কুষ্টিয়ায় সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দম্পতির বিরুদ্ধে দুদকের দুই মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ কুষ্টিয়ায় আলোচিত সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হাজী রবিউল ইসলাম এবং তার স্ত্রী বানু ইসলামের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. বুলবুল আহমেদ বুধবার (১২ নভেম্বর) মামলাগুলো দায়ের করেন। তদন্তে উঠে এসেছে, হাজী রবিউল ইসলাম তার আয়-ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীনভাবে বিপুল সম্পদ গোপন করেছেন এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূতভাবে কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন।

প্রথম মামলায় তার বিরুদ্ধে ৩৭ লাখ টাকার সম্পদ গোপন এবং আরও ১ কোটি ৯১ লাখ ৬১ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদকের তদন্তে দেখা যায়, তার ঘোষিত সম্পদের তুলনায় বাস্তবে অর্জিত সম্পদের পরিমাণ অনেক বেশি।

অন্যদিকে, দ্বিতীয় মামলায় তার স্ত্রী বানু ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে যে, স্বামীর প্রভাব ও ক্ষমতা ব্যবহার করে ঘুষ ও অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৪২ লাখ ৮২ হাজার ৩০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ তিনি অর্জন করেছেন।

দুদক জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাগুলো বর্তমানে প্রাথমিক তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং দ্রুত পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানায় সংস্থাটি।




প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে জুলাই সনদ লঙ্ঘিত হয়েছে: সালাহউদ্দিন আহমদ

প্রধান উপদেষ্টা ভাষণের মাধ্যমে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ লঙ্ঘন করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ নতুন ধারনা। ঐকমত্য কমিশনে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়নি।

এদিকে দুপুরে জাতীয় উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আদেশে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিধান গ্রহণ করা হয়েছে। 

এর মধ্যে রয়েছে, সনদের সংবিধান বিষয়ক সংস্কার প্রস্তাবণার ওপর গণভোট এবং পরবর্তী সময়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের সিদ্ধান্ত। গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট ‘হ্যাঁ’ সূচক হলে নির্বাচিত প্রতিনিধি নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন হবে। এই প্রতিনিধিরা একইসাথে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার করবে। এরপর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নির্বাচনে পাওয়া ভোটের সংখ্যানুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। এর মেয়াদ নিম্নকক্ষের শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত হবে।




দেশে এই মুহূর্তে গৃহযুদ্ধের ভাব বিরাজ করছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দেশে এই মুহূর্তে ‘গৃহযুদ্ধের ভাব বিরাজ করছে’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বুধবার (১২ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে স্বাস্থ্য পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীদের যৌথ মঞ্চের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, জামায়াতসহ আট দল দাবি আদায় করেই ঘরে ফিরবেন বলে আশা করি। আর গণভোট বাংলাদেশে হবেই। বিএনপি ১০০ বছর অপেক্ষা করলেও গণভোট ঠেকাতে পারবে না।

বিএনপি চাঁদাবাজি ও মামলাবাজি করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শোনা যাচ্ছে আওয়ামী লীগের নাকি মামলা তুলে নেওয়া হবে। এক বছরে টাকার বিনিময়েতো সব মামলা তুলেই নেওয়া হয়েছে, সেটার স্বীকৃতি দিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আর বিএনপির এক বছরের সফলতা চাঁদাবাজি আর মামলাবাজি। এছাড়া আর কোনো সফলতা নেই, এই সফলতা নিয়েই জনগণের কাছে ভোট চাইবেন?

সংস্কার চান জানিয়ে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য সংস্কার চেয়েছিলাম। কিন্তু একটি দল বেরিয়ে গেছে এই প্রক্রিয়া থেকে। দেশের একটা বড় জেনারেশন সংস্কার চায়। জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চায়, সেটাকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে।

বিএনপিকে সংস্কারের পথে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া জনগণের পালস ধরতে পেরেছিলেন। তাই দেশের হাল ধরতে পেরেছিলেন। কিন্তু এখন যারা আছেন বিএনপিতে, তারা জনগণের পালস বোঝেন না। তাই তাদের প্রতি আহবান, ইগো না রেখে সংস্কারের পথে আসুন।

সরকারের সমালোচনা করে নাসীরুদ্দীন বলেন, এখন সবচেয়ে বড় সংকট রাষ্ট্র, জনগণ থেকে সরকারের বিচ্ছিন্নতা ও দূরত্ব। ইউনূস সরকার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একা চলা শুরু করেছে। পুলিশ দিয়ে পিটিয়েছে আন্দোলনকারী শিক্ষক, চিকিৎসক ও নার্সদের। এখন সবার একটাই প্রশ্ন, সংস্কার প্রয়োজন আছে, নাকি নাই। রাষ্ট্রের যে ফ্যাসিবাদি সিস্টেম, সেভাবে একটি দেশ চলতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব হলো, যে মানুষগুলো বঞ্চনার শিকার হয়েছেন এতদিন, তাদের অধিকার নিশ্চিত করা। সরকারের চেয়ারে বসা মানে জনগণের যে দাবিগুলো আছে, সেগুলো জনগণকে বুঝিয়ে দেওয়া। তাই সরকারের প্রতি আহ্বান, জনগণকে একটি স্বাস্থ্য কাঠামো দিন।

নাসীরুদ্দীন বলেন, কালকে নাকি আওয়ামী লীগের লকডাউন। কাল সকল দল মাঠে থাকবে। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসকে ঠেকাতে হাসনাত আবদুল্লাহ একাই যথেষ্ট।




মির্জা ফখরুলের সঙ্গে ফরাসি রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্সের নতুন রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লেট। 

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে আসেন ফরাসি রাষ্ট্রদূত।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানান।

বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে ফরাসি রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎকালে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন।




“কলকাতার নতুন ভরসা শেন ওয়াটসন!”

খেলাধুলা ডেস্কঃ অস্ট্রেলিয়ার সাবেক তারকা অলরাউন্ডার শেন ওয়াটসনকে আইপিএল ২০২৬ মৌসুমের আগে কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) সহকারী কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। নতুন দায়িত্বে তিনি কাজ করবেন প্রধান কোচ অভিষেক নায়ার এবং দলের মেন্টর ডোয়াইন ব্রাভোর সঙ্গে।

ইএসপিএনক্রিকইনফো জানিয়েছে, ওয়াটসনের পাশাপাশি নিউজিল্যান্ডের সাবেক পেসার টিম সাউদিও যুক্ত হয়েছেন কেকেআরের কোচিং সেটআপে। গত মৌসুমে সপ্তম স্থানে থেকে আইপিএল শেষ করার পর দলটি তাদের কোচিং প্যানেলে বড় পরিবর্তন এনেছে।

ওয়াটসন কেকেআরের অফিসিয়াল বিবৃতিতে বলেন,’কলকাতা নাইট রাইডার্সের মতো প্রতীকী একটি দলের অংশ হতে পারা আমার জন্য বিশাল সম্মানের। কেকেআর সমর্থকদের আবেগ এবং দলের সাফল্যের প্রতি তাদের নিবেদন আমাকে সবসময়ই অনুপ্রাণিত করেছে। আমি কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়দের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করে কলকাতায় আরেকটি শিরোপা এনে দিতে চাই।’

এটি ওয়াটসনের দ্বিতীয় আইপিএল কোচিং দায়িত্ব। এর আগে তিনি ২০২২ ও ২০২৩ মৌসুমে দিল্লি ক্যাপিটালসের সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করেছিলেন রিকি পন্টিংয়ের অধীনে।

অন্যদিকে, টিম সাউদি সম্প্রতি ইংল্যান্ড দলে পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেও অংশ নিয়েছেন।




“চিলিকে পেছনে ফেলে বিশ্বে দ্বিতীয় সুন্দরী মিথিলা”

বিনোদন ডেস্কঃ ১২১টি দেশের প্রতিযোগীদের নিয়ে থাইল্যান্ডে শুরু হয়েছে ‘মিস ইউনিভার্স’-এর ৭৪তম আসর। প্রতিযোগীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রমের আয়োজন করেছে আয়োজক সংস্থা। একই সঙ্গে চলছে ভোটও। ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত ভোট চলবে ভোট। বিশ্বের ১৩০ প্রতিযোগীদের মধ্যে কার মাথায় মুকুট উঠছে, তা নিয়ে চলছে জোর জল্পনা। এবারের আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন তানজিয়া জামান মিথিলা। এরইমধ্যে মডেলিং ও অভিনয় দিয়ে বেম জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি।

‘পিপলস চয়েস’ ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধি তানজিয়া জামান মিথিলা চমক দেখিয়েছেন। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মিথিলা ২ লাখ ৮১ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছেন। তিনি চিলির সুন্দরী ইন্না মলকে পেছনে ফেলে দিয়েছেন। এই তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার আহতিসা মানালো। তাকে পেছনে ফেলতে মিথিলার আরও ২৯ হাজার ভোট প্রয়োজন। মিথিলা তার দেশবাসীর কাছে ভোট দিয়ে জয় অর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন।

আশা করা যাচ্ছে, আজকালের মধ্যেই তিনি ভোট পেয়ে ফিলিপাইনের সুন্দরী আহতিসা মানালোকে ছাড়িয়ে এক নম্বরে পৌঁছাবেন। এছাড়াও ‘বেস্ট ন্যাশনাল কস্টিউম’ (প্রথম), ‘মিস কনজেনিয়ালিটি’ (দ্বিতীয়), ‘বেস্ট ইভিনিং গাউন’ (দ্বিতীয়) ও ‘বেস্ট স্কিন’ (তৃতীয়) বিভাগেও এগিয়ে আছেন মিথিলা। তাই শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে জয়ী হতে হলে তাকে আরও প্রায় ২৯ হাজার ভোট পেতে হবে। তাই তিনি ভোট চাইছেন দেশবাসীর কাছে। জানিয়েছেন তাকে ভোট দেয়ার পদ্ধতিও।

মিথিলা জানান, অ্যাপ স্টোর বা গুগল প্লে স্টোর থেকে মুঠোফোনে ‘মিস ইউনিভার্স’র অফিসিয়াল অ্যাপটি ডাউনলোড করে নিতে হবে। অ্যাপ ইনস্টল করে অ্যাকাউন্ট খুলুন বা লগইন করুন। এক্ষেত্রে ইমেল/সোশ্যাল লগইন অপশন থাকতে পারে। অ্যাপে প্রবেশ করে Vote বাটনে ক্লিক করুন। People’s Choice সেকশনে সিলেক্ট করে Tangia Zaman Methila -কে নির্বাচন করুন। এই সেকশনে ফ্রি ভোট পাওয়ার অপশন আছে সেগুলো ক্লেইম করে ব্যবহার করুন এবং বাংলাদেশকে ভোট দিন।

একাধিক ফ্রি ভোট পেতে একটি বিজ্ঞাপনের ভিডিও দেখুন এবং বিনামূল্যে ভোট সংগ্রহ করুন। এরপর বাংলাদেশকে ভোট দিন। এর আগে ‘মিস ইউনিভার্স’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ২ নভেম্বর থাইল্যান্ডে পৌঁছান ‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০২৫’ মুকুটজয়ী মডেল ও অভিনয়শিল্পী তানজিয়া জামান মিথিলা।




জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে রাষ্ট্রপতির সই, গণভোটের পথ উন্মুক্ত

ডেস্ক নিউজঃ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’-এ স্বাক্ষর করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে তার দপ্তরের একজন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

এই আদেশের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো এখন গণভোটে তোলা হবে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মধ্যস্থতায় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় যেসব সংস্কার প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছিল, সেগুলোর ওপর জনগণের মতামত নেওয়া হবে সেই গণভোটে।

এদিকে, একই দিন দুপুরে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি এই ভাষণেই গণভোটের তারিখ ঘোষণা করবেন। তার ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন, বিটিভি নিউজ ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে সরাসরি সম্প্রচার হবে বিকেল আড়াইটায়।

এর আগে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়।

গত ২৮ অক্টোবর জাতীয় ঐকমত্য কমিশন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দুটি বিকল্প প্রস্তাব জমা দেয়। উভয় বিকল্পেই সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য গণভোটের আয়োজন ও একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা বলা হয়েছে।

বিকল্প প্রস্তাব-১

(ক) জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এ সন্নিবেশিত সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিষয়গুলো কার্যকর করার উদ্দেশ্যে সরকার ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’ শিরোনামে একটি আদেশ জারি করবে।

(খ) জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের উদ্দেশ্যে ওই আদেশ এবং তার তফসিল-১-এ সন্নিবেশিত জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার প্রণীত একটি পূর্ণাঙ্গ খসড়া বিল গণভোটে উপস্থাপন করা হবে।

(গ) বাস্তবায়ন আদেশ জারির পর জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে জাতীয় সংসদ গঠিত হওয়ার পাশাপাশি একইসঙ্গে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে, যাহা সংবিধান সংস্কার বিষয়ে গাঠনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে।

(ঘ) বাস্তবায়ন আদেশ অনুসারে অনুষ্ঠিত গণভোটে যদি ইতিবাচক সম্মতি পাওয়া যায় তাহলে সংবিধান সংস্কার বিলটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ তার দায়িত্ব পালনে সহায়ক হিসেবে বিবেচনা করবে। তবে সংবিধান সংস্কার পরিষদ প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ হতে ২৭০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে যদি সংস্কার সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে গণভোটে অনুমোদিত সংবিধান সংস্কার বিলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হবে।

বিকল্প প্রস্তাব-২

(ক) জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এ সন্নিবেশিত সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিষয়গুলো কার্যকর করার উদ্দেশ্যে সরকার ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’ শিরোনামে একটি আদেশ জারি করবে। আদেশের একটি খসড়া প্রস্তাবে সন্নিবেশিত করা হয়েছে।

(খ) জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের উদ্দেশ্যে এই আদেশ এবং তার তফসিল-১-এ সন্নিবেশিত জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো গণভোটে উপস্থাপন করা হবে।

(গ) বাস্তবায়ন আদেশ জারির পর জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে, যা সংবিধান সংস্কার বিষয়ে গাঠনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে।

(ঘ) পরিষদ প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ২৭০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে ওই আদেশের তফসিল-১-এ বর্ণিত জুলাই জাতীয় সনদ অনুসারে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করবে এবং তা সম্পন্ন করার পর পরিষদের কার্যক্রম সমাপ্ত হবে।

বিকল্প প্রস্তাবের পক্ষে গণভোটে কী প্রশ্ন উপস্থাপন করা হবে তাও তুলে ধরে কমিশন।

তাদের তৈরি করা প্রশ্ন হচ্ছে-“আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং উহার তফসিল-১ এ সন্নিবেশিত সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবসমূহের প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করিতেছেন?”




“মুক্তির আগেই সাড়া ফেলে দিল বিজয়ের শেষ ছবি: আয় ৪০০ কোটি!”

বিনোদন ডেস্কঃ থালাপতি বিজয় অভিনীত ‘শেষ’ ছবি জননায়ক  মুক্তির দুই মাস আগেই বাণিজ্য জগতে রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অ্যাকশন-রাজনৈতিক থ্রিলার ঘরানার এই ছবিটি প্রি-রিলিজ ব্যবসাতে রেকর্ড গড়েছে।

ইন্ডিয়া টু ডে’র খবর বলছে, এই মুহূর্তে সবচেয়ে আলোচিত তামিল ছবিগুলির মধ্যে অন্যতম হলো জননায়ক। স্যাকনিলকের রিপোর্ট অনুসারে, ছবিটি কেবল তামিলনাড়ু অঞ্চলের সিনেমা হলগুলোর স্বত্বই বিক্রি হয়েছে ১০০ কোটি রুপির বেশি দামে। অন্যদিকে, বিদেশের স্বত্ত্ব থেকে এসেছে প্রায় ৮০ কোটি রুপি।

এছাড়াও, সিনেমার গান নিয়েও দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তুঙ্গে। জানা গেছে, অডিও স্বত্ব বিক্রি হয়েছে প্রায় ৩৫ কোটি রুপিতে। অন্যদিকে, ডিজিটাল স্ট্রিমিং স্বত্ব কিনেছে অ্যামাজন প্রাইম ভিডিও, যার দর দাঁড়িয়েছে ১১০ কোটি রুপি। সবমিলিয়ে, ছবির প্রি-রিলিজ আয় ইতিমধ্যেই ৩২৫ কোটি রুপি ছাড়িয়ে গেছে। যেহেতু স্যাটেলাইট স্বত্ব ও অন্যান্য কিছু অঞ্চলের স্বত্ব এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তাই বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সব মিলিয়ে এই আয় খুব সহজেই ৪০০ কোটি রুপির কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে।

এইচ বিনোথ পরিচালিত এবং কেভিএন প্রোডাকশনস প্রযোজিত এই ছবিতে বিজয় ছাড়াও অভিনয় করেছেন পূজা হেগড়ে, ববি দেওল (তামিল ছবিতে তাঁর অভিষেক), মামিতা বাইজু, গৌতম বাসুদেব মেনন, প্রকাশ রাজ, নারাইন এবং প্রিয়ামণি।

‘জননায়ক’ ছবিটি বিজয়ের অভিনেতা হিসেবে শেষ ছবি বলে মনে করা হচ্ছে। এরপর তিনি সম্পূর্ণভাবে রাজনীতিতে মনোনিবেশ করবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। আগামী বছর ৯ জানুয়ারি তামিল ও তেলুগু উভয় ভাষাতেই সিনেমাটি মুক্তি পেতে চলেছে।




জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টার পূর্ণাঙ্গ ভাষণ

ডেস্ক নিউজঃ

বিসমিল্লাহির রহমানের রহিম

প্রিয় দেশবাসী, শিশু, কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী, ছাত্র-ছাত্রী, নারী-পুরুষ, নবীন-প্রবীণ সবাইকে আমার সালাম জানাচ্ছি।

আসসালামু আলাইকুম।

গত বছর আগস্ট মাসে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শক্তিবলে আমরা অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেছিলাম। এরপর আমরা এখন আমাদের মেয়াদে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে উপনীত হয়েছি।

আমাদের সরকারের ওপর ন্যস্ত দায়িত্ব ছিল মূলত তিনটি। হত্যাকাণ্ডের বিচার করা, একটি জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারের আয়োজন করা এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।

আমরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্দেশে সংগঠিত হত্যাকাণ্ডের বিচারকাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এই বিচারের উদ্দেশ্যে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাদের প্রথম রায় শীঘ্রই দিতে যাচ্ছে।
ট্রাইব্যুনালে আরও কয়েকটি মামলার বিচার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সাধারণ ফৌজদারি আদালতগুলোতেও জুলাই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কিত কিছু বিচারকাজ শুরু হয়েছে। আমরা একইসাথে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গুমের মতো নৃশংস অপরাধের বিচারকাজ শুরু করেছি।

আমি আনন্দের সঙ্গে আপনাদের জানাতে চাই যে সংস্কারের ক্ষেত্রেও আমরা ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছি। অন্তর্বর্তী সরকার নিজ উদ্যোগে বা বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবের ভিত্তিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করেছে। কিছু প্রস্তাবিত সংস্কারের কাজ এখনও চলমান আছে। অধ্যাদেশের মাধ্যমে বা বিদ্যমান আইন সংশোধন করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, বিচার ব্যবস্থাপনা, আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, ডিজিটালাইজেশন সম্প্রসারণ ও  দুর্নীতি প্রতিরোধে বিভিন্ন সংস্কার সম্পন্ন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সুশাসনের জন্য এসব সংস্কার বড় ভূমিকা রাখবে বলে আমরা মনে করি। আশা করি, আগামী নির্বাচিত সরকার সংসদে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এসব সংস্কার গ্রহণ করবে।

আমাদের আরেকটি গুরুদায়িত্ব হচ্ছে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান। আমি ঘোষণা করেছি যে আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচন উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের জন্য আমরা সব প্রস্তুতি গ্রহণ করছি।

আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব আমরা সঠিকভাবে পালন করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি।

প্রিয় দেশবাসী,
রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের প্রস্তাব তৈরির লক্ষ্যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন নিরলসভাবে গত প্রায় নয় মাস ধরে কাজ করেছে। এসময় কমিশন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ আলাপ-আলোচনা করেছে। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ধৈর্য্যসহকারে রাজনৈতিক দলগুলো কমিশন কর্তৃক উত্থাপিত বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন। মতের পার্থক্য থাকলেও তা কমিয়ে আনার চেষ্টা করেছেন। অনেক বিষয়েই ঐকমত্যে আসতে পেরেছেন। দেশবাসী সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে এই পুরো কার্যক্রম দেখতে পেরেছেন। এটি বাংলাদেশের রাজনীতির ক্ষেত্রে তো বটেই, পৃথিবীর অনেক দেশের জন্য এক অভূতপূর্ব ঘটনা। এটি ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্যও আশাব্যঞ্জক। আমি ঐকমত্য কমিশনের সদস্যদের এবং রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃবৃন্দকে গণতান্ত্রিক চর্চার এই আসাধারণ আয়োজনকে সফল করার জন্য আবারও আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

ঐকমত্য কমিশনের প্রণীত জুলাই সনদে সংবিধান বিষয়ক ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাবে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। এটি একটি ঐতিহাসিক অর্জন। কিছু প্রস্তাবে সামান্য ভিন্নমত আছে। বাকি অল্প কিছু প্রস্তাবে আপাতদৃষ্টে মনে হয় অনেক দূরত্ব আছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে খতিয়ে দেখলে দেখা যায় যে, এসব প্রস্তাবগুলোর ক্ষেত্রেও আসলে মতভিন্নতা খুব গভীর নয়। কেউ সংস্কারটা সংবিধানে করতে চেয়েছেন, কেউ আইনের মাধ্যমে করতে চেয়েছেন। কিন্তু সংস্কারের প্রয়োজনীতা, নীতি ও লক্ষ্য নিয়ে কারো মধ্যে মতভেদ নেই। কাজেই রাজনৈতিক দলগুলোর প্রকাশ্য বক্তব্য যতখানি পরস্পরবিরোধী অবস্থান আছে বলে মনে হয়, জুলাই সনদ সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করলে ততখানি মত পার্থক্য দেখা যায় না। এটি আমাদের অনন্য অর্জন। এতে জাতি এগিয়ে যেতে সাহসী হবে।

এসব বিবেচনায় রেখে এবং রাজনৈতিক দলগুলো কর্তৃক স্বাক্ষরিত জুলাই সনদকে মূল দলিল হিসেবে ধরে নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার আজকের উপদেষ্টামণ্ডলীর সভায় জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ অনুমোদন করেছে। এটি বিরাট খবর। প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর শেষে এটি ইতোমধ্যে গেজেট নোটিফিকেশন করার পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই আদেশে আমরা গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিধান গ্রহণ করেছি। এর মধ্যে রয়েছে সনদের সংবিধান বিষয়ক সংস্কার প্রস্তাবণার ওপর গণভোট অনুষ্ঠান এবং পরবর্তী সময়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের সিদ্ধান্ত।

 আমরা সকল বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোটের আয়োজন করা হবে। অর্থাৎ জাতীয় নির্বাচনের মতো গণভোটও ফেব্রুয়ারির প্রথমার্থে একইদিনে অনুষ্ঠিত হবে। এতে সংস্কারের লক্ষ্য কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত হবে না। নির্বাচন আরও উৎসবমুখর ও সাশ্রয়ী হবে। গণভোট অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে উপযুক্ত সময়ে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হবে।

জুলাই সনদের আলোকে আমরা গণভোটের ব্যালটে উপস্থাপনীয় প্রশ্নও নির্ধারণ করেছি।
আমি প্রশ্নটি এখন আপনাদের সামনে পাঠ করে শোনাচ্ছি। প্রশ্নটি হবে এরকম:
“আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলোর প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?”

ক) নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।

খ) আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ জন সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।

গ) সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকার-সহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমত হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে।

ঘ) জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।”

গণভোটের দিন এই চারটি বিষয়ের ওপর একটিমাত্র প্রশ্নে আপনি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে আপনার মতামত জানাবেন।

গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট ‘হ্যাঁ’ সূচক হলে আগামী সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধি নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। এই প্রতিনিধিগণ একইসাথে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পরিষদ তার প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ হতে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার করবে। সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন হবার পর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। এর মেয়াদ হবে নিম্নকক্ষের শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকারনামা অনুসারে সংবিধানে জুলাই জাতীয় সনদ অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এটিও আজকে অনুমোদিত আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রিয় দেশবাসী,
অভ্যুত্থানের পর দায়িত্ব গ্রহণ করে অর্থনীতিকে গভীর গহ্বর থেকে উদ্ধার করা ছিল আমাদের জন্য একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ। গত ১৫ মাসে আমরা সেই চ্যালেঞ্জ উৎরাতে সক্ষম হয়েছি। রপ্তানি, বৈদেশিক বিনিয়োগ ও রিজার্ভসহ অর্থনীতির সবগুলো সূচকে দেশ ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। লুট হয়ে যাওয়া ব্যাংকিং খাত ইতোমধ্যে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, মানুষের আস্থা ফিরে এসেছে। ব্যাংকিং খাতকে আরও শক্তিশালী করতে নানামুখী পদক্ষেপ চলমান রয়েছে।

অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক বিনিয়োগ হ্রাস পেলেও বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রথম বছরে বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ অর্থাৎ এফডিআই ১৯ দশমিক ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি বৈশ্বিক প্রবণতার বিপরীতে এক অনন্য অর্থনৈতিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

আগামী সপ্তাহে ডেনমার্কভিত্তিক মায়ার্স্ক গ্রুপের মালিকানাধীন এপিএম টার্মিনালস বি.ভি.-এর সঙ্গে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্পে ৩০ বছরের কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে। এই চুক্তির আওতায় ইউরোপীয় এই কোম্পানি ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। এটি এযাবৎকালে বাংলাদেশে ইউরোপের সর্বোচ্চ একক বিনিয়োগ। লালদিয়া হবে দেশের প্রথম বিশ্বমানের গ্রিন পোর্ট।

প্রিয় দেশবাসী,
প্রায় দেড় যুগ ধরে আমাদের জনগণ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। তাঁরা আজ আসন্ন নির্বাচনে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন। আগামী ফেব্রুয়ারিতে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে অভ্যুত্থানের স্বপক্ষের রাজনৈতিক দলগুলিকে অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তা না হলে জাতি এক মহাবিপদের সম্মুখীন হবে। এ সম্পর্কে আমি আগেও একাধিকবার আমার আশঙ্কা প্রকাশ করেছি।
ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ২০২৪-এর জুলাইয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি শির উঁচু করে দাঁড়িয়ে দেশবাসী যে ঐক্য গড়ে তুলেছিল, আমরা জীবিতরা যেন অল্পস্বল্প ভিন্নমত ও লঘু বিবাদে জড়িয়ে তার মর্যাদা ক্ষুন্ন না করি।

১৩৩ শিশু, শত শত তরুণ-তরুণী, নারী-পুরুষের মৃত্যু, হাজার হাজার মানুষের অঙ্গহানির যে আত্মত্যাগ সেটিকে আমাদের সম্মান জানাতেই হবে।

দেশের আপামর জনগণ সামান্য যা চায় তা হচ্ছে, এই অগুনিত হতাহতের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা সবাই যেন ভিন্নমতের প্রতি সহিষ্ণুতা দেখাই। দলীয় স্বার্থ অতিক্রম করে, সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা ও জাতীয় চাওয়াকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরি। তাই আমি আশা করি আমাদের এই সিদ্ধান্ত জাতির বৃহত্তর স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলো মেনে নেবে। একটি উৎসবমুখর জাতীয় নির্বাচনের দিকে জাতি এগিয়ে যাবে। এর মাধ্যমে আমরা নতুন বাংলাদেশে প্রবেশ করব।

আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ার দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছালাম।
মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। আমাদের আশা মহান আল্লাহ পূরণ করুন।

আল্লাহ হাফেজ।
সবাইকে ধন্যবাদ।




“সালমানের ট্যুরে সোনাক্ষীর অনুপস্থিতি: নতুন ইঙ্গিত বলিউডে?”

বিনোদন ডেস্কঃ বলিউড সুপারস্টার সালমান খান ও অভিনেত্রী সোনাক্ষী সিনহার বন্ধুত্ব বহুদিনের। সালমানের বিভিন্ন দেশি-বিদেশি কনসার্ট ও প্রমোশনাল সফরে প্রায়ই দেখা গেছে সোনাক্ষীকে। তারই ধারাবাহিকতায় সালমানের আসন্ন ‘এশিয়ান ট্যুর’-এও সোনাক্ষীর অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ প্রকাশিত পোস্টারে দেখা যায়, তার জায়গায় স্থান পেয়েছেন দক্ষিণী অভিনেত্রী তামান্না ভাটিয়া।

এই পরিবর্তন ঘিরে বলিউডে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন। একাংশের দাবি, সোনাক্ষী সিনহা নাকি অন্তঃসত্ত্বা, তাই এবার সফরে যেতে পারছেন না। অনেকে বলছেন, সম্প্রতি একটি পডকাস্টে সোনাক্ষীকে বারবার বালিশে ভর দিয়ে বসতে দেখা গেছে, যা থেকে সন্দেহের সূত্রপাত। আবার অনেকে তার ঢিলেঢালা পোশাক পরাকে গোপনীয়তার ইঙ্গিত হিসেবেও দেখছেন।

তবে এসব গুঞ্জন নিয়ে এখনো মুখ খোলেননি সোনাক্ষী বা তার স্বামী অভিনেতা জাহির ইকবাল। এর আগেও একাধিকবার এমন খবর ছড়ালেও প্রতিবারই তা অস্বীকার করেছেন তারা।

তবুও সালমান খানের ঘনিষ্ঠ সফরসঙ্গী হিসেবে সোনাক্ষীর হঠাৎ বাদ পড়া এবং নতুন করে জল্পনার ঝড়—সব মিলিয়ে বলিউড মহলে চলছে নানান আলোচনা।