প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাইলেন চিত্রনায়িকা

বিনোদন ডেস্ক : বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন চিত্রনায়িকা পলি। অভিযোগ তোলেন নির্বাচনে তাকে হারানোর জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে এবং পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অর্থের প্রভাব ছিল স্পষ্ট।

গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত শিল্পী সমিতির নির্বাচনে শিবা শানু-জয় চৌধুরী প্যানেল থেকে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন পলি। এ পদে বিজয়ী হয়েছেন পারভেজ চৌধুরী আবির। তিনি পেয়েছেন ২৭২ ভোট, আর পলি পেয়েছেন ১৪৪ ভোট।

নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর গুলশানে নিজ বাসায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পলি বলেন, ‘আমাকে হারানোর জন্য লাখ লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে। আমি শুরু থেকেই বলে আসছি, প্রকৃত শিল্পীরা কখনো টাকা ছিটিয়ে নির্বাচন করেন না। এবারের নির্বাচনে প্রকৃত শিল্পীরাই হেরেছেন। রোজিনা আপা, নূতন আপা, রিনা খান আপা, মুক্তির মতো প্রকৃত শিল্পীরা পরাজিত হয়েছেন। তাদের সঙ্গে আমিও রয়েছি।’

নির্বাচনে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তুলে তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পলির ভাষ্য, ‘যারা টাকা দিয়েছে এবং যারা টাকা নিয়েছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হোক। আমি ঢাকা-১৭ আসনের একজন ভোটার। দেশের জনগণের ভোটেই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন, সেখানে আমারও একটি ভোট রয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আমি এই ঘটনার বিচার চাই।’

নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রসসঙ্গে পলি জানান, এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কোনো পরিকল্পনা ছিল না তার। তবে শিবা শানু-জয় চৌধুরী প্যানেলের প্রার্থী সনি রহমানের অনুরোধে তিনি নির্বাচনে অংশ নেন।

বলেন, ‘আমাকে প্যানেলে নেওয়ার পর থেকেই নানা ধরনের নাটক শুরু হয়। শুরুতে একজন নায়িকাকে প্যানেলে নেওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করা হয়, পরে শুরু হয় চাঁদাবাজি। নির্বাচনী খরচের কথা বলে আমার কাছে সহযোগিতা চাওয়া হয়। আমি প্রথমে তিন লাখ টাকা দিই। পরে শিল্পীদের বিভিন্ন সহযোগিতার জন্য আরও দুই লাখ টাকা খরচ করি। এটি ভোট কেনার জন্য নয়, বিভিন্ন হেল্পারের খরচ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। নায়িকা জলি নিজেও আমাকে জানিয়েছে, সেও টাকা এনে দিয়েছে।’

সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলে পলি বলেন, ‘যে দেশে ১৫ বছর পর একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে, সেখানে শিল্পী সমিতিতে কেন সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না? যারা নির্বাচনে টাকা ছিটিয়ে নোংরামি করেছে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। প্রয়োজন হলে রিমান্ডে নিয়ে তদন্ত করা হোক, যাতে প্রকৃত সত্য সবার সামনে আসে।’

সবশেষে নায়িকা বলেন, ‘এখন শিল্পী সমিতির ওই চেয়ার নিয়ে আমার কোনো আগ্রহ নেই। আমি শুধু চাই সত্যটা প্রকাশ হোক। তা না হলে প্রকৃত শিল্পীরা ফাইটার ও নাচের শিল্পীদের কাছে জিম্মি হয়ে থাকবে। ভবিষ্যতে প্রকৃত শিল্পীরা আর শিল্পী সমিতির নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী হবেন না।’




গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তর অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরের হবিগঞ্জ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকৌশলী কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, ক্ষমতার অপব্যবহার, ঠিকাদারদের সঙ্গে সিন্ডিকেট গঠন এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি কয়েকজন ঠিকাদারের সহযোগিতায় একাধিক নারীর সঙ্গে কথিত “মুতা বিয়ে” করেন এবং সরকারি পদমর্যাদার প্রভাব ব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, ২০১৭ সাল থেকে ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে প্রকৌশলী কামরুল হাসান স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদারকে নিয়ে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সিন্ডিকেটের সদস্যরা আওয়ামী লীগের প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি কাজ নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং ঠিকাদারি কার্যক্রমে একচেটিয়া সুবিধা ভোগ করতেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ওই সিন্ডিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদার দরিদ্র পরিবারের তরুণীদের সঙ্গে কামরুল হাসানের পরিচয় করিয়ে দিতেন। পরে নির্দিষ্ট অঙ্কের দেনমোহর নির্ধারণ করে কথিত “মুতা বিয়ে”র মাধ্যমে স্বল্প সময়ের জন্য সম্পর্ক স্থাপন করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এ ধরনের একাধিক বিয়ে তিনি করেছেন এবং নোয়াখালী ছাড়াও কর্মস্থল পরিবর্তনের পরও একই ধরনের কর্মকাণ্ডের চেষ্টা চালিয়ে গেছেন।

প্রসঙ্গত, মুতা বিয়ে বা নিকাহুল মুতা শিয়া ইসলামি আইনশাস্ত্রে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সম্পাদিত এক ধরনের বৈবাহিক চুক্তি হিসেবে স্বীকৃত হলেও সুন্নি ইসলামি মতবাদে এটি বৈধ নয় এবং অধিকাংশ সুন্নি আলেম একে নিষিদ্ধ বলে মনে করেন।

অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, নোয়াখালীর একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক মোহাম্মদ মামুন এসব কর্মকাণ্ডে প্রধান সমন্বয়কারীর ভূমিকা পালন করতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তার নামে নোয়াখালীর মাইজদীতে নির্মিত একটি তিনতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় বিভিন্ন সময়ে কামরুল হাসান অবস্থান করতেন।

এছাড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, ঢাকার বসুন্ধরা রিভারভিউ এলাকার সারীঘাট পয়েন্টে কামরুল হাসানের একটি দোতলা বাড়ি এবং কয়েক বিঘা জমি রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই বাড়ির একটি অংশ নদী ভরাট করে নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানেও তিনি বিভিন্ন সময় ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, নিজের নামে সম্পদ না রেখে আত্মীয়স্বজনের নামেও বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন কামরুল হাসান। অভিযোগ অনুযায়ী, তার স্ত্রীর বড় ভাইয়ের স্ত্রীর নামেও সম্পদ রয়েছে। এছাড়া পিরোজপুরে তার স্ত্রী ডা. জান্নাতুল মাওয়া টুম্পার পরিচালনায় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও বেসরকারি হাসপাতাল, নোয়াখালীর নিঝুম দ্বীপে একটি নির্মাণাধীন রিসোর্ট এবং পিরোজপুর, বরিশালসহ বিভিন্ন এলাকায় আত্মীয়দের নামে বাড়ি, ফ্ল্যাট, মার্কেট ও অন্যান্য সম্পদের তথ্যও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব সম্পদের বৈধতা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সংস্থার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০২২ সালে নোয়াখালীতে দায়িত্ব পালনকালে অধস্তন এক উপসহকারী প্রকৌশলীর স্ত্রীর সঙ্গে কামরুল হাসানের অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই কর্মকর্তাকে বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে ঢাকায় পাঠিয়ে তার অনুপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট নারীর সঙ্গে সময় কাটাতেন তিনি। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ওই দম্পতির পারিবারিক সম্পর্কে বিচ্ছেদ ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো আদালতের রায় বা সরকারি তদন্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকৌশলী কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে এ ধরনের আরও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের দাবি রাখে।

অন্যদিকে, বিসিএস ২৭তম ব্যাচের এই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি নিজেকে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হিসেবে পরিচয় দিয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরে প্রভাব খাটাতেন।

এ বিষয়ে একটি নথিরও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর প্রকৌশলী মো. নুরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক প্রত্যয়নপত্রে কামরুল হাসানকে বুয়েট ছাত্রলীগ শাখার ধর্মবিষয়ক সম্পাদক এবং বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সক্রিয় সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।




পে-স্কেল দুই ধাপে নয়, একবারেই বাস্তবায়নের পরিকল্পনা

ডেস্ক নিউজঃ সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রতীক্ষিত নতুন বেতন স্কেল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। বিদ্যমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন এই বেতন কাঠামো দুই ধাপে কার্যকর না করে বরং একবারে বা এককালীন বাস্তবায়নের জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অর্থ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। 

শুরুতে নতুন পে স্কেল দুই ধাপে কার্যকর করার বিষয়টি সরকারের পরিকল্পনায় থাকলেও বর্তমানে সেই চিন্তা থেকে সরে আসার কারণগুলো হলো প্রযুক্তিগত জটিলতা, প্রশাসনিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং চাকরিজীবীদের মধ্যে সম্ভাব্য অসন্তোষ। আইবাস প্ল্যাটফর্মে দুই ধাপে বেতন সমন্বয় করা জটিল হওয়ায় এককালীন বাস্তবায়নের দিকেই বেশি ঝুঁকছে প্রশাসন।

সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে নতুন বেতন কাঠামো পর্যালোচনার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকে নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশগুলোর আর্থিক প্রভাব, বাস্তবায়নের সময়সূচি এবং বিভিন্ন ক্যাডার ও শ্রেণির চাকরিজীবীদের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে। তবে কমিশনের মূল সুপারিশের তুলনায় বেতন বৃদ্ধির হার কিছুটা কম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আজকের এই বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকলেও মূল বেতন ১ জুলাই থেকে কার্যকরের একটি লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের ভাতা নতুন কাঠামোর আওতায় পূর্ণাঙ্গভাবে যুক্ত করার বিষয়টি ২০২৭-২৮ অর্থবছর পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। যদিও চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা এখনো আসেনি, তবুও সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন এই বেতন কাঠামো নিয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার ওপরই বেশি জোর দিচ্ছে।




গেজেট পেছালেও পে-স্কেল কার্যকর হবে জুলাই থেকেই

ডেস্ক নিউজঃ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হলেও, এটি ১ জুলাই থেকেই কার্যকর হিসেবে গণ্য করা হবে। ফলে গেজেট প্রকাশের পর চাকরিজীবীরা বর্ধিত বেতন-ভাতার পাশাপাশি বকেয়া অর্থও একসঙ্গে পাবেন। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থার সফটওয়্যারসংক্রান্ত জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গেজেট প্রকাশ সম্ভব হয়নি। বর্তমানে প্রশাসনিক ও কারিগরি বিষয়গুলো সমন্বয় করে চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি বা শেষ দিকে গেজেট জারি হতে পারে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আর্থিক সক্ষমতা ও ডিজিটাল ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করেই এটি বাস্তবায়ন করা হবে।

কর্মকর্তাদের মতে, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমান ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থার সফটওয়্যার। ২০১৫ সালের অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের সময় অধিকাংশ কাজ হাতে করা হলেও এখন বেতন, ইনক্রিমেন্ট, পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও জিপিএফসহ প্রায় সব আর্থিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ও আইবাস সফটওয়্যারের মাধ্যমে। ফলে ধাপে ধাপে মূল বেতন বাস্তবায়ন করতে গেলে সফটওয়্যারে বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন হবে।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক বলেন, ধাপে ধাপে মূল বেতন কার্যকর হলে একই কর্মচারীর জন্য একাধিকবার পে-ফিক্সেশন করতে হবে। এতে প্রশাসনিক জটিলতা বাড়ার পাশাপাশি সফটওয়্যারে ত্রুটির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব পদোন্নতি, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড এবং অবসরকালীন সুবিধা নির্ধারণেও পড়তে পারে।

বিশেষ করে অবসরের কাছাকাছি থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ বেশি। কারণ পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও ছুটির নগদায়নের মতো সুবিধাগুলো সর্বশেষ মূল বেতনের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমান ডিজিটাল ব্যবস্থায় একাধিক ধাপে এসব সুবিধা সমন্বয় করা কঠিন বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ পরিস্থিতিতে আব্দুল মালেকের প্রস্তাব, প্রথম ধাপেই শতভাগ মূল বেতন কার্যকর করে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করা উচিত। এরপর বাড়িভাড়া, চিকিৎসাসহ অন্যান্য ভাতা পর্যায়ক্রমে সমন্বয় করা হলে সফটওয়্যার পরিবর্তনের প্রয়োজন কমবে এবং অবসরপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হবে না।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন বেতন কাঠামোর আর্থিক প্রভাব, সফটওয়্যার সামঞ্জস্য এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি কাজ করছে। একই সঙ্গে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই নতুন পে-স্কেল কার্যকর করা হবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হলেও এর ফলে মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলায় সরকারকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্য বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।




তেহরানে খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে জনসমুদ্র

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানী তেহরানের আজাদি সড়কে নেমেছে লাখো মানুষ। সোমবার (৬ জুলাই) শেষযাত্রায় অংশ নিতে ভোর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষের ঢল নামে।

খামেনির মরদেহবাহী একটি ট্রাক ধীরগতিতে জনসমুদ্রের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায়। একই ট্রাকে তার মেয়ে, তিন বছর বয়সী নাতনি, জামাতা এবং পুত্রবধূর মরদেহও বহন করা হচ্ছে।

শেষকৃত্যের শোভাযাত্রার তেহরান পর্বের সমাপ্তি হবে আজাদি স্কয়ারে। এরপর আগামী কয়েক দিনের মধ্যে খামেনির মরদেহ ইরাকের পবিত্র শহর কারবালা ও নাজাফে নেওয়া হবে। সেখানে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তার মরদেহ ইরানের মাশহাদে দাফন করা হবে।

সূত্র: আল জাজিরা




চার বিভাগে অতিভারী বৃষ্টির আভাস, পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের শঙ্কা

আবহাওয়া ডেস্কঃ সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের চার বিভাগে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুর ২টায় দেওয়া আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারী বৃষ্টিপাতসংক্রান্ত সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী (৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতিভারী (১৮৮ মিলিমিটার বা তার বেশি) বর্ষণ হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, অতিভারী বৃষ্টিপাতের কারণে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে পাহাড়ি অঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভারী বর্ষণের কারণে নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা এবং সড়ক যোগাযোগে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।




প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ডেস্ক নিউজঃ ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ. বিন আবিয়া প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের একটি চিঠি তার হাতে তুলে দেন সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ. বিন আবিয়া। পরে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের উপ-রাষ্ট্রদূত ইব্রাহিম আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।




দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত

আবহাওয়া ডেস্কঃ উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি স্থল নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সোমবার (৬ জুলাই) আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হকের সই করা সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে মৌসুমি স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে যেতে পারে।

নিম্নচাপটির প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের ওপর দিয়ে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে এবং সতর্কতার সঙ্গে অবস্থান করতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।




মৌলভীবাজারে পানি প্রকল্পে লুটপাটের অভিযোগ, ঠিকাদার উধাও, সেবা থেকে বঞ্চিত শতাধিক পরিবার

বিশেষ প্রতিবেদকঃ মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার স্থাপন প্রকল্পের কাজ নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নিজস্ব এক কর্মী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে কাজটি বাগিয়ে নেন। নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। এরই মধ্যে কোটি টাকার বিল তুলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লাপাত্তা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, ‘প্রাইম ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড লিবার্টি ট্রেডার্স (জেভি)’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে কাজটি নেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের এক ড্রাফটসম্যান। মৌলভীবাজার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদুজ্জামানের যোগসাজশে তিনি কাজটি পেয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

২০২৩ সালে প্রায় ১০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজ পায় প্রতিষ্ঠানটি। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় কয়েক দফা সময় বাড়ানো হয়। এরপরও কাজ শেষ না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোটি টাকার বিল তুলে উধাও হয়ে যায় বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

বিশ্বব্যাংক ও এআইআইবির অর্থায়নে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের যৌথ বাস্তবায়নে ‘মানবসম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ ও স্বাস্থ্যবিধি’ শীর্ষক প্রকল্পের কাজ ২০২৫ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

প্রকল্পের আওতায় মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার সব ইউনিয়নে ৭৬টি পানি সরবরাহ লাইন স্থাপন এবং কমিউনিটিভিত্তিক পাইপলাইনের মাধ্যমে হতদরিদ্র ৩০ থেকে ৪০টি পরিবারে নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মৌলভীবাজার সদরের ৩৮টির মধ্যে মাত্র ২টিতে আংশিক কাজ হয়েছে। আর রাজনগরের ৩৮টির একটিতেও কোনো কাজ হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এক বছর ধরে উধাও।

রাজনগরের বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই প্রকল্পের বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই। স্থানীয়রাও প্রকল্প সম্পর্কে তেমন কিছু জানেন না।

মৌলভীবাজার সদরের চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের কির্তার মহলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আংশিক কাজ করে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা নিজেদের প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ করে মোটর, পাইপ ও মিটার সংযোগ দিয়ে পানি সরবরাহ চালু করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সুমন মালাকার বলেন, “এখানে ৩০টি পরিবার এই লাইন থেকে পানি পায়। মোটর, সিঁড়ি কিছুই দেওয়া হয়নি। ঠিকাদার যে পাইপ লাগিয়েছিল, তা কয়েক দিনের মধ্যেই ফেটে যায়। কাজ খুবই নিম্নমানের হয়েছে।”

এদিকে জেলা ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরও জানে না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কত টাকা বিল তুলেছে। এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদুজ্জামানের কার্যালয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, শাহিন আলম একসময় ফেনী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের ড্রাফটসম্যান ছিলেন। ২০১৮ সালের নভেম্বরে ২১ হাজার ৪৭০ টাকা বেতন স্কেলে চাকরিতে যোগ দেন তিনি। গত বছর একটি জাতীয় দৈনিকে তার বিরুদ্ধে ছয় বছরে শতকোটি টাকার মালিক হওয়ার অভিযোগ প্রকাশিত হয়।

প্রাইম ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড লিবার্টি ট্রেডার্সের অন্যতম পরিচালক রমিজ মিয়া বলেন, “এই কাজের মালিক শাহিন। সে জনস্বাস্থ্যে চাকরি করে আবার ঠিকাদারিও করছে। আমি থাকা অবস্থায় ৯০ লাখ টাকার বিল তুলেছিলাম। এরপর আর জানি না।”

মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “মৌলভীবাজার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের এই কাজের বিষয়ে আমাদের কিছু জানা নেই। কত বিল তোলা হয়েছে, তাও জানি না। নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে কাজ শেষ করা হবে।”

প্রকল্প পরিচালক তবিবুর রহমান তালুকদার বলেন, “সে নিজের নামের লাইসেন্সে কাজ করেনি। অন্য লাইসেন্স ব্যবহার করেছে।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে শাহিন আলমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।




ইরানে খামেনির জানাজা শেষে ঢাকায় ফিরেছেন স্পিকার

ডেস্ক নিউজঃ ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে দেশে ফিরেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। সফরকালে তিনি ইরানের রাষ্ট্রপতিসহ দেশটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সমবেদনা জানান।

রোববার (৫ জুলাই) রাত ১১টায় জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

এর আগে গত ২ জুলাই তিনি তেহরানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। সফরকালে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

তেহরানের গ্র্যান্ড মসাল্লায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্পিকার খামেনির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন। এ সময় তিনি ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ দেশটির উচ্চপদস্থ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং শোকসন্তপ্ত ইরানি জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সংহতি ও সমবেদনা জানান।

সফরকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত শান্তি সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নে ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য গালিবাফকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।

উল্লেখ্য, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল ইরানের মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।