রামিসা হত্যা মামলার রায় ঘিরে আদালত প্রাঙ্গণে কড়া নিরাপত্তা জোরদার

ডেস্ক নিউজঃ রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগর আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে এ মামলার রায় ঘোষণার কথা রয়েছে। আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায়কে কেন্দ্র করে আদালতপাড়ায় সকাল থেকেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

এদিন রায় ঘোষণা উপলক্ষে সকালেই মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকার আদালতে আনা হয়েছে। বর্তমানে তাদের আদালতের মহানগর হাজতখানায় রাখা হয়েছে।




চিম্বুলুই সীমান্তে অসুস্থ বিজিবি সদস্যকে হেলিকপ্টারে চট্টগ্রাম সিএমএইচে স্থানান্তর

ডেস্ক নিউজ : রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম চিম্বুলুই সীমান্তে দায়িত্ব পালনকালে অসুস্থ হয়ে পড়া এক বিজিবি সদস্যকে হেলিকপ্টারে চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়েছে।

বাঘাইহাট ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (৫৪ বিজিবি) লে. কর্ণেল মো. মহিউদ্দিন ফারুকী প্রেরিত এক বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, শনিবার দুপুর ১টার দিকে বাঘাইহাট ব্যাটালিয়ন (৫৪ বিজিবি)-এর হাবিলদার মো. এলাহান মিয়া (৪৯) কান্তালং বিওপি থেকে লিংক টহলে অংশ নিয়ে চিম্বুলুই বিওপির নিকটবর্তী এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ তার বাম হাত ও বাম পায়ে তীব্র ব্যথা ও অবশভাব দেখা দেয়।

তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাটালিয়নের মেডিকেল অফিসার তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। তবে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ঢাকার পিলখানাস্থ বিজিবি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের মতে, তার মধ্যে ‘লেফট-সাইডেড হেমিপেরেসিস’ (Left-sided Hemiparesis) জনিত উপসর্গ দেখা দেওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে তাকে চট্টগ্রাম সিএমএইচে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এরপর বিজিবির অপারেশন ও চিকিৎসা শাখার সমন্বয়ে দ্রুত একটি হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়। দুপুর ২টা ৩৬ মিনিটে হেলিকপ্টারটি চিম্বুলুই বিওপি থেকে উড্ডয়ন করে তাকে চট্টগ্রাম সিএমএইচে নিয়ে যায়।

বর্তমানে হাবিলদার মো. এলাহান মিয়া চট্টগ্রাম সিএমএইচে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিজিবি জানায়, দায়িত্ব পালনকালে কোনো সদস্য অসুস্থ বা আহত হলে তার জীবনরক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বাহিনী সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। দুর্গম সীমান্ত এলাকাতেও সদস্যদের দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে আধুনিক চিকিৎসা সহায়তা ও জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে অসুস্থ বিজিবি সদস্যকে সেনাবাহিনী পরিচালিত চট্টগ্রাম সিএমএইচে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।




খরা-বন্যা-সংঘাতে ঘরছাড়া সোমালিয়ার লাখো মানুষ, তীব্র খাদ্যসংকট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সোমালিয়ায় খরা, আকস্মিক বন্যা, সংঘাত ও আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ার ফলে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। দেশটির ৬৫ লাখের বেশি মানুষ এখন তীব্র খাদ্যসংকটের মুখে। এটা মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। অনেক পরিবার জীবন বাঁচাতে ঘরবাড়ি ছেড়ে রাজধানী মোগাদিশুর আশ্রয়শিবিরে এলেও সেখানে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের চক্র থেকে মুক্তি পাচ্ছে না।

দেশটির মধ্যাঞ্চলের বুরহাকাবা এলাকার বাসিন্দা জয়নাব ইব্রাহিম টানা তিন বছর খরা দেখেছেন। বৃষ্টি না হওয়ায় জমি শুকিয়ে যায়, ফসল নষ্ট হয়, আর পানি ফুরিয়ে যায়। তার গ্রামে ক্ষুধা ও রোগ ছড়িয়ে পড়ে। এতে তার ১০ সন্তানের মধ্যে চারজন মারা যায়। তিনি বলেন, জীবন বাঁচাতে আমরা সবরকম চেষ্টা করেছি—শুকনো ঘাস বিক্রি করেছি, মাটি খুঁড়ে পানি তুলেছি। কিন্তু কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত সন্তানদের বাঁচাতে পালিয়েই আসতে হয়েছে। এখন তিনি মোগাদিশুর কাহদা এলাকার একটি শিবিরে ছয় সন্তান নিয়ে ছোট্ট একটি অস্থায়ী ঘরে থাকেন।

এমন পরিস্থিতির শিকার ৭৭ বছর বয়সী আদান রোবলেও। দীর্ঘ খরায় তার জমির ফসল নষ্ট হয়ে যায়। এরপর গত মাসে প্রবল বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যা হলে তার গ্রাম ভেসে যায়। ওই সময় এলাকাজুড়ে সরকারি বাহিনী ও আল-শাবাবের যুদ্ধ চলছিল, মাথার ওপরে ঘুরছিল ড্রোন।

তিনি বলেন, সবকিছু হারিয়ে খাবার ও পরিষ্কার পানি ছাড়া বেঁচে থাকা, আর চারদিক থেকে যুদ্ধ—এই বাস্তবতা খুব ভয়ংকর। নিরাপত্তাহীনতা ও সাহায্যের অভাবে তাকেও গ্রাম ছেড়ে পালাতে হয়। এখন মোগাদিশুতে ১০ লাখেরও বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ অস্বাস্থ্যকর ও ভিড়াভিড়ি পরিবেশে বসবাস করছে। সেখানে পানি, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবার পর্যাপ্ত সুযোগ নেই।

সবচেয়ে বড় সংকটে পড়েছে শিশুরা। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ১৯ লাখ শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে। অর্থের অভাবে প্রায় ৫০০ পুষ্টিকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে অনেক শিশু চিকিৎসা পাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস জানিয়েছে, গত তিন মাসে কিসমায়ো হাসপাতালের বিশেষ বিভাগে ৭০০-এর বেশি শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে, যার মধ্যে ১০ জন মারা গেছে।

এই সংকট আরও খারাপ হয়েছে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ার কারণে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের ফলে হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে জ্বালানি, খাদ্য ও পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। এটা পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা প্রধান টম ফ্লেচার সম্প্রতি বলেন, জলবায়ু সংকট, সংঘাত আর বন্যা-খরা একসঙ্গে পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলেছে। অর্থের অভাবে সাহায্য সংস্থাগুলোও ঠিকমতো কাজ করতে পারছে না। সব মিলিয়ে সোমালিয়া এখন গভীর এক সংকটের মধ্যে রয়েছে, যেখানে মানুষ শুধু বেঁচে থাকার জন্যই প্রতিদিন সংগ্রাম করছে।




সাফের হ্যাটট্রিক শিরোপা জেতা হলো না বাংলাদেশের

ক্রীড়া ডেস্ক :  সাফ উইমেনস চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতের কাছে ৩-১ গোলে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ নারী দল। এতে সাফের হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের স্বপ্ন পূরণ হলো না ঋতুপর্ণাদের।

শনিবার গোয়ার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে ফাইনালে স্বাগতিক ভারতকে পরাজিত করে টানা তৃতীয়বার সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপার স্বপ্ন দেখেছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর সত্যি হলো না। ভারতের কাছে ৩-১ গোলে হেরে গেছেন মারিয়া-ঋতুপর্ণারা। এ নিয়ে সাফে ষষ্ঠবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত।

এর আগে ২০২২ ও ২০২৪ সালে শিরোপা জিতে নিজেদের শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

গ্রুপ পর্বের সেই নিষ্প্রভ চেহারার বদলে আজ এক লড়াকু বাংলাদেশকে দেখা গেছে। ১২ ও ১৪ মিনিটে তহুরার গোল করার দারুণ সুযোগ মিস করা এবং ৪১ মিনিটে অল্পের জন্য বল পোস্টের বাইরে চলে যাওয়া এই মুহূর্তগুলো ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।

সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচের চালকের আসনে থাকতো বাংলাদেশই।

ম্যাচের ৪২ মিনিটে খেলার ধারার বিপরীতে ভারতের পেয়ারি সাসা গোল করে দলকে লিড এনে দেন। তবে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে তহুরার নিখুঁত পাসে ঋতুপর্ণা চাকমার গোলটি ছিল বাংলাদেশের জন্য প্রাণসঞ্চারী। ১-১ সমতায় থেকে বিরতিতে যাওয়ার সময় বাংলাদেশের ফুটবলারদের চোখেমুখে ছিল ট্রফি জয়ের দৃঢ়তা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ছন্দপতন ঘটে। খেলা শুরুর মাত্র এক মিনিটের মাথায় ভারতের সানফিদার হেডে বল জালে জড়ালে ফের পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। গোল শোধে মরিয়া হয়ে ৫১ মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়রের হেড অল্পের জন্য ক্রসবার উঁচিয়ে বাইরে চলে যায়। এরপর ভারতের রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় এবং গোলরক্ষকের বীরত্বে আরও কয়েকবার গোলবঞ্চিত হয় বাংলাদেশ।

ম্যাচের ৮১ মিনিটে রক্ষণভাগের ভুলে লিন্ডাকমের গোলটি কার্যত বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক শিরোপার কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেয়। শেষ দিকে সাগরিকা ব্যবধান কমানোর প্রাণান্তকর চেষ্টা করেও সফল হননি।

শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথে মাঠে একরাশ বিষণ্নতা নিয়ে লুটিয়ে পড়েন বাংলাদেশের মেয়েরা।




রাতের মধ্যে ১৮ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস

আবহাওয়া ডেস্কঃ দেশের ১৮ অঞ্চলের ওপর দিয়ে রাতের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এসব অঞ্চলের নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে সংস্থাটি।

শনিবার (৬ মে) আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুকের দেওয়া অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরসমূহের পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়, আজ রাত ১টার মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলসমূহের ওপর দিয়ে পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিমি বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে সকালের পূর্বাভাসে আবহাওয়া অফিস জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

সেইসঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে এবং সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।




নতুন সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন বসছে রবিবার

ডেস্ক নিউজঃ আগামীকাল রবিবার (৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন বা বাজেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বিকেল ৩টায় এ অধিবেশন শুরু হবে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন।

জাতীয় সংসদ সচিবালয় এ তথ্য জানিয়েছে। এটি নতুন সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন।

এর আগে গত ৭ মে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সংসদ সচিবালয়।

সংসদ সচিবালয় জানায়, রাষ্ট্রপতির এই আদেশ জারির পর সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে অধিবেশনটি যথাযথভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি ঢাকার শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে এই অধিবেশন শুরু হবে। মূলত এই অধিবেশনেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পেশ ও পাস করার কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

এদিকে, বাজেট অধিবেশন ঘিরে নিরাপত্তায় শনিবার থেকে (৬ জুন) রাজধানীর বেশকিছু এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহনসহ সব ধরনের শোভাযাত্রা-বিক্ষোভ ও মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।




প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে যৌথ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ-তুরস্কের

ডেস্ক নিউজঃ সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে যৌথ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ও তুরস্ক।

শনিবার দুপুরে তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে এ যৌথ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এ কথা জানিয়েছে।

প্রেস উইং জানায়, বৈঠকে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে প্রতি বছর দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এছাড়াও, এ বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উৎপাদন এবং রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

প্রেস উইং জানায়, বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়েছেন।

পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখা এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ায় তুরস্ক সরকারকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রী হাকান ফিদানের সাক্ষাতের সময়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য-গত বৃহস্পতিবার রাতে তিন দিনের বাংলাদেশ সফরে সিউল থেকে ঢাকায় আসেন হাকান ফাদান। গতকাল শুক্রবার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন তিনি। এরপরে রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি দেখতে কক্সবাজার যান এবং রাতে তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন।




২৪ ঘণ্টায় ৮টি পুশইন প্রতিহত, সীমান্তে কঠোর অবস্থানে বিজিবি

ডেস্ক নিউজঃ দেশের বিভিন্ন সীমান্তে গত ২৪ ঘণ্টায় বিএসএফের মাধ্যমে অবৈধ পুশইনের আটটি পৃথক অপচেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার পরিপন্থী কোনো পুশইন গ্রহণযোগ্য নয় এবং সীমান্ত নিরাপত্তায় তারা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।

শনিবার (৬ জুন) সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, ঝিনাইদহের মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) যাদবপুর সীমান্তে তিনজন ব্যক্তি ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে টহলদল শূন্যরেখায় অবস্থান নিয়ে বাধা দেয়। পরে তারা ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরে যায়।

নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) করমুডাঙ্গা সীমান্তে ১৭ জনকে বাংলাদেশে ঢোকানোর চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধ করা হয়। তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) বড়খাতা ও পঁয়ষট্টিবাড়ী সীমান্তে ২১ জনকে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ করে বিজিবি।

লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের (১৫ বিজিবি) দিঘলটারী সীমান্তে সাতজন এবং দুর্গাপুর সীমান্তে আরও চারজনকে পুশইনের চেষ্টা রুখে দেওয়া হয়। বর্তমানে ওই ব্যক্তিরা ভারতীয় ভূখণ্ডের কাঁটাতারবিহীন চর এলাকায় অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছে বিজিবি।

নীলফামারী ব্যাটালিয়নের (৫৬ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ পঞ্চগড়ের বড়বাড়ী প্রধানপাড়া সীমান্তে ১০ জনকে কাঁটাতারের বাইরে এনে রাখা হয়। এ ঘটনায় কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক হয়। বৈঠকে বিএসএফ তাদের বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করলেও কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি বলে বিজিবি জানিয়েছে।

এদিকে নেত্রকোনা ব্যাটালিয়নের (৩১ বিজিবি) কচুগড়া সীমান্তের বিপরীতে ভারতের আসামের মহাদেব থানার বলিশী গিতারাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আগে জড়ো করে রাখা ১৬-১৭ জনকে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে সেখান থেকে সরিয়ে বিএসএফের চিকনী ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিজিবি নজরদারি জোরদার রেখেছে।

বিজিবি জানিয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত সুরক্ষায় তারা দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে এবং অবৈধভাবে কাউকে সীমান্ত অতিক্রম করতে দেওয়া হবে না।




হাম উপসর্গে পাঁচ শিশুর মৃত্যু

ডেস্ক নিউজঃ সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে মোট পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৫১৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার ১৬৮ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৫ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৭৬ হাজার ৮৭৬ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ২৪৩ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ৫ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা নয় হাজার ৫০৩ জন।

১৫ মার্চ থেকে ৫ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬২ হাজার ২৮৭ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫৮ হাজার ১৫৪ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ৫ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৫১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কেউ মারা যায়নি এবং ১৫ মার্চ থেকে ৫ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে।




দীর্ঘ ১১ বছরের অপেক্ষা, পে-স্কেল নিয়ে বড় দুঃসংবাদ

ডেস্ক নিউজঃ দীর্ঘ ১১ বছর ধরে নতুন বেতন কাঠামোর অপেক্ষায় থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আশা-নিরাশার দোলাচল আরও তীব্র হয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে নবম পে-স্কেল কার্যকরের প্রত্যাশা থাকলেও সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আগামী ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের মধ্য দিয়েই এই অনিশ্চয়তার অবসান হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নতুন পে-স্কেল নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যেসব তথ্য সামনে এসেছে, তার সবই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে। কোনো মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা কিংবা পে-কমিশনের কোনো সদস্য এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেননি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও একই ধরনের অস্পষ্টতা ছিল, যা বর্তমানেও অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে চাকরিজীবীদের মনে প্রশ্ন উঠছে, ১ জুলাই থেকে আদৌ পে-স্কেল কার্যকর হবে কি না এবং হলেও তা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আবদুল মালেক বলেন, ‘মনের ভেতরে একটা ভয় থেকেই যাচ্ছে যে সরকার তো কিছুই বলেনি। আনুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রতি মুহূর্তে ব্রিফিং-বিবৃতি দেওয়া হলেও আসন্ন পে-স্কেল নিয়ে আজ পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট ঘোষণা আমরা পাইনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘অর্থ মন্ত্রণালয় বা অর্থ-সচিবের পক্ষ থেকেও কোনো বক্তব্য আসেনি। যার কারণে কর্মচারীদের মধ্যে এই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে যে আসলেই কি পে-স্কেল হচ্ছে?’

আবদুল মালেক মনে করিয়ে দেন, কর্মচারীরা দীর্ঘ ১১ বছর ধরে নতুন পে-স্কেলের অপেক্ষায় রয়েছেন এবং নির্বাচনী ইশতেহারেও প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় এলে পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন। আগামী ১১ জুন সরকারের প্রথম বাজেট উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে, যার আকার প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। চাকরিজীবীদের প্রত্যাশা, এই বাজেটে তাদের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হবে।

নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও ‘ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের’ খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। গত ৩১ মে সংগঠনের আহ্বায়ক আবদুল মালেক ও সদস্য-সচিব আশিকুল ইসলামের পাঠানো যৌথ বিবৃতিতে প্রথম ধাপেই শতভাগ মূল বেতন কার্যকরের দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১১ বছরে সরকারি কর্মচারীদের বেতনে কোনো মৌলিক পরিবর্তন না এলেও জীবনযাত্রার ব্যয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ফলে অনেক নিম্নপদস্থ কর্মচারী জীবিকার তাগিদে চাকরির পাশাপাশি অতিরিক্ত খণ্ডকালীন কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিন ধাপে তিন বছরে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তবে সংগঠনের নেতারা বলছেন, অতীতে পে-স্কেল কার্যকরের আগে ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হতো এবং প্রথম ধাপে শতভাগ মূল বেতন ও দ্বিতীয় ধাপে অন্যান্য ভাতা চালু করা হতো। এবারও সেই পদ্ধতি অনুসরণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

দায়িত্বশীল সরকারি সূত্রের আভাস অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে তিনটি অর্থবছর লাগতে পারে। খসড়া পরিকল্পনা অনুসারে, আগামী ১ জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন মূল বেতনের ৫০ শতাংশ সুবিধা পেতে পারেন। পরবর্তী অর্থবছরে বাকি ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হবে। আর ২০২৮-২৯ অর্থবছরে নতুন পে-স্কেলের আওতাধীন বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা ধাপে ধাপে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের এই ধীরগতির বাস্তবায়ন পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করেই মূলত কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

এই জল্পনার অবসান ঘটতে পারে আগামী সপ্তাহেই। রাষ্ট্রপতির আহ্বানে আগামী ৭ জুন বিকেল ৩টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হচ্ছে। এরপর ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট সংসদে উপস্থাপন করবেন। সেদিনের বাজেটেই স্পষ্ট হবে— সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের প্রকৃত অবস্থান কী এবং বিদ্যমান শঙ্কা কতটা কাটবে, নাকি আরও বাড়বে।