বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সংবাদ সম্মেলন

ডেস্ক নিউজঃ সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আজ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেছে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং।

সোমবার (২৫ মে) বিকেল ৩টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।




ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে নিহত ১৫

ডেস্ক নিউজঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এলেঙ্গায় রডবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে ১৫ জন নিহত হয়েছেন।

সোমবার (২৫ মে) ভোর ৪টার দিকে মহাসড়কের সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এলেঙ্গা ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ আতাউর রহমান ঘটনাস্থল থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ভোর ৪টার দিকে রডসহ যাত্রীবোঝাই করে একটি ট্রাক উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। পথে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে উল্টে যায় ট্রাকটি। এতে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ১৫ জন নিহত ও ৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

যমুনা সেতু পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফুয়াদ জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা একটি রডবোঝাই ট্রাকের ওপর যাত্রী নিয়ে উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। এসময় ওই এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটি মহাসড়কের পাশে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ১৫ জন নিহত হয়। আহত হয় বেশ কয়েকজন। আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের নাম-পরিচয় শনাক্ত চেষ্টা চলছে।




ঈদ-উল-আযহার প্রধান জামাত জাতীয় ঈদগাহে শুরু হবে সকাল সাড়ে ৭ টায়

ডেস্ক নিউজঃ আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।

সোমবার জাতীয় ঈদগাহের সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শনে এসে তিনি এ কথা বলেন। প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, ইতোমধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ঈদগাহের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। জাতীয় ঈদগাহে ময়দানের ৩৫ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল না থাকলে প্রধান জামাত সকাল ৮টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে স্থানান্তরিত করা হবে।

তিনি বলেন, জাতীয় ঈদগায়ে প্রবেশের পথ থাকবে চারটি, বের হওয়ার পথ থাকবে মোট সাতটি। ঈদের জামাতে জাতীয় ঈদগাহ প্রাঙ্গণ মোট ১২১টি কাতার করা হচ্ছে। পাশেই অজুখানা রাখা হয়েছে এখানে ১৪০ জন করে মুসল্লি একসঙ্গে অজু করতে পারবেন।

জাতীয় ঈদগাহে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত ফ্যান লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে, ভ্রাম্যমাণ টয়লেট রয়েছে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। সব মিলিয়ে জাতীয় ঈদগাহ সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে কাজ করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন।




রাজউকে যোগ দিয়েই ১৬ কোটি টাকার গোপন চুক্তি! যুগ্ম সচিব শামসুল আলমকে ঘিরে তোলপাড়

বিশেষ প্রতিবেদকঃ রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ— রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)—বরাবরই দুর্নীতি, টেন্ডার বাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে আলোচিত। কিন্তু এবার যেন সেই পুরোনো সব রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেলেন নবনিযুক্ত সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) শামসুল আলম।

দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক দিনের মধ্যেই কোটি কোটি টাকার রহস্যজনক “লোন চুক্তি”, সুদে-আসলে বিপুল অর্থ ফেরতের অঙ্গীকার এবং “কাজ দিয়ে টাকা পরিশোধের” প্রতিশ্রুতি ঘিরে তৈরি হয়েছে বিস্ময়, ক্ষোভ ও তীব্র প্রশ্ন।

অভিযোগ উঠেছে, চলতি মাসের ৩ তারিখে রাজউকের সদস্য হিসেবে বদলি হওয়ার পর থেকেই একের পর এক গোপন আর্থিক চুক্তিতে জড়িয়ে পড়েন এই যুগ্ম সচিব।

সংশ্লিষ্ট একাধিক নথিতে দেখা গেছে, তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ “লোন” হিসেবে নিয়েছেন। তবে এসব ঋণ কোনো সাধারণ আর্থিক লেনদেন নয়—বরং ভবিষ্যৎ দুর্নীতির অগ্রিম বন্দোবস্ত বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে করা চুক্তিতে শামসুল আলম ১৬ কোটি টাকা গ্রহণের বিপরীতে ১৮ মাস পর ২০ কোটি টাকা পরিশোধের অঙ্গীকার করেছেন।

আরেকটি চুক্তিতে ২৪ মাসে লভ্যাংশসহ ৫৬ কোটি টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এমন অন্তত চার থেকে পাঁচটি চুক্তিপত্র এখন ঘুরছে বিভিন্ন মহলে, যা নিয়ে রাজউকের অভ্যন্তরেও শুরু হয়েছে চাপা আলোচনা।

সবচেয়ে ভয়ংকর অভিযোগ হলো—ঋণ পরিশোধের পদ্ধতি নিয়েই। চুক্তিপত্রগুলোতে উল্লেখ রয়েছে, এই অর্থ “ক্যাশ অথবা কাজের মাধ্যমে” পরিশোধ করা হবে। অর্থাৎ সরকারি দায়িত্বে থেকে প্রকল্প, প্লট, বরাদ্দ কিংবা অন্যান্য প্রশাসনিক সুবিধা দিয়ে অর্থ শোধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি কেবল অনৈতিক নয়, বরং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে ভবিষ্যৎ দুর্নীতির লিখিত ঘোষণা।
প্রশ্ন উঠেছে—একজন সরকারি কর্মকর্তা, যিনি সদ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পেয়েছেন, তিনি হঠাৎ কেন শত কোটি টাকার দায়ে জড়াবেন? কী এমন জরুরি প্রয়োজন তৈরি হয়েছিল যে দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক দিনের মধ্যেই তাকে একের পর এক উচ্চসুদের আর্থিক চুক্তি করতে হলো ?

অভিযোগ রয়েছে, এই অর্থের একটি বড় অংশ ব্যয় হয়েছে রাজউকের গুরুত্বপূর্ণ পদটি “ম্যানেজ” করতেই। অর্থাৎ বদলি ও নিয়োগ প্রক্রিয়াতেই মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। আর সেই টাকা জোগাড় করতেই বিভিন্ন পক্ষের কাছ থেকে সুদে বিপুল অঙ্কের অর্থ ধার নিয়েছেন শামসুল আলম।

আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো—চুক্তির নিরাপত্তা হিসেবে তিনি বিভিন্ন পক্ষকে নিজের ব্যাংক হিসাবের ব্ল্যাংক চেক দিয়েছেন। এর মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংকের একটি স্বাক্ষরিত ফাঁকা চেকের কপিও ঘুরছে সংশ্লিষ্ট মহলে। একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার এমন আচরণ প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার চরম লঙ্ঘন বলে মনে করছেন অনেকে।

শামসুল আলমের অতীত নিয়েও উঠছে নানা প্রশ্ন। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি ধারাবাহিকভাবে “লাভজনক” ও “ধান্দাবাজির” পোস্টিং পেয়েছেন। প্রশাসনের ভেতরে তার পরিচিতি ছিল প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে। আর এখন দেশের সবচেয়ে বিতর্কিত ও দুর্নীতিপ্রবণ সংস্থাগুলোর একটি রাজউকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসেই যেন আরও বড় খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

এই চুক্তিপত্র ও আর্থিক সমঝোতা নিয়ে শামসুল আলমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।

সুশাসনকর্মীরা বলছেন, যদি অভিযোগগুলো সত্য হয়, তাহলে এটি শুধু একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত দুর্নীতির ঘটনা নয়; বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ আর্থিক অপরাধের ভয়াবহ নমুনা। একজন কর্মকর্তা দায়িত্ব গ্রহণের আগেই যদি “কাজ দিয়ে টাকা শোধের” প্রতিশ্রুতি দেন, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ কী হতে পারে—এ প্রশ্ন এখন।




হজে গিয়ে ২৮ বাংলাদেশির মৃত্যু

ডেস্ক নিউজঃ চলতি বছর পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে সৌদি আরবে এখন পর্যন্ত মোট ২৮ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী ইন্তেকাল করেছেন। মৃতদের মধ্যে ১৯ জন পুরুষ এবং ৯ জন নারী রয়েছেন। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, পবিত্র মক্কা নগরীতে ১৯ জন এবং মদিনা শরিফে ৯ জন হজযাত্রী শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। 

সোমবার (২৫ মে) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ হজ অফিসের পক্ষ থেকে যৌথভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

চলতি হজের প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যমতে, এ বছর বাংলাদেশ থেকে এখন পর্যন্ত সর্বমোট ৭৯ হাজার ১৬৪ জন হজযাত্রী ও হজের বিভিন্ন টিমের ব্যবস্থাপনা সদস্য সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।

এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনার অধীনে গেছেন ৪ হাজার ৪৬৪ জন এবং বিভিন্ন অনুমোদিত বেসরকারি এজেন্সির ব্যবস্থাপনায় গেছেন ৭৩ হাজার ৯২৬ জন। এ ছাড়া হজ এজেন্সি, হাব প্রতিনিধি এবং সরকারের বিভিন্ন কারিগরি ও প্রশাসনিক টিমের ব্যবস্থাপনা সদস্য রয়েছেন ৭৭৪ জন।

বাংলাদেশ থেকে এই বিশাল সংখ্যক হজযাত্রী পরিবহনে মোট ২০১টি বিশেষ ফ্লাইট সফলভাবে পরিচালনা করা হয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস একাই পরিচালনা করেছে ৯৮টি ফ্লাইট, সৌদি এয়ারলাইনস ৭৩টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ৩০টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।

তিন এয়ারলাইনসের যাত্রী বণ্টনের হিসাবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে গেছেন ৩৮৭০২ জন, সৌদি এয়ারলাইনসে ২৭ হাজার ৩৪০ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসে গেছেন ১২ হাজার ১৫৭ জন হজযাত্রী।

উল্লেখ্য, সৌদি আরবের নিয়ম ও পঞ্জিকা অনুযায়ী আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রীদের সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে বিমান যাত্রা শুরু হয়েছিল গত ১৮ এপ্রিল এবং হজের সর্বশেষ ফিরতি বা শেষ ফ্লাইটটি ঢাকা ত্যাগ করেছে গত ২১ মে। পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে হাজিদের নিয়ে বাংলাদেশে ফেরার প্রথম ফিরতি ফ্লাইট আগামী ৩০ মে শুরু হবে এবং ফিরতি এই কার্যক্রম আগামী ৩০ জুন পুরোপুরি শেষ হবে।




আজ মিলছে ঈদ ফেরত যাত্রার শেষ দিনের ট্রেন টিকিট

ডেস্ক নিউজঃ পবিত্র ঈদুল আজহা শেষে ঘরমুখো মানুষের ফেরার সুবিধার্থে আন্তঃনগর ট্রেনের আসনের টিকিট বিশেষ ব্যবস্থায় অগ্রিম হিসেবে বিক্রি করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। আজ বিক্রি করা হচ্ছে শেষ দিন, অর্থাৎ আগামী ৪ জুনের আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট।

সোমবার (২৫ মে) সকাল ৮টায় রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর আসনের টিকিট বিক্রি শুরু হবে। আর দুপুর ২টায় পূর্বাঞ্চলে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর আসনের টিকিট বিক্রি শুরু হবে। যাত্রীদের সুবিধার্থে এবারও শতভাগ আসনের টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হবে।

ঈদ উপলক্ষে রেলওয়ের নেওয়া কর্মপরিকল্পনা থেকে জানা গেছে, আন্তঃনগর ট্রেনের ৩১ মে’র আসনের টিকিট বিক্রি করা হয়েছে ২১ মে, ১ জুনের আসনের টিকিট বিক্রি করা হয়েছে ২২ মে, ২ জুনের আসনের টিকিট বিক্রি করা হয়েছে ২৩ মে এবং ৩ জুনের আসনের টিকিট বিক্রি করা হয়েছে ২৪ মে।

আরও জানা গেছে, এ সময়ে কেনা টিকিট যাত্রীরা রেলওয়েকে ফেরত দিতে পারবেন না। প্রতিজন টিকিটপ্রত্যাশী একবারে সর্বোচ্চ চারটি আসনের টিকিট কিনতে পারবেন। একটির বেশি আসনের টিকিট কিনলে সহযাত্রীদের নাম টিকিট কেনার সময় উল্লেখ করতে হবে।




জাতীয় পার্টি, ঢাকা মহানগর উত্তর-এর পূর্ণাঙ্গ আহবায়ক কমিটি অনুমোদিত।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আজ ২৪ মে, ২০২৬ রবিবার। জাতীয় পার্টির মাননীয় চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের, মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী’র সুপারিশে পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত করে এ এন এম রফিকুল ইসলাম সেলিম-কে আহবায়ক ও মোঃ নজরুল ইসলাম সরদার-কে সদস্য সচিব করে ১৫১ (একশত একান্ন) সদস্য বিশিষ্ট জাতীয় পার্টি, ঢাকা মহানগর উত্তর-এর পূর্নাঙ্গ আহবায়ক কমিটি অনুমোদন করেছেন।

যা ইতোমধ্যে কার্যকর করা হয়েছে।




শিশু শিক্ষার্থী রমিসা সহ দেশব্যাপী ধর্ষণ,হত্যা, নারী শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদ এবং অপরাধদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যু দন্ডের দাবীতে জাতীয় ছাত্র সমাজের আয়োজনে মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আজ ২৪ মে ২০২৬, রবিবার, সকাল ১০. ০০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয় ছাত্র সমাজের আয়োজনে শিশু শিক্ষার্থী রমিসা সহ দেশব্যাপী ধর্ষণ,হত্যা, নারী শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদ এবং অপরাধদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যু দন্ডের দাবীতে মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বক্তব্য প্রদান করেন।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আবদুস সবুর আসুদ, এ্যাড মোঃ রেজাউল ইসলাম ভূঞা, আলমগীর সিকদার লোটন, এমরান হোসেন মিয়া, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মোঃ খলিলুর রহমান খলিল, ভাইস চেয়ারম্যান আমির উদ্দিন আহমেদ ডালু, আব্দুল হামিদ ভাসানী, সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান মিরু, সমরেশ মন্ডল মানিক, নজরুল ইসলাম সরদার, আরিফুল ইসলাম রুবেল, কিশোর মবিন, মাহমুদ আলম, আসাদুজ্জামান খান, মহিলা পার্টির নেত্রী জেসমিন নূর প্রিয়াংকা, রীতু নূর, মনিকা আলম, ছাত্র সমাজের আল-আমিন সরকার, আরিফ আলী প্রমুখ।




ট্রাম্প কি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে হেরে যাচ্ছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই নিজেকে সফল ও জয়ী হিসেবে দাবি করে আসছেন। কিন্তু সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ঘুরে ফিরে এই প্রশ্নই আসছে যে, তিনি কি এই যুদ্ধে আসলেও জয়ী হয়েছেন নাকি হেরে যাচ্ছেন? 

হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণ নিয়ে আপস না করা এবং তাদের বহু শীর্ষ নেতা নিহত হওয়ার পরেও দেশের নেতৃত্বে সবার অবিচল অবস্থান ও এক্যের কারণে এই সন্দেহ ক্রমশ বাড়ছে যে, ট্রাম্প মার্কিন সামরিক বাহিনীর কৌশলগত সাফল্যগুলোকে এমন কোনো ফলাফলে রূপান্তরিত করতে পারবেন কি না, যাকে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে ভূ-রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে তুলে ধরতে পারেন।

কিছু বিশ্লেষকের মতে, তার বারবার করা পূর্ণ বিজয়ের দাবি অন্তঃসারশূন্য মনে হচ্ছে, কারণ দুই পক্ষই অনিশ্চিত কূটনীতি এবং হামলা পুনরায় শুরু করার হুমকির মধ্যে দোদুল্যমান, যা নিশ্চিতভাবেই এই অঞ্চলজুড়ে ইরানের পাল্টা প্রতিশোধের কারণ হবে।

যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব দিলো ইরান
ট্রাম্পের জন্য এখন এই ঝুঁকি তৈরি হয়েছে যে, এই সংঘাত থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার উপসাগরীয় আরব মিত্ররা আরও ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় বেরিয়ে আসবে। অন্যদিকে ইরান সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়ার পরেও আরও বেশি সুবিধা পেতে পারে, কারণ তারা দেখিয়েছে যে, তারা বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ বাধাগ্রস্ত করতে সক্ষম। তারা হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপের কারণে সারাবিশ্বেই জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে অবরোধে বড় সংকটে বিশ্ব
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি বৈশ্বিক সার সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সাধারণত বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সার এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। উপসাগরীয় দেশগুলো বিশ্বে ব্যবহৃত ইউরিয়ার ৪১ শতাংশ রপ্তানি করে। এছাড়া তারা অ্যামোনিয়া, ফসফেট শিলা ও সালফারেরও বড় অংশ সরবরাহ করে, যা কৃষির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে নাইট্রোজেন ইউরিয়ার দাম প্রায় ৮০ শতাংশ বেড়েছে। ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এত বেশি দাম আর দেখা যায়নি।

জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, এই সরবরাহ ব্যাহত অবস্থা চলতে থাকলে আরও প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ খাদ্য সংকটে পড়তে পারে। এতে বিশ্বজুড়ে খাদ্য ঘাটতির মুখে থাকা মানুষের সংখ্যা রেকর্ড ৩৬ কোটি ৩০ লাখে পৌঁছাতে পারে। যুক্তরাজ্য সতর্ক করেছে যে, ইরানের হরমুজ প্রণালি অবরোধ বৈশ্বিক খাদ্য সংকট তৈরি করতে পারে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুপার বলেছেন, বিশ্ব ধীরে ধীরে একটি বড় সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, অথচ অনেকেই তা বুঝতে পারছে না। তিনি আহ্বান জানিয়েছেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সারবাহী জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে চলাচলের সুযোগ দিতে হবে।

কৌশলগত ব্যর্থতা
সংকট এখনো শেষ হয়নি এবং কিছু বিশেষজ্ঞ এই সম্ভাবনাও খোলা রেখেছেন যে, আলোচনা যদি ট্রাম্পের অনুকূলে যায়, তবে তিনি হয়তো এখনো সম্মানজনক কোনো পথ খুঁজে নিতে পারেন।

কিন্তু অন্যরা ট্রাম্পের জন্য যুদ্ধ-পরবর্তী এক ভয়াবহ পরিস্থিতির পূর্বাভাস দিচ্ছেন। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট প্রশাসনের সাবেক মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক আলোচক অ্যারন ডেভিড মিলার বলেন, তিন মাস কেটে গেছে এবং মনে হচ্ছে যে এই যুদ্ধ ট্রাম্পের জন্য একটি স্বল্পমেয়াদী বিজয় হিসেবে পরিকল্পিত হয়েছিল কিন্তু তা একটি দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত ব্যর্থতায় পরিণত হচ্ছে।

ট্রাম্পের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কারণ তিনি পরাজয় মেনে নিতে অভ্যস্ত নন এবং তিনি সব সময় তার বিরোধিদেরই পরাজিত বলে উল্লেখ করতে পছন্দ করেন। ইরান সংকটে তিনি নিজেকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে এমন এক দ্বিতীয় সারির শক্তির বিরুদ্ধে লড়তে দেখছেন, যারা নিজেদের সুবিধাজনক অবস্থানে আছে বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই উভয়সংকট ট্রাম্পকে এমন যেকোনো আপসের বিরোধিতা করতে আরও বেশি উৎসাহিত করতে পারে, যা তার চরমপন্থি অবস্থান থেকে পিছু হটা বা ইরানের সঙ্গে ২০১৫ সালের ওবামা আমলের পারমাণবিক চুক্তির পুনরাবৃত্তির মতো মনে হতে পারে। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ওই চুক্তি বাতিল করেছিলেন। হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’তে তাদের সব সামরিক লক্ষ্য পূরণ করেছে বা ছাড়িয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতেই সব ক্ষমতা এবং তিনি বিচক্ষণতার সঙ্গে সব বিকল্প খোলা রেখেছেন।

চাপ ও হতাশা
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য প্রচারণায় অপ্রয়োজনীয় সামরিক হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে এমন এক জটিলতায় জড়িয়ে ফেলেছেন যা তার পররাষ্ট্রনীতির রেকর্ড এবং বিদেশে তার বিশ্বাসযোগ্যতার দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি করতে পারে।

নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই অজনপ্রিয় যুদ্ধে নামার পর যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের উচ্চ মূল্য এবং নিম্ন জনসমর্থন নিয়ে অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে পড়ার মধ্যেই এই চলমান অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। তার রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।

ফলস্বরূপ যুদ্ধবিরতির ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় পর কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, ট্রাম্প একটি কঠিন পছন্দের মুখোমুখি: একটি সম্ভাব্য ত্রুটিপূর্ণ চুক্তিকে পরিত্রাণের পথ হিসেবে গ্রহণ করা অথবা সামরিকভাবে পরিস্থিতি আরও বাড়িয়ে দিয়ে আরও দীর্ঘ সংকটের ঝুঁকি নেওয়া। কূটনীতি ব্যর্থ হলে তার হাতে থাকা বিকল্পগুলোর মধ্যে একটি হতে পারে, কয়েকটি তীব্র কিন্তু সীমিত হামলা চালানো, সেটিকে চূড়ান্ত বিজয় হিসেবে তুলে ধরা এবং সামনে এগিয়ে যাওয়া।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আরেকটি সম্ভাবনা হলো ট্রাম্প আলোচনার মোড় ঘুরিয়ে এবং তুলনামূলকভাবে সহজ একটি জয় ছিনিয়ে নেওয়ার আশায় যেমনটা তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে কিউবার দিকে মনোযোগ সরানোর চেষ্টা করতে পারেন।

যদি তাই হয়, তাহলে হাভানার সৃষ্ট চ্যালেঞ্জগুলো তিনি ভুলভাবে বিচার করতে পারেন; ঠিক যেমন ট্রাম্পের কিছু সহযোগী ব্যক্তিগতভাবে স্বীকার করেন যে, তিনি ভুল করে ভেবেছিলেন ইরান অভিযানটি ৩ জানুয়ারির সেই অভিযানের মতো হবে, যে অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছিল। তারপরেও ট্রাম্পের সমর্থকের অভাব নেই।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের সিনিয়র উপদেষ্টা এবং বর্তমানে আমেরিকান গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিস কনসালটেন্সির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলেকজান্ডার গ্রে এই ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছেন যে, প্রেসিডেন্টের ইরান অভিযান কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেছেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতার ওপর এই মারাত্মক আঘাতটি নিজেই একটি ‘কৌশলগত সাফল্য’, এই যুদ্ধ উপসাগরীয় দেশগুলোকে চীনের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আরও কাছে নিয়ে এসেছে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভাগ্য এখনো নির্ধারিত হয়নি।

তবে ঘটনার বিবরণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারার কারণে ট্রাম্পের হতাশার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তিনি তার সমালোচকদের তীব্রভাবে আক্রমণ করেছেন এবং সংবাদমাধ্যমকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতার’ অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করার সময় ট্রাম্প যে সর্বোচ্চ ছয় সপ্তাহের সময়সীমা নির্ধারণ করেছিলেন, এই সংঘাত তার দ্বিগুণ সময় ধরে চলেছে। তারপর থেকে যদিও তার রাজনৈতিক সমর্থক গোষ্ঠী এই যুদ্ধে তার পাশে দাঁড়িয়েছে, রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের কাছ থেকে তার একসময়ের প্রায় সর্বসম্মত সমর্থনে ফাটল দেখা দিয়েছে।

শুরুতে একের পর এক বিমান হামলা দ্রুত ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত হ্রাস করে, দেশটির নৌবাহিনীর বেশিরভাগ অংশ ডুবিয়ে দেয় এবং অনেক শীর্ষ নেতাকে হত্যা করা হয়। কিন্তু তেহরান এর জবাবে হরমুজ প্রণালি অবরোধ করে। ফলে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়ে যায় এবং ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা চালায়।

এরপর ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধের নির্দেশ দেন, কিন্তু সেটাও তেহরানকে তার ইচ্ছার কাছে নতি স্বীকার করাতে ব্যর্থ হয়েছে। ট্রাম্পের বিজয়োল্লাসপূর্ণ দাবির জবাবে ইরানের নেতারাও তাদের নিজস্ব প্রচারণায় তার অভিযানকে একটি ‘চরম পরাজয়’ হিসেবে চিত্রিত করেছেন।

পরিবর্তনশীল লক্ষ্য এখনো অপূর্ণ
ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধে যাওয়ার ক্ষেত্রে তার উদ্দেশ্য হলো ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথ বন্ধ করে দেওয়া, এই অঞ্চল ও মার্কিন স্বার্থের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ানোর ক্ষমতা শেষ করা এবং ইরানিদের জন্য তাদের শাসকদের উৎখাত করা সহজ করে দেওয়া।

এই পরিবর্তনশীল লক্ষ্যগুলো অর্জিত হয়েছে এমন কোনো লক্ষণ নেই এবং অনেক বিশ্লেষক বলছেন, সেগুলো অর্জিত হওয়ার সম্ভাবনাও কম।

মধ্যপ্রাচ্যের সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জোনাথন প্যানিকফ বলেছেন, যদিও ইরান মারাত্মক আঘাত পেয়েছে, দেশটির শাসকরা মার্কিন হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া এবং উপসাগরীয় নৌপরিবহনের ওপর তারা কতটা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে তা জানতে পারাকেই একটি সাফল্য বলে মনে করে।

বর্তমানে আটলান্টিক কাউন্সিল থিঙ্ক ট্যাঙ্কে কর্মরত প্যানিকফ বলেন, তারা যা আবিষ্কার করেছে তা হলো, তারা সেই প্রভাব খাটাতে পারে এবং এর জন্য তাদের তেমন কোনো পরিণতির সম্মুখীন হতে হয় না। তিনি আরও যোগ করেনছেন যে, ইরান আত্মবিশ্বাসী বলে মনে হচ্ছে। কারণ তারা ট্রাম্পের চেয়ে বেশি অর্থনৈতিক যন্ত্রণা সহ্য করতে এবং তার পরেও টিকে থাকতে পারবে। ট্রাম্পের ঘোষিত প্রধান যুদ্ধ লক্ষ্য—ইরানের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ এখনো অপূর্ণ রয়ে গেছে এবং তেহরান এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো আগ্রহ দেখায়নি।

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর বিরোধ প্রকাশ্যে
ইরান যুদ্ধ কীভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে, তা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে সম্প্রতি উত্তেজনাপূর্ণ ফোনালাপ হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে সিএনএনকে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। এর আগে ট্রাম্প জানান, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালানোর পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে পারেন।

তবে সেই কথোপকথনের প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর ট্রাম্প ঘোষণা দেন, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় মিত্রদের অনুরোধে পরিকল্পিত হামলা স্থগিত করা হচ্ছে। এরপর থেকে উপসাগরীয় দেশগুলো হোয়াইট হাউজ ও পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে কূটনৈতিক আলোচনার একটি কাঠামো তৈরির চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন ওই মার্কিন কর্মকর্তা ও পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত আরেক ব্যক্তি।

গত সপ্তাহে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, আমরা ইরান ইস্যুর একেবারে শেষ পর্যায়ে আছি। কী হয়, দেখা যাক। সে সময় তিনি আরও বলেন, হয় আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাবো, নয়তো কিছুটা কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে আশা করি, সেটা করতে হবে না।

চলমান আলোচনা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে হতাশ করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তা ও ইসরায়েলি সূত্রগুলোর মতে, নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরেই তেহরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থানের পক্ষে ছিলেন। তার মতে, দেরি হলে লাভবান হবে কেবল ইরানই।

ট্রাম্পকে নিজের হতাশার কথা জানিয়েছেন নেতানিয়াহু। তিনি ট্রাম্পকে জানিয়েছেন যে, পরিকল্পিত হামলা পিছিয়ে দেওয়া ভুল সিদ্ধান্ত এবং প্রেসিডেন্টের উচিত আগের পরিকল্পনামতো এগিয়ে যাওয়া। প্রায় এক ঘণ্টার ওই ফোনালাপে নেতানিয়াহু সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর পক্ষে জোর দেন বলে জানিয়েছেন আলোচনার সঙ্গে পরিচিত একটি ইসরায়েলি সূত্র। এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই পক্ষের অবস্থানের পার্থক্য স্পষ্ট ছিল। ট্রাম্প দেখতে চান চুক্তি সম্ভব কি না, কিন্তু নেতানিয়াহু ভিন্ন কিছু প্রত্যাশা করেছেন।

ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা কমাতে সিনেটে উদ্যোগ
সম্প্রতি মার্কিন সিনেট এমন একটি ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজ্যুলেশন’ এগিয়ে নিয়েছে, যা পাস হলে ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে পারবেন না।

প্রস্তাবটি এগিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াগত ভোটে ৫০-৪৭ ব্যবধানে অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে কয়েকজন রিপাবলিকান সিনেটরও ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দেন, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য বিরল রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া এবং ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেও সংঘাত না থামায় রিপাবলিকানদের একটি অংশ ক্রমেই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছে।

ভোটের আগে ডেমোক্র্যাট সিনেট নেতা চাক শুমার বলেন, এই প্রেসিডেন্ট যেন লোড করা বন্দুক হাতে থাকা এক শিশুর মতো আচরণ করছেন। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত থেকে সেনা প্রত্যাহারের পক্ষে আমাদের প্রস্তাব সমর্থনের এটাই সঠিক সময়।

এই ভোটকে কংগ্রেসের সাংবিধানিক ক্ষমতার পক্ষে একটি জয় হিসেবেও দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, যুদ্ধ ঘোষণা ও সেনা পাঠানোর ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকার কথা। তবে এটি এখনো কেবল প্রাথমিক বা প্রক্রিয়াগত ভোট। প্রস্তাবটি কার্যকর হতে হলে আরও কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে।

১০০ সদস্যের সিনেটে চূড়ান্ত ভোটে পাস হলেও এটি রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদে অনুমোদন পেতে হবে। এরপর ট্রাম্প ভেটো দিলে সেই ভেটো বাতিল করতে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ—উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন হবে। এর আগে চলতি বছর একই ধরনের সাতটি প্রস্তাব সিনেটে আটকে দিয়েছিল ট্রাম্পের রিপাবলিকান। প্রতিনিধি পরিষদেও তিনটি প্রস্তাব অল্প ব্যবধানে নাকচ হয়।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, কূটনৈতিক সমাধানের জন্য ‘আমাদের পক্ষ থেকে সব পথ খোলা আছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, জোরপূর্বক ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা একটি অলীক কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়।

ইরানের নতুন পারস্য উপসাগরীয় প্রণালি কর্তৃপক্ষ হরমুজ প্রণালিতে একটি ‘তত্ত্বাবধান এলাকা’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে। সেখানে যাতায়াতের জন্য অনুমতিপত্র প্রয়োজন হবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া যাতায়াত অবৈধ বলে গণ্য হবে।

সূত্র: সিএনএন, রয়টার্স, আল জাজিরা




আড়াই ঘণ্টা বিলম্বে বুড়িমারী এক্সপ্রেস, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

ডেস্ক নিউজঃ ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে লালমনিরহাটগামী বুড়িমারী এক্সপ্রেস আড়াই ঘণ্টা বিলম্বে ছাড়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে স্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

রবিবার সকাল সাড়ে ৮টায় ট্রেনটির কমলাপুর স্টেশন ছাড়ার নির্ধারিত সময় ছিল। নির্ধারিত সময়ে ট্রেনটি না ছাড়াই যাত্রীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ে। এতে স্টেশনে অপেক্ষমাণ প্রচণ্ড গরমের মধ্যে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন।

জানা গেছে, ইঞ্জিনের জটিলতার কারণে ট্রেনটি সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে ছেড়ে যায়।

এর আগে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন গন্তব্যের আন্তঃনগর ট্রেনগুলো সময়মতো ছেড়ে গেলেও বুড়িমারী এক্সপ্রেসের যাত্রীরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় ছিলেন।

ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ডেও অনেকক্ষণ ট্রেনটির প্ল্যাটফর্ম সংক্রান্ত কোনো তথ্য দেখানো হয়নি। এতে যাত্রীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা ও অসন্তোষ বাড়তে থাকে।

এ বিষয়ে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. কবীর উদ্দীন বলেন, লালমনিরহাট থেকে ঢাকায় আসার পথে বগুড়ার একটি এলাকায় ট্রেনটির ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দেয়। এজন্য ট্রেন ছাড়তে দেরি হচ্ছে। চলন্ত ট্রেনের ইঞ্জিনে সমস্যা হলে তাৎক্ষণিকভাবে সেটি সমাধান করতে কিছুটা সময় লাগে।