আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে শোকজ, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জবাব না দিলে লাইসেন্স বাতিল

ডেস্ক নিউজ : ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ‘দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজের’ বিধান লঙ্ঘন করায় কেন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে এই নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর পরিচালক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। পত্র জারি হওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে (আগামী ৭ জুন বিকাল ৪টার মধ্যে) হাসপাতালটির মালিক ডা. শেখ মহিউদ্দিনকে এই নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নোটিশে বলা হয়, গত ২৭ মে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নির্দেশে ১ জুন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তদন্তকালে কমিটি হাসপাতালের ডিজি, এডি, শিশু বিভাগের প্রধান, এনআইসিইউতে কর্মরত চিকিৎসক, ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনরত নার্স, আয়া এবং রোগী ও রোগীর অ্যাটেনডেন্টসহ মৃত নবজাতকদের পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য গ্রহণ করে।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, আদ্-দ্বীন হাসপাতাল পরিচালনায় ‘দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২’ অধ্যাদেশের বিধানগুলো যথাযথভাবে পালন করা হয়নি। এই নিয়মের চরম অবহেলার কারণেই ওই ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এজন্য কমিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দায়ী সাব্যস্ত করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আদ্-দ্বীন হাসপাতালটি ওই অধ্যাদেশের ৮ ধারা অনুযায়ী নিবন্ধিত। তদন্তে আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ মেলায় ধারা মোতাবেক কেন হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হবে না, তার যৌক্তিক কারণ আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে স্বশরীরে বা লিখিতভাবে জানানোর জন্য আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে।




নায়িকার বাসায় কোটি টাকার চুরি! আংশিক স্বর্ণ উদ্ধার, গ্রেফতার ৩

বিনোদন ডেস্ক : ঢালিউড অভিনেত্রী ইয়ামিন হক ববির বাসায় সম্প্রতি চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাজধানীর মণিপুর এলাকায় অবস্থিত তার বাসার জানালার গ্রিল কেটে দুর্বৃত্তরা স্বর্ণের গয়না, নগদ অর্থ ও দামি ঘড়ি চুরি করে নিয়ে গেঠে। বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে এ ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন অভিনেত্রী।

ববি জানান, গত ২৭ মে কাফরুল থানায় চুরির অভিযোগ দায়ের করা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ফেসবুক পোস্টে অভিনেত্রী লিখেছেন, চোরদের সাধারণ চোর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তার ভাষ্য, এটি ছিল সংঘবদ্ধ, পরিকল্পিত এবং পেশাদার অপরাধীদের কাজ। তারা মানুষের কষ্টার্জিত সম্পদ মুহূর্তের মধ্যেই লুট করে নিয়ে যায়।

ববি আরও জানান, ঈদের আনন্দ তার জীবনে গভীর বেদনার কারণ হয়ে এসেছে। দুর্বৃত্তরা তার প্রয়াত বাবার স্মৃতি হিসেবে পাওয়া প্রায় ৩৬ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ এবং বেশ কয়েকটি দামি ঘড়ি চুরি করে নিয়ে গেছে। এসবের সঙ্গে শুধু আর্থিক মূল্য নয়, জড়িয়ে ছিল বহু স্মৃতি, আবেগ ও পরিবারের ভালোবাসা।

চুরির ঘটনায় ফারুক নামের এক ব্যক্তিকে তার স্ত্রীসহ গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানান অভিনেত্রী। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে এখনো চুরি যাওয়া অধিকাংশ স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধার হয়নি বলে জানান ববি।

বাকি স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য জিনিসপত্র দ্রুত উদ্ধারের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন এই অভিনেত্রী। তিনি লিখেছেন, জীবনে অর্থের চেয়ে স্মৃতির মূল্য অনেক বেশি। বাবার দেওয়া সেই স্মৃতিগুলো হারানোর কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

এদিকে পুলিশের কাছে দায়ের করা অভিযোগ থেকে জানা গেছে, স্বর্ণালংকার, দামি ঘড়ি ও নগদ টাকাসহ চুরি যাওয়া সম্পদের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৮৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা।




ডাচদের হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষ করল বাংলাদেশ

ক্রীড়া নিউজ : রেকর্ড গড়া এক ইনিংস খেললেন দিলারা আক্তার, আর তাতেই জয় দিয়ে স্কটল্যান্ডের মাটিতে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষ করল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। সিরিজের শেষ ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে ১৩ রানে হারিয়ে রানার্সআপ হিসেবে প্রতিযোগিতা শেষ করেছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল।

বৃহস্পতিবার এডিনবার্গে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় নেদারল্যান্ডস। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন ওপেনার দিলারা আক্তার। তার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ৮ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৯৮ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।

অন্য প্রান্তে উইকেট ধরে রেখে তাকে ভালো সঙ্গ দেন সোবহানা মোস্তারী। ওপেনার জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ৮ বলে ১৩ রান করে ফিরলেও দিলারার ব্যাটে থামেনি রানের গতি। মাত্র ২২ বলে ফিফটি করে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম অর্ধশতকের নতুন রেকর্ড গড়েন তিনি। এর আগে এই রেকর্ড ছিল রুমানা আহমেদের। তিনি ২৮ বলে ফিফটি করেছিলেন।

দিলারা শেষ পর্যন্ত ২৬ বলে ৫১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে আউট হন। তার ইনিংসে ছিল একের পর এক দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি। শেষ দিকে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ৪ বলে ৯ রান এবং সোবহানা মোস্তারী ৯ বলে ১১ রানে অপরাজিত থেকে দলের সংগ্রহকে আরও শক্তিশালী করেন।

৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দারুণ শুরু করে নেদারল্যান্ডস। ওপেনার হেদার স্লেঙ্গার্স ও বাবেত্তে ডি লিডের ব্যাটে উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৫২ রান। ম্যাচ একসময় ডাচদের দিকেই ঝুঁকে পড়েছিল।

তবে ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা এক ওভারে দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে ম্যাচে বাংলাদেশকে ফেরান। হেদার ১৫ বলে ২১ এবং ডি লিডে ১৪ বলে ৩০ রান করে আউট হন। এরপর রিতু মনির নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে চাপে পড়ে যায় নেদারল্যান্ডস।

শেষ দিকে রবিনে রিজ চেষ্টা করলেও জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে পারেনি ডাচরা। নির্ধারিত ৮ ওভারে ৫ উইকেটে ৮৫ রান তুলতে সক্ষম হয় তারা। ফলে ১৩ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের হয়ে ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা ও রিতু মনি দুটি করে উইকেট শিকার করেন। যদিও স্কটল্যান্ড আগেই সিরিজের শিরোপা নিশ্চিত করেছিল, তবুও শেষ ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই ত্রিদেশীয় সিরিজের অভিযান শেষ করল টাইগ্রেসরা।




রাজধানীতে সন্ধ্যার মধ্যে ঝড়ের পূর্বাভাস

আবহাওয়া ডেস্কঃ রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় সন্ধ্যার মধ্যে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য দেওয়া ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আবহাওয়ার বুলেটিনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানায়, আজ দুপুর ১টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টায় ঢাকার আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। এই সময়ে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকলেও যেকোনো সময় অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই সময়ে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যেতে পারে। তবে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সময় বাতাসের গতিবেগ দমকা হাওয়া আকারে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

এদিকে আজ দুপুরেও রাজধানীর বুকে চড়া রোদ ও ভ্যাপসা গরম অনুভূত হয়েছে। দুপুর ১২টায় ঢাকার বাতাসের তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৫৩ শতাংশ। এর আগে আজ ভোরবেলা ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২৯ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল বুধবার রাজধানীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ দিনভর তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৩ মিনিটে এবং আগামীকাল শুক্রবার সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ১১ মিনিটে। গত ৬ ঘণ্টায় ঢাকায় কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি।




গাজায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় চার শিশুসহ নিহত ৯

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ফিলিস্তিনের গাজা নগরীত ইসরায়েলের বিমান হামলায় চার শিশুসহ অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। হামলায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, বুধবার (৩ জুন) রাতে গাজা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় চারটি আবাসিক ভবনে একযোগে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলের বাহিনী। বাসিন্দাদের কোনো ধরনের আগাম সতর্কবার্তা না দিয়েই এই হামলা চালানো হয়। ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চলছে।

আল-শিফা হাসপাতাল সূত্রে প্রথমে ৬ জন নিহতের খবর পাওয়া গিয়েছিল। পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯-এ দাঁড়ায়।

এদিকে হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তর জানিয়েছে, গত বছর ১ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। এরপরও ইসরায়েলের বাহিনী এখন পর্যন্ত তিন হাজারেরও বেশিবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এসব লঙ্ঘনের ঘটনায় অন্তত ৯০০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং দুই হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

বর্তমানে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চললেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা থেমে নেই বলে অভিযোগ করেছে ফিলিস্তিনি পক্ষ।

সূত্র: আল জাজিরা




তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে দেশ, অতিষ্ঠ জনজীবন

আবহাওয়া ডেস্কঃ জ্যৈষ্ঠের দাবদাহ যেন ক্রমেই আরও অসহনীয় হয়ে উঠছে। মধ্য মে থেকে শুরু হওয়া তাপপ্রবাহ এখন দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, বুধবার (৩ জুন) দেশের ৪৯টি জেলা তাপপ্রবাহের আওতায় ছিল। ফলে শহর থেকে গ্রাম সবখানেই গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন।

গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে দিনাজপুরে ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় অনেক এলাকাতেই ভ্যাপসা গরম মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চাঁদপুর, নোয়াখালী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার পাশাপাশি রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের বিস্তীর্ণ এলাকায় মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

আপাতত এই পরিস্থিতির বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

তবে গরমের মধ্যে কিছুটা স্বস্তির খবরও আছে। আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনার কারণে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

রাজধানীতে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় তাপমাত্রা ছিল ২৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনভর গরম ও আর্দ্রতার কারণে অস্বস্তি বজায় থাকতে পারে। যদিও বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে কোথাও কোথাও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, তবু তা সামগ্রিক তাপদাহ থেকে খুব বেশি স্বস্তি নাও দিতে পারে।

আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃষ্টির কারণে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।

বর্ষা পুরোপুরি সক্রিয় না হওয়া পর্যন্ত দেশের বড় অংশেই গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়া অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বাইরে বের হলে পর্যাপ্ত পানি পান, ছাতা ব্যবহার এবং দীর্ঘ সময় রোদে অবস্থান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।




শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ৭ জুন

ডেস্ক নিউজঃ রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলাকেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আগামী ৭ জুন। 

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু হয়েছে। এদিন বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু প্রথমে শুনানি করেন। তিনি প্রথমে আসামি সোহেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা তুলে ধরেন। এরপর রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী মামলাটির সকল সাক্ষীর সাক্ষ্য ও তথ্য প্রমাণ উপস্থাপন করেন।

একপর্যায়ে তিনি ক্যামেরা ট্রায়ালে সাক্ষ্য দেওয়া রামিসার বড় বোন রাইসা আক্তারের সাক্ষ্য পড়ে শোনান।

রাইসা আক্তার সাক্ষ্যতে আদালতে বলেন, ‘ঘটনার দিন সকালে সাড়ে ৯টার দিকে আমার আম্মু বলার কারণে আমার চাচার বাসায় যাই। ১০ মিনিট পরে আমাদের বাসায় চলে আসি। তখন আম্মু জিঙ্গেস করে, রামিসা কোথায়। আমি বলি আমার সাথে যাইনি।

রামিসা বিভিন্ন সময় বিল্ডিংয়ের নিচে যায় বিড়াল নিয়ে খেলা করতে উল্লেখ করে রাইসা বলেন, নিচে গেছে কিনা আম্মুকে বলি। তখন আম্মু নিচে গিয়ে তাকে খুঁজে পাইনি। এরপর আমার আম্মু আসামি সোহেলের বাসার সামনে আমার বোন রামিসার জুতা দেখতে পায়। কিন্তু ডাকাডাকি করলেও খোলে না। পরে বাবা, আত্মীয়স্বজন ও আশপাশের লোকজন এসে দরজা ভাঙে। ভেতরে ঢুকে যখন বাথরুমে আমার বোনের কাটা মাথা দেখি, তখন আমি চিৎকার দিয়ে বাইরে চলে আসি। পরে জানতে পারি আসামি সোহেল রানা আমার বোনকে ধর্ষণ করেছে।

এদিকে বাকি সাক্ষীদের সাক্ষ্যও পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের এ আইনজীবী। বর্তমানে যুক্তিতর্ক শুনানি চলছে। এদিকে যুক্তিতর্ক শুনানিতে তোলার আগে অসুস্থতা অনুভব করেন সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে।

জানা যায়, যুক্তিতর্ক শুনানি চলাকালে দুপুর ১টা ২ মিনিটে সোহেল রানাকে মারতে যান স্বপ্না আক্তার। এসময় পুলিশ সদস্যরা তাকে বাধা দেন।

তখন বিচারক বলেন, আপনারা দুজনে নীরবে শোনেন। গতকাল আপনাদের আত্মপক্ষ শুনানিতে আপনাদের বক্তব্য শুনেছি। আজ আপনারা যুক্তিতর্ক শোনেন। না হলে আপনাদের হাজতখানায় পাঠানো হবে। এ সময় স্বপ্না আক্তার অঝোরে কাঁদতে থাকেন।

এর আগে, মঙ্গলবার টানা ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল। ওই দিন ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা ও মা পারভীন আক্তারসহ সাক্ষীদের জবানবন্দিতে ঘটনার লোমহর্ষক তথ্য উঠে আসে।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৪ মে আদালত পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ১ জুন অভিযোগ গঠন শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন। তদন্তে ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ফরেনসিক আলামতের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল রামিসা। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা।

এক পর্যায়ে আসামির ঘরের সামনে শিশুটির একটি স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং আশপাশের ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর দেখতে পান সোহেল রানার শোবার ঘরের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ। আর তার মাথা পড়ে রয়েছে বাথরুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহ উদ্ধারের পর স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।

এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। গত ২০ মে আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা।




বাড়ল বিদ্যুতের দাম, বাড়বে চাপ

ডেস্ক নিউজঃ বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির চাপ কমাতে বাড়ানো হয়েছে দাম। পাইকারি ও খুচরা—উভয় পর্যায়েই দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, খুচরা পর্যায়ে ইউনিটপ্রতি গড়ে ১ টাকা ৫২ পয়সা এবং পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১ টাকা ৩৯ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় মূল্য ১৬.৬৮ শতাংশ এবং পাইকারি পর্যায়ে ১৯.৮৫ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুতের সঞ্চালন (ট্রান্সমিশন) চার্জ ২৩.৯৬ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
গতকাল বুধবার রাজধানীর রমনায় কমিশন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ এই ঘোষণা দেন।

কমিশনের আদেশ অনুযায়ী, চলতি জুন মাসের বিল থেকেই নতুন দাম কার্যকর হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ার প্রভাব শুধু বিদ্যুৎ বিলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; শিল্প উৎপাদন ব্যয়, সেচ কার্যক্রম, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়েও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ফলে মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা ভোক্তাদের ওপর নতুন করে আর্থিক চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিইআরসির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় মূল্য প্রতি ইউনিট ৭ টাকা।

নতুন সিদ্ধান্তে তা ১ টাকা ৩৯ পয়সা বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় মূল্য ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ১০ টাকা ৬৩ পয়সায়। এ ছাড়া বিদ্যুতের সঞ্চালন হুইলিং চার্জও বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যমান ৩১.৩৫ পয়সা থেকে তা বাড়িয়ে ৩৮.৮৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিইআরসি জানায়, বিদ্যুৎ উৎপাদন, ক্রয় ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যয় এবং সার্বিক আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন মূল্যহার নির্ধারণ করা হয়েছে।

কমিশনের হিসাবে, পাইকারি মূল্য বাড়ানোর পরও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) ঘাটতি পূরণে সরকারকে বছরে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে।

এর আগে গত ২০ ও ২১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বিইআরসির গণশুনানিতে দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কম্পানি খুচরা পর্যায়ে ইউনিটপ্রতি ৮৫ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। বিপিডিবি ৮৫ পয়সা, আরইবি ১ টাকা ৭৭ পয়সা, ডিপিডিসি ১ টাকা ৫৪ পয়সা, ডেসকো ১ টাকা ৯৮ পয়সা, ওজোপাডিকো ১ টাকা ৩৯ পয়সা এবং নেসকো ২ টাকা ৫ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়।

বিদ্যুতের দাম বাড়ার তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নতুন করে বিদ্যুতের দাম বাড়ার ফলে সবচেয়ে কম ব্যবহারকারী লাইফ লাইন গ্রাহকদের (০ থেকে ৫০ ইউনিট ব্যবহারকারী) প্রতি ইউনিটে ১৪.৯০ শতাংশ করে বাড়বে। নিম্ন আয়ের মানুষকে সুলভ মূল্যে বিদ্যুৎ সুবিধা দিতে ‘লাইফ লাইন গ্রাহক’ নাম দেওয়া হয়। বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ প্রথায় প্রথম ৫০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের লাইফ লাইন গ্রাহক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গত ১৬ বছরে লাইফ লাইন গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল প্রায় দ্বিগুণ বাড়ানো হয়েছে। ২০১০ সালের ১ মার্চ লাইফ লাইন গ্রাহকরা প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য ২ টাকা ৫০ পয়সা দিতেন। তবে ২০২৬ সালের জুনে এসে প্রতি ইউনিট ৫ টাকা ৩২ পয়সা করা হয়েছে। বিদ্যুতের বাড়তি এই বিলের কারণে মাস শেষে তাদের ওপর আরো বাড়তি চাপ তৈরি হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যে জীবনযাপনের ব্যয় নির্বাহে দুর্ভোগে আছে সাধারণ মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোয় তাদের জীবনসংগ্রাম আরো কঠিন হয়ে উঠবে।

বিদ্যুতের নতুন দাম অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ০ থেকে ৭৫ ইউনিট ব্যবহারকারীর বিদ্যমান দাম ৫.২৬ টাকা থেকে ১৭.৪৯ শতাংশ বাড়িয়ে ৬.১৮ টাকা, দ্বিতীয় ধাপে ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যমান দাম ৭.২০ টাকা থেকে ১৮ শতাংশ বাড়িয়ে ৮.৫০ টাকা, ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যমান দাম ৭.৫৯ টাকা থেকে ১৯.৮৯ শতাংশ বাড়িয়ে ৯.১০ টাকা, ৩০১ থেকে ৪০০ ইউনিটের বিদ্যমান দাম ৮.০২ টাকা থেকে ১৯.৯৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৯.৬২ টাকা, ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যমান দাম ১২.৬৭ টাকা থেকে ১৮.৪৬ শতাংশ বাড়িয়ে ১৫.০১ টাকা এবং সর্বশেষ ধাপ ৬০০ ইউনিটের ঊর্ধ্বে ব্যবহারকারীদের বিদ্যমান দাম ১৪.৬১ টাকা থেকে ১৮.৭৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১৭.৩৫ টাকা করা হয়েছে।

একই সঙ্গে সেচ পাম্পে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৫.২৫ টাকা থেকে ৬.০৪ টাকা করা হয়েছে। ক্ষুদ্র শিল্পে (ফ্ল্যাট) প্রতি ইউনিটে ১৮.৩০ শতাংশ বাড়িয়ে ১০.৭৬ টাকা থেকে ১২.৭৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বাণিজ্যিক ও অফিস, ইলেকট্রিক ভেহিকল ও ব্যাটারি চার্জিং, শিক্ষা, ধর্মীয়, হাসপাতাল এবং দাতব্য প্রতিষ্ঠানে ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দামও বাড়ানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম গতকাল বলেন, ‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগবে নিম্ন আয়ের ও কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী পরিবারগুলোর ওপর। বিশেষ করে ‘লাইফলাইন’ গ্রাহকদের জন্য যে ভর্তুকি দীর্ঘদিন ধরে দেওয়া হয়ে আসছে, সেটি কমিয়ে আনায় তাদের বিদ্যুৎ বিল তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি বাড়বে। লাইফলাইন ব্যবস্থা মূলত কম ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য চালু করা হয়েছিল। কিন্তু যেহেতু এটি সবার জন্য প্রযোজ্য, তাই এর সুবিধাও সবাই পেয়ে আসছিল। এখন ভর্তুকি কমানোর সবচেয়ে সহজ উপায় হিসেবে লাইফলাইন শ্রেণির গ্রাহকের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি শুধু বিদ্যুৎ বিলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর প্রভাব পড়বে সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর। একটি পরিবারের জ্বালানি ব্যয়ের মধ্যে শুধু বিদ্যুৎ নয়, রান্নার জ্বালানি, পরিবহন ব্যয় এবং অন্যান্য শক্তিনির্ভর খরচও অন্তর্ভুক্ত। বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এসব খাতেও পরোক্ষ প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন পণ্য ও সেবার মূল্য বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।’

অধ্যাপক ম. তামিম আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের শিল্প ও উৎপাদন খাত ব্যাপকভাবে বিদ্যুিনর্ভর। খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, ভোজ্যতেল, প্লাস্টিক সামগ্রী, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণসহ প্রায় সব ধরনের উৎপাদন কার্যক্রমে বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়। ফলে বিদ্যুতের দাম বাড়ার প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে না পড়লেও ধীরে ধীরে বাজারে বিভিন্ন পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমবে এবং কর্মসংস্থানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।’

তিনি বলেন, ‘কৃষি খাতে এর প্রভাব ব্যাপকভাবে পড়বে। বর্তমানে দেশের অনেক অঞ্চলে সেচব্যবস্থা বিদ্যুিনর্ভর হয়ে উঠেছে। বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি সেচ ব্যয় বাড়াবে, যা শেষ পর্যন্ত কৃষি উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণ হতে পারে।’

ভর্তুকি কমানোর বিষয়ে অধ্যাপক তামিম বলেন, ‘শুধু বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে নয়, উৎপাদন ব্যয় কমিয়েও ভর্তুকি হ্রাস করা সম্ভব। বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় কোথায় অদক্ষতা রয়েছে, কিভাবে উৎপাদন খরচ কমানো যায় এবং বিদ্যুৎ খাতের পরিচালনায় কী ধরনের সংস্কার প্রয়োজন—এসব বিষয় আগে গুরুত্বসহকারে মূল্যায়ন করা উচিত।’

নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ধীরে ধীরে কমিয়ে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে শিল্প-কারখানা, বাণিজ্যিক ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস এবং বৃহৎ ছাদসমৃদ্ধ স্থাপনাগুলোতে রুফটপ সৌরবিদ্যুতের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এতে গ্রিডের ওপর চাপ কমবে, জ্বালানি আমদানির ব্যয় হ্রাস পাবে এবং দীর্ঘ মেয়াদে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয়ও কমানো সম্ভব হবে।’

কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। তাই বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি শিল্প, কৃষি, পরিবহন ও গৃহস্থালি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়াবে, যার চূড়ান্ত প্রভাব ভোক্তাদের ওপর পড়বে। ফলে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি আরো তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, সিস্টেম লস ও ক্যাপাসিটি চার্জ কমানোর পরিবর্তে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপানো হয়েছে, যা দুঃখজনক। দুই দফা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষ, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য নেতিবাচক বার্তা বহন করে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে তা বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।’




পোস্টিং থেকে পাচার—মোয়াজ্জেমের দুর্নীতির সাম্রাজ্য, দুদকের জালে অবৈধ সম্পদের খোঁজ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন যেখানেই বদলি হন গড়ে তোলেন দুর্নীতির সিন্ডিকেট, চুক্তি করে টাকা নেন, শিল্পপতিদের কাছে হুন্ডি করে টাকা পাচার করে জোগান ছেলের লেখাপড়ার খরচ, যুক্তরাষ্ট্রেও কিনেছেন বাড়ি।

দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে মিলেছে অবৈধ সম্পদের প্রমাণ, চেষ্টা করছেন আওয়ামী ঘনিষ্ঠতা আড়াল করে এনবিআরের চেয়ারম্যান হতে দৌঁড়ঝাপ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআরের কাস্টমস ও ভ্যাট প্রশাসন শাখার সদস্য মো. মোয়াজ্জেম হোসেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে দায়িত্ব পালন করেছেন ঢাকা কাস্টম হাউসসহ বিভিন্ন দপ্তরে। কখনও তদ্বির করে পছন্দের পোস্টিং নিয়েছেন। আবার কখনও দুর্নীতির অভিযোগে কম গুরুত্বপূর্ণ কমিশনারেটে শাস্তিমূলক বদলি হয়েছেন। তবে যেখানেই গিয়েছেন, সেখানেই দুর্নীতির শক্ত সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। এভাবে দেশে ও বিদেশে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। শুধু তাই নয়, বড় শিল্প গ্রুপের মালিক, ব্যাংকের চেয়ারম্যানদের থেকেও ডিডের মাধ্যমে টাকা ধার করেন। তবে তার দুর্নীতির তথ্য অনেকের কাছে থাকলেও পদোন্নতি পেতে বেগ পেতে হয়নি মোয়াজ্জেম হোসেনকে। কারণ পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের একাধিক মন্ত্রীর সঙ্গে ছিল তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে এসব তথ্য ও প্রমাণ উঠে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, এনবিআরের গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলি বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করছেন মোয়াজ্জেম হোসেন। পাশাপাশি বিভিন্ন কাস্টম হাউসে কর ফাঁকির চালান খালাসে কর্মকর্তাদের বাধ্য করছেন। শুধু ঢাকা কাস্টম হাউস থেকেই সপ্তাহে অন্তত ৫০ লাখ টাকা ঘুষের ভাগ নেয়ার অভিযোগ মিলেছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যানের সঙ্গে ৩০ লাখ টাকা ধারের চুক্তি:
বাংলাদেশের আমদানী খাতের অন্যতম নিয়ন্ত্রক মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ-এমজিআই। গ্রুপটির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামালের কাছ থেকে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে ৩০ লক্ষ টাকা ধার নিয়েছেন মোয়াজ্জেম হোসেন। কমিউনিটি ব্যাংকের মাধ্যমে এই অর্থ লেনদেন হয়। চেক নং-সি এ-০৩০৬৯** ছেলের লেখাপড়ার খরচ বাবদ তিনি এ টাকা ধার নেন। একশ টাকার দলিলে ধারের চুক্তি করেন মোয়াজ্জেম হোসেন।

ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যানের কাছে ৩০ লাখ টাকা ধার:
২০২২ সালের ২৮ অক্টোবর ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক গুলাম মোহাম্মদ আলমগীর কাছে থেকে সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের মাধ্যমে ৩০ লাখ টাকা ধার হিসেবে গ্রহণ করেন। ব্যাংকের চেক নম্বর সিডি এস এন বি- ১৫০৬৩**. জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কমিশনারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা অবস্থায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে থেকে চেকের মাধ্যমে টাকা গ্রহণ করা দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এর ৫ এর (২) ধারায় সরাসরি অপরাধ।

এছাড়াও টাকা দেয়া ব্যক্তিও নিজেও দুদকের মামলায় গ্রেফতারকৃত। ছেলের লেখাপড়ার খরচ বাবদ এ অর্থ নেন মোয়াজ্জেম হোসেন।

আওয়ামী লীগের দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী মায়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ:
আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতিবাজ মন্ত্রীদের মধ্যে অন্যতম মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। তিনি দুদকের মামলার আসামি। মায়ার সঙ্গে কোনো পারিবারিক সম্পর্ক না থাকলেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রক্ষা করে চলেন মোয়াজ্জেম হোসেন। মায়ার যে কোন পারিবারিক অনুষ্ঠানে হাজির হতেন মোয়াজ্জেম এবং প্রকাশ্যে নিজেকে মায়ার আত্মীয় বলে দাবি করতেন।

হুন্ডির মাধ্যমে যায় ছেলের শিক্ষার খরচ:
মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে আমেরিকার জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটিতে করেন। প্রতি সেমিস্টারে তার পড়ালেখার খরচ ৩৫ হাজার ডলার। টাকায় যা প্রায় ৪৩ লাখ। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, মোয়াজ্জেম হন্ডির মাধ্যমে এই টাকা আমেরিকায় পাঠান। এমনকি ছেলে রাগীব মোয়াজ্জেমের এই লেখাপড়ার খরচের বৈধ উৎসও নেই মোয়াজ্জেমের।

বাল্টিমোরে বাড়ি :
অভিযোগ উঠেছে, সম্প্রতি আমেরিকার মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের বাল্টিমোরে একটি বাড়ি কিনেছেন মোয়াজ্জেম হোসেন। তবে এটি তিনি নিজের নামে কেনেননি। বাড়িটি কিনেছেন ছেলে ও ছেলের স্ত্রী আদিবা গাফফারের নামে।

মোয়াজ্জেমের বাড়ি ও জমির ফিরিস্তি:
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে একটি ৮ তলা ভবন নির্মাণ করছেন মোয়াজ্জেম হোসেন। এটি তৈরির কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। ঢাকার ধানমন্ডি ও উত্তরা মোয়াজ্জেম হোসেনের রয়েছে ২টি ফ্ল্যাট। অভিযোগ মিলেছে, ঢাকার পূর্বাচলে দুটি প্লট, জলসিড়ি প্রকল্পে ০১টি প্লট, ডিওএইচএস এলাকায় দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে তার।

দুদকের গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, এসব সম্পদের খোঁজ বের করতে প্রকাশ্য অনুসন্ধান করা দরকার। মোয়াজ্জেম হোসেন সাভারের বিরুলিয়ার গ্রীণ ভ্যালি কর্পোরেট সোসাইটিতে বিভিন্ন সময়ে বিনিয়োগ করেছেন ১২ লাখ টাকা। উত্তরা ব্যাংকের একটি হিসাবে কোটি কোটি টাকা লেনদেন করেছেন মোয়াজ্জেম হোসেন। হিসাবটির নম্বর: ১৫৭৮১১১০০১১২০*।এখনও এই একাউন্টে ৩৮ লাখ টাকা স্থিতি রয়েছে। এছাড়া সিটি ব্যাংক পিএলসির হিসাব নম্বর: ২৩০৩৬৯৭২৩৪০* এবং সোনালী ব্যাংক পিএলসির হিসাব নম্বর: ৪৪৩২১০১০০৫২** এর মাধ্যমে অস্বাভাবিক লেনদেন করেছেন মোয়াজ্জেম হোসেন।

দুদক গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, এসব একাউন্টে লেনদেনের সঠিক পরিমাণ জানতে প্রকাশ্য অনুসন্ধান জরুরী। আইডিএলসিতে (হিসাব নম্বর: আইডিএ ৩২১৪) এখনো ২৫ লাখ টাকা টাকা স্থিতি রয়েছে।

ঢাকা কাস্টম হাউসে দুর্নীতি:
মোয়াজ্জেম হোসেন ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাটের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার মাত্র ৫ মাসের মধ্যে তৎকালীন চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন ভুঁইয়ার ভাইকে ঘুষ দিয়ে ঢাকা কাস্টম হাউসের কমিশনার পদে বাগিয়ে নেন। তারপর সেখানে ঘুষ-দুর্নীতি, স্বর্ণ চোরাচালানসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। উপার্জন করেন বিপুল অর্থ।

অনুসন্ধানে দুদক গোয়েন্দারা জানতে পারেন, ২০২০ সালে মিথ্যা ঘোষণার অভিযোগে নুসাইবা ট্রেডিং নামক কোম্পানির একটি চালান আটক করে এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা-সিআইসি। চালানটিতে কোটি টাকার বেশির শুল্ক ফাঁকির প্রমাণও মেলে। তা সত্ত্বেও কমিশনার মোয়াজ্জেম হোসেনের নির্দেশে পণ্য ছেড়ে দেন ডেপুটি কমিশনার মারুফ। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে তদন্তে নামে এনবিআর। জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি।

মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ঢাকা কাস্টম হাউসে ৬ লাখ পিস মেমরি কার্ড তছরুপেরও অভিযোগও মিলেছে। মামুন হাওলাদার নামে এক যাত্রী ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর অবৈধভাবে ৬ লাখ পিস মেমরি কার্ড আমদানি করেন। গ্রিন চ্যানেল পার হওয়ার সময় তা শুল্ক কর্মকর্তাদের হাতে ধরা পড়ে। মাত্র ৩২ লাখ টাকার বিনিময়ে এসব পণ্য ছেড়ে দেয়ার আয়োজন করেন কমিশনার মোয়াজ্জেম হোসেন। যদিও পরবর্তীতে পণ্য হারিয়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।

ক্ষতিপূরণ হিসেবে আমদানিকারককে ৫ কোটি টাকা সরকারি কোষাগার থেকে দেয়ার চেষ্টা করেন। বিষয়টি জানতে পেরে তদন্তে নামে এনবিআর ও দুদক। এঘটনায় আমদানি-রপ্তানি নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তরের চার কর্মকর্তার শাস্তি হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে মোয়াজ্জেম হোসেন।

যশোর ভ্যাটের কমিশনার পদে থেকে দুর্নীতি:
যশোর ভ্যাটের দায়িত্বে থাকাকালে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় অবস্থিত আলী বিড়ি কোম্পানি থেকে মাসে ৪৫ লাখ ঘুষ নিতেন মোয়াজ্জেম হোসেন। বিনিময়ে কোম্পানিটিকে দিনে বন্ধ দেখিয়ে রাতে উৎপাদন চালানোর সুযোগ দেন।

মাগুরায় ভুয়া মামলায় ভিশন ড্রাগস লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে এক কোটি টাকার ঘুষ দাবির ঘটনায় মাগুরা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের দুই কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। এদুজন হলেন রাজস্ব কর্মকর্তা বাহারুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মুহাম্মদ আল-মনছুর। মূলত তারা কমিশনারের পক্ষে ঘুস আদায় করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে এই দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়।

এছাড়া বিআরবি কেবল সহ বিভিন্ন বিড়ি-সিগারেট ফ্যাক্টরি থেকে প্রতি মাসে কোটি টাকা ঘুষ নিতেন মোয়াজ্জেম হোসেন। কুষ্টিয়া ও ফরিদপুরে কয়েকটি বিড়ি ফ্যাক্টরির একটি জাল ব্যান্ডরোল আটকের পর ঘুষের বিনিময়ে ছেড়ে দেয়ার ঘটনার অডিও রেকর্ড ফাঁস হলে মোয়াজ্জেম হোসেনকে চট্টগ্রাম ভ্যাট আপীলে বদলি করা হয়।

রাজশাহী ভ্যাটে দুর্নীতি:
২০১৮ সালে রাজশাহী ভ্যাটের কমিশনার থাকাকালে মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকিতে সহযোগিতার অভিযোগও ওঠে। পাবনায় অবস্থিত ইউনিভার্সেল গ্রুপের ভ্যাট ফাঁকি তদন্তে সহকারী কমিশনার সন্তোষ সরেনকে নির্দেশ দেন কমিশনার মোয়াজ্জেম হোসেন। অডিটে ২৭৩ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া যায়। কিন্তু মামলা নিষ্পত্তি করতে ১১ কোটি টাকা ঘুষ দাবি করেন মোয়াজ্জেম। এনিয়ে প্রতিবেদন প্রচার হয় গণমাধ্যমে। পরবর্তীতে ইউনিভার্সাল ফুড কোম্পানী স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

এনবিআরের বদলি বাণিজ্য:
মোয়াজ্জেম হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে ব্যাপকভাবে ঘুষের বিপরীতে বদলি বাণিজ্য শুরু হয়েছে। রাজস্ব কর্মকর্তা বদলিতে ঘুষের রেট উঠেছে ২৫ লাখ টাকায়। দুদকের গোপন অনুসন্ধানে জানা যায় যে, মোয়াজ্জেম হোসেন শুল্ক ও ভ্যাট প্রশাসন শাখার দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই পছন্দের অফিসারদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পদায়ন করছেন। এমনকি কমিশনারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মাঠ পর্যায়ের সকল অভ্যন্তরীণ পোস্টিংও নিয়ন্ত্রণ করছেন মোয়াজ্জেম হোসেন। পাশাপাশি বিভিন্ন দপ্তর থেকে নিয়মিত ঘুষ আদায় করছেন। অভিযোগ উঠেছে, শুধু ঢাকা কাস্টম হাউস থেকেই সপ্তাহে ৫০ লাখ টাকা ঘুষের ভাগ নিচ্ছেন তিনি।




কিশোরগঞ্জ এলজিইডিতে অনিয়মের পাহাড়, অগ্রিম বিল বাণিজ্যে কোটি কোটি টাকার সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ প্রকৌশলী আমিরুল ইসলাম ২০২১ সাল থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত এলজিইডি কিশোরগঞ্জ নির্বাহী প্রকৌশলী হিসাবে কর্মরত থাকা অবস্থায় Haor Infrastructure and livelihood Improvement Project (HILIP) প্রকল্পে কাজ না করে ভুয়া LCS কমিটির মাধ‍্যমে সাবেক রাষ্ট্রপ্রতি মোঃ আব্দুল হামিদের এলাকা ইটনা, মিঠামইন এবং অষ্টোগ্রামে কোটি কোটি টাকা উত্তোলন, অত‍্যন্ত নিম্নমানের Submergible Road নির্মাণ যা ১ বছরের মধ‍্যে অস্তিত্বহীন হয়ে যাওয়া এবং ময়মনসিংহ অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প, আমফান প্রকল্প, আইআরআইডিপি প্রকল্প, জিওবি মেইন্টেনেন্সসহ বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ না করে শত শত কোটি টাকার অগ্রিম বিল প্রদান করেছেন এবং সেখান থেকে ঠিকাদারের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা হিসেবে কোটি কোটি টাকা নিয়েছেন।

সূত্র জানায়, ২টি প্রকল্পের মধ্যে তিনি প্রায় ৬ কোটি টাকা অগ্রীম বিল প্রদান করেছেন। যা তার কর্মকালীন সময়ে খুবই সামান‍্য। ময়মনসিংহ অঞ্চল প্রকল্পের আওতায় আব্দুল্লাহপুর উত্তরপাড়া থেকে ঘোষের কান্দি সড়ক। যার দৈর্ঘ‍্য ২ কিলোমিটার। উপজেলা অষ্টগ্রাম। ঠিকাদার-সরকার কনস্ট্রাকশন। অগ্রিম বিল প্রদান ১ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা।

আমফান প্রকল্পের আওতায় কাঠখাল বাজার থেকে বই রাত ইউনিয়ন পরিষদ সড়ক সাড়ে ৪ কিলোমিটার মেরামত। উপজেলা মিঠামইন। ঠিকাদার-মোজাহার এন্টারপ্রাইজ।

অগ্রীম বিল প্রদান ৩ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা। এরকম বিভিন্ন প্রকল্পে তিনি কোটি কোটি টাকার অগ্রীম বিল প্রদান করেছেন। প্রকৌশলী আমিরুল ইসলাম কিশোরগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালীন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ এবং তাঁর ছেলেদের ছত্রছায়ায় থেকে এলজিইডির কাউকে পরোয়া করেননি। আমিরুলের কাছে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী থেকে প্রকল্প পরিচালক সবাই ছিলেন অসহায়। তার বিরুদ্ধে এলজিইডি, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং দুদক থেকে কয়েকবার তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও বঙ্গভবনের নির্দেশে সে সব তদন্ত ধামাচাপা পড়ে গেছে। আমিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে জমা পড়া অভিযোগসমূহ পুণ:তদন্ত করলেই তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর সত‍্যতার প্রমাণ পাওয়া যাবে বলে সচেতনমহল মনে করেন। আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর পরই প্রকৌশলী আমিরুল ইসলাম বোল পাল্টে এখন বিএনপি ঘরনার লোক বনে গেছেন। নানা অভিযোগের ব্যাপারে তার বক্তব্য জানতে এই প্রতিবেদক তার অফিসে গেলে তিনি সাক্ষাত দেননি।