ঢাকা কাস্টম হাউসের উপকমিশনার আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে শুল্ক ফাঁকি, ঘুষ ও চোরাচালানে সহযোগিতার অভিযোগ—৩০ কোটি টাকার পণ্য খালাসের তদন্ত দাবি

বিশেষ প্রতিবেদকঃ ঢাকা কাস্টম হাউসের প্রিভেন্টিভ শাখার উপকমিশনার মো. আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে শুল্ক ফাঁকি, ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে পণ্য খালাস, ঘুষ গ্রহণ, চোরাচালানে সহযোগিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে সোহেল রানা নামে এক ব্যক্তি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।

আবেদনে সবচেয়ে গুরুতর যে অভিযোগটি করা হয়েছে, সেটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো কমপ্লেক্সকে ঘিরে। সোহেল রানার দাবি, একটি এয়ারওয়ে বিলের বিপরীতে প্রায় ৫৬ কার্টন পণ্য কাস্টমসের নিয়মিত বিল অব এন্ট্রি ও ক্লিয়ারেন্স ছাড়াই কার্গো এলাকা থেকে বের করে নেওয়া হয়েছে। এসব পণ্যের মোট ওজন আনুমানিক ১ হাজার ৯৬২ কেজি এবং অভিযোগকারীর হিসাবে এগুলোর মূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই চালানে মোবাইল ফোন, মোবাইল ফোনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, এলসিডি, ই-সিগারেট এবং সিগারেটের ব্যান্ডেরোল বা সরকারি রাজস্ব স্ট্যাম্পের মতো পণ্য থাকতে পারে। নিয়ম অনুযায়ী শুল্ক ও কর পরিশোধ এবং প্রয়োজনীয় কাস্টমস প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই এসব পণ্য বের হয়ে থাকলে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাতে পারে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সোহেল রানা দাবি করেছেন, এই ঘটনার প্রকৃত চিত্র জানতে বিমানবন্দরের কার্গো এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ, গেট পাস, পণ্য বের হওয়ার রেকর্ড, ওয়্যারহাউসের মজুত তালিকা, কার্গো মুভমেন্টের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট এয়ারওয়ে বিল ও বিল অব এন্ট্রি পরীক্ষা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ওই সময় দায়িত্বে থাকা কাস্টমস কর্মকর্তাদের ডিউটি রোস্টারও যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কয়েকটি বন্ধ বা কার্যক্রমহীন বন্ড প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ভুয়া বা অসঙ্গতিপূর্ণ নথি তৈরি করে শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য খালাস করা হয়ে থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে কোন প্রতিষ্ঠানের নামে পণ্য আমদানি হয়েছে, প্রতিষ্ঠানগুলো তখন কার্যকর ছিল কি না, তাদের বন্ড সুবিধা বহাল ছিল কি না এবং আমদানির পর পণ্য কোথায় গেছে—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আনার অনুরোধ করা হয়েছে।

শিশুখাদ্য, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন পণ্যের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ এনেছেন সোহেল রানা। তাঁর দাবি, প্রয়োজনীয় বিএসটিআই ছাড়পত্র বা অন্যান্য বাধ্যতামূলক অনুমোদন না থাকলেও প্রভাব খাটিয়ে এসব পণ্য খালাসের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট আমদানি নথি, পরীক্ষাগারের ছাড়পত্র এবং কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের কাগজপত্র পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মো. আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগও করা হয়েছে। সোহেল রানার দাবি, বিভিন্ন কাস্টমস কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৮০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে থাকেন। তবে এই অর্থ লেনদেনের কোনো নির্দিষ্ট ব্যাংক রেকর্ড, রসিদ বা স্বাধীন তদন্তের তথ্য আবেদনের সঙ্গে রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। ফলে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে আবেদনকারী উল্লেখ করেছেন।

ঘুষের অভিযোগ যাচাইয়ের জন্য আমিনুল ইসলাম ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের লেনদেন, নগদ অর্থের গতিবিধি, সম্পত্তি কেনাবেচা এবং আয়কর নথি পরীক্ষা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তার নামে বা পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা জমি, ফ্ল্যাট, গাড়ি, ব্যবসায়িক বিনিয়োগ ও অন্যান্য সম্পদের তথ্যও যাচাইয়ের দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগে ‘গুনগুন এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠানের কাস্টমস সরকার মো. আবু হানিফ এবং হানিফ/শরীফ নামে পরিচিত কয়েকজনের সঙ্গে আমিনুল ইসলামের যোগাযোগ ও যোগসাজশের কথাও বলা হয়েছে। তবে এই যোগাযোগের ধরন বা কোনো আর্থিক লেনদেনের নির্দিষ্ট প্রমাণ আবেদনে উপস্থাপন করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও তদন্তের অংশ হিসেবে নেওয়া যেতে পারে।

এ ছাড়া ‘ক্লোজেট ক্লাউড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য আমদানি করে শুল্ক ফাঁকির অভিযোগও আনা হয়েছে। অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা, আমদানির নথি, বিল অব এন্ট্রি, পণ্যের প্রকৃত মূল্য, ঘোষিত মূল্য, পরিশোধিত শুল্ক এবং পণ্যের প্রকৃত সুবিধাভোগী কারা—এসব বিষয় খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।

মো. আমিনুল ইসলামের ব্যক্তিগত আয় ও সম্পদের মধ্যেও সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, সেটি যাচাইয়ের দাবি করা হয়েছে। সোহেল রানার আবেদনে তাঁর আয়কর রিটার্ন, সম্পদ বিবরণী, ব্যাংক হিসাব, জমি ও ফ্ল্যাটের দলিল, গাড়ির মালিকানা, ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব, বিনিয়োগ এবং দেশে-বিদেশে থাকা সম্ভাব্য সম্পদের তথ্য পরীক্ষা করার কথা বলা হয়েছে।

অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, কাস্টমস কার্যক্রম থেকে কথিতভাবে পাওয়া অবৈধ অর্থের একটি অংশ মার্কিন ডলারে রূপান্তর করে বিদেশে পাঠানো হয়ে থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে কোনো অর্থপাচারের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা যাচাই করতে ব্যাংকিং লেনদেন, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন, রেমিট্যান্স বা বৈদেশিক অর্থ স্থানান্তরের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথি পরীক্ষা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সোহেল রানা দাবি করেছেন, আমিনুল ইসলাম এর আগে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস ও ঢাকা উত্তর ভ্যাট কমিশনারেটসহ বিভিন্ন দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেসব কর্মস্থলেও তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা অনিয়মের নথি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। অভিযোগকারীর মতে, আগের কর্মস্থলের দায়িত্বকালীন কার্যক্রমও পর্যালোচনা করা হলে অভিযোগের সামগ্রিক চিত্র পাওয়া যেতে পারে।

বিমানবন্দর কার্গোতে কথিত ৩০ কোটি টাকা মূল্যের পণ্য খালাসের অভিযোগটি তদন্তের ক্ষেত্রে আলামত সংরক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন সোহেল রানা। তাঁর আবেদনে কার্গো এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ, ওয়্যারহাউস ইনভেন্টরি, কার্গো মুভমেন্ট রেকর্ড, গেট পাস, ডেলিভারি রেকর্ড, এয়ারওয়ে বিল, বিল অব এন্ট্রি, কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ডিউটি রোস্টার সংরক্ষণের অনুরোধ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সংশ্লিষ্ট অভ্যন্তরীণ তদন্ত বা প্রশাসনিক নথি থাকলে সেগুলোও সংগ্রহ করে যাচাই করার দাবি জানানো হয়েছে। এতে পণ্যগুলো আসলে কখন কার্গোতে প্রবেশ করেছে, কোন প্রক্রিয়ায় বের হয়েছে এবং বের করার সময় কারা দায়িত্বে ছিলেন—এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন অভিযোগকারী।

তবে লিখিত আবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো এখনো তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়নি। বিশেষ করে ঘুষের পরিমাণ, ৩০ কোটি টাকার পণ্য খালাস, অর্থপাচার এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথিত যোগসাজশের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সরকারি নথি ও আর্থিক তথ্য যাচাই প্রয়োজন।

এ বিষয়ে উপকমিশনার মো. আমিনুল ইসলামের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান, মো. আবু হানিফ, হানিফ/শরীফ নামে পরিচিত ব্যক্তিরা এবং ‘ক্লোজেট ক্লাউড’-এর সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তদন্তের চিত্র আরও পরিষ্কার হতে পারে।

সোহেল রানা তাঁর আবেদনে অভিযোগগুলোর স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অন্যদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এখন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআর, অর্থ মন্ত্রণালয় বা দুদক কী ধরনের অনুসন্ধান করে এবং বিমানবন্দরের কার্গো-সংক্রান্ত নথি ও আর্থিক লেনদেন যাচাইয়ের মাধ্যমে কী তথ্য বেরিয়ে আসে, সেটিই দেখার বিষয়। অভিযোগগুলো সত্য হলে তা সরকারি রাজস্ব ক্ষতি, প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আর্থিক অনিয়মের গুরুতর ঘটনায় পরিণত হতে পারে; আর অভিযোগের ভিত্তি না থাকলে তদন্তের মাধ্যমেই সেটিও স্পষ্ট হবে।




বন উজাড়, জোত-টিপি ও বদলি-বাণিজ্যের অভিযোগ: লামার ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রাম বনাঞ্চলের বান্দরবানের লামা বন বিভাগে চলছে অবৈধ অর্থ ও গাছ কেটে পাচারের হিড়িক। নিয়মের তোয়াক্কা না করে হরহামেশাই চলছে গাছ কাটা ও জবরদখলের রাজত্ব। এ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোস্তাফিজুর রহমান অধীনস্থ একাধিক অসাধু বন কর্মকর্তার যোগসাজশে বেপরোয়া লুটপাটের কারণে অবৈধ দখলদারত্ব থেকে অভিনব কায়দায় পাল্টে যাচ্ছে বনের নাম। যেন দুর্নীতির শীর্ষে উঠছে লামা বন বিভাগ। ফলে প্রতিদিনই লাখ লাখ টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বন বিভাগ তথা সরকার।

জানা গেছে, বন রক্ষার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেই উঠেছে বন উজাড়, জোত ও ট্রানজিট পারমিটের আড়ালে গাছ পাচার, বদলি-পদায়নে অনৈতিক অর্থ লেনদেন, বিভিন্ন চেকস্টেশনে মাসোহারা আদায় এবং বনায়ন প্রকল্পে সরকারি অর্থের অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ। এসব অভিযোগের তীর লামা বন বিভাগের ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। তবে রহস্যজনক কারণে ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমানের অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ-বাণিজ্য দেখেও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) মিহির কুমার দে। লামা বন বিভাগে বনাঞ্চল ধ্বংস, অবৈধ দখল, চাঁদাবাজি, গাছ কাটা কিংবা বন বিভাগের অভ্যন্তরীণ নানা দুর্নীতি ও বদলি-বাণিজ্য নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না তিনি। একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার এমন নিষ্ক্রিয়তা ও পরোক্ষ প্রশ্রয়ের কারণে বন কর্মকর্তারা বনজ সম্পদ উজাড়ে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে জানান বন-সংশ্লিষ্টরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে ফরেস্টার রনি পারভেজকে বন বিভাগে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আরও ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে আব্দুল মালেক নামে এক রেঞ্জারকে লামা সদর রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া জোত পারমিট অনুমোদন থেকে শুরু করে রেঞ্জ, বিট ও চেকস্টেশনে পদায়ন পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তো আছেই।

অভিযোগ অনুযায়ী, রনি পারভেজ বর্তমানে লামা বন আদালনের এফসিসিও, বমুবিলছড়ি বিট, বিশেষ টহল দল, লামা রেঞ্জ ও লামামুখ চেকস্টেশনের দায়িত্বে রয়েছেন। একই ব্যক্তির হাতে একসঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থাকায় বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে গাছ পাচারের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগকারীদের দাবি, সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে কাঠ পাচারের সুযোগ করে দেওয়া এবং লাকড়ি পোড়ানো ইটভাটা থেকে ৫ লাখ টাকা করে ঘুষ নিয়েছেন ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান। ফার্নিচার পরিবহনের অনুমোদনের নামে ১ হাজার টাকা আদায়ের মতো অনৈতিক বা অবৈধ কর্মকাণ্ডও চলছে দীর্ঘদিন ধরে।

ইটভাটার মালিকরা অভিযোগ করেন, লামা বন বিভাগের আওতাধীন লাকড়ি পোড়ানো ৪০টি ইটভাটা থেকে এককালীন পাঁচ লাখ টাকা এবং মাসে ১০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমানকে। টাকা না দিলে ভাটায় কিনে আনা লাকড়ি জব্দ ও বারবার অভিযান পরিচালনা করেন ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ৮০ হেক্টর এলাকায় বাগান সৃজনের বিপরীতে বাস্তবে মাত্র ৩০ হেক্টর বাগান করা হয়েছে। বাকি ৫০ হেক্টরের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলেও দাবি করেছেন বন-সংশ্লিষ্টরা। ডলুছড়ি রেঞ্জ নিয়েও রয়েছে নিয়মিত মাসোহারা আদায়ের নানা অভিযোগ।

এদিকে, বর্ষা মৌসুমে বাঁশ কাটা ও পরিবহন বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশনা থাকার পরও লামা বন বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে কাঁচা বাঁশ কাটা ও পরিবহনের জন্য মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে টিপি (পরিবহন পাশ) দেওয়া হচ্ছে। প্রতি বাঁশে ডিএফও ৫ টাকা করে নেন। কাগজে-কলমে মাতামুহুরি সংরক্ষিত বনের বাঁশ মহাল বন্ধ থাকলেও রাতে বিপুল পরিমাণ বাঁশ ভুয়া টিপি দিয়ে পরিবহন করা হচ্ছে। তাতেও আলাদা টাকা নেন ডিএফও।

ডিএফওর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো লামা বন বিভাগের ইয়াংছা মৌজার ৫০ নম্বর এফএল জোত। বন বিভাগের নথি অনুযায়ী, ওই জোতে সেগুন ও গামারীসহ মোট ২ হাজার ৬৬০টি গাছ কাটার অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে ২ হাজার ৪২২টি সেগুন ও ২৩৮টি গামারী গাছ রয়েছে। এসব গাছের বিপরীতে সেগুনের প্রায় ১৮ হাজার ঘনফুট এবং গামারীর প্রায় ২ হাজার ৭০০ ঘনফুট কাঠের সাইজলিস্ট অনুমোদন দেওয়া হয়।

নথি অনুযায়ী, ২ হাজার ৩৮৮টি গাছের সাইজলিস্টের বিপরীতে প্রায় ১৬ হাজার ঘনফুট কাঠ পরিবহনের জন্য প্রায় ৪৮টি ট্রানজিট পারমিট (টিপি) নেওয়া হয়েছে লামা বন বিভাগ থেকে।

স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, বিভিন্ন বেকারিতে জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার বিনিময়ে প্রতি মাসে প্রায় ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমানের কথিত অনিয়মের ক্ষেত্রে ডলুছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা এ কে এম আলতাফ হোসেন ও ফরেস্টার রনি পারভেজ ক্যাশিয়ারের ভূমিকায় রয়েছেন বলেও অভিযোগ দীর্ঘদিনের। আলতাফ হোসেন প্রায় দেড় বছর লামার চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনের পর প্রায় আট মাস আগে ডলুছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রগুলোর অভিযোগ, ডলুছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা এ কে এম আলতাফ হোসেন ফাইতং সড়কটি কাঠ চোরাকারবারিদের কাছে মাসিক চুক্তিতে অঘোষিতভাবে লিজ দিয়েছেন। এর ফলে ওই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন সেগুন, গর্জনসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ পাচার হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আলতাফের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের দাবি, জোত ও ট্রানজিট পারমিটের আড়ালে বনাঞ্চলের গাছ পাচারের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডে বিশেষ টহল দলের ওসি ফরেস্টার রনি পারভেজ সহযোগিতা করছেন বলেও অভিযোগ। এর আগে লামা বন বিভাগে জোত পারমিট ও ট্রানজিট পারমিট ব্যবহার করে বন উজাড়ের অভিযোগ নিয়ে তদন্তের আদেশ হলেও তা মাঝপথে থেমে যায় বলে জানা যায়।

আরও জানা যায়, লামা বন বিভাগের বিভিন্ন রেঞ্জে প্রতি মাসে বিপুলসংখ্যক জোত অনুমোদন দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব জোত থেকে কাঠ পরিবহনের ক্ষেত্রে প্রতি ঘনফুটে ৪০ টাকা করে ডিএফও মোস্তাফিজের নামে আদায় করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন। এছাড়া লামা বন বিভাগের সদর রেঞ্জের ট্রানজিট পারমিট (টিপি চলাচল পাশ) শাখায় গত প্রায় ১০ বছর ধরে মো. সেলিম নামে একজন দায়িত্ব পালন করছেন।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, লামা বন বিভাগে প্রতি মাসে আড়াই শতাধিক ট্রানজিট পারমিট (টিপি) পাশ হয়। প্রতিটি টিপির বিপরীতে ১০ হাজার টাকা করে ডিএফওর জন্য আদায় করেন সেলিম, এমন অভিযোগও রয়েছে। সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ অফিসের ট্রানজিট পারমিট (টিপি) শাখায় সরকারি কর্মচারীর পরিবর্তে একজন বেসরকারি ব্যক্তিকে দীর্ঘদিন দায়িত্বে রাখার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ রয়েছে, এসব অর্থ আদায়ের বাইরে কথিতভাবে রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলকে ঘনফুটপ্রতি পাঁচ টাকা দেওয়ার একটি বিষয় স্থানীয় পর্যায়ে প্রচলিত রয়েছে। লামা বন বিভাগের বিভিন্ন রেঞ্জ, বিট ও চেকস্টেশনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পোস্টিং ও বদলিতেও লাখ লাখ টাকার লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

ডিএফও মোস্তাফিজের বিরুদ্ধে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্টরা বলেন, পছন্দের কর্মস্থলে পদায়ন পেতে অর্থ দিতে হয় ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমানকে। তবে এ অভিযোগও দীর্ঘদিন ধরে উঠে আসছে।

অভিযোগ রয়েছে, লামা বন বিভাগে ছয়জন আউটসোর্সিং কর্মচারী রয়েছেন। তাদের প্রত্যেককে সরকারিভাবে প্রায় ১৮ হাজার টাকা করে মাসিক বেতন-ভাতা দেওয়া হয়। কিন্তু সরকারি কাজে ব্যবহার না করে এসব আউটসোর্সিং কর্মচারীকে ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে লামা বন বিভাগের ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলে তার নম্বরে সংযোগ পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক সিএফ মিহির কুমার দের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গাড়িতে আছেন বলে নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে কল কেটে দেন।

এদিকে, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট জোত পারমিট, ট্রানজিট পারমিট, বনায়ন প্রকল্পের বরাদ্দ ও ব্যয়ের নথি, পোস্টিং-বদলির আদেশ, টিপি শাখার রেকর্ড এবং বিভিন্ন চেকস্টেশনের আদায়সংক্রান্ত হিসাব নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং সরকারি অর্থের লুটপাট বন্ধে পুরো সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলেও জানিয়েছেন বন-সংশ্লিষ্টরা।




কক্সবাজারে এক লাখ ইয়াবা উদ্ধার

ডেস্ক নিউজঃ কক্সবাজারে বিজিবির বিশেষ অভিযানে এক লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল সাতটার দিকে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)–এর অধীন বাইশফাঁড়ী বিওপির একটি টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান চালায়।

বিজিবি জানায়, সীমান্ত পিলার-৩৬ থেকে প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কাস্টম নামক এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় মালিকবিহীন ও পরিত্যক্ত অবস্থায় এক লাখ পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, উদ্ধার করা ইয়াবার বিষয়ে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

তিনি বলেন, সীমান্ত পাহারার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও বিজিবি কাজ করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।




‘ক্যাশিয়ার’ পরিচয়ে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ, শত কোটি টাকার সম্পদের দাবিতে গণপূর্তের কায়কোবাদ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রিক্যাল/মেকানিক্যাল (ই-এম) বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. কায়কোবাদকে ঘিরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আবারও সামনে এসেছে। সহকর্মী প্রকৌশলী ও কয়েকজন ঠিকাদারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাধর কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কায়কোবাদ ই-এম বিভাগের বিভিন্ন কাজের সঙ্গে কমিশন বাণিজ্যের একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করেছেন। একই সঙ্গে তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

দপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদারের দাবি, কায়কোবাদকে ভেতরে ভেতরে ‘ক্যাশিয়ার’ নামে ডাকা হয়। তাদের অভিযোগ, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলম, পরে মোহাম্মদ শামীম আখতার এবং বর্তমানে প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামানের সময়েও তিনি প্রভাবশালী অবস্থানে ছিলেন। ক্ষমতাসীন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজ থেকে কমিশন আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ই-এম বিভাগের বিভিন্ন কাজের বরাদ্দ থেকে কায়কোবাদ ৪ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নিতেন। বড় প্রকল্পের ক্ষেত্রে এই কমিশনের অঙ্ক কয়েক লাখ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে তারা দাবি করেন। একটি সার্কেলে বছরে বিপুল পরিমাণ সরকারি কাজ হলে তার একটি অংশ কমিশন হিসেবে নেওয়ার মাধ্যমে বড় অঙ্কের অবৈধ আয় করা সম্ভব বলেও অভিযোগকারীরা মনে করেন।

কায়কোবাদের অধীন বা তার নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন ই-এম সার্কেলের কয়েকজন নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধেও কাজের অগ্রগতি না থাকা সত্ত্বেও বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে নির্বাহী প্রকৌশলী পবিত্র কুমার দাসের বিরুদ্ধেও কাজ না করে বিল উত্তোলনের অভিযোগ ওঠে। মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল বলে জানা যায়।

অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে শেষ না করেই যদি শতভাগ বিল পরিশোধ করা হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ছাড়াও তদারকির দায়িত্বে থাকা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা দরকার। তাদের প্রশ্ন, অধীন কর্মকর্তাদের কাজের অগ্রগতি যাচাই ও বিল অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে কায়কোবাদের দায়িত্ব কতটুকু ছিল।

কায়কোবাদের সম্পদ নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের দাবি, সরকারি চাকরি থেকে পাওয়া বৈধ আয়ের সঙ্গে তার জীবনযাপন ও কথিত সম্পদের পরিমাণের মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য রয়েছে। তার নিজের পাশাপাশি পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের নামে দেশে-বিদেশে সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগে রাজধানীর ইকবাল রোডের ‘এ’ ব্লকের ‘আমেনাস ড্রিম’ ভবনে প্রায় ৭ কোটি টাকা মূল্যের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তরায় দুটি, ধানমন্ডিতে একটি এবং বনানীতে দুটি ফ্ল্যাট থাকার দাবিও করা হয়েছে।

পূর্বাচলের আমুলিয়া এলাকায় প্রায় ৪০ কাঠা জমি থাকার অভিযোগও রয়েছে। এর বাইরে ধামরাইয়ে একটি ১০ তলা ভবন এবং কায়কোবাদের নিজ জেলা শেরপুরে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ জমি ও স্থাবর সম্পত্তি থাকার দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরিবারের ব্যবহারের জন্য নতুন মডেলের একটি টয়োটা এক্সিও গাড়ি থাকার কথাও অভিযোগে এসেছে। গাড়িটি আলআমিন নামে এক চালকের নামে থাকার দাবি করা হয়।

এ ছাড়া আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নামে আরও সম্পদ রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা ও অর্থের উৎস অনুসন্ধান করা হলে কায়কোবাদের কথিত সম্পদের পরিমাণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

কায়কোবাদের চাকরিজীবনের বিভিন্ন পর্যায় নিয়েও রয়েছে নানা আলোচনা। সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলমের দায়িত্বকালে তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে গণপূর্ত ই-এম প্ল্যানিং সার্কেলে কর্মরত ছিলেন। পরে চট্টগ্রাম ই-এম সার্কেলে দায়িত্ব পালন করে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ই-এম সার্কেল-২-এর দায়িত্ব পান।

সহকর্মীদের একটি অংশের অভিযোগ, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হওয়ার কারণে কায়কোবাদ বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আর্থিক বিষয়ে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হন। এমনকি তার নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন কাজ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। এ কারণেই দপ্তরের ভেতরে তার ‘ক্যাশিয়ার’ পরিচিতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেন।

সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধানের কথা থাকলেও তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কায়কোবাদের সম্পদ ও আয় নিয়ে আলাদাভাবে কোনো অনুসন্ধান হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান হলে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা এবং একই ধরনের আর্থিক অভিযোগে আলোচিত ব্যক্তিদের ভূমিকাও যাচাই করা প্রয়োজন।

কায়কোবাদকে ঘিরে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—তার অধীন বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও বিল উত্তোলনে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তিনি তদারকি কর্মকর্তা হিসেবে কী ভূমিকা পালন করেছেন। কোনো প্রকল্পে কাজের তুলনায় বেশি বিল দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট নথিতে তার অনুমোদন বা সুপারিশ ছিল কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযোগকারীরা মনে করেন, কায়কোবাদের সম্পদের উৎস অনুসন্ধানের পাশাপাশি তার দায়িত্ব পালনকালের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোও যাচাই করা দরকার। কোন ঠিকাদার কোন সময়ে কাজ পেয়েছেন, দরপত্রে কারা অংশ নিয়েছেন, কাজের মূল্য কত ছিল, কত টাকা বিল দেওয়া হয়েছে এবং কাজ বাস্তবে কতটুকু হয়েছে—এসব তথ্য পাশাপাশি পর্যালোচনা করলে কমিশন বা অনিয়মের অভিযোগের কোনো ভিত্তি আছে কি না, তা বোঝা সম্ভব।

এ ক্ষেত্রে তার আয়কর নথি, সম্পদ বিবরণী, ব্যাংক হিসাব, জমির দলিল, ফ্ল্যাটের মালিকানা, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন এবং পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদের তথ্য যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অভিযোগে উল্লেখ করা ইকবাল রোড, উত্তরা, ধানমন্ডি, বনানী, পূর্বাচল, ধামরাই ও শেরপুরের সম্পত্তিগুলোর প্রকৃত মালিকানা যাচাই করা হলে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

অভিযোগকারীদের দাবি, একজন সরকারি কর্মকর্তার বৈধ আয় ও ঘোষিত সম্পদের সঙ্গে যদি বাস্তব সম্পদের বড় পার্থক্য পাওয়া যায়, তাহলে দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনকালে তার সিদ্ধান্তে কোনো ঠিকাদার বা প্রতিষ্ঠান বিশেষ সুবিধা পেয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ৪ ও ৫ অক্টোবর মো. কায়কোবাদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হয়। হোয়াটসঅ্যাপেও তার কাছে বার্তা পাঠিয়ে অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য চাওয়া হয়। তবে প্রতিবেদন প্রস্তুত পর্যন্ত তিনি কোনো সাড়া দেননি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

সব মিলিয়ে, মো. কায়কোবাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো এখনো তদন্তে প্রমাণিত নয়। তবে কমিশন নেওয়া, সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম, অধীন কর্মকর্তাদের বিলসংক্রান্ত অভিযোগে তদারকির ভূমিকা এবং বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার দাবিগুলো আলাদাভাবে যাচাইয়ের দাবি রাখে।

অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে তার সম্পদ ও আয়ের হিসাব যাচাই এবং দায়িত্ব পালনকালের প্রকল্পগুলোর নথি পর্যালোচনা। সরকারি বেতন-ভাতা ও বৈধ আয়ের সঙ্গে তার নামে-বেনামে থাকা কথিত সম্পদের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, সেটি নিরপেক্ষভাবে যাচাই হলেই প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে পারে।




চীন, ভারত, জাপানসহ এশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ছে

ডেস্ক নিউজঃ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি এশিয়ার বড় বাজারগুলোতেও বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে চীন, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এশীয় বাজারে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি দেশের বাজার বহুমুখীকরণের সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-সেপ্টেম্বরে চীনে বাংলাদেশের রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়ে ২২ কোটি ৫৪ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২০ কোটি ৬১ লাখ ৮০ হাজার ডলার।

দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি ৭ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়ে ১৩ কোটি ৪৫ লাখ ৫০ হাজার ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১২ কোটি ৫৪ লাখ ১০ হাজার ডলার। ভারতে রপ্তানি ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেড়ে ৫১ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। গত বছরের একই সময়ে দেশটিতে রপ্তানি হয়েছিল ৪৮ কোটি ৩৭ লাখ ১০ হাজার ডলারের পণ্য।

এশিয়ার আরেক গুরুত্বপূর্ণ বাজার জাপানেও রপ্তানি কিছুটা বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটিতে ৩৯ কোটি ৯১ লাখ ১০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৩৯ কোটি ৬১ লাখ ১০ হাজার ডলার।

এশিয়ার এসব বাজারে প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক পণ্য রপ্তানিতেও ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-সেপ্টেম্বরে দেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩০৯ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ১ হাজার ২৩১ কোটি ডলার।

এশিয়ার বাজারে রপ্তানি বাড়ার এই প্রবণতা বাংলাদেশের জন্য নতুন বাজার ও পণ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার এবং এশিয়ার সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানোর সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, এশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে পণ্যভিত্তিক রপ্তানি সক্ষমতা, ক্রেতাদের চাহিদা এবং নতুন পণ্য ও বাজারের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘চীন একটি বিশাল বাজার। সেখানে নতুন নতুন পণ্যের বাজার তৈরির সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে ভৌগোলিক নৈকট্য থাকায় আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বড় সুযোগ রয়েছে।’

চীনের বাজারে পণ্য বহুমুখীকরণের ওপর ইপিবি গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে হাসান আরিফ বলেন, দেশটির বিশাল ভোক্তা বাজার ও ক্রমবর্ধমান চাহিদা বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।

ইপিবির সহযোগিতায় কয়েকটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ১০ম চীন-দক্ষিণ এশিয়া এক্সপো এবং ৩০তম চায়না কুনমিং আমদানি-রপ্তানি মেলা ২০২৬-এ অংশ নিয়েছে। এসব আয়োজনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে রপ্তানিকারকেরা পণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি সম্ভাব্য ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বাজারের পরিবর্তিত চাহিদা সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

ভারতের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ভৌগোলিক নৈকট্য ও বিশাল ভোক্তা বাজারের কারণে দেশটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে কাজ চলছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়াজাত পণ্য, জুতা, পাটজাত পণ্য, গৃহসজ্জার বস্ত্র, ওষুধ ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে তিনি জানান।

জাপানের বাজারেও চামড়াজাত পণ্য, জুতা, পাটজাত পণ্য, গৃহসজ্জার বস্ত্র, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ওষুধ এবং হালকা প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।

হাসান আরিফ বলেন, এসব বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও বাড়াতে পণ্যের মান, সংশ্লিষ্ট দেশের চাহিদা মোতাবেক মান ও বিধিবিধান পরিপালন, সময়মতো সরবরাহ এবং বাজারের চাহিদা সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখা জরুরি।

রপ্তানি বাজার ও পণ্যের বহুমুখীকরণে ইপিবি বাণিজ্য মেলা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল, বাজার অনুসন্ধান ও বিভিন্ন প্রচারমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে রপ্তানিকারকদের সহায়তা করছে বলেও জানান তিনি।




শিশু একাডেমির ৫০ বছরপূর্তি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছরপূর্তি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে পৌঁছালে ১৫০ জন শিশু প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নেয়। পরে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয় এবং প্রধানমন্ত্রী অতিথিদের সঙ্গে আসন গ্রহণ করেন।

এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য ‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত রয়েছেন। সভাপতিত্ব করছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

আয়োজনে শিশুদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের স্মারক উপহার প্রদান, স্মরণিকা ‘শৈশব’-এর মোড়ক উন্মোচন এবং ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিশুদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কথা বলার কর্মসূচি রয়েছে। এছাড়া শিশুদের আঁকা ছবি ও ফটো গ্যালারি পরিদর্শন করবেন তিনি।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শিশু জাদুঘর ভবনে যাবেন এবং ভবনের নিচতলায় সোলার প্যানেল ও সাব-স্টেশন উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।




পূজার আগে শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল

ডেস্ক নিউজঃ আসন্ন দুর্গাপূজার ছুটি সামনে রেখে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। পূজার ছুটি টানা পাঁচ দিন নিশ্চিত করতে আগামী ১৭ অক্টোবর (শনিবার) সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত অফিস করতে হবে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মন্ত্রিসভা বৈঠকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) এক দিনের অতিরিক্ত সরকারি ছুটির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এর ফলে পূর্বনির্ধারিত ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে সরকারি চাকরিজীবীরা টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাবেন।

সরকারের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমীতে সরকারি ছুটি রয়েছে। এর পরদিন ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত ছুটি দেওয়া হয়েছে। এরপর ২৩ অক্টোবর শুক্রবার ও ২৪ অক্টোবর শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি।

ফলে ২০ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন সরকারি ছুটি ভোগ করবেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

তবে টানা এই ছুটি নিশ্চিত করতে ১৭ অক্টোবর শনিবারকে কর্মদিবস হিসেবে রাখা হয়েছে। ওই দিন সরকারি অফিস-আদালত নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

এদিকে, চলতি বছর ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী, ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী পালিত হবে।

অতিরিক্ত এক দিনের ছুটির ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এবারের দুর্গাপূজায় টানা পাঁচ দিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হয়েছে।




ভারতভাগের পর প্রথমবার আসাম থেকে ঢাকার আন্তর্জাতিক নৌপথে পণ্য পরিবহন

ডেস্ক নিউজঃ ১৯৪৭ সালে ভারতভাগের পর প্রথমবারের মতো ভারতের আসাম থেকে আন্তর্জাতিক নৌপথে ঢাকার উদ্দেশ্যে সরাসরি মালবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। সোমবার আসামের ডিব্রুগড় জেলার ব্রহ্মপুত্র নদের বগিবিল টার্মিনাল থেকে ৫৪০ মেট্রিক টন মিথানলবোঝাই একটি বার্জ ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ প্রায় ৭০ বছর ধরে বন্ধ থাকা ডিব্রুগড়ের ঐতিহাসিক নদীবন্দর ও নৌপথ পুনরুজ্জীবিত হলো।

ভারতের কেন্দ্রীয় বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল এক অনুষ্ঠানে জাহাজটির যাত্রার উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে একাধিক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আয়োজনে যুক্ত হন।

নমরূপের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আসাম পেট্রো-কেমিক্যালস লিমিটেডের (এপিসিএল) উৎপাদিত মিথানল নিয়ে বার্জটি ঢাকার পানগাঁও বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে। জাহাজটি ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর জাতীয় জলপথ-২ ধরে প্রায় ৭৬৮ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে পৌঁছাবে। সেখান থেকে ইন্দো-বাংলাদেশ প্রোটোকল রুট (আইবিপিআর) অনুসরণ করে ঢাকার নারায়ণগঞ্জে যাবে। ডিব্রুগড়ের বগিবিল থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত জাহাজটিকে মোট ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে।

উত্তর-পূর্ব ভারতের পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছাতে ব্রহ্মপুত্র নদ বাণিজ্যিক করিডোর হিসেবে কতটা অর্থনৈতিক ও ব্যবহারিক সম্ভাবনা রাখে, এই পরীক্ষামূলক যাত্রার মাধ্যমে তা যাচাই করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সর্বানন্দ সোনোয়াল বলেন, আমাদের দাদু-ঠাকুরমারা ডিব্রুগড় ঘাটে স্টিমারের বাঁশির শব্দ শুনে বড় হয়েছেন। ৭০ বছর ধরে সেই বাঁশি স্তব্ধ ছিল, জাহাজ আসাও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আজ ডিব্রুগড় থেকে ফের বিশ্বের উদ্দেশ্যে একটি জাহাজ রওনা হলো। নদী কখনো আমাদের হতাশ করেনি, যা অভাব ছিল তা হলো নদীপথ পুনরুজ্জীবিত করার রাজনৈতিক সদিচ্ছা।

তিনি আরও বলেন, নমরূপে উৎপাদিত আসামের নিজস্ব পণ্য এখন আসামের নদীপথ ব্যবহার করেই আন্তর্জাতিক বাজারে যাচ্ছে। উত্তর-পূর্ব ভারত আর প্রান্তিক কোনো এলাকা নয়, এটি এখন ভারতের পূর্বমুখী বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার। এটি প্রথম যাত্রা, তবে এটিই শেষ নয়।

ঐতিহাসিকভাবে ডিব্রুগড় একসময় পূর্ব ভারতের অন্যতম ব্যস্ততম নদীবন্দর ছিল। ১৮৫৬ সালের মধ্যেই তৎকালীন ক্যালকাটা (বর্তমান কলকাতা) থেকে সরকারি স্টিমার ডিব্রুগড়ে পৌঁছাত। ১৮৮২ সালে ডিব্রুগড় স্টিমার ঘাট থেকে ‘ডিব্রু-সাদিয়া রেলওয়ে’র কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯১৩ সালের দিকে আসামের চা, কাঠ ও যাত্রী পরিবহন করে প্রতিদিন ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে ডিব্রুগড়ে স্টিমার চলাচল করত।

তবে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ এই নৌযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এর ফলে আসামের পণ্য কলকাতায় পাঠাতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে পরিবহনে বাধ্য হতে হয়। পরবর্তীতে ১৯৫০ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে ডিব্রুগড়ের নদীগর্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৯৫৪ সালে ডিব্রুগড় ঘাট থেকে নিয়মিত বুকিং বন্ধ হয়ে যায়। রেলপথে চা পরিবহন শুরু হওয়ায় ১৯৫৬ সালের ১৫ অক্টোবর ঘাটটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর আন্তঃসীমান্ত নদীবাণিজ্য সম্পূর্ণ স্থগিত হয়ে যায়।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম নদীবাণিজ্য প্রোটোকল স্বাক্ষরিত হয়। ১৯৮৮ সালে সাদিয়া থেকে ধুবড়ি পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের ৮৯১ কিলোমিটার অংশকে ‘জাতীয় জলপথ-২’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তবে এ জলপথে নিয়মিত কার্গো সেবা শুরু হতে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। ওই সময় পান্ডু থেকে ধুবড়িতে সিমেন্ট পরিবহন শুরু হয়।

সর্বানন্দ সোনোয়াল জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ডিব্রুগড়কে তার ঐতিহ্যবাহী সম্মান ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বগিবিল টার্মিনাল, কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন কমপ্লেক্স এবং ‘জলবাহক’ প্রকল্পের অধীনে নিয়মিত কার্গো সেবা চালুর মাধ্যমে শহরটিকে আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো দেওয়া হচ্ছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই নৌপথে বাণিজ্যিক কার্যক্রম গতি পেয়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে টাটা স্টিলের বার্জ বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে পান্ডুতে পৌঁছায়। ২০২৩ সালে নদীভিত্তিক প্রমোদতরী ‘এমভি গঙ্গা বিলাস’ বারাণসী থেকে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ডিব্রুগড়ে যায়। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বগিবিল প্যাসেঞ্জার ও কার্গো টার্মিনাল উদ্বোধন করা হয়। আর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে চালু করা হয় ‘জলবাহক’ কার্গো প্রণোদনা কর্মসূচি।

ভারতের বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ভারতের জাতীয় জলপথে যেখানে মাত্র ১৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন পণ্য পরিবহন হতো, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ২১৮ মিলিয়ন মেট্রিক টনে পৌঁছেছে। বর্তমানে উত্তর-পূর্ব ভারতের জলপথ উন্নয়নে ৬৮ বিলিয়ন রুপি (প্রায় ৭৭ কোটি মার্কিন ডলার) বিনিয়োগ করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় জলপথ-২-এর উন্নয়ন, পান্ডুতে জাহাজ মেরামত কারখানা নির্মাণ এবং পান্ডু বন্দরের সংযোগ জোরদার করা।

সোনোয়াল বলেন, নদীপথে প্রতি টন পণ্য পরিবহনের অর্থ হলো কম জ্বালানি পোড়ানো এবং মহাসড়কে ট্রাকের চাপ কমানো। আঞ্চলিক জলপথ সংযোগ বাড়াতে ভারত এখন বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। ঐতিহাসিক এই নৌযাত্রায় ইনল্যান্ড ওয়াটারওয়েজ অথরিটি অব ইন্ডিয়া (আইডব্লিউএআই), আসাম পেট্রো কেমিক্যালস, কোচিন ব্যাংকার্স প্রাইভেট লিমিটেড এবং বাংলাদেশের সহযোগী অংশীদারেরা যৌথভাবে অংশগ্রহণ করেছে।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস।




দিনে ১০-১৫ বার ‘আই লাভ ইউ’ বলেন রাশমিকা, জানালেন বিজয়

বিনোদন ডেস্কঃ ভালোবাসার সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে নিয়মিত অনুভূতি প্রকাশের ওপর গুরুত্ব দেন অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা। স্বামী ও অভিনেতা বিজয় দেবেরাকোন্ডার প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা নাকি দিনে ১০ থেকে ১৫ বারও বলেন তিনি। শুধু নিজেই ভালোবাসার কথা জানান না, বিজয়কেও তার অনুভূতি মুখে প্রকাশ করতে মনে করিয়ে দেন রাশমিকা।

সম্প্রতি প্রখর গুপ্তর একটি পডকাস্টে একসঙ্গে হাজির হয়েছিলেন বিজয় ও রাশমিকা। সেখানে তাদের সম্পর্ক, বিয়ে এবং দাম্পত্য জীবনে ভালোবাসা ধরে রাখার নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন তারা।

রাশমিকার মতে, সম্পর্ক যত পুরোনোই হোক না কেন, একে অপরের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের অভ্যাস ধরে রাখা জরুরি। অনেক সময় দীর্ঘদিনের সম্পর্কে মানুষ ধরে নেন, সঙ্গী এমনিতেই জানেন যে তিনি ভালোবাসেন। কিন্তু এভাবেই ধীরে ধীরে সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে পারে।

স্ত্রীর এই অভ্যাসের কথা জানাতে গিয়ে বিজয় বলেন, রাশমিকা তাকে দিনে অন্তত ১০ থেকে ১৫ বার ‘আই লাভ ইউ’ বলেন। একই সঙ্গে তাকেও নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে উৎসাহিত করেন তিনি।

বিজয়ের ভাষ্য, তিনি মনে মনে সবসময়ই অনুভব করেন যে রাশমিকাকে ভালোবাসেন। তাই আলাদা করে বারবার তা বলার প্রয়োজন আছে বলে মনে করতেন না। তবে রাশমিকা তাকে বুঝিয়েছেন, ভালোবাসা শুধু অনুভব করলেই হয় না, কখনো কখনো তা মুখেও প্রকাশ করা প্রয়োজন।




‘ছোটবেলা থেকে আপনার সব সিনেমা দেখেছি, এখন পুরো টাকা ফেরত চাই’

বিনোদন ডেস্কঃ বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা গোবিন্দ এবং তার সহশিল্পী ‘রূপা’ ছবির অভিনেত্রী কোমল রানি স্বর্ণকারের সাম্প্রতিক সম্পর্ক নিয়ে বিনোদনপাড়ায় নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। গোবিন্দ ও কোমলকে মুম্বাইয়ের ঐতিহ্যবাহী লালবাগচা রাজার মণ্ডপে একসঙ্গে দেখা যাওয়ার পর থেকেই তাদের সম্পর্কের প্রকৃতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে জোর জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়।

এর ধারাবাহিকতায় গোবিন্দের স্ত্রী সুনীতা আহুজার পাশে দাঁড়িয়ে এবার সরাসরি কোমল রানি স্বর্ণকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন ‘ড্রামা কুইন’ খ্যাত অভিনেত্রী রাখি সাওয়ান্ত।

গত শনিবার নিজের ও গোবিন্দের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে চলমান গুঞ্জনের জবাবে কোমল একটি বেশ কড়া বার্তা পোস্ট করেন। মুম্বাইয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কোমলের সেই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান রাখি এবং তাকে খোলাখুলি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।

সংবাদমাধ্যমের সামনে কথা বলার সময় রাখি গোবিন্দের ওপর নিজের চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এমনকি ছেলেবেলা থেকে প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে গোবিন্দের সিনেমা দেখার পেছনে যে টাকা খরচ হয়েছে, তাও ফেরত চান তিনি। রাখি বলেন, আমি মারাত্মক রেগে আছি। গোবিন্দাজি, প্রথম কথা হলো আমার ৬৫,৯৯৯ রুপি ফেরত দিন। ছোটবেলা থেকে আপনার সব সিনেমা দেখেছি, আপনি আমার প্রিয় নায়ক ছিলেন। কিন্তু এখন আমি টিকিটের সমস্ত টাকা ফেরত চাই। সুনীতাজির সঙ্গে আপনি যা করছেন তা চরম অন্যায়। আমি সত্যিই অত্যন্ত মর্মাহত। এমনকি তিনি আমার সম্পর্কেও কথা বলেছেন এবং বলেছেন যাদের ডিভোর্স হয়েছে তাদের এই বিষয়ে মন্তব্য করা উচিত নয়। আমার জীবনকাহিনি অনেক কষ্টের এবং আমি এক কঠিন বিচ্ছেদের মধ্য দিয়ে গেছি। কিন্তু আপনি নিজের এক সুন্দর সুখী দাম্পত্যজীবন ছেড়ে কাদায় কমল দেখতে চলে গেলেন! চিচি ভাইয়া, এটি আপনাকে মোটেও মানায় না।

গোবিন্দের এই পদক্ষেপ দেশের অসংখ্য মানুষকে ব্যথিত করেছে উল্লেখ করে তার চার দশকের দাম্পত্যজীবনের কথা মনে করিয়ে দেন রাখি। তিনি গভীর ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, একদম গুরুত্ব দিয়ে বলছি গোবিন্দাজি, পুরো দেশ আজ আপনার ওপর অসন্তুষ্ট। যে নারী আপনাকে বিয়ে করে দুটো সন্তানের জন্ম দিলেন এবং দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে আপনার সুখ-দুঃখের সঙ্গী হয়ে পাশে থাকলেন, আপনি তাকে এভাবে ফেলে দিলেন?

চলমান বিতর্কে কোমলের উপস্থিতি ও অন্যান্য তারকাদের নিয়ে তার মন্তব্য প্রকাশের কঠোর সমালোচনা করেন রাখি। কোমলকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আর এই কোমল আবার কে? সে আমাকে নিয়ে বাজে কথা বলছে এবং অন্যান্য তারকাদের সম্পর্কেও নোংরা মন্তব্য করছে। চিচি ভাইয়াই তো তাকে ওড়ার জন্য ডানা দুটো মেলে দিয়েছেন। শোনো কোমল, আমার সঙ্গে একদম লাগতে এসো না। আমি কিন্তু সুনীতা নই, তোমাকে একদম কাঁচা চিবিয়ে খেয়ে ফেলব। শান্তিতে নিজের সিনেমার কাজ করো রাক্ষসী, স্বামী চোর! তুমি একটা মানুষের ভরা সংসার ভেঙে তছনছ করে দিলে।

গোবিন্দ সুনীতার প্রতি বিশ্বস্ত থাকতে না পারলে কোমলের প্রতি কীভাবে অনুগত থাকবেন—এমন প্রশ্ন তুলে রাখি আরও বলেন, তুমি ভেবেছো একজন ধনী লোককে পটিয়ে গোল্ড ডিগার বনে যাবে, তার টাকা নিয়ে সিনেমা বানাবে আর কপালে তার নামের সিঁদুর পরবে? যে মানুষটি সুনীতার সঙ্গে বিশ্বস্ত থাকতে পারল না, সে তোমার সঙ্গে কীভাবে বিশ্বস্ত থাকবে?

এর আগেও গোবিন্দের এই বিতর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছিলেন রাখি। তখন তিনি সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেন, সুনীতা আহুজার সঙ্গে তার ব্যক্তিগতভাবে ফোনে কথা হয়েছে এবং গোবিন্দ নাকি কোমলকে বিয়ে করার পরিকল্পনা করছেন—এমন গুঞ্জন নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল।

এদিকে গোবিন্দ, সুনীতা ও কোমল রানি স্বর্ণকারকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই হাইপ্রোফাইল বিতর্ক ঘিরে বলিউডের অন্যান্য তারকারাও প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেছেন। গত সপ্তাহেই অভিনেত্রী কাশ্মীরা শাহ ‘সংসার ভাঙনে যুক্ত ব্যক্তিদের’ নাম না করে একটি রহস্যময় পোস্ট শেয়ার করেন। এ ছাড়া প্রযোজক ও অভিনেত্রী দিব্যা খোসলাও সম্প্রতি এই বিষয়টি নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন।