নরওয়ের রাজা হ্যারাল্ড মারা গেছেন

নরওয়ের রাজা পঞ্চম হ্যারাল্ড মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাজপ্রাসাদ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, অসলো ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

এরপর রাজপ্রাসাদের ছাদে থাকা রাজকীয় পতাকা অর্ধনমিত করা হয়েছে।

খবরে বলা হয়, বিরল রক্তজনিত রোগ ‘হিমোলাইটিক অ্যানিমিয়ায়’ আক্রান্ত হয়ে গত সপ্তাহে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

মৃত্যুর আগের ২৪ ঘণ্টায় রাজপরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে তাকে শেষবারের মতো দেখেন। একই সময়ে প্রাসাদের সামনে ভিড় করেন সাধারণ মানুষ—ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানান তারা। হিমোলাইটিক অ্যানিমিয়া এমন একটি রোগ, যেখানে শরীরে লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা কমে যায়, ফলে ক্লান্তি ও শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দেয়।

হ্যারাল্ড ছিলেন নরওয়ের প্রথম রাজা, যিনি ১৪শ শতাব্দীর পর নিজ দেশে জন্মগ্রহণ করেন। তার মৃত্যুর পর ৫৩ বছর বয়সী ছেলে ক্রাউন প্রিন্স হাকন আনুষ্ঠানিকভাবে সিংহাসনের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। শুক্রবারই সরকারের সঙ্গে একটি বিশেষ কাউন্সিল অব স্টেট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

৩৫ বছরের শাসনামলে রাজা হ্যারাল্ডকে আধুনিক ও সংস্কারমুখী এক জনপ্রিয় শাসক হিসেবে স্মরণ করা হবে। তিনি রাজপরিবারের প্রথা ভেঙে একজন সাধারণ পরিবারের নারীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং দেশের সংকটময় মুহূর্তগুলোতে ঐক্যের প্রতীক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, শ্রদ্ধাভাজন এবং জনগণের গভীর ভালোবাসার মানুষ—যাকে অনেকেই দেশের “দাদার মতো অভিভাবক” এবং “জনতার রাজা” হিসেবে আখ্যা দিতেন। এই উপাধি তার পিতা রাজা ওলাভ পঞ্চমের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হতো।

২০১১ সালে ওসলো ও উতোইয়া দ্বীপে ভয়াবহ বোমা ও বন্দুক হামলার পর তিনি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, “ভয়কে কখনো জয়ী হতে দেবেন না।”

সূত্র: বিবিসি




নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানে নিহত বেড়ে ৪৭৫

নেপাল আকস্মিক বন্যা এবং প্রলয়ংকরী ভূমিধসে নিহত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭৫ জনে। এ ঘটনায় এখনও হাজারও মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

শুক্রবার নেপালি গণমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবারের ভয়াবহ ভোটেকোশী নদীর বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭৫ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বেঁচে থাকা ব্যক্তি এবং মৃতদেহের সন্ধানে উদ্ধারকারী দলগুলো পুরো নদীপ্রবাহ ও নিম্নাঞ্চলে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এখনও হাজারও মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

উল্লেখ্য-বুধবার সকালে উত্তর নেপালের রসুয়া এবং আশেপাশের জেলাগুলোতে এই বন্যা আঘাত হানে। ফলে ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীতে তীব্র বেগে পানি এবং ধ্বংসাবশেষের স্রোত নেমে আসে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘরবাড়ি, সেতু, সড়কসহ অন্যান্য অবকাঠামো ভেসে গেছে এবং কিছু অঞ্চলের স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও পর্যটকরা দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।

বিভিন্ন জেলা থেকে হতাহত ও নিখোঁজের প্রতিবেদন একত্রিত করার কাজ কর্তৃপক্ষ চালিয়ে যাওয়ায় এই দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনও অস্পষ্ট।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক পর্যটক ও ট্র্যাকার রয়েছেন। নেপাল পর্যটন বোর্ড বৃহস্পতিবার রাতে জানায়, বন্যা উপদ্রুত এলাকায় ১২৭ জন নেপালিসহ মোট ৬৬৭ জন পর্যটক ও ভ্রমণকারী এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

নিখোঁজ ভ্রমণকারীদের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের কাজ করছে দেশটির পর্যটন বোর্ড, সংস্কৃতি, পর্যটন ও বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়, ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং পর্যটন খাতের অন্যান্য সংস্থা।

এছাড়া অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতায় তাঁরা ট্রাভেল এজেন্সি, ট্র্যাকিং কোম্পানি, গাইড, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন।

অনুসন্ধান, উদ্ধার ও উচ্ছেদ অভিযানের জন্য নেপালি সেনাবাহিনী, নেপাল পুলিশ এবং আর্মড পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে পৌঁছাতে এবং বেঁচে যাওয়া মানুষদের সরিয়ে নিতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে, আর ভূমিতে থাকা দলগুলো নদীর তীর ও নিম্নাঞ্চলের লোকালয়গুলোতে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।

এই বন্যা অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অন্যান্য অবকাঠামোর মারাত্মক ক্ষতি করেছে, যা উপদ্রুত সম্প্রদায়গুলোর কাছে পৌঁছানোর প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলেছে।

হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই ধ্বংসাত্মক প্লাবনের কারণ এখনও তদন্তাধীন। হিমালয়ের পাদদেশে কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই এই বন্যা আঘাত হানে এবং ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদী প্রণালীর মধ্য দিয়ে দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা মানুষজন নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার খুব একটা সময় পাননি।

সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট




নেপালের ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : নেপালের রাসুয়া জেলা ভয়াবহ হড়পা বান ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দেশটির পুলিশ সর্বশেষ এ তথ্য জানিয়েছে। বন্যার পর বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা কাদার নিচ থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে নেপাল পুলিশ ৩৫৯ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছিল। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই মৃতের সংখ্যা আরও ৩০ জন বেড়েছে। উদ্ধারকাজ চলতে থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আকস্মিক বন্যার সময় যারা ঘটনাস্থলে ছিলেন, তাদের অনেকেই প্রবল স্রোতের সঙ্গে আসা কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়েছেন। ফলে উদ্ধারকারীদের এখন কাদার স্তর সরিয়ে মরদেহ উদ্ধার করতে হচ্ছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজও শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি নতুন করে বন্যা দেখা দিলে ঝুঁকিতে পড়তে পারেন এমন বাসিন্দাদেরও নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

বুধবার সকালে হঠাৎ করে রাসুয়া জেলার দিকে ভয়াবহ ঢল নেমে আসে। ত্রিশূলি ও নারায়নি নদীর পানি দ্রুত বেড়ে যায়। একই সঙ্গে ভোটেকোশি নদীর পানিও বিপৎসীমার কাছাকাছি চলে যায়। পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির সঙ্গে যুক্ত হয় ভূমিধসের কাদা ও পাথর। এতে মুহূর্তেই ভয়াবহ রূপ নেয় পরিস্থিতি।

প্রবল স্রোতে রাস্তার পাশের ঘরবাড়ি, সেতু, গাছপালা ও বৈদ্যুতিক খুঁটিসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ভেসে যায়। অনেক এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং উদ্ধারকাজও কঠিন হয়ে উঠেছে।

এই দুর্যোগে নেপালের পাশাপাশি চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে অন্তত ৩০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। এর আগে চীন তিব্বতে তিনজনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল।

উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ফলে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।




যুক্তরাজ্যের তিন বিমানবন্দরে সাইবার হামলা, ৮৭ লাখ গ্রাহকের তথ্য চুরি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাজ্যের তিনটি প্রধান বিমানবন্দরে বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ৮৭ লাখ গ্রাহকের তথ্য হ্যাকারদের হাতে চলে গেছে। চুরি করা তথ্য ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে মুক্তিপণও দাবি করেছে সাইবার অপরাধীরা।

আক্রান্ত বিমানবন্দরগুলো হলো- ম্যানচেস্টার, ইস্ট মিডল্যান্ডস ও লন্ডন স্ট্যানস্টেড। তিনটিই ম্যানচেস্টার এয়ারপোর্টস গ্রুপ (এমএজি)-এর মালিকানাধীন।

এমএজি জানিয়েছে, সপ্তাহান্তে সংঘটিত এই সাইবার হামলায় গ্রাহকদের যোগাযোগের তথ্য, গাড়ির নিবন্ধন নম্বর এবং পোস্টকোডসহ বিভিন্ন তথ্য হ্যাকাররা হাতিয়ে নিয়েছে। তবে যাত্রীদের ব্যাংক বা অর্থ পরিশোধসংক্রান্ত কোনও তথ্য আক্রান্ত সিস্টেমে সংরক্ষিত ছিল না।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির কাছে এমএজি জানিয়েছে, হ্যাকাররা চুরি করা তথ্য ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে মুক্তিপণ দাবি করেছিল। প্রতিষ্ঠানটি সেই অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে কত অর্থ মুক্তিপণ হিসেবে দাবি করা হয়েছিল, তা প্রকাশ করা হয়নি।

৮৭ লাখ গ্রাহকের তথ্য হ্যাকারদের হাতে
এমএজির তথ্যানুযায়ী, মোট প্রায় ৮৭ লাখ গ্রাহকের তথ্য হ্যাকাররা অ্যাক্সেস করতে সক্ষম হয়েছে। তবে চুরি হওয়া তথ্যের বড় অংশই ছিল গ্রাহকদের ই-মেইল ঠিকানা।

বিমানবন্দরগুলোর টার্মিনালে বিনামূল্যের বা অন-সাইট ওয়াই-ফাই ব্যবহারের জন্য যারা নিবন্ধন করেছিলেন, মূলত তাদের ই-মেইল ঠিকানাই হ্যাকারদের হাতে গেছে।

তবে আরও কিছু তুলনামূলক বিস্তারিত তথ্যও চুরি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গাড়ির নিবন্ধন নম্বর ও পোস্টকোড। বিমানবন্দরের কার পার্কিং বুকিং, লাউঞ্জে প্রবেশের ব্যবস্থা এবং ফাস্ট-ট্র্যাক সেবা গ্রহণের সময় গ্রাহকেরা যেসব তথ্য দিয়েছিলেন, সেখান থেকে এসব তথ্য নেওয়া হয়েছে।

যাত্রী নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েনি
এমএজি জোর দিয়ে জানিয়েছে, সাইবার হামলার কারণে কোনও পর্যায়েই যাত্রীদের নিরাপত্তা কিংবা বিমান চলাচলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়নি।

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, যে সিস্টেমে হামলা হয়েছে, সেখানে গ্রাহকদের ব্যাংকিং বা পেমেন্ট-সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষিত ছিল না। ফলে চুরি হওয়া তথ্যের মধ্যে ক্রেডিট কার্ড, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা সরাসরি অর্থ লেনদেনের তথ্য থাকার আশঙ্কা নেই।

এক বিবৃতিতে এমএজি বলেছে, গ্রাহকদের তথ্যের নিরাপত্তাকে তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখে। এ ঘটনায় যাত্রীদের যে উদ্বেগ বা অসুবিধা তৈরি হয়েছে, তার জন্য প্রতিষ্ঠানটি দুঃখ প্রকাশ করেছে।

মঙ্গলবার হামলার বিষয়টি জানতে পারে কর্তৃপক্ষ
এমএজি জানিয়েছে, তারা মঙ্গলবার সাইবার হামলার বিষয়টি জানতে পারে। এরপর দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে হ্যাকারদের সিস্টেমে আরও প্রবেশের সুযোগ বন্ধ করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, হামলার ঝুঁকি শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। গ্রাহক ও নিজেদের সিস্টেমকে সুরক্ষিত রাখতে বিশেষজ্ঞ পরামর্শকদের সহায়তা নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদেরও বিষয়টি জানানো হয়েছে।

এমএজি আরও জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সরকারি ও আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে হামলার বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে এবং তাদের সঙ্গে তদন্তে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

পরিচয় জানা গেছে হ্যাকারদের
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাইবার হামলার পেছনে থাকা হ্যাকারদের পরিচয় তাদের জানা আছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে।

তবে হ্যাকাররা কারা, তাদের সঙ্গে কোনও নির্দিষ্ট সাইবার অপরাধী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না কিংবা কীভাবে তারা বিমানবন্দরগুলোর সিস্টেমে প্রবেশ করেছিল—এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

হামলার পর এমএজি গ্রাহকদের বিশেষ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে সন্দেহজনক ই-মেইল, খুদে বার্তা বা ফোনকল সম্পর্কে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

‘ফিশিং’ হামলার আশঙ্কায় সতর্কতা
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ই-মেইল ঠিকানা, পোস্টকোড বা গাড়ির নিবন্ধন নম্বরের মতো তথ্য চুরি হলে সেগুলো ব্যবহার করে গ্রাহকদের লক্ষ্য করে প্রতারণামূলক বার্তা বা ফোনকল চালানো হতে পারে।

এ কারণে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের অপরিচিত ব্যক্তির পাঠানো ই-মেইল বা বার্তার সংযুক্তি না খুলতে এবং সন্দেহজনক কোনও লিংকে ক্লিক না করতে পরামর্শ দিয়েছে।

বিশেষ করে বিমানবন্দর-সংক্রান্ত বুকিং, পার্কিং, লাউঞ্জ বা অন্য কোনও সেবা নিয়ে ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে প্রতারকরা ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে, প্রায় ৮৭ লাখ গ্রাহকের তথ্য অ্যাক্সেস হওয়ার ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। হামলার সম্পূর্ণ ধরন, চুরি হওয়া তথ্যের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা তদন্ত শেষ হওয়ার পর আরও স্পষ্ট হবে।

সূত্র: বিবিসি




চলন্ত ট্রেনের ছাদে দৌড়াদৌড়ির চরম পরিণতি

ডেস্ক নিউজ : ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে চলন্ত ট্রেনের ছাদে দৌড়াদৌড়ির চরম পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে ১২ বছরের দুই শিশুকে। এর মধ্যে ছাদ থেকে পড়ে জাহিদুল (১২) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে।

এ ঘটনায় অপর শিশু মো. সাজেদুল শেখ গুরুতর আহত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার চতুল ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনে ভাটিয়াপাড়া থেকে ছেড়ে আসা রাজবাড়ীগামী ভাটিয়াপাড়া এক্সপ্রেসে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত জাহিদুল উপজেলার ময়না ইউনিয়নের ইছাখালী গ্রামের মিল্টন শেখের ছেলে। আহত সাজেদুল শেখও একই গ্রামের কাইয়ুম শেখের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভাটিয়াপাড়া এক্সপ্রেসের ছাদে উঠে দুই শিশু দৌড়াদৌড়ি করছিল। চতুল উচ্চ বিদ্যালয়ের কাছে রেললাইনের পাশের একটি কাঁঠালগাছের ডালের সঙ্গে তাদের ধাক্কা লাগে। এতে দুজনই ট্রেনের ছাদ থেকে ছিটকে পড়ে যায়। জাহিদুল ট্রেনের চাকায় কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় সাজেদুলকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তমাল কৃষ্ণ রায় জানান, সাজেদুলকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশনমাস্টার রয়েল আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত শিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বোয়ালমারী থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনাটি রেলওয়ে পুলিশের এখতিয়ারাধীন। লাশ উদ্ধারের পর রাজবাড়ী রেলওয়ে থানাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারা পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

রাজবাড়ী রেলওয়ে থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান ছুটিতে থাকায় বলেন, বিষয়টি ভাঙ্গা রেলওয়ে পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারা ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ভারতের ড্রতে লাভবান হলো বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক : কলম্বো টেস্ট জয়ের স্বপ্নে বিভোর ছিল ভারত। তবে সেই স্বপ্ন ধূলিস্বাৎ করেছেন লঙ্কান ব্যাটার সোনাল দিনুশা। তার জোড়া সেঞ্চুরিতে জয়বঞ্চিত হয়েছে ভারত। ড্র করে মাঠ ছেড়েছে দুই দল। এতে লাভবান হয়েছে বাংলাদেশ।

কলম্বো টেস্ট ড্রয়ের ফলে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে বাংলাদেশের পেছনেই অবস্থান করছে ভারত। সেই সঙ্গে তাদের ফাইনালে উঠার সম্ভাবনা কমে গেছে অনেকাংশে।

চলমান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এখন পর্যন্ত ১১টি ম্যাচ খেলে পাঁচটি জয়ের বিপরীতে পাঁচটিতে হেরেছে ভারত। আর একটি ম্যাচ হয়েছে ড্র। ফলে ৫১.৫২ শতাংশ জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের পাঁচ নম্বরে অবস্থান করছে তারা।

ভারতের ঠিক উপরেই অবস্থান বাংলাদেশের। এখন পর্যন্ত ৬টি ম্যাচ খেলে তিনটিতে জিতেছে টাইগাররা। হেরেছে দুটি, একটি ড্র। বাংলাদেশের জয়ের হার ৫৫.৫৬ শতাংশ।

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে সবার উপরে অবস্থান অস্ট্রেলিয়ার। তারা গত দুই আসরের ফাইনালিস্ট। দুই নম্বরে আছে আরেক ফাইনালিস্ট ও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকা। এই দুই দলের আবারও ফাইনাল খেলার সম্ভাবনা সবচেয় বেশি। টেবিলের তিন নম্বরে আছে নিউজিল্যান্ড।

আর চারে বাংলাদেশ, পাঁচে ভারত। ছয় নম্বরে অবস্থান শ্রীলঙ্কার। সাতে আছে ইংল্যান্ড। এই সাত দলেরই ফাইনালে উঠার সম্ভাবনা রয়েছে। বাকি দুই দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তান ফাইনালে উঠার দৌড় থেকে ছিটকে গেছে।

এদিকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কলম্বো টেস্টে ড্র করার পর ভারতের ফাইনালে যাওয়া রাস্তাটা আরেকটু কঠিন হয়েছে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে আটটি টেস্ট বাকি রয়েছে ভারতের। এর মধ্যে কমপক্ষে সাতটি কিংবা আটটি ম্যাচ জিততে পারলেই কেবল ফাইনালে উঠতে পারবে তারা। ছয়টি ম্যাচ জিতলে তাদের জয়ের হার হবে ৬১.১১ শতাংশ। আর বাকি দুটো ম্যাচ ড্র করলে তাদের জয়ের হার হবে প্রায় ৬৫। সেক্ষেত্রেও ফাইনালে উঠার সম্ভাবনা থাকবে তাদের।




নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে জয়ে ফিরল বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক : হ্যাটট্রিক জয়ের পর বাংলাদেশ হাইপারফরম্যান্সের (এইচপি) জয়রথ থামিয়ে দিয়েছিল অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স একাডেমি। গত পরশু এইচপি হেরেছিল ২১ রানে। ডারউইনে আজ নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলকে হারিয়ে জয়ে ফিরল ইরফান শুক্কুরের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ।

টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজের সবগুলো ম্যাচই বাংলাদেশ এইচপি খেলছে ডারউইনে। ২২ থেকে ২৫ আগস্ট টানা চার দিন নেপাল, হোবার্ট হারিকেন্স একাডেমি, ভিক্টোরিয়া সিএ এবং অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স একাডেমির বিপক্ষে খেলেছে এইচপি। যার মধ্যে শুধু অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স একাডেমির কাছেই হেরেছে বাংলাদেশ এইচপি। এক দিন বিরতি দিয়ে নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলকে ২৪ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ।

১৮২ রানের লক্ষ্যে নেমে বিধ্বংসী শুরু করেন নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের দুই ওপেনার ক্যাটেনে ক্লার্ক ও ম্যাক্স চু। ২.৪ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৩০ রান করে দলটি। তৃতীয় ওভারের পঞ্চম বলে ক্লার্ককে ফেরান রিপন মন্ডল। ১০ বলে ১ চার ও ২ ছক্কায় ক্লার্ক করেন ২৪ রান।

তিন নম্বরে নামা ম্যাথু বয়েল আরেক ওপেনার চুর সঙ্গে ৫৪ রানের জুটি গড়েন। বয়েলকে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলে জুটি ভাঙেন রাকিবুল হাসান। ২২ বলে ৪ চারে ৩১ রান করেন বয়েল। তৃতীয় উইকেটে চু ও বেভান জ্যাকবস জুটি গড়লেও সেখানে হয়েছে ৩০ রান। ১৩তম ওভারের প্রথম বলে জ্যাকবসকে (৩১) বোল্ড করে জুটি ভাঙেন রাকিবুল।

জ্যাকবস ফিরতেই নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের ইনিংসে ভাঙন শুরু। একই সঙ্গে রান তোলার গতিও কমতে থাকে। ১২.১ ওভারে ৩ উইকেটে ১১৪ রান থেকে ১৯ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫২ রানে পরিণত হয় তারা। শেষ ওভারে মাত্র ৬ রান যোগ করতে পারে দলটি। ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫৮ রানে থেমে যায় নিউজিল্যান্ড ‘এ’। ইনিংস সর্বোচ্চ ৪৪ রান করেন চু। বাংলাদেশের রিপন, রাকিবুল তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন। একটি করে উইকেট পেয়েছেন মোহাম্মদ রুবেল ও আবদুল গাফফার সাকলাইন।

এর আগে টস হেরে আগে ব্যাটিং পেয়ে এইচপি ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৮১ রান করেছে। ইনিংস সর্বোচ্চ ৭১ রান করেন আরিফুল ইসলাম। ৪৮ বলের ইনিংসে মেরেছেন ৭ চার ও ২ ছক্কা। তবে বাংলাদেশের স্কোর ১৮০ পেরিয়েছে পাঁচ নম্বরে নামা সাব্বির রহমানের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে। ৩৬ বলে ৬ চার ও ২ ছক্কায় ৬২ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন তিনি। নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের ম্যাথু ফিশার নিয়েছেন ২ উইকেট। একটি করে উইকেট পেয়েছেন জেইডেন লেনক্স, আদিত্য অশোক ও জশ ক্লার্কসন।




তারাকান্দায় প্রবাসীর স্ত্রীকে পিটিয়ে আহত, স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের অভিযোগ ‘মামলা করলে খুন করে লাশ গুম’ করার হুমকি—থানায় অভিযোগ

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের তারাকান্দায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে বসতঘরের সামনে ডেকে নিয়ে মারধর, স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মোছাঃ রুমা খানম (৩০) তারাকান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, রুমা খানমের স্বামী মোতাহার হোসেন আকন্দ গত আট বছর ধরে মালয়েশিয়ায় প্রবাসী। গ্রামের বাড়িতে তিনি তার নয় বছর বয়সী ছেলে মোঃ আব্দুর রহিম আকন্দ ও চার বছর বয়সী মেয়ে দবিরস আক্তারকে নিয়ে বসবাস করেন। স্বামী প্রবাসে থাকায় তিনি অনেকটাই লোকবলহীন অবস্থায় থাকেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৫ আগস্ট ২০২৬, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১টার দিকে মোঃ নছিম উদ্দিন আকন্দ (৫০) ও তার ছেলে মোঃ আমিনুল হোসেন আকন্দ (২৫) জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে রুমা খানমের বসতঘরের সামনে গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে থাকেন।

রুমা তাদের গালাগালি করতে নিষেধ করলে অভিযুক্তরা বাঁশের লাঠি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তিনি নীলাফুলা ও বেদনাদায়ক জখম হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সময় রুমার দেবর ওবায়দুল হোসেন আকন্দ তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাকেও বাঁশের লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মারধরের একপর্যায়ে ২ নম্বর অভিযুক্ত আমিনুল হোসেন আকন্দ রুমা খানমের গলায় থাকা ১৩ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন টান মেরে ছিঁড়ে নিয়ে যান। ওই চেইনের মূল্য আনুমানিক ১ লাখ ৮৭ হাজার টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

মারধরের সময় রুমা ও তার দেবর প্রাণভয়ে ডাকচিৎকার শুরু করলে স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ সহিদুল হোসেন আকন্দ (২০), মোঃ মোসলেম উদ্দিন আকন্দ (৬০), মোছাঃ রুহুলা বেগম (৫৫)সহ আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও গুরুতর দাবি করা হয়, ঘটনার পর অভিযুক্তরা হুমকি দিয়ে বলেন—এ ঘটনা নিয়ে মামলা করলে রুমা খানমকে সুযোগমতো পেলে খুন করে লাশ গুম করে ফেলবেন। এতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং অভিযুক্তরা যেকোনো সময় বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে রুমা খানম তারাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি অবহিত করে পরামর্শ নেওয়ার কারণে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তারাকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে আবেদন জানিয়েছেন ভুক্তভোগী রুমা খানম।
তবে অভিযোগে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের সত্যতা, মারধর, স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া ও হত্যার হুমকির বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ। থানায় অভিযোগের পর পুলিশ বিষয়টি যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে বলে প্রত্যাশা করছেন ভুক্তভোগী।




ভারতে মুক্তির প্রথম দিনেই ১১৭ কোটি রুপি আয় করল ‘টক্সিক’

বিনোদন ডেস্ক : ভারতের বক্স অফিসে দুর্দান্ত সূচনা করেছে দক্ষিণী তারকা যশ অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘টক্সিক’। মুক্তির প্রথম দিনেই সিনেমাটি প্রায় ১১৭ কোটি রুপি আয় করেছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় বক্স অফিস বিশ্লেষণভিত্তিক প্রতিবেদন।

ভারতে মুক্তির প্রথম দিনে ১০০ কোটি রুপির বেশি আয় করা সিনেমার তালিকায় ‘টক্সিক’ এখন মাত্র ষষ্ঠ সিনেমা। তবে ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর প্রিভিউ শোর আয়ও হিসাবের মধ্যে ধরলে এটি সপ্তম সিনেমা হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছে।

বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ ভারত—দুই অঞ্চলেই শক্তিশালী সূচনা করেছে ‘টক্সিক’। সাধারণত বড় ওপেনিংয়ের ক্ষেত্রে তেলেগু রাজ্যগুলোর অবদান উল্লেখযোগ্য থাকে। বিভিন্ন বেনিফিট শো ও টিকিটের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সেখানে প্রথম দিনে বড় অঙ্কের আয় করা সম্ভব হয়। কিন্তু ‘টক্সিক’-এর ক্ষেত্রে তেলেগু রাজ্যগুলোর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ছাড়াই দেশজুড়ে এমন সাফল্য এসেছে।

সিনেমাটির সবচেয়ে বড় চমক এসেছে যশের নিজ রাজ্য কর্ণাটকে। সেখানে প্রথম দিনে প্রায় ২৮ কোটি ৫০ লাখ রুপি আয় করেছে ‘টক্সিক’। এর মাধ্যমে কর্ণাটকে প্রথম দিনের আয়ের রেকর্ড গড়েছে সিনেমাটি। এর আগে যশ অভিনীত ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২’ প্রথম দিনে ২৪ কোটি ৫০ লাখ রুপি আয় করে রেকর্ডটি ধরে রেখেছিল।

দক্ষিণ ভারতের অন্যান্য রাজ্যেও ভালো ব্যবসা করেছে সিনেমাটি। অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানায় প্রথম দিনে প্রায় ১৮ কোটি রুপি আয় করেছে ‘টক্সিক’। তামিলনাড়ু ও কেরালাতেও সিনেমাটির আয় ছিল সন্তোষজনক। বিশেষ করে স্থানীয় সিনেমার সঙ্গে প্রতিযোগিতার মধ্যেও কেরালায় ভালো সাড়া পেয়েছে এটি।

তবে সিনেমাটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স এসেছে হিন্দি সংস্করণে। প্রথম দিনেই হিন্দি ভার্সন থেকে প্রায় ৫৩ কোটি রুপি আয় করেছে ‘টক্সিক’। দক্ষিণ ভারতে হিন্দি সংস্করণের সীমিত অবদান বিবেচনায় নিলে প্রকৃত আয় প্রায় ৬০ কোটি রুপির কাছাকাছি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে সিনেমাটির বক্স অফিস আয়ে কিছু অসামঞ্জস্যের কথাও উঠে এসেছে। এসব পরিসংখ্যান সিনেমাটির সংগ্রহে বাইরের কোনো ধরনের প্রভাব থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তারপরও এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েও প্রথম দিনের আয়কে অসাধারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই দুর্দান্ত সূচনার মধ্য দিয়ে ভারতের শীর্ষ তারকাদের কাতারে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন যশ। তবে সামনে সিনেমাটির জন্য বড় পরীক্ষা অপেক্ষা করছে।

মুক্তির পর দর্শকদের কাছ থেকে সিনেমাটি নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে সাপ্তাহিক ছুটির আগাম টিকিট বিক্রিতেও। আগের দিন অগ্রিম বুকিং বেশ দুর্বল ছিল, যদিও পরে কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

ফলে দ্বিতীয় দিনে সিনেমাটির আয় কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর সপ্তাহান্তে কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। কারণ ‘টক্সিক’ অত্যন্ত ব্যয়বহুল নির্মাণ। সিনেমাটির পরিবেশকদের বড় অংশের সঙ্গে অগ্রিম অর্থের ভিত্তিতে চুক্তি হয়েছে এবং বক্স অফিস আয়ের সঙ্গে এর নন-থিয়েট্রিক্যাল স্বত্বের চুক্তিও যুক্ত। ফলে শেষ পর্যন্ত সিনেমাটির ব্যবসায় বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে প্রযোজকদের ওপরই।




মিরপুর কাফরুলে ভবন নির্মাণে বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ, রাজউকের অনুমোদন ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর মিরপুর-কাফরুল থানার ইব্রাহিমপুর বাজার রোডের প্লট নং ৯১১/৯১২ এলাকায় রাজউকের অনুমোদিত নকশা ছাড়াই চারতলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণাধীন ভবনটিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকা, সেফটি ট্যাংক না থাকা, বিল্ডিল এর পাইলিং না করা এবং রাজউকের নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় জায়গা না ছাড়ার ও বিল্ডিং কোর্ট অনুযায়ী বভন নির্মান করছেন না যে কোন সময় বভনিটি দসে পরতে পারে এ অভিযোগও করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও আশপাশের দোকানদাররা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবনটির নির্মাণকাজ প্রায় চার মাস ধরে চললেও নির্মাণস্থলের চারপাশে পর্যাপ্ত সেফটি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ভবনটি নিচতলা থেকে ওপরের দিকে যতই নির্মাণ করা হচ্ছে, ততই ভবনের পরিধি বাড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে পাশের বাড়িঘর ও সড়কে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।

সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভবন নির্মাণের অনুমোদন, নকশা ও নিরাপত্তাব্যবস্থার বিষয়ে জানতে চান। এ সময় নির্মাণকাজে নিয়োজিত কন্ট্রাক্টরের কাছে রাজউকের অনুমোদিত নকশা ও অন্যান্য কাগজপত্র দেখতে চাইলে তিনি দাবি করেন, প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র লরয়েছে। তবে গণমাধ্যমকর্মীরা সেসব কাগজপত্র দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে পারেননি বলে অভিযোগ।

নির্মাণকাজে নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার বিষয়েও প্রশ্ন করা হলে কন্ট্রাক্টর সুস্পষ্ট কোনো জবাব দিতে পারেননি। স্থানীয়দের অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে নিয়ম-কানুন উপেক্ষা করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

এদিকে গণমাধ্যমকর্মীরা ভবনটির মালিক আব্দুল মান্নানের বক্তব্য জানতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন। কিন্তু তিনি সাংবাদিকদের সামনে এসে নির্মাণকাজের অনুমোদন, নকশা কিংবা অন্যান্য কাগজপত্রের বিষয়ে কোনো জবাবদিহি করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তিনি একটি দোকানে অবস্থান করে গণমাধ্যমকর্মীদের এড়িয়ে অন্যত্র চলে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

ঘটনাস্থলে পাশের একটি বাড়ির এক ব্যক্তি গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি নির্মাণকাজে ভুলত্রুটি থাকার ককথা স্বীকার করেছেন বলেও উপস্থিত সাংবাদিকরা জানান। তবে ভবন নির্মাণের অনুমোদন ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেননি।
দুর্ঘটনার আশঙ্কায় স্থানীয়রা

ভবনটির আশপাশের বাসিন্দা ও দোকানদারদের অভিযোগ, কোনো কার্যকর সেফটি ব্যবস্থা ছাড়াই ওপরের দিকে নির্মাণকাজ চলায় যেকোনো সময় ইট, বালু বা নির্মাণসামগ্রী নিচে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

পাশের একাধিক দোকানদার বলেন, “আমরা সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকি। ওপর থেকে কোনো ইট বা নির্মাণসামগ্রী পড়ে মাথায় লাগলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। নির্মাণকাজ করার সময় অবশ্যই নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।”

স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভবনটির অনুমোদন, নকশা, নির্মাণের সীমা এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাই করুক। অনুমোদন ছাড়া নির্মাণের অভিযোগ সত্য হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

অন্যদিকে, ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে পাশের বাড়ির মালিক মো. শহীদ খানের (৬৫) সঙ্গে বিরোধ চলছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে।

মো. শহীদ খানের অভিযোগ, আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ভবন নির্মাণ নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। তার দাবি, তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে তিনি আইনগত সহযোগিতা চান। একই সঙ্গে রাজউকের অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া কীভাবে ভবন নির্মাণের কাজ চলছে—তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে আরেক বাড়ির মালিক মোস্তাফিজের সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীরা কথা বলতে চাইলে তিনি সরাসরি কথা না বলে একজনের মাধ্যমে বক্তব্য দেন । তিনি ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিরোধের বিষয়টি তুলে ধরেন।

জমির রেকর্ড নিয়েও প্রশ্ন
স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট জমির সি.এস., এস.এ., আর.এস. ও মহানগর জরিপের রেকর্ডে মো. শহীদ খাম ও আলমগীর হোসেন গং-এর নাম রয়েছে। তবে জমির বর্তমান মালিকানা, ভবন নির্মাণের বৈধতা এবং রাজউকের অনুমোদন—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথিপত্র যাচাই করা প্রয়োজন।
গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেও ভবন নির্মাতা আব্দুল মান্নানের কাছ থেকে রাজউকের অনুমোদিত নকশা বা জমি-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন—রাজউকের অনুমোদিত নকশা ও নিয়ম মেনে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে কি না, নির্মাণের সময় প্রয়োজনীয় সেফটি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না এবং জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকলে সেই অবস্থায় নির্মাণকাজ চালানোর আইনগত বৈধতা কী—এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে দেখবে কি না।

স্থানীয়দের দাবি, রাজউক ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরিদর্শন করে ভবনটির অনুমোদন, নকশা, নির্মাণসীমা, সেফটি ব্যবস্থা এবং জমির কাগজপত্র যাচাই করুন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।