‘বাংলাদেশ প্রথমে বোলিং করলে অস্ট্রেলিয়া ৬০ রানে অলআউট হতো’

ক্রীড়া ডেস্ক : ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় সফরে গিয়ে স্বাগতিকদের ডারউইন টেস্টে ৯ উইকেটে হারায় বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাঠে ঐতিহাসিক জয়ের পর সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখেছিল টাইগাররা।

কিন্তু ম্যাকাই টেস্টে বাজে উইকেট তৈরি করে বাংলাদেশকে দুই ইনিংসে ৬৪ ও ৯৫ রানে গুঁড়িয়ে দিয়ে ইনিংস ও ৫১ রানের জয়ে সিরিজে সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া।

সিরিজের প্রথম টেস্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করা বাংলাদেশকে দ্বিতীয় টেস্টে নাস্তানাবুক করায় ম্যাকাই টেস্টের পিচ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা পেসার স্টুয়ার্ড ব্রড।

ইউটিউব চ্যানেল ফর দ্য লাভ অব ক্রিকেটকে তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে ইনিংস ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ ১-১ এ ড্র করেছে। কিন্তু এনিয়ে কিছু প্রশ্ন থেকে যায়। স্টার্ক আবারও দানবীয় ছিল, বল সুইং করিয়েছে, পিচের সব জায়গায় বল বাউন্স ও সুইং করছিল।’

তিনি বলেন, ‘আমার মতে, আপনি যদি দল হিসেবে মনে করেন প্রতিপক্ষের চেয়ে আপনার খেলোয়াড়রা শক্তিশালী হোক, তবে ফ্ল্যাটার পিচে খেলা উচিত। যদি বাংলাদেশ টস জিতত এবং বোলিং নিতো, তাহলে তারা অস্ট্রেলিয়াকে ৬০ রানে অলআউট করত এবং তাদের বিরাট বিপদে রাখত। পিচটি বেশি ওঠানামা করার কারণে এটা ছিল ঝুঁকিপূর্ণ।’

ম্যাকাই টেস্ট শেষ হয়েছে মাত্র ৭৫০ বলে। ১৯৩২ সালের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটিই সবচেয়ে কম বলে শেষ হওয়া টেস্ট। ঘরের মাঠে সর্বশেষ সাত টেস্টের মধ্যে এটি অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় দুই দিনের ম্যাচ। এর আগে সর্বশেষ অ্যাশেজে পার্থ ও মেলবোর্ন টেস্টও দুই দিনেই শেষ হয়েছিল।




পুনর্নির্মিত হচ্ছে মুম্বাইয়ে কেনা শাহরুখ-গৌরীর প্রথম ফ্ল্যাট ‘মান্নাত’

বিনোদন ডেস্ক : বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের সমুদ্রমুখী বিলাসবহুল বাড়ি ‘মান্নাত’-এ সংস্কারকাজ চলছে বেশ কয়েক মাস ধরেই। সে কারণে পরিবার নিয়ে অন্যত্র থাকছেন শাহরুখ খান। তবে ঠিক কেমন বদল করা হবে শাহরুখের বাড়িটি? নতুন তলা যোগ করা হবে কি? বদলে যাবে পুরো রূপ?— সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানালেন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ও বলিউডের অন্যতম  প্রযোজক আনন্দ পণ্ডিত।

এর আগে ২০০০ সালের শুরুর দিকে আনন্দ পণ্ডিত তার বিলাসবহুল রিয়েল এস্টেট সংস্থা ‘শ্রী লোটাস ডেভেলপার্স অ্যান্ড রিয়েলটি’ প্রতিষ্ঠা করেন। সংস্থার প্রথম প্রকল্প থেকেই তিনি বলিউডের তারকাদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। আনন্দ বলেন, দারুণ ক্রেতা পেয়েছিলাম ওই প্রজেক্টে। অভিনেতা হৃতিক রোশন দুটি তলা কিনেছিলেন। পরিচালক রাকেশ রোশন কেনেন তিনটি। অভিনেতা অজয় দেবগন কেনেন একটি তলা। ওই সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় প্রজেক্ট হয়ে ওঠে।

এরপর থেকে তার ব্যবসা ক্রমশই বড় হয়েছে এবং বলিউডের অন্দরমহলে তার আনাগোনাও বেড়ে যায়। তিনি বলেন, প্রায় প্রত্যেক তারকার কাজ আমরা করি। বলিউডের ৮০-৯০ শতাংশ আমার সংস্থার সঙ্গে জড়িত। বর্তমানে তার সংস্থা শাহরুখের দুটি বিলাসবহুল সম্পত্তির কাজও করছে। এর মধ্যে প্রথমটি হলো—বান্দ্রা ব্যান্ডস্ট্যান্ডের প্রাসাদোপম বাংলো ‘মান্নাত’। বর্তমানে সেখানে সংস্কারকাজ চলছে। আনন্দ বলেন, ‘মান্নাতের পেছনের দিকে বেশ কয়েকটি তলা তৈরি করছি।’

‘মান্নাত’-এর সংস্কারকাজ চলাকালীন শাহরুখ ও তার পরিবার— স্ত্রী, প্রযোজক ও অন্দরসজ্জাশিল্পী গৌরী খান, বড় ছেলে ও পরিচালক আরিয়ান খান, মেয়ে ও অভিনেত্রী সুহানা খান এবং ছোট ছেলে আব্রাম খান— বান্দ্রার পালি হিল এলাকায় ‘পূজা কাসা’য় বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিয়েছেন। পূজা কাসার মালিক বর্ষীয়ান প্রযোজক বাসু ভগনানি।

শাহরুখের আরও একটি সম্পত্তি পুনর্নির্মাণের কাজ করছেন আনন্দ। সেই কাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগে সেই বাড়িটির সঙ্গে অভিনেতার আবেগের সম্পর্কের কথা জানতেন না তিনি। আনন্দ বলেন, ‘যখন আমরা কাজ শুরু করি, আমার কোনো ধারণা ছিল না। যদিও এ ঘটনার কথা শাহরুখ স্যার আগে একবার বলেছিলেন। কিন্তু বহুতলের নাম উল্লেখ করেননি।’

এই বহুতলের সঙ্গে কীভাবে অভিনেতার আবেগ জড়িয়ে? বান্দ্রার কার্টার রোডে বেশ কিছু বহুতল পুনর্নির্মাণের কথা শাহরুখকে বলছিলেন আনন্দ। সেই সময় তিনি ‘শ্রী অমৃত সোসাইটি’র নাম উল্লেখ করেন। নামটি শুনেই উচ্ছ্বসিত হয়ে শাহরুখ তাকে বলেন, দিল্লি থেকে মুম্বাইয়ে চলে এসে ১৯৯১ সালে গৌরীকে বিয়ে করার পর এটাই ছিল তার মুম্বাইয়ে কেনা প্রথম ফ্ল্যাট।

২০০১ সালে ‘মান্নাত’-এ চলে যাওয়ার পরও ওই ফ্ল্যাটটি নিজের কাছে রেখেছেন শাহরুখ খান। বর্তমানে সেটি ভাড়া দেওয়া রয়েছে। এ বাড়িটিও সমুদ্রমুখী। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৮০০ বর্গফুট জায়গাজুড়ে অতিরিক্ত ১৫৫ শতাংশ জায়গা তৈরি করে ২০২৭ সালের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হওয়ার কথা।

‘মান্নাত’ ঐতিহ্যবাহী সম্পত্তি ও সমুদ্রের খুব কাছাকাছি হওয়ায় বিশাল আকারের বাড়িটির উল্লম্ব বৃদ্ধির জন্য ‘মহারাষ্ট্র কোস্টাল জোন ম্যানেজমেন্ট অথরিটি’র কাছে অনুমতি চেয়েছেন শাহরুখ। দুটি তলা যোগ করার জন্য আবেদন করেছেন শাহরুখ খান। এর ফলে বাড়িটির মোট ‘বিল্টআপ এরিয়া ৬১৬.০২ বর্গমিটার’ বাড়বে। এ কাজের আনুমানিক খরচ ২৫ কোটি টাকা।




৬০ কোটি টাকার বিপিসি ভবনে উদ্বোধনের পরই পানি-ফাটল, নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন; তদারকিতে থাকা প্রকৌশলী আপেল মামুনের বিরুদ্ধে কমিশন-বাণিজ্যের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ দীর্ঘদিন ভাড়া ভবনে কার্যক্রম চালানোর পর অবশেষে নিজস্ব সদর দপ্তর পেয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। চট্টগ্রামের জয়পাহাড় এলাকায় প্রায় ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে পাঁচতলা এই ভবন। ইস্পাত কাঠামোর ভবনটিতে প্রায় ১৮০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাজ করার কথা। কিন্তু নতুন ভবনে অফিস শুরু হওয়ার পরপরই দেখা দিয়েছে নানা সমস্যা। গত ১০ জুলাই ভবনে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ১২ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অফিস কার্যক্রম শুরু হয়। আর অফিস শুরুর দিনেই বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়ে ভবনের কয়েকটি কক্ষে। পানি ঠেকাতে কোথাও কোথাও ত্রিপল ব্যবহার করতে হয়েছে বলেও জানা গেছে। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন সরকারি ভবনে এমন ঘটনায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

পানি ঢোকার পর সামনে আসে ফাটলের বিষয়

ভবনে পানি প্রবেশের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বিভিন্ন স্থানে ফাটলের বিষয়টি সামনে আসে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ভবনের উত্তর পাশে অন্তত তিনটি জায়গায় ফাটল দেখা গেছে। এর আগেও ভবনের কয়েকটি অংশে ফাটল দেখা দেওয়ার অভিযোগ ছিল। পরে সেসব জায়গায় পুডিং ও প্লাস্টার করে মেরামত করা হয় বলে জানা গেছে। তবে প্রকল্প পরিচালক ও বিপিসির উপমহাব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা) প্রকৌশলী মো. আপেল মামুন এসব ফাটলকে বড় ধরনের ত্রুটি হিসেবে দেখছেন না। তাঁর দাবি, ভবনটি ইস্পাত কাঠামোর হওয়ায় ইস্পাত ও সিমেন্টের সংযোগস্থলে সূক্ষ্ম ফাটল দেখা দিতে পারে। এগুলো কাঠামোগত বড় সমস্যা নয় এবং পুডিং ও প্লাস্টারের মাধ্যমে মেরামত করা হয়েছে।

অন্যদিকে ভবন নির্মাণের দায়িত্ব পাওয়া ইউনাইটেড করপোরেশনের মালিক মো. আমিনও ফাটলের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ইস্পাত কাঠামোর কারণে কিছু জায়গায় ফাটলের মতো দেখা দিয়েছে। সেগুলো পুডিং করে ঠিক করা হচ্ছে এবং এতে ভবনের মূল কাঠামোর ক্ষতি হবে না।

নির্মাণমান ও তদারকি নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন

ভবনে পানি ঢোকার বিষয়টিও স্বীকার করেছেন প্রকল্প পরিচালক মো. আপেল মামুন। তবে তাঁর ব্যাখ্যা, ভবনের কাচে বিশেষ ধরনের আঠা ব্যবহার না করায় বৃষ্টির পানি ভেতরে ঢুকেছে। এই বক্তব্যের পরও প্রশ্ন উঠেছে—একটি নতুন সরকারি ভবনের কাচে প্রয়োজনীয় উপকরণ ব্যবহার করা হলো না কেন এবং নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগে এসব বিষয় তদারকির সময় ধরা পড়েনি কেন?

প্রকৌশল ও নির্মাণসংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন ভবনে অফিস শুরুর পরপরই পানি প্রবেশ ও একাধিক স্থানে ফাটল দেখা দেওয়া স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ভবনের নকশা, নির্মাণসামগ্রীর মান, কাঠামোগত নিরাপত্তা, কাজের বাস্তবায়ন এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরীক্ষা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে এত বড় ব্যয়ের প্রকল্পে নির্মাণকাজের মান ঠিক ছিল কি না, তা কারিগরি পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা দরকার।

প্রকল্প পরিচালক আপেল মামুনকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ

ভবনের ত্রুটির পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের দাবি, ভবন নির্মাণের বিভিন্ন পর্যায়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে আর্থিক লেনদেন হয়েছে। প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী মো. আপেল মামুনের বিরুদ্ধেও ঠিকাদারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা এবং নির্মাণকাজের বিষয়ে ইতিবাচক প্রতিবেদন দেওয়ার বিনিময়ে কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকল্পের বিভিন্ন ধাপে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর্থিক সমঝোতার মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় শুধু প্রকল্প পরিচালকের ভূমিকা নয়, আরও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কোনোভাবে জড়িত ছিলেন কি না, সেটিও তদন্ত করা প্রয়োজন।

পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি

বিপিসি প্রায় ১৯৯০ সাল থেকে চট্টগ্রামে ভাড়া ভবনে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। প্রথমে আগ্রাবাদের হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন ভবনে এবং পরে ২০০১ সাল থেকে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ভবনে সদর দপ্তরের কার্যক্রম চলে। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে তিন দশক পর নিজস্ব ভবন পেলেও শুরুতেই পানি প্রবেশ ও ফাটলের ঘটনায় প্রকল্পটি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিপিসি দেশের জ্বালানি খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল আমদানি করে। পদ্মা অয়েল কোম্পানি, যমুনা অয়েল কোম্পানি ও মেঘনা পেট্রোলিয়ামের মাধ্যমে এসব জ্বালানি বাজারজাত করা হয়। পাশাপাশি বিপিসির অধীন ইস্টার্ন রিফাইনারিতে অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের কাজও হয়।

তাই প্রায় ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সদর দপ্তরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, প্রকল্পের ব্যয়, দরপত্র ও ঠিকাদারি প্রক্রিয়া, ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রী, কাজের মান, বিল পরিশোধ এবং প্রকল্প পরিচালকের তদারকি—সবকিছুই পরীক্ষা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রকৌশলী মো. আপেল মামুনের বিরুদ্ধে ওঠা কমিশন-বাণিজ্য ও ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সরকারি অর্থের অপচয় ও নির্মাণকাজে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।




তদবির-কমিশনের অভিযোগে আলোচনায় গণপূর্তের প্রকৌশলী কায়কোবাদ, সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন

বিশেষ প্রতিবেদকঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, বদলি-পদায়ন, কমিশন বাণিজ্য এবং বিপুল সম্পদ অর্জনকে ঘিরে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (চট্টগ্রাম জোন) মো. কায়কোবাদের বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ সামনে আসায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে তিনি এমন একটি প্রভাববলয় চট্টগ্রাম জোনে গড়ে তুলেছেন, যার মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন, দায়িত্ব বণ্টন, বদলি-পদায়ন এবং আর্থিক সিদ্ধান্তেও প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গণপূর্ত অধিদপ্তরের একটি প্রভাবশালী ঠিকাদারচক্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাধ্যমে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (চট্টগ্রাম জোন) কায়কোবাদের আওতাধীন বিভিন্ন উন্নয়নকাজ থেকে ৪ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি ও বিলের পরিমাণের মধ্যে অসামঞ্জস্য থাকা সত্ত্বেও অর্থ উত্তোলনের সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং এসব বিষয়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নজরদারি ছিল না। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে কাজের প্রকৃত অগ্রগতির তুলনায় বেশি বিল প্রস্তুত ও অনুমোদনের মাধ্যমে সরকারি অর্থ অপচয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ই-এম সার্কেল এবং পরবর্তীতে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ই-এম সার্কেল-২-এ দায়িত্ব পালনের সময় কয়েকটি প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ই-এম বিভাগ-৫ এবং মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কিছু উন্নয়নকাজে প্রকৃত কাজের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিল উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এ বিষয়ে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগও দিয়েছিল। তবে অভিযোগের পরও দৃশ্যমান কোনো কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের।

কায়কোবাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগও নতুন নয়। সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলমের সময়ে তিনি দপ্তরের আর্থিক বিষয় তদারকির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। এ কারণে দপ্তরের অভ্যন্তরে তার পরিচিতি তৈরি হয় ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে। অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর সময়ও তিনি একইভাবে প্রভাব ধরে রাখতে সক্ষম হন এবং বদলি-পদায়নের ক্ষেত্রেও সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে কায়কোবাদের সম্পদ নিয়ে। অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি চাকরির বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এমন বিপুল সম্পদের মালিক তিনি। ঢাকার মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট থাকার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া ধামরাই এলাকায় প্রায় ১০ তলা বিশিষ্ট একটি বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। শুধু রাজধানী নয়, নিজ জেলা শেরপুরেও তার ও পরিবারের নামে-বেনামে জমি ও অন্যান্য সম্পদ থাকার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের ব্যবহারের জন্য দামি গাড়ি থাকার তথ্যও দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এসব অভিযোগের প্রেক্ষাপটে বড় প্রশ্ন হলো- সরকারি চাকরির আয় দিয়ে এসব সম্পদ অর্জন সম্ভব হয়েছে কি না, সম্পদের উৎস কী, আয়কর নথিতে সঠিক তথ্য দেওয়া হয়েছে কি না এবং এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা কার নামে রয়েছে।

অভিযোগকারীদের মতে, সম্পদ বিবরণী, আয়কর নথি, ব্যাংক হিসাব, প্রকল্পের বিল-ভাউচার, পরিমাপ বই (এমবি), ঠিকাদারি কার্যাদেশ এবং বদলি- পদায়নের নথি যাচাই করা হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে পারে।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, গণপূর্তের বিভিন্ন প্রকল্পে ঠিকাদার নির্বাচন, কাজের বিল অনুমোদন, পরিমাপ, দায়িত্ব বণ্টন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ কাজে লাগিয়ে একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদারগোষ্ঠী সুবিধা পেয়েছে। এর ফলে সরকারি অর্থের অপচয়, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ব্যবস্থার ক্ষতি এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

তবে কায়কোবাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগ এখন পর্যন্ত আদালত বা কোনো তদন্তকারী সংস্থার চূড়ান্ত তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (চট্টগ্রাম জোন) মো. কায়কোবাদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন ধরেননি। তার কার্যালয়ে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ অবস্থায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের প্রতি সংশ্লিষ্ট মহলের জোর দাবি— অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (চট্টগ্রাম জোন) মো : কায়কোবাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত কমিশন বাণিজ্য, কথিত ভুয়া বিল, বদলি-পদায়নে প্রভাব বিস্তার, ঠিকাদার সিন্ডিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক।

প্রয়োজনে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষা সংস্থার সমন্বয়ে একটি যৌথ তদন্ত কমিটি গঠন করে তার ও পরিবারের সম্পদের উৎস, আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

অভিযোগগুলো সত্য হলে শুধু একজন কর্মকর্তার দায় নির্ধারণ নয়, বরং তার সঙ্গে সম্পৃক্ত ঠিকাদার, প্রশাসনিক সহযোগী এবং সুবিধাভোগীদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। কারণ, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত না হলে রাষ্ট্রীয় অর্থের সুরক্ষা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং জনগণের আস্থা-সবকিছুই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।




জিয়া উদ্যানে নেতাকর্মীদের ঢল জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের শ্রদ্ধা

বিএনপির ৪৮ বছরের ইতিহাসে প্রথম জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক কোনো নেতা দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। তিনি ছাত্রদলের সাবেক নির্বাচিত সভাপতি বাকসু’র সাবেক ভিপি অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তার এই দায়িত্ব পাওয়ায় দলটির সাবেক এবং বর্তমান তরুণ নেতাকর্মী বিশেষ করে অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের মাঝে বাড়তি উৎসাহ উদ্দীপনা বিরাজ করছে।

সোমবার নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজধানীর শেরে-ই বাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

এদিন এ উপলক্ষে সকাল থেকেই দলীয় নেতাকর্মীরা জিয়া উদ্যানে আসতে থাকেন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করায় দল থেকে বহিষ্কৃত সাইফুল আলম নীরবও বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।

দুপুর ১২টার দিকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রুহুল কবির রিজভী। সেই সময় পুরো এলাকায় নেতাকর্মীদের ভিড় জমে।

শ্রদ্ধা জানানোর পর প্রিয় নেতার রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।




স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার ও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন এর সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার সকালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর অফিসকক্ষে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক অংশীদারিত্ব এবং স্থানীয় সরকার ও উন্নয়ন খাতে সহযোগিতার বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

বৈঠকে পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং কৃষি কোল্ড স্টোরেজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান কাজে লাগানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, এসব ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হলে বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর ও টেকসই হবে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা জনগণের সরকার। আমরা জনগণের ক্ষমতায় বিশ্বাস করি। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মন্ত্রী আরও বলেন, নগর ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সুরক্ষায় কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

সাক্ষাতের শুরুতে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন মন্ত্রীকে তাঁর নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য শুভেচ্ছা জানান এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা তুলে ধরেন। তিনি এ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহও ব্যক্ত করেন।

আলোচনায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, প্রধানমন্ত্রী নিজেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। এ খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর গুরুত্বও তিনি তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থানীয় সরকার খাতেও নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করতে পারে বলে বৈঠকে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে।

দুই দেশের এই পারস্পরিক সহযোগিতা আগামী দিনে আরও গভীর ও ফলপ্রসূ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সাক্ষাৎকালে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব রফিকুল ই মোহামেদ এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।




স্বামীবাগে খাটের নিচে ৪ বিদেশি পিস্তল, গ্রেফতার ৬

রাজধানীর গেন্ডারিয়ার স্বামীবাগ করাতিটোলা এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে চারটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন ও ১২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে যাত্রাবাড়ী থানা-পুলিশ। এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সোমবার সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন মো. সজীব (২৮), মো. হিমু (৩২), মো. তুষার (২৫), মো. জয় (২৫), মো. টুটুল (৩৩) ও মো. ইমরান (৩৪)।

পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম থেকে একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে অবৈধ মাদক ঢাকায় আনা হচ্ছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ী থানা-পুলিশ মাতুয়াইল ইউটার্নসংলগ্ন মুক্তি পেট্রল পাম্পের সামনে চেকপোস্ট বসায়। পরে ঢাকা মেট্রো-গ-৩১-৩৬৪৬ নম্বরের একটি সাদা ব্যক্তিগত গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। গাড়িতে থাকা পাঁচজনকে আটক করা হলেও তাঁদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি।

জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা গেন্ডারিয়ার স্বামীবাগ করাতিটোলা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে মাদক থাকার কথা জানান। পরে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় সজীব ও হিমুর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ফ্ল্যাটের একটি কক্ষের খাটের নিচে রাখা প্লাস্টিকের ব্যাগ থেকে চারটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন ও ১২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে একটি ব্যক্তিগত গাড়ি ও ছয়টি স্মার্টফোনও জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার সজীবকে ওয়ারী বিভাগের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও অস্ত্র-মাদকের কারবারে জড়িত হিসেবে পরিচিত সজল ওরফে অটো সজলের ছোট ভাই বলে শনাক্ত করা হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য, গত ২ মার্চ অবৈধ মাদক উদ্ধারের অভিযানের সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক পরিদর্শককে গুলি করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ওয়ারী থানায় মামলা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে একটি ৯ এমএম পিস্তল, একটি ৩২ বোর রিভলবার, একটি ৭.৬৫ এমএম পিস্তল ও ২৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতার ব্যক্তিদের আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে ওই ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র সজল ওরফে অটো সজল সরবরাহ করেছিলেন বলে তথ্য পাওয়া যায়।

এরপর গত ১৮ জুন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ীর সায়েদাবাদ এলাকা থেকে সজলকে আটক করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গেন্ডারিয়ার স্বামীবাগে তাঁর ভাড়া বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে দুটি টরাস ব্র্যান্ডের পিস্তল, চারটি ম্যাগাজিন, ৭৭ রাউন্ড গুলি, ৫৯ গ্রাম হেরোইন, হেরোইন তৈরির উপকরণ, মাদক বিক্রির ২২ হাজার ৯৬০ টাকা ও চারটি ফোন উদ্ধার করা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ওই ঘটনায় গেন্ডারিয়া থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক দুটি মামলা করা হয়।

আজকের অভিযানে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের সঙ্গে আগের অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।




জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে চায় ভারত

ভারতীয় উপমহাদেশে আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখা (একিউআইএস) নতুন করে তৎপরতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে—জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক প্রতিবেদনে এমন উদ্বেগ প্রকাশের পর বাংলাদেশের সঙ্গে জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহের কথা জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

১৮ আগস্ট নয়াদিল্লিতে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, সন্ত্রাসবাদ ও জাতীয় নিরাপত্তা সবার জন্যই উদ্বেগের বিষয় হওয়া উচিত। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ একটি ‘সাধারণ অভিশাপ’ এবং এই সমস্যা মোকাবিলায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের আইএস ও আল-কায়েদা সংক্রান্ত অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিমের ৩৮তম প্রতিবেদনে একিউআইএসের সাম্প্রতিক তৎপরতার বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের আলোকে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কোনো দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া রয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল এসব মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশে ভারতের অর্থায়নে চলমান অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি ও স্থবিরতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জয়সওয়াল বলেন, পারস্পরিক স্বার্থ ও সমতার ভিত্তিতে ঢাকা ও নয়াদিল্লি একটি ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী।

তিস্তা নদীর পানিবণ্টন নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরুর বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো অনুরোধ এসেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, দুই দেশের অভিন্ন নদীসংক্রান্ত বিষয়গুলো বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর মধ্যেই আলোচনা করা হয়। এ ক্ষেত্রে যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) এবং নদীসংক্রান্ত অন্যান্য কারিগরি কমিটির কার্যক্রমের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।




আলোচিত নুসরাত হত্যা: ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা আসামিরা হলেন, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন ওরফে শামীম।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের বিপরীতে এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালতে আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, ব্যারিস্টার মাসুদ হোসেন দোলন, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির।

গত ২০ আগস্ট ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন), আপিল ও জেল আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদরাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। অগ্নিসন্ত্রাসের এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দেন। রায়ে বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। নুসরাত হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামি হলেন- সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদরাসার শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদরাসার ছাত্র নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান, মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মণি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিল।

ডেথ রেফারেন্সের জন্য নুসরাত হত্যা মামলার রায়সহ নথিপত্র ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এসে পৌঁছায়, যা ১৪০/১৯ ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নম্বরভুক্ত হয়। চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্সের জন্য পেপার বুক তৈরি করা হয়। আসামিরাও পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন।




বায়তুল মোকাররমে পবিত্র সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ১৪৪৮ হিজরি উদযাপন উপলক্ষে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে শুরু হচ্ছে ১৫ দিনব্যাপী সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠান। পক্ষকালব্যাপী এই অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বাদ মাগরিব বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব সাহানে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। আজ সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ১৪৪৮ হিজরি উদযাপন উপলক্ষে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে শুরু হবে পক্ষকালব্যাপী সীরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠানমালা। মঙ্গলবার বাদ মাগরিব মসজিদের পূর্ব সাহানে এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করা হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি অনুষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, সিরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত এই পক্ষকালব্যাপী অনুষ্ঠানে প্রতিদিন ব্যাপক কর্মসূচি থাকবে।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ওয়াজ-মাহফিল, কিরাত মাহফিল এবং হামদ-নাত। এ ছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ বেতারের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার, যা বাংলাদেশ বেতার থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

তা ছাড়া তরুণ প্রজন্মকে রাসুল (সা.)-এর জীবনাদর্শের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের জন্য থাকছে ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে রাসুল (সা.)-এর শানে স্বরচিত কবিতা পাঠের মাহফিল এবং ইসলামী ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনী। এ উপলক্ষে বিশেষ সিরাত স্মরণিকা ও ক্রোড়পত্র প্রকাশেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, আগামী ২৫ আগস্ট থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন বাদ মাগরিব থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বায়তুল মোকাররমের পূর্ব সাহানে দেশের প্রখ্যাত ওলামায়ে কেরাম ও পীর-মাশায়েখগণ ওয়াজ-নসিহত করবেন। এ ছাড়া বায়তুল মোকাররমের পূর্ব ও দক্ষিণ চত্বরে মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলার আয়োজন করা হয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের এই জ্ঞানগর্ভ অনুষ্ঠান ও বইমেলায় অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।