সিংড়ার চলনবিলে নৌকায় আমন ধান কাটা শুরু

নাটোর প্রতিনিধিঃ নাটোরের সিংড়া উপজেলার চলনবিলে এখনো নামেনি বন্যার পানি। হেমন্তের অগ্রহায়ণে সারাদেশে নতুন ধান কাটার উৎসব চললেও চলনবিলের কৃষকদের মুখে শঙ্কা আর হতাশা। জমিতে হাঁটু থেকে হাঁটুর ওপরে পানি থাকায় কৃষকদের ধান কাটতে হচ্ছে নৌকা দিয়ে। এতে বাড়ছে শ্রমিক খরচ, কমছে ফলন।

সরেজমিনে ডাহিয়া ও ইটালী ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে দেখা যায়, পানিতে নেমে শ্রমিকরা কষ্ট করে ধান কাটছেন। কাটা ধান নৌকায় তুলে আনা হচ্ছে খোলায়, সেখান থেকে মাড়াই করে তুলছেন ঘরে।

কৃষকেরা বলছেন, দ্বিতীয় দফার আকস্মিক বন্যায় তারা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। প্রতি বিঘায় ফলন হচ্ছে ৫ থেকে ৬ মণ ধান। কিন্তু শ্রমিক ও অন্যান্য ব্যয়সহ সব খরচ বাদ দিলে কৃষকের হাতে থাকছে মাত্র ১ থেকে ২ মণ ধান।

ইটালী ইউনিয়নের পশ্চিম মাগুড়া গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম ভুট্টু বলেন, আমরা তিন ভাই মিলে ৭০ বিঘা ধান করেছি। বেশির ভাগ জমিতে নৌকা নিয়ে ধান কাটতে হচ্ছে। শ্রমিকই পাওয়া যাচ্ছে না। পানিতে ধান কাটতে শ্রমিকেরা রাজি হচ্ছেন না। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কাজের জন্য ৫শ থেকে ৭শ টাকা দিতে হচ্ছে।

ইন্দ্রাসন গ্রামের কৃষক সবুজ আলী জানান, ৫ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে ধান করেছি। ফলন ভালো হলেও খরচ এত বেশি যে ১–২ মণ ধান ঘরে তোলাই কঠিন। এখন বর্গার ধান কীভাবে দেব—দুশ্চিন্তায় আছি।

ডাহিয়া ইউনিয়নের কাউয়াটিকরী গ্রামের কৃষক ফরিদ প্রামাণিক বলেন, প্রতি বছর আমন কেটে সরিষা করি। গত বছর ২০ বিঘা করেছি। কিন্তু এবার জমিতে পানি থাকায় সরিষা বপন করতে পারব কিনা চিন্তায় আছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদ জানান, চলতি মৌসুমে ৫ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোনা আমন এবং ২৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের চাষ হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপের বন্যায় বোনা আমনের কিছু ক্ষতি হয়েছে।

তিনি বলেন, কৃষি প্রণোদনা ও পরামর্শ দিয়ে আমরা কৃষকদের সহযোগিতা করছি। পানি নেমে যাচ্ছে। সরিষা ও বোরো চাষে কৃষকেরা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে আশা করছি।




কুমিল্লায় বিএনপি–জামায়াতের সংঘর্ষে আহত ১০ জন

কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ফেসবুক পোস্ট ও বক্তব্য নিয়ে বিরোধের জেরে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

রবিবার দিবাগত রাতে উপজেলার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের দীঘিরপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভাঙচুর করা হয়েছে শহীদ আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদ কার্যালয় ও পাঁচটি মোটরসাইকেল। পরে কালিকাপুর ইউনিয়নের রাজারবাজার এলাকায় ইসলামী পাঠাগারেও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

সোমবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন আহমেদ।

জানা গেছে, রবিবার জগন্নাথদিঘি ইউনিয়নের আরব হোসেন রাজু নামের বিএনপির এক সমর্থকের ফেসবুক পোস্ট ও স্বেচ্ছাসেবকদলের সভায় দেওয়া বক্তব্যকে ‘উসকানিমূলক’ দাবি করে জামায়াতের কয়েকজন সমর্থক সন্ধ্যায় শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ কার্যালয়ে গিয়ে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে কথা বলতে যান। এ সময় উপজেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম রাশেদের নেতৃত্বে কয়েকজন জামায়াত সমর্থকদের ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ। পরে জামায়াত সমর্থকরাও পাল্টা হামলা চালান। এতে রফিক মেম্বার, তপনসহ উভয়পক্ষের ৮–১০ জন আহত হন। একই সময়ে ৫টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং আরব হোসেন রাজুর বাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটে।

পরবর্তী সময়ে ছাত্রদলের একটি অংশের ওপর হামলার অভিযোগে বিএনপি সমর্থকেরা জামায়াত কর্মী ইসমাইল হোসেনকে কুপিয়ে জখম করেন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন বলেন, ‘ছাত্রদলের হামলায় আমাদের কর্মী ইসমাইল আহত হয়েছেন। পরে রাজারবাজার ইসলামী পাঠাগারও ভাঙচুর করা হয়েছে।’

অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শাহ আলম রাজু বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছি। জামায়াতের হামলায় আমাদের ৮–১০ জন আহত হয়েছে।’

চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




ভূমিকম্পকে যেভাবে দেখেন ঈমানদার ও ঈমানহীনরা

ইসলামিক ডেস্কঃ ভূমিকম্পের সেই আকস্মিক ঘটনা, যা হৃদয়কে কাঁপিয়ে দেয়, চোখে এনে দেয় আতঙ্ক এবং মুহূর্তের মধ্যে বহু প্রাণ কেড়ে নেয়—অনেকের চোখে তা শুধু একটি বস্তুবাদী ব্যাখ্যার ঘটনা! তবে এখন ঘটনা শুধু সংখ্যায় নয়, তা যেন হৃদয়ের চোখ দিয়ে দেখা যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমাদের আগে অনেক দৃষ্টান্ত অতিবাহিত হয়ে গেছে। অতএব, পৃথিবীতে ভ্রমণ করো এবং দেখো যারা সত্যকে অস্বীকার করেছিল তাদের পরিণতি কী হয়েছিল। এতে মানবজাতির জন্য রয়েছে একটি স্পষ্ট শিক্ষা আর আল্লাহভীরু মানুষদের জন্য রয়েছে দিকনির্দেশনা ও উপদেশ।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৩৭-১৩৮)

কিন্তু গাফেল, অজ্ঞ ও অবিশ্বাসীদের বৈশিষ্ট্য হলো—আল্লাহর নিদর্শন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া। তা হোক কোরআনের আয়াত বা মহাবিশ্বে ছড়িয়ে থাকা কুদরতের স্পষ্ট চিহ্ন—কোনো কিছুই তাদের মনকে নাড়া দেয় না। আল্লাহ বলেন, ‘মানুষের হিসাব-নিকাশের সময় ঘনিয়ে এসেছে, অথচ তারা উদাসীনতায় মুখ ফিরিয়ে আছে। তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যখনই কোনো নবীন উপদেশ আসে, তারা তা অমনোযোগী অবস্থায় শোনে—তাদের হৃদয় তো অন্যদিকে বিভ্রান্ত থাকে।’
(সুরা : অম্বিয়া, আয়াত : ১৩)

যেকোনো ঘটনা, ইতিহাস ও বাস্তবতাকে একমাত্র বস্তুবাদী চোখে দেখা—ইহজাগতিক ধ্যান-ধারণা মানুষের স্বভাবগত বিষয়। আল্লাহ তাদের মানসিকতার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘আর যদি তারা আকাশের একটি টুকরা পতনশীল অবস্থায় দেখেও, তারা বলবে, ‘এ তো স্রেফ ঘন মেঘ!’  (সুরা : তুর, আয়াত : ৪৪)

একই মনোভাব আমরা দেখি ‘আদ’ জাতির ইতিহাসে। যখন তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে আসন্ন শাস্তির মেঘ দেখল, তারা সরলভাবে ভাবল—এটা বৃষ্টির মেঘ। আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর তারা যখন দেখল যে তা তাদের উপত্যকার দিকে ধেয়ে আসছে, তারা বলল, এ তো এমন একটি মেঘ, যা আমাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষণ করবে, বরং এটি সেই জিনিস, যার জন্য তোমরা তাড়াহুড়া করলে—এক প্রবল বায়ু, যাতে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

এটি তার প্রতিপালকের আদেশে সব কিছু ধ্বংস করে দিল, ফলে এমন হলো যে তাদের ঘরবাড়ি ছাড়া আর কিছুই দৃশ্যমান রইল না।’ (সুরা : আহকাফ, আয়াত : ২৪-২৫)

একজন মুমিন কখনো শুধু বস্তুগত কারণের ওপর নির্ভর করে না। সে কারণগুলোর স্রষ্টা, আসমান-জমিনের মালিক আল্লাহর দিকে ফিরে যায়। যিনি কোনো বিষয়ের ইচ্ছা করলে কেবল বলেন—‘হও’, আর তা হয়ে যায়। মুমিন তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে, যাতে নুহ (আ.)-এর পুত্রের মতো ভুল না করে।

নুহ (আ.) যখন তাকে বলেন, ‘হে আমার প্রিয় পুত্র! আমাদের সঙ্গে ওঠে এসো, আর কাফিরদের সঙ্গে থেকো না।’ পুত্র জবাব দিল সম্পূর্ণ বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গিতে—‘আমি এমন এক পর্বতে আশ্রয় নেব, যা আমাকে পানির হাত থেকে রক্ষা করবে।’ তখন নুহ (আ.) বলেন, ‘আজ আল্লাহর আদেশ থেকে কাউকে রক্ষা করার নেই, তিনি যাকে দয়া করেন তাকে ছাড়া। এরপর তাদের মাঝে ঢেউ এসে দাঁড়াল এবং সে ডুবে যাওয়া লোকদের অন্তর্ভুক্ত হলো।’ (সুরা : হুদ, আয়াত : ৪৩)

ইহজাগতিক ধ্যান-ধারণা লোকেরা কি ভুলে গেছে—অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুলে থাকার ভান করছে যে এই পৃথিবীর ভূত্বক, পর্বত, সাগর—সবই আল্লাহর আদেশেই পরিচালিত? আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোনিবেশ করলেন, যখন তা ছিল ধোঁয়াশাচ্ছন্ন। তিনি আকাশ ও পৃথিবীকে বললেন, ‘চাই স্বেচ্ছায়, চাই অনিচ্ছায়—তোমরা আসো।’ তারা বলল, ‘আমরা স্বেচ্ছায় উপস্থিত হলাম।’

(সুরা : ফুসসিলাত, আয়াত : ১১)

তিনি আদেশ করেন আর সৃষ্টিজগৎ বিনা দ্বিধায় অনুসরণ করে। তিনি তাদের ধারণ করে রেখেছেন তাদের নির্ধারিত ভূমিকায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ আসমান ও জমিনকে ধরে রেখেছেন, যাতে তারা ভেঙে না পড়ে। আর যদি তারা ভেঙে পড়ত, তবে আল্লাহ ছাড়া কেউ নেই যে তাদের ধরে রাখতে পারত।’

(সুরা : ফাতির, আয়াত : ৪১)

বিজ্ঞানীরা কী বলেন? তাঁরা বলেন, অপ্রত্যাশিত! কিন্তু আল্লাহর কাছে কিছুই অপ্রত্যাশিত নয়। কেমন যেন আল্লাহ তাআলা আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন সেই অত্যাচারীর দিকে, যার নাম ছিল কারুন। আল্লাহ যখন তাকে বিপুল সম্পদ দান করেছিলেন, সে অকৃতজ্ঞ হয়ে বলেছিল, ‘আমি তো এগুলো পেয়েছি আমার নিজ জ্ঞানের কারণে!’ এ ছিল তার অহংকার, তার অজ্ঞতা। ফলে শাস্তি ছিল অনিবার্য—‘অতঃপর আমরা তাকে ও তার গৃহকে ভূগর্ভে ধ্বংস করে দিলাম। আল্লাহ ছাড়া তার কোনো দল তাকে সাহায্য করতে পারেনি এবং সে নিজেও আত্মরক্ষা করতে সক্ষম ছিল না।’ (সুরা : কাসাস, আয়াত : ৮১)

আজ আমাদের ওপর যা ঘটেছে, যার জন্য ভূমিকম্পবিদরা এখনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা খুঁজে পাননি, তা নিছক আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি আমাদের কর্ম, আমাদের নৈতিক অবক্ষয় এবং আল্লাহর আইনকে উপহাস করার পরিণতির দিকেই ইঙ্গিত করে—সুদকে বৈধ করা, মদকে সাংস্কৃতিক আড়ালে প্রমোট করা, ইসলামী আইনকে উপহাস করা, আল্লাহর আয়াতের সঙ্গে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা—এসব কি শাস্তিকে আহবান করার মতো কাজ নয়? আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘কত শহর ছিল যারা তাদের পালনকর্তা ও তাঁর রাসুলদের আদেশ অমান্য করেছিল। আর আমরা তাদের কঠোর হিসাবের মুখোমুখি করেছি এবং ভয়াবহ শাস্তি দিয়েছি। ফলে তারা তাদের কর্মের মন্দ ফল ভোগ করেছে এবং তাদের পরিণতি হয়েছে সম্পূর্ণ ধ্বংস।’ (সুরা : তালাক, আয়াত : ৮৯)

শাস্তি শুধু জালিমদের ওপর আসে না, এটি সামাজিক পরীক্ষাও বটে! আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা এমন এক ফিতনাকে ভয় করো, যা শুধু তোমাদের মধ্যের জালিমদের ওপরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।’ (সুরা : আনফাল, আয়াত : ২৫)

অতএব, সমাজে যখন পাপ, অন্যায়, অশ্লীলতা, দুর্নীতি, দুরাচার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে, তখন শাস্তি শুধু অপরাধীদের ওপর নয়, বরং পুরো সমাজের ওপর এসে পড়ে।

পাপাচার তো পশ্চিমে আরো বেশি, তবু তাদের কিছু হয় না—এই আপত্তির জবাব অনেকে বলে থাকে, ‘আমেরিকা ও ইউরোপের মতো দেশগুলোতে নৈতিক অবক্ষয় আমাদের চেয়ে বহুগুণ বেশি। তবু তাদের তো কিছু হয় না! আমরা বলি, তাদের এই বাহ্যিক সমৃদ্ধিকে শাস্তি থেকে নিরাপত্তা ভেবে নেওয়া মারাত্মক ভুল। আল্লাহ যখন কারো প্রতি ক্রুদ্ধ হন, অনেক সময় তাঁর শাস্তি সঙ্গে সঙ্গে আসে না,

বরং আল্লাহ তাদেরকে অবকাশ দেন, যেন তারা বিভ্রান্তির মধ্যে আরো ডুবে যায় এবং পরিণামে একদিন হঠাৎ করে পাকড়াও করা হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা যখন যে বিষয় দ্বারা উপদেশপ্রাপ্ত হয়েছিল তা ভুলে গেল, তখন আমরা তাদের জন্য সবকিছুর দরজা খুলে দিলাম। অবশেষে যখন তারা যা পেয়েছিল তাতে আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেল, তখন আমরা হঠাৎ তাদের পাকড়াও করলাম। এবং তখন তারা হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে গেল।’ (সুরা: আনআম, আয়াত : ৪৪)

মুমিনদের ক্ষেত্রে আল্লাহর রীতি কিছুটা ভিন্ন। মুমিনদের ওপর যদি বিপদ আসে—তা শাস্তি নয়, বরং শিক্ষা, সতর্কতা ও ফিরে আসার জন্য এক দয়াময় আহবান। মুমিন যদি অবাধ্য হয় বা পাপের পথে চলে—আল্লাহ কখনো কখনো দ্রুত আজাব দেন, যাতে সে জেগে ওঠে, তাওবার দিকে ফিরে আসে এবং সঠিক পথ আঁকড়ে ধরে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মানুষের হাতের কৃতকর্মের কারণে স্থলে ও জলে বিপর্যয় দেখা দেয়, যাতে আল্লাহ তাদেরকে তাদের কাজের কিছু স্বাদ আস্বাদন করান, হয়তো তারা (এতে) ফিরে আসবে।’ (সুরা : রুম, আয়াত : ৪১)

আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) বহু আগেই এসব ঘটনার ব্যাপারে আমাদের সতর্ক করে দিয়েছেন। যারা ভূমিকম্পের মতো বিপর্যয় সম্পর্কে পূর্বাভাস জানতে চান, তাদের উদ্দেশে সহিহ বুখারিতে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন, ‘কিয়ামত আসবে না, যতক্ষণ না জ্ঞান কমে যায়, অজ্ঞতা ছড়িয়ে পড়ে, ভূমিকম্প বৃদ্ধি পায় এবং সম্পদ প্রচুর পরিমাণে হয়ে যায়, কিন্তু তা কেউ তেমন গুরুত্ব দেয় না।’ (বুখারি, হাদিস : ৭১২১)

অতএব, আল্লাহর দিকে আন্তরিক প্রত্যাবর্তনই আমাদের পার্থিব ক্ষতি থেকে পরিত্রাণ দিতে পারে।




ইহকাল ও পরকালের শান্তির চাবিকাঠি—তাওবার গুরুত্ব

ইসলামিক ডেস্কঃ মহান আল্লাহকে খুশি করার অন্যতম মাধ্যম তাওবা। তাওবার অর্থ হলো আল্লাহর দিকে ফিরে আসা। অর্থাৎ বাহ্যিকভাবে ও অভ্যন্তরীণভাবে আল্লাহ যে কাজ ভালোবাসেন তা পালন করা এবং বাহ্যিকভাবে ও অভ্যন্তরীণভাবে আল্লাহ যে কাজ অপছন্দ করেন তা ত্যাগ করা। তাই তাওবা শুধু গুনাহ ছেড়ে দেওয়ার নাম নয়।

কারণ গুনাহ ত্যাগ করা তাওবার একটি অংশ হলেও তাওবা পূর্ণতা পায় তখনই, যখন বান্দা আল্লাহর পছন্দের কাজগুলোতে আত্মনিয়োগ করে।

পবিত্র কোরআনে তাওবা শব্দটি অনেক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। কখনো ক্ষমা অর্থে; যেমন পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘এটি তোমাদের জন্য তোমাদের সৃষ্টিকর্তার নিকট উত্তম। অতঃপর আল্লাহ তোমাদের তাওবা কবুল করলেন।
নিশ্চয়ই তিনি তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।’
(সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ৫৪)

এই আয়াতের উচ্চারণে ‌‘ফাতাবা আলাইকুম’ এর স্থলে মহান আল্লাহ তাওবা ক্ষমা অর্থে ব্যবহার করেছেন।

অন্য আয়াতে আবার এই একই শব্দ ফিরে আসার অর্থেও ব্যবহৃত হয়েছে, মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদাররা, তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা করো, খাঁটি তাওবা; আশা করা যায়, তোমাদের রব তোমাদের পাপগুলো মোচন করবেন এবং তোমাদের এমন জান্নাতগুলোতে প্রবেশ করাবেন, যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত, নবী ও তার সঙ্গে যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে সেদিন আল্লাহ লাঞ্ছিত করবেন না। তাদের আলো তাদের সামনে ও ডানে ধাবিত হবে। তারা বলবে, হে আমাদের রব, আমাদের জন্য আমাদের আলো পূর্ণ করে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন; নিশ্চয় আপনি সর্ববিষয়ে সর্বক্ষমতাবান।’
(সুরা : তাহরিম, আয়াত : ৮)

আবার এ শব্দটি নিজেকে শুধরে নেওয়ার অর্থেও ব্যবহার করা হয়। যেমন—কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘কিন্তু যারা তাওবাহ করে ও সংশোধিত হয় এবং সত্য প্রকাশ করে, বস্তুত আমি তাদের প্রতি ক্ষমা প্রদানকারী, করুণাময়।’

(সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৬০)

তাই নিজেকে ইহকালীন ও পরকালীন শাস্তি থেকে বাঁচাতে প্রকৃত তাওবার বিকল্প নেই। খাঁটি মনে অতীতের গুনাহে অনুতপ্ত হয়ে মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে সামনের দিনগুলোতে নিজের আমল-আখলাক পরিশুদ্ধ করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

কারণ যারা খাঁটি মনে মহান আল্লাহর কাছে তাওবা করে, মহান আল্লাহ তাদের গুনাহগুলোকে মাফ করে দেন। তাদের পাপকে পুণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দেন। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তবে যে তাওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে। পরিণামে আল্লাহ তাদের পাপগুলোকে পুণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা : ফুরকান, আয়াত : ৭০)

সুবহানাল্লাহ, মহান আল্লাহ যেমন মানুষের পাপের কারণে ক্রোধান্বিত হন আবার তারা যখন অনুতপ্ত হয়ে ফিরে আসে, তখন খুশিও হন। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, আল্লাহ তাআলা তাঁর মুমিন বান্দার তাওবার কারণে ওই ব্যক্তির চেয়েও অধিক আনন্দিত হন, যে লোক ছায়া-পানিহীন আশঙ্কাপূর্ণ বিজন মাঠে ঘুমিয়ে পড়ে এবং তার সঙ্গে থাকে খাদ্য, পানীয়সহ একটি সওয়ারি। এরপর ঘুম থেকে সজাগ হয়ে দেখে যে সওয়ারি কোথায় অদৃশ্য হয়ে গেছে। তারপর সে সেটি খুঁজতে খুঁজতে তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়ল এবং বলে, আমি আমার পূর্বের জায়গায় গিয়ে চিরনিদ্রায় আচ্ছন্ন হয়ে মারা যাব। (এ কথা বলে) সে মৃত্যুর জন্য বাহুতে মাথা রাখল। কিছুক্ষণ পর জাগ্রত হয়ে সে দেখল, পানাহারসামগ্রী বহনকারী সওয়ারিটি তার কাছে। (সওয়ারি ও পানাহারসামগ্রী পেয়ে) লোকটি যে পরিমাণ আনন্দিত হয়, মুমিন বান্দার তাওবার কারণে আল্লাহ তার চেয়েও বেশি আনন্দিত হন। (মুসলিম, হাদিস : ৬৮৪৮)

আর আল্লাহ যখন বান্দার ওপর সন্তুষ্ট হয়ে যায়, তখন তার দুনিয়া ও আখিরাতে কোনো ভয় থাকে না। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে (এটা শিক্ষা দেয়) যে তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা চাও, আর অনুশোচনা ভরে তাঁর দিকেই ফিরে এসো, তাহলে তিনি একটা নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত তোমাদের উত্তম জীবনসামগ্রী ভোগ করতে দেবেন, আর অনুগ্রহ লাভের যোগ্য প্রত্যেক ব্যক্তিকে তিনি তাঁর অনুগ্রহ দানে ধন্য করবেন। আর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও তাহলে আমি তোমাদের ওপর বড় এক কঠিন দিনের আজাবের আশঙ্কা করছি। (সুরা : হুদ, আয়াত : ৩)




ইন্টারকে হারিয়ে লিগ টেবিলের দুইয়ে উঠে এলো এসি মিলান

খেলাধুলা ডেস্কঃ দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন এবং গোলরক্ষক মাইক মিয়াঁর অসাধারণ নৈপুণ্যে নগরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইন্টার মিলানকে হারিয়ে সেরি আ’য় গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নিয়েছে এসি মিলান। সান সিরোয় রবিবার রাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ১–০ গোলের জয় পায় রসোনেরিরা।

প্রথমার্ধে নিষ্প্রভ থাকলেও বিরতির পর ছন্দ ফিরে পায় এসি মিলান। ৫৪তম মিনিটে আলেক্সিসের নিচু শট ইন্টার গোলরক্ষক ইয়ান সমার ঠেকিয়ে দিলে রিবাউন্ড বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে নেন ক্রিস্টিয়ান পুলিসিক।

৭৪তম মিনিটে ম্যাচে ফিরতে সুবর্ণ সুযোগ পায় ইন্টার মিলান। বক্সে মার্কাস থুরামকে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় তারা। কিন্তু হাকান কালহানোগলুর নেওয়া স্পট কিক ঝাঁপিয়ে দারুণভাবে রুখে দেন গোলরক্ষক মিয়াঁ। এই সেভই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়।

বল দখল ও আক্রমণে প্রথমার্ধে এগিয়ে ছিল ইন্টার। ১০টি শট নিয়ে ২টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয় তারা। মার্কাস থুরামের হেড এবং লাউতারো মার্তিনেসের শট ঠেকিয়ে দেন মিয়াঁ।
অপরদিকে, এসি মিলানের চারটি শটই ছিল লক্ষ্যভ্রষ্ট।

এই জয়ে লিগ টেবিলে পাঁচ নম্বর থেকে দুইয়ে উঠে এসেছে এসি মিলান। ১২ ম্যাচে ৭ জয়, ৪ ড্রয়ে তাদের পয়েন্ট ২৫। সমান পয়েন্ট নিয়ে নাপোলি আছে তিনে।

অপরদিকে, মৌসুমের চতুর্থ হার দিয়ে এক ধাপ পিছিয়ে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে চারে নেমে গেছে ইন্টার মিলান। শীর্ষে থাকা রোমার পয়েন্ট ২৭।




অবিশ্বাস্য কীর্তি—এখনও একক রেকর্ডের মালিক মেসি

খেলাধুলা ডেস্কঃ বয়স যেন তার কাছে কেবলই একটি সংখ্যা। গোল ও অ্যাসিস্টের সূচকে লিওনেল মেসির উর্ধ্বগতির ছুটে চলা থামার মতো নয়। তা কোথায় গিয়ে থামবে—এখনই বলা কঠিন। আজ আবারও প্রমাণ মিলল কেন তিনি এখনও ফুটবলের সবচেয়ে বড় নামগুলোর একজন। এক ম্যাচে হ্যাটট্রিক অ্যাসিস্টের সঙ্গে করেছেন এক মনোমুগ্ধকর গোল। আর সেই নৈপুণ্যেই মেজর লিগ সকার (এমএলএস) প্লে-অফে প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠেছে ইন্টার মায়ামি। এই সাফল্যের নায়ক যে মেসি—সন্দেহ নেই!

মায়ামিকে তিন গোলে সহায়তা করে মেসির সব মিলিয়ে অ্যাসিস্টের সংখ্যা হলো ৪০৪টি। হাঙ্গেরিয়ান কিংবদন্তি ফ্রেঞ্চ পুসকাসের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট এখন মেসির। পেশাদার ফুটবলে সব মিলিয়ে মেসির গোল হলো ৮৯৬টি।

মেসির গোল-অ্যাসিস্ট মিলিয়ে সংখ্যাটা ১৩০০। ফুটবল ইতিহাসে এই অবিশ্বাস্য রেকর্ডটি শুধুই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি মেসির। মেসির পরে থাকা পর্তুগাল কিংবদন্তি ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর গোল ও অ্যাসিস্টের সংখ্যা ১২১৩টি।

১৩শ গোল করতে মেসির লেগেছে ১১৩৫ ম্যাচ। রোনালদোর এখন পর্যন্ত খেলেছেন ১২৯৮ ম্যাচ। তাঁর চেয়ে ১৬৩ ম্যাচ কম খেলে ১৩০০ গোল অবদানের মাইলফলকে পৌঁছেছেন। প্রত্যেক ম্যাচে মেসির গড় গোল অবদান ১.১৪৫, রোনালদোর ০.৯৩৪।

মেসির ১২টি গোলে অবদান এক এমএলএস পোস্টসিজনে নতুন রেকর্ড। ১৯৯৯ সালে আন্টে রাজভেরে করা ১০ গোল অবদানকে ভেঙে দিয়েছেন ৩৮ বছর বয়সী মেসি।




তাইপেকে হারিয়ে ভারতের টানা দ্বিতীয় শিরোপা

খেলাধুলা ডেস্কঃ নারী কাবাডি বিশ্বকাপের ফাইনালে টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে চাইনিজ তাইপেকে হারিয়ে টুর্নামেন্টের শিরোপা নিজেদের কাছেই রাখল ভারত।

সোমবার ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ৩৫-২৮ পয়েন্টের জয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করলো কাবাডি বিশ্বের এই পরাশক্তিরা।

এর আগে ২০১২ সালে প্রথম নারী কাবাডি বিশ্বকাপে ইরানকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। দীর্ঘ বিরতির পর এবারের আসরেও সেই আধিপত্য বজায় রাখল তারা।

২০১২ সালের মতো এবারের আসরেও খেলা ৬টি ম্যাচের সবকটিতে জিতে শতভাগ সাফল্যের অনন্য রেকর্ড গড়ল ভারতীয় নারী দল।

ম্যাচের নাটকীয়তা ও সাঞ্জু দেবীর ম্যাজিক ফাইনালের আগে টস করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম। টস জিতে ভারতকে প্রথমে রেইড করার আমন্ত্রণ জানায় চাইনিজ তাইপে। সাঞ্জু দেবী প্রথম রেইডেই পয়েন্ট আনেন, জবাবে চুয়াং ইয়া-হান বোনাস পয়েন্ট নিয়ে লড়াই জমিয়ে তোলেন। এক পর্যায়ে স্কোরলাইন ৭-৭ সমতায় দাঁড়ায়। এরপর পূজাকে সুপার ট্যাকল করে ৯-৭ পয়েন্টে এগিয়ে যায় তাইপে।

তবে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ১২তম মিনিটে। ভারতীয় তারকা সাঞ্জু দেবী একাই প্রতিপক্ষের ৪ খেলোয়াড়কে আউট করে দলকে ১৩-১২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। এরপর দ্রুতই তাইপেকে অলআউট করে ১৭-১৪ পয়েন্টের লিড নেয় ভারত। প্রথমার্ধ শেষ হয় ২০-১৬ পয়েন্টে ভারতের এগিয়ে থাকার মধ্য দিয়ে।

দ্বিতীয়ার্ধে পুষ্পা রেইডে তিন পয়েন্ট তুলে ভারতের লিড আরও বাড়ান। তবে চাইনিজ তাইপে হাল ছাড়েনি। ব্যবধান কমিয়ে ২৫-২২ এ নিয়ে আসে তারা। ম্যাচ শেষ হওয়ার মাত্র চার মিনিট আগে সুপার ট্যাকল করে স্কোরলাইন ৩০-২৬ এ নামিয়ে আনে তাইপে, যা ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনে। কিন্তু শেষলগ্নে অভিজ্ঞতার কাছে হার মানতে হয় তাদের। তাইপেকে দ্বিতীয়বার অলআউট করে ৩৫-২৮ পয়েন্টের নিশ্চিত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ভারত।

মেজর কোনো আসরে এ নিয়ে চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে টানা তিন ম্যাচে অপরাজিত থাকল ভারত। এর আগে ২০২৩ এশিয়ান গেমসের গ্রুপ পর্বে দুই দলের ম্যাচ ড্র হয়েছিল এবং ফাইনালে মাত্র ১ পয়েন্টের ব্যবধানে (২৬-২৫) জিতেছিল ভারত।




এক বছরে সর্বাধিক ম্যাচ খেলে নতুন রেকর্ড গড়লেন সালমান

খেলাধুলা ডেস্কঃ ২০২৫ সাল পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসে হয়ে উঠেছে ব্যতিক্রমী। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তান দল ইতিমধ্যেই খেলেছে ৫৪টি ম্যাচ, যা চলতি বছরে বিশ্বের অন্য কোনো দলের চেয়ে অনেক বেশি। দলের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সালমান আঘা অংশ নিয়েছেন সবকটিতে, যা তাকে ইতিহাস গড়ার সুযোগ দিয়েছে।

রবিবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচে মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই আগা এই রেকর্ড গড়েন। এই ম্যাচে তিনি এক ক্যালেন্ডার বছরে সর্বাধিক আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার রেকর্ডে পৌঁছান ৫৪ ম্যাচে। এই রেকর্ডের আগে এক ক্যালেন্ডার বছরে সর্বাধিক ম্যাচ খেলার রেকর্ড ছিল ৫৩ ম্যাচ। তা দখল করেছিলেন রাহুল দ্রাবিড় (ভারত, ১৯৯৯), মোহাম্মদ ইউসুফ (পাকিস্তান, ২০০০) এবং এমএস ধোনি (ভারত/এশিয়া একাদশ, ২০০৭)। ১৯৯৭ সালে শচীন টেন্ডুলকার প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ৫০টির বেশি ম্যাচ খেলেছিলেন।

ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচে পাকিস্তান প্রথমে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৯৫ রান সংগ্রহ করে। ইনিংসের নায়ক ছিলেন বাবর আজম, খেলেন দৃষ্টিনন্দন ৭৪ রান (৫২ বল)। সালমান আঘা ৬ নম্বরে নেমে করেন মাত্র ১ রান। অন্যদিকে, ফখর জামান মাত্র ১০ বলে ২৭ রান করে ঝড় তোলেন।

জবাবে জিম্বাবুয়ে ১২৬ রানে অলআউট হয়। পাকিস্তানের বড় জয়ে অবদান রাখেন তরুণ স্পিনার উসমান তারিক, তিনি মাত্র দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১৮ রান খরচায় ৪ উইকেট নেন এবং হ্যাটট্রিকও পূর্ণ করেন।




অভিনেত্রীর জন্য পাত্র দরকার—রাস্তাজুড়ে ঝুলছে পোস্টার

বিনোদন ডেস্কঃ কলকাতা শহরের বিভিন্ন অলিগলিতে ঝুলছে জনপ্রিয় অভিনেত্রী রুক্মিণী মৈত্রের ছবিসহ ‘পাত্র চাই’ লেখা পোস্টার। সাদাকালো সেই পোস্টারে পাত্রের যোগ্যতার বিস্তারিত বিবরণও দেওয়া আছে। হঠাৎ এমন পোস্টার দেখে পথচারীদের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি হয়।

প্রথমে অনেকেই ভেবেছিলেন, রুক্মিণীর ব্যক্তিগত জীবনের বিষয়ে এটি কোনো ঘোষণা। কিন্তু পোস্টারের মালিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে দীপক চক্রবর্তীর নাম! প্রশ্ন ওঠে, কে এই দীপক চক্রবর্তী? পরে জানা যায়, অভিনেতা চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তীর চরিত্রের নাম এটি!

এতে খানিকটা ধোঁয়াশা কাটে। জানা যায়, এটি রুক্মিণী অভিনীত আসন্ন সিনেমা ‘হাঁটি হাঁটি পা পা’র প্রচারণার অংশ।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর, সেই সিনেমায় রুক্মিণীর বাবার চরিত্রে অভিনয় করছেন চিরঞ্জিৎ। তার চরিত্রই পর্দায় মেয়ের জন্য ‘পাত্র খুঁজছেন’, এ ধারণা থেকেই এই ব্যতিক্রমী প্রচারণা।

‘হাঁটি হাঁটি পা পা’ টিম জানিয়েছে, প্রচারের ধরন বদলে যাওয়ায় এখন দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণে নতুন পদ্ধতির আশ্রয় নিতে হয়। সেই কারণে শহরজুড়ে লাগানো হয়েছে এমন পোস্টার, যা দেখে অনেকে থমকে দাঁড়াচ্ছেন, কেউ কেউ আবার মোবাইলে খুঁজে দেখছেন, রুক্মিণীর বিয়ে কবে? এমনকি কেউ কেউ বিভ্রান্তও হচ্ছেন।

দর্শক প্রতিক্রিয়া থেকেই টিম ধারণা করছে, প্রচারণা সফল হয়েছে।

ছবির প্রচারে আগে এমন ব্যতিক্রমী কৌশল দেখা গেলেও সব সময় ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে এবার প্রচারণা নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ লক্ষ করা যাচ্ছে।

বাবা-মেয়ের সম্পর্কের টানাপড়েনকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে ‘হাঁটি হাঁটি পা পা’। ছবিটি পরিচালনা করেছেন অর্ণব মিদ্যা।




অনলাইন-অফলাইনের বাজে মন্তব্যকারীদের সমান শাস্তির দাবি হুমার

বিনোদন ডেস্কঃ অভিনেত্রীদের কমেন্ট বক্সে অশালীন মন্তব্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণ নতুন নয়। এবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন বলিউড অভিনেত্রী হুমা কুরেশি। তার মতে, বাস্তবে নারীদের হয়রানি করলে যে শাস্তি হয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় বাজে মন্তব্য করলেও একই শাস্তি হওয়া উচিত।

সম্প্রতি দ্য মেল ফেমিনিস্ট-এর সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন অভিনেত্রী।

হুমা বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ কেউ বিকিনি পরা ছবি পোস্ট করতে বলেন। আবার পোস্ট করলে লেখেন, এগুলো কী করছেন? এই দ্বিচারিতা যেমন বিরক্তিকর, তেমনই দুঃখজনক। রাস্তায় নারীদের বাজে মন্তব্য করলে যেমন শাস্তি হয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় একই কাজ করলে একই ধরনের শাস্তি হওয়া উচিত। কোনো পার্থক্য থাকা উচিত নয়।

তার কথায়, যদি কেউ আমার মেসেজে অশ্লীল ছবি বা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন, তবে তারও শাস্তি হওয়া উচিত। আমি শুধু এইটুকুই বলতে চাই, নারীরা কী পোশাক পরছেন, তাদের মেকআপ, জীবনশৈলী, কাজ বা রাতে কখন বাড়ি ফিরছেন—এসব নিয়ে সমালোচনা করা বন্ধ করুন।

অভিনেত্রীর এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন অনেকে। তাদের কথায়, বাজে মন্তব্যকারীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা উচিত।

বর্তমানে বেশ ভালো সময় কাটছে হুমার। ‘দিল্লি ক্রাইম ৩’ এবং ‘মহারানি ৪’ সিরিজ দুটি বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে দর্শক মহলে।

রচিত সিংয়ের সঙ্গে প্রেম করছেন হুমা—সম্প্রতি এমন গুঞ্জন ছড়িয়েছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেননি অভিনেত্রী। তবে সোনাক্ষীর রিসেপশনে রচিতের সঙ্গে একই রঙের পোশাক পরে আসতে দেখা যায় পর্দার মহারানিকে।