হামের থাবায় দিশেহারা শৈশব, ৯ মাসের কমবয়সীরা মারা যাচ্ছে বেশি

ডেস্ক নিউজঃ হামের ভয়াল থাবায় দেশে অকালে ঝরে যাচ্ছে একের পর এক নিষ্পাপ প্রাণ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান জনমনে এক গভীর ও বেদনাবিধুর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, কেন নয় মাসের কম বয়সি শিশুরা হামের কাছে এভাবে হার মানছে? নিয়ম অনুযায়ী, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) অধীনে এই বয়সি শিশুদের হাম-রুবেলা বা এমআর টিকা পাওয়ার কথা নয়। চিকিৎসা বিজ্ঞান বলে, জন্মের পর অন্তত ছয় মাস মায়ের শরীর থেকে পাওয়া অ্যান্টিবডি বা সুরক্ষার অদৃশ্য বর্ম শিশুদের এই ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা করে। অথচ সেই প্রাকৃতিক বর্ম আজ যেন পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

সরকারি হিসাব বলছে এক ভয়ঙ্কর বাস্তবতার কথা। দেশজুড়ে হামের উপসর্গ ও সংক্রমণে প্রায় ৪৮১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ৮০ জন নিশ্চিতভাবেই হামে প্রাণ হারিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিস্তারিত বিশ্লেষণে থাকা ৬০টি মৃত শিশুর মধ্যে ২৯ জনেরই বয়স নয় মাসের নিচে। তিন মাস থেকে শুরু করে আট মাস বয়সি শিশুদের এই মৃত্যুর মিছিল জনস্বাস্থ্যের জন্য এক অশনিসংকেত। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, যে বয়সের শিশুদের প্রাকৃতিকভাবে সুরক্ষিত থাকার কথা, তারা কেন এত দ্রুত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে?

বিশেষজ্ঞরা এই মর্মান্তিক পরিস্থিতির পেছনে মূলত মায়ের শরীরে অ্যান্টিবডির অভাব এবং দেশব্যাপী বিরাজমান চরম অপুষ্টিকে দায়ী করছেন। একসময় দেশে ৯৫ শতাংশ মানুষের যে শক্তিশালী ‘হার্ড ইমিউনিটি’ বা সামষ্টিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার বলয় ছিল, তা আজ অনেকটাই ভেঙে পড়েছে। মায়েদের অপুষ্টির কারণে শিশুরা জন্মগতভাবেই রোগ প্রতিরোধের কাঙ্ক্ষিত ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তার ওপর আধুনিক জীবনযাত্রায় অনেক ক্ষেত্রে শালদুধ পানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়া শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও দুর্বল করে দিচ্ছে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।

সুরক্ষার এই দেয়াল ধসে পড়ার পেছনে বিগত বছরগুলোর টিকাদান কর্মসূচির ধারাবাহিকতা ক্ষুণ্ন হওয়াকে একটি বড় কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। ২০২০ সালে মহামারীর ধাক্কা এবং পরবর্তীতে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে টিকাদান কার্যক্রমে বড় ধরনের ছেদ পড়ে। বন্ধ ছিল গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনও। এই পুষ্টি ঘাটতি এবং টিকার আওতার বাইরে থাকা শিশুদের পুঞ্জীভূত সংখ্যাই আজকের এই বিপর্যয়ের পটভূমি তৈরি করেছে। ইউনিসেফের তথ্যমতে, আক্রান্ত শিশুদের ৬৫ শতাংশই জীবনের কোনো পর্যায়ে কোনো টিকাই পায়নি।

হামের টিকার কার্যকারিতার একটি নির্দিষ্ট বিজ্ঞান রয়েছে, যা পুরোপুরি বয়সের ওপর নির্ভরশীল। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, ছয় থেকে নয় মাস বয়সিদের ক্ষেত্রে এই টিকা মাত্র ৫০ শতাংশ কাজ করে, যা বয়স বাড়ার সাথে সাথে ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছায়। কিন্তু বর্তমানের এই ভয়াবহ প্রকোপের মুখে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাধারণ নিয়মের বাইরে গিয়ে ভাবতে বাধ্য হয়েছেন নীতিনির্ধারকরা। শিশুদের মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে টিকার কার্যকারিতা কিছুটা কম হলেও, বাধ্য হয়েই টিকা প্রদানের বয়সসীমা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতায় বাংলাদেশের টিকাবিষয়ক সর্বোচ্চ কারিগরি কমিটি নাইট্যাগ এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। নিয়মিত নয় মাসের পরিবর্তে এবার প্রাদুর্ভাব সামাল দিতে ছয় মাস বয়সি শিশুদেরও হামের টিকার আওতায় আনা হয়েছে। গত ২০ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ কার্যক্রমে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখের বেশি শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। যদিও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর শতভাগ সাফল্যের দাবি করেছে, ইউনিসেফের মাঠ পর্যায়ের যাচাইয়ে এখনো শহর ও গ্রামের বহু শিশুর টিকা না পাওয়ার উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে, যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পথে একটি বড় বাধা।

হাসপাতালগুলোর চিত্র আরও বেশি করুণ ও হতাশাজনক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, হাসপাতালে ভর্তির প্রথম ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে বহু শিশু। চিকিৎসকরা বলছেন, হামের সরাসরি কোনো অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই; হাম থেকে নিউমোনিয়া বা অন্যান্য জটিলতা দেখা দিলেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অভিভাবকরা শিশুদের হাসপাতালে আনছেন একেবারে শেষ মুহূর্তে, যখন লাইফ সাপোর্ট দিয়েও তাদের বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে না। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসার অভাব এবং হাসপাতালগুলোর কাঠামোগত দুর্বলতার কারণেই মৃত্যুর হার জ্যামিতিক হারে বাড়ছে।

মৃত্যুর এই বিভীষিকা কবে থামবে, তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট করে কেউ কিছু বলতে পারছেন না। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কণ্ঠে কিছুটা আশার সুর শোনা গেছে। যেহেতু টিকার পূর্ণাঙ্গ প্রভাব তৈরি হতে অন্তত তিন সপ্তাহ সময় লাগে, তাই মে মাসের শেষে শুরু হওয়া টিকাদানের সুফল জুনের মাঝামাঝি বা শেষ দিকে দৃশ্যমান হতে পারে বলে তারা মনে করছেন। এরই মধ্যে উচ্চঝুঁকি বিবেচনায় যেসব এলাকায় আগে টিকাদান সম্পন্ন হয়েছে, সেখানে সংক্রমণের হার কিছুটা কমে আসার প্রমাণ মিলেছে।

তবে এই মহামারী আকারের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় কেবল টিকাদানই যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা। অতীতে কভিড মহামারীর সময় যেমন জরুরি রেসপন্স টিম গঠন করে হাসপাতালগুলোতে শয্যা ও আইসিইউর তথ্য সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছিল, হামের ক্ষেত্রেও তেমন একটি সমন্বিত উদ্যোগ সময়ের দাবি। প্রত্যন্ত অঞ্চলের রোগীদের জন্য যাতায়াত ও চিকিৎসার ব্যয়ভার সহজলভ্য করা না গেলে, শুধু দীর্ঘসূত্রিতা ও সচেতনতার অভাবে আরও অনেক নিষ্পাপ প্রাণ ঝরে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে এই অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে একটি সুসংগঠিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।




বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক শুরু আজ

ডেস্ক নিউজঃ পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) ৯০তম বৈঠক শুরু হতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) তিন দিনব্যাপী এই বৈঠকের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে, যা আগামী শনিবার পর্যন্ত চলবে। বুধবার (২০ মে) বৈঠকে অংশ নিতে কলকাতায় পৌঁছেছে বাংলাদেশের ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল।

বাংলাদেশের তরফে দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশের জয়েন্ট রিভার কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ আনোয়ার কবির। এছাড়া বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে আছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাউথ এশিয়া উইংয়ের ডিরেক্টর মোহাম্মদ বাকি বিল্লাহ। আলোচনায় অংশ নেবেন বাংলাদেশের দু’জন কূটনীতিক মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন। তিনি দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সেলর-পলিটিক্যাল এবং কলকাতায় বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি (পলিটিক্যাল) মোহাম্মদ ওমর ফারুক আকন্দ।

ভারতের তরফে নেতৃত্ব দিচ্ছেন কেন্দ্রের জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্ম সচিব এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সেচ দপ্তরের একজন চিফ ইঞ্জিনিয়ার।

এবারের বৈঠকের গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির পুনর্নবীকরণ ইস্যু আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এটিই দুই দেশের যৌথ নদী কমিশনের শেষ বৈঠক।

বৃহস্পতিবার বৈঠকের শুরুতেই বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল মুর্শিদাবাদে যাবে। সেখানে বৈঠকের ফাঁকেই ফারাক্কায় নেমে গঙ্গা নদীর পানি পরিমাপ করবেন তারা। পরের দিন শুক্রবার তারা ফিরে আসবেন কলকাতায়। কলকাতার শুক্র ও শনিবার একটি অভিজাত হোটেলে হবে বৈঠক।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ৩০ বছর মেয়াদি ওই চুক্তি অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে মে এই শুষ্ক মৌসুমে দুই দেশের মধ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি বণ্টনের বিধান রয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, গঙ্গায় পানির প্রবাহ ৭৫ হাজার কিউসেকের বেশি হলে ভারত পাবে ৪০ হাজার কিউসেক এবং অবশিষ্ট পানি পাবে বাংলাদেশ।

পানির প্রবাহ ৭০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার কিউসেকের মধ্যে থাকলে বাংলাদেশ পাবে ৪০ হাজার কিউসেক এবং বাকি অংশ পাবে ভারত। আর পানির প্রবাহ ৭০ হাজার কিউসেক বা তার কম হলে দুই দেশ সমানভাবে পানি ভাগ করে নেবে।




অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন স্থগিত

ডেস্ক নিউজঃ শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি চাপ কমানো এবং বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম স্থগিত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এতে বলা হয়েছে, দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে। সাধারণত একজন শিক্ষার্থী ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির সময় একবার এবং পরে নবম শ্রেণিতে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবার রেজিস্ট্রেশন করে।

সেই প্রেক্ষাপটে অষ্টম শ্রেণিতে পুনরায় রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে। একই সঙ্গে এটি অভিভাবকদের মাঝেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীন ২০২৬ সালের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত নির্দেশনার অনুলিপি সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর এবং দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে। ফলে ২০২৬ সালের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের আপাতত অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে না।




ঈদের ফিরতি যাত্রার ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু আজ

ডেস্ক নিউজঃ পবিত্র ঈদুল আজহা শেষে রাজধানীমুখী যাত্রীদের ফিরতি যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আজ থেকে আন্তঃনগর ট্রেনের অগ্রিম ফিরতি টিকিট বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। শতভাগ আসনের টিকিট অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পশ্চিমাঞ্চলের আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। আর পূর্বাঞ্চলের ট্রেনগুলোর টিকিট মিলবে দুপুর ২টা থেকে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ পাওয়া যাচ্ছে ৩১ মে’র ফিরতি যাত্রার টিকিট। এছাড়া ১ জুনের টিকিট ২২ মে, ২ জুনের টিকিট ২৩ মে, ৩ জুনের টিকিট ২৪ মে এবং ৪ জুনের ফিরতি যাত্রার টিকিট ২৫ মে বিক্রি করা হবে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষে কেনা অগ্রিম টিকিট ফেরত দেওয়া যাবে না। একজন যাত্রী একবারে সর্বোচ্চ চারটি আসনের টিকিট কিনতে পারবেন। তবে একাধিক যাত্রীর জন্য টিকিট কাটতে হলে সহযাত্রীদের নাম টিকিট কেনার সময় উল্লেখ করতে হবে।

এর আগে গত ১৩ মে ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়। ওইদিন ২৩ মে যাত্রার টিকিট বিক্রি করা হয়। পরবর্তী দিনগুলোতে পর্যায়ক্রমে ২৪ মে, ২৫ মে, ২৬ মে ও ২৭ মে’র যাত্রার টিকিট বিক্রি বিক্রি করে বাংলাদেশ রেলওয়ে।




।শোক বিজ্ঞপ্তি। রহিমা বেগমের মৃত্যুতে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের শোক।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জাতীয় পার্টি, কাফরুল থানা কমিটির আহবায়ক এস এম বদরুল আলমের মমতাময়ী মাতা রহিমা বেগম ( ৬৮) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি দীর্ঘদিন মরণব্যাধি ক্যান্সারের সাথে লড়াই করে ২০মে ২০২৬, বুধবার রাত ৯ঃ০০টায় ঢাকার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি চার পুত্র এক কন্যা সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহম্মদ কাদের, রহিমা বেগমের মৃত্যুতে শোকবার্তা প্রেরণ করেছেন। শোকবার্তায় পার্টি চেয়ারম্যান মরহুমার বিদেহী আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।

পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী রহিমা বেগমের মৃত্যুতে অনুরূপ এক শোকবার্তা প্রেরণ করেছেন।

পার্টির প্রেসিডিয়ামের সদস্য ও সাংস্কৃতিক পার্টির সভাপতি শেরিফা কাদের, রহিমা বেগমের মৃত্যুতে গভীর শোক এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।




জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায়

ডেস্ক নিউজ : জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে ঈদের প্রধান জামাত সকাল ৮টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত হবে।

বুধবার (২০ মে) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মামুন আল মোর্শেদ চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঈদুল আজহা উদযাপন নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো কাজ করছে।

আগামী ২৮ মে দেশে মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা বা কুরবানির ঈদ উদযাপিত হবে। ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত এ উৎসবে মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে তাদের প্রিয় বস্তু অর্থাৎ পশু কোরবানি করে থাকেন। ঈদুল আজহার দিন ঈদগাহ ও মসজিদে মুসল্লিরা দুই রাকাত ঈদের ওয়াজিব নামাজ আদায় করেন।

প্রধান জামাত ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। প্রধান জামাতে সাধারণত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কূটনীতিকসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ অংশ নিয়ে থাকেন।

উল্লেখ্য, আগামী ২৮ মে দেশে মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা বা কুরবানির ঈদ উদযাপিত হবে।




চীন বেঁকে বসলে মুখ থুবড়ে পড়বে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বাণিজ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে নিজেদের ড্রোনের ঘাটতি এবং সক্ষমতা বুঝতে পেরেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন সেই কারণে সম্প্রতি আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ড্রোন অর্ডার দিয়েছে। তবে এখানে প্রয়োজন চীনের সহায়তা। তারা যদি বেঁকে বসে তবে মুখ থুবড়ে পড়বে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৮ সালের শুরুর মধ্যে ৩০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখের বেশি ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’ তৈরি করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। সেই লক্ষ্যে তারা কাজও শুরু করে দিয়েছে।

এই ড্রোন চালাতে প্রয়োজন হয় বিশেষ ধরনের ‘রেয়ার আর্থ ম্যাগনেট’। আর গোল্ডম্যান সাক্সের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ৯৮ শতাংশ ম্যাগনেট তৈরি হয় চীনে। অর্থাৎ মোটাদাগে এখানে চীনের ওপর নির্ভরশীল যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন রেয়ার আর্থ ও ম্যাগনেট উপাদান উৎপাদনকারী কোম্পানি রিঅলয়েস বলছে, উত্তর আমেরিকায় চীনের বাইরে একমাত্র পূর্ণাঙ্গ ‘মাইন-টু-ম্যাগনেট’ ভারী রেয়ার আর্থ সরবরাহ ব্যবস্থা তাদের রয়েছে। অর্থাৎ খনি থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াজাত ধাতু, অ্যালয় এবং সামরিক ম্যাগনেট তৈরির কাঁচামাল—সবই তারা সরবরাহ করতে পারে।

তবে হঠাৎ ড্রোন নিয়ে এত তাড়াহুড়া?

বিশ্লেষকদের মতে, এর বড় কারণ ইউক্রেন যুদ্ধ। গত দুই বছরে ড্রোন যুদ্ধের ধরন পুরো বদলে দিয়েছে। শুধু ২০২৪ সালেই ইউক্রেন ১২ লাখের বেশি ড্রোন তৈরি করেছে। আর এসব ড্রোনের প্রায় সবগুলোর ম্যাগনেটই এসেছে চীন থেকে।

এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে—যদি চীন সরবরাহ বন্ধ করে দেয়, তাহলে পশ্চিমা বিশ্বের সামরিক শিল্প বড় সংকটে পড়তে পারে।

ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন পদক্ষেপ

জুন মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘আনলেশিং আমেরিকান ড্রোন ডমিনেন্স’  নামে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। যার লক্ষ্য ছিল সামরিক ও বাণিজ্যিক উভয় খাতে ড্রোন উৎপাদন বাড়ানো। পরের মাসে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ শত শত মার্কিন ড্রোন পণ্য কেনার পরিকল্পনা অনুমোদন করেন।

এছাড়া ২০২৬ সালের প্রতিরক্ষা বাজেটে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ও ড্রোন ব্যবস্থার জন্য ১৩.৬ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

মূলত আসল সংকট অন্য জায়গায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু টাকা ঢাললেই সমস্যার সমাধান হবে না। কারণ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১,৯০০ অস্ত্র ব্যবস্থার অন্তত ৮০ হাজার যন্ত্রাংশ চীনা রেয়ার আর্থের ওপর নির্ভরশীল। এগুলোর মধ্যে রয়েছে—ড্রোন মোটর, গাইডেন্স সিস্টেম, সেন্সর, উন্নত যুদ্ধ প্রযুক্তি।

যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন ও স্বয়ংক্রিয় যুদ্ধ প্রযুক্তি খাতে ইতোমধ্যে বড় বড় কোম্পানি কাজ বাড়াচ্ছে। তারা এআই-চালিত যুদ্ধ ব্যবস্থা, নজরদারি ড্রোন ও আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করছে। তবে সমস্যা হলো—এসব প্রযুক্তির প্রায় সবই শেষ পর্যন্ত চীনা রেয়ার আর্থ ম্যাগনেটের ওপর নির্ভরশীল।

সাধারণ ম্যাগনেটের জন্য ‘লাইট রেয়ার আর্থ’ ব্যবহার হয়। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত ড্রোন বা জেট ইঞ্জিনের উচ্চ তাপমাত্রায় টিকে থাকতে দরকার ‘হেভি রেয়ার আর্থ’। এগুলো ছাড়া সামরিক মানের ম্যাগনেট তৈরি করা কঠিন।




বিনামূল্যে বড়পর্দায় দেখা যাবে সালমান-শাবনূরের সিনেমা

বিনোদন ডেস্ক : নব্বই দশকে বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় জুটি ছিল সালমান শাহ ও শাবনূর। এমনকি এই জুটিকে দেশের বড়পর্দার ইতিহাসেরই অন্যতম দর্শকপ্রিয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দীর্ঘদিন পর আবারও এই তারকা জুটির সিনেমা বড়পর্দায় দেখার সুযোগ পেয়েছে সিনেমাপ্রেমীরা।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সন্ধ্যা ৬টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সালমান-শাবনূরের দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘তোমাকে চাই’-এর বিশেষ উন্মুক্ত প্রদর্শনী। দর্শকরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সিনেমাটি উপভোগ করতে পারবেন।

মতিন রহমান পরিচালিত এই সিনেমাটি ১৯৯৬ সালে মুক্তি পায়। এর কেন্দ্রীয় চরিত্রে সালমান শাহ ও শাবনূর ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন আনোয়ারা ও রীনা খান। মুক্তির পর ছবিটি দর্শকমহলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং নব্বইয়ের দশকের রোমান্টিক বাংলা সিনেমার অন্যতম আলোচিত কাজে পরিণত হয়।

বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের উদ্যোগে আয়োজিত বিশেষ এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে পুরনো দিনের জনপ্রিয় বাংলা চলচ্চিত্রগুলো নতুন করে বড় পর্দায় উপভোগ করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যারা বড় পর্দায় ‘তোমাকে চাই’ সিনেমাটি দেখতে আগ্রহী, তারা নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নিজ দায়িত্বে মিলনায়তনে উপস্থিত হতে পারবেন।

বাংলা চলচ্চিত্রের ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিতেই নিয়মিত এমন আয়োজন করা হচ্ছে বলে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ সূত্রে জানা গেছে।




ব্যাডমিন্টনে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে জাতীয় পর্যায়ে হুমায়রা

ক্রীড়া ডেস্ক : নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ব্যাডমিন্টন ইভেন্টে ফরিদপুর অঞ্চলে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে জাতীয় পর্যায়ে মাদারীপুরের কৃতী শিক্ষার্থী হুমায়রা হাসান।

হুমায়রা প্রথম ম্যাচে গোপালগঞ্জের প্রতিযোগী পৌষিকে ২১-৮ পয়েন্টের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে। দ্বিতীয় ম্যাচে ফরিদপুরের আয়েশাকে ২১-১৩ পয়েন্টে পরাজিত করে। রোমাঞ্চকর ফাইনালে নীলা রানি মন্ডলকে ২১-১৫ পয়েন্টের ব্যবধানে হারিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে হুমায়রা।

মাদারীপুর সদরের ঐতিহ্যবাহী ডনোভান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী হুমায়রা আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই সম্পূর্ণ নিজের আগ্রহ ও কঠোর পরিশ্রমে আজ এই অবস্থানে পৌঁছেছে এসেছে।

ছোটবেলা থেকেই ব্যাডমিন্টনের প্রতি ছিল তার অগাধ ভালোবাসা। শৈশবে বাবার সাথে লিগ্যাল অফিসে খেলার মাধ্যমেই তার ব্যাডমিন্টনের হাতেখড়ি। পরবর্তীতে নিজের দক্ষতা আরও ঝালিয়ে নিতে মাদারীপুর স্টেডিয়ামে নিয়মিত একক অনুশীলন শুরু করেন তিনি। অন্য কোনো খেলায় অংশ না নিয়ে শুধু ব্যাডমিন্টনেই নিজের পুরো মনোযোগ ধরে রেখেছিলেন এই খুদে তারকা।

হুমায়রার এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি ও অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছেন তার বাবা। তিনি মাদারীপুরের এক সম্ভ্রান্ত আইনজীবী পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। তার পিতা অ্যাডভোকেট মুনির হাসান মিঠু, যিনি পেশায় একজন আইনজীবী। তার মাতাও একজন আইনজীবী, নাম অ্যাডভোকেট হাসিনা খাতুন।

ভবিষ্যতে ব্যাডমিন্টনকে ঘিরেই নিজের স্বপ্ন বুনছেন হুমায়রা। তার লক্ষ্য বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা। কঠোর পরিশ্রম, নিয়মিত অনুশীলন আর দৃঢ় মনোবলকে পুঁজি করে জাতীয় গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও দেশের হয়ে সাফল্য বয়ে আনতে চান তিনি।




ফেইক আইডিতে অপপ্রচার ও কোটি টাকার চেক জালিয়াতির অভিযোগে আদালতে ইনোভেটিভ ফার্মার মালিক শহিদুল হাসান

বিশেষ প্রতিবেদকঃ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ফেইক আইডি খুলে অপপ্রচার, পোস্টারিং করে ভয়ভীতি প্রদর্শন, কোটি কোটি টাকার চেক জালিয়াতি ও ব্যবসায়িক প্রতারণার অভিযোগে এবার আইনের জালে আটকালেন ইনোভেটিভ ফার্মার স্বত্ত্বাধিকারী কাজী মোহাম্মদ শহিদুল হাসান। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা দায়ের করেছেন এলবিয়ন ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের সিনিয়র ম্যানেজার মো. রফিক আহমদ।

মামলায় শুধু শহিদুল হাসানই নন, তার সঙ্গে আরও চারজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন—মো. জাহিদুল করিম ওরফে রিমন (৩০), মো. শওকত আলী ওরফে রিফাত (২৯), কাজী মোহাম্মদ রুবাইদুল হাসান (৩৫) ও কামাল হোসাইন (৩৮)।
মামলা সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এলবিয়ন ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড থেকে নগদ ও বাকিতে ওষুধ ক্রয় করে আসছিলেন ইনোভেটিভ ফার্মার মালিক কাজী মোহাম্মদ শহিদুল হাসান। ব্যবসায়িক লেনদেনের একপর্যায়ে তার কাছে বিপুল অঙ্কের পাওনা জমা হলে তিনি তিন কোটি পঞ্চান্ন লাখ টাকার ৫টি চেক প্রদান করেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে সেই চেকের টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হন তিনি। পরে বাধ্য হয়ে এলবিয়ন ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের সিনিয়র ম্যানেজার মো. রফিক আহমদ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শহিদুল হাসানের বিরুদ্ধে পৃথক ৫টি মামলা দায়ের করেন।

WhatsApp Image 2026 05 20 at 2.39.03 PM (1)

অভিযোগ উঠেছে, মামলায় জামিন পাওয়ার পর থেকেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন শহিদুল হাসান। এরপর শুরু হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেইক আইডি খুলে এলবিয়ন গ্রুপ ও এর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার। শুধু অনলাইনেই নয়, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পোস্টারিং করেও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কোম্পানিকে চাপে ফেলতে এবং নিজেদের আর্থিক প্রতারণা আড়াল করতে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

এ ঘটনায় এলবিয়ন ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রাইসুল উদ্দিন প্রথমে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে উল্টো এলবিয়ন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতারণা, চুক্তিভঙ্গসহ একাধিক ভিত্তিহীন মামলা ও অভিযোগ তুলে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করেন শহিদুল হাসান ও তার সহযোগীরা।

এলবিয়ন ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের সিনিয়র ম্যানেজার মো. রফিক আহমদ বলেন, “এটি আমাদের কোম্পানির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। নিজেদের প্রতারণা ঢাকতেই তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে। বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হয়েছে এবং আমরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।”

WhatsApp Image 2026 05 20 at 2.39.04 PM

অনুসন্ধানে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, ইনোভেটিভ ফার্মার স্বত্ত্বাধিকারী কাজী মো. শাহদিুল হাসান ২০০৫ সালে ‘সান ফার্মা’ নামের একটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে মার্কেটিং রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে চাকরি জীবন শুরু করেন। কিন্তু সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় একপর্যায়ে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।

ব্যবসায়ী মহলে এখন প্রশ্ন উঠেছে—একজন বিতর্কিত ব্যক্তি কীভাবে বছরের পর বছর কোটি কোটি টাকার লেনদেন করে বাজারে প্রভাব বিস্তার করেছেন? ফেইক আইডি, অপপ্রচার, হুমকি, চেক কেলেঙ্কারি ও আইনি জটিলতায় ঘেরা এই ঘটনায় ওষুধ খাতজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে করপোরেট ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ ব্যবসায়ী সমাজে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত হলে বেরিয়ে আসতে পারে আরও ভয়ংকর সব তথ্য ও আর্থিক অনিয়মের চিত্র।