নিয়োগ জালিয়াতি থেকে অর্থ আত্মসাৎ: সুবিদখালী সরকারি ডিগ্রি কলেজে নিরীক্ষায় ভয়াবহ অনিয়ম উন্মোচন

এসএম বদরুল আলমঃ পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী সরকারি ডিগ্রি কলেজ-এ দীর্ঘদিন ধরে চলা নিয়োগ জালিয়াতি, আর্থিক অনিয়ম, টিউশন ফি আত্মসাৎ, ভুয়া ব্যয় দেখিয়ে অর্থ লোপাট এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি গোপনের বিস্ময়কর তথ্য উঠে এসেছে শিক্ষা অধিদপ্তরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে কলেজটির উপাধ্যক্ষ মোঃ আছাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে, যা স্থানীয় শিক্ষা অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। শিক্ষা অধিদপ্তরের শিক্ষা পরিদর্শক মাহমুদুল হাসান, সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম এবং অডিট অফিসার চন্দন কুমার দেব গত ২৮ ও ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে কলেজটিতে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। পরবর্তীতে প্রকাশিত নিরীক্ষা প্রতিবেদনে কলেজটির আর্থিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে ভয়াবহ অনিয়মের বিস্তারিত চিত্র উঠে আসে।

ফল প্রকাশের আগেই নিয়োগ, প্রশ্নের মুখে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া : নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়, মোঃ আছাদুজ্জামান ৮ জুন ১৯৯৭ সালে জীববিদ্যা বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। কিন্তু নিয়োগ সংক্রান্ত নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, আবেদন করার সময় তার এমএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়নি। আবেদনপত্রে তিনি নিজেই “ফলাফল অপ্রকাশিত” উল্লেখ করেছিলেন। বিধি অনুযায়ী চূড়ান্ত ফলাফল ছাড়া আবেদন গ্রহণযোগ্য না হলেও রহস্যজনকভাবে তার আবেদন বাতিল করা হয়নি। বরং তৎকালীন গভর্নিং বডির যোগসাজশে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

শুধু তাই নয়, পরবর্তীতে ১ জানুয়ারি ২০১১ সালে উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রশ্ন ওঠে। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রভাষক পদে নিয়োগই যেখানে বিধিসম্মত হয়নি, সেখানে উপাধ্যক্ষ পদে আবেদনও বাতিলযোগ্য ছিল। কিন্তু তা না করে তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়।

অবৈধ নিয়োগে ৬৮ লাখ টাকার বেতন-ভাতা গ্রহণ :
নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রভাষক হিসেবে ১ আগস্ট ১৯৯৭ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০১০ পর্যন্ত তিনি ১০ লাখ ২৫ হাজার ৮৪৭ টাকা এবং উপাধ্যক্ষ হিসেবে ১ জানুয়ারি ২০১১ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ পর্যন্ত ৫৭ লাখ ৭৯ হাজার ৬৫০ টাকা বেতন-ভাতা গ্রহণ করেন।

সব মিলিয়ে ৬৮ লাখ ৫ হাজার ৪৯৭ টাকা সরকারি অর্থ গ্রহণের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে এই অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে তার বেতন-ভাতা বন্ধের সুপারিশও করা হয়।

সরকারিকরণের পরও টিউশন ফি জমা হয়নি কোষাগারে :
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১২ আগস্ট ২০১৮ তারিখের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কলেজটি সরকারিকরণ করা হয়। বিধি অনুযায়ী ওই সময় থেকে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত টিউশন ফি সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও দীর্ঘ সময় তা জমা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। নিরীক্ষায় দেখা যায়, ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৪০০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হলেও পূর্ববর্তী বছরের বিপুল পরিমাণ টিউশন ফির অর্থ জমা হয়নি।

এ বিষয়ে উপাধ্যক্ষ আছাদুজ্জামান নিরীক্ষক দলকে জানান, “টাকা কলেজ তহবিলে সংরক্ষিত রয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি।” তবে নিরীক্ষকরা তার বক্তব্যে সন্তুষ্ট হতে পারেননি।

বোর্ডের ফেরত দেওয়া টাকাও পেল না শিক্ষার্থীরা : নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, উচ্চ মাধ্যমিক বোর্ড পরীক্ষা-২০২০ এর ফরম পূরণ ফি বাবদ শিক্ষা বোর্ড থেকে ফেরত পাওয়া ১ লাখ ৩৮ হাজার ২৪০ টাকা ক্যাশ বইয়ে আয় হিসেবে দেখানো হলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেই অর্থ ফেরত বিতরণ করা হয়নি।

এছাড়া কলেজ সরকারিকরণের সময় ডিড অব গিফটে উল্লেখিত ২৭ লাখ ৭৬ হাজার ৬৪৩ টাকা ২১ পয়সা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে সংরক্ষিত থাকার কথা থাকলেও তা সরকারি কোষাগারে জমা হয়নি। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও আনা হয়েছে।

ক্যাশ বইয়ে আয়, ব্যাংকে জমার তথ্য নেই : নিরীক্ষায় কলেজের ক্যাশ বই ও ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা করে একাধিক অসঙ্গতি পাওয়া যায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬-২০১৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত ১ লাখ টাকা ক্যাশ বইয়ে আয় হিসেবে দেখানো হলেও ব্যাংকে জমার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে ১৪ জুন ২০১৭ তারিখে ছাত্র বেতন বাবদ আদায়কৃত ৮৫ হাজার ১০০ টাকাও ব্যাংকে জমা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া সোনালী সেবা ফি বাবদ আদায়কৃত অর্থ এবং ব্যয়ের হিসাবেও গরমিল পাওয়া গেছে। প্রশংসাপত্র ফি বাবদ আদায়কৃত ৫৩ হাজার টাকা ক্যাশ বইয়ে দেখানো হলেও ব্যাংকে জমার কোনো তথ্য মেলেনি।

ভুয়া ব্যয় দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ :
নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অনার্স প্রথম বর্ষ পরীক্ষার ফি থেকে ৫ লাখ ১ হাজার ১৭৫ টাকা নির্মাণ কাজে ব্যয়ের তথ্য দেখানো হলেও সংশ্লিষ্ট খাতের সঠিক হিসাব পাওয়া যায়নি।

গভর্নিং বডির সভা, সম্মানী ভাতা, আপ্যায়ন বিল ও যাতায়াত ব্যয়ের ক্ষেত্রেও যথাযথ ভাউচার ও নথিপত্র উপস্থাপন করতে পারেনি কলেজ কর্তৃপক্ষ। এমনকি করোনাকালীন লকডাউনের সময়ও পুকুরপাড় সংস্কার, মেহমান আপ্যায়ন ও অন্যান্য খাতে ব্যয়ের তথ্য দেখানো হয়েছে। তবে সেই ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিরীক্ষকরা।

গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র গোপনের অভিযোগ : নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ভর্তি, ফরম পূরণ, টিউশন ফি, পরীক্ষার আয়-ব্যয়ের রেজিস্টার, রশিদ ও বিভিন্ন আর্থিক নথিপত্র নিরীক্ষক দলকে দেখানো হয়নি। পরে সরবরাহ করার কথা বলা হলেও সেগুলো জমা দেওয়া হয়নি। এছাড়া বিএম শাখার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রি কার্ড বিতরণের সময় শিক্ষার্থীপ্রতি ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে সেই অর্থ ব্যাংকে জমা বা ব্যয়ের কোনো বৈধ নথি পাওয়া যায়নি।

‘ভুল বোঝাবুঝি’ দাবি অভিযুক্ত উপাধ্যক্ষের : অভিযোগের বিষয়ে উপাধ্যক্ষ মোঃ আছাদুজ্জামান বলেন,
“কিছু অর্থ কলেজ তহবিলে সংরক্ষিত রয়েছে। অনেক বিষয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লিখিত অনিয়ম ও আর্থিক অসঙ্গতি নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে শিক্ষা অডিট অধিদপ্তর অডিট কমপ্লেক্স কর্তৃক ৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে আছাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে প্রায় ৫ কোটি টাকার দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পত্র পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্ফোরক তথ্য থাকছে প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্বে।




ময়মনসিংহের পথে প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকীতে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন এবং খাল পুনঃখননের উদ্দেশ্যে ময়মনসিংহের ত্রিশালের পথে যাত্রা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (২৩ মে) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সফরসঙ্গীদের নিয়ে সড়কপথে রওনা দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে নজরুলজয়ন্তী উৎসবের উদ্বোধন করবেন এবং সরকারি নজরুল একাডেমি মাঠের ঐতিহ্যবাহী নজরুল মঞ্চে বক্তব্য দেবেন।

প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে প্রস্তুত করা হয়েছে ত্রিশালের নজরুল মঞ্চ। জন্মজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে সাজানো হয়েছে পুরো মঞ্চ ও আশপাশের এলাকা। আলোকসজ্জা, নান্দনিক সাজসজ্জা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এরই মধ্যে নতুন রূপ পেয়েছে অনুষ্ঠানস্থল।

এরপর বিকেল ৫টায় ত্রিশাল নজরুল অডিটোরিয়ামে ময়মনসিংহ উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন তিনি। সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।




রবিবার থেকে চলবে ‘ঈদ স্পেশাল’ ট্রেন, জেনে নিন সময়সূচি

ডেস্ক নিউজঃ আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা সহজ করতে ১০টি ‘ঈদ স্পেশাল’ ট্রেন চালানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। রবিবার (২৪ মে) থেকে শুরু হওয়া এসব বিশেষ ট্রেন ঈদের আগে ও পরে নির্ধারিত রুটে চলাচল করবে। চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, দেওয়ানগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও পার্বতীপুরসহ বিভিন্ন গন্তব্যে চলবে ট্রেনগুলো।

রেলওয়ের বিশেষ ট্রেন চলাচলের সূচি অনুযায়ী, চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে চলাচল করবে ‘চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল-১ ও ২’। ট্রেন দুটি ঈদের আগে ২৫ থেকে ২৭ মে এবং ঈদের পরে ৩০ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত চলবে। এর মধ্যে চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল-১ চট্টগ্রাম থেকে বিকেল সাড়ে ৩টায় ছেড়ে চাঁদপুর পৌঁছাবে রাত ৮টা ২০ মিনিটে। আর চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল-২ চাঁদপুর থেকে ভোর ৪টায় ছেড়ে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে।

তিস্তা ঈদ স্পেশাল-৩ ও ৪ ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা রুটে চলাচল করবে। ট্রেন দুটি ঈদের আগে ২৫ থেকে ২৭ মে এবং ঈদের পরে ৩০ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত চলবে। তিস্তা ঈদ স্পেশাল-৩ ঢাকা থেকে সকাল সাড়ে ৯টায় ছেড়ে দেওয়ানগঞ্জ পৌঁছাবে বিকাল ৪টা ১০ মিনিটে। আর তিস্তা ঈদ স্পেশাল-৪ দেওয়ানগঞ্জ থেকে বিকাল সাড়ে ৪টায় ছেড়ে ঢাকা পৌঁছাবে রাত ১০টা ২০ মিনিটে।

শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল-৫ ও ৬ ভৈরববাজার-কিশোরগঞ্জ-ভৈরববাজার রুটে চলাচল করবে। ট্রেন দুটি শুধু ঈদের দিন চলবে। শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল-৫ ভৈরববাজার থেকে ভোর ৬টায় ছেড়ে কিশোরগঞ্জ পৌঁছাবে সকাল ৮টায়। আর শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল-৬ কিশোরগঞ্জ থেকে বেলা ১২টায় ছেড়ে ভৈরববাজার পৌঁছাবে দুপুর ২টায়।

এছাড়া শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল-৭ ও ৮ ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ রুটে চলাচল করবে। ট্রেন দুটি শুধু ঈদের দিন চলবে। শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল-৭ ময়মনসিংহ থেকে ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে কিশোরগঞ্জ পৌঁছাবে সকাল সাড়ে ৮টায়। আর শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল-৮ কিশোরগঞ্জ থেকে বেলা ১২টায় ছেড়ে ময়মনসিংহ পৌঁছাবে দুপুর ৩টায়।

পার্বতীপুর ঈদ স্পেশাল-৯ ও ১০ জয়দেবপুর-পার্বতীপুর-জয়দেবপুর রুটে চলাচল করবে। ট্রেন দুটি ঈদের আগে ২৪ থেকে ২৬ মে এবং ঈদের পরে ৩০ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত চলবে। ঈদের আগে পার্বতীপুর ঈদ স্পেশাল-৯ জয়দেবপুর থেকে সন্ধ্যা ৭টায় ছেড়ে পার্বতীপুর পৌঁছাবে রাত আড়াইটায়। আর পার্বতীপুর ঈদ স্পেশাল-১০ পার্বতীপুর থেকে সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে জয়দেবপুর পৌঁছাবে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে।

তবে ঈদের পর পার্বতীপুর ঈদ স্পেশাল-৯ জয়দেবপুর থেকে সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে পার্বতীপুর পৌঁছাবে দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে। আর পার্বতীপুর ঈদ স্পেশাল-১০ পার্বতীপুর থেকে রাত ১০টা ২০ মিনিটে ছেড়ে জয়দেবপুর পৌঁছাবে ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে।




ধর্ষণ-নির্যাতন বাড়ছে শিশুদের ওপর, ইউনিসেফের গভীর উদ্বেগ

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশে সম্প্রতি শিশু ও নারীদের ওপর নির্মম সহিংসতা, ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)। বিশেষ করে যে জায়গাগুলোতে শিশুরা নিরাপদ থাকার কথা, সেখানেই তারা নির্মমতার শিকার হচ্ছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। গতকাল এক বিবৃতিতে ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, শিশুদের ওপর এই বর্বরতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।

বিবৃতিতে রানা ফ্লাওয়ার্স উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের শুরু থেকে বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের ওপর যৌন ও পাশবিক সহিংসতা বৃদ্ধির খবর পাওয়া যাচ্ছে। এটি দেশব্যাপী শিশু এবং জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার জরুরি প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে। তিনি অপরাধীদের বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান ঘটানোর দাবি জানান। একই সাথে প্রতিরোধ ব্যবস্থা, সহিংসতা রিপোর্টিং, প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা, শিশু-বান্ধব পুলিশ ও বিচার ব্যবস্থা এবং সামাজিক সেবা খাতের ঘাটতিগুলো দ্রুত সমাধানের তাগিদ দেন।

তিনি আরও বলেন, সহিংসতা তখনই ছড়ায় যখন সমাজ নীরব থাকে। তাই সহিংসতা, নির্যাতন বা শোষণের ঘটনা ঘটলে তা চেপে না রেখে তাৎক্ষণিকভাবে শিশু হেল্পলাইন ১০৯৮-সহ অন্যান্য সুরক্ষা সেবার মাধ্যমে রিপোর্ট করার জন্য ইউনিসেফ আহ্বান জানাচ্ছে।

ইউনিসেফ প্রতিনিধি নারী ও শিশুদের জন্য মানসিক ও সামাজিক সহায়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি স্কুল, মাদ্রাসা, কর্মক্ষেত্র, পাড়া-মহল্লা এবং কেয়ার সেন্টারগুলোর জবাবদিহিতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের মর্যাদা ও গোপনীয়তা রক্ষার প্রতি বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে। ইউনিসেফ জানায় যে, ভুক্তভোগীদের ছবি, ভিডিও বা পরিচয় প্রকাশ করা এক ধরণের পুনর্নির্যাতন। যারা এগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার বা রি-শেয়ার করছেন, তারা মূলত ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের মানসিক ট্রমা এবং কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

তাই সাধারণ জনগণ, গণমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের প্রতি ভুক্তভোগীদের অধিকারের প্রতি সম্মান জানানোর এবং এই ধরণের ছবি বা ভিডিও শেয়ার করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে। রানা ফ্লাওয়ার্স পরিশেষে বলেন, প্রতিটি শিশুর সমাজ, বিদ্যালয়, ঘর—এমনকি পাবলিক স্পেসে তাদের গল্প বা ছবি উপস্থাপনের ক্ষেত্রেও সুরক্ষিত থাকার অধিকার রয়েছে। অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে এবং সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে আওয়াজ তোলার আহ্বান জানান তিনি।




১৪ জেলায় বয়ে যাচ্ছে তাপপ্রবাহ, কিছু অঞ্চলে কালবৈশাখীর শঙ্কা

আবহাওয়া ডেস্কঃ দেশের ১৪টি জেলায় বয়ে যাচ্ছে তাপপ্রবাহ। ভ্যাপসা গরমে যখন দেশের জনজীবন অতিষ্ঠ, তখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কালবৈশাখী ঝড়ের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

শনিবার (২৩ মে) সকালে প্রকাশিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ সকাল ৬টার মধ্যে ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে ওই অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের ওপর দিয়েও ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকাতেও আজ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সংস্থাটির তথ্যমতে, শনিবার সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ রাজধানীতে সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩৮ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ১২ মিনিটে।




শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল

ডেস্ক নিউজঃ আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা সাত দিনের ছুটির ঘোষণা দিয়েছে সরকার। তবে এই দীর্ঘ ছুটির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঈদের আগে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবার (২৩ মে) অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২৫ মে (সোমবার) থেকে ৩১ মে (রোববার) পর্যন্ত দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে।

দীর্ঘ এই ছুটির কারণে সরকারি কার্যক্রম সচল রাখতে ঈদের আগের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ফলে ২৩ মে শনিবার যথারীতি অফিস খোলা থাকবে।

উল্লেখ্য, সরকার দেশের কর্মক্ষেত্রগুলোতে ঈদের আমেজ ও ছুটির ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে এই নির্দেশনা মেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।




ঈদযাত্রায় ট্রেনে শিডিউল বিপর্যয়ের শঙ্কা নেই: রেল সচিব

ডেস্ক নিউজঃ আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেন চলাচলে কোনো ধরনের শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম।

শনিবার (২৩ মে) সকালে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

রেল সচিব জানান, ঈদযাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, আমরা তৎপর আছি। বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় করা হচ্ছে। আশা করছি, এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে।

সচিব আরও বলেন, সড়ক, রেল এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী একজনই। কাজেই ঈদযাত্রায় সমন্বয়ের কোনো অভাব নেই।

ট্রেনের ছাদে যাত্রী ভ্রমণ ঠেকাতে বিশেষ নজরদারির কথাও জানান তিনি। ফাহিমুল ইসলাম বলেন, বিশেষ করে উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের মধ্যে ট্রেনের ছাদে ওঠার প্রবণতা দেখা যায়, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

ট্রেনের ছাদে যাত্রী ওঠা ঠেকাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, জিআরপি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত মোতায়েন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের ট্রেনগুলোতে ছাদে ওঠার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে ম্যাজিস্ট্রেটসহ ভ্রাম্যমাণ আদালত দায়িত্ব পালন করবে।

স্টেশনে টিকিটবিহীন যাত্রী প্রবেশ ঠেকাতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে রেলসচিব বলেন, টিকিট ছাড়া যাত্রীরা যাতে স্টেশনে ঢুকতে না পারে সে জন্য নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। তারাই সাধারণত ভিড় ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।

তিনি আরও বলেন, যাত্রী চাপের কারণে এবারও ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট রাখা হয়েছে। ঈদের সময় রেলের চাহিদা অনেক বেশি থাকে, যা পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব হয় না।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, জিআরপি, মেট্রোপলিটন পুলিশ ও এপিবিএনের সদস্যরা একসঙ্গে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি। কমলাপুর স্টেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ছিনতাই, পকেটমার ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। রেলসচিব বলেন, যাত্রীরা যেকোনো অভিযোগ, তথ্য বা সহায়তার জন্য রেলওয়ের ১৩১ হটলাইনে যোগাযোগ করতে পারবেন।




বিআইডব্লিউটিএতে ‘সিবিএ সন্ত্রাস’: মারধর, চাঁদাবাজি ও সাংবাদিক হুমকিতে তোলপাড়

এসএম বদরুল আলমঃ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ—বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এ আবারও সামনে এসেছে শ্রমিক রাজনীতির আড়ালে ভয়ঙ্কর দখল, নির্যাতন ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ। সংস্থাটির শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ) ‘ভারপ্রাপ্ত সভাপতি’ দাবি করা তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী মাজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে উঠেছে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে—অপছন্দ হলেই কর্মচারীদের মারধর, চাঁদাবাজি, মিথ্যা অপবাদ দিয়ে পুলিশে সোপর্দ, বদলির ভয় দেখানো এবং সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিকদের হুমকি-ধমকি দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন তিনি।

বিআইডব্লিউটিএর একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে সুবিধাভোগী একটি চক্রের অংশ হিসেবে পরিচিত মাজহারুল ইসলাম সরকার পরিবর্তনের পরও প্রভাব ধরে রাখতে রাজনৈতিক পরিচয়ের রঙ বদলে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। অভিযোগ রয়েছে, আগে আওয়ামী ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে দাপট দেখানো এই চক্র এখন বিএনপির নাম ভাঙিয়ে নিয়োগ, বদলি, টেন্ডার বাণিজ্য ও দখলবাজির মাধ্যমে বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছে।

মারধর, ছিনতাই, তারপর পুলিশে সোপর্দ!
মাজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে সর্বশেষ গুরুতর অভিযোগ ওঠে বিআইডব্লিউটিএর হিসাব বিভাগের অফিস সহায়ক ইসরারুল হাসান সুমনের ওপর হামলার ঘটনায়। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৩ এপ্রিল রাজধানীর মতিঝিলে বিআইডব্লিউটিএ প্রধান কার্যালয়ের সামনে ১০-১২ জন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে সুমনের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় তাঁকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি তাঁর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। পরে সুমনকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। যদিও বিএনপির এক প্রভাবশালী এমপির হস্তক্ষেপে তিনি ছাড়া পান। তবে এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ঘটনার পরপরই সুমনকে বিআইডব্লিউটিএ সিবিএ ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের পদ থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি ঘটার পর কৌশলে পেছনের তারিখ ব্যবহার করে বহিষ্কারের চিঠি ইস্যু করা হয়েছে।

‘৫ আগস্ট’ থেকেই দখল রাজনীতি
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দিনই মাজহারুল ইসলাম তাঁর সহযোগীদের নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ ভবনের তালা ভেঙে নিচতলার সিবিএ কার্যালয় দখল করেন। এরপর নিজেকে সংগঠনের ‘ভারপ্রাপ্ত সভাপতি’ ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে রাতারাতি বিআইডব্লিউটিএ শ্রমিক দলের ‘সভাপতি’ পরিচয় ব্যবহার শুরু করেন।

অভিযোগ রয়েছে, সংস্থার প্রভাবশালী কয়েক কর্মকর্তার সহায়তায় তিনি ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে বদলি হয়ে আসেন। এরপর থেকেই শুরু হয় বদলি বাণিজ্য, নিয়োগ সিন্ডিকেট, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং প্রভাব বিস্তারের রাজত্ব।

বিআইডব্লিউটিএর একাধিক কর্মচারীর দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো সময়জুড়ে এই সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে চক্রটি।

চাঁদা না দেওয়ায় নির্যাতনের অভিযোগ:

শুধু সুমন নন, এর আগে গত ১৩ এপ্রিল সংস্থার লিফট অপারেটর মিজানুর রহমানকেও সিবিএ কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে মাজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, চাঁদার টাকা না দেওয়ায় তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
এই ঘটনায় মিজানের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাজহারের সহযোগী ও বিআইডব্লিউটিএর গেজপাঠক পদে কর্মরত শফিকুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, গত দুই বছরে আজিজুল ইসলাম, মজিবুর রহমান, নুরুল আলম, আক্কাস হোসেনসহ আরও অনেক কর্মচারী এই চক্রের নির্যাতন, হামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। অনেককে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ তকমা দিয়ে পুলিশে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিককে হুমকি:
মাজহারুল ইসলাম ও তাঁর সহযোগীদের কর্মকাণ্ড নিয়ে গত ২৪ এপ্রিল একটি জাতীয় দৈনিকে “নব্য শ্রমিক দল নেতাদের দাপটে অসহায় কর্মচারীরা” শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবেদন প্রকাশের পরদিন সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম কর্মীকে ফোন করে হুমকি দেন মাজহার। নির্যাতনের শিকার কর্মচারীদের ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে তাদের পক্ষ নেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি। একপর্যায়ে সাংবাদিককে “দেখে নেওয়া” এবং মামলা দিয়ে শায়েস্তা করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কথোপকথনের একপর্যায়ে গালাগাল করে ফোন কেটে দেন তিনি।

গণমাধ্যমকর্মীদের একটি অংশ বলছেন, এটি শুধু একজন সাংবাদিককে হুমকি নয়; বরং সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে ভয়ভীতি প্রদর্শনের একটি সুস্পষ্ট অপচেষ্টা।

অভিযোগ অস্বীকার মাজহারের:
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাজহারুল ইসলাম। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, “আমি কারও ওপর কোনো নির্যাতন করিনি। ইসরারুলের ওপর মারধরের সময় ঘটনাস্থলেও ছিলাম না। অন্য কোথাও কিছু করে মার খেয়ে এসে এখন আমার ওপর দায় চাপানো হচ্ছে।”

তিনি আরও দাবি করেন, “সুমনকে আগেই সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এটা বিএনপি এমপি শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস ও আমাদের বিষয়। এটি আমরা নিজেরাই বুঝে নেব। এ বিষয়ে অন্য কারও কিছু বলার প্রয়োজন নেই।”

আতঙ্কে সাধারণ কর্মচারীরা:
বিআইডব্লিউটিএর সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কের মধ্যে কাজ করছেন। অভিযোগ করলেও কোনো প্রতিকার মেলে না। উল্টো নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদেরই রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে হেনস্তা করা হচ্ছে।

তাদের ভাষ্য, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক সংগঠনের নামে এমন দখলদারিত্ব, ভয়ভীতি ও সহিংসতা শুধু প্রশাসনিক শৃঙ্খলাই ভেঙে দিচ্ছে না; বরং পুরো প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে।




হত্যা মামলার আসামি হয়েও প্রভাবশালী ‘সুলতান সিন্ডিকেট’ — বিআইডব্লিউটিএতে ১২০০ কোটি টাকার লুটপাটের অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ—বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এ পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট একটি শক্তিশালী দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট এখনো সক্রিয় রয়েছে বলে ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা সংস্থাটির বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. সুলতান আহমেদ খান, যিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব, টেন্ডার সিন্ডিকেট, বদলি বাণিজ্য ও প্রকল্প লুটপাটের মাধ্যমে বিআইডব্লিউটিএকে কার্যত ব্যক্তিগত সাম্রাজ্যে পরিণত করেছিলেন।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো—বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড সংশ্লিষ্ট একটি মামলায় রাজধানীর ভাটারা থানায় নাম থাকার পরও রহস্যজনক কারণে এখনো গ্রেফতার এড়িয়ে চলছেন এই কর্মকর্তা। অভিযোগ রয়েছে, মামলা থেকে রেহাই পেতে প্রায় ৫ কোটি টাকার “ম্যানেজমেন্ট ফান্ড” গঠন করে বিভিন্ন মহলে তদবির ও প্রভাব বিস্তারের মিশনে নেমেছেন তিনি। একইসঙ্গে নিজেকে “সৎ, দক্ষ ও বিএনপি-ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা” হিসেবে পরিচয় দিয়ে সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

“হানিফের ভাগ্নে” পরিচয়ে একক আধিপত্য :
বিআইডব্লিউটিএর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিগত ১৫ বছর ধরে সাবেক আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ–এর ভাগ্নে পরিচয় ব্যবহার করে সংস্থাটিতে অপ্রতিরোধ্য প্রভাব বিস্তার করেন সুলতান আহমেদ খান। বদলি, পদায়ন, নিয়োগ, টেন্ডার অনুমোদন, ড্রেজিং প্রকল্প—সবকিছুই তার ইশারায় নিয়ন্ত্রিত হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার অনুমতি ছাড়া সংস্থাটিতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা প্রায় অসম্ভব ছিল। ফলে বিআইডব্লিউটিএতে গড়ে ওঠে এক ভয়ঙ্কর “সুলতান সিন্ডিকেট”, যেখানে যোগ্যতা নয়—রাজনৈতিক আনুগত্য ও অর্থ লেনদেনই ছিল পদোন্নতি ও সুবিধা পাওয়ার প্রধান মাধ্যম।

সৎ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, দুর্নীতিবাজদের ছত্রচ্ছায়া : অভিযোগ রয়েছে, সুলতান খানের ঘনিষ্ঠ শ্রমিক লীগ নেতা সনজিব কুমার দাসকে ব্যবহার করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সৎ ও মেধাবী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালানো হতো। বেনামি অভিযোগপত্র, মিথ্যা তথ্য ছড়ানো এবং প্রশাসনিক হয়রানির মাধ্যমে বহু কর্মকর্তাকে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল দীর্ঘদিন।

এমনকি গত বছরের ২ অক্টোবর তাকে বিআইডব্লিউটিএ থেকে সরিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে প্রেষণে পাঠানো হলেও তার নিয়ন্ত্রিত সিন্ডিকেট এখনো সক্রিয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সংস্থার ভেতরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি, বিভাজন তৈরি এবং সংস্কার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করতেই এই চক্র নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শ্রমিক দলের নেতার ওপর হামলার অভিযোগ :
সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএতে শ্রমিক দলের সভাপতি মাজহারুল ইসলামের ওপর হামলার ঘটনায়ও সুলতান খানের অনুসারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, পতিত আওয়ামী বলয়ের সুবিধাভোগী অংশ এখনো সংগঠিত হয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখার চেষ্টা করছে।

১২০০ কোটি টাকার ড্রেজিং প্রকল্পে ‘মহালুট’ :
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে আরও ভয়াবহ তথ্য। পাবনা ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের ড্রেজিং প্রকল্পে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে প্রায় ১২০০ কোটি টাকার প্রকল্পে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে সুলতান আহমেদ খানের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ অনুযায়ী, নদী খননের বিপুল পরিমাণ মাটি বিক্রি করে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও সেই অর্থ ব্যক্তিগতভাবে ভোগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রকল্পের বিভিন্ন দরপত্রে পছন্দের ঠিকাদার নিয়োগ, কমিশন বাণিজ্য এবং কাজের গুণগত মানে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ভুয়া সনদে পদোন্নতির অভিযোগ : সুলতান আহমেদ খানের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ—ডিপ্লোমা প্রকৌশলী হয়েও ভুয়া সনদ ব্যবহার করে পদোন্নতি নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদ বাগিয়ে নেন তিনি। এমনকি ১৯৯৬ সালে তার চাকরিতে প্রবেশও ছিল রাজনৈতিক প্রভাব ও অনিয়মের মাধ্যমে—এমন অভিযোগও সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে।

“আওয়ামী লীগ ২০৪১ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবে” :
বিআইডব্লিউটিএর একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা–ঘনিষ্ঠ মহলের আশীর্বাদে দীর্ঘদিন ধরেই বেপরোয়া আচরণ করতেন সুলতান আহমেদ খান। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিভিন্ন সময় তিনি প্রকাশ্যে বলতেন—“আওয়ামী লীগ ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবে, আমাকে কেউ ছুঁতে পারবে না।”

এই দম্ভের জোরেই তিনি বদলি ও নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পাবনা জেলার শতাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার নামে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বর্তমানে রাজধানীর উত্তরায় একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসবাস করছেন তিনি বলে জানা গেছে।

তদন্তে দুদক, ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা :
বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফা জানিয়েছেন, সুলতান আহমেদ খান কেন ? বিআইডব্লিউটিএ’র যে কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই অভিযোগ উঠবে সেসকল অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের একটি টিম তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।

সংস্থাটির একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এখনো বিভিন্ন দফতরে বেনামি চিঠি পাঠিয়ে সৎ কর্মকর্তাদের সামাজিক ও প্রশাসনিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক, ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।

নৌখাত সংস্কারে বড় বাধা ‘পুরনো সিন্ডিকেট’ : গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে পতিত আওয়ামী সরকারের বিদায়ের পর অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নৌখাত সংস্কারের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা ভেস্তে দিতেই পুরনো দুর্নীতিবাজ চক্র আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নৌখাত বিশেষজ্ঞদের মতে, বিআইডব্লিউটিএতে বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক প্রভাব, টেন্ডার সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলা না গেলে দেশের অভ্যন্তরীণ নৌ-ব্যবস্থাপনায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে না। রাষ্ট্রীয় অর্থ লুট, প্রশাসনিক সন্ত্রাস ও রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় গড়ে ওঠা এই নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে দ্রুত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।




বজ্রাঘাতে এক দিনে প্রাণ গেল ৭ জনের

ডেস্ক নিউজ : দেশের বিভিন্ন জেলায় শুক্রবার (২২ মে) বিচ্ছিন্ন বজ্রবৃষ্টি হয়েছে। এসময় বজ্রাঘাতে অন্তত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

একই সময়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভ্যাপসা গরমে অস্বস্তি বেড়েছে জনজীবনে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আগামী আরও চার থেকে পাঁচ দিন এমন গরম ও বিচ্ছিন্ন বৃষ্টির পরিস্থিতি থাকতে পারে।

রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের কিছু এলাকায় শুক্রবার বজ্রসহ বৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকায় বজ্রপাতের ঘটনায় অন্তত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে জমিতে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে মারা যান কৃষক মো. মালেক (৪০। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে নিহত হন কৃষক ইদ্রিস আলী ফকির (৬৫)। ভোলার লালমোহনে বজ্রপাতে প্রাণ হারায় পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. ইয়ামিন (১১)। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে চা শ্রমিক স্বপন মুণ্ডা (২৩) এবং রাজনগরে হাওরে ধান কাটতে থাকা কৃষক তালেব মিয়া (৪০) বজ্রপাতে মারা যান।

নেত্রকোনার আটপাড়ায় নিহত হন সোলায়মান মিয়া (২২)। শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে বজ্রপাতে মারা যান ফয়সাল বেপারী (৩৫)। এ ছাড়া চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় পৃথক ঘটনায় বিদ্যুৎস্পর্শে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন হৃদয় হোসেন (২২) ও আশরাফ আলী (২৭)।

এদিকে তাপপ্রবাহের বিষয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, শুক্রবার দেশের ১৩ জেলায় মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে।

এর মধ্যে রাজশাহী ও বাগেরহাটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সাতক্ষীরায় ৩৬ দশমিক ৮, পটুয়াখালীতে ৩৬ দশমিক ৭, যশোর, ফেনী ও বান্দরবানে ৩৬ দশমিক ৬, নোয়াখালীতে ৩৬ দশমিক ৫ এবং মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জে ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় বাগেরহাটের মোংলা ও লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
রাজধানীতেও গরমের তীব্রতা ছিল বেশি। সকাল থেকে আকাশ মেঘলা থাকলেও দুপুরের পর বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাবে, ঢাকায় ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে বৃষ্টির পরও কমেনি ভ্যাপসা গরম। বৃহস্পতিবার ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, শুক্রবার তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৪ দশমিক ৭ ডিগ্রিতে।

আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক বলেন, বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। আগামী চার থেকে পাঁচ দিন এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী বৃহস্পতিবারের পর থেকে তাপমাত্রা কমতে শুরু করতে পারে। তাপপ্রবাহের পাশাপাশি আগামী দুদিন প্রায় সব বিভাগেই বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। যার মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের প্রায় ৭৫ শতাংশ এলাকাজুড়ে বৃষ্টি হতে পারে। তিনি আরও জানান, বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা বাড়ছে। তাই বিশেষ করে খোলা মাঠ, জলাশয় বা উঁচু স্থানে অবস্থানকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।