সৌদিতে হজে গিয়ে আরও ৩ বাংলাদেশির মৃত্যু

ডেস্ক নিউজঃ সৌদি আরবে পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে মক্কায় আরও তিন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবারের (২৬ মে) হজ বুলেটিন থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। 

নতুন এই তিনজনের মৃত্যুর ফলে চলতি বছর সৌদি আরবে এখন পর্যন্ত মোট ৩০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী মারা গেলেন, যাদের মধ্যে ২১ জন পুরুষ এবং ৯ জন নারী রয়েছেন।

সর্বশেষ মারা যাওয়া তিন হজযাত্রী হলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের মো. আফরান আলী, সিরাজগঞ্জের কাজীপুরের মো. আবদুর রহমান এবং নরসিংদীর রায়পুরার মো. হারুন-উর রশীদ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা তিনজনই মক্কায় স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন।

এদিকে আজ মঙ্গলবার ঐতিহাসিক আরাফাত ময়দানে পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং মিনায় লাখো হাজির সমাগম ঘটেছে।

এ বছর বাংলাদেশ থেকে সর্বমোট ৭৯ হাজার১৬৪ জন হজযাত্রী হজে অংশ নিয়েছেন, যার মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার৪৬৪ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার৯২৬ জন সৌদি আরব গেছেন।




ঢাকায় ভূমিকম্প অনুভূত

ডেস্ক নিউজঃ রাজধানীতে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূতি হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল ১১টা ৪২ মিনিটের দিকে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়।

ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ৬। এর উৎপত্তিস্থল ছিল টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থেকে ২৯ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে।




দুপুরের মধ্যে ৯ জেলায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের আভাস

আবহাওয়া ডেস্কঃ ঢাকাসহ দেশের নয়টি জেলার ওপর দিয়ে দুপুরের মধ্যে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের তীব্র আশঙ্কা রয়েছে। 

মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় আবহাওয়া অধিদপ্তর এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, বরিশাল, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট জেলার ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ঝড়-বৃষ্টির এই আকস্মিক আশঙ্কার কারণে সংশ্লিষ্ট এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর নৌ সতর্ক সংকেত দেখিয়ে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, শুধু দুপুরের এই ঝড়ো হাওয়া নয়, বরং চলতি সপ্তাহজুড়েই দেশের সবকটি বিভাগে কম-বেশি ঝড়-বৃষ্টির একটি ধারাবাহিক প্রবণতা বজায় রয়েছে। সেই সঙ্গে মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণও হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।




আজ পবিত্র হজ

ডেস্ক নিউজঃ ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত আজ আরাফার প্রান্তর। আজ ৯ জিলহজ (সৌদি আরবের স্থানীয় সময়) মঙ্গলবার পবিত্র হজ। ইয়াওমুল আরাফা বা আরাফার দিন। এদিন মক্কা নগরীর জাবালে রহমত পাহাড়ের চূড়া থেকে আরাফাতের ময়দানজুড়ে দণ্ডায়মান বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা সাদা-কালো-ধনী গরিব নির্বিশেষে প্রায় ১৮ লাখ হাজি। সবার রোদনভরা কণ্ঠে একটাই ধ্বনি ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক। ইন্নাল হামদা ওয়াননি’ মাতা লাকা ওয়ালমুলক; লা শারিকা লাক’। অর্থাৎ ‘আমি হাজির, হে আল্লাহ, আমি হাজির। তোমার কোনো শরিক নেই। সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই। সব সাম্রাজ্যও তোমার।’ শুধু তোমার ক্ষমা ও অনুগ্রহ লাভের জন্য আমরা এখানে সমবেত হয়েছি প্রভু। আজ ফজরের নামাজ আদায় শেষে মিনা থেকে হাজিরা সমবেত হবেন এই আরাফাতের ময়দানে। হাজিদের (পুরুষ) পরনে শুধু সেলাইবিহীন সাদা দুই খণ্ড বস্ত্র (এহরাম)। এখানে তারা সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত অবস্থান করবেন। এই সেই ময়দান যেখানে প্রায় দেড়হাজার বছর আগে দাঁড়িয়ে মুসলিম উম্মাহর উদ্দেশ্য খুৎবা দিয়েছিলেন আল্লাহর প্রিয় হাবিব, নবী ও রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)। বিদায় হজের খুৎবায় নবীজি ঘোষণা করেছিলেন, আজ থেকে ইসলামকে পরিপূর্ণ ধর্ম ঘোষণা করা হয়েছে। আল্লাহতালার কাছে একমাত্র মনোনীত ধর্ম ইসলাম। আজ হাজিদের মননে যেন বিদায় হজের সেই ভাষণের অনুরণন।

আজ আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা দেবেন মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব শাইখ আলী আল হুজাইফি। সমবেত হাজিরা এখানে হজের খুতবা শুনবেন। আরবি ভাষায় দেওয়া তার এই ভাষণ বাংলাসহ বিশ্বের ২০টি ভাষায় তাৎক্ষণিক অনুবাদ করে শোনানোর ব্যবস্থা করেছে সৌদি হজ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। মসজিদে নামিরাতে নামাজও পড়াবেন তিনি। তার ইমামতিতে হাজিরা একসঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন। এরপর মুজদালিফার উদ্দেশে আরাফাতের ময়দান ত্যাগ করবেন হাজিরা। মুজদালিফায় পৌঁছে একসঙ্গে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করবেন হাজিরা। সেখানে মুজদালিফায় খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন করবেন এবং সেখান থেকে শয়তানকে নিক্ষেপের জন্য ছোট ছোট পাথর সংগ্রহ করবেন। আগামীকাল বুধবার ১০ জিলহজ (সৌদি আরবের স্থানীয় সময়) সেখানে পালিত হবে ঈদুল আজহা। স্থানীয় যারা পবিত্র হজ পালন করেননি তারা ঈদের নামাজ পড়বেন ও কোরবানি করবেন। হাজি সাহেবানরা ফজরের নামাজ শেষে মুজদালিফা থেকে আবার মিনায় ফিরে আসবেন। এরপর রামি আল জামারাহ আল আকাবাহ বা বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করবেন। তারপর পশু কোরবানি হয়ে গেলে পুরুষরা মাথা মুণ্ডন করে মক্কা নগরীতে ফিরে পবিত্র কাবা তাওয়াফ করবেন। এটি তাওয়াফ আল ইফাদা বা হজের প্রধান তাওয়াফ হিসেবে গণ্য করা হয়। এরপর আবার মিনায় ফিরে ১২ জিলহজ (সৌদি আরবের স্থানীয় সময়) পর্যন্ত রামি আল জামারাহ ছোট শয়তানদের পাথর মেরে হজের মূল কার্যক্রম  শেষ করবেন। পরে পবিত্র কাবা শরিফে বিদায়ি তাওয়াফ করে হজের পূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা শেষ করবেন। সৌদি মুয়াল্লিমরা ১০, ১১ ও ১২ জিলহজের (সৌদি আরবের স্থানীয় সময়) তিন দিনের মধ্যে যেকোনো দিন তাওয়াফ আল ইফাদা সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করে থাকেন। গতকাল সোমবার থেকে শুরু হয়েছে পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। ৮ জিলহজ (সৌদি আরবের স্থানীয় সময়)  জহর থেকে ৯ জিলহজ ফজর পর্যন্ত মিনায় অবস্থান ও কসরের সঙ্গে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া আখেরি নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর সুন্নাত। তবে লাখ লাখ হাজিদের সুষ্ঠুভাবে হজ সম্পাদনের সুবিধার্থে সৌদি হজ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ রবিবার রাতেই হাজিদের মিনায় নিয়ে আসেন। সোমবার সারা দিন ও রাত মিনায় হাজিরা নিজ নিজ তাঁবুগুলোতে অবস্থান করে ইবাদত-বন্দেগি ও নারী পুরুষ নির্বিশেষে গুনাহ মাফ ও পাপ মুক্তির জন্য আল্লাহর দরবারে রোনাজারি করেন। এরপর আজ মঙ্গলবার ফজরের নামাজ পড়ে হাজিরা আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে রওনা হবেন। ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভের অন্যতম প্রধান হজ। তীব্র গরম উপেক্ষা করে বাংলাদেশসহ বিশ্বের নানা প্রান্তের ১৮ লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মুসলমান হজ করতে পবিত্র মক্কা নগরীতে সমবেত হয়েছেন। চলতি বছরে বাংলাদেশ থেকে সাড়ে ৭৮ হাজার মানুষ পবিত্র হজ পালন করতে সৌদি আরব যাওয়ার সৌভাগ্যলাভ করেছেন।




লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭০ বাংলাদেশি

ডেস্ক নিউজ : বাংলাদেশ সরকার, লিবিয়া কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) যৌথ উদ্যোগে সোমবার লিবিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন ১৭০ জন বাংলাদেশি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিরা আজ সকালে বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে বেনগাজি থেকে ঢাকায় পৌঁছান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে ফেরত আসা ব্যক্তিদের বেশিরভাগই মানব পাচারকারীদের সহায়তায় অবৈধভাবে লিবিয়ায় গিয়েছিলেন। তারা সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করেন। লিবিয়ায় অবস্থানকালে তারা অপহরণ, নির্যাতন ও অন্যান্য সহিংসতার শিকার হন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা এবং আইওএম-এর কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে প্রত্যাবাসিত অভিবাসীদের অভ্যর্থনা জানান।

জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং অন্যদের ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ অভিবাসন পথ বেছে নেওয়া থেকে নিরুৎসাহিত করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যাবাসিত অভিবাসীদের তাদের কষ্টদায়ক অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে শেয়ার করার আহ্বান জানিয়েছে।

আইওএম ফিরে আসা ব্যক্তিদের পরিবহন খরচ, খাবার, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে সাময়িক থাকার ব্যবস্থা করেছে।




ট্রাম্পের ‘নরককুণ্ড’ মন্তব্য ঢাকতে মোদি-বন্দনায় মাতলেন রুবিও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে রবিবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের পাশে দাঁড়িয়ে এক মার্কিন সাংবাদিকের গুগলি প্রশ্নের মুখে পড়েন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতীয়দের বর্ণবাদের শিকার হওয়া এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিতর্কিত পোস্ট নিয়ে সাংবাদিক প্রশ্ন তুললে রুবিও জানান, শুরুতে তিনি ভেবেছিলেন এটি সাধারণ কোনো অনলাইন কনটেন্ট বা ট্রলের বিষয়। প্রথম দিকে সুনির্দিষ্ট কোনো উদাহরণ না পেয়ে রুবিও মন্তব্য করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারা এসব ছড়াচ্ছে তা বলা কঠিন, কারণ এগুলো কোনো ইন্টারনেট ট্রল বা বটও হতে পারে। তবে সাংবাদিক যখন সুনির্দিষ্টভাবে মনে করিয়ে দেন যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই একবার ভারতকে ‘নরককুণ্ড’ বলে অভিহিত করেছিলেন, তখন পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

মার্কো রুবিও স্পষ্ট ভাষায় জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভারতকে অত্যন্ত ভালোবাসেন এবং তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একজন মস্ত বড় ভক্ত। মাত্র আগের রাতেই একটি অনুষ্ঠানে ফোনকলে ট্রাম্প ভারতের প্রতি তার এই ভালোবাসার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। রুবিও আরও যোগ করেন, প্রেসিডেন্ট নিজে না চাইলে তিনি আজ ভারতে আসতেন না এবং ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সার্জিওর মতো কাউকে ভারতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠানো হতো না।

সাংবাদিককে পাল্টা খোঁচা দিয়ে রুবিও বলেন, তিনি প্রথমে সুনির্দিষ্ট উদাহরণ দেওয়ার সুযোগ দিলেও সাংবাদিক তা বলতে পারেননি, যার কারণে তিনি ভেবেছিলেন এটি হয়তো সোশ্যাল মিডিয়ার কোনো সাধারণ মন্তব্য। দুর্ভাগ্যবশত বিশ্বের প্রতিটি দেশেই কিছু মানুষ প্রতিনিয়ত ইন্টারনেটে বোকার মতো কথা বলে থাকে।

এই পুরো বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল গত এপ্রিল মাসে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একজন পডকাস্টারের একটি আপত্তিকর পোস্ট নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছিলেন, যেখানে ভারতকে ‘নরককুণ্ড’ বলে বর্ণনা করা হয়েছিল। সেই সময় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ট্রাম্পের নাম সরাসরি উচ্চারণ না করেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেছিলেন, এই ধরনের মন্তব্য কোনোভাবেই ভারত ও আমেরিকার মধ্যকার প্রকৃত সম্পর্কের প্রতিফলন নয়, যা দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও যৌথ স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে টিকে আছে।

রবিবারের এই ব্রিফিংয়ে ভারতীয় এবং ভারতীয়-আমেরিকানদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী মন্তব্যের উদ্বেগ নিয়ে রুবিও বলেন, তিনি এই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছেন। তিনি খোলাখুলিভাবে স্বীকার করেন যে, বিশ্বের প্রতিটি দেশেই কিছু বোকা মানুষ থাকে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও এমন কিছু মানুষ আছে যারা সারাক্ষণ এমন নির্বোধের মতো মন্তব্য করে। সেইসঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রগতিতে ভারতীয়দের অবদানের প্রশংসা করে বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষ মার্কিন সংস্কৃতিতে মিশে গিয়ে দেশটিকে সমৃদ্ধ করেছেন।

চার দিনের ভারত সফরে আসা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এর আগে শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন।




নিষিদ্ধ হওয়ার পর মুখ খুললেন রণবীর সিং

বিনোদন ডেস্ক : ‘ডন ৩’ সিনেমা থেকে হঠাৎ সরে দাঁড়ানোর কারণে ফেডারেশন অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনেমা এমপ্লয়িজ (এফডব্লিউআইসিই) কর্তৃক অসহযোগিতার নির্দেশ জারির পর অবশেষে নীরবতা ভেঙেছেন বলিউড অভিনেতা রণবীর সিং। সোমবার ফেডারেশনের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর অভিনেতার আনুষ্ঠানিক মুখপাত্রের মাধ্যমে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে নির্মাতা ফারহান আখতারের সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্ব এবং ফেডারেশনের অভিযোগের বিষয়ে অভিনেতার অবস্থান পরিষ্কার করা হয়েছে।

এর আগে, সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এফডব্লিউআইসিই দাবি করে, ফারহান আখতারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে রণবীরকে তিনবার নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। শুটিং শুরুর মাত্র তিন সপ্তাহ আগে প্রজেক্টটি ছেড়ে দেওয়ায় দৈনিক মজুরির হাজার হাজার চলচ্চিত্রকর্মীর জীবিকা সংকটে পড়েছে উল্লেখ করে রণবীরের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ফেডারেশনের এই কঠোর পদক্ষেপের পরই অভিনেতার মুখপাত্র পাল্টা বিবৃতি দেন।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চলচ্চিত্র অঙ্গন এবং ‘ডন’ ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের প্রতি রণবীর সিংয়ের সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা রয়েছে। ‘ডন ৩’ নিয়ে সাম্প্রতিক যেসব জটিলতা তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি সচেতনভাবেই নীরব থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ তিনি বিশ্বাস করেন, যেকোনো পেশাদার আলোচনা এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক সব সময় মর্যাদা, পরিপক্বতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার সঙ্গেই সামলানো উচিত। রণবীর কখনো এসব জল্পনা-কল্পনা বা পাবলিক ন্যারেটিভের জবাব দেওয়া প্রয়োজন মনে করেননি। তার পুরো মনোযোগ এখন নিজের কাজ এবং আগামী দিনের প্রতিশ্রুতির ওপর। ফ্র্যাঞ্চাইজিটির সঙ্গে যুক্ত সবার জন্য তার মনে গভীর শ্রদ্ধা ও শুভকামনা রয়েছে এবং তিনি আন্তরিকভাবে ‘ডন ৩’-এর সাফল্য কামনা করেন। এমন পরিস্থিতিতে সংযম ও শালীনতা বজায় রাখাই তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং ভবিষ্যতেও তিনি এই অবস্থানেই অটল থাকবেন।

রণবীরের এই মার্জিত বিবৃতির আগে অবশ্য ফেডারেশনের সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে বেশ ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছিল। এফডব্লিউআইসিই-এর প্রধান উপদেষ্টা অশোক পণ্ডিত জানান, গত ১১ এপ্রিল ফারহান আখতার লিখিত অভিযোগ করার পর স্বাভাবিক নিয়মে রণবীরকে তার বক্তব্য জানানোর জন্য প্রতি ১০-১৫ দিন পর পর স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিনেতার দল থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি, বরং ফেডারেশনের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। অন্যদিকে ফেডারেশনের সভাপতি বি. এন. তিওয়ারি সাফ জানিয়ে দেন, কোনো সুপারস্টারই ইন্ডাস্ট্রির নিয়মের ঊর্ধ্বে নন এবং এই জটিলতার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ফেডারেশনের কোনো কর্মী রণবীরের সঙ্গে কাজ করবেন না।

রণবীরের পক্ষ থেকে আসা এই নতুন বিবৃতির পর বলিউডের এই হাই-প্রোফাইল বিতর্ক এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।




সেঞ্চুরিতে নতুন ইতিহাস গড়লেন হামজা

ক্রীড়া ডেস্ক : টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে অসাধারণ এক ইনিংস খেলে নতুন ইতিহাস গড়েছেন রুয়ান্ডার ব্যাটার হামজা খান। আগামী টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আফ্রিকা সাব-রিজিওনাল কোয়ালিফায়ার ম্যাচে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে তিনি ৬৫ বলে ১৬৪ রানের ইনিংস খেলেন। এটি আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।

হামজার ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ১৫টি ছক্কা। তার এই বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে রুয়ান্ডা দল ২ উইকেটে ২৮৮ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায়। তার সঙ্গে দারুণ ব্যাটিং করেন দিদিয়ের এনডিকুবিমানা, যিনি ৬৯ রান করেন ৪৫ বলে। এছাড়া ইসায়ে নিয়োমুগাবো ১২ বলে ২৬ রানে অপরাজিত থাকেন।

জবাবে আইভরি কোস্টের ইনিংস থেমে যায় মাত্র ১৭ রানে। ১৫.২ ওভারে অলআউট হওয়া দলটির হয়ে সর্বোচ্চ ৫ রান আসে ওয়াটারা উসিফের ব্যাট থেকে। বাকিদের অধিকাংশই খুব অল্প রানেই ফিরে যান।

এই ইনিংসের মাধ্যমে হামজা খান পেছনে ফেলেছেন আফগানিস্তানের হজরতুল্লাহ জাজাই-কে, যিনি ২০১৯ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১৬২ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। তালিকার শীর্ষে আছেন অস্ট্রেলিয়ার অ্যারন ফিঞ্চ, যিনি ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৭২ রান করেন।

ছক্কার দিক থেকেও নজর কাড়েন হামজা—এক ইনিংসে ১৫ ছক্কা মেরে টি–টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ ছক্কার তালিকায়ও তিনি উঠে এসেছেন।




সিসি ক্যামেরা প্রকল্পে কোটি টাকা লোপাট, দুই গাড়িতে ৩১ চালক! গণপূর্তের ই/এম জোনে অনিয়মের বিস্ফোরক অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম পি অ্যান্ড ডি জোনকে কেন্দ্র করে আবারও সামনে এসেছে ভয়াবহ অনিয়ম, ক্ষমতার
অপব্যবহার ও রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাটের অভিযোগ। এবার অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আলমগীর খান। তার বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পে প্রভাব খাটিয়ে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন, আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে পরোক্ষ ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ, অডিট আপত্তি ধামাচাপা এবং দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে সাংবাদিকদের ভয়ভীতি ও মামলার হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

গত ২৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ধানমন্ডীর বাসিন্দা এলাহী নেওয়াজ খান গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগপত্রের অনুলিপি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এবং আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটেও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগে যা বলা হয়েছে : অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, মো. আলমগীর খান দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে ঢাকা শহরে একাধিক প্লট, ফ্ল্যাট, বিলাসবহুল গাড়ি, গ্রামের বাড়িতে বাংলো ও খামারবাড়ি রয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংকে কোটি কোটি টাকার এফডিআর থাকারও অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর ভাষ্য, এসব সম্পদের সঙ্গে তার বৈধ আয়ের কোনো সামঞ্জস্য নেই।

এছাড়া অভিযোগে আরও বলা হয়, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বিদেশে পাচার করে কানাডায় বাড়ি ক্রয় ও ব্যবসায় বিনিয়োগের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে আয়কর নথিতে প্রকৃত সম্পদের তথ্য গোপন করে নিয়মিত কর ফাঁকির অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে। সাভার স্মৃতিসৌধে ‘কাগুজে’ সিসি ক্যামেরা প্রকল্প! অভিযোগে সবচেয়ে বিস্ফোরক তথ্য হিসেবে উঠে এসেছে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন প্রকল্পের অনিয়ম।

অভিযোগ অনুযায়ী, ই/এম বিভাগ-৬ কোনো কার্যকর সিসি ক্যামেরা স্থাপন না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ১ কোটি ১৮ লাখ ৮১ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করেছে। অডিট রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের জুন মাসে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে তিনটি কার্যাদেশ দিয়ে ১৬ চ্যানেলের ডিডিআর, ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা, ডিসপ্লে মনিটর ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহ এবং স্থাপনের নামে বিপুল অঙ্কের অর্থ ছাড় করা হয়। অথচ পরবর্তীতে অডিট কর্মকর্তারা সরেজমিনে গিয়ে দেখতে পান, অধিকাংশ যন্ত্রপাতি অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে এবং প্রকল্পের বাস্তব কোনো কার্যকারিতা নেই ।

অডিট প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, পর্যাপ্ত কারিগরি জনবল থাকার পরও সিস্টেমগুলো সচল করা হয়নি, কিন্তু অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল দেখানো হয়েছে। অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টদের মতে, “এটি শুধুমাত্র প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়; বরং পরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের একটি সংগঠিত চিত্র।”

দুটি গাড়ি, কিন্তু ৩১ চালক! ই/এম বিভাগ-৮ নিয়েও উঠেছে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ। সরকারি নথি অনুযায়ী, বিভাগটিতে সচল রয়েছে মাত্র দুটি গাড়ি। অথচ ওই দুই গাড়ির বিপরীতে নিয়মিত ৩১ জন চালকের বেতন-ভাতা উত্তোলন করা হয়েছে। শুধু এই খাতেই বছরে প্রায় ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ের তথ্য উঠে এসেছে।

অভিযোগে বলা হয়, মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধানে এসব তথাকথিত চালকের বাস্তব অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। অধিকাংশ নামই কাগজে-কলমে সৃষ্টি করা হয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি। তার ভাষ্যমতে, “ভুয়া নিয়োগ দেখিয়ে বছরের পর বছর সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।” অডিট রিপোর্টেও মিলেছে অনিয়মের প্রমাণ : অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত একাধিক অডিট রিপোর্টে আর্থিক অসঙ্গতি, অতিরিক্ত ব্যয়, নথিগত গরমিল এবং অনিয়মের বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উঠে এলেও রহস্যজনক কারণে কোনো কার্যকর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় সংশ্লিষ্টরা বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন : গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তারকারী একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের সঙ্গে মো. আলমগীর খানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি বিশেষ সুবিধাভোগী কর্মকর্তা হিসেবে প্রভাব খাটিয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। এদিকে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর পদায়ন নিয়েও সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, রাজনৈতিক আনুগত্য ও বিশেষ গোষ্ঠীর সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের সংস্কৃতি এখনো বহাল রয়েছে। ফলে অতীত সরকারের সময়ে গড়ে ওঠা বিতর্কিত প্রশাসনিক বলয় এখনও সক্রিয় থেকে রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাটের সুযোগ পাচ্ছে।

বক্তব্য মেলেনি: অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. আলমগীর খান এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি। ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তদন্ত দাবি : সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর এবং রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ, মানিলন্ডারিং ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত। তাই দুদক, বিএফআইইউ এবং আয়কর গোয়েন্দা ইউনিটের মাধ্যমে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন জরুরি।

একই সঙ্গে অভিযোগে উত্থাপিত সম্পদের হিসাব, ব্যাংক লেনদেন, বিদেশে বিনিয়োগ এবং প্রকল্প ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক অডিট করারও দাবি উঠেছে।




বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ: খোন্দকার আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন, সাংগঠনিক ব্যবস্থার দাবি নারী সাংবাদিকদের

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সাংবাদিক নেতা খোন্দকার আলমগীর হোসেন-এর বিরুদ্ধে ওঠা নৈতিক স্খলন, ভুক্তভোগী নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ ও দীর্ঘদিন হয়রানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। নারী সাংবাদিকদের অভিযোগ, এমন অশ্লীল ও চরিত্র স্থলনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাংবাদিক সমাজে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় রচিত হয়েছে।

এসব ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার (২৫ মে) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাব-এর সামনে “নারী সাংবাদিক ঐক্য” ব্যানারে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে সংগঠনের আহ্বায়ক আয়শা সিদ্দিকা ও সদস্য সচিব জেসমিন জুই বক্তব্য রাখেন।

বক্তব্যে জেসমিন জুই বলেন, “এমন কলঙ্কিত ব্যক্তি যদি জাতীয় প্রেসক্লাব ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের মতো ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাহলে নারী সাংবাদিকরা শঙ্কিত ও ভীতসন্ত্রস্ত বোধ করেন।”

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিক সমাজের মর্যাদা রক্ষায় খোন্দকার আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। মানববন্ধন থেকে বক্তারা অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ সময় দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক, আলোকচিত্রী ও ক্যামেরাপারসন উপস্থিত ছিলেন।