রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে সৌদি বাদশাহ সালমানের অভিনন্দন

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ এবং যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। পৃথক অভিনন্দন বার্তায় তারা মির্জা ফখরুলের সাফল্য এবং বাংলাদেশের জনগণের অব্যাহত অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সৌদি বার্তা সংস্থার এক বিবৃতিতে এ অভিনন্দন জানানো হয়।

এর আগে গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) বঙ্গভবনে বাংলাশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে রবিবার (২৩ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির বাসভবন বঙ্গভবনে প্রবেশ করেন তিনি।

এর আগে ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ২৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এদিকে গতকাল সোমবার রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মাদ বিন সালমানের পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান।

এ সময় রাষ্ট্রপতি সৌদি রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মাদ বিন সালমানকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।




সংসদ অধিবেশন: ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ

আগামী ২৭ আগস্ট থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হচ্ছে। অধিবেশন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে জাতীয় সংসদ ভবন ও এর আশপাশের এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় সভা-সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের সইকৃত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ২৭ আগস্ট ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হবে। অধিবেশন নির্বিঘ্নে চলা নিশ্চিত করতে শেরেবাংলা নগরস্থ জাতীয় সংসদ ভবন ও পার্শ্ববর্তী এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, ২৬ আগস্ট (বুধবার) রাত ১২টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওই এলাকায় সব ধরনের অস্ত্রশস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য, অন্যান্য ক্ষতিকারক ও দূষণীয় দ্রব্য বহন এবং যে–কোনো ধরনের সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ থাকবে।

নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত এলাকার মধ্যে রয়েছে— ময়মনসিংহ রোডের মহাখালী ক্রসিং থেকে পুরাতন বিমানবন্দর হয়ে বাংলামটর ক্রসিং পর্যন্ত এলাকা, বাংলামটর লিংক রোডের পশ্চিম প্রান্ত থেকে হোটেল সোনারগাঁও রোডের সার্ক ফোয়ারা পর্যন্ত, পান্থপথের পূর্ব প্রান্ত থেকে গ্রিন রোডের সংযোগস্থল হয়ে ফার্মগেট পর্যন্ত এবং মিরপুর রোডের শ্যামলী মোড় থেকে ধানমন্ডি-১৬ (পুরাতন ২৭) নম্বর সড়কের সংযোগস্থল পর্যন্ত এলাকা।

এছাড়া, রোকেয়া সরণির সংযোগস্থল থেকে পুরাতন ৯ম ডিভিশন (উড়োজাহাজ) ক্রসিং হয়ে বিজয় সরণি, পর্যটন ক্রসিং, ইন্দিরা রোডের পূর্ব প্রান্ত থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্ত, জাতীয় সংসদ ভবনের সংরক্ষিত এলাকা এবং এসব সীমানার মধ্যে থাকা সব রাস্তা ও গলিপথও নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ আদেশ বলবৎ থাকবে।




মেয়েদের জন্য সর্বজনীন উপবৃত্তি পুনর্বহালের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজঃ ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যন্ত ছাত্রীদের জন্য সর্বজনীন উপবৃত্তি পুনর্বহালের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, বৈঠকে মেয়েদের জন্য সর্বজনীন উপবৃত্তি পুনর্বহাল করা হলে সম্ভাব্য ব্যয়, উপকারভোগীর সংখ্যা, বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং এর প্রত্যাশিত সামাজিক ও শিক্ষাগত প্রভাব বিশ্লেষণ করে একটি সুস্পষ্ট প্রস্তাব প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
উপ-প্রেস সচিব জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের চলমান কার্যক্রম, এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে তাদের ঝরে পড়া রোধে ট্রাস্টের ভূমিকা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করা হয়।
একই সঙ্গে ছেলেদের শিক্ষায় উৎসাহিত করতে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে উপবৃত্তি দেওয়ার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।
বৈঠকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার আমলে মেয়েদের জন্য চালু হওয়া সর্বজনীন উপবৃত্তি কর্মসূচির প্রভাব ও অর্জন নিয়ে আলোচনা হয়। ওই সময় মেয়েদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখা এবং বাল্যবিবাহ নিরুৎসাহিত করার ক্ষেত্রে সর্বজনীন উপবৃত্তির ইতিবাচক প্রভাবের বিষয়গুলো উঠে আসে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব।
বৈঠকে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিকেও শিক্ষার মানোন্নয়নের সঙ্গে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ সময় বিদ্যালয় পর্যায়ে মিড-ডে মিল কার্যক্রমের ব্যবস্থাপনা, খাবারের পুষ্টিমান এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ খাদ্য প্রস্তুত ও সরবরাহ নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের সরবরাহ করা খাবার যাতে পুষ্টিকর, নিরাপদ ও মানসম্মত হয় এবং কোনোভাবেই খাদ্যের মানের সঙ্গে আপস না করা হয়, সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
শাহাদাৎ স্বাধীন জানান, মিড-ডে মিল কার্যক্রম বাস্তবায়নে ব্যয়, ব্যবস্থাপনার দক্ষতা, স্থানীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ এবং খাবারের মান নিয়ন্ত্রণের বিষয় বিবেচনায় রেখে দুটি বিকল্প পদ্ধতি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। উভয় পদ্ধতির কার্যকারিতা, বাস্তবায়নযোগ্যতা ও সম্ভাব্য ফলাফল যাচাই করতে পৃথক দু’টি জেলায় প্রতিটি পদ্ধতির পাইলট প্রকল্প চালুর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।



কানাডাকে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার ইঙ্গিত ট্রাম্পের

কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার পুরোনো প্রস্তাব আবারও সামনে এনেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য না হয়েও অঙ্গরাজ্যের সুবিধা নিতে চায়।

রবিবার ভোরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত পোস্টে এ মন্তব্য করেন ট্রাম্প। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর কানাডাকে নিয়ে এটিই তার প্রথম প্রকাশ্য মন্তব্য।

ট্রাম্প অভিযোগ করেন, কানাডা দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন কৃষিপণ্যের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ করে আসছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য না হয়েও অঙ্গরাজ্য হওয়ার সুবিধা পেতে চায়। শুল্ক প্রসঙ্গে তাঁর স্পষ্ট বার্তা- ‘আর নয়’।

এদিকে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি। আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর শনিবার থেকে কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর নতুন করে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত মার্কিন শুল্ক কার্যকর হয়েছে।

নতুন শুল্ক আরোপের ফলে উত্তর আমেরিকার প্রতিবেশী দুই দেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্য বিরোধ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কানাডার রপ্তানি খাত ও সীমান্তবর্তী ব্যবসায় এর প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প একাধিকবার কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার ইচ্ছার কথা বলে আসছেন। তার সর্বশেষ মন্তব্যে সেই পুরোনো অবস্থানই আবারও সামনে এসেছে।

তবে ট্রাম্পের নতুন মন্তব্যের বিষয়ে কানাডা সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ায় ওয়াশিংটন ও অটোয়ার মধ্যে চলমান বাণিজ্য বিরোধ আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।




মাগুরার আলোচিত শিশু আছিয়া হত্যা-ধর্ষণ মামলায় রায়ের দিন পেছাল

ডেস্ক নিউজঃ বহুল আলোচিত মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর রায়ের দিন পিছিয়ে আগামী সোমবার দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ নতুন এদিন ধার্য করেন।

মঙ্গলবার আলোচিত শিশু আছিয়া হত্যা মামলার রায়ের দিন ধার্য ছিল। আদালতের কার্যক্রমের শুরুতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক বলেন, এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল শুনানি করেছেন। তিনি দেশের বাইরে আছেন। এ কারণে আমরা সময় চাচ্ছি। তখন আদালত সময় আবেদন মঞ্জুর করে রায়ের জন্য আগামী সোমবার দিন ধার্য করেন।

এর আগে সোমবার (২৪ আগস্ট) বহুল আলোচিত মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর রায়ের জন্য আজকের দিন (২৫ আগস্ট) ধার্য করা হয়।

আদালতে আসামিপক্ষে রয়েছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে রয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক।

শিশু আছিয়ার নির্মম ঘটনাটি ঘটে মাগুরা সদর উপজেলায়

গত বছরের ৫ মার্চ রমজানের ছুটিতে বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় আট বছর বয়সী শিশুটি। শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখ তাকে ধর্ষণের পাশাপাশি হত্যার চেষ্টা করেন।

গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। পরে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ মামলার সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল আলোচিত এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ২৭ এপ্রিল। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ২৯ জন সাক্ষ্য দেন।

গত বছরের ৭ মে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে শেষ হয় আলোচিত এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম। এক বছর আগে ১৩ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসানের আদালতে মামলার শেষ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে একই বছরের ১৭ মে রায় ঘোষণা করা হয়।

শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখকে (৪৭) মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

রায়ে বাকি তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ (১৯), সজীব শেখের ছোট ভাই (১৭) এবং সজীবের মা জাহেদা বেগম (৪০)।

ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে তা অনুমোদনের জন্য মামলার নথিপত্র উচ্চ আদালতে পাঠাতে হয়। সেই অনুযায়ী, এ মামলার নথি গত বছরের ২১ মে হাইকোর্টে পাঠানো হয়। যাচাই-বাছাই শেষে নথিপত্র পেপারবুক তৈরির জন্য বিজি প্রেসে পাঠানো হয়।

পেপারবুক প্রস্তুত হওয়ার পর গত ৮ জুন তা হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পরে মামলাটি শুনানির জন্য বিশেষায়িত বেঞ্চের কার্যতালিকায় ওঠে।




গ্রাম আদালত সক্রিয় করতে ‘সেরা ইউপি-চেয়ারম্যান’ পুরস্কার

গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে দেশের প্রতিটি জেলায় ‘সেরা গ্রাম আদালত কার্যক্রম পরিচালনাকারী ইউনিয়ন পরিষদ ও সেরা চেয়ারম্যান’ নির্বাচন করবে সরকার।

এ উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে ইউনিয়ন পরিষদগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ সৃষ্টি এবং ভালো কার্যক্রম পরিচালনাকারীদের স্বীকৃতি ও পুরস্কার দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়। এতে সই করেন বিভাগের উপসচিব মো. আব্দুর রহমান।

পরিপত্রে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ’ প্রকল্পের আওতায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে উৎসাহজনক অর্জনকারী ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে চিহ্নিত করে স্বীকৃতি ও পুরস্কার দেওয়া হবে। এর ফলে অন্যান্য ইউনিয়ন পরিষদও গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে আরও সক্রিয় ও মানসম্মতভাবে অংশগ্রহণে উৎসাহিত হবে।

জেলা প্রশাসকদের নিজ নিজ জেলার আওতাধীন ইউনিয়ন পরিষদগুলোর মধ্য থেকে নির্ধারিত বহুসূচক ও মানদণ্ডের ভিত্তিতে সেরা গ্রাম আদালত কার্যক্রম পরিচালনাকারী ইউনিয়ন পরিষদ ও সেরা চেয়ারম্যান নির্বাচন করতে বলা হয়েছে।

নির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদ ও চেয়ারম্যানকে স্থানীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি ও পুরস্কার দেওয়ার মাধ্যমে উৎসাহিত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

সেরা নির্বাচন করতে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে দায়ের হওয়া মোট মামলার সংখ্যা, নারী আবেদনকারীর সংখ্যা, মামলা নিষ্পত্তির হার, সালিশের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি, ফি ও জরিমানা আদায়ের ক্ষেত্রে বিধিবিধান অনুসরণের সক্ষমতা এবং গ্রাম আদালত পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় বিশেষ ফান্ড বা অনুদানের যথাযথ ব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে।

এ ছাড়া মামলা ও বিরোধ নিষ্পত্তি-সংক্রান্ত নথি সংরক্ষণ, লিখিত তথ্য সংরক্ষণ এবং গ্রাম আদালতের কার্যক্রম ব্যবস্থাপনায় দক্ষতাকেও মূল্যায়নের আওতায় আনা হবে।

পরিপত্রে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে সহায়তাকারী ইউপি সচিব এবং হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরের মাসিক সম্মানী ও যাতায়াত ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাবের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দেশের সব জেলা প্রশাসকের কাছে পরিপত্রটি পাঠানো হয়েছে।




দেশের বাজারে স্বর্ণের ভরি আড়াই লাখ ছুঁইছুঁই

ডেস্ক নিউজঃ দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে সোনার দাম। টানা তৃতীয় দফায় দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ স্বর্ণালংকারের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৩৩ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে সোনার নতুন দাম কার্যকর হওয়ায় দেশের বাজারে ভালো মানের সোনার দাম এখন আড়াই লাখ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় সংগঠনটির মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দেশের বাজারে সোনার দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালংকারে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৩ টাকা। যা সোমবার (২৪ আগস্ট) ছিল ২ লাখ ৪৬ হাজার ১১০ টাকা।

২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৪ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা এখন থেকে বিক্রি হবে ৩ লাখ ৩ হাজার ১৮৭ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯২০ টাকা।

সোনার দাম বাড়ানো হলেও অপরিবর্তিত আছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ২৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা।




সন্তান জন্ম দিলেই ৬০ লাখ টাকা দেবে এশিয়ার যে দেশ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দেশে জন্মহার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় এক অভূতপূর্ব উদ্যোগ নিয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ সিঙ্গাপুর। তরুণ দম্পতিদের সন্তান নিতে উদ্বুদ্ধ করতে প্রতিটি শিশুর ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত বেড়ে ওঠার জন্য প্রায় ৭০ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার (যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৬০ লাখ টাকা) দেওয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার।

সম্প্রতি দেশটির প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং এই বিশেষ সহায়তার কথা ঘোষণা করেন। সিঙ্গাপুরে এখন সন্তান জন্মদানের হার ইতিহাসে সবচেয়ে নিচে নেমে এসেছে। এই সংকট কাটাতে সরকার শিশুদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক প্যাকেজ চালু করল।

নতুন এই নিয়মের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—টাকা শুধু শিশু জন্ম নেওয়ার পরপরই শেষ হয়ে যাবে না; বরং বাচ্চার পড়ালেখা, চিকিৎসা ও বেড়ে ওঠার পুরোটা সময় অর্থাৎ ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত সরকার ধাপে ধাপে টাকা দিয়ে যাবে।

নতুন এই নিয়মে একটি শিশু জন্মালেই অভিভাবকেরা এককালীন নগদ ১০ হাজার ডলার এবং তার একাউন্টে ৫ হাজার ডলার পাবেন। এরপর শিশুটির বয়স ১ থেকে ১৬ বছর হওয়া পর্যন্ত প্রতি বছর আরও ২ হাজার ডলার করে নগদ টাকা দেওয়া হবে। আর সন্তানের বয়স ১৭ বছর হলে উচ্চশিক্ষার খরচের জন্য একবারে দেওয়া হবে আরও ১০ হাজার ডলার। এছাড়াও নতুন মা-বাবার জন্য কাজের ছুটি বাড়ানো এবং বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

সিঙ্গাপুরে খরচ বেশি হওয়ায় এবং কর্মক্ষেত্রের ব্যস্ততায় অনেকেই সন্তান নিতে ভয় পান। সরকারের আশা, এই বিশাল আর্থিক সাহায্য তরুণ দম্পতিদের ভয় দূর করবে এবং তারা সুখে শান্তিতে পরিবার গড়তে উৎসাহিত হবেন।




ধর্ষণের শিকার শিশুর পেটে জন্ম নেওয়া নবজাতকের বাবা অভিযুক্ত সেই মাদ্রাসাশিক্ষক

ডেস্ক নিউজ : নেত্রকোনার মদনে ধর্ষণের শিকার শিশুর পেটে জন্ম নেওয়া নবজাতকের বাবা অভিযুক্ত সেই মাদ্রাসাশিক্ষক আমানউল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর। নবজাতক শিশুর ডিএনএ পরীক্ষায় শিক্ষক আমানউল্লাহ সাগরের ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন ৯৯.৯৯৯ শতাংশ হুবহু মিলেছে। এতে নবজাতকের জৈবিক বাবা হিসেবে ওই শিক্ষক প্রমাণিত হয়েছেন।

সোমবার (২৪ আগস্ট) রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নেত্রকোনা নারী ও শিশু আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মো. নুরুল কবীর রুবেল।

তিনি বলেন, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ডিএনএ পরীক্ষার চূড়ান্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণের প্রতিবেদন থানা পুলিশের হাতে এসেছে।

মামলার এজহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষক আমানউল্লাহ সাগর ওই শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। এরপর প্রাণনাশের হুমকি দিলে শিশুটি প্রথমে ঘটনা গোপন রাখলেও পরবর্তীতে শারীরিক পরিবর্তন হলে বিষয়টি প্রকাশ পায়। পরে তার পরিবার গত ১৮ এপ্রিল স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষার পর জানতে পারে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা।

এই ঘটনা জানাজানি হলে শিশুর পরিবারকে গ্রামছাড়া করার হুমকিসহ শিশুর নানা ও মামার ওপর দায় চাপিয়ে স্থানীয়ভাবে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পরিবারটি ম্যানেজ না হওয়ায় মামলা হওয়ার ভয়ে মাদ্রাসায় তালা ঝুলিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে পালিয়ে যান ওই শিক্ষক। এদিকে, এ ঘটনায় ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় নারী ও শিশু আইনে মামলা দায়ের করেন।

মামলার পরও অজ্ঞাত স্থানে থেকে আত্মীয়স্বজন দিয়ে ওই শিশুর পরিবারকে অনবরত হুমকি ধমকি দিতে থাকেন অভিযুক্ত। একপর্যায়ে ঘটনাটি দেশজুড়ে জানাজানির পর তীব্র ক্ষোভের জন্ম নিলে ৫ মে অজ্ঞাত স্থান থেকে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবী করেন সেই শিক্ষক।

এদিকে, র‍্যাব-১৪ ছায়াতদন্ত করে ফেসবুকে লাইভের পরদিনই ৬ মে ভোরে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক সাগরকে গ্রেফতার করে নেত্রকোনা মদন থানায় হস্তান্তর করে। পরে গ্রেফতারকৃতকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

এদিকে, হুমকির মুখে থাকা ধর্ষণের শিকার শিশুটিকে সুরক্ষা দিতে সমাজসেবার আওতায় সিলেটে একটি সেফহোমে রাখা হয়। এরপর গত ১৭ মে আদালতের অনুমতিক্রমে ঢাকার সিআইডি কার্যালয়ে আসামি সাগরের ডিএনএ নমুনা জমা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে গত ২ জুলাই ভুক্তভোগী শিশুটি সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়।

বর্তমানে ভুক্তভোগী শিশু ও তার নবজাতক সিলেটের সেফহোমে রয়েছে। এরপর আদালতের নির্দেশে ২৮ জুলাই সিআইডির একটি দল সেফহোমে গিয়ে নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠায়। সেখানে দুটো ডিএনএ পরীক্ষায় হুবহু মিলে যাওয়ার প্রতিবেদন ২৪ আগস্ট নেত্রকোনা পুলিশের হাতে পৌঁছায়।

রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি আইনজীবী মো. নুরুল কবীর রুবেল আরও জানান, এই বৈজ্ঞানিক প্রমাণের পর আসামির আর কোনো দ্বিমত বা প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। প্রযুক্তিগত ও আইনগতভাবে মামলাটি এখন বিচার প্রক্রিয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত এবং অল্প সময়ের মধ্যেই পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) দাখিল করবে।




বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের হোটেলে দুই কোচের হাতাহাতি, পুলিশ ডাকলেন ইংলিশ কোচ

ক্রীড়া ডেস্ক : এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব খেলতে উজবেকিস্তান যাওয়ার ঠিক আগে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের টিম হোটেলে ঘটে গেছে এক অপ্রীতিকর ঘটনা। দলের ইংলিশ হেড কোচ জেরার্ড জোন্স ও সহকারী কোচ আতিকুর রহমানের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ ডেকেছেন প্রধান কোচ। গত বুধবার টিম হোটেলেই এই ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দুই কোচের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও হাতাহাতির পর প্রধান কোচ জেরার্ড জোন্স আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা চান এবং ৯৯৯-এ কল করেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে টিম হোটেলেও যায় এবং পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তবে ঠিক কী কারণে এই বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল কিংবা পুলিশকে কী অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
গুরুত্বপূর্ণ এই টুর্নামেন্টের ঠিক আগে কোচিং স্টাফের এমন দ্বন্দ্বে দলের সামগ্রিক প্রস্তুতি ও পরিবেশ নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে দলের ম্যানেজার সামিদ কাশেম বলেন, “বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটি এ বিষয় নিয়ে কাজ করছে। আশা করি খুব শিগগির একটি সুন্দর সমাধান হয়ে যাবে।”

তবে ডেভেলপমেন্ট কমিটির অনেক সদস্যই বিষয়টি সম্পর্কে শুরুতে অবগত ছিলেন না। কমিটির চেয়ারম্যান নাসের শাহরিয়ার জাহেদী এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে কমিটির আরেক সদস্য মঞ্জুরুল করিম জানিয়েছেন, এমন কিছু ঘটে থাকলে অবশ্যই তা তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে প্রধান কোচ জেরার্ড জোন্সের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, আগামী ৩১ আগস্ট উজবেকিস্তানে শুরু হতে যাওয়া এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে অংশ নিতে আগামী ২৭ আগস্ট বাংলাদেশ দলের দেশ ছাড়ার কথা রয়েছে।