রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সিইসির নেতৃত্বাধীন ইসির প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ. এম. এম. নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল।

বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ইসির প্রতিনিধি দলের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ সময় সিইসির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আরও সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিনিধি দলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন, নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।




কায়কোবাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পাল্টা প্রতিবাদ ঘিরে নতুন প্রশ্ন: তদন্তের বদলে কি চলছে প্রভাবশালী প্রচারণা?

বিশেষ প্রতিবেদকঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (চট্টগ্রাম জোন) মো. কায়কোবাদের বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রকল্পের কাজে কমিশন নেওয়া, বিল পরিশোধে অনিয়ম, অতিরিক্ত বিলের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়া, বদলি ও পদায়নে প্রভাব বিস্তার, ঠিকাদারদের একটি বিশেষ বলয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এবং বৈধ আয়ের সঙ্গে মিল না থাকা সম্পদ অর্জনের অভিযোগ।

এর মধ্যেই মো. কায়কোবাদের পক্ষ থেকে অভিযোগগুলো অস্বীকার করে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। তিনি অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন, অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করা এবং প্রতিবাদ জানানোর অধিকার তার অবশ্যই রয়েছে। তবে এই প্রতিবাদ প্রকাশের ধরন নিয়েই এখন নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগের জবাব কি সরাসরি তথ্য-প্রমাণ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে, নাকি মূল অভিযোগের বিষয় থেকে আলোচনা সরিয়ে অন্য একটি প্রচারণা তৈরি করা হচ্ছে—এটাই এখন আলোচনার বিষয়।

কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা অনিয়মের অভিযোগ উঠলে সবচেয়ে কার্যকর জবাব হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট নথি সামনে আনা। যেমন কমিশন নেওয়ার অভিযোগ যদি সত্য না হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কার্যাদেশ, বিল-ভাউচার, অনুমোদনের কাগজপত্র এবং অর্থ পরিশোধের নথি যাচাই করলেই বিষয়টি অনেকটাই পরিষ্কার হতে পারে। অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ থাকলে প্রকল্পের পরিমাপ বই বা এমবি, কাজের পরিমাণ, প্রকল্পের অগ্রগতি এবং ঠিকাদারকে দেওয়া বিলের হিসাব মিলিয়ে দেখা সম্ভব। অর্থাৎ অভিযোগের জবাব শুধু বক্তব্য দিয়ে নয়, নথি দিয়েও দেওয়া সম্ভব।

কায়কোবাদের বিরুদ্ধে যে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে, তার মধ্যে প্রকল্পের বিল থেকে কয়েক শতাংশ কমিশন নেওয়ার কথাও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ আর্থিক সুবিধার ব্যবস্থা ছিল। একই সঙ্গে কিছু প্রকল্পে কাজের প্রকৃত পরিমাণের তুলনায় বেশি বিল দেখানো হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের কোনোটিই তদন্ত ছাড়া সত্য বলে ধরে নেওয়া যায় না। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নথি, কাজের পরিমাপ এবং অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া যাচাই করলেই প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।

বদলি ও পদায়ন নিয়েও কায়কোবাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদে কে থাকবেন, কোথায় বদলি হবেন কিংবা কোন কর্মকর্তা কোন দায়িত্ব পাবেন—এসব বিষয়ে তিনি প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম ছিলেন। এ ধরনের অভিযোগের সঙ্গে যদি বাস্তব কোনো ঘটনা জড়িত থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট সময়ের বদলি ও পদায়নের আদেশ, নথি এবং প্রশাসনিক সুপারিশ পরীক্ষা করলেই বিষয়টি যাচাই করা সম্ভব। কারও ব্যক্তিগত বক্তব্য দিয়ে এ অভিযোগের নিষ্পত্তি করা কঠিন।

ঠিকাদারদের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, গণপূর্তের বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ পাওয়া কিছু ঠিকাদারের সঙ্গে কায়কোবাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল এবং এই যোগাযোগের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ, বিল ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কোনো নির্দিষ্ট ঠিকাদার বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তার সম্পর্ক থাকলেই সেটি অনিয়ম প্রমাণ করে না। তবে যদি একই ঠিকাদার বারবার সুবিধা পেয়ে থাকে, কাজ পাওয়ার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম থাকে কিংবা বিল অনুমোদনে অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায়, তাহলে বিষয়টি তদন্তের দাবি রাখে।

কায়কোবাদের বিরুদ্ধে অতীতে দপ্তরের ভেতরে ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে পরিচিত থাকার অভিযোগও সামনে এসেছে। এই শব্দটি ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেন নিয়ন্ত্রণ বা বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে অর্থনৈতিক যোগাযোগের অভিযোগের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং প্রমাণ ছাড়া তা সত্য হিসেবে প্রচার করা ঠিক নয়। তিনি কোন সময়ে কোন দায়িত্বে ছিলেন, তার দায়িত্বের ধরন কী ছিল এবং তার সঙ্গে কোনো আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ আছে কি না—এসব জানতে দাপ্তরিক নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে সম্পদ নিয়েও। অভিযোগ রয়েছে, কায়কোবাদ ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা কিছু সম্পদের সঙ্গে তার বৈধ আয় ও ঘোষিত আয়ের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কোনো সরকারি কর্মকর্তার সম্পদ বেশি হলেই সেটিকে অবৈধ সম্পদ বলা যায় না। সম্পদটি বৈধভাবে অর্জিত কি না, সেটি বোঝার জন্য আয়কর রিটার্ন, সম্পদ বিবরণী, ব্যাংক লেনদেন, ঋণ, বিনিয়োগ, জমি-বাড়ির দলিল এবং অন্যান্য আর্থিক নথি পরীক্ষা করতে হয়। অভিযোগ সত্য না মিথ্যা—সেটি নির্ধারণের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পথও দেখা হয়।

এখানেই গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। একজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে কমিশন, প্রকল্পের বিল, ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগাযোগ, বদলি-পদায়ন এবং সম্পদ নিয়ে একাধিক অভিযোগ থাকলে বিষয়টি শুধু সংবাদমাধ্যমে প্রতিবাদ প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা কতটা যুক্তিসংগত—এ প্রশ্ন উঠতেই পারে। মন্ত্রণালয় চাইলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত করতে পারে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের টেন্ডার নথি, কার্যাদেশ, এমবি, বিল-ভাউচার, ঠিকাদারদের তালিকা, বিল অনুমোদনের ধাপ এবং প্রশাসনিক ফাইল পরীক্ষা করা যেতে পারে।

একইভাবে সম্পদের অভিযোগ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আয়কর নথি, সম্পদ বিবরণী, ব্যাংক লেনদেন ও অন্যান্য বৈধ আয়ের উৎস খতিয়ে দেখা যেতে পারে। প্রয়োজন হলে দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষা সংস্থার সহায়তাও নেওয়া যেতে পারে। এতে অভিযোগ মিথ্যা হলে কায়কোবাদের অবস্থান পরিষ্কার হবে। আবার অভিযোগের কোনো অংশ সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

অন্যদিকে, এই ঘটনায় সাংবাদিকতার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কোনো সংবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য না থাকলে তার বক্তব্য নেওয়া সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আবার কেউ নিজের বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগের প্রতিবাদ জানাতেই পারেন। কিন্তু সেই প্রতিবাদের নামে যদি অভিযোগের মূল বিষয় এড়িয়ে গিয়ে শুধু সংবাদমাধ্যম বা প্রতিবেদককে আক্রমণ করা হয়, তাহলে সেটি নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে কোনো কর্মকর্তা নিয়মিতভাবে নির্দিষ্ট কিছু সাংবাদিক বা সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরছেন কি না, তার পেছনে কোনো আর্থিক বা পেশাগত সুবিধার সম্পর্ক আছে কি না—এসব প্রশ্নেরও নিরপেক্ষ উত্তর প্রয়োজন।

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি—একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের জবাব অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা  বেআইনি বা অনৈতিক প্রমাণ করে না। একজন ব্যক্তি নিজের বক্তব্য যেকোনো বৈধ মাধ্যমে তুলে ধরতে পারেন। কিন্তু যদি তদন্তে প্রমাণ পাওয়া যায় যে কোনো সাংবাদিক বা সংবাদমাধ্যমকে ব্যবহার করে উদ্দেশ্যমূলক পাল্টা প্রচারণা চালানো হয়েছে, প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা হয়েছে কিংবা কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা ঠিকাদার গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছে, তাহলে সেটি সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও নৈতিকতার জন্য অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়।

এ কারণেই ‘গৃহপালিত সাংবাদিকতা’ বা ‘ম্যানেজড সাংবাদিকতা’র মতো অভিযোগ উঠলে সেটিকেও অন্ধভাবে সত্য ধরে নেওয়া যেমন ঠিক নয়, তেমনি কোনো তদন্ত ছাড়াই উড়িয়ে দেওয়াও ঠিক হবে না। কারা নিয়মিত একজন কর্মকর্তার পক্ষে সংবাদ প্রকাশ করেন, অভিযোগ প্রকাশের পর কত দ্রুত পাল্টা বক্তব্য আসে, সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের সঙ্গে ওই কর্মকর্তার কী ধরনের যোগাযোগ রয়েছে এবং কোনো ধরনের আর্থিক, বিজ্ঞাপন বা অন্য সুবিধার সম্পর্ক আছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর প্রমাণের ভিত্তিতে বের করা দরকার।

মো. কায়কোবাদ তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এখন তার বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। একই সঙ্গে যারা অভিযোগ তুলেছেন, তাদের কাছেও অভিযোগের পক্ষে নথি ও তথ্য থাকার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও অভিযোগকে প্রমাণ ছাড়া চূড়ান্ত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়।

সব মিলিয়ে এখন সবচেয়ে প্রয়োজন পাল্টাপাল্টি বক্তব্য নয়, নিরপেক্ষ তদন্ত। গণপূর্ত অধিদপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ঘিরে যদি কমিশন বাণিজ্য, প্রকল্পের অর্থে অনিয়ম, ঠিকাদার সিন্ডিকেট, বদলি-পদায়নে প্রভাব এবং সম্পদের অসামঞ্জস্যের মতো অভিযোগ ওঠে, তাহলে সেগুলো দ্রুত যাচাই করা দরকার।

অভিযোগ মিথ্যা হলে তদন্তের মাধ্যমে মো. কায়কোবাদকে দায়মুক্ত করা হোক। আর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে শুধু একজন কর্মকর্তা নয়, তার সঙ্গে জড়িত অন্য কর্মকর্তা, ঠিকাদার বা সুবিধাভোগীদের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনা হোক। একই সঙ্গে যদি কোনো পক্ষ সংবাদমাধ্যমকে ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার বা পাল্টা প্রচারণা চালিয়ে থাকে বলে প্রমাণ পাওয়া যায়, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

কারণ শেষ পর্যন্ত প্রতিবাদলিপি দিয়ে কোনো অভিযোগের স্থায়ী নিষ্পত্তি হয় না। সত্য-মিথ্যা নির্ধারণ করবে প্রকল্পের ফাইল, বিল-ভাউচার, পরিমাপ বই, টেন্ডার নথি, বদলি-পদায়নের কাগজপত্র, আয়কর নথি, ব্যাংক লেনদেন ও সম্পদ বিবরণী। তাই এখন প্রশ্ন একটাই—কায়কোবাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ কি সত্যিই ভিত্তিহীন, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো অনিয়মের বাস্তব চিত্র? এর উত্তর সংবাদমাধ্যমের পাল্টাপাল্টি প্রতিবেদনে নয়, একটি নিরপেক্ষ ও নথিভিত্তিক তদন্তেই পাওয়া সম্ভব।




প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকারদলীয় এমপিদের বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের বৈঠক চলছে।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারদলীয় সদস্যদের সভাকক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, বৈঠকে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন, সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

বৈঠকে সংসদ অধিবেশন পরিচালনা ও দলীয় কৌশল নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

চলমান বৈঠকে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন।




আইআরজিসির নতুন প্রধান কে এই ওয়াহিদি

১৯৭৯ সালের শেষের দিকে ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিপ্লবাত্মক পরিবর্তন সূচিত হয়। সেই ঐতিহাসিক পটভূমিতে দাঁড়িয়ে অনেকেই বুঝেছিলেন, নতুন এই মতাদর্শিক ব্যবস্থায় আত্মপ্রকাশের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ও জাতীয় গৌরব অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, একই সময়ে রাষ্ট্র গঠনের তাড়না এবং প্রতিষ্ঠার মাত্র দশ মাসের মাথায় সাদ্দাম হোসেনের ইরাক কর্তৃক ইরান আক্রমণের ফলে জাতীয়তাবাদী চেতনার এক প্রবল জোয়ার তৈরি হয়। এই আবহে সিরাজ শহরের শাহ চেরাগ নামে খ্যাত স্থান থেকে উঠে আসা আহমদ শাহচেরাগি নতুন গঠিত ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) যোগ দেন।

ইরানের নীতি ও শাসনব্যবস্থা রক্ষায় নিবেদিত এই আদর্শিক বাহিনীতে যুক্ত হয়ে নিজের নাম পরিবর্তন করে তিনি রাখেন ওয়াহিদি, যার অর্থ এক বা প্রথম। সম্প্রতি তিনি সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অধীনে আইআরজিসির প্রধান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ পেয়েছেন। এই নিয়োগ এমন এক প্রেক্ষাপটে হলো, যখন ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে একটি অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে এবং ৪৭ বছর আগের ইরাক যুদ্ধের সেই জাতীয়তাবাদী উদ্দীপনা পুনরায় স্মরণে আনছে। মার্চ মাস থেকে আইআরজিসির কার্যনির্বাহী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ওয়াহিদি নতুন সর্বোচ্চ নেতার ক্ষমতারোহণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

১৯৭৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত ক্যারিয়ারে ওয়াহিদি বহু ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের অংশ ছিলেন। সামরিক নেতৃত্বের পদে নানা প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে গিয়ে মাত্র দুই বছরের মাথায় ১৯৮১ সালে তিনি আইআরজিসির গোয়েন্দা ডেপুটি নিযুক্ত হন। ১৯৮৮ সালের মধ্যে তিনি আইআরজিসির কুদস ফোর্সের প্রথম প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন। জেরুজালেমকে মুক্ত করার লক্ষ্যে গঠিত এই বহিরাগত অভিযানিক বাহিনীটি বিদেশের মাটিতে সশস্ত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন, সরঞ্জাম সরবরাহ ও প্রশিক্ষণের মূল কেন্দ্র হয়ে ওঠে। যদিও পরবর্তীতে কাসেম সোলাইমানির (১৯৯৮-২০২০) আমলে বাহিনীটি খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছায়, ওয়াহিদিই এর প্রাথমিক কর্মকাণ্ড ও ভাবনার ভিত গড়ে দিয়েছিলেন, বিশেষ করে লেবাননের হিজবুল্লাহর গঠনমূলক দিনগুলোতে।

পরবর্তীতে ২০০৯ সালে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ তাকে প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনী লজিস্টিক মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিলে তিনি হন ইন্টারপোল রেড নোটিশ থাকা অবস্থায় ক্যাবিনেট মন্ত্রী হওয়া প্রথম ব্যক্তিত্ব। কনজারভেটিভ সরকারের সঙ্গেই তিনি বেশি কাজ করেছেন, আহমাদিনেজাদের প্রথম মেয়াদে প্রধান উপ-প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এবং ২০২১ সালে ইব্রাহিম রাইসির অধীনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে কাজ করেন। এছাড়া ২০০৮ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা এবং ২০১০ সাল থেকে অস্ত্র প্রসারের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন।

আহমদ ওয়াহিদির ক্যারিয়ার শুধু সাফল্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, নানামুখী জটিলতাও পার করেছেন তিনি। তিনি যেমন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ বিজয়ের কেন্দ্রে ছিলেন, তেমনি বিভিন্ন বিতর্ক থেকে পুনরুত্থানের ঝুঁকি নেওয়া জেনারেল হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ইরাক যুদ্ধের ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার সময়েই ওয়াহিদি যুদ্ধকালীন তৈরি হওয়া বহির্মুখী উদ্যমকে কাজে লাগাতে কুদস ফোর্সকে প্রথম বড় অভিযানে পাঠান; বসনিয়ার গৃহযুদ্ধে প্রেসিডেন্ট আলিজা ইজেতবেগোভিচের পক্ষে। তবে বোসনিয়ায় আল কায়েদার মতো দলগুলোর আধিপত্য এবং শিয়াদের প্রতি তাদের বিদ্বেষের কারণে হিজবুল্লাহর মতো সাফল্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, সোলাইমানির অধীনে আফগানিস্তানে তালেবানবিরোধী অভিযানে ইরানের কৌশলগত সাফল্য অর্জিত হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সীমিত গোয়েন্দা সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করেছিল।

বসনিয়া অভিযানে আশানুরূপ ফল না পেলেও ওয়াহিদি লেবানন ফ্রন্টে সক্রিয় থেকে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করেন। ১৯৯৪ সালে বুয়েনস আইরেসে এএমআইএ  ইহুদি কমিউনিটি সেন্টারে হিজবুল্লাহর হামলার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে ২০০৬ সালে আর্জেন্টিনা ওয়াহিদিকে অভিযুক্ত করে। এ ঘটনা ইরান ও আর্জেন্টিনার সম্পর্কের মধ্যে স্থায়ী সংঘাত তৈরি করলেও ওয়াহিদির অবস্থানকে আইআরজিসির অভ্যন্তরে দুর্বল করেনি বরং আন্তর্জাতিক এই অভিযোগগুলোকে বাহ্যিক ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখে তেহরান তার নেতৃত্বকে আরও সংহত করে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে থাকাকালীন ওয়াহিদি সবসময়ই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রকে প্রতিরোধের মূল হাতিয়ার মনে করতেন। ২০১২ সালে তিনি ফাতাহ-১১০ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ৩০০ কিলোমিটারে উন্নীত করার কর্মসূচির তদারকি করেন। ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কার মুখেই তিনি স্পষ্টভাবে ক্ষেপণাস্ত্রের বিকাশকে ইসরায়েলবিরোধী প্রতিরক্ষার অংশ হিসেবে তুলে ধরেন এবং ঘোষণা দেন যে ইরানে আক্রমণ চালানো হবে ইসরায়েলের জন্য আত্মঘাতী। পরবর্তীতে তিনি নিজস্ব বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (যেমন বাভার-৩৭৩) গড়ে তোলার কাজেও সক্রিয় ছিলেন। পাশাপাশি, দেশের পারমাণবিক কর্মসূচির সুরক্ষায় গোয়েন্দা তৎপরতার তদারকি করেন এবং ২০০৭ সালে ইসরায়েলি হামলা প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে গঠিত ওঘাব-২ সংস্থার দায়িত্ব নেন।

ওয়াহিদির ক্যারিয়ারের অন্যতম বৈপরীত্য ছিল তার চরম আদর্শিক অবস্থান সত্তেও কৌশলগত নমনীয়তা দেখানো। ১৯৮৫-৮৭ সালের বহুল আলোচিত ‘ইরান-কনট্রা অ্যাফেয়ার’-এ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের গোপন অস্ত্র চুক্তির বিষয়ে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ওয়াহিদির হিজবুল্লাহর ওপর প্রভাবই তেহরানকে সাহায্য করেছিল লেবাননে জিম্মি আমেরিকানদের মুক্ত করে ইসরায়েলের মাধ্যমে মার্কিন অস্ত্র সংগ্রহ করতে। তবে ক্ষমতার এই দীর্ঘ যাত্রায় তাকে বিপদেও পড়তে হয়েছিল; ১৯৮৮ সালে কেরমানশাহ প্রদেশে ইরাক সমর্থিত কমিউনিস্টদের (এমইকে) আক্রমণের দায় তার ওপর চাপানো হলে তৎকালীন আইআরজিসি প্রধান মোহসেন রেজাইয়ের সাথে তার বিরোধ তৈরি হয়। পরে আলি আকবর হাশেমি রফসানজানির মধ্যস্থতায় তিনি বড় শাস্তি থেকে রক্ষা পান এবং পরবর্তীতে কুদস ফোর্সের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন। অতি সম্প্রতি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি ২০২২ সালের মাহসা আমিনী কেন্দ্রিক আন্দোলন শক্ত হাতে দমন করেন এবং আন্তর্জাতিক চাপকে ঔপনিবেশিক ষড়যন্ত্র বলে আখ্যা দেন, যদিও পরবর্তীতে রাজনৈতিক অসন্তোষ প্রশমনে নিজের রাজনৈতিক ডেপুটি মোহাম্মদ-রেজা গোলামরেজাকে অপসারণ করার মতো কৌশলগত নমনীয়তাও দেখান।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে আহমদ ওয়াহিদি নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির অধীনে কাজ করছেন। তার সাবেক প্রধান মোহসেন রেজাই এখন সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি। দুজনেরই ইতিহাস দীর্ঘ এবং দুজনেই ইন্টারপোলের রেড নোটিশভুক্ত হলেও তারা আইআরজিসির শক্তি সংহত করতেই কাজ করে যাচ্ছেন। ২০২৬ সালে এসে তেহরানের এই পরিবর্তন কেবল ব্যক্তি ওয়াহিদির ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং পুরো ব্যবস্থাটি একটি সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ইউনিট হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও পদক্ষেপের মোকাবিলা করছে। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি হুমকির মুখে ইরানের যুদ্ধকালীন প্রশাসনে রিভোলিউশনারি গার্ডসের প্রভাব চরমভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে হোরমুজ প্রণালীতে ভূরাজনৈতিক প্রভাব ধরে রাখার এমন এক জটিল ও সংকটাপন্ন সময়ে আইআরজিসির প্রধান হিসেবে ওয়াহিদির মতো অভিজ্ঞ ভেটেরানের উত্থান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নিজস্ব শক্তির চাহিদাকেই প্রতিফলিত করে।

সূত্র: এনডিটিভি




নেপাল বিপর্যয়, কি এই ইনল্যান্ড সুনামি?

প্রকৃতির ভয়াল থাবায় ফের তছনছ হিমালয়ের কোলে গড়ে ওঠা দক্ষিণ এশিয়ার দেশ নেপাল। দেশটির রসুয়া ও নুয়াকোট জেলায় ভোটে কোশি এবং ত্রিশূলী নদীর ভয়াবহ প্লাবনে তৈরি হয়েছে এক মর্মান্তিক মানবিক বিপর্যয়। কেবল আবহাওয়ার কোনো সাময়িক পরিবর্তনের কারণে এই ভয়াবহ বন্যা নয় বরং কয়েক শতাব্দী ধরে চলে আসা ভূ-প্রাকৃতিক ও জলবায়ু পরিবর্তনের জটিল এক চক্রের বলি হয়েছে দেশটি।

গত বছরের জুলাইয়ের স্মৃতি ফিরিয়ে ঠিক ১৩ মাসের মাথায় আবারও ভেসে গেছে এই নির্দিষ্ট অঞ্চলটি। আন্তর্জাতিক সীমা পেরিয়ে তিব্বত থেকে নেমে আসা প্লাবনের তোড়ে রসুয়াগাড়িতে চীন-নেপাল ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ভেসে গেছে এবং দেড় শতাধিক মানুষের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি চার শতাধিক মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধারকাজ চরম ব্যাহত হচ্ছে, যা হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়িয়ে তোলার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত তিব্বত সীমান্তে জমে থাকা ক্ষণস্থায়ী বা অস্থিতিশীল হিমবাহিক হ্রদ ভেঙে গিয়ে বা হিমবাহে ধস নেমে এই বিপর্যয়ের সূচনা হয়েছে। নেপাল সরকারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তবর্তী এলাকায় কোনো শক্তিশালী ভূ-কম্পন বা পাহাড়ি ভূমিধসের কারণে একটি প্রধান নদীর স্বাভাবিক গতিপথ সাময়িকভাবে রুদ্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে জমা হওয়া বিপুল পরিমাণ পানি সেই বাঁধ ভেঙে প্রচণ্ড বেগে নিচের দিকে ধাবিত হতে শুরু করে, যাকে বিজ্ঞানীরা অভিহিত করছেন ‘ইনল্যান্ড সুনামি’ হিসেবে।

নদীমাতৃক এই সরু উপত্যকায় পানির উচ্চতা এবং বেগ এতই বেশি ছিল যে তীরবর্তী লোকালয়, শুকনো বন্দর, কাস্টমস অফিস এবং অসংখ্য অবকাঠামো মুহূর্তের মধ্যেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। হিমালয় অঞ্চলের বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে বরফ গলনের হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে, যার কারণে উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে হাজার হাজার বিপজ্জনক হিমবাহিক হ্রদ তৈরি হয়েছে। অত্যন্ত নাজুক এই হ্রদগুলো যেকোনো ছোটখাটো ভূ-কম্পন বা ভূমিধসে ভেঙে পড়ে তলদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ভাসিয়ে নিতে পারে।

এই সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের পেছনে পরিবেশগত ঝুঁকির পাশাপাশি ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের ক্রমাগত গতিশীলতা এবং মানবসৃষ্ট অপরিকল্পিত উন্নয়নকেও সমানভাবে দায়ী করছেন ভূ-বিজ্ঞানীরা। নেপাল একটি অত্যন্ত সক্রিয় টেকটোনিক অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় প্রতি বছর ভূ-ভাগ কয়েক মিলিমিটার করে ওপরে উঠছে, যার ফলে এখানকার পাহাড় ও মাটির বাঁধন অত্যন্ত দুর্বল। এর সাথে যুক্ত হয়েছে সীমান্ত বাণিজ্য জোরদার করতে নদীর তীরবর্তী অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ নিচু অঞ্চলে অবাধ নির্মাণকাজ এবং বেশ কয়েকটি হাইড্রোইলেক্ট্রিক বা জলবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন।

নদীর গতিপথ আটকে অবকাঠামো তৈরির ফলে পানির ধাক্কায় ধ্বংসস্তূপের ক্ষয়ক্ষতি বহুগুণ বেড়ে গেছে, এমনকি এই একক দুর্ঘটনায় দেশের জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড থেকে প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তিব্বতের হিমবাহ অঞ্চল নিয়ে চীনের সাথে দ্রুত ও সমন্বিত আগাম সতর্কবার্তা প্রদানের ব্যবস্থা না থাকায় বারবার একই ধরনের ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি ঘটছে। নেপালের পাহাড়ি উপত্যকা অতিক্রম করে এই জলচ্ছ্বাস এখন ভারতের সমতল ভূমির দিকে ধাবিত হচ্ছে, যা পুরো অঞ্চলের জন্যই একটি চিরস্থায়ী প্রাকৃতিক সতর্কবার্তা।




নেপালে বন্যা-ভূমিধসে প্রাণহানিতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

ডেস্ক নিউজ : নেপালে বুধবার আঘাত হানা আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় গভীরভাবে শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার এক শোক বার্তায় তিনি নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এবং নেপালের জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক সমবেদনা জানান।

শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নেপালে ভয়াবহ বন্যায় বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানির মর্মান্তিক ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত ও ব্যথিত। আমাদের চিন্তা ও প্রার্থনা প্রিয়জন হারানো সেসব পরিবার ও মানুষের সাথে রয়েছে, যাদের এই অপূরণীয় ক্ষতি বহন করতে হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, প্রকৃতির এই কঠিন বিপর্যয়ে নেপালের পাশে রয়েছে বাংলাদেশ। দুর্যোগের এই সংকটময় মুহূর্তে নেপালকে যেকোনো প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে বাংলাদেশ সরকার প্রস্তুত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বন্যায় নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।




আজ বিরল চন্দ্রগ্রহণ, দেখা যাবে যেসব অঞ্চল থেকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) গভীর রাত থেকে আগামীকাল শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরের মধ্যে আকাশে এক অদ্ভুত সুন্দর দৃশ্য দেখা যাবে। বিশ্বজুড়ে মহাকাশপ্রেমীরা উপভোগ করতে যাচ্ছেন এক গভীর আংশিক চন্দ্রগ্রহণ, যেখানে চাঁদের প্রায় ৯৬ শতাংশ অংশই পৃথিবীর ছায়ায় ঢাকা পড়ে যাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানায়, বাংলাদেশ সময় আগামীকাল শুক্রবার সকাল ১০:১২ মিনিটে (০৪:১২ জিএমটি) এই গ্রহণ তার সর্বোচ্চ রূপ ধারণ করবে। তবে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে মূল দৃশ্যটি সবচেয়ে পরিষ্কার দেখা যাবে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের দেশগুলো থেকে। পাশাপাশি ইউরোপ ও আফ্রিকার কিছু অংশ থেকেও চাঁদ ওঠা বা ডোবার সময় এর কিছুটা উপভোগ করা যাবে।

চাঁদের বেশিরভাগ অংশ পৃথিবীর সবচেয়ে অন্ধকার ছায়ায় ঢেকে গেলেও সূর্যালোক আমাদের বায়ুমণ্ডল ভেদ করে কিছুটা প্রতিফলিত হবে। ফলে চাঁদ পুরোপুরি অদৃশ্য না হয়ে তামাটে বা লালচে বর্ণ ধারণ করবে, যাকে অনেকেই রূপক অর্থে ‘ব্ল্যাড মুন’ বলেন।

পুরো চন্দ্রগ্রহণ প্রক্রিয়াটি পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চললেও এর আসল সৌন্দর্য অর্থাৎ চাঁদের এই লালচে ভাবটি অল্প কিছুক্ষণের জন্যই স্থায়ী হবে।

দারুণ ব্যাপার হলো, সূর্যগ্রহণের মতো এটি দেখতে চোখে বাড়তি কোনো প্রতিরক্ষামূলক চশমার প্রয়োজন নেই। মেঘমুক্ত আকাশ থাকলে সাধারণ খালি চোখেই চমৎকার এই মহাজাগতিক দৃশ্যটি প্রত্যক্ষ করা যাবে।




নেপালে আকস্মিক বন্যা-ভূমিধসে নিহত বেড়ে ১৫৭, নিখোঁজ পাঁচ শতাধিক বিদেশি পর্যটক

আন্তর্জাতিক নিউজ : নেপালের মধ্যাঞ্চলীয় বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে অন্তত ১৫৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ৫৭৯ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন, যার একটি বড় অংশই বিদেশি পর্যটক। ২০১৫ সালের প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের পর এটিকে নেপালের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুর্গত এলাকাগুলো থেকে ১৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে চিতওয়ান থেকে। এছাড়া গোর্খায় ১৯, ধাদিংয়ে ১৮, নুয়াকোটে ১১, নওয়ালপুরে ১১, তানাহুঁতে সাত এবং রসুয়ায় একজনের মরদেহ পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

নেপাল পর্যটন বোর্ডের তথ্যমতে, নিখোঁজ ৫৭৯ জনের মধ্যে ৪৬৬ জনই বিদেশি নাগরিক। এর মধ্যে ভারতের ১৩৩ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৫৪ জন এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ২৮টি দেশের নাগরিক এবং ১১৩ জন নেপালি নাগরিক রয়েছেন। ট্যুর অপারেটররা জানিয়েছেন, নিখোঁজ এই পর্যটকদের বেশিরভাগই ভারত ও নেপালের সীমান্তবর্তী মানস সরোবরের উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন।

বুধবার সকালে তিব্বত অঞ্চলে সংঘটিত একটি ভূমিকম্পের পরই এই আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, তিব্বতের ওই ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৪। এদিকে তিব্বতের গিরংয়েও তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বাত্মক অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন।

বন্যা ও ভূমিধসে নেপালের বিদ্যুৎ খাতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জল ও সৌরবিদ্যুৎ মিলিয়ে প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। নদীর তীব্র পানির তোড়ে বাড়িঘর ভেসে গেছে এবং বিস্তীর্ণ জনবসতি কাদামাটিতে তলিয়ে গেছে।

প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এই ভয়াবহ দুর্যোগে গভীর শোক প্রকাশ করে জানিয়েছেন, সরকার উদ্ধার অভিযান শুরু করতে তাৎক্ষণিকভাবে সব ধরনের সম্পদ ও সক্ষমতা কাজে লাগিয়েছে। উপদ্রুত এলাকায় সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলাকর্মী মোতায়েন করেছে। তবে কাঠমান্ডুভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইসিমোডের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে যে, সীমান্ত নদীর উজানে এখনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়ে থাকায় যেকোনো সময় দ্বিতীয় দফায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।




তামাবিল দিয়ে ৬ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাল ভারত

ডেস্ক নিউজ : সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে সাজাভোগ শেষে ৬ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে ভারত। বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকালে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার তামাবিল ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে তাদেরকে হস্তান্তর করা হয়।

তামাবিল ইমিগ্রেশন পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফেরত আসা এসব বাংলাদেশি নাগরিক বিভিন্ন সময় সিলেটের গোয়াইনঘাট, সুনামগঞ্জ ও জামালপুর জেলার সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। অনুপ্রবেশের দায়ে দেশটির পুলিশ তাদের আটক করে আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলং ডিস্ট্রিক্ট কারাগারে ৩ জন ও ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ওয়েস্ট গারো হিলস জেলার তুরা কারাগারে ৩ জন কারাগারে ছিলেন।

হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করে তামাবিল ইমিগ্রেশন পুলিশের ইনচার্জ এসআই মো. বজলুর রশিদ জানান, বিজিবি, বিএসএফ ও উভয় দেশের পুলিশের উপস্থিতিতে ৬ বাংলাদেশিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রহণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাদেরকে আত্মীয়-স্বজনের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।




দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশ ইমার্জিং দলেরও ইনিংস ব্যবধানে হার

ক্রীড়া ডেস্ক : দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে ইনিংস ও ৪১৩ রানে হেরেছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। একই চিত্র বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের। দুই ইনিংস মিলেও সাউথ আফ্রিকা ইমার্জিং দলের এক ইনিংসের সমান রান করতে পারেননি মাহফিজুল ইসলাম রবিন-ইফতেখার হোসেন ইফতিরা। ব্যাটারদের ব্যর্থতায় দ্বিতীয় চার দিনের ম্যাচে ইনিংস ও ১৬ রানে হেরেছে বাংলাদেশ ইমার্জিং দল।

বেনোনির উইলমোর পার্কে জেপি কিংয়ের সেঞ্চুরি ও মাইকেল ভ্যান ভারেনের হাফ সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে ৮ উইকেটে ৪৯৭ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং। নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ইফতি ও রবিনের হাফ সেঞ্চুরির পরও ২৭১ রান তোলে বাংলাদেশ। এমন অবস্থায় সফরকারীদের ফলোঅন করায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

৩ উইকেটে ৯৪ রান নিয়ে চতুর্থ দিন সকালে ব্যাটিংয়ে নামেন ইফতি ও চৌধুরি মোহাম্মদ রিজওয়ান। সকালের শুরুতে ১২৮ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন ইফতি। বাঁহাতি ওপেনারের পঞ্চাশ ছোঁয়ার ওভারে আউট হয়েছেন রিজওয়ান। স্পিনার শেল্ক এনগেলব্রেখটের বলে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে মিড অনে ক্যাচ দিয়েছেন ৯৫ বলে ২৮ রানের ইনিংস খেলা ডানহাতি এই ব্যাটার। হাফ সেঞ্চুরির পর আউট হয়েছেন ইফতিও।

এনগেলব্রেখটের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে কাট করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন বাঁহাতি ওপেনার। ১৫৩ বলে ৫৯ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি। প্রথম ইনিংসেও হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন ইফতি। এরপর প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ও মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। যদিও তাদের দুজনের জুটি খুব বেশি বড় হয়নি। মধ্যাহ্ন বিরতি থেকে ফিরেই সাজঘরে ফেরেন বিপ্লব।

ডানহাতি স্পিনারের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে আউট সাইড এজ হয়ে স্লিপে ক্যাচ দিয়েছেন। ৪৩ বলে ১৩ রান করেছেন বিপ্লব। শেষের দিকে মইন খান, রোহান, মেহেদী হাসানরা দ্রুতই ফিরেছেন। শেষ ব্যাটার হিসেবে আব্দুল্লাহ ৪৪ রানে ফিরলে ২১০ রানে অল আউট হয় বাংলাদেশ ইমার্জিং। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে স্পিনার এনগেলব্রেখট একাই নিয়েছেন পাঁচ উইকেট।