বাড়ল বিদ্যুতের দাম, বাড়বে চাপ

ডেস্ক নিউজঃ বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির চাপ কমাতে বাড়ানো হয়েছে দাম। পাইকারি ও খুচরা—উভয় পর্যায়েই দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, খুচরা পর্যায়ে ইউনিটপ্রতি গড়ে ১ টাকা ৫২ পয়সা এবং পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১ টাকা ৩৯ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় মূল্য ১৬.৬৮ শতাংশ এবং পাইকারি পর্যায়ে ১৯.৮৫ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুতের সঞ্চালন (ট্রান্সমিশন) চার্জ ২৩.৯৬ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
গতকাল বুধবার রাজধানীর রমনায় কমিশন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ এই ঘোষণা দেন।

কমিশনের আদেশ অনুযায়ী, চলতি জুন মাসের বিল থেকেই নতুন দাম কার্যকর হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ার প্রভাব শুধু বিদ্যুৎ বিলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; শিল্প উৎপাদন ব্যয়, সেচ কার্যক্রম, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়েও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ফলে মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা ভোক্তাদের ওপর নতুন করে আর্থিক চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিইআরসির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় মূল্য প্রতি ইউনিট ৭ টাকা।

নতুন সিদ্ধান্তে তা ১ টাকা ৩৯ পয়সা বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় মূল্য ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ১০ টাকা ৬৩ পয়সায়। এ ছাড়া বিদ্যুতের সঞ্চালন হুইলিং চার্জও বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যমান ৩১.৩৫ পয়সা থেকে তা বাড়িয়ে ৩৮.৮৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিইআরসি জানায়, বিদ্যুৎ উৎপাদন, ক্রয় ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যয় এবং সার্বিক আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন মূল্যহার নির্ধারণ করা হয়েছে।

কমিশনের হিসাবে, পাইকারি মূল্য বাড়ানোর পরও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) ঘাটতি পূরণে সরকারকে বছরে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে।

এর আগে গত ২০ ও ২১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বিইআরসির গণশুনানিতে দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কম্পানি খুচরা পর্যায়ে ইউনিটপ্রতি ৮৫ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। বিপিডিবি ৮৫ পয়সা, আরইবি ১ টাকা ৭৭ পয়সা, ডিপিডিসি ১ টাকা ৫৪ পয়সা, ডেসকো ১ টাকা ৯৮ পয়সা, ওজোপাডিকো ১ টাকা ৩৯ পয়সা এবং নেসকো ২ টাকা ৫ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়।

বিদ্যুতের দাম বাড়ার তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নতুন করে বিদ্যুতের দাম বাড়ার ফলে সবচেয়ে কম ব্যবহারকারী লাইফ লাইন গ্রাহকদের (০ থেকে ৫০ ইউনিট ব্যবহারকারী) প্রতি ইউনিটে ১৪.৯০ শতাংশ করে বাড়বে। নিম্ন আয়ের মানুষকে সুলভ মূল্যে বিদ্যুৎ সুবিধা দিতে ‘লাইফ লাইন গ্রাহক’ নাম দেওয়া হয়। বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ প্রথায় প্রথম ৫০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের লাইফ লাইন গ্রাহক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গত ১৬ বছরে লাইফ লাইন গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল প্রায় দ্বিগুণ বাড়ানো হয়েছে। ২০১০ সালের ১ মার্চ লাইফ লাইন গ্রাহকরা প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য ২ টাকা ৫০ পয়সা দিতেন। তবে ২০২৬ সালের জুনে এসে প্রতি ইউনিট ৫ টাকা ৩২ পয়সা করা হয়েছে। বিদ্যুতের বাড়তি এই বিলের কারণে মাস শেষে তাদের ওপর আরো বাড়তি চাপ তৈরি হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যে জীবনযাপনের ব্যয় নির্বাহে দুর্ভোগে আছে সাধারণ মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোয় তাদের জীবনসংগ্রাম আরো কঠিন হয়ে উঠবে।

বিদ্যুতের নতুন দাম অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ০ থেকে ৭৫ ইউনিট ব্যবহারকারীর বিদ্যমান দাম ৫.২৬ টাকা থেকে ১৭.৪৯ শতাংশ বাড়িয়ে ৬.১৮ টাকা, দ্বিতীয় ধাপে ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যমান দাম ৭.২০ টাকা থেকে ১৮ শতাংশ বাড়িয়ে ৮.৫০ টাকা, ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যমান দাম ৭.৫৯ টাকা থেকে ১৯.৮৯ শতাংশ বাড়িয়ে ৯.১০ টাকা, ৩০১ থেকে ৪০০ ইউনিটের বিদ্যমান দাম ৮.০২ টাকা থেকে ১৯.৯৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৯.৬২ টাকা, ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যমান দাম ১২.৬৭ টাকা থেকে ১৮.৪৬ শতাংশ বাড়িয়ে ১৫.০১ টাকা এবং সর্বশেষ ধাপ ৬০০ ইউনিটের ঊর্ধ্বে ব্যবহারকারীদের বিদ্যমান দাম ১৪.৬১ টাকা থেকে ১৮.৭৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১৭.৩৫ টাকা করা হয়েছে।

একই সঙ্গে সেচ পাম্পে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৫.২৫ টাকা থেকে ৬.০৪ টাকা করা হয়েছে। ক্ষুদ্র শিল্পে (ফ্ল্যাট) প্রতি ইউনিটে ১৮.৩০ শতাংশ বাড়িয়ে ১০.৭৬ টাকা থেকে ১২.৭৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বাণিজ্যিক ও অফিস, ইলেকট্রিক ভেহিকল ও ব্যাটারি চার্জিং, শিক্ষা, ধর্মীয়, হাসপাতাল এবং দাতব্য প্রতিষ্ঠানে ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দামও বাড়ানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম গতকাল বলেন, ‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগবে নিম্ন আয়ের ও কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী পরিবারগুলোর ওপর। বিশেষ করে ‘লাইফলাইন’ গ্রাহকদের জন্য যে ভর্তুকি দীর্ঘদিন ধরে দেওয়া হয়ে আসছে, সেটি কমিয়ে আনায় তাদের বিদ্যুৎ বিল তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি বাড়বে। লাইফলাইন ব্যবস্থা মূলত কম ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য চালু করা হয়েছিল। কিন্তু যেহেতু এটি সবার জন্য প্রযোজ্য, তাই এর সুবিধাও সবাই পেয়ে আসছিল। এখন ভর্তুকি কমানোর সবচেয়ে সহজ উপায় হিসেবে লাইফলাইন শ্রেণির গ্রাহকের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি শুধু বিদ্যুৎ বিলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর প্রভাব পড়বে সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর। একটি পরিবারের জ্বালানি ব্যয়ের মধ্যে শুধু বিদ্যুৎ নয়, রান্নার জ্বালানি, পরিবহন ব্যয় এবং অন্যান্য শক্তিনির্ভর খরচও অন্তর্ভুক্ত। বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এসব খাতেও পরোক্ষ প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন পণ্য ও সেবার মূল্য বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।’

অধ্যাপক ম. তামিম আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের শিল্প ও উৎপাদন খাত ব্যাপকভাবে বিদ্যুিনর্ভর। খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, ভোজ্যতেল, প্লাস্টিক সামগ্রী, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণসহ প্রায় সব ধরনের উৎপাদন কার্যক্রমে বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়। ফলে বিদ্যুতের দাম বাড়ার প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে না পড়লেও ধীরে ধীরে বাজারে বিভিন্ন পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমবে এবং কর্মসংস্থানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।’

তিনি বলেন, ‘কৃষি খাতে এর প্রভাব ব্যাপকভাবে পড়বে। বর্তমানে দেশের অনেক অঞ্চলে সেচব্যবস্থা বিদ্যুিনর্ভর হয়ে উঠেছে। বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি সেচ ব্যয় বাড়াবে, যা শেষ পর্যন্ত কৃষি উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণ হতে পারে।’

ভর্তুকি কমানোর বিষয়ে অধ্যাপক তামিম বলেন, ‘শুধু বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে নয়, উৎপাদন ব্যয় কমিয়েও ভর্তুকি হ্রাস করা সম্ভব। বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় কোথায় অদক্ষতা রয়েছে, কিভাবে উৎপাদন খরচ কমানো যায় এবং বিদ্যুৎ খাতের পরিচালনায় কী ধরনের সংস্কার প্রয়োজন—এসব বিষয় আগে গুরুত্বসহকারে মূল্যায়ন করা উচিত।’

নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ধীরে ধীরে কমিয়ে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে শিল্প-কারখানা, বাণিজ্যিক ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস এবং বৃহৎ ছাদসমৃদ্ধ স্থাপনাগুলোতে রুফটপ সৌরবিদ্যুতের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এতে গ্রিডের ওপর চাপ কমবে, জ্বালানি আমদানির ব্যয় হ্রাস পাবে এবং দীর্ঘ মেয়াদে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয়ও কমানো সম্ভব হবে।’

কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। তাই বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি শিল্প, কৃষি, পরিবহন ও গৃহস্থালি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়াবে, যার চূড়ান্ত প্রভাব ভোক্তাদের ওপর পড়বে। ফলে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি আরো তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, সিস্টেম লস ও ক্যাপাসিটি চার্জ কমানোর পরিবর্তে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপানো হয়েছে, যা দুঃখজনক। দুই দফা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষ, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য নেতিবাচক বার্তা বহন করে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে তা বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।’




পোস্টিং থেকে পাচার—মোয়াজ্জেমের দুর্নীতির সাম্রাজ্য, দুদকের জালে অবৈধ সম্পদের খোঁজ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন যেখানেই বদলি হন গড়ে তোলেন দুর্নীতির সিন্ডিকেট, চুক্তি করে টাকা নেন, শিল্পপতিদের কাছে হুন্ডি করে টাকা পাচার করে জোগান ছেলের লেখাপড়ার খরচ, যুক্তরাষ্ট্রেও কিনেছেন বাড়ি।

দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে মিলেছে অবৈধ সম্পদের প্রমাণ, চেষ্টা করছেন আওয়ামী ঘনিষ্ঠতা আড়াল করে এনবিআরের চেয়ারম্যান হতে দৌঁড়ঝাপ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআরের কাস্টমস ও ভ্যাট প্রশাসন শাখার সদস্য মো. মোয়াজ্জেম হোসেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে দায়িত্ব পালন করেছেন ঢাকা কাস্টম হাউসসহ বিভিন্ন দপ্তরে। কখনও তদ্বির করে পছন্দের পোস্টিং নিয়েছেন। আবার কখনও দুর্নীতির অভিযোগে কম গুরুত্বপূর্ণ কমিশনারেটে শাস্তিমূলক বদলি হয়েছেন। তবে যেখানেই গিয়েছেন, সেখানেই দুর্নীতির শক্ত সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। এভাবে দেশে ও বিদেশে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। শুধু তাই নয়, বড় শিল্প গ্রুপের মালিক, ব্যাংকের চেয়ারম্যানদের থেকেও ডিডের মাধ্যমে টাকা ধার করেন। তবে তার দুর্নীতির তথ্য অনেকের কাছে থাকলেও পদোন্নতি পেতে বেগ পেতে হয়নি মোয়াজ্জেম হোসেনকে। কারণ পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের একাধিক মন্ত্রীর সঙ্গে ছিল তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে এসব তথ্য ও প্রমাণ উঠে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, এনবিআরের গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলি বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করছেন মোয়াজ্জেম হোসেন। পাশাপাশি বিভিন্ন কাস্টম হাউসে কর ফাঁকির চালান খালাসে কর্মকর্তাদের বাধ্য করছেন। শুধু ঢাকা কাস্টম হাউস থেকেই সপ্তাহে অন্তত ৫০ লাখ টাকা ঘুষের ভাগ নেয়ার অভিযোগ মিলেছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যানের সঙ্গে ৩০ লাখ টাকা ধারের চুক্তি:
বাংলাদেশের আমদানী খাতের অন্যতম নিয়ন্ত্রক মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ-এমজিআই। গ্রুপটির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামালের কাছ থেকে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে ৩০ লক্ষ টাকা ধার নিয়েছেন মোয়াজ্জেম হোসেন। কমিউনিটি ব্যাংকের মাধ্যমে এই অর্থ লেনদেন হয়। চেক নং-সি এ-০৩০৬৯** ছেলের লেখাপড়ার খরচ বাবদ তিনি এ টাকা ধার নেন। একশ টাকার দলিলে ধারের চুক্তি করেন মোয়াজ্জেম হোসেন।

ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যানের কাছে ৩০ লাখ টাকা ধার:
২০২২ সালের ২৮ অক্টোবর ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক গুলাম মোহাম্মদ আলমগীর কাছে থেকে সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের মাধ্যমে ৩০ লাখ টাকা ধার হিসেবে গ্রহণ করেন। ব্যাংকের চেক নম্বর সিডি এস এন বি- ১৫০৬৩**. জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কমিশনারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা অবস্থায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে থেকে চেকের মাধ্যমে টাকা গ্রহণ করা দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এর ৫ এর (২) ধারায় সরাসরি অপরাধ।

এছাড়াও টাকা দেয়া ব্যক্তিও নিজেও দুদকের মামলায় গ্রেফতারকৃত। ছেলের লেখাপড়ার খরচ বাবদ এ অর্থ নেন মোয়াজ্জেম হোসেন।

আওয়ামী লীগের দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী মায়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ:
আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতিবাজ মন্ত্রীদের মধ্যে অন্যতম মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। তিনি দুদকের মামলার আসামি। মায়ার সঙ্গে কোনো পারিবারিক সম্পর্ক না থাকলেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রক্ষা করে চলেন মোয়াজ্জেম হোসেন। মায়ার যে কোন পারিবারিক অনুষ্ঠানে হাজির হতেন মোয়াজ্জেম এবং প্রকাশ্যে নিজেকে মায়ার আত্মীয় বলে দাবি করতেন।

হুন্ডির মাধ্যমে যায় ছেলের শিক্ষার খরচ:
মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে আমেরিকার জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটিতে করেন। প্রতি সেমিস্টারে তার পড়ালেখার খরচ ৩৫ হাজার ডলার। টাকায় যা প্রায় ৪৩ লাখ। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, মোয়াজ্জেম হন্ডির মাধ্যমে এই টাকা আমেরিকায় পাঠান। এমনকি ছেলে রাগীব মোয়াজ্জেমের এই লেখাপড়ার খরচের বৈধ উৎসও নেই মোয়াজ্জেমের।

বাল্টিমোরে বাড়ি :
অভিযোগ উঠেছে, সম্প্রতি আমেরিকার মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের বাল্টিমোরে একটি বাড়ি কিনেছেন মোয়াজ্জেম হোসেন। তবে এটি তিনি নিজের নামে কেনেননি। বাড়িটি কিনেছেন ছেলে ও ছেলের স্ত্রী আদিবা গাফফারের নামে।

মোয়াজ্জেমের বাড়ি ও জমির ফিরিস্তি:
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে একটি ৮ তলা ভবন নির্মাণ করছেন মোয়াজ্জেম হোসেন। এটি তৈরির কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। ঢাকার ধানমন্ডি ও উত্তরা মোয়াজ্জেম হোসেনের রয়েছে ২টি ফ্ল্যাট। অভিযোগ মিলেছে, ঢাকার পূর্বাচলে দুটি প্লট, জলসিড়ি প্রকল্পে ০১টি প্লট, ডিওএইচএস এলাকায় দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে তার।

দুদকের গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, এসব সম্পদের খোঁজ বের করতে প্রকাশ্য অনুসন্ধান করা দরকার। মোয়াজ্জেম হোসেন সাভারের বিরুলিয়ার গ্রীণ ভ্যালি কর্পোরেট সোসাইটিতে বিভিন্ন সময়ে বিনিয়োগ করেছেন ১২ লাখ টাকা। উত্তরা ব্যাংকের একটি হিসাবে কোটি কোটি টাকা লেনদেন করেছেন মোয়াজ্জেম হোসেন। হিসাবটির নম্বর: ১৫৭৮১১১০০১১২০*।এখনও এই একাউন্টে ৩৮ লাখ টাকা স্থিতি রয়েছে। এছাড়া সিটি ব্যাংক পিএলসির হিসাব নম্বর: ২৩০৩৬৯৭২৩৪০* এবং সোনালী ব্যাংক পিএলসির হিসাব নম্বর: ৪৪৩২১০১০০৫২** এর মাধ্যমে অস্বাভাবিক লেনদেন করেছেন মোয়াজ্জেম হোসেন।

দুদক গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, এসব একাউন্টে লেনদেনের সঠিক পরিমাণ জানতে প্রকাশ্য অনুসন্ধান জরুরী। আইডিএলসিতে (হিসাব নম্বর: আইডিএ ৩২১৪) এখনো ২৫ লাখ টাকা টাকা স্থিতি রয়েছে।

ঢাকা কাস্টম হাউসে দুর্নীতি:
মোয়াজ্জেম হোসেন ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাটের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার মাত্র ৫ মাসের মধ্যে তৎকালীন চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন ভুঁইয়ার ভাইকে ঘুষ দিয়ে ঢাকা কাস্টম হাউসের কমিশনার পদে বাগিয়ে নেন। তারপর সেখানে ঘুষ-দুর্নীতি, স্বর্ণ চোরাচালানসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। উপার্জন করেন বিপুল অর্থ।

অনুসন্ধানে দুদক গোয়েন্দারা জানতে পারেন, ২০২০ সালে মিথ্যা ঘোষণার অভিযোগে নুসাইবা ট্রেডিং নামক কোম্পানির একটি চালান আটক করে এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা-সিআইসি। চালানটিতে কোটি টাকার বেশির শুল্ক ফাঁকির প্রমাণও মেলে। তা সত্ত্বেও কমিশনার মোয়াজ্জেম হোসেনের নির্দেশে পণ্য ছেড়ে দেন ডেপুটি কমিশনার মারুফ। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে তদন্তে নামে এনবিআর। জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি।

মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ঢাকা কাস্টম হাউসে ৬ লাখ পিস মেমরি কার্ড তছরুপেরও অভিযোগও মিলেছে। মামুন হাওলাদার নামে এক যাত্রী ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর অবৈধভাবে ৬ লাখ পিস মেমরি কার্ড আমদানি করেন। গ্রিন চ্যানেল পার হওয়ার সময় তা শুল্ক কর্মকর্তাদের হাতে ধরা পড়ে। মাত্র ৩২ লাখ টাকার বিনিময়ে এসব পণ্য ছেড়ে দেয়ার আয়োজন করেন কমিশনার মোয়াজ্জেম হোসেন। যদিও পরবর্তীতে পণ্য হারিয়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।

ক্ষতিপূরণ হিসেবে আমদানিকারককে ৫ কোটি টাকা সরকারি কোষাগার থেকে দেয়ার চেষ্টা করেন। বিষয়টি জানতে পেরে তদন্তে নামে এনবিআর ও দুদক। এঘটনায় আমদানি-রপ্তানি নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তরের চার কর্মকর্তার শাস্তি হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে মোয়াজ্জেম হোসেন।

যশোর ভ্যাটের কমিশনার পদে থেকে দুর্নীতি:
যশোর ভ্যাটের দায়িত্বে থাকাকালে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় অবস্থিত আলী বিড়ি কোম্পানি থেকে মাসে ৪৫ লাখ ঘুষ নিতেন মোয়াজ্জেম হোসেন। বিনিময়ে কোম্পানিটিকে দিনে বন্ধ দেখিয়ে রাতে উৎপাদন চালানোর সুযোগ দেন।

মাগুরায় ভুয়া মামলায় ভিশন ড্রাগস লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে এক কোটি টাকার ঘুষ দাবির ঘটনায় মাগুরা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের দুই কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। এদুজন হলেন রাজস্ব কর্মকর্তা বাহারুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মুহাম্মদ আল-মনছুর। মূলত তারা কমিশনারের পক্ষে ঘুস আদায় করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে এই দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়।

এছাড়া বিআরবি কেবল সহ বিভিন্ন বিড়ি-সিগারেট ফ্যাক্টরি থেকে প্রতি মাসে কোটি টাকা ঘুষ নিতেন মোয়াজ্জেম হোসেন। কুষ্টিয়া ও ফরিদপুরে কয়েকটি বিড়ি ফ্যাক্টরির একটি জাল ব্যান্ডরোল আটকের পর ঘুষের বিনিময়ে ছেড়ে দেয়ার ঘটনার অডিও রেকর্ড ফাঁস হলে মোয়াজ্জেম হোসেনকে চট্টগ্রাম ভ্যাট আপীলে বদলি করা হয়।

রাজশাহী ভ্যাটে দুর্নীতি:
২০১৮ সালে রাজশাহী ভ্যাটের কমিশনার থাকাকালে মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকিতে সহযোগিতার অভিযোগও ওঠে। পাবনায় অবস্থিত ইউনিভার্সেল গ্রুপের ভ্যাট ফাঁকি তদন্তে সহকারী কমিশনার সন্তোষ সরেনকে নির্দেশ দেন কমিশনার মোয়াজ্জেম হোসেন। অডিটে ২৭৩ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া যায়। কিন্তু মামলা নিষ্পত্তি করতে ১১ কোটি টাকা ঘুষ দাবি করেন মোয়াজ্জেম। এনিয়ে প্রতিবেদন প্রচার হয় গণমাধ্যমে। পরবর্তীতে ইউনিভার্সাল ফুড কোম্পানী স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

এনবিআরের বদলি বাণিজ্য:
মোয়াজ্জেম হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে ব্যাপকভাবে ঘুষের বিপরীতে বদলি বাণিজ্য শুরু হয়েছে। রাজস্ব কর্মকর্তা বদলিতে ঘুষের রেট উঠেছে ২৫ লাখ টাকায়। দুদকের গোপন অনুসন্ধানে জানা যায় যে, মোয়াজ্জেম হোসেন শুল্ক ও ভ্যাট প্রশাসন শাখার দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই পছন্দের অফিসারদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পদায়ন করছেন। এমনকি কমিশনারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মাঠ পর্যায়ের সকল অভ্যন্তরীণ পোস্টিংও নিয়ন্ত্রণ করছেন মোয়াজ্জেম হোসেন। পাশাপাশি বিভিন্ন দপ্তর থেকে নিয়মিত ঘুষ আদায় করছেন। অভিযোগ উঠেছে, শুধু ঢাকা কাস্টম হাউস থেকেই সপ্তাহে ৫০ লাখ টাকা ঘুষের ভাগ নিচ্ছেন তিনি।




কিশোরগঞ্জ এলজিইডিতে অনিয়মের পাহাড়, অগ্রিম বিল বাণিজ্যে কোটি কোটি টাকার সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ প্রকৌশলী আমিরুল ইসলাম ২০২১ সাল থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত এলজিইডি কিশোরগঞ্জ নির্বাহী প্রকৌশলী হিসাবে কর্মরত থাকা অবস্থায় Haor Infrastructure and livelihood Improvement Project (HILIP) প্রকল্পে কাজ না করে ভুয়া LCS কমিটির মাধ‍্যমে সাবেক রাষ্ট্রপ্রতি মোঃ আব্দুল হামিদের এলাকা ইটনা, মিঠামইন এবং অষ্টোগ্রামে কোটি কোটি টাকা উত্তোলন, অত‍্যন্ত নিম্নমানের Submergible Road নির্মাণ যা ১ বছরের মধ‍্যে অস্তিত্বহীন হয়ে যাওয়া এবং ময়মনসিংহ অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প, আমফান প্রকল্প, আইআরআইডিপি প্রকল্প, জিওবি মেইন্টেনেন্সসহ বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ না করে শত শত কোটি টাকার অগ্রিম বিল প্রদান করেছেন এবং সেখান থেকে ঠিকাদারের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা হিসেবে কোটি কোটি টাকা নিয়েছেন।

সূত্র জানায়, ২টি প্রকল্পের মধ্যে তিনি প্রায় ৬ কোটি টাকা অগ্রীম বিল প্রদান করেছেন। যা তার কর্মকালীন সময়ে খুবই সামান‍্য। ময়মনসিংহ অঞ্চল প্রকল্পের আওতায় আব্দুল্লাহপুর উত্তরপাড়া থেকে ঘোষের কান্দি সড়ক। যার দৈর্ঘ‍্য ২ কিলোমিটার। উপজেলা অষ্টগ্রাম। ঠিকাদার-সরকার কনস্ট্রাকশন। অগ্রিম বিল প্রদান ১ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা।

আমফান প্রকল্পের আওতায় কাঠখাল বাজার থেকে বই রাত ইউনিয়ন পরিষদ সড়ক সাড়ে ৪ কিলোমিটার মেরামত। উপজেলা মিঠামইন। ঠিকাদার-মোজাহার এন্টারপ্রাইজ।

অগ্রীম বিল প্রদান ৩ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা। এরকম বিভিন্ন প্রকল্পে তিনি কোটি কোটি টাকার অগ্রীম বিল প্রদান করেছেন। প্রকৌশলী আমিরুল ইসলাম কিশোরগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালীন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ এবং তাঁর ছেলেদের ছত্রছায়ায় থেকে এলজিইডির কাউকে পরোয়া করেননি। আমিরুলের কাছে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী থেকে প্রকল্প পরিচালক সবাই ছিলেন অসহায়। তার বিরুদ্ধে এলজিইডি, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং দুদক থেকে কয়েকবার তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও বঙ্গভবনের নির্দেশে সে সব তদন্ত ধামাচাপা পড়ে গেছে। আমিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে জমা পড়া অভিযোগসমূহ পুণ:তদন্ত করলেই তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর সত‍্যতার প্রমাণ পাওয়া যাবে বলে সচেতনমহল মনে করেন। আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর পরই প্রকৌশলী আমিরুল ইসলাম বোল পাল্টে এখন বিএনপি ঘরনার লোক বনে গেছেন। নানা অভিযোগের ব্যাপারে তার বক্তব্য জানতে এই প্রতিবেদক তার অফিসে গেলে তিনি সাক্ষাত দেননি।




হাম ও উপসর্গে একদিনে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি ৬০০ ছাড়াল

ডেস্ক নিউজ : গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২৬৫ জন।

আজ বুধবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে এখন পর্যন্ত সারা দেশে ৬০১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৯০ শিশুর। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫১১ জন।

একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে (পরীক্ষায় প্রমাণিত) ৯ হাজার ১৯১ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ৭৪ হাজার ৫৭২ জন। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি। এ বিভাগের হাম ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ২৬৪ জনের ও আক্রান্ত হয়েছে ৪১ হাজার ৪৪৯ জন।

এই হিসাব গত ১৫ মার্চ সকাল ৮টা থেকে আজ বৃধবার (৩ জুন) সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের।




মায়ের প্রতি অবহেলা: যুগ্ম সচিব ছেলে আনিসুরকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার

ডেস্ক নিউজ : রাজধানীর মিরপুরে একটি বাসায় ৭৫ বছর বয়সী নুরজাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় তার ছেলে যুগ্মসচিব আনিসুর রহমানকে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে সরকার।

বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে জানানো হয়েছে, তাকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তাকে ৪ জুনের মধ্যে (বৃহস্পতিবার) বর্তমান কর্মস্থল হতে অবমুক্ত হয়ে বদলি কর্মস্থলে যোগদান করবেন; অন্যথায় তিনি ৪ জুন অপরাহ্ণে বর্তমান কর্মস্থল হতে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) বলে গণ্য হবেন।

এর আগে দুপুরে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী জানান, পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে যুগ্ম-সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বক্তব্য নেওয়াসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

গত ৩১ মে ঢাকার মিরপুর-১১ নম্বরে একটি বাসা থেকে ৭৫ বছর বয়সী নুরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ৯৯৯–এ ফোন পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, মরদেহটি পচে গিয়ে পোকায় ধরেছিল। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, পুরো বাসাটি ছিল নোংরা ও অগোছালো। দুর্গন্ধ পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান বাসির বলেন, নুরজাহান বেগম যে বাসায় ছিলেন, সেটা তার মেয়ের বাসা। সেখানে তিনি মেয়ের সঙ্গে থাকতেন। বাসাটি খুব নোংরা ছিল।

ওসি আরও বলেন, নুরজাহানের এক ছেলে যুগ্ম সচিব, আরেক ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক। এক মেয়ে স্থানীয় একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন।

নুরজাহান বেগমের এমন মৃত্যুর ঘটনায় তার সন্তানদের অবহেলার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে নানা সমালোচনা হচ্ছে।




কুয়েতে নজিরবিহীন হামলা: চরম আতঙ্কে জিসিসি দেশগুলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কুয়েতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য দেশগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে চালানো হামলা শুধু কুয়েতের নিরাপত্তার জন্যই নয়, বরং পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের বেসামরিক বিমান চলাচল ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা।

নিরাপত্তা পর্যবেক্ষকদের ভাষ্যানুযায়ী, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এটিই সবচেয়ে তীব্র, দ্রুতগতির এবং সমন্বিত হামলার ঘটনা। শুধু বর্তমান যুদ্ধবিরতির সময়কাল নয়, আগের যুদ্ধবিরতির পরও এত বড় মাত্রার হামলা দেখা যায়নি।

তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ঠিক আগে কুয়েতে ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছিল। এবারও একইভাবে কুয়েতকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। হামলায় ইরান থেকে কুয়েতের দিকে ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৭টি ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হামলার ধরন ও ব্যবহৃত অস্ত্রের সংখ্যা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সংঘাতের শুরুর দিকে দেখা হামলাগুলোর সঙ্গে অনেকটাই সাদৃশ্যপূর্ণ। ফলে শুধু কুয়েত নয়, পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামো নিয়েই নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কুয়েত বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। কারণ উপসাগরীয় অঞ্চলের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলো বিশ্বব্যাপী বিমান যোগাযোগ ও বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এ ধরনের হামলা বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলোর কার্যক্রমেও প্রভাব ফেলতে পারে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা, উপসাগরীয় অঞ্চলের সব দেশ এখন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষ করে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, জাতীয় বিমান সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলো আগামী ২৪ ঘণ্টাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে।

তাদের মতে, কুয়েতে হামলার পর সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন ও ওমানসহ উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের বিমানবন্দর নিরাপত্তা এবং আকাশসীমা পর্যবেক্ষণ আরও জোরদার করতে পারে।

পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি এই ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাহলে তা শুধু সামরিক উত্তেজনাই বাড়াবে না, বরং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিমান পরিবহন, জ্বালানি বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নতুন এক আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের দিকে এগোচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: আল-জাজিরা




আবারও বিয়ে করছেন আমির খান, কনে কে

বিনোদন ডেস্ক : জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জীবনের তৃতীয় ইনিংস শুরু করতে চলেছেন বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খান। আগামী ৫ জুলাই একটি ঘরোয়া ও ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রেমিকা গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে চলেছেন এই সুপারস্টার।

ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

রীনা দত্ত এবং কিরণ রাওয়ের সঙ্গে দাম্পত্যজীবন অবসানের পর আমিরের জীবনে গৌরীর আগমন ঘটে। গত বছর নিজের ৬০তম জন্মদিনের বিশেষ মুহূর্তে সংবাদমাধ্যমের সামনে প্রথমবার গৌরীকে সকলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন আমির। সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন যে, গৌরী বর্তমানে তার প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গেই কাজ করছেন।

আমির এবং গৌরীর এই সম্পর্কের শুরুটা কিন্তু বেশ গোপনেই হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমের নজর থেকে নিজেদের আড়াল রাখতে প্রায় দেড় বছর ধরে সম্পর্কটি গোপন রেখেছিল এই জুটি। গত বছর এক প্রেস মিটে রসিকতা করে আমির বলেছিলেন, তিনি সংবাদমাধ্যমকে বিন্দুমাত্র টের পেতে দেননি। আমির আরও জানান, গৌরী আগে বেঙ্গালুরুতে থাকতেন এবং তার সঙ্গে দেখা করতে আমির প্রায়ই সেখানে উড়ে যেতেন। বেঙ্গালুরুতে সংবাদমাধ্যমের নজরদারি কিছুটা কম থাকায় দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে তারা নিজেদের সম্পর্ককে লাইমলাইটের আড়ালে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আমির তার বর্তমান জীবন নিয়ে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, গৌরীর আগমনে তিনি জীবনে এক পরম শান্তি খুঁজে পেয়েছেন। রীনা এবং কিরণের সঙ্গে সম্পর্কগুলো গভীর হলেও তা স্থায়িত্ব পায়নি উল্লেখ করে আমির আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, গৌরীর জীবনে আসার পর অবশেষে তিনি নিজেকে একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে অনুভব করছেন। গত এক বছরে এই জুটিকে চিনের ম্যাকাও ইন্টারন্যাশনাল কমেডি ফেস্টিভ্যালসহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক মঞ্চে একসঙ্গে দেখা গেছে।

আমিরের হবু স্ত্রী গৌরী স্প্র্যাট আদতে বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা এবং তার জীবনের সিংহভাগ সময় সেখানেই কেটেছে। গৌরীর মা রীতা স্প্র্যাট বেঙ্গালুরুতে একটি নামী সেলুনের মালিক ছিলেন। গৌরীর পেশাগত জীবনের খতিয়ান ঘাঁটলে দেখা যায়, ব্লু মাউন্টেন স্কুলে পড়াশোনা শেষ করে তিনি ২০০৪ সালে ইউনিভার্সিটি অব দ্য আর্টস লন্ডন থেকে ফ্যাশন ও ফটোগ্রাফির ওপর একটি বিশেষ কোর্স সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি মুম্বাইয়ে একটি নামী সেলুন পরিচালনা করছেন এবং তিনি সাত বছর বয়সী এক সন্তানের জননী।

অন্যদিকে, এটি আমিরের তৃতীয় বিয়ে হতে চলেছে। এর আগে ১৯৮৬ সালে শৈশবের বান্ধবী রীনা দত্তকে গোপনে বিয়ে করেছিলেন আমির, যার কোল আলো করে আসে জুনায়েদ ও ইরা। দীর্ঘ ১৬ বছরের সংসার জীবনের পর ২০০২ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে চলচ্চিত্র নির্মাতা কিরণ রাওয়ের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন আমির, যার সঙ্গে ২০২১ সালে তার বিচ্ছেদ ঘটে। কিরণ ও আমিরের সারোগেসির মাধ্যমে জন্ম নেওয়া সন্তান আজাদের সহ-অভিভাবক হিসেবে তারা এখনো যুক্ত রয়েছেন।

তবে জীবনের সমস্ত চড়াই-উতরাই পেরিয়ে জুলাইয়ের এই নতুন সূচনার দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন আমির-অনুরাগীরা।




নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক : নেপালকে ১-২ গোলে হারিয়ে সাফ উইমেনস চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ নারী দল। এ নিয়ে টানা তৃতীয়বার সাফের ফাইনালে নাম লেখাল বাংলাদেশ।

বুধবার ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে দু’টি গোল করেছেন ঋতুপর্ণা চাকমা ও সাগরিকা।

ফাইনালের লক্ষ্যে মাঠে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল একেবারেই ছন্নছাড়া। রক্ষণভাগ বেশ কিছুক্ষণ চাপ সামাল দিলেও শেষ রক্ষা হয়নি।

ম্যাচের ২৩তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত লিড পেয়ে যায় নেপাল। বাংলাদেশের ডি-বক্সের ভেতর তৈরি হওয়া জটলা থেকে বল ক্লিয়ার করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হন ডিফেন্ডাররা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বক্সের ডান প্রান্ত থেকে নেওয়া দারুণ এক কোনাকুনি শটে বল জালে জড়ান নেপালের গিতা রানা।

১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। মাঝমাঠের বদলে দুই উইং ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের রক্ষণে চিড় ধরানোর চেষ্টা করতে থাকে তারা। তবে নেপালের সুসংগঠিত রক্ষণভাগ ভাঙতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল ফরোয়ার্ডদের।

অবশেষে প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মিনিটে আসে সেই জাদুকরী মুহূর্ত। দুর্দান্ত এক ‘অলিম্পিক গোলে’ (সরাসরি কর্নার থেকে গোল) নেপালের জালে বল জড়িয়ে দলকে উচ্ছ্বাসে ভাসান ঋতুপর্ণা চাকমা। তার এই অবিশ্বাস্য গোলে সমতায় ফিরে নতুন আত্মবিশ্বাস নিয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরে বাংলাদেশ।

তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আরও একবার লিড নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল নেপাল। ফরোয়ার্ড রেখা বাংলাদেশের গোলকিপার মিলি আক্তারকে ফাঁকি দিয়ে বল জালের দিকেই পাঠিয়েছিলেন। সেটা ঠেকানোর ছিলেন না কেউই। কিন্তু বলটি জালে না জড়িয়ে লেগে যায় গোলপোস্টে।

এদিকে, ম্যাচের ৭৮তম মিনিটে লিড নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশও। কিন্তু নেপালের গোলকিপার সুব্বার দৃঢ়তায় সেই যাত্রায় বেঁচে যায় নেপাল। বাংলাদেশের সাগরিকার নেওয়া দুর্দান্ত শটটি লাফিয়ে ফিরিয়ে দেন তিনি।

১-১ ব্যবধানেই শেষ হয় ৯০ মিনিটের খেলা। যোগ করা ৬ মিনিটের খেলারও প্রায় তিন মিনিট শেষ হওয়ার পথেই ছিল। আর এমন মুহূর্তে বাংলাদেশের সমর্থকদের উল্লাসে মেতে ওঠান সামসুন্নাহার-সাগরিকারা। ডানপ্রান্ত থেকে আক্রমণে আসা সামসুন্নাহার জুনিয়রের বাড়ানো পাসে নেপালের জালে বল পাঠান সাগরিকা। তাতেই ২-১ ব্যবধান জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।

এর আগে দুইবার বাংলাদেশ শুধু ফাইনালেই উঠেনি, দুবারই জিতেছে শিরোপা। এই নেপালকে হারিয়েই দুবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ।




কমলো ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম

ডেস্ক নিউজঃ চলতি জুন মাসে ভোক্তা পর্যায়ে সামান্য কমেছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম। ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৯৪০ টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৮৮৫ টাকা। আর যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাস লিটার প্রতি ৮৯ দশমিক ৫০ টাকা থেকে কমে হয়েছে ৮৬ দশমিক ৯৩ টাকা। নতুন এই দাম আজ সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে কার্যকর হবে।

মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন থেকে এমনটি জানানো হয়।

এর আগে সর্বশেষ গত ১৯ এপ্রিল ১২ কেজিতে ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এর ১৭ দিন আগে গত ২ এপ্রিল ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১৭২৭ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি। সে সময় দুই দফায় ১২ কেজিতে ৫৯৯ টাকা বৃদ্ধি করা হয়।




জামিন পেলেন দীপু মনি, বাকি ৬ মামলার ব্যাপারে রুল জারি

ডেস্ক নিউজঃ রাজধানীর বিভিন্ন থানায় দায়ের করা সাতটি মামলার মধ্যে একটিতে জামিন পেয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি। একই সঙ্গে বাকি ছয় মামলায় তাকে কেন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

বুধবার (৩ জুন) বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

ডা. দীপু মনি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৯ আগস্ট রাতে রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

তার বিরুদ্ধে হত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, দুর্নীতি এবং সহিংসতায় নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগসহ ৩৮টির বেশি মামলা রয়েছে।