জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সভাপতি নির্বাচিত হলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান

ডেস্ক নিউজ : জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ৯৯ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

মঙ্গলবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ ভোটে ড. খলিলুর রহমান ৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রার্থী পেয়েছে ৯১ ভোট। এই বিজয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতি জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহের আস্থা, গ্রহণযোগ্যতা এবং ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক প্রভাবের সুস্পষ্ট প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

এই সাফল্য বাংলাদেশের জন্য শুধু একটি মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক পদে নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা নয়; বরং এটি বহুপাক্ষিক কূটনীতি, শান্তি, উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে দেশের সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। এই গৌরবোজ্জ্বল মাইলফলক অর্জনের পেছনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সীমিত সময়ে বাংলাদেশের সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং প্রার্থী ড. খলিলুর রহমানের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা—এই তিনটি বিষয় মূল ভূমিকা পালন করেছে।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় নির্বাচনের জন্য মাত্র তিন মাসের মতো সময় অবশিষ্ট ছিল। সেই সীমিত সময়ের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রার্থিতা নিয়ে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়ে বিজয়ের ব্যাপারে প্রায় নিশ্চিত আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৯৭৮ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদে বাংলাদেশের নির্বাচনের বিষয়টি স্মরণ করেন। সেই সময় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে সীমিত সময়ে পরিচালিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশ তৎকালীন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী জাপানকে পরাজিত করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত হয়েছিল। এই নির্বাচনেও বাংলাদেশ সাফল্য অর্জন করতে পারবে বলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তখনই দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন।

এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল সময়ের সীমাবদ্ধতা। মাত্র তিন মাস সময় হাতে পেয়ে বাংলাদেশকে এমন এক বৈশ্বিক কূটনৈতিক প্রচারণা পরিচালনা করতে হয়েছে, যা সাধারণত কয়েক বছরব্যাপী প্রস্তুতি ও ধারাবাহিক যোগাযোগের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে। বাংলাদেশ কার্যত মাত্র তিন মাসের প্রচারণার মধ্যেই পাঁচ বছরের সমপরিমাণ কূটনৈতিক তৎপরতা সম্পন্ন করেছে।

বাংলাদেশ ২০২০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউএনজিএ সভাপতি পদে নির্বাচনে প্রার্থিতা ঘোষণা করলেও ২০২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে দেশের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এরপর থেকেই পূর্ণমাত্রার কূটনৈতিক প্রচারণা শুরু হয়। দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির সুযোগ না থাকায় এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ এবং বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক ফোরামে অত্যন্ত সক্রিয় ও কৌশলগত প্রচারণা চালিয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন অর্জনে সফল হয়েছে।

অপরদিকে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাস ২০১৬ সালেই তাদের প্রার্থিতা ঘোষণা করে এবং গত এক দশক ধরে ধারাবাহিক প্রচারণা চালিয়েছে। বিশেষ করে গত এক বছরে দেশটি অত্যন্ত বিস্তৃত ও সুসংগঠিত কূটনৈতিক প্রচারণা পরিচালনা করেছে।

জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের সমর্থন অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে এত অল্প সময়ে সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচারণা পরিচালনা নিঃসন্দেহে খুবই কঠিন ও কৌশলগতভাবে চ্যালেঞ্জিং ছিল। এই প্রচারণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। পাশাপাশি নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনসমূহ সমর্থন আদায়ে সমন্বিত ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।

বাংলাদেশের প্রার্থীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা এ বিজয়ে বিরাট ভূমিকা রেখেছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ছিল জাতিসংঘের সদর দপ্তরে গত ১৩ মে অনুষ্ঠিত ড. খলিলুর রহমানের ইন্টারঅ্যাকটিভ ডায়ালগ। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বর্তমান সভাপতি আনালেনা বায়েরবকের সভাপতিত্বে প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী ওই সংলাপে বাংলাদেশের প্রার্থী ড. খলিলুর রহমান তাঁর ভিশন স্টেটমেন্ট উপস্থাপন করেন এবং নির্বাচিত হলে সাধারণ পরিষদ পরিচালনায়ডের অগ্রাধিকার ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। কূটনৈতিক মহলে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সংলাপ ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। এই সংলাপের পর কার্যত বাংলাদেশের পক্ষে প্রায় ৩০টি দেশ তাদের সমর্থন ব্যক্ত করে এবং স্পষ্টত বাংলাদেশ বিজয়ের পথে সুনিশ্চিতভাবে এগিয়ে যায়।

বাংলাদেশের প্রচারণায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে কার্যকর বহুপাক্ষিকতা, জাতিসংঘের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, উন্নয়নশীল দেশসমূহের স্বার্থ সংরক্ষণ, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্রগুলোর পক্ষে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বাস্তবায়ন, শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অবদান এবং বৈশ্বিক দক্ষিণের কণ্ঠস্বরকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়গুলো। বাংলাদেশের প্রচারণা ছিল বিষয়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে, যেখানে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ক্রমশ বাড়ছে, সেখানে বাংলাদেশ সংলাপ, সহযোগিতা এবং ঐকমত্যভিত্তিক কূটনীতির ওপর জোর দিয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার এই ঐতিহাসিক বিজয় অর্জনের জন্য জাতিসংঘের সদস্য দেশসমূহের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে এবং জাতিসংঘের মূলনীতি ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে তার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে।




যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে উল্কা বিস্ফোরণ, তৈরি হলো ‘সনিক বুম’

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের আকাশে প্রকাণ্ড একটি উল্কাখণ্ড বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পর প্রায় ৩০০ টন টিএনটি বিস্ফোরকের সমপরিমাণ প্রচণ্ড শক্তি উৎপন্ন করে সশব্দে বিস্ফোরিত হয়েছে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা এই বিরল মহাকাশীয় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। 

আনুমানিক ৩ মিটার চওড়া এই মহাজাগতিক পাথরটি অত্যন্ত উচ্চ গতিতে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করার পর বাতাসের তীব্র ঘর্ষণে জ্বলে ওঠে এবং একটি বিশাল আলোর ঝলকানি সৃষ্টি করে বিস্ফোরিত হয়। এই বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট প্রচণ্ড শব্দ বা ‘সনিক বুম’ পুরো অঞ্চল জুড়ে প্রতিধ্বনিত হয়।

শনিবার (৩০ মে) মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ০৬ মিনিটে নিউ ইংল্যান্ড এবং ম্যাসাচুসেটসের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের আকাশে এই তীব্র আলোর ঝলকানি ও বিস্ফোরণটি ঘটে। বিশেষ করে বোস্টন শহরের বাসিন্দারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিস্ফোরণের অসংখ্য বিবরণ প্রকাশ করেছেন।

অনেক প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেছেন, বিস্ফোরণের শব্দ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে সেটির কম্পনে তাদের ঘরবাড়ি পর্যন্ত কেঁপে উঠেছিল। বিজ্ঞানীরা মূলত বায়ুমণ্ডলীয় বিস্ফোরণ শনাক্ত করার জন্য বিশেষভাবে তৈরি উন্নত সেন্সর ব্যবহার করে এই ধরনের মহাজাগতিক ঘটনা ট্র্যাক করে থাকেন। এটি ভূপৃষ্ঠ থেকে অনেক মাইল উঁচুতে ঘটায় নিচে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

মহাকাশ সংস্থার ডেপুটি নিউজ চিফ জেনিফার ডুরেন ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, এই উল্কাটি বর্তমানে সক্রিয় থাকা কোনো সাধারণ উল্কাবৃষ্টির অংশ ছিল না, বরং এটি সম্পূর্ণ একটি প্রাকৃতিক বস্তু ছিল। তিনি স্পষ্ট করেন যে এটি মানবসৃষ্ট কোনো মহাকাশ বর্জ্য বা কৃত্রিম উপগ্রহের ধ্বংসাবশেষ ছিল না।

নাসার তথ্য অনুযায়ী, মহাকাশ শিলাটি যখন ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪০ মাইল উচ্চতায় বিস্ফোরিত হয়, তখন সেটির গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৭৫ হাজার মাইল বা ১ লাখ ২০ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি। বায়ুমণ্ডলে এই আকস্মিক ভেঙে যাওয়ার সময় যে বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয়েছিল তা প্রায় ৩০০ টন টিএনটি-র সমান, যা মূলত এই ভয়াবহ শব্দের সৃষ্টি করেছে।

আমেরিকান মেটিওর সোসাইটির ফায়ারবল প্রোগ্রাম মনিটর রবার্ট লুনসফোর্ড মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে জানিয়েছেন, দেলাওয়ার থেকে মন্ট্রিয়ল পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলের বাসিন্দাদের কাছ থেকে তারা এই দ্বি-স্তরের বিস্ফোরণের শব্দের ডজন খানেক সুনির্দিষ্ট প্রতিবেদন পেয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে এটি স্বাভাবিক উল্কার চেয়ে আকারে বেশ বড় ছিল।

পাথরটির গতিপথ ও গতিবেগ বিশ্লেষণ করে এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এর বেশিরভাগ অংশই মাটিতে পড়ার আগে সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, আর যদি কোনো অংশ অবশিষ্ঠ থেকে থাকে তবে তা সোজা আটলান্টিক মহাসাগরে পতিত হয়েছে। নোয়া-এর অত্যাধুনিক ‘গোয়েস-১৯’ স্যাটেলাইটও এই অদ্ভুত আলোর ঝলকানি নিখুঁতভাবে ক্যামেরাবন্দী করেছে, যা কোনো বজ্রঝড়ের আলো ছিল না।

মহাকাশ বিজ্ঞানী ও আবহাওয়াবিদ নিক স্টুয়ার্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, বোস্টনের আকাশে অনাকাঙ্ক্ষিত এই আলোর ঘনত্ব বিশ্লেষণ করে এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে এটি একটি অতি শক্তিশালী বোলিড বা উল্কার পুনঃপ্রবেশের ঘটনা ছিল। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা আরও স্পষ্ট করেছে, সাধারণত ভূগর্ভের একটি নির্দিষ্ট স্থানে ঘটা ভূমিকম্পের চেয়ে এই আকাশীয় সনিক বুমের ঘটনাটি সম্পূর্ণ ভিন্ন, কারণ এটি বায়ুমণ্ডলের একটি সরল রৈখিক পথ ধরে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

নাসা স্পেস অ্যালার্টের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, নিউ ইংল্যান্ডের বিস্তীর্ণ এলাকার অসংখ্য মানুষ এই বিরল মহাজাগতিক আলোর ঝলকানি ও তীব্র বিস্ফোরণের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সাক্ষী হয়েছেন।

সূত্র: এনডিটিভি




বাগেরহাটে মাজারের দীঘিতে কুমির টেনে নেওয়া শিশুর মরদেহ উদ্ধার

ডেস্ক নিউজঃ বাগেরহাটের খান জাহান আলী (রহ) এর মাজার সংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের টেনে নেওয়া শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে মহিলা ঘাটের পাশ থেকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে খাদেম ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।

এর আগে সোমবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে খানজাহান আলীর (রহ) মাজার সংলগ্ন দীঘির পূর্ব পাশে নারীদের ঘাটে গোসল করতে নামলে শিশু ফাতেমা আক্তারকে (৭) মাজারে থাকা একমাত্র কুমিরটি টেনে নিয়ে যায়। এ সময় চারদিকে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু হয়। স্থানীয়রা মাজারের মধ্যে নৌকা নামিয়ে শুরু করে উদ্ধার অভিযান। পরে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, জেলা প্রশাসন অংশ নেয় উদ্ধার অভিযানে।

কুমিরে টেনে নিয়ে যাওয়া ফাতেমা আক্তার মাজারে ভবঘুরে হিসেবে থাকা এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর মেয়ে। এর বেশি পরিচয় জানাতে পারেনি মাজার সংশ্লিষ্টরা ও পুলিশ প্রশাসন।

প্রতক্ষদর্শীরা জানান, রাতে ওই ঘাটে অনেক লোকজন ছিল। মেয়েটি গোসলে নামলে তাকে কুমিরে টেনে নিয়ে যায়। মেয়েটি ও ঘাটে থাকা লোকজন চিৎকার-চেঁচামেচি করলেও, সাহস করে কেউ এগিয়ে আসেনি।

ঘাটের পাশে থাকা দোকানি বিনা বলেন, মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। তার শরীরের কয়েক জায়গায় কুমিরের কামড়ের দাগ রয়েছে।

মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, ভোরে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ মহিলা ঘাটে রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ প্রশাসনের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে মরদেহ দাফন ও পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন বলেন,‘আমরা জানতে পেয়েছি মারা যাওয়া শিশুটির মা ভবঘুরে ও মানসিক প্রতিবন্ধী। তাই শিশুটির দাফনসহ যাবতীয় খরচ সরকার বহন করবে।’




হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

স্বাস্থ্য ডেস্কঃ দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল সোমবার সকাল আটটা থেকে আজ সকাল আটটা পর্যন্ত সময়ে এই শিশুমৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটে।



বিশ্ববাজারে ফের কমল তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও আজ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। আগের দিন বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির পর বিনিয়োগকারীরা এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
জিও নিউজের প্রতিবেদন অনযায়ী, মঙ্গলবার (২ জুন) গ্রিনউইচ সময় সকাল ৪টা ৩৪ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৭৫ সেন্ট বা ০.৭৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৪.২৩ ডলারে নেমে আসে।  একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৮৫ সেন্ট বা ০.৯২ শতাংশ কমে ৯১.৩১ ডলারে দাঁড়ায়।
এর আগে সোমবার দুই ধরনের তেলের দামই ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। যদিও মে মাসজুড়ে শান্তিচুক্তির আশায় তেলের দাম ১৬ শতাংশেরও বেশি কমেছিল।
বাজার বিশ্লেষক প্রিয়াঙ্কা সচদেবা বলেন, সম্ভাব্য চুক্তির আশায় বাজার অনিশ্চয়তা কাটিয়ে উঠতে চাইলেও এখন পর্যন্ত এমন কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না, যা তেলের বাজারকে স্বস্তি দিতে পারে।
এদিকে,  সোমবার (১ জুন) সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, আলোচনা শেষ হয়ে গেলেও তার আপত্তি নেই। তবে কিছুক্ষণ পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
পরে এবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধবিরতি বাড়ানো এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তি হতে পারে বলে তিনি আশা করছেন।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, বর্তমানে বাজারের নজর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় বাস্তব অগ্রগতি বা নতুন কোনো জটিলতা তৈরি হচ্ছে কি না, দুই পক্ষের বক্তব্যের ধরন এবং বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের অবস্থানের দিকে। পাশাপাশি ওই জলপথ দিয়ে ট্যাংকার চলাচলের বাস্তব পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ।
তার মতে, আলোচনা কোন দিকে এগোয়, সেটিই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে তেলের দামে বর্তমানে যুক্ত হওয়া ঝুঁকিজনিত অতিরিক্ত মূল্য (রিস্ক প্রিমিয়াম) থাকবে নাকি কমে যাবে।
এদিকে সোমবার লেবানন আংশিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে। এর আওতায় হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত কিছুটা কমতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইরানকে ঘিরে বৃহত্তর আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের একটি ছোট পদক্ষেপ।
আইজি গ্রুপের বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রতিনিয়ত নতুন খবর আসছে। ফলে শান্তিচুক্তির বিষয়ে স্পষ্ট অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত তেলের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান কার্যত উপসাগরীয় অঞ্চলে অ-ইরানি জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং তেলের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে এশিয়া ও ইউরোপের শোধনাগারগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের তেলের চাহিদা বেড়েছে। ফলে মে মাসে দেশটির অপরিশোধিত তেল রপ্তানি দৈনিক ৫৬ লাখ ব্যারেলের রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।
রয়টার্সের এক প্রাথমিক জরিপে দেখা গেছে, ২৯ মে শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রায় ৩৬ লাখ ব্যারেল কমেছে। একই সঙ্গে ডিজেল ও পেট্রোলের মজুতও হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সোমবার গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে শিপিং খাতের কর্মকর্তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো শান্তিচুক্তি হলে তাতে অবশ্যই স্পষ্ট নির্দেশনা থাকতে হবে, যাতে জাহাজগুলো নিরাপদে ও স্বাভাবিকভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল পুনরায় শুরু করতে পারে।



জুনে তিন দফা তাপপ্রবাহের শঙ্কা, বৃষ্টিপাত কম হতে পারে

আবহাওয়া ডেস্কঃ চলতি জুন মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা অনুভূত হতে পারে। একই সঙ্গে মাসজুড়ে দুই-তিন দফা মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার রাতে প্রকাশিত জুন মাসের দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়া পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। ফলে দিন ও রাতে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে, জুন মাসের প্রথম দিনেই দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, নরসিংদী, গোপালগঞ্জ, ময়মনসিংহ, চাঁদপুর, বরিশাল, ভোলাসহ রাজশাহী বিভাগের আট জেলা, রংপুর বিভাগের আট জেলা ও খুলনা বিভাগের ১০ জেলাসহ মোট ৩৪ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক বলেন, জুন মাসে দুই থেকে তিনটি তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে চলমান তাপপ্রবাহও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মাসজুড়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিচ্ছিন্নভাবে একাধিকবার তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংজ্ঞা অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলা হয়। ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে মাঝারি তাপপ্রবাহ এবং ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করলে তাকে অতি-তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, জুন মাস সাধারণত বর্ষা মৌসুমের সূচনাকাল হলেও এবার বৃষ্টিপাত তুলনামূলক কম হতে পারে। ফলে গরমের তীব্রতা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, জুনের প্রথমার্ধে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বা বর্ষা দেশের সর্বত্র বিস্তার লাভ করতে পারে। তবে বর্ষা বিস্তার লাভ করলেও বৃষ্টির পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কম হতে পারে। এ কারণে বর্ষা মৌসুমের মধ্যেও তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকার আশঙ্কা রয়েছে।




মশা মারা শিখতে যুক্তরাষ্ট্রে নয়, ডোবার পাশে বসতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ও পাঁচ কর্মকর্তার যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মশক নিধনের উদ্ভাবনী কার্যক্রম পরিদর্শনের জন্য ফ্লোরিডা সফরের অনুমোদন চেয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যে সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়েছিল, তা অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বিদেশি প্রতিষ্ঠান ভ্যালেন্ট বায়োসায়েন্সেস এলএলসি (Valent BioSciences LLC)-এর অর্থায়নে ফ্লোরিডা সফরের অনুমোদন চেয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে একটি সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়। প্রস্তাবিত সফরের উদ্দেশ্য ছিল মশক নিয়ন্ত্রণ ও নিধনের বিভিন্ন উদ্ভাবনী কার্যক্রম পরিদর্শন করা।

প্রস্তাবের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, মশক নিধন শেখা বা দেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় যাওয়ার প্রয়োজন নেই। দেশের বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যেই কার্যকর ধারণা ও উদ্ভাবনী পদ্ধতি খুঁজে পাওয়া সম্ভব বলেও তিনি মত দেন।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বলা হয়, ‘মশক নিধন শেখা বা দেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় যাওয়ার দরকার নেই। দেশেই সন্ধ্যার পর যে কোনো ডোবার পাশে দুই-তিন ঘণ্টা অবস্থান করলেই মশক নিধনের অনেক উদ্ভাবনী পদ্ধতি বের করা সম্ভব হবে।’

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি। ওই নির্বাচনে মেয়র পদে জয়ী হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. রেজাউল করিম চৌধুরী। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে একই বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন বিএনপির প্রার্থী শাহাদাত হোসেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে ১৮ আগস্ট চট্টগ্রামসহ ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়রকে অপসারণ করে অন্তর্বর্তী সরকার। পরে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর নির্বাচিত হওয়া বাতিল করে মামলার বাদী শাহাদাত হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করে। একই বছরের ৩ নভেম্বর তিনি মেয়র হিসেবে শপথ নেন।




প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার হলেন কামরুল ইসলাম

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-২ (গ্রেড-৬) পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন কামরুল ইসলাম।

সোমবার (১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের কথা জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনটিতে স্বাক্ষর করেছেন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী।

ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার বাসিন্দা কামরুল ইসলামকে যোগদানের তারিখ থেকে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল পর্যন্ত অথবা প্রধানমন্ত্রীর সন্তুষ্টি সাপেক্ষে—যেটি আগে ঘটে—সেই পর্যন্ত এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে শর্ত দেওয়া হয়েছে, এ নিয়োগ কার্যকর রাখতে কামরুল ইসলামকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা এবং সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি যেকোনো প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে সব ধরনের কর্মসম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।




‘তুমি উন্মাদ, সবাই তোমাকে ঘৃণা করে’, নেতানিয়াহুকে ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

ফোনালাপে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে ‘উন্মাদ’ আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি বলেন, বর্তমানে সবাই তাকে ঘৃণা করে এবং তার কর্মকাণ্ডের কারণে ইসরায়েলও আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচনার মুখে পড়ছে বলে জানিয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে এবং ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা প্রচেষ্টাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে। এ অবস্থায় ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেন।

ফোনালাপে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে বলেন, “তুমি উন্মাদ হয়ে গেছ। আমি না থাকলে তুমি কারাগারে থাকতে। আমি তোমাকে রক্ষা করছি। এখন সবাই তোমাকে ঘৃণা করে। তোমার কারণে ইসরায়েলকেও ঘৃণা করছে সবাই।”

এক পর্যায়ে ট্রাম্প নেতানিয়াহুর কাছে জানতে চান, “তুমি আসলে কী করছ?”

সূত্রগুলোর দাবি, ট্রাম্প জানতেন যে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে হামলা চালাচ্ছিল এবং আত্মরক্ষার অধিকার ইসরায়েলের রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নেতানিয়াহু পরিস্থিতিকে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি উসকে দিচ্ছেন বলে মনে করেন তিনি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বৈরুতে হামলার একটি পরিকল্পনা নিয়েও ট্রাম্প আপত্তি জানান। তার আশঙ্কা ছিল, লেবাননের রাজধানীতে বড় ধরনের হামলা চালানো হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েল আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। এ ছাড়া একজন হিজবুল্লাহ কমান্ডারকে লক্ষ্য করে পুরো ভবন ধ্বংস করার পরিকল্পনাতেও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

ফোনালাপের পর এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, বৈরুতে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরিকল্পনা থেকে আপাতত সরে এসেছে ইসরায়েল।

পরে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, তিনি নেতানিয়াহুকে বৈরুতে বড় ধরনের অভিযান না চালানোর অনুরোধ করেছিলেন এবং নেতানিয়াহু সেনাদের পিছু হটার নির্দেশ দিয়েছেন। এ জন্য তিনি নেতানিয়াহুকে ধন্যবাদও জানান।

একই বার্তায় ট্রাম্প দাবি করেন, হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তার কথা হয়েছে এবং তারা ইসরায়েল ও ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা বন্ধে সম্মত হয়েছে। পাল্টা হিসেবে ইসরায়েলও হামলা বন্ধে রাজি হয়েছে। তবে এই সমঝোতা কতদিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

অন্যদিকে নেতানিয়াহু ফোনালাপের বিষয়টি স্বীকার করলেও ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, হিজবুল্লাহ হামলা অব্যাহত রাখলে বৈরুতে আঘাত হানতে পারে ইসরায়েল। একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর পরিকল্পিত অভিযান চলবে বলেও জানান তিনি। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে থাকলেও পরে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই উত্তেজনা ইরানকে ঘিরে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্যও বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ তেহরান চাইছে, যেকোনো সম্ভাব্য সমঝোতার আওতায় লেবাননের পরিস্থিতিও অন্তর্ভুক্ত থাকুক।

এদিকে লেবাননের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর একটি প্রস্তাবে হিজবুল্লাহ সম্মতি দিয়েছে। ওই প্রস্তাব অনুযায়ী, ইসরায়েল বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালাবে না এবং হিজবুল্লাহও উত্তর ইসরায়েলে হামলা থেকে বিরত থাকবে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া




নবম পে-স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন কত?

ডেস্ক নিউজ : দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ও বহুল আলোচিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বা নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন বা বেসিক একলাফে ২০ হাজার টাকা করার এক ঐতিহাসিক ও বৈপ্লবিক প্রস্তাবনা পেশ করা হয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে এই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের কমিটি এখন জোরেশোরে চূড়ান্ত প্রস্তুতি চালাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, নতুন এই বৈপ্লবিক পে-স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শুধু মূল বেতনই বাড়বে না, বরং এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে আবাসন, চিকিৎসা, যাতায়াত ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতা এবং আর্থিক সুবিধাতেও একটি বড় ধরণের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে সব গ্রেডে মূল বেতন সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ বা তারও বেশি বৃদ্ধি করার এই জোরালো সুপারিশ দেশের লাখ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে নতুন করে ব্যাপক আগ্রহ, উদ্দীপনা ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রাপ্ত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত নতুন এই নবম পে-স্কেলেও সরকারের বর্তমান ২০টি গ্রেডের প্রশাসনিক কাঠামোটি সম্পূর্ণ বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে গ্রেড অপরিবর্তিত থাকলেও প্রতিটি গ্রেডের আর্থিক মানে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন এই কাঠামোতে সর্বশেষ তথা ২০তম গ্রেডের (সর্বনিম্ন স্তর) একজন কর্মচারীর বর্তমান মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে একলাফে বাড়িয়ে সরাসরি ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। একই সাথে বৈষম্য দূরীকরণে প্রথম গ্রেডের (সর্বোচ্চ স্তর) কর্মকর্তাদের মূল বেতন বর্তমানের ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে একলাফে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার দূরদর্শী প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই বিশাল বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাবনাটি দেশের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও মূল্যস্ফীতির সাথে সঙ্গতি রেখেই তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর বাস্তবায়নের মুখে থাকা এই নবম পে-স্কেলের খসড়া প্রস্তাবনাটি এখন সরকারের সর্বোচ্চ মহলের আনুষ্ঠানিক নীতিগত অনুমোদন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সবুজ সংকেত এবং চূড়ান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। মাঠপর্যায়ের লাখ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী আশা করছেন, আসন্ন বাজেট অধিবেশনেই এই প্রস্তাবনাটি পাস হয়ে একটি ঐতিহাসিক প্রজ্ঞাপনে রূপ নেবে।