0x1c8c5b6a
0x1c8c5b6a
0x1c8c5b6a
0x1c8c5b6a
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইথিওপিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রায় ১২ হাজার বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো একটি ঘুমিয়ে থাকা বা সুপ্ত আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটেছে। এর ফলে আকাশে ১৪ কিলোমিটার পর্যন্ত ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রোববার (২৩ নভেম্বর) উত্তর-পূর্বে ইথিওপিয়ার আফার অঞ্চলে অবস্থিত হায়লি গুব্বি আগ্নেয়গিরিতে কয়েক ঘণ্টা ধরে অগ্নুৎপাত হয়।
প্রায় ৫০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই আগ্নেয়গিরিটি রিফ্ট ভ্যালির মধ্যে অবস্থিত। এখানে দুটি টেকটোনিক প্লেট মিলিত হয়ে তীব্র ভূতাত্ত্বিক কার্যকলাপ দেখা যায়।
দেশটির আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে, আগ্নেয়গিরি থেকে ছাইয়ের মেঘ ইয়েমেন, ওমান, ভারত এবং উত্তর পাকিস্তানের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা ভিডিওগুলোতে সাদা ধোঁয়ার ঘন স্তম্ভ উঠতে দেখা গেছে।
স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনের গ্লোবাল আগ্নেয়গিরি প্রোগ্রাম বলেছে, হলোসিন উপযুগের সময় হেইলি গুব্বির কোনো অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটেনি। এই যুগ প্রায় ১২ হাজার বছর আগে শেষ বরফ যুগের শেষে শুরু হয়েছিল।
মিশিগান টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির একজন আগ্নেয়গিরিবিদ এবং অধ্যাপক সাইমন কার্ন ব্লুস্কিতে নিশ্চিত করেছেন, এই আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাতের কোনো পূর্ব রেকর্ড নেই।
ডেস্ক নিউজঃ কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়ায় কোস্টগার্ড ও পুলিশের যৌথ অভিযানে মালয়েশিয়ায় পাচারকালে নারী ও শিশুসহ ২৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এ তথ্য জানান। এর আগে সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে টেকনাফের বাহারছড়ার কচ্ছপিয়া ঘাট সংলগ্ন বিচ এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড।
কোস্টগার্ড জানায়- গোপন সূত্রে খবর আসে, সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারের জন্য নারী ও শিশুসহ বিপুল সংখ্যক ব্যক্তি নিয়ে কচ্ছপিয়া ঘাট সংলগ্ন বিচ এলাকায় অবস্থান করছে পাচারকারীরা। ওই তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার দিবাগত রাতে কোস্টগার্ড আউটপোস্ট বাহারছড়া ও পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বিচে অবস্থানরত ২৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
পরে উদ্ধারকারীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, কয়েকটি সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্র বিদেশে উন্নত জীবনযাপনের স্বপ্ন, উচ্চ বেতনের চাকরি এবং অল্প খরচে বিদেশ যাত্রার প্রলোভন দেখিয়ে টেকনাফসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় নেওয়ার প্রলোভনে সাগরপথে যাত্রার পরিকল্পনা করছিল। তবে যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা পালিয়ে যায়।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক বলেন, মানবপাচার রোধে কোস্টগার্ডের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। নারী-শিশুসহ ২৮ জনকে উদ্ধার করা হলেও পাচারকারীরা পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও আটকে অভিযান চলছে।
খেলাধুলা ডেস্কঃ ত্রিদেশীয় নারী ফুটবল টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে ২৩ সদস্যের জাতীয় দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। আগের মতোই দলের নেতৃত্বে থাকছেন আফঈদা খন্দকার। সিরিজে বাংলাদেশ ২৬ নভেম্বর মুখোমুখি হবে মালয়েশিয়ার এবং ২ ডিসেম্বর খেলবে আজারবাইজানের বিপক্ষে।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) বাফুফে ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়া ও আজারবাইজানকে নিয়ে অনুষ্ঠিতব্য তিন জাতি সিরিজের জন্য দল ঘোষণা করেন প্রধান কোচ পিটার জেমস বাটলার। প্রত্যাশা থাকলেও আলোচিত পাঁচ সিনিয়র সাবিনা খাতুন, কৃষ্ণা রানী সরকার, সানজিদা ইসলাম, সুমাইয়া মাতসুশিমা ও মাসুরা পারভীন জায়গা পাননি স্কোয়াডে। সাফ ২০২৪ শেষে তারা এখনো জাতীয় দলের বাইরে রয়েছেন।
আগামী মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এএফসি উইমেন্স এশিয়ান কাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলছে বাংলাদেশ। এশিয়ার সর্বোচ্চ মঞ্চে এবারই প্রথমবার অংশ নিতে যাচ্ছে আফঈদারা।
সর্বশেষ অক্টোবরে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ নারী দল। সেই স্কোয়াডের ২৩ জনই জায়গা পেয়েছেন এই দলের মূল তালিকায়। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন মামনি চাকমা, যিনি মূল স্কোয়াডে আছেন, এবং তনিমা বিশ্বাস, যিনি স্ট্যান্ডবাই তালিকায় রয়েছেন। তার সঙ্গে রুমা আক্তারও স্ট্যান্ডবাই হিসেবে স্কোয়াডে নাম লিখিয়েছেন।
ত্রিদেশীয় সিরিজের জন্য বাংলাদেশের দল:
রুপনা চাকমা, মিলি আক্তার, স্বর্ণা রানী, নবীরন খাতুন, আফঈদা খন্দকার, কোহাতি কিসকু, মামনি চাকমা, শামসুন্নাহার সিনিয়র, হালিমা আক্তার, জয়নব বিবি, শিউলি আজিম, মারিয়া মান্দা, মনিকা চাকমা, মুনকি আক্তার, স্বপ্না রানী, উমহেলা মারমা, শাহেদা আক্তার, মোসাম্মত সুলতানা, মোসাম্মত সাগরিকা, তহুরা খাতুন, শামসুন্নাহার জুনিয়র, ঋতুপর্ণা চাকমা, সিনহা জাহান, রুমা আক্তার ও তনিমা বিশ্বাস।
ডেস্ক নিউজঃ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য চেয়েছে সরকার। দেশের বিভিন্ন জায়গায় হাইস্কুল, কলেজ, মাদরাসা, কারিগরি প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো জরুরি ভিত্তিতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে।
রোববার (২৩ নভেম্বর) শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের অধীনে থাকা প্রতিষ্ঠানের তথ্য জানতে জেলা পর্যায়ের অফিসগুলোকে নির্দেশ পাঠায়।
প্রধান প্রকৌশলী (রুটিন দায়িত্ব) মো. তারেক আনোয়ার জাহেদীর স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের তথ্য ও একাধিক ছবি সংযুক্ত করে আজকের মধ্যে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলীদের।
এদিকে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তথ্য সংগ্রহে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরও মাঠপর্যায়ে চিঠি দিয়েছে। অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার পরিচালক মিরাজুল ইসলাম উকিল স্বাক্ষরিত চিঠিতে বিভাগীয় উপপরিচালকদের ২৭ নভেম্বরের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে।
অধিদপ্তর জানিয়েছে, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।
মূলত, গত শুক্রবার ও শনিবার পরপর চার দফা ভূমিকম্প অনুভূত হয় দেশে। এরপর নিরাপত্তার বিবেচনায় গত রোববার কয়েকটি স্কুল-কলেজ ক্লাস বন্ধ রাখলেও সোমবার থেকে শিক্ষাক্রম স্বাভাবিক হয়েছে। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।
খেলাধুলা ডেস্কঃ গ্রিন ইউনিভার্সিটিতে ক্লেমন ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৫-এ সাফল্যের নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া কমিউনিকেশন (জেএমসি) বিভাগ। কোয়ার্টার ফাইনালে ইইই বিভাগের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে জয় ছিনিয়ে নিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে জেএমসি দল।
২৫ নভেম্বর ২০২৫ খ্রি. অনুষ্ঠিত এই উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে জেএমসি দলের খেলোয়াড়রা শুরু থেকেই ছিল আত্মবিশ্বাসী ও আক্রমণাত্মক। ব্যাটিং ও বোলিং—উভয় বিভাগেই তারা প্রতিপক্ষকে চাপে রেখে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে। শেষ পর্যন্ত ইইই বিভাগকে পরাজিত করে সেমিফাইনালে ওঠার গৌরব অর্জন করে জেএমসি।
জয়ের পর জেএমসি বিভাগের শিক্ষার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে দেখা যায় ব্যাপক উচ্ছ্বাস। বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ ও সংশ্লিষ্টরা দলটির এই সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যৎ ম্যাচগুলোতেও ধারাবাহিক সাফল্যের প্রত্যাশা করেন।
জেএমসি দলের এই অগ্রযাত্রা বিভাগীয় ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সকলের প্রত্যাশা, সেমিফাইনাল পেরিয়ে চ্যাম্পিয়ন ট্রফিও উঠবে জেএমসি বিভাগের হাতেই।
জেএমসি দলের জন্য রইল শুভকামনা। বিভাগ চ্যাম্পিয়ন হোক—এই কামনাই সবার।
এসএম বদরুল আলমঃ মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় বহুদিন ধরে নিজেকে হাকিম পরিচয় দিয়ে রোগী দেখছেন আব্দুল কাদের। বাহিরে থেকে দেখতে তার চেম্বারটা খুব জমজমাট মনে হলেও, ভেতরে লুকিয়ে আছে নানা অভিযোগ আর প্রতারণার অভিযোগ। রোগীদের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি নানাভাবে টাকা আদায় করেন বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। তার রয়েছে দামি গাড়ি, বাড়ি ও বিপুল সম্পদ, আর এসবের পেছনে কত মানুষের কষ্টের টাকা লুকানো আছে, সেটাই এখন প্রশ্ন।
হাকিম আব্দুল কাদেরের চেম্বারে সব সময়ই ঘিরে থাকে বিশজনেরও বেশি দালালের একটি বড় দল। এই দালালরা কথার জাদু দেখিয়ে রোগীদের তার কাছে নিয়ে আসে। কমিশনের লোভে তারা রোগীদের ভুল তথ্য দেয়, ভয় দেখায়, এমনকি চিকিৎসার নাম করে মিথ্যা প্রতিশ্রুতিও দেয়। রোগীরা যখন ভরসা করে তার কাছে যান, তখন শুরু হয় টাকা নেওয়ার পালা।
তিনি দাবি করেন যে লিভার, জন্ডিস, হাঁপানি, বাতসহ চর্মরোগ, ডায়াবেটিস, গ্যাস্টিক, অনিয়মিত ঋতুস্রাব, নাকের পলিপাস—প্রায় সব ধরনের রোগই তিনি নাকি সারাতে পারেন। এমনকি তিনি বলেন পৃথিবীর সব রোগের চিকিৎসা তার কাছে আছে। এতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে আরও বেশি ক্ষতির মুখে পড়েন। বাস্তবে দেখা গেছে, অনেক রোগী তার চিকিৎসা নিতে নিতে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরে বাধ্য হয়ে তারা ডাক্তার দেখানোর পর সুস্থ হন। তাদের অভিযোগ—এমন ভণ্ড চিকিৎসককে দ্রুত আইনের আওতায় আনা উচিত।
জন্ডিসের রোগীদের তিনি ‘ডাব পরে’ নামের একটি পদ্ধতি দেখান। রোগীরা বলে, টেবিলের নিচে থেকে তিনি কিছু একটা দেন, তারা জানেন না সেটা কী। কাদের দাবি করেন তিনি খাবার সোডা দেন, যা চিকিৎসকদের মতে শরীরের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের ঝুঁকি পর্যন্ত তৈরি করতে পারে। ডাব বিক্রির মাধ্যমেই তিনি প্রতিদিন প্রচুর টাকা আয় করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আরও গুরুতর বিষয় হলো—তিনি বিএসটিআই অনুমোদন ছাড়া নিজে ট্যাবলেট বানান, ওষুধ তৈরি করেন এবং এসব রোগীদের খেতে দেন। এটি আইন অনুযায়ী গুরুতর অপরাধ। অথচ তিনি নিজেকে “বাংলাদেশ বোর্ড অফ ইউনানী অ্যান্ড আয়ুর্বেদিক”-এর নিবন্ধন বহি নং ২১২৫ দেখিয়ে পরিচয় দেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন—এ ধরনের কোনো রেজিস্ট্রেশন নম্বর তাদের নেই।
তার কাছে লাইসেন্স সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন তার নাকি আয়ুর্বেদিক কোম্পানি আছে, কিন্তু লাইসেন্স নম্বর বলতে পারেন না। পরে চাপ দিলে বলেন ড্রাগ লাইসেন্স ও ট্রেড লাইসেন্স আছে, কিন্তু সেগুলোর কোনো কাগজও দেখাতে পারেন না। বরং কথার মারপ্যাঁচে রোগীকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে তিনি বহু বছর ধরে কবিরাজি করছেন এবং তার হাত খুবই “যশস্বী”।
অভিযোগকারীরা বলেন—তার কোনো বৈধ সনদ, প্রশিক্ষণ বা চিকিৎসা করার যোগ্যতা নেই। অথচ তিনি বিভিন্ন গুরুতর রোগের চিকিৎসা করার নামে মানুষকে ধোঁকা দিয়ে টাকা নেন। অনেক রোগী ধীরে ধীরে মারাত্মক অবস্থায় চলে যান, অথচ তিনি তা বুঝেও কিছু করেন না। তারা মনে করেন, এমন বিপজ্জনক প্রতারণা বন্ধ করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
ডেস্ক নিউজঃ সাম্প্রতিক কয়েক দফা ভূমিকম্পে দেশে আতঙ্ক বাড়লেও এ নিয়ে ভয় না পেয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সচেতনতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন দেশের শীর্ষ বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা। সোমবার (২৪ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে তারা এ সুপারিশ করেন।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বিশেষজ্ঞদের দ্রুত লিখিত সুপারিশ পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “আমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকতে চাই না, আবার অবৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্তও নেব না। আপনারা যা প্রয়োজন মনে করেন, তা লিখিত দিন; সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে প্রস্তুত।” তিনি জানান, ভূমিকম্প–সংক্রান্ত করণীয় নির্ধারণে বিশেষজ্ঞ কমিটি ও টাস্কফোর্স গঠনের কাজ চলছে।
গুজব নয়, বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্যের ওপর ভরসা
বিশেষজ্ঞরা বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ৪৮ ঘণ্টা, ১০ দিন বা ১ মাসের মধ্যে বড় ভূমিকম্প হবে—এ ধরনের অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাদের মতে, ভূমিকম্পের সুনির্দিষ্ট দিন–তারিখ অনুমান করা সম্ভব নয়। তবে পূর্বের তথ্য দেখে ঝুঁকি মূল্যায়ন করা যায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জিল্লুর রহমান জানান, বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে স্বল্প ভূমিকম্প–প্রবণ এলাকা হলেও প্রস্তুতি বাড়ানো জরুরি।
অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আখতার তরুণদের অংশগ্রহণে চার স্তরে (ইনডোর–আউটডোর–ব্যক্তিগত–প্রাতিষ্ঠানিক) করণীয় পরিকল্পনা তৈরির পরামর্শ দেন।
চুয়েটের অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ–গ্যাসসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার মূল্যায়নের ওপর জোর দেন।
এমআইএসটি’র অধ্যাপক জয়নুল আবেদীন বলেন, জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে করণীয় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিতে হবে—খোলা জায়গার তালিকা, মহড়া, বাসা–বাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ—এসব কার্যক্রম জরুরি।
ফাটল ধরা ভবনের মূল্যায়ন শুরু
গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান জানান, সফটওয়্যারের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ছবি সংগ্রহ ও মূল্যায়ন চলছে। ইতোমধ্যে দুই শতাধিক ভবন পরিদর্শনে দেখা গেছে—বেশিরভাগ ক্ষতি পার্টিশন দেয়ালে।
টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞদের লিখিত সুপারিশ পাওয়ার পর দ্রুত টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। এতে সরকারি–বেসরকারি কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ বর্তমান সময়ে সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক দায়িত্ব পালন করছেন মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমগণ। তবে তাদের জীবনযাত্রা ও আর্থিক বাস্তবতা যেন এর সম্পূর্ণ বিপরীত।
একদিকে তারা মুসল্লিদের সঠিক পথ দেখাতে, নামাজ আদায় করাতে, ইসলামি শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে রাতদিন পরিশ্রম করছেন। অন্যদিকে বেশিরভাগ মসজিদে তাদের মাসিক সম্মানী অপ্রতুল ও অনেক ক্ষেত্রে নিয়মিতও না। অনেক জায়গায় একজন ইমামকে মাসে ৩-৫ হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হয়।
মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের অবস্থা আরও করুণ। বিশেষত গ্রামীণ মসজিদগুলোতে এই অবস্থা আরও উদ্বেগজনক।
একজন ইমামকে শুধু নামাজ পড়ানোই নয়- বিয়ে, দোয়া মাহফিল, জানাজা, ইসলামি শিক্ষা, এমনকি সমাজিক বিরোধ মীমাংসার মতো দায়িত্বও পালন করতে হয়। কিন্তু সেই দায়িত্বের মূল্যায়ন হয় না সম্মানীর দিক থেকে।
ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অনেকেই মনে করছেন, ইমাম-মুয়াজ্জিন-খাদেমদের যথাযথ সম্মানী নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। স্থানীয় প্রশাসন, ধর্ম মন্ত্রণালয় এবং সমাজের সচেতন ব্যক্তিদের উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো। এখন প্রয়োজন সম্মানীর সুনির্দিষ্ট নীতিমালা এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ। শুধু দোয়া নয়, চাই অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সম্মান।
ইসলামের এই খেদমতকারীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে ভবিষ্যতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামো হুমকির মুখে পড়তে পারে। সময় এসেছে শুধু দোয়া নয়, বাস্তব সহায়তা দেয়ার।