ক্রিকেট বোর্ডের এজিএম হলেন রাবিদ

ক্রীড়া ডেস্ক : বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এজিএম হলেন রাবিদ ইমাম। দেশের ক্রিকেটের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা হাতে গোনা কয়েকজনের মধ্যে অন্যতম রাবিদ। বিসিবির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা প্রায় ২ যুগের। ২০০৫ সাল থেকে ক্রিকেট বোর্ডের মিডিয়া ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

রাবিদ ইমাম ছিলেন বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিকেএসপির ছাত্র। বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট অধিনায়ক নাইমুর রহমান দুর্জয়, বর্তমানে দেশের অন্যতম শীর্ষ ক্রিকেট প্রশিক্ষক মোহাম্মদ সালাউদ্দীনের সঙ্গে বিকেএসপির প্রথম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন রাবিদ।

বিকেএসপি থেকে পাশ করে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেট খেলেছেন কয়েক বছর। তারপর সাংবাদিকতা শুরু করেন। ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের হয়ে ক্রীড়া সাংবাদিকতা করেন বেশ কয়েক বছর। তারপর ২০০৫ সালে যোগ দেন বিসিবিতে। অল্প সময়ের মধ্যেই বিসিবির মিডিয়া ম্যানেজারে দায়িত্ব পান তিনি।

মিডিয়া ম্যানেজার থেকে সিনিয়র মিডিয়া ম্যানেজার, হেড অব মিডিয়া হিসেবেও বেশ কয়েক বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। অবশেষে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এজিএম হয়েছেন।

বিসিবির এজিএম পদে নিয়োগ পেলেও রাবিদ ইমামের কাজের ক্ষেত্র হবে হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিট। বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তৈরির কাজটা তদারকি করবেন তিনি।




ফের ঢাকায় আসছেন পপতারকা ওটিলিয়া

বিনোদন ডেস্ক : চার বছর ফের ঢাকার মঞ্চ মাতাতে আসছেন রোমানিয়ান পপতারকা ওটিলিয়া ব্রুমা। বাংলাদেশের দর্শকদের সামনে সরাসরি পারফর্ম করতে যাচ্ছেন জনপ্রিয় এই গায়িকা। এর আগে ২০২২ সালে বাংলাদেশে এসে গানের তালে দর্শকদের নাচিয়েছিলেন।

ইমেকার্স বাংলাদেশের আয়োজনে আগামী ২৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ এই সংগীত আয়োজন। বাংলাদেশে আসার বিষয়টি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেই নিশ্চিত করেছেন এই রোমানিয়ান তারকা।

রোমানিয়ার সুসেভায় জন্ম নেওয়া ওটিলিয়া ছোটবেলা থেকেই সংগীতের সঙ্গে যুক্ত। ২০১৪ সালে প্রকাশিত ‘বিলিয়নেরা’ গানটি তাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। গানটি প্রকাশের পর ইউরোপের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শ্রোতাদের কাছেও পৌঁছে যায় তার জনপ্রিয়তা।

‘বিলিয়নেরা’র সাফল্যের পর ওটিলিয়ার কণ্ঠে আরও বেশ কিছু গান শ্রোতাদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পায়। বৈশ্বিক সংগীতাঙ্গনে নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করা এই শিল্পী এবার ঢাকার মঞ্চে কোন কোন গান পরিবেশন করেন, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।




শেওড়াপাড়ায় ৫ কাঠা জমি দখলের অভিযোগ, প্রতিকার চেয়ে মুকুল আমিনের প্রশাসনের দ্বারস্থ আপন ভাইয়ের বিরুদ্ধে জমি দখল ও হুমকির অভিযোগ; সরেজমিনে গিয়ে বাধার মুখে সংবাদকর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর শেওড়াপাড়ার ৫৯৩/এ এলাকায় মেট্রোরেলের ৩২০ নম্বর পিলারের পাশে প্রায় ৫ কাঠা জমি দখলকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধের অভিযোগ উঠেছে। জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে আলহাজ্ব মো. মুকুল আমিনের অভিযোগ, তার আপন ছোট ভাই মো. আলমগীর ওরফে অ্যাপোলো প্রভাব খাটিয়ে ওই জমি দখল করে রেখেছেন।

মুকুল আমিনের দাবি, তাদের পিতা মৃত আলহাজ্ব আব্দুল মালেকের রেখে যাওয়া সম্পত্তির অংশ হিসেবে তিনি ওই জমির বৈধ মালিক। তার কাছে জমি-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে তাকে জমি থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মুকুল আমিন আরও অভিযোগ করেন, অ্যাপোলোর সঙ্গে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি—আব্দুস সালাম, আরিফ, রুহুল আমিন, আব্দুল আলিম ও আতিকসহ আরও কয়েকজন—তাকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছেন। তাদের মাধ্যমে জমিটি দখলে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ তার।

এদিকে জমিটি ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও নানা অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন প্রতিবেশীর দাবি, রাতের বেলায় ওই এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলে। সেখানে মাদক বা ইয়াবাসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

মুকুল আমিনের আরও অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অ্যাপোলো স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি পদে ছিলেন এবং রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে জমি দখলের চেষ্টা করেছেন। এছাড়া ৫ আগস্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে এবং ৭ আগস্ট তিনি দেশ ছেড়ে চলে গেছেন বলেও মুকুল আমিন দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়ে মুকুল আমিন থানায় অভিযোগ করেছেন বলেও জানান। তার দাবি, একাধিকবার প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কার্যকর প্রতিকার পাননি। তিনি আরও দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জমিতে কাজ বন্ধ রাখার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা মানা হয়নি।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংবাদকর্মীরা সরেজমিনে ওই এলাকায় গেলে সেখানে তাদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

এ সময় দায়িত্বে থাকা একজন ব্যক্তিকে ফোন করা হলে তিনি সেখানে সংবাদকর্মীদের প্রবেশের বিষয়ে আপত্তি জানান এবং কর্মচারীদের সঙ্গে অশালীন ভাষায় কথা বলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটির কথোপকথন সংবাদকর্মীরা রেকর্ড করেছেন বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলেও জমি দখল ও রাতের বেলায় কথিত কর্মকাণ্ড নিয়ে অভিযোগ পাওয়া যায়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রকৃত ঘটনা আরও স্পষ্ট হবে।

মুকুল আমিন বলেন, “আমার জমির কাগজপত্র সঠিক থাকা সত্ত্বেও আমি আইনগত সহযোগিতা পাচ্ছি না। আমি চাই প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত মালিকানা ও দখলের বিষয়টি নির্ধারণ করুক।”

অভিযোগের বিষয়ে মো. আলমগীর ওরফে অ্যাপোলোর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের দাবি, জমির মালিকানা ও দখল সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিরোধের নিষ্পত্তি করা হোক এবং যদি মাদক বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।




চট্টগ্রামে ঈদে মিলাদুন্নবীর জুলুসে লাখো মানুষের ঢল

লাখো আশেকে রাসুলের অংশগ্রহণে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৫৫তম জশনে জুলুস। এবার জুলুসে নেতৃত্ব দিয়েছেন পাকিস্তানের দরবারে সিরিকোটের সাজ্জাদানশীন পীর আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ (ম.জি.আ.)। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাহেবজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ (ম.জি.আ.) ও শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আকিব আহমেদ শাহ (ম.জি.আ)।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জুলুস শুরুর আগে আল্লামা সাবির শাহ সাংবাদিকদের ব্রিফিং দেন এবং দোয়া ও মোনাজাত করেন।

ষোলশহরের জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা থেকে বের হয়ে জুলুস মুরাদপুর, দুই নম্বর গেট, জিইসি, ওয়াসা, লালখান বাজার হয়ে টাইগারপাস পর্যন্ত সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এরপর একই পথে দুপুরে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা মাঠে ফিরে আসে।

আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় জলুসকে ঘিরে দেশ-বিদেশের কয়েক লাখ আশেকে রাসুলের সমাগম হয় জুলুসে। এবার জুলুসকে ঘিরে নগরীর কয়েক কিলোমিটার এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। চট্টগ্রাম নগরী ও জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ট্রাক, বাস, পিকআপযোগে হাজার হাজার মানুষ জুলুসে যোগ দেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বাইরে প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক জলুসের শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব পালন করেন।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৪ সালে আওলাদে রাসুল আল্লামা হাফেজ সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (র.)-এর দিকনির্দেশনায় চট্টগ্রামে প্রথম জশনে জুলুসের আয়োজন করা হয়। এরপর প্রতিবছর ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এ আয়োজন হয়ে আসছে।




কাল বসছে তৃতীয় অধিবেশন : ইস্যুভিত্তিক বিতর্কে উত্তপ্ত হবে সংসদ

আগামীকাল বিকেল ৩টায় বসবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন। সংসদের এই অধিবেশনটি রাজনৈতিক ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিরোধী দলের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, লোডশেডিংসহ বিভিন্ন জনদুর্ভোগের বিষয় সংসদে জোরালোভাবে তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে। এছাড়া প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থায় দলীয় নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়েও তারা সরব হতে পারেন।

বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা জানান, এরই মধ্যে সরকার ছয় মাস পূর্ণ করেছে। এখন আর তারা বলতে পারবে না যে সরকারের হানিমুন পিরিয়ড চলছে। দেশ গঠনে তাদের কোথায় দুর্বলতা তা আমরা সংসদে উত্থাপন করব। সরকারের কাছে জবাবদিহি চাইব। বিরোধী দল হিসেবে আমাদের যে ধরনের কার্যকর ভূমিকা পালন করা দরকার তা করা হবে। কারণ জনগণের কাছে এজন্য আমাদের জবাবদিহি করতে হবে।

বিরোধী দলের এ ধরনের অবস্থান প্রসঙ্গে সরকারদলীয় এমপিরা জানান, দেশের স্বার্থে সরকারি ও বিরোধী দল বিতর্ক করবে, ইস্যু উত্থাপন করবে এটাই তো সংসদীয় গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সংবিধান সংশোধন, সংসদীয় কমিটি গঠন, গণভোটের বিধান, জুলাই সনদ-এ চার গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর পরস্পর বিপরীত অবস্থান ও নীতিগত মতপার্থক্যের কারণে সংসদের অধিবেশনে তীব্র বিতর্ক হতে পারে। সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন বা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোয় বিরোধী দলের কার্যকর ভূমিকা ও সভাপতি পদ বণ্টন নিয়ে টানাপড়েন তৈরি হতে পারে।

অধিবেশনকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। একই সঙ্গে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অধিবেশন নির্বিঘ্নভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে সংসদ ভবন ও সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক বহনসহ যেকোনো ধরনের জনসমাগমমূলক কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

প্রশাসনের জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী, আজ রাত ১২টা থেকে এই আদেশ কার্যকর হবে এবং অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে। ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট এলাকায় টহল ও নজরদারি বাড়িয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বসানো হয়েছে অতিরিক্ত চেকপোস্ট এবং নজরদারি ক্যামেরার আওতা বাড়ানো হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা, শেরেবাংলা নগর এবং এর আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়। বিশেষ করে ফার্মগেট, বাংলামটর, বিজয় সরণি, শ্যামলী মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অধিবেশন চলাকালে সংসদ এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকলকে নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা আইন ভঙ্গের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।




মহানবী মুহাম্মদ (সা.) : সব সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ যিনি

মহানবী মুহাম্মদ (সা.) শুধু সব নবী ও রাসুলের মধ্যে শ্রেষ্ঠ নন; বরং গোটা সৃষ্টির মধ্যেও তিনি সর্বাধিক মর্যাদাশীল এবং আল্লাহর কাছে সম্মানিত। এখানে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের কিছু প্রমাণ সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলো—

১. সৃষ্টিজগতের জন্য রহমতস্বরূপ : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি আপনাকে সমগ্র জগতের জন্য রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি।’
(সুরা : আল-আম্বিয়া, আয়াত : ১০৭)। মহানবী (সা.) সমগ্র জগতের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন, এতে তাঁর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ পায়।

২. নাম, সম্মান ও স্মরণে অমর : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি আপনার মর্যাদা ও স্মরণকে সমুন্নত করেছি।’ (সুরা : আশ-শরহ/আলাম নাশরাহ লাকা, আয়াত : ৪)। এর একটি প্রকাশ হলো আল্লাহ তাঁর নামকে নিজের নামের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। শাহাদাত, আজান, ইকামত ও তাশাহহুদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতে আল্লাহর নামের সঙ্গে মহানবী (সা.)-এর নাম উচ্চারিত হয়।

৩. আল্লাহ তাআলা নবীজির আনুগত্যকে নিজের আনুগত্যের সঙ্গে যুক্ত করেছেন : আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি রাসুলের আনুগত্য করল, সে প্রকৃত পক্ষে আল্লাহরই আনুগত্য করল।’ (সুরা : আন-নিসা, আয়াত : ৮০)। এবং তাঁর হাতে বায়াতকে আল্লাহ নিজের হাতে বায়াতের সঙ্গে যুক্ত করে বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই যারা আপনার কাছে বায়াত গ্রহণ করে, তারা তো আল্লাহর কাছেই বায়াত গ্রহণ করে।’ (সুরা : আল-ফাতহ, আয়াত : ১০)

৪. স্থায়ী মুজিজা লাভ : পূর্ববর্তী অনেক নবীর মুজিজা ছিল নির্দিষ্ট সময়ে সংঘটিত দৃশ্যমান ঘটনা, যা পরবর্তী সময়ে প্রত্যক্ষভাবে বিদ্যমান থাকেনি। পক্ষান্তরে মহানবী (সা.)-এর সর্বশ্রেষ্ঠ মুজিজা কোরআন আজও বিদ্যমান এবং কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে। অতএব, তাঁর মুজিজা এমন একটি স্থায়ী নিদর্শন, যা প্রত্যেক যুগের মানুষ প্রত্যক্ষ করতে পারে এবং যার চ্যালেঞ্জ আজও বহাল রয়েছে।

৫. জিন ও ইনসানের নবী : তিনি সমগ্র মানব ও জিন জাতির প্রতি প্রেরিত হয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি আপনাকে সমগ্র মানুষের জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছি।’ (সুরা : সাবা, আয়াত : ২৮)। পূর্ববর্তী অনেক নবী নির্দিষ্ট জাতি বা সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরিত হয়েছিলেন। পক্ষান্তরে মুহাম্মদ (সা.) সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রেরিত হয়েছেন। তাঁর দাওয়াতের ব্যাপ্তি তাই সর্বজনীন।

৬. তাঁর নিয়ে আসা ধর্ম সর্বশ্রেষ্ঠ দ্বীন : ইসলাম পূর্ববর্তী শরিয়তগুলোর বিধানকে পরবর্তী সময়ে রহিত করেছে এবং সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ শরিয়ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে দ্বীন হলো ইসলাম।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৯)।  অতএব, যে নবীর মাধ্যমে সর্বশেষ ও পূর্ণাঙ্গ শরিয়ত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাঁর বিশেষ মর্যাদা থাকা স্বাভাবিক।

৭. মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মত সর্বোত্তম উম্মত : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরাই সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যাণের জন্য তোমাদের আবির্ভাব ঘটানো হয়েছে। তোমরা সৎ কাজের নির্দেশ দাও, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করো এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখ।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১১০)

এই উম্মত ঈমান, সৎ কাজের আদেশ, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ এবং আল্লাহর পথে মানুষকে আহ্বানের মাধ্যমে এই মর্যাদা লাভ করেছে। আর এই উম্মতের শ্রেষ্ঠত্ব মূলত নবীজির অনুসরণের ফল।

৮. তিনি কিয়ামতের দিন আদম সন্তানের নেতা হবেন : মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন আদম এবং তাঁর পরবর্তী সবাকেই আমার পতাকার অধীনে থাকবে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩৬১৫)

৯. তাঁকে বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য প্রদান করা হয়েছে, যা অন্য কাউকে দেওয়া হয়নি : মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘আমাকে পাঁচটি বৈশিষ্ট্য দেওয়া হয়েছে, যা আমার আগে কাউকে দেওয়া হয়নি।’ (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস : ২১৪৭২)

এর মধ্যে তিনি উল্লেখ করেন—তাঁকে সমগ্র মানবজাতির কাছে প্রেরণ করা হয়েছে, সমগ্র পৃথিবীকে তাঁর জন্য মসজিদ ও পবিত্রতার উপায় করা হয়েছে, এক মাসের দূরত্ব থেকেও শত্রুর অন্তরে ভয় সঞ্চার করে তাঁকে সাহায্য করা হয়েছে, তাঁর জন্য গনিমতের সম্পদ হালাল করা হয়েছে, তাঁকে শাফাআত প্রদান করা হয়েছে, যা তিনি তাঁর উম্মতের জন্য সংরক্ষণ করেছেন। এগুলো তাঁর বিশেষ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্যের সুস্পষ্ট নিদর্শন।

১০. তিনি সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী।’ (সুরা : আল-কলম, আয়াত : ৪)

১১. তিনি নবুয়ত ভবনের শেষ ও পূর্ণ ইট : সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘আমার এবং আমার পূর্ববর্তী নবীদের দৃষ্টান্ত এমন এক ব্যক্তির মতো, যে একটি সুন্দর ও পূর্ণাঙ্গ ভবন নির্মাণ করেছে; কিন্তু তার এক কোণে একটি ইটের স্থান খালি রয়েছে। মানুষ ভবনটি দেখে বিস্মিত হয় এবং বলে—এই একটি ইট এখানে বসানো হলো না কেন? আমি সেই ইট।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৫৩৫)

১২. মেরাজের রাতে তিনি সব নবীর ইমামতি করেন : মেরাজের রাতে মহানবী (সা.) বাইতুল মুকাদ্দাসে সমবেত নবীদের ইমামতি করেন। সহিহ মুসলিমে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি সেখানে মুসা (আ.), ঈসা (আ.) ও ইবরাহিম (আ.)-সহ অন্যান্য নবীকে দেখতে পান এবং নামাজের সময় তাঁদের ইমামতি করেন। এ ঘটনা তাঁর বিশেষ মর্যাদা ও নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

১৩. কিয়ামতের দিন তিনি সর্বপ্রথম শাফাআতকারী ও সর্বপ্রথম সুপারিশকৃত : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন আমি আদম সন্তানের নেতা। আমিই সর্বপ্রথম ব্যক্তি, যার জন্য কবর বিদীর্ণ হবে; আমিই সর্বপ্রথম সুপারিশকারী এবং সর্বপ্রথম যার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে।’

(তিরমিজি, হাদিস : ৩১৪৮)। এটি তাঁর কিয়ামতের দিনের সর্বোচ্চ মর্যাদা ও নেতৃত্বের অত্যন্ত স্পষ্ট প্রমাণ।

১৪. ইসরা ও মেরাজের মুজিজা : মহানবী (সা.)-এর ইসরা ও মেরাজ তাঁর বিশেষ মর্যাদার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। এই ঘটনায় আল্লাহ তাআলা তাঁকে এমন বহু বিশেষ সম্মান ও নিদর্শন দান করেছেন, যা অন্য কোনো নবীর ক্ষেত্রে এভাবে একত্রিত হয়নি। ইসরা ও মেরাজের ঘটনায় তাঁকে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায় নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি আসমানসমূহ অতিক্রম করেন, বহু নবীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়, তিনি বায়তুল মুকাদ্দাসে নবীদের ইমামতি করেন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে উম্মতের জন্য সালাতের বিধান লাভ করেন। এ ঘটনা তাঁর বিশেষ মর্যাদা ও আল্লাহর নৈকট্যের একটি অনন্য নিদর্শন।

১৫. তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করাকে ইবাদত ও নৈকট্যের মাধ্যম করা হয়েছে : এটি তাঁর বিশেষ মর্যাদার এক অসাধারণ নিদর্শন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর ওপর দরুদ পাঠ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম পাঠ করো।’ (সুরা : আল-আহজাব, আয়াত : ৫৬)। অর্থাৎ আল্লাহ নিজে তাঁর ওপর রহমত ও সম্মান বর্ষণ করেন, ফেরেশতারাও তাঁর জন্য দোয়া করেন এবং মুমিনদেরও তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম পাঠের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

১৬. সব নবী-রাসুলের কাছ থেকে তাঁর প্রতি ঈমান ও সাহায্যের অঙ্গীকার গ্রহণ : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর স্মরণ করুন, যখন আল্লাহ নবীদের কাছ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন—আমি তোমাদের কিতাব ও হিকমত যা কিছু দিয়েছি, অতঃপর তোমাদের কাছে এমন একজন রাসুল আসেন, যিনি তোমাদের কাছে যা আছে তার সত্যায়ন করেন, তখন অবশ্যই তোমরা তাঁর প্রতি ঈমান আনবে এবং তাঁকে সাহায্য করবে।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৮১)

এই আয়াত মহানবী (সা.)-এর বিশেষ মর্যাদার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল। কারণ পূর্ববর্তী নবীদের কাছ থেকে তাঁর আগমন সত্য বলে স্বীকার করা এবং তাঁকে সাহায্য করার অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মহানবী (সা.)-এর শ্রেষ্ঠত্বের আরো বহু প্রমাণ আছে।




আলেয়া মান্নানের অপ্রকাশিত লিখা ‘কাল যদি’- কবিতা

কাল যদি

         -আলেয়া মান্নান

 

ভাবতে গিয়ে তোকে নিয়ে, বন্ধ হয় নিঃশ্বাস।

কাল যদি তুই আবার, আমায় ভুলে যাস।

তোকে নিয়েই ভয় যত, আছি আমি ভয়ে।

তুই যদি চলে যাস, অন্যের সঙ্গী হয়ে।

বুকের ভিতর কেমন যেন, ভয় করে এক রাশ।

কাল থেকে হঠাৎ করে, বদলে যদি যাস!!!

অন্য কাউকে যদি ভীষণ, আপন করে নিস।

আমাকে করিস যদি, তোর চোখের বিষ।

এসব ভেবে ভয় করে, ঘুম আসে না রাতে।

আবার তোকে হারিয়ে ফেলার, নানান ভয়েতে।

কাল যদি তোর জীবন, অন্যরকম সাজায়।

তখন যে তুই আবার, ভুলে যাবি আমায়।

তোর কানে যদি কেউ, মন্ত্রতন্ত্র বাজায়।

সে ভাবনাটায় আমার মনে, বারং বার ভাবায়।

হয়ত তখন বদলে যাবি, পরিস্থিতির সাথে।

আমাকে এড়িয়ে চলবি, নানান অজুহাতে।

ভয় করে তোর ভাবনাটা, ভাবি যখন আমি।

কাল আবার অন্য কাউকে, করিস যদি দামী।

এসব ভেবেই ভয় করে, থমকে ওঠে শ্বাস।

কাল যদি তুই আবার, আমায় ভুলে যাস।

তোকে নিয়েই যত ভাবনা, আমার অন্তরে।

যদি আবার জড়িয়ে যাস, অন্য মায়ার সুরে।

ভয়ে শুধু ভাবি তোকে, করি না কিছু প্রকাশ।

কাল যদি আবার তুই, আমায় ভুলে যাস।

অন্য কাউকে নিয়ে যদি, সুখী হতে চাস।

কাল যদি তুই আবার, আমায় ভুলে যাস।




প্রতিবাদ উপেক্ষা করে সুনামগঞ্জে ৪ হাজার ৮৮৪ গাছ কাটার অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদক: সুনামগঞ্জ সদর থেকে জামালগঞ্জের সাচনা বাজার পর্যন্ত প্রায় ১৯ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশের হাজার হাজার গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর প্রতিবাদ এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গাছ কাটা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়ার পরও গাছ কাটার কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের বিরুদ্ধে। উন্নয়নকাজের কথা বলে এসব গাছ দ্রুত কেটে ফেলা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সড়ক ও বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ-সাচনা সড়কের দুই পাশে রেইনট্রি, কড়ই, মেহগনিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মোট ৪ হাজার ৮৮৪টি গাছ ছিল। এসব গাছ ২০০৩-০৪ অর্থবছরে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় লাগানো হয়েছিল। বন বিভাগের বক্তব্য, গাছগুলোর নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় নিয়ম মেনেই নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে।

নিলামে জামালগঞ্জ অংশের গাছ বিক্রি হয়েছে ৫৬ লাখ ৪৪ হাজার টাকায়। আর সুনামগঞ্জ সদর অংশের গাছ বিক্রি করা হয়েছে ২৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকায়। অর্থাৎ সব মিলিয়ে প্রায় ৮৪ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিপুলসংখ্যক গাছ বিক্রির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এত বড় পরিমাণের গাছের প্রকৃত বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা হতে পারে। ফলে কম দামে গাছ বিক্রি করে সরকারি সম্পদের ক্ষতি করা হয়েছে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গাছ কাটার কারণ নিয়েও তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। বন বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সড়ক প্রশস্ত করার জন্য গাছগুলো অপসারণ করা হচ্ছে। কিন্তু সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আহাদ উল্লাহর বক্তব্যে উঠে এসেছে ভিন্ন তথ্য। তিনি জানিয়েছেন, সুনামগঞ্জ-সাচনা সড়ক প্রশস্ত করার জন্য এখন পর্যন্ত কোনো প্রকল্প নেওয়া হয়নি। এমনকি গাছ কাটার বিষয়েও সওজকে কিছু জানানো হয়নি বলে তিনি দাবি করেছেন।

এ কারণে গাছ কাটার অনুমোদন, এর প্রয়োজনীয়তা এবং বিক্রির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কোনো প্রকল্প না থাকলে সড়ক প্রশস্ত করার যুক্তিতে কেন এত গাছ কাটা হচ্ছে—এ নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাচ্ছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে গাছগুলোর মূল্য নির্ধারণ কীভাবে করা হয়েছে এবং নিলাম প্রক্রিয়াটি যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের দাবি উঠেছে।

এ ঘটনায় হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি রাজু আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলনও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় মানুষকে যথেষ্টভাবে অবহিত না করেই তড়িঘড়ি করে গাছ কাটা হচ্ছে। তাদের দাবি, বর্তমান বাজারদর বিবেচনায় গাছগুলোর মূল্য নিলামে পাওয়া ৮৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে। ফলে সরকারি সম্পদ কম দামে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর প্রতিবাদের পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও গাছ কাটা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু সেই নির্দেশ পুরোপুরি কার্যকর না হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মতিউর রহমান খান জানিয়েছেন, বর্তমান জেলা প্রশাসনের সময়ে এ ধরনের কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করতে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সব মিলিয়ে গাছ কাটার অনুমোদন, নিলাম প্রক্রিয়া, গাছের মূল্য নির্ধারণ, সড়ক প্রশস্ত করার যুক্তি এবং প্রশাসনের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ—সবকিছু নিয়েই তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। বিশেষ করে কোনো সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প না থাকার পরও যদি সেই কারণ দেখিয়ে হাজার হাজার গাছ কাটা হয়ে থাকে, তাহলে এর পেছনে প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল, সেটি তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া জরুরি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের পাশে থাকা এসব গাছ শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করেনি, পথচারীদের ছায়া দিয়েছে এবং অসংখ্য পাখির আশ্রয়স্থল হিসেবেও কাজ করেছে। তাই উন্নয়নের নামে নির্বিচারে গাছ কাটার পরিবর্তে প্রয়োজন অনুযায়ী গাছ সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। এখন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে গাছ কাটার পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম, সরকারি সম্পদের ক্ষতি কিংবা নিয়মবহির্ভূত সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, সেটিই দেখার বিষয়।




বিশ্বজুড়ে ভিসা ইন্টারভিউ কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্বজুড়ে মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে ভিসা সাক্ষাৎকারের পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি সাময়িকভাবে স্থগিত এবং পুনর্বিন্যাস করতে শুরু করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিশ্বব্যাপী কূটনৈতিক মিশনগুলোতে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের জন্য একটি বিস্তৃত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করার কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হলো আবেদনকারীদের মার্কিন সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না তা কঠোরভাবে যাচাই করা এবং একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে ভিসা মূল্যায়নের প্রক্রিয়াকে আরও সমন্বিত ও ধারাবাহিক রূপ দেওয়া।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাক্ষাৎকার নির্ধারিত থাকা বেশ কিছু ভিসা আবেদনকারী ইতিমধ্যে ইমেইলের মাধ্যমে তাদের পূর্ব নির্ধারিত তারিখ বাতিলের বার্তা পেয়েছেন। বার্তায় জানানো হয়েছে, পরবর্তীতে তাদের নতুন সাক্ষাৎকারের তারিখ ও সময় জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে বিশ্বজুড়ে ভিসা পরিষেবার এই স্থগিতাদেশ ঠিক কতদিন বলবৎ থাকবে, সে বিষয়ে আমেরিকার পররাষ্ট্র দপ্তর নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা প্রকাশ করেনি।

দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন তাদের কঠোর অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নে আরও আক্রমণাত্মক ভূমিকা পালন করছে। শুধু অবৈধ অভিবাসী নিধন বা দেশত্যাগেই সীমাবদ্ধ না থেকে বৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রেও একের পর এক কঠোর সিদ্ধান্ত দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান প্রকাশ বা প্রফিলিংসহ নানান ইস্যুতে ইতোমধ্যে অনেক ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল এবং নতুন আবেদন প্রত্যাখান করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি প্রায় ২ লাখ পর্যটক ও ব্যবসায়ী ভিসাধারী, যারা পরবর্তীতে আশ্রয়ের আবেদন করে অতিরিক্ত সময় অবস্থান করছেন, তাদের ভিসাও বাতিলের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।

এদিকে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। ভারতীয় পেশাজীবীদের বহুল ব্যবহৃত এইচ-ওয়ানবি ভিসা কর্মসূচিতে বড় ধরনের ওভারহোল বা সংস্কার প্রস্তাব বিবেচনা করছে হোয়াইট হাউস। এই পরিবর্তনের অর্থনৈতিক রূপরেখা প্রায় ১০ কোটি ডলার সমপরিমাণ বা তারও বেশি প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। উপরন্তু, নির্দিষ্ট কিছু ক্যাটাগরির কাজের ভিসায় অতিরিক্ত ফি যুক্ত করে আইনি পথে আসা অভিবাসীদের পথও কিছুটা কঠিন করে তোলা হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে ভিসা সাক্ষাৎকারের এই সাম্প্রতিক স্থগিতাদেশের ঠিক আগেই এক মার্কিন বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ওপর অভিবাসী ভিসা স্থগিতা সংক্রান্ত পূর্বের নীতিকে বাতিল বলে রায় দেন। ওই রায়ে উল্লেখ করা হয়, তৎকালীন সিদ্ধান্ত পররাষ্ট্র সচিবের আইনগত ক্ষমতার সীমাকে অতিক্রম করেছিল। মার্কিন প্রশাসন জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করার স্বার্থে এসব কঠোর উদ্যোগের যৌক্তিকতা তুলে ধরলেও মানবাধিকার সংগঠনগুলো একে বৈষম্যমূলক এবং বাকস্বাধীনতা ও আইনি সুরক্ষার লঙ্ঘন বলে অভিহিত করে উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

সূত্র: এনডিটিভি




ভুটানের রাজার সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সৌজন্য সাক্ষাৎ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে ভুটান সফরের আমন্ত্রণ

ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগে ওয়াংচুক-কে বুধবার ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ভুটানের রাজাকে বহনকারী একটি বিশেষ বিমান সিঙ্গাপুর থেকে ভুটান যাওয়ার পথে বুধবার ভোরে ঢাকায় যাত্রাবিরতি করে।

বিমানবন্দরে প্রায় এক ঘণ্টার অবস্থানকালে ভিভিআইপি লাউঞ্জে রাষ্ট্রপতি ভুটানের রাজার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তাঁরা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা করেন। এসময় রাষ্ট্রপতি ভুটানের রাজা ও রাজপরিবারের সদস্যদের সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানান। জবাবে ভুটানের রাজা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে তাঁদের সুবিধাজনক সময়ে ভুটান সফরের আমন্ত্রণ জানান।

এর আগে, ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগে ওয়াংচুক রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানান। রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে ভুটানের রাজা ও রাজপরিবারের সদস্যদের প্রতি উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান। জবাবে ভুটানের রাজাও বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি শুভকামনা জ্ঞাপন করেন।

আলাপকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে গভীর ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক বিদ্যমান। ভুটান সবসময় আমাদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে আছে। কারণ, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া বিশ্বের প্রথম দেশ ভুটান।

বাংলাদেশের প্রতি ভুটানের বর্তমান রাজার পিতা রাজা জিগমে সিংগে ওয়াংচুকের বিশেষ মমত্ববোধ ও শুভকামনাও রাষ্ট্রপতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। দুই দেশের অভিন্ন উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরে ভুটানের রাজা শিক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

ভুটানের রাজা তাঁর দূরদর্শী ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’ প্রকল্প সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন এবং এ উদ্যোগে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি প্রকল্পটির প্রতি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং এর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, পারস্পরিক কল্যাণ, সমৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে এ অঞ্চলের রূপান্তরমূলক উদ্যোগগুলো এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ভুটানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত।

সৌজন্য সাক্ষাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ভুটানের রাজাকে বহনকারী বিশেষ বিমানটি সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ভুটানের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করে।