লালমনিরহাটে যৌথ আয়োজনে স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনা ক্যাম্পেইনের শুভ উদ্বোধন

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ  “নিরাপদে পয়ঃবর্জ্য পরিষ্কার, পরিছন্ন পরিবেশ’ সবার অধিকার” – এই প্রতিপাদ্যে লালমনিরহাটে যাত্রা শুরু করল পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে পয়ঃবর্জ্য অপসারণ ক্যাম্পেইন-২০২৫।

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বিকেল ৩ ঘটিকায় লালমনিরহাট পৌরসভা চত্বরে লালমিরহাট পৌরসভা ও এসএনভি এর যৌথ আয়োজনে এ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন লালমনিরহাট পৌরসভার প্রশাসক রাজীব আহসান।

উক্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে লালমনিরহাট পৌরসভার প্রশাসক মোঃ রাজীব আহসানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন এস কে এস ফাউন্ডেশনের প্রকল্প ব্যবস্থাপক আব্দুল মতিন, ওয়াটার এইড প্রতিনিধি সুমন সাহা, লালমনিরহাট পৌরসভার মেডিকেল অফিসার ডাঃ শরীফ মোঃ বজলুল হক।

শহর ব্যাপী ক্যাম্পেইনের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন রিসপনস লিমিটেডের আবু হানিফ, ক্যাম্পেইনের উদ্দেশ্য বর্ণনা করেন এসএনভি এর ক্লাষ্টার কো-অর্ডিনেটর আব্দুল হালিম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন লালমনিরহাট পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা বাবু হরানন্দ রায়।

এ সময় লালমনিরহাট পৌরসভা ও এসএনভির অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।




লালমনিরহাট সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে তারকাঁটার বেড়া কর্তনের সময় গরু চোরাকারবারি আটক

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ  লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা সীমান্তে তারকাঁটার বেড়া কর্তন করার সময় মোঃ লাভলু হোসেন (৪০) নামে এক চিহ্নিত গরু চোরাকারবারিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত রোববার (২৩ নভেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। গরু চোরাচালানের উদ্দেশ্যে ভারতীয় সীমান্তে বে-আইনিভাবে প্রবেশের চেষ্টার সময়ই তাকে হাতেনাতে ধরে তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবি)-এর টহলদল।

বিজিবি সূত্র জানায়, তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবি)-এর অধীন বড়খাতা বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি)-এর একটি টহলদল হাতিবান্ধা উপজেলার বুড়াসারডুবি এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় তারা ভারতীয় সীমান্তে বে-আইনিভাবে তারকাঁটার বেড়া কর্তনকালে মোঃ লাভলু হোসেনকে হাতেনাতে আটক করে। চোরাচালানের উদ্দেশ্যে তিনি এই বেড়া কর্তন করেছিলেন বলে বিজিবি নিশ্চিত করেছে।

আটককৃত মোঃ লাভলু হোসেন হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা বুড়াসারডুবি গ্রামের মৃতঃ খলিল মিয়ার ছেলে। আটকের পর বিজিবি মোঃ লাভলু হোসেনের কাছ থেকে গরু চোরাচালানের কাজে ব্যবহৃত একটি তারকাঁটার বেড়া কাটার প্লাস (কাটার), একটি স্মার্ট ফোন এবং দুটি সিমকার্ড জব্দ করে।

বিজিবি আরো জানায়, আটককৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দিয়ে পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের জন্য হাতিবান্ধা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। হাতীবান্ধা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদুন্নবী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “বিজিবি আসামিকে থানায় সোপর্দ করেছে। তার বিরুদ্ধে যথাযথ ধারায় মামলা রুজু করে তাকে লালমনিরহাট জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।




“আপনারা যাকে চাইবেন সেই প্রার্থী পটুয়াখালী -৩ আসনে লড়াই করবে”- হাসান মামুন

মোঃ রুহুল আমিন বিশ্বাস স্টাফ রিপোর্টারঃ পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে বিএনপি নিজস্ব প্রার্থী নিয়ে নির্বাচন করবে।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বিকাল ৫টায় গলাচিপার রতনদী তালতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন এ কথা জানান। তিনি বলেন, “আপনারা যাকে চাইবেন, সেই প্রার্থী এ আসনে লড়াই করবে। দল ও জোটের সিদ্ধান্ত যাই হোক না কেন, আমরা এই আসনে নির্বাচন করব। কোন শক্তিই আমাদের বাধা দিতে পারবে না। বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে আমরা আছি।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন রতনদী তালতলী ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মোসা. নার্গিস সুলতানা এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মো. এমদাদ শরীফ। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার হাওলাদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব সিদ্দিকুর রহমান।
সভায় উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সভাপতি মো. মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন খান, সহ-সভাপতি আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর হোসেন খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাকসুদ আলম তালুকদার, মো. মাসুম বিল্লাহ, নিয়াজ মাহমুদ নকিব, ঢাকা উত্তর মহানগরের সাবেক ছাত্রনেতা মো. সাইফুল ইসলাম মোল্লা এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন যুবদল ও স্থানীয় সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।



এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ: কাজ করিয়ে না বিল কাটলো

এসএম বদরুল আলমঃ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো: বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হচ্ছে—কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন না করেই ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করে অগ্রিম বিল অনুমোদন করা হয়েছে এবং সেই বিল থেকে বড় অঙ্কের কমিশন নেওয়া হয়েছে। পরে ঠিকাদার মিলিয়ে যায় বলে স্থানীয় অফিসে শোরগোল পড়েছে এবং নানা তথ্য উঠে এসেছে যেগুলো এখন যাচাই করা হচ্ছে।

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ঢাকার দৃষ্টি নন্দন প্রকল্পের অধীন মানিকনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণের কাজটি (প্রকল্প: ঢাকা মহানগরী ও পূর্বাচলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন ও অবকাঠামো উন্নয়ন) পেয়েছিল মেসার্স ইফাত এন্টারপ্রাইজ—প্রোপাইটার দালিয়া ইমামের (ঠিকানাঃ ৮৪২, মধ্য বাড্ডা, ঢাকা)। চুক্তিমূল্য ছিল ৫২,৮৩,৬০,০০ টাকা এবং কার্যাদেশ তারিখ ছিল ২/৫/২০২৪; কাজ সমাপ্তির নির্ধারিত তারিখ ১৫/০৮/২০২৫। তবু প্রকল্পের কাজ না করেই ২,৮৭৫,০০০ টাকার বিল আগেই অনুমোদন করে দেয়া হয়েছে—এমনটাই অভিযোগ। বিলটি অনুমোদনকারী হিসেবে নাম উল্লেখ রয়েছে মো: বেলাল হোসেনের। পরে ঠিকাদার এফেক্টিভভাবে দফায় দফায় নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়।

অভিযোগকারীরা বলছেন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী বেলাল হোসেন বিভিন্ন সময়ে ঠিকাদারদের সঙ্গে গোপনে বুঝে নিয়ে কাজ না করেই অগ্রিম বিল কেটে দেন; সিনিয়র কর্মকর্তাদেরকে উৎসাহিত করে কমিশন বণ্টন করা হয়—ফলশ্রুতিতে কয়েকটি প্রকল্পে কোটি টাকার বদলে লুটপাট হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক্সেঞ্জ অফিসে কর্মরত এক সূত্র বলেছেন, অফিসের বিল বুক যাচাই করে এমন অনিয়মের আলামত পাওয়া গেছে। বর্তমানে ঠিকাদার আত্মগোপনে রয়েছেন, ফলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা কঠিন হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

প্রতিবাদ বা জিজ্ঞাসা করা হলে অভিযুক্ত মো: বেলাল হোসেন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এলজিআইডির ঢাকাস্থ নির্বাহী প্রকৌশলী বাচ্চু মিয়া বলেছেন, তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এসব বিষয়ে কথা বলতে পারবেন না; তবে তিনি সরেজমিন তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করার অনুরোধ করেছেন। বর্তমানে যারা অভিযোগটি করেছেন তারা চাইছেন—চোখ বন্ধ না রেখে গোছানোভাবে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে অন্য কোনো অনিয়ম হওয়া রোধ করা যায়।

এ ঘটনায় স্থানীয় অফিসে শোরগোল আর বিস্তার পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্তের দাবি ওঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী মূল অপরাধগুলোর মধ্যে রয়েছে: কাজ করানো ছাড়া অগ্রিম বিল অনুমোদন করা, ঠিকাদারের সঙ্গে গোপন চুক্তি করে কমিশন নেওয়া, এবং অফিসের বিল নথি জালিয়াতির মাধ্যমে লেনদেন আড়াল করা—যেগুলো নিয়মানুগ তদন্তে প্রমাণিত হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।




১১ মাসে দুর্নীতির ২৬ হাজার কোটি টাকা দুদকের কব্জায়

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ গণ অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে দুর্নীতিবাজদের ধরপাকড়ে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধে রেকর্ড সাফল্য দেখিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ১১ মাসে দেশে-বিদেশে দুর্নীতিবাজ, অর্থপাচারকারী, সরকারি লোপাটকারী এবং ঋণখেলাপিসহ তিন শতাধিক ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৬ হাজার ১৩ কোটি টাকার বেশি স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।

যেখানে ২০২৪ সালের পুরো সময়ে ক্রোক ও অবরুদ্ধের পরিমাণ ছিল মাত্র ৩৬১ কোটি টাকা। শুধু তাই নয় ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে ক্রোক ও অবরুদ্ধ সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ গেল ১১ মাসে সম্পদ ক্রোক ও ফ্রিজে নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে দুদক।

দুদকের বিভিন্ন দুর্নীতির মামলায় গত ১১ মাসে (ডিসেম্বর-অক্টোবর) আদালতের নির্দেশনায় ওই সব সম্পদ ক্রোক বা অবরুদ্ধ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সার্বিক বিষয়ে দুদকের কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী বলেন, দুদকের দন্ত ও নক রয়েছে। যা আরও শার্প করা হয়ত দরকার আছে। একটা কথা বলতে চাই, দুদক কিন্তু যথার্থ আইনি শক্তিতে মহিয়ান। বিচারকাজে গতিশীল করতে দুদকের আরও বিশেষ আদালত প্রয়োজন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আদালত ও দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ মাসে দেশে ৩ হাজার ৪৫৭ কোটি ৮৩ লাখ ৪৭ হাজার ক্রোক করা হয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে দেশে ফ্রিজ ২২ হাজার ২২৬ কোটি ৭৯ লাখ ৩২ হাজার ও বিদেশে ৩২৮ কোটি ৩৮ লাখ ১৩ হাজার ফ্রিজ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে দেশে-বিদেশে প্রায় ২৬ হাজার ১৩ কোটি ২ লাখ ৯৩ হাজার টাকা ক্রোক ও ফ্রিজ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ১১ মাসে বিচারাধীন মামলার মধ্যে ২৪৯টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। যেখানে সাজা হয়েছে ১২৬টির, খালাস ১২৩টি, জরিমানা আদায় করা হয়েছে ৫ হাজার ৫৮ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ৩২১ কোটি টাকা।

১১ মাসের মামলা ও চার্জশিটের পরিসংখ্যানের বিষয় জানা যায়, গত ১১ মাসে ১১ হাজার ৬৩০টি অভিযোগ এলেও মাত্র ৯৬০টি অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় এনফোর্সমেন্ট হয়েছে ৭৯৮টি। এর মধ্যে অনুসন্ধান হচ্ছে ১৮৮টির, মামলা হয়েছে ২৮টি এবং চারটি ফাঁদ পেতে অভিযুক্তকে ধরা হয়েছে। আর গণশুনানি হয়েছে ২৩টি।

দুদক জানায়, উল্লিখিত সময়ের মধ্যে মোট ৫১২টি মামলা দায়েরের মাধ্যমে ২ হাজার ১৯১ জনকে আসামি করা হয়েছে। মোট চার্জশিট দেওয়া হয়েছে ৩১৫টির, এতে আসামি করা হয়েছে ১ হাজার ৭৮ জনকে। এফআরটি বা মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে ৭৩টি।

গত বছরের ৫ আগস্ট জনবিক্ষোভের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শীর্ষ রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। তাদের বিরুদ্ধে অর্থপাচার ও দুর্নীতির প্রমাণ পায় সংস্থাটি। এর পরই একের পর এক মামলা করতে থাকে অন্যদিকে আদালতের নির্দেশে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হচ্ছে। যা এখনও চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।




বিশ্ববাজারে সোনার দাম আবারও ১১ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ

ডেস্ক নিউজঃ বিশ্ববাজারে সোনার দাম ১১ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) একদিনেই সোনার দাম আউন্সপ্রতি প্রায় ৭২ ডলার বেড়েছে। 

গত এক মাসে সোনার দাম বেড়েছে ১২৮ ডলার ০৪ সেন্ট। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানে বাজারে এই আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে যে ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) আবার নীতি সুদহার কমাবে, সেই প্রত্যাশা থেকেই সোনার দাম আবার বাড়তে শুরু করেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সংবাদে বলা হয়েছে, স্পট মার্কেটে সোনার দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ১৬১ ডলার ১০ সেন্টে উঠেছে, যা গত ১৪ নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ দর। তবে ডিসেম্বর মাসের জন্য সোনার আগাম দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৪ হাজার ১৫৯ ডলারে নেমে এসেছে।

ব্রোকার প্রতিষ্ঠান ওএএনডিএর জ্যেষ্ঠ বাজারবিশ্লেষক কেলভিন ওয়ং বলেন, সোনার মূল্যবৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ হলো ফেডের সুদহার হ্রাসের প্রত্যাশা। শেষ দুই সপ্তাহে বাজারে এই প্রত্যাশা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় সোনার দাম আবার বাড়ছে।

সিএমই ফেডওয়াচ নামের এক সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসে ফেডের সুদহার কমানোর সম্ভাবনা ৮১ শতাংশ, যা আগের সপ্তাহে ছিল মাত্র ৪০ শতাংশ। এদিকে ফেড গভর্নর ক্রিস্টোফার ওয়ালার সোমবার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি ভালো নয়, ফলে বাজারে চাঙাভাব আনতে, অর্থাৎ অর্থ সরবরাহ বৃদ্ধি করতে ডিসেম্বর মাসে সুদহার আবার কমানোর প্রয়োজন হতে পারে।

গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তথ্য বলছে, সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রি প্রত্যাশার তুলনায় কম হারে বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়া বছরে প্রডিউসার প্রাইস ইনডেক্স (পিপিআই) বা উৎপাদক মূল্যসূচক বৃদ্ধির হার আগের মাস আগস্টের মতোই ২ দশমিক ৭ শতাংশ ছিল। এই পরিসংখ্যানের কারণেই ফেডের নীতিনির্ধারকেরা সম্প্রতি সুর কিছুটা নরম করেছেন। এদিকে বিশ্ববাজারে ডলারের দামও এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে আসে।

বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, ফেডের পরবর্তী চেয়ারম্যান হিসেবে যিনি এগিয়ে আছেন, তিনি অতটা আগ্রাসী নীতি নেবেন না, অর্থাৎ নীতিসুদ হ্রাসের ক্ষেত্রে তিনি অতটা আগ্রাসী হবেন না। এতে অন্যান্য মুদ্রাধারীদের জন্য ডলারে সোনার দাম তুলনামূলকভাবে সস্তা হয়ে উঠবে। অন্যদিকে ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদহার এক মাসের মধ্যে নিম্নমুখী অবস্থার কাছাকাছি আছে।

মঙ্গলবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, সুদের হার ব্যবস্থাপনায় ফেডের বর্তমান কাঠামো ঠিকঠাক কাজ করছে না, ফলে এ ব্যবস্থা আরও সহজ করা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রের সাপ্তাহিক বেকারত্ব ভাতার জন্য আবেদনের তথ্য আজ বুধবার প্রকাশিত হবে, তখন ফেডের অবস্থান আরও ভালোভাবে বোঝা যাবে।

অন্যান্য ধাতুর মধ্যে স্পট মার্কেটে রুপার দাম ১ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৫১ ডলার ৮৭ সেন্টে পৌঁছেছে। প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৫০ ডলার ৪০ সেন্ট। সেই সঙ্গে প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে হয়েছে ১ হাজার ৩৯০ ডলার ৬৬ সেন্ট।

সোনার সবচেয়ে বড় ক্রেতা হচ্ছে চীন, কিন্তু হংকং হয়ে অক্টোবর মাসে তারা যে নিট সোনা আমদানি করেছে, তা সেপ্টেম্বরের তুলনায় প্রায় ৬৪ শতাংশ কম। গোল্ড প্রাইস ডট অর্গের তথ্যানুসারে, গত ছয় মাসে বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়েছে ৭৯৩ ডলার ৯৭ সেন্ট, এক বছরে বেড়েছে ১ হাজার ৪৫৪ ডলার ৭৮ সেন্ট এবং ৫ বছরে বেড়েছে ২ হাজার ৩০৮ ডলার ৬০ সেন্ট।




সৌদি যুবরাজ ‘না’ বলায় ক্ষেপে যান ডোনাল্ড ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ দখলদার ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে চাপ দেন। কিন্তু তার এই চাপে যুবরাজ সরাসরি ‘না’ করায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ‘ক্ষুব্ধ ও হতাশ’ হন।  

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২ দুজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউজে ট্রাম্প ও মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যে সরাসরি বৈঠকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়া নিয়ে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রথমে সৌদি-ইসরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিকরণ ইস্যুটি উত্থাপন করেন এবং যুবরাজকে এখন থেকেই এই কাজ শুরু করার আহ্বান জানান। জবাবে প্রিন্স সালমান বলেন, তিনি ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে চান, কিন্তু এটি এখন সম্ভব নয়।

কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, গাজায় ইসরায়েলের ‘দুই বছরের বেশি বর্বর যুদ্ধের’ পর সৌদিতে ইসরায়েল বিরোধী কঠোর অবস্থান রয়েছে। আলোচনার বেশিরভাগ অংশই শালীন থাকলেও, ইসরায়েলের সঙ্গে এখন সম্পর্ক গড়তে না চাওয়ায় ক্রাউন প্রিন্সের ওপর ট্রাম্প ক্ষুব্ধ ও হতাশ হন।

মার্কিন কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, যুবরাজ বিন সালমান বৈঠকে একবারও বলেননি তিনি ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়বেন না; তিনি এক্ষেত্রে ভবিষ্যতের জন্য দরজা খোলা রেখেছেন। তবে এই পথে দ্বি-রাষ্ট্র এক বিশাল সমস্যা।

এদিকে, সৌদির দূতাবাসের সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করলে চ্যানেল-১২-কে তারা কোনো জবাব দেয়নি। অপরদিকে, হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশকেই আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।




মন্দিরে দাহ করার সময় কফিনে নড়ে উঠলেন থাই নারী, জীবিত উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ থাইল্যান্ডের ব্যাংককের উপকণ্ঠে অবস্থিত ওয়াট র‍্যাট প্রাখং থাম বৌদ্ধ মন্দিরে দাহের প্রস্তুতির সময় কফিনের ভেতর থেকে শব্দ পেয়ে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এক নারীকে।  

সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মন্দিরের মহাব্যবস্থাপক পাইরাত সুদথুপ জানান, কফিন থেকে মৃদু ধাক্কার শব্দ শুনে তিনি প্রথমে ‘চমকে’ যান। পরে কফিন খোলার পর দেখা যায়, নারীটি চোখ খুলেছেন এবং কফিনের দেয়ালে হালকা আঘাত করছেন। সুদথুপ বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বেশ কিছুক্ষণ ধরেই ধাক্কা দিচ্ছিলেন।’

৬৫ বছর বয়সী ওই নারীর ভাই দাবি করেন, স্থানীয় কর্মকর্তারা তাকে তার বোনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছিলেন। তবে মন্দিরের ব্যবস্থাপক জানান, ভাইয়ের কাছে কোনো মৃত্যু সনদ ছিল না। তিনি যখন ভাইকে মৃত্যু সনদ সংগ্রহের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করছিলেন, ঠিক তখনই কর্মীরা আবার কফিন থেকে শব্দ শুনতে পান।

নারীটি জীবিত আছেন নিশ্চিত হওয়ার পর মন্দিরের মঠপতি (বৌদ্ধ মঠের প্রধান) তাকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেন। স্থানীয় চিকিৎসকরা পরে জানান, তিনি গুরুতর হাইপোগ্লাইসেমিয়ায় ভুগছিলেন—যে অবস্থায় রক্তে শর্করার মাত্রা মারাত্মকভাবে কমে যায়। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, তিনি শ্বাসকষ্ট বা হৃদরোগে আক্রান্ত হননি।

ওই নারীর ছোট ভাই জানান, তার বোন গত দুই বছর ধরে শয্যাশায়ী ছিলেন। মন্দিরের ব্যবস্থাপকের ধারণা, স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় শনিবার তার শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে গেছে বলে মনে করা হয়েছিল।

পরিবারটি থাইল্যান্ডের ফিটসানুলোক প্রদেশ থেকে দাহ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ব্যাংককের উদ্দেশে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার (৩১১ মাইল) পথ পাড়ি দিয়েছিল।




পদোন্নতি পেয়ে উপসচিব হলেন ৭ কর্মকর্তা

ডেস্ক নিউজঃ সাত কর্মকর্তাকে উপসচিব পদে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) এসংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এই কর্মকর্তাদের উপসচিব পদে পদোন্নতি প্রদানপূর্বক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (উপসচিব) নিয়োগ করা হলো।

উপসচিব মোহাম্মদ রফিকুল হক স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।




টাস্কফোর্স গঠন করে ‘সুগার ড্যাডি’ চক্র দমনে আইনি নোটিশ

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশে সম্প্রতি তরুণী ও নারীদের শোষণ ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সঙ্গে যুক্ত সুগার ড্যাডি চক্র দেশব্যাপী উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতির কারণে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং পুলিশ প্রধানকে আইনি নোটিশ পাঠান।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে— কিছু ধনী, প্রভাবশালী ও ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি তরুণী ও নারীদের অবৈধ আর্থিক সুবিধার মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক শোষণ করছে। অপরাধীদের দেওয়া নগদ অর্থ, গাড়ি, ব্র্যান্ডেড পোশাক, গহনা ও বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ অবৈধ উৎস থেকে আসছে, যা কর প্রশাসন ও অর্থনীতির জন্য হুমকি।

অনেক ক্ষেত্রে তরুণীদের অশ্লীল ছবি-ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে, যা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে বিপদে ফেলছে। সুগার ড্যাডির কারণে পরিবারে অস্থিরতা, বিবাহবিচ্ছেদ, মানসিক চাপ ও সামাজিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হচ্ছে। বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্যও ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।

মাহমুদুল হাসান নোটিশে দাবি করেছেন— স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ, সিআইডি, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, সাইবার ক্রাইম ইউনিট ও এনবিআরের সমন্বয়ে জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন করা হোক। অস্বাভাবিক অর্থের উৎস তদন্ত, ব্ল্যাকমেইল ভিডিও-ছবি শনাক্ত ও অপসারণ, এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে।