বস্ত্রখাতের সমস্যা সমাধানে কমিটি গঠন করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ বস্ত্রখাতের সমস্যা সমাধানে অর্থ উপদেষ্টা এবং বাণিজ্যমন্ত্রীর সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (২২ জুলাই) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন-বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল।

এসময় তিনি অভিযোগ করেন, বস্ত্রখাতের সমস্যাগুলো অনেক পুরনো যা আগের কোনো সরকারই সমাধান করেনি।

বিটিএমএ সভাপতি বলেন, সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার পরেও আনুমানিক দেড় বছর সময় লাগতে পারে সমস্যাগুলো সমাধানে। উদ্যোক্তারা সরকারকে এই সময় দেবে বলেও জানান শওকত আজিজ।

সরকার আন্তরিক হলে বস্ত্রখাত ঘুরে দাঁড়াবে মন্তব্য করে বিটিএমএ সভাপতি বলেন, গ্যাস বিদ্যুতের পাশাপাশি এ খাতের আর্থিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে।

এরইমধ্যে ৫ শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার জানিয়ে শওকত আজিজ বলেন, গঠিত কমিটি আগামী সপ্তাহে আবারও বৈঠকে বসবে। সরকারের বন্ধ কারখানা চালু হলে বন্ধ এবং অর্ধ বন্ধ কারখানা চালুর উদ্যোগ সফল হলে ১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে খুব স্বাভাবিক এবং ত্বড়িৎ গতিতেই। তবে এসব কারখানা চালু করতে হলে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে যে ডাম্পিং হচ্ছে সেদিকে মনোযোগী হতে হবে বলেও জানান বিটিএমএ সভাপতি।




ঢাকায় কাঁচা মরিচের ডাবল সেঞ্চুরি

ডেস্ক নিউজঃ এক মাসের ব্যবধানে রাজধানীতে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম। মাসের শুরুতে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় কেজি বিক্রি হওয়া এই নিত্যপণ্যটি এখন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে বর্তমানে কাঁচা মরিচ ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হলেও কোনো কোনো বাজারে তা সর্বোচ্চ ২৮০ টাকা পর্যন্ত উঠে গেছে। কাঁচা মরিচের পাশাপাশি প্রভাব পড়েছে অন্য সবজিতেও, আর কেজিতে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে পেঁয়াজের দাম।

মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে কাঁচারে মরিচের দামের এই উল্মফন দেখা যায়। বিক্রেতারা বলছেন, সপ্তাহ দেড়েক আগের টানা বৃষ্টি ও বন্যায় দেশের প্রধান প্রধান সবজি উৎপাদনকারী অঞ্চলে পানি জমে খেত নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে পাইকারি বাজারে সবজির সরবরাহ ব্যাপকভাবে কমেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে আবারও দেশজুড়ে টানা বৃষ্টির পূর্বাভাসের কথা জানানোয় এই পরিস্থিতি সহসা স্বাভাবিক হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

বাজারভেদে কাঁচা মরিচের দামে বড় ধরনের তফাত দেখা গেছে। কোথাও ভালো মানের কাঁচা মরিচ ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হলেও অনেক বাজারে তা ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায় উঠেছে। তবে কারওয়ান বাজারে কিছুটা কমে মানভেদে ১৬০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

বাজারে সবজি কিনতে আসা সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, দিন দিন যেন নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে আড়াই শ গ্রাম মরিচের দাম ৪০ টাকা থেকে একলাফে ৬০ টাকায় পৌঁছেছে, যা কেজি হিসাবে ২৪০ টাকা দাঁড়ায়।

শুধু কাঁচা মরিচই নয়, পেঁয়াজের বাজারও নতুন করে গরম হতে শুরু করেছে। এক সপ্তাহ আগে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ আজ ধরনভেদে কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের মতে, পাইকারি বাজারে সবজির জোগান কম হলেও বাজারে ক্রেতার ঘাটতি নেই। চাহিদার তুলনায় জোগান না থাকায় প্রায় সব ধরনের সবজির দামই বাড়তি। বর্তমানে বাজারে ১০০ টাকার নিচে হাতে গোনা কয়েকটি মাত্র সবজি মিলছে, যা সাধারণ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।




ফের বাড়লো স্বর্ণের দাম

ডেস্ক নিউজঃ দেশের বাজারে ফের বেড়েছে স্বর্ণের দাম। এবার ভরিতে ২ হাজার ৭৪১ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

বুধবার (২২ জুলাই) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য।




প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলছে একনেক সভা

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে চলছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা। বুধবার (২২ জুলাই) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে সভাটি শুরু হয়।

সভায় উঠছে প্রায় ১৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯টি উন্নয়ন প্রকল্প। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে নতুন চারটি ও সংশোধিত পাঁচটি প্রকল্প। এর মধ্যে সরকারের অর্থায়ন ১১ হাজার ১৮০ কোটি ১৭ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ৩ হাজার ৫৫০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ৯টি প্রকল্পের মোট ব্যয় প্রায় ১৪ হাজার ৭২৭ কোটি ৭ লাখ টাকা। প্রকল্পগুলোর মধ্যে কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের পাঁচটির মধ্যে তিনটি নতুন এবং দুটি সংশোধিত। ভৌত অবকাঠামো বিভাগ এবং আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগের একটি করে সংশোধিত, শিল্প ও শক্তি বিভাগের দুটির মধ্যে একটি নতুন ও অন্যটি সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে।

একনেকে যেসব প্রকল্প উঠছে সেগুলো হলো- পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকা রক্ষা প্রকল্প; স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে বৃহত্তর দিনাজপুর (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়) জেলা সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প; পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান এবং সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২ (জিএসআইডিপি-২) (প্রথম সংশোধন) প্রকল্প।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন (তৃতীয় সংশোধিত), সেতু বিভাগের মেগা প্রকল্প ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ (দ্বিতীয় সংশোধিত), জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের একটি মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ (বেগমগঞ্জ-৫) এবং দুটি অনুসন্ধান কূপ (বেগমগঞ্জ-৬ ও সুনেত্র-২) খনন, বিদ্যুৎ বিভাগের বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প, সিলেট বিভাগ (তৃতীয় সংশোধন)। এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোয় বিদ্যমান কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং জেলা সদর হাসপাতালগুলোয় ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন (প্রস্তাবিত দ্বিতীয় সংশোধন)।

সভায় ১১টি প্রকল্প একনেক সদস্যদের অবহিত করার জন্য তোলা হবে। সেগুলো হলো-মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি আঞ্চলিক অফিস স্থাপন (দ্বিতীয় সংশোধিত), বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের বরিশাল টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট, গৌরনদী বরিশাল স্থাপন (দ্বিতীয় সংশোধিত), ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তৃতীয় টার্মিনালে মোবাইল নেটওয়ার্ক স্থাপন।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের তিনটি প্রকল্প অবহিত করা হবে। প্রকল্পগুলো হলো-নলকা-সিরাজগঞ্জ-সয়দাবাদ আঞ্চলিক মহাসড়কের সিরাজগঞ্জ শহর অংশ (শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ থেকে কাটা ওয়াপদা মোড় পর্যন্ত) চার লেনে উন্নীতকরণ ও অবশিষ্ট অংশ দুই লেনে উন্নীতকরণ (দ্বিতীয় সংশোধিত), পিরোজপুর-নাজিরপুর-মাটিভাঙা-পাটগাতী-ঘোনাপাড়া (জেড-৭৭০৪) জেলা মহাসড়কের ঘোনাপাড়া থেকে পাটগাতী সেতু অ্যাপ্রোচ পর্যন্ত অংশসহ জেড-৮৫০৪, জেড-৮৫০৭ ও জেড-৮৪২৯ জেলা মহাসড়ক যথায়থ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (প্রথম সংশোধিত) এবং ভূঞাপুর লিংক সড়ক (জেড-৪৮০২) নির্মাণ (দ্বিতীয় সংশোধিত)।

এছাড়া বিদ্যুৎ বিভাগ দুটি, শিল্প মন্ত্রণালয়ের একটি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প রয়েছে বলে জানা গেছে।




বিশ্বকাপে খেলোয়াড় পাঠিয়ে ফিফার তহবিল থেকে সর্বোচ্চ অর্থ পাচ্ছে ম্যানচেস্টার সিটি

ক্রীড়া ডেস্কঃ বিশ্বকাপে খেলোয়াড় সরবরাহকারী ক্লাবগুলোর জন্য ফিফার ক্লাব বেনিফিটস প্রোগ্রাম (সিবিপি) থেকে এবারও সবচেয়ে বেশি অর্থ পেতে যাচ্ছে ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার সিটি। টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে এই তহবিলে শীর্ষে থাকছে ক্লাবটি। এদিকে, ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ উপলক্ষে সিবিপি তহবিলও ৭০ শতাংশ বাড়িয়ে ৩৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারে উন্নীত করেছে ফিফা।

বিশ্বকাপে জাতীয় দলে খেলোয়াড় পাঠানো ক্লাবগুলোর জন্য ফিফার ক্লাব বেনিফিটস প্রোগ্রাম (সিবিপি) থেকে এবারও সবচেয়ে বড় অঙ্কের অর্থ পাচ্ছে ম্যানচেস্টার সিটি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিক এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে এই তহবিল থেকে সর্বোচ্চ অর্থপ্রাপ্ত ক্লাব হতে যাচ্ছে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নরা।

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপকে সামনে রেখে সিবিপি তহবিলের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ২০১৮ রাশিয়া ও ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে যেখানে এই তহবিল ছিল ২০ কোটি ৯০ লাখ ডলার, এবার তা প্রায় ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি করে ৩৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারে উন্নীত করা হয়েছে।

এই তহবিলের মধ্যে ২৫ কোটি ডলার মূল পর্বে অংশ নেওয়া ৪৮টি দেশের খেলোয়াড়দের ক্লাবগুলোর মধ্যে বণ্টন করা হবে। এছাড়া প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে খেলোয়াড় ছাড় দেওয়া ক্লাবগুলোর জন্য রাখা হয়েছে ১০ কোটি ডলার। বাকি ৫০ লাখ ডলার ব্যয় হবে প্রশাসনিক খরচ ও ফুটবলের সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রমে।

ফিফার নীতিমালা অনুযায়ী, গত ২৫ মে থেকে জাতীয় দলের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হওয়ার পরের দিন পর্যন্ত প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্য সংশ্লিষ্ট ক্লাব প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫ হাজার ডলার করে পাবে। দ্য অ্যাথলেটিক এর হিসাব অনুযায়ী, শুধু মূল পর্ব থেকেই ম্যানচেস্টার সিটির আয় দাঁড়াবে প্রায় ৪৪ লাখ ডলার।

সিটির ছয়জন ফুটবলার টুর্নামেন্টের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত খেলেছেন। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের হয়ে মাঠে ছিলেন রায়ান শেরকি, মার্ক গেহি, নিকো ও’রাইলি, জন স্টোনস ও জেমস ট্রাফোর্ড। আর স্পেনের হয়ে ফাইনালের শুরুর একাদশে ছিলেন মিডফিল্ডার রদ্রি।

আয়ের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনা। ইংলিশ ক্লাবগুলোর মধ্যে সিটির পরেই রয়েছে আর্সেনাল। যদিও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে অংশ নেওয়ার কারণে আর্সেনালের কয়েকজন খেলোয়াড় কিছুটা দেরিতে জাতীয় দলে যোগ দেন, যা তাদের প্রাপ্য অর্থে কিছুটা প্রভাব ফেলেছে।

এবারের তালিকায় চমক দেখিয়েছে ক্রিস্টাল প্যালেস ও সান্ডারল্যান্ড। ১২ জন খেলোয়াড় বিশ্বকাপে পাঠানো ক্রিস্টাল প্যালেস পাবে ২৭ লাখ ডলার, আর সান্ডারল্যান্ডের প্রাপ্য ২২ লাখ ডলার।

বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া মোট ১ হাজার ২৪৮ জন ফুটবলারের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশ খেলোয়াড়ই ছিলেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের। ফলে ক্লাব বেনিফিটস প্রোগ্রাম থেকে সবচেয়ে বেশি অর্থও পাচ্ছে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো—মোট ৩ কোটি ৪২ লাখ ডলার। দ্বিতীয় স্থানে থাকা জার্মান বুন্দেসলিগার ক্লাবগুলোর প্রাপ্য ১ কোটি ৮৮ লাখ ডলার।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের শীর্ষ ধনী ক্লাবগুলোর বার্ষিক ব্যয়ের তুলনায় এই অর্থ খুব বেশি নয়। উদাহরণ হিসেবে, ২০২৪-২৫ মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটির খেলোয়াড়দের বেতন বাবদ ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬০ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যেখানে ফিফার সিবিপি থেকে প্রাপ্ত সম্ভাব্য ৪৪ লাখ ডলার তুলনামূলকভাবে সামান্য।




জেন-জি আন্দোলনের মধ্যে ৫ দফা দাবি পেশ করলেন রাহুল গান্ধী

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতে শিক্ষার্থীদের ‘জেন-জি’ আন্দোলন ও পুলিশি অভিযানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আন্দোলনের সমর্থনে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীসহ কংগ্রেসের কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। পরে রাতে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

আটক অবস্থায় প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিকে দমন না করে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

তার দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
  • সোমবার শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার।
  • শিক্ষার্থীদের ওপর অভিযানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা।
  • বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনা।
  • দ্রুত শিক্ষা ও পরীক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে লোক কল্যাণ মার্গে অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দিলে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও কংগ্রেসের কয়েকজন নেতাকে আটক করা হয়। রাহুলকে ছত্রশাল স্টেডিয়ামে এবং প্রিয়াঙ্কাকে মন্দির মার্গ থানায় নেওয়া হয়। পরে কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি সোনিয়া গান্ধী থানায় গিয়ে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। রাতের দিকে দুই নেতাকেই মুক্তি দেওয়া হয়।

বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরকার অন্যায় আচরণ করছে। নিট (এনইইটি) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পদত্যাগ দাবি করেন।

শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাহুল বলেন, ‘ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা কেন ভেঙে পড়ছে? কেন বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে? ভারতে শিক্ষা এত ব্যয়বহুল কেন? সন্তানদের পড়াতে গিয়ে কেন পরিবারগুলো আর্থিকভাবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে? এগুলো ন্যায্য প্রশ্ন, আর এসব প্রশ্ন করায় কোনো ভুল নেই।’

তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলের সবাই চান, বুধবার লোকসভা ও রাজ্যসভায় বিষয়টি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা হোক।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির পক্ষে যারা লড়াই করছেন, তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ।’

এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ঘিরে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। নিটসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় লাখো শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং অভিযোগ করেন, রাহুল গান্ধী সংসদে আলোচনার অবস্থান থেকে সরে এসে এখন মন্ত্রীদের পদত্যাগের দাবি তুলছেন। তার ভাষায়, এ ধরনের অবস্থান পরিবর্তন গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানও কংগ্রেসের সমালোচনা করে বলেন, সরকার এ বিষয়ে সংসদে আলোচনায় প্রস্তুত থাকলেও বিরোধী দল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ব্যবহার করছে। তার দাবি, সমস্যার সমাধানের চেয়ে রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনই কংগ্রেসের মূল লক্ষ্য।




দেশের ১৭ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা

আবহাওয়া ডেস্কঃ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৭টি জেলার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর।

বুধবার (২২ জুলাই) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য প্রকাশিত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবিরের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এসব এলাকার নদীবন্দরকে এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।




ব্যবসা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানবান্ধব নীতি বাজেটে প্রতিফলিত

ডেস্ক নিউজ : সম্প্রতি ঘোষিত বাজেটে ব্যবসা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানবান্ধব নীতি প্রণয়নের প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকার রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে ‘বেইলা ফিউচার সামিট-২০২৬’ এর সমাপনী অধিবেশনে মাহ্দী আমিন একথা বলেন।

তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা এমন একটি শাসনব্যবস্থা, যার নীতি ও পরিকল্পনাগুলো দেশের সবচেয়ে বড় অংশ—তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে ভূমিকা রাখবে। তরুণ প্রজন্ম প্রকৃতপক্ষে কী চায়? তারা প্রথমত এমন একটি পরিবেশ প্রত্যাশা করে যেখানে তাদের মেধা, উদ্ভাবনী শক্তি ও উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে বিকশিত করার মতো উপযোগী নীতি থাকবে। সকলেই এমন একটি শাসনব্যবস্থা চায়, যা ব্যবসা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানবান্ধব নীতি প্রণয়ন করবে। এর প্রতিফলনস্বরূপ সম্প্রতি ঘোষিত বাজেটে আমরা কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে কীভাবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছি।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ইয়ুথ লিডার্স অ্যালায়েন্সের (বেইলা) আয়োজনে দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে প্রায় দেড় হাজার অংশগ্রহণকারী, পাঁচ শতাধিক শীর্ষ নির্বাহী কর্মকর্তা (সিএক্সও), পোশাক খাতের উদ্যোক্তা, শিল্পনেতা এবং দেশি-বিদেশি অতিথি অংশ নেন।

নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, আপনাদের অত্যন্ত স্বাভাবিক ও মৌলিক দাবি হলো এমন একটি সমন্বিত পরিবেশ বা ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা, যেখানে নতুন নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে, বন্ডেড সুবিধার প্রক্রিয়া আরও সহজতর হবে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস পাবে এবং ব্যবসা পরিচালনায় সহজলভ্যতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিচালন ব্যয় হ্রাস পাবে। দুর্ভাগ্যবশত, বিগত বহু বছর ধরে আমরা এই সুবিধাগুলো থেকে বঞ্চিত ছিলাম। তাই নতুন সরকার হিসেবে আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আমাদের পক্ষ থেকে এই ইতিবাচক পরিবর্তনগুলো আনয়নে সর্বোচ্চ প্রয়াস থাকবে।

রাজস্ব সংগ্রহ ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে গভীর কাঠামোগত সংস্কারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্রে সুশাসনের দুটি মূল ভিত্তি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আমরা কীভাবে নিশ্চিত করতে পারি, সেটাই মূল বিষয়। আমরা এমন উন্নয়ন চাই যা সার্বজনীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক, যেখানে গ্রাম ও শহরের মধ্যকার বৈষম্য ও ব্যবধান দূর করা সম্ভব হবে। বৈষম্য নিরসনে আমাদের প্রকল্পগুলোতে অধিকতর ন্যায্যতা ও সমতা থাকতে হবে, প্রকল্পগুলোকে হতে হবে ন্যায়বিচারমুখ। মেগা প্রকল্পের অন্তরালে যে মেগা দুর্নীতির সংস্কৃতি আমরা বিগত সময়ে দেখেছি, তা থেকে আমাদের পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে হবে। এ কারণেই সরকারের মূল নীতি অবকাঠামোগত, নিছক ইট, কাঠ, রড বা সিমেন্টে বিনিয়োগ করা নয়।

সরকারের মূল বিনিয়োগ তরুণ মানবসম্পদের পেছনে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যেই আমরা বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। যারা তৈরি পোশাক শিল্পের সাথে যুক্ত তারা সকলেই অবগত আছেন যে, সরকারের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগীদের তুলনায় আমাদের দক্ষতার ঘাটতি। কীভাবে সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আমাদের কর্মীদের দক্ষতা আরও উন্নত করতে পারি, যেন আমরা সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারি সেটিই আমাদের লক্ষ্য। উপরন্তু, বহু ক্ষেত্রে আমাদের ব্যবসা পরিচালনার ব্যয়ও অনেক বেশি।

তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের হয়তো একমাত্র সুবিধা হলো তুলনামূলক কম শ্রম ব্যয়। তবে সময়ের পরিক্রমায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতাসহ নানাবিধ কারণে ব্যবসা পরিচালনার খরচ অনেকটাই বেড়ে গেছে। আমাদের বর্তমান মেয়াদে ধাপে ধাপে এই ব্যয় ও জটিলতা কমিয়ে আনার চেষ্টা করব।

মাহ্দী আমিন বলেন, আমরা এমন এক যুগে বসবাস করছি যেখানে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব, রোবোটিক্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এই আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমাদের একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। এ সময় অনুষ্ঠানস্থলে প্রদর্শিত উদ্ভাবনী ধারনার প্রশংসা করেন‌ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র।

তিনি বলেন, আমরা যেমন এক সময়ের বৃহদাকার মুঠোফোন থেকে আজকের আধুনিক স্মার্টফোনে রূপান্তরিত হয়েছি, যা ছিল একটি সময়োপযোগী উদ্ভাবন, ঠিক তেমনি আমাদের পোশাক তৈরির কারখানাগুলোও একসময় ফ্যাক্স বা ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ হতো, যা এখন হোয়াটসঅ্যাপে রূপ নিয়েছে। ভবিষ্যতে হয়তো আরও নতুন প্রযুক্তি আসবে, যার মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যেই তথ্যের আদান-প্রদান সম্ভব হবে।

মাহ্দী আমিন বলেন, একইভাবে আমাদের প্রতিটি স্তরে প্রযুক্তিকে সাদরে গ্রহণ করতে হবে তা প্রসেস বা প্রক্রিয়ার উদ্ভাবন হোক কিংবা পণ্যের উদ্ভাবন এবং গবেষণা ও উন্নয়ন হোক না কেন। একটি অর্ডার চূড়ান্ত করার পূর্ববর্তী ধাপসমূহ যেমন প্রকল্প ও পণ্য পর্যায়ে পোশাকের নকশা, গবেষণা ও উন্নয়ন থেকে শুরু করে পণ্য পরিবহন, লজিস্টিকস এবং পরিশেষে, বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া শেষে অর্থপ্রাপ্তি পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সংযুক্তি অত্যন্ত জরুরি। যেহেতু আমাদের একটি ব্যয়গত সুবিধা রয়েছে, তাই জনবল বা কর্মীদের এমনভাবে ব্যবস্থাপনা করতে হবে যেন প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে আমাদের সেই মূল সুবিধাটি নস্যাৎ না হয়ে যায়।

তিনি বলেন, আমাদের একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে, যেখানে প্রযুক্তি ব্যবহৃত হবে দক্ষতা বাড়াতে এবং একই সাথে যেন কোনো বেকারত্ব সৃষ্টি না হয়। মূলত, নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের প্রধান লক্ষ্যই হলো দক্ষতা ও প্রবৃদ্ধি অর্জন করা, যেন বৈশ্বিক বাজারের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়। একই সাথে আমরা চাই ব্যবসায়ের সার্বিক পরিধি ও ব্যাপ্তি এমনভাবে বৃদ্ধি পাবে, যাতে করে সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাথে সাথে আরও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।

সরকার নীতিগত দিক থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদানে অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বন্ডেড ওয়্যারহাউজের নবায়ন সংক্রান্ত যে জটিলতা পূর্বে বিদ্যমান ছিল, নতুন উদ্যোক্তা ও রপ্তানিকারকদের জন্য আমরা তা অত্যন্ত সহজ করে দিচ্ছি। একই সাথে বিদ্যমান নিয়মকানুন শিথিল করা হচ্ছে এবং শুল্কসংক্রান্ত নানান সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, পূর্বে প্রণোদনা বা ইনসেন্টিভ পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে হতো, কিন্তু প্রথমবারের মতো আমরা দ্রুততম সময়ে এই প্রণোদনা হাতে পৌছানোর ব্যবস্থা নিচ্ছি। এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যার মূল লক্ষ্য হলো প্রকৃত ও সৎ ব্যবসায়ী, যারা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছেন এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন তাদের জন্য ব্যয়সংকোচন ও সহায়ক নীতি গ্রহণ করা।

মাহ্দী আমিন বলেন, সার্বজনীন বা অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির অংশ হিসেবে আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো সেটি হতে পারে তৈরি পোশাক শিল্প, বস্ত্র কিংবা আমাদের ঐতিহ্যবাহী পাট শিল্পই হোক না কেন পুনঃরায় চালু করা এবং সৎ ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা প্রদান করা। সরকার হিসেবে আমরা

দিকনির্দেশনামূলক নীতি নির্ধারণ করতে পারি, তবে আসল উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি হতে হবে বেসরকারি খাত কেন্দ্রিক। আমরা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাই এবং প্রয়োজনবোধে বেসরকারীকরণের দিকেও অগ্রসর হতে চাই। আমাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হলো সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করা। আপনারা যত বেশি যৌথ উদ্যোগের প্রকল্প গ্রহণ করবেন, আমরা মুনাফা নিজ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া আগের চেয়ে অনেক সহজতর করেছি। আমাদের মূল উদ্দেশ্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত করা।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের তিনটি অনন্য সুবিধাজনক দিক রয়েছে। প্রথমত, বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী তথা আমাদের ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’। দ্বিতীয়ত, আমাদের বিশাল অভ্যন্তরীণ ভোক্তা বাজার, যেখানে যেকোনো শিল্প কারখানা সহজেই তাদের পণ্য বিপণন করতে পারে। এবং তৃতীয়ত, বহু বছর পর অর্জিত একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ, যেখানে নীতির ধারাবাহিকতা ও জাতীয় স্বার্থ বজায় থাকবে।

এই তিনটি সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে আরও যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে, তা হলো জ্বালানি নিরাপত্তা। বহু কারখানায় বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট বিদ্যমান। আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সমস্যার টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করছি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া আমরা যে বন্দর ব্যবস্থাপনা পেয়েছি, তা নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশে পণ্য খালাস এবং আমদানিরীতি সম্পূর্ণ করতে সময় ও ব্যয় দুটোই বেশি লাগে। আমরা এই ব্যবস্থার দ্রুত সংস্কারে কাজ করে যাচ্ছি। সার্বিকভাবে আমরা এমন একটি গতিশীল ইকোসিস্টেম বা পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই, যা আপনাদের উদ্যোক্তাসুলভ আচরণ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে পূর্ণ সমর্থনের পাশাপাশি উৎসাহিত করবে। আমরা এমন একটি যৌথ যাত্রা শুরু করতে চাই, যেখানে দেশের তরুণ সমাজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করবে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের তরুণ-তরুণীদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন রাষ্ট্র পরিচালনা ও সরকারের উন্নয়ন নীতিতে নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আমরা সকলে মিলে একযোগে একটি সর্বজনীন, ন্যায্যতা, সমতা ও ন্যায়বিচারপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলব।




মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে গিয়ে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা আটক

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ দলের আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। এসময় রাহুল গান্ধীর নাক দিয়ে রক্ত ​​ঝরতে বলে এনডিটিভি জানিয়েছে।

আজ মঙ্গলবার নয়াদিল্লির লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছিলেন কংগ্রেস নেতারা। তারা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করছিলেন।

ককরোচ জনতা পার্টি’র নেতৃত্বে সংসদ অভিমুখে মিছিলের একদিন পর কেন্দ্রের ওপর চাপ বাড়ানোর জন্য কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনের সামনে একটি বিক্ষোভ মিছিলের নেতৃত্ব দেন।

রাহুল গান্ধী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে রাতভর বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন। কিন্তু সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে পুলিশ তাকে এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবসহ অন্যান্য নেতাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।

এ সময় লোকসভায় বিরোধী দলের নেতা গান্ধী রাস্তায় বসে পড়েন। তিনি সরতে অস্বীকার করলে অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য তাকে ঘিরে ধরে। পরে তাকে টেনেহিঁচড়ে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং তখন তার নাক দিয়ে রক্ত ​​ঝরতে দেখা গেছে।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেছেন, সোমবার তরুণ শিক্ষার্থীদের ওপর যে নৃশংসতা চালানো হয়েছে, তার জবাব চাইতেই আমরা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে এসেছি। দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করার দায়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে।




রাজশাহীতে নিজ ঘর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ : রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় নিজ বাড়ি থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার বাজুবাঘা ইউনিয়নের আরিফপুর গ্রামের নিজ ঘরের বিছানা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।

এসময় বিছানার একপাশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি খালি বিষের বোতলও। এদিকে পুলিশের ধারণা, তারা বিষ পান করে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে। তবে কেন তারা আত্মহত্যা করেছে তদন্ত ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ছাড়া বিস্তারিত কিছুই বলতে পারছে না পুলিশ।

নিহতরা হলেন ওই গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা জামাল উদ্দিনের ছেলে মনিরুল ইসলাম (৪৫) ও তার স্ত্রী স্বপ্না বেগম (৩৮)।মনিরুল পেশায় একজন ভ্যানচালক। দীর্ঘ প্রায় একযুগ আগে বিয়ে করলেও তাদের কোনো সন্তান হয়নি বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার পরও মনিরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী ঘুম থেকে উঠতে না দেখে প্রতিবেশী ও আশেপাশের লোকজনের সন্দেহ হয়। কয়েক দফা ডাকাডাকির পরও দরজা না খোলায় ওই ঘরের পাশের একটি কক্ষের তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করলে একই বিছানায় স্বামী-স্ত্রীকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্বজনরা। খবর পেয়ে বাঘা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুপুর ১টার দিকে এই দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করে।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আলাউদ্দিন বলেছেন, ‘প্রায় ১ যুগ আগে তারা বিয়ে করেছে। তবে তাদের কোনো সন্তান হয়নি। মনিরুল ভ্যান চালাত। দাম্পত্য জীবনেও তাদের কোনো মনোমালিন্য দেখিনি। তবে হঠাৎ কেন তারা এমন আত্মহত্যার পথ বেছে নিল তা বুঝতে পারছি না।’

স্বপ্না বেগমের ভগ্নিপতি ঈমাম উদ্দিন বললেন, ‘বেলা ১১টার দিকে খরব পেয়ে ঘটনাস্থলে আসি। এসে দেখি ঘরের দরজা ভেতর থেকে লাগানো। তখন পাশের কক্ষের দরজার তালা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে দেখি, তাদের মরদেহ বিছানায় পড়ে আছে। পাশেই বিষের একটি খালিত বোতল। পুরো রুমে বিষের গন্ধ ছিল। আমরা মনে করছি যে, তারা হয়তো আত্মহত্যাই করেছে। তবে কেন আত্মহত্যা করেছে সেটি আমরা বুঝতে পারছি না।’

নিহতের ভাইয়ের স্ত্রী পাখি খাতুন বলেন, ‘আমার ভাসুর আলাদা ঘর করে সেখানে থাকতেন। আশেপাশে কোন বাড়ি নেই। হঠাৎ কেন এমন ঘটনা ঘটলো আমরা বুঝতে পারছি না। আমার জা-ও আমাকে কখনো কিছু বলেনি। তাদের সন্তান হয় না এটি একটি কষ্ট ছিল। তবে এই কষ্টে মারা যাওয়ার কথা না।’

বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেরাজুল হক বলেছেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে একটি বিষের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া মরদেহের মুখে বিষের গন্ধ পাওয়া গেছে। তবে এটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোন কারণ আছে সেটি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে।’

তিনি আরও বললেন, ‘সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের পর মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং অন্যান্য আলামত পর্যালোচনার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’