জেট ফুয়েল বিক্রি সাময়িক বন্ধ করলো রাশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাশিয়া বিমান চলাচলে ব্যবহৃত জেট ফুয়েল বা বিমান জ্বালানি রপ্তানির বা বিক্রির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। দেশজুড়ে তেল শোধনাগার এবং অন্যান্য জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ইউক্রেনের হামলার ফলে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।

সোমবার ক্রেমলিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে, যা আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

রাশিয়া মূলত রেলপথে মধ্য এশিয়ার দেশ কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান এবং উজবেকিস্তানে জেট ফুয়েল বা বিমানের জ্বালানি রপ্তানি করে থাকে।

রুশ সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক পণ্য বিনিময়ের উদ্দেশ্যে কমোডিটি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে কেনা জেট ফুয়েলের ক্ষেত্রেও এই নতুন বিধিনিষেধ সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।

ক্রেমলিন স্পষ্ট করেছে, ‘এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।’

তবে রুশ প্রশাসন এই নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিশেষ ছাড় বা ব্যতিক্রমের কথা উল্লেখ করেছে, যার মধ্যে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পূর্বে সম্পন্ন হওয়া শুল্ক প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে করা দ্বিপক্ষীয় চুক্তির অধীনে থাকা জ্বালানি সরবরাহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।




শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত কামরুদ্দীন আবসার

বিনোদন ডেস্ক : সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বিশিষ্ট গণসংগীত শিল্পী কামরুদ্দীন আবসার।

গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের উদ্যোগে সোমবার (১ জুন) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তার মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মী, শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী এবং শুভানুধ্যায়ীরা ফুলেল শ্রদ্ধা জানান।

শ্রদ্ধা নিবেদনকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে ছিল গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য, গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ, বাসদ মার্কসবাদী, ফ্যাসিবাদ বিরোধী বাম মোর্চা, জাতীয় গণফ্রন্ট, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘ, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, সমগীত, সমাজ চিন্তা ফোরাম, বিবর্তন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, সমাজ অনুশীলন কেন্দ্র, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট। গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের জোটভুক্ত সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও পৃথকভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন উপলক্ষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন আনু মোহাম্মদ, প্রয়াত শিল্পীর ছেলে আদনান মুকিত এবং ডা. হারুন অর রশীদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের আহ্বায়ক জামশেদ আনোয়ার তপন।

বক্তারা বলেন, কামরুদ্দীন আবসার শৈশব থেকেই গণসংগীতকে সমাজ পরিবর্তনের সংগ্রামের হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তিনি ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ মার্কসবাদী সাংস্কৃতিক কর্মী ও সংগঠক। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তিনি সারাজীবন সক্রিয় ছিলেন। তার হাত ধরে অনেক শিল্পী গণসংগীতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। দেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম, সভা-সমাবেশ ও গণআন্দোলনে তিনি সংগ্রামের গান গেয়ে মানুষের প্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছিলেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

গত শনিবার (৩০ মে) রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন কামরুদ্দীন আবসার।

১৯৫৪ সালের ১৫ নভেম্বর কুমারখালীতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। শৈশব থেকেই সংগীতের প্রতি তার গভীর অনুরাগ ছিল। ওস্তাদ ফুল মোহাম্মদ, মুন্সি রইসউদ্দীন এবং সুরকার আলতাফ মাহমুদ-এর কাছে সংগীতে তালিম গ্রহণের পর ১৯৭২ সালে আলতাফ মাহমুদ সংগীত বিদ্যানিকেতনের সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তীতে তিনি সেগুনবাগিচা মিউজিক কলেজে অধ্যয়ন করেন।

একসময় তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন-এর সংগীত ও পরিচালনা বিভাগে সহকারী হিসেবে কাজ করলেও গণসংগীত শিল্পী হিসেবেই সর্বাধিক পরিচিতি লাভ করেন। ‘চল রে ভাই, উজান বেয়ে যাই’, ‘আমি কোনো ভালোবাসার গল্প জানি না, যেটুকু জেনেছি সবটুকুই যুদ্ধের’ এবং ‘তোমরা যদি বলো ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখা যায়, আমি মানবো না’-এ ধরনের গান মানুষের সংগ্রামী চেতনা জাগ্রত করেছে। তার প্রকাশিত অ্যালবামের মধ্যে ‘মে দিবসের গান’ এবং ‘বাংলার কমরেড বন্ধু’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ লেখক শিবির-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর তিনি দীর্ঘদিন সংগঠনটির সংগীত ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে তিনি দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছেন। সত্তরের দশকের দুর্ভিক্ষের সময় গান গেয়ে ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য তহবিল সংগ্রহ করেছেন। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, জাতীয় সম্পদ রক্ষা আন্দোলন, গার্মেন্টস শ্রমিক আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।




সান মারিনোতে পৌঁছেছে বাংলাদেশ দল

ক্রীড়া ডেস্ক : দীর্ঘ বিমান ও সড়কযাত্রা পেরিয়ে সোমবার সান মারিনোতে পৌঁছেছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। একই দিনে স্কোয়াডে যোগ দিয়েছেন প্রবাসী ফুটবলার সামিত সোমও।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় সামিত জানান, যাত্রা স্বস্তিদায়ক ছিল এবং সতীর্থদের সঙ্গে দেখা করে তিনি বেশ উচ্ছ্বসিত। কোচিং স্টাফের সঙ্গে আলাপও হয়েছে তার। আগামী ৫ জুনের ম্যাচে দলের হয়ে ভালো কিছু করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

নতুন কোচ থমাস ডুলির নেতৃত্বে বাংলাদেশ ৫ জুন ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলবে সান মারিনোর বিপক্ষে। এই ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য ঐতিহাসিক ম্যাচ। কারণ, এই প্রথম ইউরোপের মাটিতে ইউরোপের কোনো দেশের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

গতকাল রবিবার দুপুরে ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ দল। প্রথমে ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় পৌঁছে কয়েক ঘণ্টা ট্রানজিটে অবস্থান করে তারা। পরে সেখান থেকে ইতালির রাজধানী রোমে উড়ে যায় দল।

রোমে পৌঁছানোর পর বাসে করে সান মারিনোর উদ্দেশে রওয়ানা হলে গন্তব্যে পৌঁছাতে চার ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে। সব মিলিয়ে প্রায় ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ভ্রমণে কাটাতে হয়েছে ফুটবলারদের। সান মারিনোর বিপক্ষে ম্যাচের আগে বাংলাদেশ দল তিন দিনের প্রস্তুতির সুযোগ পাবে।

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ২১১তম স্থানে থাকা সান মারিনো বিশ্বের সর্বনিম্ন র‌্যাঙ্কধারী দল। বাংলাদেশ তাদের চেয়ে বেশ কয়েক ধাপ এগিয়ে থাকলেও এই সফরকে অভিজ্ঞতা অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছে দল।




যমুনার পানি বাড়ছে, তলিয়ে যাচ্ছে নিম্নাঞ্চল

ডেস্ক নিউজ : যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ হার্ড পয়েন্টে ৩২ সে.মি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার (বিপদসীমা-১২.৯০ মিটার) ২৯৩ সে.মি. নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কাজিপুর পয়েন্টে ৩৬ সে.মি. বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার (বিপদসীমা-১৪.৮০ মি.) ৩৪৯ সে.মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বাড়ায় চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। অন্যদিকে যমুনার অরক্ষিত অঞ্চলসমূহে ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে নদী তীরের বাসিন্দারা।

কাওয়াকোলা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক আব্দুর রাজ্জাক জানান, গত কয়েকদিনে যমুনার নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হলেও এখনো ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে পানি আর দুই একদিন বাড়তে থাকলে ইরিধান, পাট, তিল, মরিচ, বেগুনসহ সবজির ক্ষতি হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোকলেসুর রহমান জানান, উজানে প্রবল বৃষ্টির কারণে যমুনার নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। হয়তো আর দুই একদিন বাড়বে। তারপর আবার কমার সম্ভাবনা রয়েছে। নিম্নাঞ্চল কিছুটা প্লাবিত হলেও ভাঙন আতঙ্কের কিছু নেই।




৩৪ জেলায় বইছে তাপপ্রবাহ, অব্যাহত থাকতে পারে

আবহাওয়া ডেস্কঃ দেশের ৩৪ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাস থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

এতে বলা হয়েছে, ঢাকা, টাঙ্গাইল, নরসিংদী, ময়মনসিংহ, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও পটুয়াখালী জেলাসহ রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। এ ছাড়া সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

বৃষ্টি নিয়ে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশটি পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিরাজমান রয়েছে—এমন পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

সেই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।




সংসদ ভবনের স্টোরে ‘গায়েব’ ১৩৪৩ কপার বাসবার: নিরাপত্তা, হিসাব ও জবাবদিহি নিয়ে বড় প্রশ্ন

এসএম বদরুল আলমঃ রাষ্ট্রের সবচেয়ে সুরক্ষিত স্থাপনাগুলোর অন্যতম জাতীয় সংসদ ভবন। সেই সংসদ ভবনের আওতাধীন একটি স্টোররুমকে কেন্দ্র করে দেখা দিয়েছে গুরুতর প্রশ্ন। সরকারি নথিতে সংরক্ষিত থাকার কথা বলা বিপুল পরিমাণ কপার বাসবারের হিসাব মিলছে না। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন, মালামাল সংরক্ষণ, সার্ভে রিপোর্ট এবং দায়িত্ব নির্ধারণ নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য সামনে আসায় পুরো বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

প্রাপ্ত নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আমব্রেলা প্রকল্পের আওতায় জাতীয় সংসদ ভবনের নবম তলার চারটি বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশনের উন্নয়নকাজে পুরোনো ট্রান্সফরমার, এইচটি ও এলটি প্যানেল থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কপার বাসবার অপসারণ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মোট ১৪০৯টি কপার বাসবার পাওয়া গিয়েছিল, যার মধ্যে ৬৬টি পুনর্ব্যবহার করা হয় এবং অবশিষ্ট ১৩৪৩টি স্টোরে সংরক্ষিত ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে স্টোর পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে উল্লিখিত সংখ্যক কপার বাসবারের অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে না।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে মাত্র কয়েকটি কপার বার উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি করা হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—জাতীয় সংসদ ভবনের মতো উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় এত বিপুল পরিমাণ ভারী ধাতব মালামাল কীভাবে অদৃশ্য হয়ে গেল?

নথি পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, একই প্রকল্পের জন্য একাধিক সার্ভে রিপোর্ট প্রস্তুত করা হয়েছে। কোনো কোনো প্রতিবেদনে স্বাক্ষরের ঘাটতি রয়েছে, কোথাও তারিখ নেই, আবার কোথাও মালামালের পরিমাণ ও মূল্যায়নে উল্লেখযোগ্য অমিল রয়েছে। এসব অসঙ্গতি প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও সম্পদ সংরক্ষণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

বিষয়টিকে আরও জটিল করেছে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পরস্পরবিরোধী অবস্থান। নির্বাহী প্রকৌশলী, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এবং উপসহকারী প্রকৌশলীর মধ্যে কেউই সরাসরি দায় স্বীকার করছেন না। বরং একে অপরের দিকে দায় নির্দেশ করার অভিযোগ উঠেছে।

অন্যদিকে দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী দাবি করেছেন, তাকে কখনোই স্টোরের প্রকৃত অবস্থা বা মালামালের পূর্ণাঙ্গ হিসাব বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, প্রকল্পের অনেক বিষয়ে তাকে অবহিত করা হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট কাজের বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না।

এদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও নতুন প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, প্রকল্পের কাজ প্রায় সম্পন্ন হলেও তাদের বিলের একটি অংশ আটকে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে বিরোধের কথাও বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে।

ঘটনার পর গণপূর্ত অধিদপ্তর তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত-সংক্রান্ত নথিতে স্টোর ব্যবস্থাপনা ও সম্পদ সংরক্ষণে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা পর্যালোচনার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এখনো পুরো ঘটনার চূড়ান্ত দায় কার ওপর বর্তাবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে জাতীয় সংসদ সচিবালয় প্রকাশিত সংবাদকে ‘বিভ্রান্তিকর’ ও ‘অসত্য’ দাবি করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সংবাদে উল্লেখিত কপার বাসবারের সংখ্যা ও মূল্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—যদি মালামাল স্টোরে সংরক্ষিত ছিল, তাহলে তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব কোথায়? যদি চুরি হয়ে থাকে, তাহলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁক কোথায়? আর যদি নথিপত্রে অসঙ্গতি থেকে থাকে, তাহলে প্রকল্পের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক জবাবদিহি কতটা কার্যকর ছিল?

জাতীয় সংসদ ভবনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সরকারি সম্পদের হিসাব নিয়ে তৈরি হওয়া এই ধোঁয়াশা কেবল একটি স্টোররুমের ঘটনা নয়; এটি সরকারি প্রকল্পে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
তদন্তের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল এবং সংশ্লিষ্ট সকল নথি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কপার বাসবারের এই রহস্যের সমাধান মিলবে না বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকরা।




পল্লী হোসেনের মৃত্যুতে পার্টি চেয়ারম্যান-এর শোক

বিশেষ প্রতিবেদকঃ জাতীয় পার্টি মতিঝিল থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন আলী (৫৫) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গত ২৮ মে ২০২৬, বৃহস্পতিবার রাত ১২:৩০ মিনিটে ছোট ভাইয়ের বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে তিনি “পল্লী হোসেন” নামে পরিচিত ছিলেন।

দীর্ঘদিন লিভারের জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরদিন সকাল ৮টায় মুজাহিদনগর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তার জানাজার নামাজ শেষে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। মৃত্যু কালে তিনি তিন পুত্র এক কন্যা সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহম্মদ কাদের, পল্লী হোসেনের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোকবার্তা প্রেরণ করেছেন। শোকবার্তায় পার্টি চেয়ারম্যান মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জনিয়েছেন।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক মীর আব্দুস সবুর আসুদ পৃথক পৃথক শোকবার্তায় পল্লী হোসেনের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।




সুন্দরবন প্রবেশে ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু

ডেস্ক নিউজঃ সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য, বন্যপ্রাণী ও মৎস্যসম্পদের প্রজননকালীন সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আজ সোমবার (১ জুন) থেকে টানা তিন মাসের জন্য বনাঞ্চলটিতে সব ধরনের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে বন বিভাগ।

বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জ ও পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ নিষেধাজ্ঞা আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই সময়ের মধ্যে সুন্দরবনে জেলে, বাওয়ালি, মৌয়াল, গোলপাতা সংগ্রহকারীসহ কোনো পেশাজীবী প্রবেশ করতে পারবেন না। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্যও সুন্দরবনে ভ্রমণ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে।

বনের মৎস্যসম্পদ ও বন্যপ্রাণীর প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে ২০২০ সাল থেকে প্রতিবছর টানা তিন মাস বনাঞ্চলে সব ধরনের মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে আসছে সরকার। তবে পাঁচ বছর পর এ সিদ্ধান্তে আংশিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। বন বিভাগ জানিয়েছে, এবার থেকে নিষিদ্ধকালীন সময়েও ‘করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র’ পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, করমজল পশুর নদীর পাড়ে হওয়ায় মৎস্য, বন্যপ্রাণী বা বনাঞ্চলের তেমন কোনো ক্ষতি হবে না বিবেচনা করেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ জানান, বনজীবীদের নৌযান চলাচল, মাছ ও কাঁকড়া আহরণ, পর্যটকবাহী ট্রলারের শব্দ এবং মানুষের উপস্থিতির কারণে বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক আচরণ ও প্রজননপ্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। তাই এই নিষেধাজ্ঞা বনের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নিষেধাজ্ঞা চলাকালে কোনো ধরনের পাস-পারমিট ইস্যু করা হবে না এবং কেউ অবৈধভাবে বনে প্রবেশ করলে বন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বন বিভাগ, কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে যৌথ টহল ও নজরদারি জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বন বন্ধ রাখার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও সুন্দরবন-নির্ভর হাজারো পরিবারের মধ্যে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। বন থেকে আহরণ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় আয়-রোজগারের পথও সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আগামী তিন মাস পরিবার-পরিজন নিয়ে কীভাবে চলবেন, তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন বনজীবীরা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় বন বন্ধ থাকায় সংসার চালাতে মহাজনসহ বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হন তারা। এ সময় পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা বা বিশেষ প্রণোদনা না পাওয়ায় প্রতি বছরই নানামুখী সংকট ও দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হয় বননির্ভর মানুষদের।

অনেক বনজীবী অভিযোগ করেন, বন বিভাগের নিষেধাজ্ঞা প্রায়ই ‘ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ’ থাকে। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী চক্রের ছত্রচ্ছায়ায় এবং অসাধু বন কর্মকর্তা-প্রহরীদের ঘুষ-বাণিজ্যের সুযোগ নিয়ে একশ্রেণীর জেলেরা বনের অভয়ারণ্যের নদী-খালে বিষ প্রয়োগে মাছ শিকার করে। এছাড়া, মৎস্য সম্পদ বাড়ানোর জন্য সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিলেও বর্তমানে কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ ও বন বিভাগের সামনেই বন সংলগ্ন ও বনের ভেতরের নদী-খালে অবৈধ নেটজাল দিয়ে নির্বিচারে মাছের পোনা নিধন করা হচ্ছে, যা বন্ধে প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ নেই।

সুন্দরবন ও বাংলাদেশ উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক শুভ্র শচীন জানান, সুন্দরবন উপকূলীয় প্রান্তিক মানুষের জীবিকার প্রধান উৎস সুন্দরবন। তবে গত এক দশকে সুন্দরবনের অর্থনীতির গতিপথ অনেকটাই বদলে গেছে, তাতে ভুক্তভোগী হচ্ছে বনজীবীরা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবসহ নানা কারণে বনজসম্পদ আহরণসহ নানা উপায়ে বননির্ভরশীল মানুষের আয় কমেছে। মাছ-কাঁকড়া, মধু আহরণ আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে।

তিনি আরও বলেন, বন সুরক্ষায় স্থানীয় ও বনজীবীদের কার্যকর সম্পৃক্ততাও নিশ্চিত হয়নি। যে কারণে জীবিকার তাগিদে বনজসম্পদ আহরণে তাদের কেউ কেউ অবৈধ ও অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করেন। তবে সরকারি সহযোগিতা পেলে অপরাধ প্রবণতার পাশাপাশি বননির্ভরতা কমবেও। বনের ওপর নির্ভরশীল মানুষদের বিকল্প কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সুন্দরবনে ‘প্রবেশনিষিদ্ধ’ সময়ে সরকারিভাবে খাদ্যসহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের সুন্দরবনের মোট আয়তন ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার, যার প্রায় ৩১ শতাংশ জলভাগ। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ এ বনে রয়েছে ২১০ প্রজাতির সাদা মাছ, ২৪ প্রজাতির চিংড়ি এবং ১৪ প্রজাতির উভচর প্রাণী। সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জীবিকা নির্বাহ করেন প্রায় দেড় লাখ মানুষ।

প্রতি বছর ১২ হাজারের বেশি জেলেনৌকা সুন্দরবনে প্রবেশের জন্য বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট (বিএলসি) সংগ্রহ করে। বন বিভাগের তালিকা অনুযায়ী, সুন্দরবন পূর্ব বিভাগে নিবন্ধিত বনজীবীর সংখ্যা ৫ হাজার ৮০০ জন এবং পশ্চিম বিভাগে ৬ হাজার ৩১০ জন। এছাড়া প্রতিবছর ২ লাখেরও বেশি দেশি-বিদেশি পর্যটক সুন্দরবন ভ্রমণ করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।




ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীমুখী কর্মজীবী মানুষের ঢল

ডেস্ক নিউজঃ ঈদুল আজহার ছুটি শেষে সোমবার (১ জুন) থেকে খুলছে সরকারি-বেসরকারি অফিস। কর্মদিবস শুরুর আগে রবিবার (৩১ মে) থেকেই রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন, যাত্রাবাড়ী, গাবতলী ও সায়েদাবাদ এলাকায় ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ লক্ষ্য করা গেছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বাস, ট্রেন ও ব্যক্তিগত যানবাহনে মানুষ ঢাকায় ফিরলেও যানবাহন সংকটের কারণে কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে যাত্রীদের।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, গতকাল বিভিন্ন গন্তব্য থেকে ৪৩টি আন্তঃনগর, ২৩টি লোকাল, মেইল ও কমিউটারসহ মোট ৬৬টি ট্রেন যাত্রী নিয়ে ঢাকায় পৌঁছেছে।

ঢাকার রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আনোয়ার হোসেন জানান, ঢাকায় মানুষ ফিরছে। তবে অনেকে এখনো পরিবার নিয়ে ফেরেননি। উত্তরবঙ্গের কিছু ট্রেন আধাঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা দেরি করেছে, তবে বড় কোনো সমস্যা হয়নি।

অন্যদিকে বিমানবন্দর সড়কসহ রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশপথে ঢাকামুখী মানুষের সংখ্যা বাড়লেও যানচাপ ছিল তুলনামূলক কম। যাত্রাবাড়ী, গাবতলী ও সায়েদাবাদ এলাকায় গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত গাড়ির চলাচলও বেড়েছে।

পুলিশ ও পরিবহনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখনো অনেক পোশাক শ্রমিক ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী ঢাকায় ফেরেননি। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে তাঁদের ফেরার চাপ আরও বাড়তে পারে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।




প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সংবাদ সম্মেলনের সময় পরিবর্তন

ডেস্ক নিউজঃ পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের সময় পরিবর্তন করা হয়েছে। পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী দুপুর ১২টায় হওয়ার কথা থাকলেও এখন এটি অনুষ্ঠিত হবে সোমবার (১ জুন) বিকেল ৩টায়।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে অনুষ্ঠিতব্য এ সংবাদ সম্মেলনে ঈদ উপলক্ষে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন গণমুখী উদ্যোগ ও জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি তুলে ধরা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।