ভারতকে বিদায় করে ১২ বছর পর সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্কঃ হকি বিশ্বকাপে ভারতকে ৫-৩ গোলের ব্যবধানে উড়িয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। এতে দীর্ঘ ১২ বছর পর আবার বিশ্বকাপের শেষ চার নিশ্চিত করলো আলবিসেলেস্তেরা। অন্যদিকে এই হারে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে ভারত।

আমস্টেলভিনে অনুষ্ঠিত এই দ্বিতীয় রাউন্ডের পুল ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্নক হয়ে খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। প্রথম মিনিটেই জোয়াকিন তোস্কানির দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় তারা। এরপর ষষ্ঠ মিনিটে নিকোলাস দেল্লা তোরে ব্যবধান ২-০ করেন।

দ্বিতীয় অর্ধের খেলা শুরু হতেই আর্জেন্টিনার টমাস ডোমেনে ৩৩ ও ৪৫ মিনিটে জোড়া গোল করে ভারতীয় ডিফেন্সকে ভেঙে চুরমার করেন। ৫৩ মিনিটে তোস্কানি নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে আর্জেন্টিনা দলকে ৫-০ ব্যবধানে এক বিশাল লিড এনে দেন।

অন্যদিকে শুরুর ধাক্কা সামলে শেষ মুহূর্তে ভারত কিছুটা প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা করলেও তা হার এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। ভারতের হয়ে ৩৪ ও ৫৮ মিনিটে দুটি চমৎকার ফিল্ড গোল করেন সুখজিৎ সিং। এছাড়া হার্দিক সিং ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে একটি পেনাল্টি স্ট্রোক রূপান্তর করে হারের ব্যবধান কমান (৩-৫)।




ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যের অভিযোগে ৪ ভারতীয় কোম্পানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের সঙ্গে তেল বাণিজ্যিক সম্পৃক্ততার অভিযোগে চারটি ভারতীয় কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার (২৪ আগস্ট) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরান থেকে তেল আমদানি, মজুত, স্থানান্তর, বিক্রি এবং রপ্তানিতে সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে এই কোম্পানিগুলোকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, পোর্টিস পার্টনার এলএলপি, সদাশিব ওভারসিজ লিমিটেড, পিআর সফটটেক প্রাইভেট লিমিটেড এবং প্রাকৃতিস ইনফ্রা ইমপেক্স ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড।

বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের সামরিক বাহিনী ও জ্বালানি খাতের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে একটি অর্থনৈতিক অভিযান শুরু করেছে। এই অভিযানের ধারাবাহিকতায়ই ভারতের চার কোম্পানিকে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৯ আগস্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান ঘোষণা করেন। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ইরানকে চুক্তির জন্য অনেক সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা তা কাজে লাগাতে পারেনি। এখন তাদের বিরুদ্ধে এমন অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যার ফলে দেশটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য থেকে অভূতপূর্বভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।

ট্রাম্প একই সঙ্গে ইরানের মিত্র দেশগুলোকেও সতর্ক করে বলেন, যদি কোনো দেশ ইরানকে অর্থনৈতিক সহায়তা দেয়, তা তেল চোরাচালান, নগদ লেনদেন, জাহাজ নিবন্ধন বা ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমেই হোক, সেই দেশকেও কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে।

সূত্র: এএনআই




৩ বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণ-হত্যার ঘটনায় বিক্ষোভে উত্তাল নেপাল

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ নেপালের মদেশ প্রদেশে তিন বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র জনরোষ ও বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। এই নৃশংস ঘটনার পর রাজনীতিবিদ ও অধিকারকর্মীরা আরও কঠোর আইন প্রণয়নের জন্য সরকারের প্রতি জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর গত সপ্তাহে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। সিমারা শহরে কয়েক দিন ধরে চলা আন্দোলনের পর ভুক্তভোগীর পরিবার সরকারি মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করে এবং একটি লিখিত চুক্তি করে। সরকার গুরুতর অপরাধের আইন পর্যালোচনা এবং শিশুটির স্মরণে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এই ঘটনা অপ্রাপ্তবয়স্ক অপরাধীদের বিচারের বিষয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে, যেখানে কিছু আন্দোলনকারী ধর্ষণ বা খুনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত কিশোরদের জন্য আরও কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন। বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী গৌরী প্রধান এই হামলাকে একটি ‘খুব বেদনাদায়ক ঘটনা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, সরকারের উচিত এই জঘন্য কাজের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দেওয়া এবং ব্যাপক সংস্কারের জন্য গুরুতর প্রচেষ্টা চালানো। তবে তিনি মৃত্যুদণ্ড চালুর দাবির বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

পুলিশ হেফাজতে থাকা এক কিশোর সন্দেহভাজনের বক্তব্য দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় জনগণের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। কীভাবে পুলিশের হেফাজতে থাকা ব্যক্তির ফুটেজ ফাঁস হলো তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বারা জেলার প্রধান জেলা কর্মকর্তা ধর্মেন্দ্র কুমার মিশ্র বিবিসিকে জানান, তারা এই ফাঁসের সঙ্গে সরাসরি জড়িত এক পুলিশ সদস্যকে খুঁজে পেয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছেন। তিনি জানান, এই ধরনের বিষয়ের বিরুদ্ধে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে।

নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুলাই মাসের মধ্যে দেশটিতে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের ২৫ হাজার ৫০০টির বেশি অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ২০০ জনেরও বেশি নারী ভুক্তভোগীর বয়স ১০ বছরের কম ছিল।

সূত্র: বিবিসি




সমঝোতার পরও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি, SK+F-এর ওষুধ কেনাবেচা বন্ধের হুঁশিয়ারি কেমিস্টদের

বিশেষ প্রতিবেদক : স্বনামধন্য ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান SK+F- এর সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক নিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকার কেমিস্ট ও ওষুধ ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বৈঠকে দেওয়া একাধিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানটির ওষুধ ক্রয়-বিক্রয় থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছেন একদল ওষুধ ব্যবসায়ী।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরেছেন মো. কামাল হোসেন। তিনি নিজেকে বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি (বিসিডিএস) ক্যান্টনমেন্ট থানার সিনিয়র সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফার্মেসি অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ‘জাগ্রত কেমিস্ট বাংলাদেশ’- এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।

তার পোস্টের ভাষ্য অনুযায়ী, SK+F-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণে ‘জাগ্রত কেমিস্ট বাংলাদেশ’- এর নেতৃত্বে প্রায় ৩৫টি থানার পক্ষ থেকে ১২টি থানার ওষুধ ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিরা প্রতিষ্ঠানটির হেড অফিসে একটি বৈঠকে অংশ নেন। সেখানে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয় এবং কয়েকটি বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা ও প্রতিশ্রুতি হয়।

যে দুই প্রতিশ্রুতি ঘিরে মূল বিরোধ : কামাল হোসেনের দাবি, বৈঠকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ দ্রুত একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির মাধ্যমে তুলে নেওয়া এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে সেগুলোর পরিবর্তে নতুন ওষুধ সরবরাহের বিষয়ে আলোচনা ও সম্মতি হয়।

এ ছাড়া বিক্রয়ের ক্ষেত্রে শর্তযুক্ত ‘স্ল্যাব’ পদ্ধতি না রেখে মোট বিক্রয়ের ওপর সরাসরি ইনভয়েসে ৩ শতাংশ সুবিধা দেওয়ার বিষয়েও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। তবে তাঁর অভিযোগ, বৈঠকে সম্মত এসব বিষয় পরবর্তী সময়ে প্রত্যাশিতভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। আর এ কারণেই কেমিস্টদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

কামাল হোসেন তাঁর পোস্টে প্রশ্ন তুলেছেন—বৈঠকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন কোথায়? কথা দিয়ে কথা রাখা হলো না কেন?
‘আমরা কারও বিরুদ্ধে নই’: পোস্টে তিনি দাবি করেন, কেমিস্টদের অবস্থান কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়। তাঁদের মূল দাবি ন্যায্য ব্যবসায়িক অধিকার এবং বৈঠকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন।

তাঁর ভাষ্য, একটি স্বনামধন্য ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওষুধ ব্যবসায়ীদের সম্পর্ক হওয়া উচিত পারস্পরিক সম্মান, স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা ও আস্থার ভিত্তিতে। একই সঙ্গে তিনি SK+F- এর নিজস্ব মূল্যবোধে ‘Integrity’ ও ‘Ethics’-এর উল্লেখ থাকার বিষয়টিও সামনে আনেন।

বয়কটের ঘোষণা : সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আলোচনায় সম্মত বিষয়গুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত SK+F-এর ওষুধ ক্রয়-বিক্রয় থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে পোস্টে ঘোষণা করা হয়েছে।

কামাল হোসেনের বক্তব্য : ‘দোকান আমার, ব্যবসার ঝুঁকি আমার এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারও আমার।’ ফলে কেমিস্টদের একটি অংশ নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থ ও ন্যায্য অধিকারের প্রশ্নে সম্মিলিতভাবে এই অবস্থান নিয়েছেন বলে তিনি জানান।

প্রশ্ন উঠছে ব্যবসায়িক সম্পর্কের স্বচ্ছতা নিয়ে : ওষুধ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যে মূল্যছাড়, ইনভয়েস সুবিধা, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ফেরত ও প্রতিস্থাপন—এসব বিষয় সরাসরি ব্যবসায়িক আস্থা ও সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে বৈঠকে কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়ে থাকলে তার বাস্তবায়ন হয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে স্বচ্ছ যোগাযোগ থাকা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে, কামাল হোসেনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে উত্থাপিত অভিযোগগুলো তাঁর বক্তব্য ও দাবির ভিত্তিতে প্রকাশিত। এসব অভিযোগের বিষয়ে SK+F কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা প্রয়োজন।

সমাধানের পথ কোথায়? : পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে একদিকে কেমিস্ট ও ডিলারদের সঙ্গে একটি বড় প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক সম্পর্কের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে, অন্যদিকে ওষুধ সরবরাহব্যবস্থাতেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই বিরোধকে সংঘাতে না নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়াই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

কামাল হোসেন তাঁর পোস্টে SK+F-এর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন—বৈঠকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন, কেমিস্টদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সম্মানজনক ও ন্যায্য ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য।

এখন দেখার বিষয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে আসা এই ক্ষোভের পর SK+F কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয় এবং আলোচনায় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবে কতটা কার্যকর করা হয়। বিরোধের সমাধান আলোচনার টেবিলে হয়, নাকি কেমিস্টদের ঘোষিত বয়কট আরও বিস্তৃত হয় –সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।




রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর প্রধান।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে বঙ্গভবনে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন রাষ্ট্রপতির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

তাঁরা রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান।

সাক্ষাৎকালে তাঁরা স্ব স্ব বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। একইসঙ্গে দায়িত্ব পালনে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে রাষ্ট্রপতির দিক-নির্দেশনা ও সহযোগিতা কামনা করেন।

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সশস্ত্র বাহিনীর কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে একটি আধুনিক ও চতুর্মাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি তাঁর দায়িত্ব পালনকালে বাহিনীর সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর সার্বিক উন্নয়নে সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।




নিত্য-পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য কিনবে টিসিবি

নিত্য-প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য কেনার পরিকল্পনা করেছে সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। ভোজ্যতেল, মসুর ডাল ও চিনির পাশাপাশি ছোলা ও খেজুরও কিনবে সংস্থাটি।

প্রাথমিকভাবে এসব পণ্যের প্রায় অর্ধেক দেশীয় এবং বাকি অর্ধেক আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে টিসিবির। তবে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পণ্য সংগ্রহ তুলনামূলক বেশি প্রতিযোগিতামূলক ও নির্ভরযোগ্য হলে বিদেশ থেকে কেনার পরিমাণ বাড়ানো হতে পারে।

টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পণ্য সংগ্রহ বেশি প্রতিযোগিতামূলক ও নির্ভরযোগ্য হলে বিদেশ থেকে সংগ্রহের পরিমাণ বাড়ানো হতে পারে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নিত্যপণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে চলতি অর্থবছরের জন্য একটি ক্রয় পরিকল্পনা করেছে টিসিবি। এ পরিকল্পনার আওতায় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে ২২ কোটি লিটার ভোজ্যতেল, ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল, ১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন চিনি, ১৪ হাজার মেট্রিক টন ছোলা এবং ৪ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন খেজুর কেনা হবে।

পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত ও ভোক্তাদের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে মাসভিত্তিক চাহিদা, বরাদ্দ, গুদামে থাকা মজুত এবং পাইপলাইনে থাকা সরবরাহ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে টিসিবি।

মজুত ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে গুদাম সক্ষমতাও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। বর্তমানে টিসিবির ৪০টি গুদাম রয়েছে। এর মধ্যে ৯টি নিজস্ব এবং ৩১টি ভাড়ায় নেওয়া। এসব গুদামের মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ৪৮ হাজার ৩৭০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে নিজস্ব গুদামের ধারণক্ষমতা ১৩ হাজার ৩৭১ মেট্রিক টন এবং ভাড়ার গুদামের ৩৪ হাজার ৯৯৯ মেট্রিক টন।

চলমান কার্যক্রমের জন্য টিসিবির বর্তমান মজুত পরিস্থিতি সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন টিসিবির চেয়ারম্যান ফয়সল আজাদ। তিনি বলেন, নিত্যপণ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে, বিশেষ করে সরকারি সহায়তায় পণ্য পাওয়া ভোক্তাদের জন্য ক্রয় ও মজুত ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হচ্ছে।

সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমাতেও কাজ করছে টিসিবি। প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য কিনে কিছু পণ্য সামান্য মুনাফায় বিক্রির মাধ্যমে ভর্তুকি নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

ফয়সল আজাদ বলেন, বাজারের চাহিদার সঙ্গে আরও দ্রুত সাড়া দিতে সক্ষম একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে টিসিবিকে গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার। একই সঙ্গে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে সংস্থাটির ভূমিকা বাড়ানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, টিসিবি বছরে প্রায় আড়াই লাখ মেট্রিক টন ভোজ্যতেল সরবরাহ করে, যা দেশের মোট বাজারের প্রায় ১৫ শতাংশ। তবে পরিবার পর্যায়ে এর কার্যকর বাজার অংশীদারত্ব আরও বেশি।

ডাল ও চিনির ক্ষেত্রেও পরিবারের চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ টিসিবি সরবরাহ করে, যা এসব পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে সহায়তা করে বলে জানান তিনি।

পণ্যের তালিকাও বাড়াচ্ছে টিসিবি। ভোজ্যতেল, ডাল ও চিনির পাশাপাশি পরীক্ষামূলকভাবে সাবান, ডিটারজেন্ট ও লবণ বিক্রি শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে আটা, বিভিন্ন মসলা, মরিচ ও হলুদ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ফয়সল আজাদ বলেন, ‘এসব পণ্য নিয়মিত বাজারদরের চেয়ে কম দামে সরবরাহ করা হবে, তবে এর জন্য সরকারি ভর্তুকি দেওয়া হবে না।’

বর্তমানে টিসিবির প্রায় ৮০ লাখ স্মার্ট কার্ড অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭৫ লাখ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। বাকি সুবিধাভোগীদের আগামী পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে স্মার্ট কার্ড দেওয়ার আশা করা হচ্ছে।

স্মার্ট কার্ড ব্যবস্থাকে একটি গতিশীল প্রক্রিয়া উল্লেখ করে তিনি বলেন, মৃত্যু, স্থানান্তর বা অন্য কোনো কারণে সুবিধাভোগীদের তালিকায় নতুন নাম যুক্ত, নাম বাদ বা পরিবর্তন হতে পারে।

টিসিবি সরবরাহব্যবস্থাকে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় করার দিকেও এগোচ্ছে। বর্তমানে ডিলাররা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে স্মার্ট কার্ড স্ক্যান করেন। শিগগিরই বিক্রয়কেন্দ্রে পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে ভোক্তারা লেনদেনের রসিদ পান।

পাশাপাশি স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন একটি মোবাইলভিত্তিক ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সুবিধাভোগীরা ডিজিটালভাবে তাদের স্মার্ট কার্ডের তথ্য দেখতে পারবেন এবং মোবাইল আর্থিক সেবা বা নগদে মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন।

ফয়সল আজাদ বলেন, টিসিবি এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করেছে, যার সঙ্গে প্রায় ২১টি ভিন্ন কর্মসূচি যুক্ত করা সম্ভব। ভবিষ্যতে অন্যান্য সরকারি সংস্থাও তাদের সুবিধাভোগীকেন্দ্রিক কর্মসূচি এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত করতে পারবে।

নিজস্ব গুদাম সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। টিসিবি প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত মজুত সক্ষমতা তৈরি করতে চায়, যাতে ভাড়ার গুদামের ওপর নির্ভরতা কমে।

তিনি বলেন, ‘পণ্য ক্রয় বাড়ানো এবং বাজারে হস্তক্ষেপের পরিধি বাড়াতে হলে লজিস্টিক সক্ষমতা জোরদার করা গুরুত্বপূর্ণ।’

ভবিষ্যৎ কৌশল সম্পর্কে টিসিবির চেয়ারম্যান বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মান বজায় রেখে সাশ্রয়ী দামে তা ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং সরাসরি ভোক্তার চাহিদার ভিত্তিতে পণ্যের তালিকা বাড়ানোই সংস্থাটির লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ‘নতুন কোনো পণ্য চালুর আগে আমরা জরিপ করি। ভোক্তারা যদি জানান কোন পণ্য তাদের প্রয়োজন, তাহলে আমরা তা সরবরাহের চেষ্টা করি। আমাদের উদ্দেশ্য মানুষের জীবনকে সহজ করা।’

নতুন যুক্ত হওয়া পণ্য কেনা বাধ্যতামূলক নয় বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘পণ্যের মানের সঙ্গে আমরা কোনো আপস করব না।’




ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী উপলক্ষে র‍্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা

পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সারাদেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে র‍্যাব।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) র‌্যাব সদর দফতর থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে র‍্যাবের নিয়মিত টহল জোরদার করার পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে পর্যাপ্ত সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রতিটি ব্যাটালিয়ন নিজ নিজ এলাকার নিরাপত্তা হুমকি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানস্থলে পর্যাপ্ত সংখ্যক র‍্যাব সদস্যের পাশাপাশি ঝুঁকি বিবেচনায় পূর্ব থেকেই স্কেলিটন ফোর্স মোতায়েন থাকবে।

নিরাপত্তা বজায় রাখতে এলাকার স্থানীয় মসজিদের ইমাম, সামাজিক ও নাগরিক নিরাপত্তা কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে সার্বিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

কোনও স্বার্থান্বেষী বা সন্দেহভাজন গোষ্ঠী যেন কোনও ধরনের হামলা বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালাতে না পারে, সে লক্ষ্যে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো বিতর্কিত বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড রোধে রাখা হচ্ছে সতর্ক দৃষ্টি।

যেকোনও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় র‍্যাবের ‘বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট’ এবং ‘ডগ স্কোয়াড’কে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী তথ্য, গুজব, অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিকর উসকানিমূলক পোস্ট নজরদারিতে সাইবার পেট্রোলিং বিশেষভাবে জোরদার করা হয়েছে।

দেশবাসীকে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপনের আহ্বান জানিয়েছে র‍্যাব। একই সঙ্গে কোনও সন্দেহজনক ব্যক্তি, বস্তু বা কর্মকাণ্ড পরিলক্ষিত হলে তা দ্রুত নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।




আইভরি কোস্টে নিহত ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর ২০তম শাহাদাত বার্ষিকী আজ

বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব পালনকালে আত্মোৎসর্গকারী ছয়জন বীর বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর আজ ২০তম শাহাদাত বার্ষিকী।

২০০৬ সালের ২৫ আগস্ট আইভরি কোস্টে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে দেশটির বিমানবন্দর থেকে আবিদজানে নিজ নিজ ক্যাম্পে যাওয়ার পথে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয়জন সদস্য শাহাদাত বরণ করেন।

newspictureশাহাদাত বরণকারী সেনাসদস্যরা হলেন—ল্যান্স কর্পোরাল এস এম মিরাজ আহমদ, ল্যান্স কর্পোরাল মোঃ আব্দুস সাত্তার, সৈনিক মোঃ মিজানুর রহমান, সৈনিক আব্দুল হালিম, সৈনিক মোহাম্মদ শহিদ মিয়া এবং সৈনিক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান খান।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তাদের ফেসবুক পেজে জানিয়েছে, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাঁদের এই মহান আত্মত্যাগ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে।




বাণিজ্যিক কোচিং কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হতে পারবেন না বিচারকরা

ডেস্ক নিউজঃ জুডিসিয়াল সার্ভিসের কোনো সদস্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পরিচালিত সরাসরি বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কোচিং কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারবেন না।

গতকাল সোমবার (২৪ আগস্ট) প্রধান বিচারপতির অনুমোদন সাপেক্ষে এ বিষয়ে পরিপত্র জারি করা হয়েছে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসে কর্মরত সদস্যদের পেশাগত শৃঙ্খলা, নিরপেক্ষতা ও মর্যাদা সমুন্নত রাখা এবং বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের সুদৃঢ় আস্থা অক্ষুণ্ণ রাখার লক্ষ্যে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পরিচালিত সরাসরি বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কোচিং কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার বিষয়ে সার্ভিসের সদস্যদের জন্য নির্দেশনা জারি করা হলো।

পরিপত্রের নির্দেশনায় বলা হয়েছে-

(ক) সার্ভিসের কোনো সদস্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পরিচালিত সরাসরি বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কোচিং কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারবেন না।

(খ) সার্ভিসের কোনো সদস্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে তাঁর নাম, পদবি, ছবি বা পরিচয় সরাসরি বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কোচিং-সংক্রান্ত প্রচার-প্রচারণার কাজে ব্যবহার করতে পারবেন না কিংবা এ ধরনের ব্যবহার অনুমোদন করতে পারবেন না।

(গ) সার্ভিসের কোনো সদস্য বিচারিক দায়িত্ব পালনের সুবাদে প্রাপ্ত কোনো গোপনীয়, অপ্রকাশিত বা দাপ্তরিক তথ্য সরাসরি বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কোচিং কার্যক্রমে প্রকাশ, সরবরাহ বা ব্যবহার করতে পারবেন না।

(ঘ) সার্ভিসের কোনো সদস্য বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পরিচালিত সরাসরি বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কোচিংয়ের জন্য শিক্ষা-সামগ্রী প্রস্তুত, সম্পাদন, প্রকাশ বা সরবরাহ করতে পারবেন না।

(ঙ) এ পরিপত্রের কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে সার্ভিসের সংশ্লিষ্ট সদস্যের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত প্রযোজ্য আইন ও বিধি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




শেখ হাসিনাসহ ৭ জনকে আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ

কক্সবাজারের টেকনাফে ক্রসফায়ারে কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিসহ চার আসামিকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

একই মামলায় পলাতক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বেনজীরসহ সাতজনকে আত্মসমর্পণের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন।

কারাগারে পাঠানো বাকি তিন আসামি হলেন- ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম ও র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক আনোয়ার লতিফ খান। মিফতাহসহ চারজনকে আজ সকালে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

শেখ হাসিনা ছাড়া পলাতক অন্য আসামিরা হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, সাবেক সেনা কর্মকর্তা রুহুল আমিন, আশেকুর রহমান ও ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব মাহমুদ।