হিরো আলম গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজঃ দেশের আলোচিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম গ্রেপ্তার হয়েছেন। 

শনিবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে স্ত্রী রিয়ামনির দায়ের করা মামলায় তাকে রাজধানীর হাতিরঝিল থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

এর আগে হিরো আলমের স্ত্রী রিয়ামনি হিরো আলম ও আহসান হাবিব সেলিমের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে হাতিরঝিল থানায় মামলা করেছিলেন।

গত বুধবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামানের আদালত বাদীর আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন।

বাদী পক্ষের আইনজীবী জিয়াউর রহমান চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আসামিরা জামিনের শর্ত ভঙ্গ করেছেন। তারা ঠিকমতো আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন না। এ জন্য আমরা তাদের জামিন বাতিল চেয়ে আবেদন করি। শুনানি শেষে তাদের জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।’

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি হিরো আলম ও বাদী রিয়া মনির মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দেয়। এরপর হিরো আলম বাদীকে তালাক দিয়ে বাসা থেকে বের করে দেন।

গত ২১ জুন বাদীর পরিবারের সঙ্গে মীমাংসা করার জন্য হাতিরঝিল থানাধীন এলাকায় একটি বাসায় ডাকা হয়েছিল। অভিযোগ করা হয়েছে, সেই সময়ে হিরো আলমসহ ১০-১২ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন।

পরে তারা বাদীর বর্তমান বাসায় বেআইনিভাবে প্রবেশ করে কাঠের লাঠি দিয়ে মারধর করে। এই হামলায় বাদীর শরীরে জখম সৃষ্টি হয়। এছাড়াও, এসময় তার গলায় থাকা ‘দেড় ভরি’ ওজনের স্বর্ণের চেইন চুরি করে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে। এই ঘটনায় গত ২৩ জুন বাদী রিয়া মনি হাতিরঝিল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।




অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতীয় পার্টিকে হাত পা বেধে সাঁতার প্রতিযোগিতায় নামাতে চাইছে- জি.এম কাদের

এসএম বদরুল আলমঃ গতকাল ১৪ নভেম্বর, ২০২৫ দিনাজপুর জেলায় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী নির্বাচনী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সিনিয়র নেতাদের একটি দল নিয়ে দিনাজপুরে স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে বৈঠক করতে যান। কিন্তু সেখানে এনসিপি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাদের বাধা দেয়ার অজুহাতে স্থানীয় প্রশাসন পুলিশের সহায়তায় নিরাপত্তা না দিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে বৈঠক করতে বাধা দেয়।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আশঙ্কা করছি, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি পাতানো একতরফা নীলনকশার নির্বাচনের দিকে দেশকে পরিচালিত করছেন। সে নির্বাচনের গ্রহন যোগ্যতা কিছুটা হলেও বাড়াতে, মনে করি জাতীয় পার্টিকে নির্বাচন থেকে একদম বাইরে রাখা সমীচীন মনে করছেন না। তবে, একই সাথে জাতীয় পার্টি যাতে সরকারী দল ও সরকারের পছন্দের দল গুলির জয়লাভে কোন ঝুকি তৈরি করতে না পারে সেদিকে বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছেন। সে উদ্দেশ্যে নানা বাধা বিপত্তি সৃষ্টি করে জাতীয় পার্টি যাতে নির্বাচনে স্বাভাবিক পরিবেশ না পায় সে বিষয়ে সচেস্ট।

তিনি বলেন, অবস্থাদৃষ্টে ধারনা করি, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতীয় পার্টিকে হাত পা বেধে সাঁতার প্রতিযোগিতায় নামাতে চাইছেন। একইভাবে গত ৭ নভেম্বর শুক্রবার কেরানীগঞ্জের স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে জাতীয় পার্টির ঢাকা জেলার এক কর্মী সমাবেশ এবং ১২ নভেম্বর ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় প্রথমে এনসিপি ও গণঅধিকার পরিষদ বাধা দেয় পরে পুলিশ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে বরং সমাবেশ বন্ধ করে দেয়।
এর আগে জাতীয় পার্টির নির্বাচনী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ১১ অক্টোবর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শান্তিপূর্ন কর্মী সমাবেশ পুলিশ বিনা উস্কানিতে পন্ড করে দেয়।

জাতীয় পার্টির কার্যক্রম স্থবির করতে সরকারের মদতে সারা দেশের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করা হচ্ছে। একাধিক মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করা হয়েছে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান সহ অনেক জেষ্ঠ্য নেতাদের বিরুদ্ধে।

দোষী সাব্যস্ত না হওয়া সত্বেও মিথ্যা মামলায় এখনো এক বছরের বেশি সময় ধরে কারাভোগ করছেন জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু ও ঢাকা মহানগর উত্তরের নেতা এ এন এম সেলিম। তারা একটি মামলায় জামিন পেলেও আবার নতুন করে আরেকটি মামলা দেয়া হচ্ছে বা মামলায় অজ্ঞাতনামা তালিকায় শোন এ্যারেষ্ট দেখিয়ে তাদেরকে কারাগারে আটকে রাখা হচ্ছে।

সরকারের উপরোক্ত কার্যকলাপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত একটি ঐতিহ্যবাহী পুরনো দল। সারা দেশব্যাপী এ দলের সংগঠন আছে। এ দলের জন সমর্থন আছে ব্যাপক। জাতীয় পার্টির আছে দীর্ঘ দিনের দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা। দেশ ও জাতির কল্যানে জাতীয় পার্টির অনেক উন্নয়নমূলক ও সংস্কার কার্যক্রম এখনও দেশবাসী কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরন করে। এ দলটি সব সময় জনগনের সঙ্গে ছিল, আছে ও ভবিষ্যতেও থাকবে।

ফলে অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে মানুষের অধিকার হরন ও প্রচলিত আইনের অপ্রয়োগ করে জাতীয় পার্টির প্রতি দমন নিপীড়নের ফল দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গলজনক হবে না। এ সকল সব ধরনের কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহবান জানান।




গণপূর্ত অধিদপ্তরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনায় ‘মিথ্যা প্রচারণা’: নতুন প্রধান প্রকৌশলীর পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ পুরনো সিন্ডিকেট

এসএম বদরুল আলমঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরে নতুন প্রধান প্রকৌশলী মোঃ খালেকুজ্জামান চৌধুরী দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইউটিউব ও অনলাইন পোর্টালে “বদলি-বাণিজ্য” সংক্রান্ত মিথ্যা প্রচারণা শুরু হয়েছে। অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, এই প্রচারণার মূল উদ্দেশ্য হলো নতুন প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পথে বাধা সৃষ্টি করা।

প্রধান প্রকৌশলী ২৮ অক্টোবর গণপূর্তে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দায় জন্মগ্রহণ করেন, নাজিমুদ্দিন স্কুল ও রাজেন্দ্র কলেজে পড়াশোনা করেছেন। স্নাতক করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (CUET) থেকে এবং পরবর্তীতে Monash University থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মোঃ খালেকুজ্জামান চৌধুরী অফিস-পরিকল্পনা, আর্থিক নথি, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় কঠোর শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁর পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার ফলে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, লুটপাট এবং সুবিধাবাদী সিন্ডিকেটের কার্যক্রম কঠোরভাবে সীমিত হচ্ছে।

অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, “যারা বছরের পর বছর অনিয়মে অভ্যস্ত ছিলেন, তারাই এখন সবচেয়ে বেশি চিৎকার করছে।” অন্যদিকে প্রধান প্রকৌশলী নিজেও বলেছেন, “আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা বাস্তবতা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। আমি মিথ্যা প্রচারণার জবাব দিয়ে দেশের উন্নয়নের পথে কাজ চালিয়ে যাব।”

অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বদলি ও দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস সম্পূর্ণ আইনানুগ ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পভিত্তিক কাজের মান, সময় ব্যবস্থাপনা এবং দক্ষ জনবলকে উপযুক্ত স্থানে নিয়োগ নিশ্চিত করার জন্য এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনো আর্থিক লেনদেন বা সিন্ডিকেটের প্রভাবের প্রশ্নই ওঠে না। বরং বদলি-বাণিজ্যের গুজব ছড়িয়ে কিছু বিতর্কিত কর্মকর্তা নিজেদের অবস্থান রক্ষার চেষ্টা করছেন।

মোঃ খালেকুজ্জামান চৌধুরীর নেতৃত্বে গণপূর্ত অধিদপ্তরে কর্মক্ষেত্রে শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা ও পেশাগত দক্ষতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ইতোমধ্যেই Several দীর্ঘমেয়াদি অনিয়ম শনাক্ত ও সংস্কারের পথে নিয়ে গেছে। অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একমত যে, এই পদক্ষেপ গণপূর্ত অধিদপ্তরকে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলবে।

অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, “যারা পুরনো সুবিধাবাদী সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তারা এই শুদ্ধি অভিযানে অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়েছে। তবে দেশের স্বার্থে এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।”

বদলি-বাণিজ্যের অভিযোগকে কেবল প্রভাব হারানো একটি গোষ্ঠীর অসার চিৎকার হিসেবে ধরা হচ্ছে, যা নৈতিকভাবে ভ্রান্ত, বাস্তবিকভাবে মিথ্যা এবং প্রশাসনিকভাবে অগ্রহণযোগ্য। গণপূর্ত অধিদপ্তর এখন স্বচ্ছ ও পেশাদার প্রশাসনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধান প্রকৌশলী মোঃ খালেকুজ্জামান চৌধুরী।




ক্ষমতার রং বদলে বাঁচতে চাওয়া আবু সায়েম জুয়েলের অতীত-বর্তমানের চমকানো কাহিনি; ১৬ বছর সরকারের ছত্রছায়ায় থাকা জুয়েলের হঠাৎ ‘বিরোধী সাজা’ নিয়ে বিস্তর বিতর্ক

এসএম বদরুল আলমঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী এ এস এম আবু সায়েম জুয়েল—একসময়ের ক্ষমতাবান একজন সরকারি কর্মকর্তা, যিনি দীর্ঘ সময় ধরে স্বৈরাচার সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু গত বছরের ৫ আগস্ট আন্দোলনের পর সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই তার আচরণে দেখা যায় নাটকীয় পরিবর্তন। যিনি আগে বঙ্গবন্ধু পিডব্লিউডি ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং নিয়মিত “জয় বাংলা” লেখা স্ট্যাটাস দিতেন, হঠাৎ করেই নিজেকে আওয়ামীবিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করতে শুরু করেন। নিজের অতীত ঢাকতে যেন নতুন মুখোশ পরে মাঠে নামলেন তিনি।

ছাত্রজীবনে ছিলেন কুখ্যাত ছাত্রলীগ ক্যাডার। ২০০৬ সালে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ঢাকা শহরের বিভিন্ন ডিভিশনে ঘুরে ঘুরে তৈরি করেন নিজের এক প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক। ঠিকাদার থেকে শুরু করে অফিসের করিডর—সবখানেই তার নাম উচ্চারিত হতো ভয় আর বিতর্কের সঙ্গে। অভিযোগ রয়েছে, গত ২০ বছরে নাম-বেনামে প্রায় ২০ কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন তিনি—বাড়ি, প্লট, গাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট—সবই ক্ষমতার আড়ালে করা অনিয়মের ফল বলে সহকর্মীদের দাবি।

তোফায়েল আহমেদ ও আমির হোসেন আমুর আত্মীয় পরিচয় দেখিয়ে জুয়েল পূর্ত অধিদপ্তরে ছিলেন এক ‘অঘোষিত সম্রাট’। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে সাধারণ কর্মচারী—যার সঙ্গেই তার বিরোধ হতো, গালি-হুমকি আর হয়রানি ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। কয়েকজন প্রকৌশলী অভিযোগ করেছেন, তাকে প্রতিবাদ করলে তারা শারীরিক নির্যাতনের শিকারও হয়েছেন।

এমনকি বদলিকেও তিনি বানিয়েছিলেন নিজের ক্ষমতা দেখানোর হাতিয়ার। গত ৩ জুলাই প্রধান প্রকৌশলীর আদেশে যখন তাকে রেলওয়ে ডাইভারশন উপবিভাগে বদলি করা হয়, তখনো তিনি ঢাকার বাইরে না গিয়ে রাজধানীতেই থেকে যান। একাধিক সূত্র বলছে, এই বদলির পেছনে ভূমিকা ছিল ছাত্র উপদেষ্টা হাসনাত আব্দুল্লাহর শ্বশুরের। এমনকি একজন জামায়াত নেতা পর্যন্ত তার পক্ষে সুপারিশ করেছেন—যা এখন পুরো অধিদপ্তরে আলোচনার বিষয়।

অন্যদিকে, যিনি আগে বুকে নৌকার ব্যাজ ঝুলিয়ে মন্ত্রণালয়ে ঘুরতেন, বঙ্গবন্ধুর মাজার সফরে নিয়মিত অংশ নিতেন, তিনিই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় হঠাৎ করেই বিরোধী দলের মতাদর্শ ছড়াচ্ছেন। সহকর্মীদের চোখে বিষয়টি মোটেও বিশ্বাসযোগ্য নয়। তাদের মতে, পরিস্থিতি বদলেছে দেখে তিনি শুধু নিজের অতীত পাপ লুকানোর চেষ্টা করছেন।

ঠিকাদারদের সঙ্গে তার লেনদেন নিয়েও রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। সচিবালয় ও মিরপুর ডিভিশনে দায়িত্বে থাকার সময় চুক্তিমূল্যের বড় অংশ নিজের পকেটে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কেউ বিল নিতে গেলে তার প্রথম কথা ছিল—“কাজ শেষ, এখন টাকা দাও।” পাইকপাড়া ও শিয়ালবাড়ির বড় প্রকল্পগুলোতেও কাজ না হয়েও অগ্রিম বিল তুলে নেওয়া হয়েছিল—যার পেছনে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা আছে বলে অভিযোগ।

বর্তমানে রেলওয়ে ডাইভারশন উপবিভাগের ২নং শাখায় থাকা অবস্থায়ও তিনি মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ডিএমপি ডেমরা পুলিশ লাইনসহ কয়েকটি বড় প্রকল্পে কর্তৃত্ব বিস্তার করেছেন। আরও দুইটি বড় প্রকল্প তার হাতে যাওয়ার অপেক্ষায়, এবং সূত্র বলছে—এই পোস্টিং টাকায় কেনা।

এমনকি ২০২৪ সালের ছাত্র জনতার আন্দোলন দমনে তিনি নেপথ্যে থেকে অনিয়মে জড়িত ছিলেন। রামপুরা, বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকায় ছাত্রলীগ ক্যাডারদের সহায়তায় তিনি প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয় করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কিন্তু এখন সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে তিনিই হঠাৎ বিরোধী সেজে ঘুরছেন। যেন নিজের অতীত ভুলে গেছে সবাই। অথচ পূর্ত অধিদপ্তরের সাধারণ প্রকৌশলীরা জানেন, মুখ হয়তো বদলেছে—কিন্তু স্বভাবের বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হয়নি। তিনি এখনও সেই ক্ষমতালোভী, প্রভাবশালী, বিতর্কিত জুয়েলই রয়ে গেছেন। একজন উপসহকারী প্রকৌশলী হয়েও যেন পুরো অধিদপ্তরের অঘোষিত ‘রাজা’।

তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ জানতে ফোন করা হলে সাংবাদিক পরিচয় শুনেই তিনি ফোন কেটে দেন এবং আর কোনো জবাব দেননি।




0xfe2e9125

0xfe2e9125




0xc6b6fbc7

0xc6b6fbc7




মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় অস্বীকার করলেন শেখ হাসিনা

ডেস্ক নিউজঃ গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলায় তার বিরুদ্ধে ওঠা মানবতাবিরোধী অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পূর্বনির্ধারিত রায়ের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

বিবিসিকে ই-মেইল দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, তার অনুপস্থিতিতে যে বিচার চলছে, তা ‘ক্যাঙ্গারু কোর্টের সাজানো প্রহসন’ এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন। তিনি আরও জানান, তার আইনজীবী বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি।

২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টে আন্দোলন দমনে হত্যায় উসকানি, প্ররোচনা এবং ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’সহ পাঁচ অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের দাবি করা হয়েছে। একই মামলায় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকেও আসামি করা হয়েছে। প্রসিকিউশন কামালের বিরুদ্ধেও মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে।

শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, আন্দোলন দমনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলেও তিনি কখনো নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেননি। তিনি এই মামলাকে রাজনৈতিকভাবে ‘আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকার হাই কমিশন এবং বিবিসি রিপোর্ট অনুসারে, ওই সময় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ১,৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়। তবে হাসিনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, তার ব্যক্তিগত কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং কোনো কর্মকর্তার দায় থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া উচিত।

আইনজীবীরা ইতিমধ্যেই জাতিসংঘে ট্রাইব্যুনালের বিচার ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। মামলার প্রক্রিয়া চলাকালীন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকায় দলটি আগামী ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না।

শেখ হাসিনার অবস্থান অনুযায়ী, এই মামলা ও অন্যান্য মানবাধিকার সংক্রান্ত অভিযোগ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি দাবি করছেন, তার বিরুদ্ধে যেকোনো দোষ প্রমাণ করতে হলে তা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে করা উচিত।




নারীদের বাদ দিয়ে দেশের উন্নয়নের চিন্তা করলে ভুল হবে: সেনাপ্রধান

ডেস্ক নিউজঃ সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, দেশের যদি ৫০ ভাগ নারী হয়,আর তাদের ছাড়া যদি আমরা চিন্তা করি দেশ এবং জাতি উন্নয়নের শিখরে উঠে যাবে তাহলে সেটা একটা ভুল হবে।  

শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) বেলা ১১টায় জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন ক্যাডেটদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রথম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান এটি। তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আজ দ্বিতীয় দিন ছিল। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান পুনর্মিলনী প্যারেডে সালাম গ্রহণ করেন। তিনি প্যারেডে অংশগ্রহণকারী ক্যাডেট ও প্রাক্তন ক্যাডেটদের সফলতা ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন।

সেনাপ্রধান বলেন, আমরা অনেকেই স্বশিক্ষিত হই কিন্তু সুশিক্ষিত হই না। আমরা স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো রেজাল্ট, পিএইচডি করে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে চলে যাই। কারও কারও নৈতিকতার অভাবের কারণে আমরা খুব একটা ভালো কাজ করতে পারি না। নৈতিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু ভালো ছাত্র, ভালো রেজাল্ট হলেই হবে না। আমাদের সবাইকে ভালো মানুষ হতে হবে।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, প্রাক্তন ও বর্তমান ক্যাডেটদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশগ্রহণ করেন সেনাপ্রধান।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আরিফুল হক, জয়পুরহাট প্রাক্তন ক্যাডেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মৌসুমী শিখা।

এ সময় অনুষ্ঠানে ১১ পদাতিক ডিভিশন ও বগুড়ার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল তৌহিদুল আহাম্মেদ, সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের স্ত্রী কমলিকা জামান, জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার চৌধুরী, পুলিশ সুপার মো. আব্দুল ওয়াহাব, জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজের শিক্ষক-কর্মকর্তা, অভিভাবকবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না আওয়ামী লীগ: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে কার্যক্রম স্থগিত থাকার কারণে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। 

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন মন্ত্রী ব্যারোনেস জেনি চ্যাপম্যানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন। শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রধান উপদেষ্টা জানান, কার্যক্রম স্থগিত হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগকে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের তালিকা থেকেও বাদ দিয়েছে। তিনি বলেন, আগের ১৬ বছরে ‘দুঃশাসনের’ সময় যে তিনটি বিকৃত নির্বাচনে অসংখ্য তরুণ ভোট দিতে পারেননি, এবার ১০ লাখ নতুন ভোটার প্রথমবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে উল্লেখ করে ইউনূস বলেন, নির্বাচন হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক; ভোটার উপস্থিতিও হবে ব্যাপক।

জুলাই সনদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশের জন্য ‘এক নতুন সূচনা’, যা গত বছরের জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া লাখো মানুষের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত করবে।

বৃহস্পতিবার যমুনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে নির্বাচন ছাড়াও বাণিজ্য সম্প্রসারণ, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, রোহিঙ্গা সংকট এবং বিমান ও সামুদ্রিক খাতে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে ব্রিটিশ মন্ত্রী চ্যাপম্যান প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং জুলাই সনদকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি অবৈধ অভিবাসন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়ায় জোর দেওয়ার আহ্বান জানান।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সরকার বৈধ চ্যানেলে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘শিবিরের যুবকেরা আশাহীন হয়ে বড় হচ্ছে—রাগান্বিত এবং হতাশ। তাদের জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।’

ঢাকা–লন্ডন বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানো নিয়েও আলোচনা হয়। ইউনূস জানান, উপকূলীয় ও সামুদ্রিক গবেষণার জন্য বাংলাদেশ একটি ব্রিটিশ গবেষণা জাহাজ কিনছে। ব্রিটিশ মন্ত্রী জানান, এয়ারবাস ইন্টারন্যাশনালের প্রধান শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবেন।

বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, এসডিজি কো-অর্ডিনেটর লামিয়া মোর্শেদ এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক উপস্থিত ছিলেন।




এলজিইডির প্রকৌশলী ফিরোজ আলম তালুকদারকে ঘিরে দুর্নীতি–বদলি তদবিরে ঝড়, একের পর এক প্রকল্পে অর্থ লোপাটের অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ আলম তালুকদারকে ঘিরে দপ্তরজুড়ে চলছে ব্যাপক তোলপাড়। দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, ঘুষের লেনদেন, টেন্ডার কারসাজি, নিয়োগ–বদলি তদবির থেকে শুরু করে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি গণমাধ্যমে তার অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ আছে, সেই সংবাদ ঠেকাতে ফিরোজ আলম তালুকদার প্রতিবেদককে ভয়ভীতি দেখিয়েছেন, যার জের ধরে শেরেবাংলা নগর থানায় জিডিও করা হয়েছে (জিডি নং—৭১৪/২৫)।

ফিরোজ আলম তালুকদার দীর্ঘদিন ধরেই এলজিইডির বিতর্কিত কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০১৫ সালে তাকে অবৈধ সম্পদ ও কর ফাঁকির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। সে সময়ও তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছিল, কিন্তু রাজনৈতিক সুরক্ষার কারণে কোনো ব্যবস্থা হয়নি বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে। এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ওয়াহেদুর রহমানের আমলে পদোন্নতির নামে কোটি কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যে ফিরোজের বড় ভূমিকা ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী উপ-সহকারী প্রকৌশলী শেখ রাজিবকে ঘিরেও গড়ে ওঠে এক প্রভাব বলয়। রাজিবের স্ত্রী পুলিশের এসআই হওয়ায় এবং গণভবনে দায়িত্বে থাকার কারণে এই প্রভাব আরও শক্ত হয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি গণভবনের নাম ব্যবহার করে দপ্তরে এমন পরিবেশ তৈরি করেছিলেন যেন তার কথাই ‘তথাকথিত ওপরের নির্দেশ’। ফিরোজ–রাজিব জুটির বিরুদ্ধে নানা প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ, অতিরিক্ত বিল, কাগজে-কলমে দেখানো কাজ এবং কোটি কোটি টাকার লোপাটের উঠেছে।

সরকার পরিবর্তনের পর দপ্তরে প্রবেশ করলে ক্ষুব্ধ কর্মচারীরা ফিরোজকে লাঞ্ছিতও করেন। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। পরে তিনি গোপনে অফিসে যাতায়াত করতে বাধ্য হন। বর্তমানে তাকে এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।

তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি প্রকল্পে ভয়াবহ অনিয়মের প্রমাণও পাওয়া গেছে। দেবীনগর–হাশেম মাদবর সড়ক প্রকল্পে রাস্তা অর্ধেক কাজ হওয়ার পরও ৩৭ লাখ টাকা অতিরিক্ত বিল উত্তোলনের অভিযোগ আছে। ওই বিল অনুমোদনে হানিফ মোহাম্মদ মুর্শিদী ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী শেখ রাজিবের সম্পৃক্ততার কথাও উঠে এসেছে। রাধানগর–কৃষ্ণদেবপুর সড়ক প্রকল্পে ১ কোটি ২২ লাখ টাকার কাজ দেখিয়ে ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা অতিরিক্ত বিল নেওয়া হয়, যদিও মাঠে কাজই হয়নি। একইভাবে বান্দুরা–বারুয়া–শিকারীপাড়া সড়ক প্রকল্পে ৩২ লাখের বেশি অগ্রিম টাকা তোলা হলেও কাজের শুরু পর্যন্ত হয়নি, ফলে চুক্তি বাতিল করতে হয়।

অনুসন্ধানে আরও বেরিয়ে এসেছে, ঢাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুর নকশা পরিবর্তনের বিনিময়ে ফিরোজ আলম তালুকদার তিন বিঘা জমি নিয়েছেন। একাধিক সূত্র বলছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা মোহাম্মদ নাসিমের নাতি অথবা ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমানের আত্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটিতে নিজের অবস্থান প্রভাবশালী করে রেখেছিলেন। বঙ্গবন্ধু পরিষদের সেক্রেটারি পরিচয়ও কাজে লাগাতেন নিয়মিত।

ক্ষমতার রদবদলের পর এখন তিনি নতুন মোড়কে তদবির বাণিজ্য শুরু করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ছড়িয়েও নিজের অবস্থান টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। সত্যতা জানতে চাইলে ফিরোজ আলম তালুকদার প্রতিবেদকের প্রতি উত্তেজিত আচরণ করেন এবং বলেন— “কাজ না করেই বিল দেওয়ার দায় শুধু আমার নয়, থানা ইঞ্জিনিয়ারসহ অন্যদের কাছেও জানতে হবে।”

এলজিইডির ভেতরে-বাইরে সচেতনরা বলছেন, ফিরোজ আলম তালুকদার শুধু একজন প্রকৌশলী নন—তিনি যেন এক অঘোষিত ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু। এসব অভিযোগের সঠিক তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা আরও নষ্ট হবে—এমন মন্তব্য করেছেন অনেকেই।