায় এষার সম্পৃক্ততার অভিযোগ, আটকের গুঞ্জনও অধরা

db5c6406 e73e 42ee a960 e98788491c32নিজস্ব প্রতিবেদক : ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সেই উত্তাল সময়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা, আন্দোলন প্রতিহত করার অপ- তৎপরতা এবং সহিংসতার অভিযোগে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের বহু নেতা-কর্মীর নাম সামনে এসেছে। এবার সেই তালিকায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় নেত্রী আকলিমা আক্তার এষার নাম।

অভিযোগ উঠেছে, ২০২৪ সালের আন্দোলনের উত্তাল সময়ে রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সক্রিয় অবস্থান নিয়েছিলেন এষা। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, তৎকালীন ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বাপ্পির সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থেকে আন্দোলন প্রতিহত করার বিভিন্ন তৎপরতায় তিনি যুক্ত ছিলেন।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এ পর্যন্ত এষার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো প্রকাশ্য তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলো সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মিরপুর-১০-এ কী ঘটেছিল ?

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় মিরপুর-১০ এবং আশপাশের এলাকায় ছাত্র-জনতার কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কয়েক দফা উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা এবং আন্দোলন প্রতিহত করার অভিযোগে স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা-কর্মীর নামের পাশাপাশি এষার নামও উঠে আসে।স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, ৫  আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় তৎকালীন কাউন্সিলর বাপ্পির সঙ্গে থেকে এষা আন্দোলনবিরোধী তৎপরতায় অংশ নিয়েছিলেন। তবে অভিযোগকারীরা এখনো প্রকাশ্যে এমন পর্যাপ্ত নথি, ছবি, ভিডিও বা যাচাই করা প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারেননি, যার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট কোনো ঘটনায় এষার সরাসরি ভূমিকা নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠা করা যায়। এ কারণেই প্রশ্ন উঠছে—অভিযোগ যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে সেই সময়কার ভিডিও ফুটেজ, মোবাইল ফোনের তথ্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নথি পরীক্ষা করে প্রকৃত সত্য বের করা হচ্ছে কি না।6c7f8e1f 99cc 4a91 90d3 6a7723d1b6d8

কাউন্সিলর বাপ্পির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ৷ :

একটি বিশেষ সূত্রের দাবি, এষা ও তৎকালীন কাউন্সিলর বাপ্পি একই এলাকায় কাছাকাছি বাড়িতে বসবাস করতেন। এ কারণে তাদের মধ্যে আগে থেকেই যোগাযোগ ও রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা ছিল বলে দাবি সূত্রটির। স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও তাদের একসঙ্গে সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে। আর আন্দোলনের উত্তাল সময়েও এই রাজনৈতিক যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে আন্দোলনবিরোধী তৎপরতায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এষার বিরুদ্ধে।তবে এই দাবিগুলোর স্বাধীন যাচাই এখনো প্রয়োজন।

বিশেষ করে ২০২৪ সালের আগস্টের প্রথম সপ্তাহে মিরপুর-১০ এলাকায় তাদের অবস্থান, যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে প্রত্যক্ষদর্শী, ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণ যাচাই করলেই অভিযোগের প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে পারে।

04fee054 2234 4630 8c71 1eb28386bc71

ছাত্রলীগ থেকে যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আকলিমা আক্তার এষা একসময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতির দায়িত্ব পান। এরপর যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পান তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিচিতি এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতৃত্বে অবস্থানের কারণে ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় তার ভূমিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে রাজনৈতিক পরিচয় কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ নয়; অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করতে হবে তথ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।

91c96e57 ac78 46e2 abdf 9db2550dd7db

আটক হওয়ার গুঞ্জন, কিন্তু নিশ্চিত নয়:

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের আন্দোলনকেন্দ্রিক হামলা ও সহিংসতার অভিযোগে মামলা, গ্রেপ্তার ও তদন্তের খবর সামনে এসেছে।

এই প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি আকলিমা আক্তার এষা আটক হয়েছেন—এমন গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এখন পর্যন্ত সেই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে এষা বর্তমানে কোথায় রয়েছেন, দেশে নাকি দেশের বাইরে এবং তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা, তদন্ত কিংবা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।

প্রশ্ন উঠছে তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে:

স্থানীয়দের একাংশের প্রশ্ন, ২০২৪ সালের আন্দোলনে হামলা ও সহিংসতার অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে উঠেছে, তাদের প্রত্যেকের ভূমিকা কি একই মানদণ্ডে তদন্ত করা হচ্ছে? বিশেষ করে রাজনৈতিকভাবে পরিচিত এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে তদন্তের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা হচ্ছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এষার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সত্য হলে তার ভূমিকা কী ছিল, কার নির্দেশে বা কার সঙ্গে সমন্বয় করে তিনি মাঠে ছিলেন কি না, কোনো হামলা বা সহিংসতার সঙ্গে তার প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর বের করতে হলে নিরপেক্ষ তদন্তের বিকল্প নেই।

b8526b00 637c 4022 bd45 adbbfec99da0অন্যদিকে অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকলে সেটিও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। কারণ রাজনৈতিক পরিচয় বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুঞ্জনের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যেমন অনুচিত, তেমনি গুরুতর অভিযোগ থাকলে রাজনৈতিক প্রভাব বা পরিচয়ের কারণে তদন্ত এড়িয়ে যাওয়াও গ্রহণযোগ্য নয়।

এই রিপোর্ট প্রকাশ পর্যন্ত আকলিমা আক্তার এষা, সাবেক কাউন্সিলর বাপ্পি এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে। এখন মূল প্রশ্ন একটাই—মিরপুর-১০-এর সেই উত্তাল দিনগুলোতে এষার প্রকৃত ভূমিকা কী ছিল? অভিযোগ, নাকি প্রমাণযোগ্য সম্পৃক্ততা? উত্তর মিলবে কেবল নিরপেক্ষ তদন্তেই।




এশিয়া কাপে আট ধারাভাষ্যকারের পাঁচজনই নারী, আছেন এক বাংলাদেশি

ক্রীড়া ডেস্ক : পর্দা উঠছে নারী এশিয়া কাপের দশম আসরের। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) উদ্বোধনী ম্যাচে রাত সাড়ে ৮টায় মুখোমুখি হবে থাইল্যান্ড ও হংকং। এই মহাদেশীয় টি-টোয়েন্টি লড়াইয়ে নামছে বাংলাদেশসহ ৮টি দেশ।

এবারের এশিয়া কাপে ধারাভাষ্য দেবেন ৮ জন। তাদের মধ্যে আছেন এক বাংলাদেশিও। মাজহার উদ্দিন অমি এবারের নারী এশিয়া কাপে ধারাভাষ্যকার হিসেবে কাজ করবেন।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি) অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে নারী এশিয়া কাপের আট ধারাভাষ্যকারের নাম প্রকাশ করেছে। ক্যাপশনে এসিসি লিখেছে, ‘এশিয়ার সবচেয়ে বড় নারী ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ধারাভাষ্য আপনাদের কাছে পৌঁছে দেবেন যেসব কণ্ঠ। পরিচিত হয়ে নিন ২০২৬ নারী এশিয়া কাপের ধারাভাষ্য প্যানেলের সঙ্গে।’

আট ধারাভাষ্যকারের পাঁচজনই নারী। তিন পুরুষের একজন বাংলাদেশের অমি। অপর দুই পুরুষ ধারাভাষ্যকার হলেন পারভেজ মাহরুফ এবং আহমেদ রাজা।

বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ভিত্তিক ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) পরিচিত মুখ অমি। ঘরের মাঠে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সিরিজেও শোনা যায় তার কণ্ঠ। এবার তিনি নারী এশিয়া কাপের ধারাভাষ্য প্যানেলে জায়গা করে নিয়েছেন।

এবারের নারী এশিয়া কাপের সবগুলো ম্যাচই হবে দুবাইয়ে। ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। ৩১ আগস্ট ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করবেন জ্যোতিরা। ৬ ও ৮ সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। শিরোপা নির্ধারণী ফাইনাল হবে ১৩ সেপ্টেম্বর।




২৫ সেকেন্ডই ১৬ রাউন্ড গুলি, জিম থেকে বের হতেই গায়ককে হত্যা

বিনোদন ডেস্ক : ভারতের উত্তর প্রদেশের শামলিতে জিম থেকে বের হওয়ার পর প্রকাশ্য রাস্তায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে হরিয়ানভি গায়ক ও ইউটিউবার অঙ্কিত বালিয়ানকে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

৩৫ বছর বয়সী অঙ্কিত গত বুধবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে শামলির একটি জিম থেকে বের হন। তার হাতে ছিল জিমের কিট ব্যাগ। এরপর নিজের গাড়ির দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় চার অস্ত্রধারী তাকে অনুসরণ করতে শুরু করে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গাড়ির কাছে পৌঁছানোর আগেই অঙ্কিতকে লক্ষ্য করে হামলাকারীরা গুলি চালাতে শুরু করে। প্রায় ২৫ সেকেন্ড ধরে তাকে লক্ষ্য করে একের পর এক গুলি ছোড়া হয়। হামলাকারীদের একজনের হাতে বন্দুক ছিল।

গুলির শব্দে মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। পথচারী ও স্থানীয় দোকানিরা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দ্রুত সরে যান। কেউ কেউ দোকানের ভেতর থেকে পরিস্থিতি দেখার চেষ্টা করলেও গুলির শব্দ চলতে থাকায় তারাও আড়ালে চলে যান।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা মোট ১৬টি গুলি ছুড়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি গুলি আতঙ্ক ছড়াতে শূন্যে ছোড়া হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার পর হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অঙ্কিত বালিয়ান হরিয়ানভি গান ও ইউটিউব কনটেন্টের জন্য পরিচিত ছিলেন।




শেরপুরে ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ, পলাতক কারবারিরা

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগে একটি চক্রকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, চক্রটি ঘোড়া জবাই করে সেই মাংস গরুর মাংস হিসেবে বাজারে বিক্রি করে আসছিল।

খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ঘোড়ার মাংসের আলামত জব্দ করেছে পুলিশ। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত একটার দিকে উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের পশ্চিম ভালুকা এলাকার ফরহাদের বাড়ির পেছনে ফুলহারি নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, ফুলহারি এলাকায় একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা দীর্ঘদিন ধরে খোঁজখবর রাখছিলেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তারা ওই এলাকায় তিনটি জবাই করা ঘোড়ার মাংস এবং আরও তিনটি জীবিত ঘোড়া বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান। পরে মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে কারবারিরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে ঝিনাইগাতী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাংসের নমুনাসহ প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করে।

ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘তথ্য পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে ঘোড়ার মাংসের আলামত পাওয়া গেছে এবং নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে বাঁধা অবস্থায় কোনো ঘোড়া দেখতে পাইনি। আমাদের পৌঁছানোর আগেই কারবারিরা পালিয়ে গেছেন। তবে এই চক্রের কজনকে চিহ্নিত করা গেছে।’

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ভূঁঞা বলেন, ‘বিষয়টি অধিকতর তদন্ত করে জড়িত কারবারিদের শনাক্ত করা হবে। তাদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম চলমান থাকবে।’

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা কারা এবং ঘোড়ার মাংস কোথায় বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত ২৩ আগস্ট শেরপুরের পার্শ্ববর্তী জামালপুর জেলার নুরুন্দিতে ৯৫০ কেজি ঘোড়ার মাংস সহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।

স্থানীয় একটি সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর এবং জামালপুর জেলায় বিভিন্ন স্থানে বাহারি নামে বিরানি হাউসের হোটেল রয়েছে। এসব হোটেলে অন্য সব হোটেলের চেয়ে অনেক কম দামে মাংসের বিরানি বিক্রি করা হয়। এসব দোকানে কম মূল্যে ঘোড়ার মাংস দিয়ে বিরানি রান্না করা হয় বলে স্থানীয় সচেতন মহল ধারণা করছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের সুষ্ঠু তদন্ত ও জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছেন শেরপুরবাসি।




সংস্কার শেষে খুলে দেওয়া হলো কামরাঙ্গীরচর লোহার সেতু

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নিজস্ব অর্থায়ন এবং তত্ত্বাবধানে ২৫ দিনের মধ্যে সংস্কার কাজ শেষে কামরাঙ্গীরচর লোহার সেতু চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম সেতুটির উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

এ সময় তিনি বলেন, নগরবাসীর যাতায়াত সুগম ও নিরাপদ করতে সিটি করপোরেশন বদ্ধপরিকর। নিজস্ব অর্থায়নে রেকর্ড সময়ের মধ্যে এই কাজ সম্পন্ন করা তারই একটি প্রমাণ। তিনি আরও বলেন, কামরাঙ্গীরচরের ঐতিহ্যবাহী এই সেতুটির ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে আট লেন প্রকল্প সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে সেতুটি কেবল পথচারীদের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

​১৪৫ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৪.২ মিটার প্রস্থ বিশিষ্ট এই গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি সংস্কারের ফলে কামরাঙ্গীরচর এলাকায় বসবাসকারী প্রায় ৫০ লাখ নাগরিক সরাসরি উপকৃত হবেন। প্রতিদিন প্রায় ৭০ হাজার মানুষ যাতায়াতের কাজে এই সেতুটি ব্যবহার করেন। দ্রুততম সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে জরাজীর্ণ সেতুটির সংস্কার করায় স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের যাতায়াতে দুর্ভোগ দূর হওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান। এছাড়াও ডিএসসিসির অঞ্চল-৩ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।




সেনাবাহিনী মুষ্টিযুদ্ধ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মুষ্টিযুদ্ধ প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সদর দপ্তর ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে যশোর সেনানিবাসে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

শুক্রবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাইনুর রহমান উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

এই প্রতিযোগিতায় ২৪ পদাতিক ডিভিশন চ্যাম্পিয়ন এবং ৬৬ পদাতিক ডিভিশন রানার আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। প্রতিযোগিতায় ল্যান্স কর্পোরাল মো. হোসেন আলী, ১৯ পদাতিক ডিভিশন শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় এবং এনসি(ই) শান্ত সাহেব, ৫৫ পদাতিক ডিভিশন শ্রেষ্ঠ নবীন খেলোয়াড় হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন।

উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট হতে শুরু হওয়া এই মুষ্টিযুদ্ধ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন অঞ্চলের মোট ১৪টি দল অংশগ্রহণ করে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, ৫৫ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, যশোর এরিয়া, সেনাসদর ও যশোর এরিয়ার ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাগণ, খেলোয়াড়বৃন্দ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সেনাসদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগ দেয়া সম্পর্কে যে বার্তা দিল পাকিস্তান

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নতুন সদস্যের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার রাজধানী ইসলামাবাদে  দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দোরাবি। তিনি বলেন, এই চুক্তিতে নতুন কোনো রাষ্ট্রকে অন্তর্ভুক্ত করার আগে রিয়াদ এবং আঙ্কারার সঙ্গে বিস্তারিত পরামর্শ করা হবে। এসময় বাংলাদেশ প্রসঙ্গও তোলেন উপস্থিত সাংবাদিকরা।

চলতি মাসের শুরুর দিকে সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে ঐতিহাসিক ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’ সংক্ষেপে এমজেডিএ স্বাক্ষরিত হয়। আঞ্চলিক ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তিটি সম্পন্ন হয়। গত ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করার পাশাপাশি তেলের বাজারকে ঊর্ধ্বমুখী করে তুলেছে। এই উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটেই চুক্তিটি যৌথ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এই চুক্তির একটি প্রধান শর্ত হলো—চুক্তিবদ্ধ তিনটি দেশের কোনো একটির ওপর আক্রমণ হলে তা বাকি দুই দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ আরব নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন যে, এই চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে ঢাকা এখনও কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে যে আলোচনা চলমান রয়েছে, তা তিনি স্বীকার করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বাংলাদেশ বিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মুখপাত্র তাহির আন্দোরাবি বলেন, একটি পরিবর্তনশীল ও ক্রমবিকাশমান নিরাপত্তা কাঠামো হিসেবে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি এমন সব দেশের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে, যারা যৌথ দায়বদ্ধতা এবং সাধারণ নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষায় নিজেদের প্রতিশ্রুতি বজায় রাখতে আগ্রহী। তিনি আরও জানান যে, এই চুক্তিতে যোগদানের জন্য কোনো দেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ আসলে তা রিয়াদ ও আঙ্কারায় থাকা সহযোগীদের সঙ্গে পরামর্শ করেই বিবেচনা করা হবে। তবে তিনি এটাও উল্লেখ করেন যে, এই চুক্তির সার্বিক কার্যক্রম ও বাস্তবায়ন এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

এই সামরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিকে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এটি অঞ্চলের প্রধান তিনটি সামরিক শক্তিকে এক সুতোয় গেঁথেছে। পাকিস্তান বর্তমানে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম সক্রিয় সামরিক বাহিনীর অধিকারী এবং মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। অন্যদিকে সৌদি আরবের রয়েছে বিশাল অর্থনৈতিক সামর্থ্য, কৌশলগত আঞ্চলিক প্রভাব এবং আধুনিক প্রতিরক্ষা অবকাঠামো। এর পাশাপাশি তুরস্ক সামরিক জোট ন্যাটোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, যাদের রয়েছে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ও উন্নত প্রতিরক্ষা শিল্প।

 

সূত্র: আরব নিউজ