আগামী ৫ দিন আবহাওয়া কেমন থাকবে, জানাল অধিদপ্তর

আবহাওয়া প্রতিবেদকঃ সারা দেশে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, এর বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

রবিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।




0xa3342ca7

0xa3342ca7




0x17b24ce8

0x17b24ce8




“প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের খোঁজে পর্যটকরা ভিড় করছেন সাজেক উপত্যকায়”

পর্যটক ডেস্কঃ রাঙামাটির সাজেক উপত্যকা বর্তমানে দেশের পর্যটকদের অন্যতম প্রিয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। পাহাড়ের কোলে অবস্থিত এই উপত্যকা তার সবুজ বনভূমি, কোলাহলহীন পরিবেশ এবং মেঘে ঢেকে থাকা দৃশ্যের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।

পর্যটকরা জানাচ্ছেন, প্রকৃতির কাছে এসে তারা মানসিক স্বস্তি ও শীতলতা অনুভব করছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই মৌসুমে পর্যটকের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩০% বৃদ্ধি পেয়েছে।

পর্যটন কর্তৃপক্ষ পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও সুবিধাজনক ভ্রমণের বন্দোবস্ত করছে। বিশেষ করে পাহাড়ি পথ ও ছোট হোমস্টের উন্নয়ন চলছে, যাতে ভ্রমণকারীরা আরও আরামদায়ক পরিবেশে সাজেকের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়ে যাওয়ায় সাজেকসহ পাহাড়ি পর্যটন স্পটগুলোর গুরুত্ব ক্রমবর্ধমান।




“জকসু নির্বাচনের আগে ক্যাম্পাসে সব ব্যানার-ফেস্টুন সরানোর নির্দেশ”

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিঃ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন-২০২৫ উপলক্ষে ক্যাম্পাসের সব ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের ঝুলানো ব্যানার-ফেস্টুন সরানোর নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মুহাম্মদ তাজাম্মুল হকের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন-২০২৫ উপলক্ষে শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণ ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ছাত্রকল্যাণ কর্তৃক বিভিন্ন স্থানে ঝুলানো/সাঁটানো ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন আগামী ১৪ নভেম্বর সকাল ১০টার মধ্যে নিজ দায়িত্বে সরিয়ে ফেলার জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো।

আগামী ২২ ডিসেম্বর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আসন্ন জকসু নির্বাচন উপলক্ষে ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু পরিবেশ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আশা করি এক্ষেত্রে সব ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা ও সুন্দর নির্বাচনী পরিবেশ গড়ে তুলতে আমাদের সহযোগিতা করবে।




“ভুলের মুহূর্তেই আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন”

ইসলামিক ডেস্কঃ ইস্তিগফার তথা ‘ক্ষমা চাওয়া’ শব্দটি এসেছে আরবি ‘গাফারা’ শব্দমূল থেকে, যার অর্থ হলো ঢেকে দেওয়া বা গোপন রাখা। অর্থাৎ যখন আল্লাহ কোনো বান্দার পাপ ঢেকে দেন বা প্রকাশ করেন না, তখনই তিনি তাকে ক্ষমা করেন। পরিভাষায় ইস্তিগফার হলো—এমন একটি আবেদন, যেখানে বান্দা নিজের দ্বারা সংঘটিত পাপ ও সীমা লঙ্ঘনের জন্য আল্লাহর কাছে দয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করে। মুসলমানদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যার আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনার প্রয়োজন নেই—তার ঈমান যতই দৃঢ় হোক বা তার ধার্মিকতা যতই উচ্চমানের হোক না কেন।

এমনকি আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.)-ও প্রতিদিন বহুবার আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতেন। আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুল (সা.)  বলেছেন : ‘আল্লাহর কসম! আমি প্রতিদিন সত্তরবারেরও বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই এবং তাঁর কাছে তাওবা করি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৩০৭)

আল্লাহ তাআলা সুরা নুহে বলেন, “অতঃপর আমি বললাম, ‘তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো; নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের জন্য আকাশ থেকে প্রাচুর্যে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি বৃদ্ধি করবেন, তোমাদের জন্য বাগান সৃষ্টি করবেন এবং প্রবহমান নদী প্রবাহিত করবেন। ” (সুরা : নুহ, আয়াত : ১০-১২)

অতএব, ইস্তিগফার শুধু পাপ মোচনের মাধ্যম নয়, বরং এটি বরকত, রিজিক, সন্তান-সন্ততি ও জীবনের প্রশান্তি লাভেরও এক অনন্য উপায়।

ইস্তিগফার পাপ মোচন ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যম

যখন কোনো মুসলমান পাপে লিপ্ত হয়, তারপর আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, তখন আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সেই পাপ মুছে দেন, যতক্ষণ না তার আমলনামা সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যে কেউ কোনো মন্দ কাজ করে বা নিজের ওপর অন্যায় করে, কিন্তু পরে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, সে দেখবে আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১১০)

ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের আল্লাহ ভালোবাসেন

আল্লাহ তাআলা ক্ষমা প্রার্থনাকারী বান্দাদের ভালোবাসেন, তাদের তাওবায় আনন্দিত হন এবং তাদের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। এমনকি তিনি ফেরেশতাদের কাছেও এই ক্ষমা প্রার্থনাকারী বান্দাদের নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং ভালোবাসেন যারা নিজেদের পবিত্র রাখে।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ২২২)

ক্ষমা প্রার্থনা আল্লাহর শাস্তি থেকে মুক্তি ও শান্তির পথ

ক্ষমা প্রার্থনা করা শুধু একটি ইবাদত নয়, বরং এটি আল্লাহর শাস্তি ও কবরের আজাব থেকে মুক্তির এক নিরাপদ আশ্রয়। আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে উদ্দেশ করে তাঁর উম্মতের জন্য সুসংবাদ দিয়ে বলেছেন, ‘আর আল্লাহ তাদের শাস্তি দেবেন না, যতক্ষণ তুমি (হে নবী) তাদের মধ্যে উপস্থিত আছ এবং যতক্ষণ তারা ক্ষমা প্রার্থনা করে, ততক্ষণও আল্লাহ তাদের শাস্তি দেবেন না।’ (সুরা : আনফাল, আয়াত : ৩৩)

ইস্তিগফার দুঃখ-কষ্ট ও উদ্বেগ দূর করার উপায়

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিয়মিতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করে, আল্লাহ তাকে প্রতিটি দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেন, প্রতিটি সংকট থেকে বের হওয়ার পথ দান করেন এবং এমন জায়গা থেকে রিজিক দান করেন, যেখানে সে কখনো আশা করে না।’ (আবু দাউদ, ইবনু মাজাহ)

অতএব, ইস্তিগফার একদিকে যেমন আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে, তেমনি জীবনের জটিলতা ও মানসিক ভার দূর করে দেয়।




“ইসলামের দৃষ্টিতে পানি: অপচয় নয়, সংরক্ষণই দায়িত্ব”

ইসলামিক ডেস্কঃ দুনিয়া ও আখিরাতের জীবনে পানির বিশিষ্ট ভূমিকা রয়েছে। যে কারণে পবিত্র কোরআনের ৪৬ স্থানে পানির বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। সুরা আরাফের ৫০ নম্বর আয়াতে পানিকে জান্নাতবাসীর জন্য নেয়ামত এবং জাহান্নামিদের জন্য শাস্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পানিকে অতীতেও আল্লাহ অনুগত বান্দার জন্য পুরস্কার এবং অবাধ্যদের জন্য শাস্তির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। হজরত ইব্রাহিম (আ.) এবং তাঁর পুণ্যবতী স্ত্রী হাজেরার পুণ্যবান সন্তান ইসমাইল (আ.)-এর জন্য সৃষ্টি করা হয়েছিল জমজম কূপ। দুনিয়ায় আল্লাহ রব্বুল আলামিনের বিস্ময়কর নিদর্শনগুলোর মধ্যে জমজম কূপ অন্যতম। প্রায় ৫ হাজার বছর আগে অলৌকিকভাবে পবিত্র কাবা ঘরের সন্নিকটে এ বরকতময় কূপটির সৃষ্টি হয়। আল্লাহর নির্দেশে হজরত ইব্রাহিম (আ.) প্রিয়তমা স্ত্রী হাজেরা ও দুগ্ধপোষ্য শিশু ইসমাইল (আ.)-কে জনমানবহীন প্রান্তরে নির্বাসনে দেন। স্ত্রী ও পুত্রের জন্য সামান্য পানি ও কিছু খেজুর মক্কার মরু প্রান্তরে রেখে যান। ইব্রাহিম (আ.) চলে যাওয়ার পর হাজেরা (আ.) সন্তানকে বুকে ধারণ করে আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে নির্জন প্রান্তে থাকেন। খাদ্য-পানীয় ছাড়া তিনি বেশ কিছু দিন কাটান। বুকের দুধ নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার পর ইসমাইল (আ.) যখন ক্ষুধায় কাতর হয়ে ছটফট করছিলেন, তখন হজরত হাজেরা (আ.) দুগ্ধপোষ্য শিশুর জীবন বাঁচানোর জন্য একবার সাফা পাহাড়ে আরেকবার মারওয়া পাহাড়ের ওপর ছোটাছুটি করেন পানির খোঁজে। কোথাও পানি না পেয়ে তিনি যখন ক্লান্ত শ্রান্ত তখন হঠাৎ দেখতে পান ইসমাইল (আ.)-এর পায়ের আঘাতে পানির ফোয়ারা উথলে উঠছে। চারদিকে তিনি বালু ও পাথর দিয়ে পানির প্রবাহ থামান। সেই কুদরতি পানির ঝরনা ধারাটিই জমজম কূপ।

একইভাবে হজরত নুহ (আ.)-এর অবাধ্য কওমের জন্য নাজিল হয়েছিল শাস্তি হিসেবে ভয়াবহ প্লাবন। যে প্লাবনে অবিশ্বাসীদের সবাই পানিতে ডুবে মারা যায়। ফেরাউন ও তার সৈন্য দলের পানিতে ডুবে মারা যাওয়াও আল্লাহর তরফ থেকে আসা শাস্তি। দুনিয়াদারির জীবনে পানি এমন এক অপরিহার্য জিনিস যা ছাড়া জীবনধারণের কথা কল্পনা করাও কঠিন। পানি ইবাদতেরও অন্যতম অনুষঙ্গ। আল্লাহর ইবাদতের জন্য বান্দাকে পবিত্রতা অর্জন করতে হয়। পবিত্রতা অর্জনে পানির ব্যবহার সুবিদিত। মানবজীবনেই শুধু নয়, পৃথিবীতে জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে পানির অবদান অনস্বীকার্য।

আখিরাতের জীবনে পানি জান্নাতবাসীকে উপহার দেওয়া হবে ও জাহান্নামবাসীকে শাস্তি হিসেবে পানি থেকে দূরে রাখা হবে। জাহান্নামবাসী ভয়াবহ কষ্টে পানির পিপাসায় পড়ে জান্নাতিদের কাছে পানি চাইবে, কিন্তু তাদের পানি দেওয়া হবে না। আল্লাহ বলেন, ‘জাহান্নামবাসী জান্নাতবাসীকে ডেকে বলবে, আমাদের ওপর কিছু পানি বা খাদ্য ফেলে দাও বা আল্লাহ তোমাদের যা দিয়েছেন তা থেকে, তারা বলবে আল্লাহ এ দুটি অবিশ্বাসীদের জন্য নিষিদ্ধ করেছেন।’ (সুরা আরাফ, আয়াত ৫০)। পানি বর্তমান বিশ্বে ব্যাপকভাবে অপচয় হচ্ছে। পানি যেহেতু আমাদের জন্য বিশাল এক নেয়ামত সেহেতু মহান আল্লাহ পানির অপচয় করা নিষেধ করেছেন। পানির অপচয় ইসলামের দৃষ্টিতে এক মারাত্মক গর্হিত কাজ। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আহার কর ও পান কর কিন্তু অপচয় কর না, তিনি অপচয়কারীকে পছন্দ করেন না।’ (সুরা আরাফ, আয়াত ৩১)।

ইসলামে পানির সদ্ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পানি যেহেতু মহান আল্লাহর নেয়ামত, সেহেতু পানির সংরক্ষণ এবং এর সদ্ব্যবহার মুমিনদের জন্য অবশ্য পালনীয়। এমনকি অজু করার সময়ও যাতে পানির অপচয় না হয় সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। ইবনে মাজাহ শরিফের হাদিসে বলা হয়েছে : ‘সাহাবি হজরত সাদ বিন আবু ওয়াক্কাস (রা.) একদিন বসে অজু করছিলেন। এমন সময় রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তার পানির ব্যবহার দেখে তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, এত অপচয় কেন? সাহাবি জিজ্ঞাসা করলেন অজুর মধ্যে কি অপচয় হয়? রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ। এমনকি নদীর পাশে বসেও অজু করার সময় (পানি অযথা খরচ করলে অপচয় হিসেবে গোনাহ হবে)। পানি কীভাবে পান করতে হবে সেই আদব মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) শিক্ষা দিয়েছেন। বসে ডান হাত দিয়ে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বলে পানি পান করা সুন্নত। তিন শ্বাসে পানি পান করা উত্তম। রসুল (সা.) পানি সম্পর্কে যে শিক্ষা দিয়েছেন সেগুলো শুধু সুন্নত নয়, বরং এর প্রতিটিতে রয়েছে শরীর সুস্থ রাখার নিদর্শন। রসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা পানির পাত্র ঢেকে রাখ এবং বাসনগুলো উল্টে রাখ।’ (মুসলিম)। আল্লাহ আমাদের পানির সদ্ব্যবহারের তৌফিক দান করুন।




“উইন্ডিজকে উড়িয়ে সিরিজ জিতল নিউজিল্যান্ড”

খেলাধুলা ডেস্কঃ পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৮ উইকেটে হারিয়ে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতল নিউজিল্যান্ড। সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচের ফলাফল এসেছিল শেষ ওভারে। চতুর্থ ম্যাচ পরিত্যক্ত হয় বৃষ্টিতে। শেষ ম্যাচে লড়াই জমাতেই পারল না ক্যারিবিয়ানরা।

ডানেডিনে আজ বৃহস্পতিবার ক্যারিবিয়ানদের ১৪০ রানে আটকে রেখে কিউইরা জিতে যায় ২৬ বল বাকি রেখে। ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা জেকব ডাফি। ১০ উইকেট নিয়ে সিরিজের সেরাও এই পেসারই।

ক্যারিবিয়ানদের শুরুর ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা দূর করতে এ দিন তিন নম্বর ছেড়ে ওপেন করেন শেই হোপ। তবে ও ছক্কা-চার মেরেই তিনি বিদায় নেন। শুরুটা যদিও আলিক আথানেজকে দিয়ে। ১২ রানের প্রথম ওভারের পর দ্বিতীয় ওভারেই ফেরেন আথানেজ। এরপর তৃতীয় ওভারে ডাফি শিকার করেন তিন উইকেট! শর্ট বলে বড় শটের চেষ্টায় ফেরেন হোপ, মুভমেন্ট ও গতিতে বোল্ড হন আকিম ওগিস, বাজে শটে শূন্য রানে ফেরেন শেরফেন রাদারফোর্ড। এই নিয়ে চার ইনিংসে তৃতীয়বার শূন্যতে ফিরলেন রাদারফোর্ড। সবশেষ ১২ ইনিংসে শূন্যতে আউট হলেন পঞ্চমবার।

২১ রানে ৪ উইকেট হারানো ওয়েস্ট ইন্ডিজ সেভাবে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি। মিডল অর্ডারে কেবল রোস্টন চেইস ৩২ বলে ৩৮ রান করলেও অন্যরা দাঁড়াতে পারেননি। এক পর্যায়ে একশর নিচে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় ছিল তারা। আটে নেমে তিনটি করে চার ও ছক্কায় ২২ বলে ৩৬ রান করে দলকে ১৪০ রানে নিয়ে যান রোমারিও শেফার্ড।

ওই পুঁজি লড়াইয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি অনুমিতভাবেই। উদ্বোধনী জুটিতেই প্রায় অর্ধেক পথ পাড়ি দেয় নিউজিল্যান্ড। ৭ ওভারে ৬৯ রান তোলেন টিম রবিনসন ও ডেভন কনওয়ে। ২৪ বলে ৪৫ করে আউট হন রবিনসন। তিনে নেমে রাচিন রাভিন্দ্রা আউট হন ১৬ বলে ২১ করে। তবে কনওয়ে অপরাজিত রয়ে যান ৪২ বলে ৪৭ রান করে। শেষ দিকে দুটি ছক্কায় ম্যাচ দ্রুত শেষ করে দেন মার্ক চ্যাপম্যান (১৩ বলে ২১)। দুই দল এখন লড়বে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে। ক্রাইস্টচার্চে সিরিজটি শুরু আগামী রবিবার, পরের দুই ম্যাচ নেপিয়ার ও হ্যামিল্টনে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৮.৪ ওভারে ১৪০ (হোপ ১১, আথানেজ ১, ওগিস ৮, চেইস ৩৮, রাদারফোর্ড ০, পাওয়েল ১১, হোল্ডার ২০, শেফার্ড ৩৬, ফোর্ড ০, স্প্রিঙ্গার ৯*, সিলস ০; ডাফি ৪-০-৩৫-৪, জেমিসন ২-০-১৩-১, নিশাম ৩.৪-০-৩১-২ ব্রেসওয়েল ২-০-১৪-১, সোধি ৪-০-২৯-১, স্যান্টনার ৩-০-১৬-১)।

নিউজিল্যান্ড: ১৫.৪ ওভারে ১৪১/২ (রবিনসন ৪৫, কনওয়ে ৪৭*, রাভিন্দ্রা ২১, চ্যাপম্যান ২১*; ফোর্ড ৩-০-১৭-০, সিলস ৩-০-৪১-০, হোল্ডার ২-০-২৩-০, চেইস ৩-০-২৮-০, শেফার্ড ২.৪-০-২১-১, স্প্রিঙ্গার ২-০-৮-০)।

ফল: নিউজিল্যান্ড ৮ উইকেটে জয়ী।

সিরিজ: পাঁচ ম্যাচ সিরিজে নিউ জিল্যান্ড ৩-১ ব্যবধানে জয়ী।

ম্যান অব দা ম্যাচ: জেকব ডাফি।

ম্যান অব দা সিরিজ: জেকব ডাফি।




ঘুষের অভিযোগে শাস্তি পেলেন নাজিরপুরের সাবেক শিক্ষা কর্মকর্তা হেনেয়ারা বেগম

পিরোজপুর প্রতিনিধিঃ পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার সাবেক প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসা. হেনেয়ারা বেগমের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়েছে। এ ঘটনায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বেতন স্কেল নিম্নতর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সোমবার (১০ নভেম্বর) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়, যা বুধবার এলাকায় জানাজানি হয়।

মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী বিভাগীয় তদন্তে হেনেয়ারা বেগমের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়। তবে তিনি নবীন কর্মকর্তা হওয়ায়, তুলনামূলক হালকা শাস্তি হিসেবে তার বেতন স্কেল দুই বছরের জন্য নিম্নতর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নাজিরপুরে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই হেনেয়ারা বেগম নানা অজুহাতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছ থেকে ঘুষ দাবি করতেন। ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একবার এক শিক্ষককে গ্লাস ছুঁড়ে মারার ঘটনাও ঘটে বলে জানা যায়। এমনকি ঘুষ দাবি সংক্রান্ত তার এক অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে হেনেয়ারা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় শুনে ফোন কেটে দেন এবং পরে আর ফোন রিসিভ করেননি।

নাজিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাকিম জানান, হেনেয়ারা বেগম দায়িত্ব হস্তান্তর না করেই বদলিকৃত কর্মস্থলে চলে যান। পরে পিরোজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোল্লা বক্তিয়ার রহমানের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ সম্পন্ন হয়।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোল্লা বক্তিয়ার রহমান বলেন, “নাজিরপুরের সাবেক উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোসা. হেনেয়ারা বেগমের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার বেতন স্কেল দুই বছরের জন্য নিম্নতর করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি মাগুরার শালিখা উপজেলায় কর্মরত আছেন।”




“অ্যাশেজের আগে ইনজুরিতে ভুগছে ইংল্যান্ড শিবির”

খেলাধুলা ডেস্কঃ অ্যাশেজ সিরিজের আগে নতুন করে ইনজুরির আতঙ্ক ছড়িয়েছে ইংল্যান্ড শিবিরে। অভিজ্ঞ পেসার মার্ক উড বাম হ্যামস্ট্রিংয়ে টান পেয়েছেন ইংল্যান্ড লায়নসের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিনেই।

বৃহস্পতিবার পার্থের লিলাক হিল মাঠে শুরু হয় এই প্রস্তুতি ম্যাচ। ফেব্রুয়ারিতে হাঁটুর ইনজুরির পর এটিই ছিল উডের মাঠে ফেরার প্রথম ম্যাচ। তবে দ্বিতীয় সেশনের মাঝপথে ব্যথা অনুভব করলে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন ৩৫ বছর বয়সী এই পেসার।

দলের চিকিৎসক দল জানিয়েছে, শুক্রবার উডের স্ক্যান করানো হবে এবং সবকিছু ঠিক থাকলে শনিবার (তৃতীয় দিন) আবার বল হাতে নামতে পারেন তিনি।

উডের ইনজুরি ইংল্যান্ড দলের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত আগস্টে টেস্ট দলে শেষবার খেলার পর থেকে একের পর এক ইনজুরিতে ভুগছেন তিনি। হাঁটু ও কনুইয়ের সমস্যার কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে ছিলেন, এমনকি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে পাওয়া হাঁটুর ইনজুরির পর অস্ত্রোপচারও করাতে হয় তাকে। এবার নতুন করে হ্যামস্ট্রিংয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে একই পায়ে।

ইতিবাচক খবর হলো, অধিনায়ক বেন স্টোকস দীর্ঘ বিরতির পর বোলিংয়ে ফিরেছেন। ভারতের বিপক্ষে শেষ টেস্টে কাঁধের ইনজুরির কারণে না খেলা স্টোকস এদিন প্রথম দুই সেশনে দুর্দান্ত বোলিং করে চারটি উইকেট নিয়েছেন।

অন্যদিকে, প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া দলেও ইনজুরির খবর রয়েছে। অধিনায়ক ও প্রধান পেসার প্যাট কামিন্স পিঠের ইনজুরির কারণে প্রথম টেস্টে খেলতে পারবেন না, তবে আরেক পেসার জশ হ্যাজলউড হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি কাটিয়ে ফিরেছেন স্কোয়াডে।