৯ জেলায় যানবাহনে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণ, কঠোর অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে করা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে ক্ষমতাচ্যুত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ‘লকডাউন’ কর্মসূচিতে সারাদেশে যানবাহনে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। 

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বেলা ১১টা পর্যন্ত ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও গোপালগঞ্জ, সিলেট, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, ফরিদপুর,ময়মনসিংহ, ফেনীসহ একাধিক জেলায় এসব ঘটনা ঘটেছে।

এরই মধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ বুধবার জানিয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের আরও ৪৪ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ঢাকা ও আশপাশের জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে এরই মধ্যে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশের পাশাপাশি র‍্যাব ও বিজিবি সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল রাজধানীতে চার জায়গায় বাস ও অন্যান্য যানবাহনে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঢাকার পার্শ্ববর্তী আশুলিয়া ও গাজীপুরে তিনটি বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্তব্যরত এক আনসার সদস্যকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়েছে।

এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, মিরপুরের পল্লবী, কারওয়ানবাজারের সার্ক ফোয়ারা মোড় এবং মৌচাকে ফরচুন টাওয়ারের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সিলেট-আখাউড়া রেলপথের ভানুগাছ-শ্রীমঙ্গল স্টেশনের মধ্যবর্তী মৌলভীবাজার কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতরে রেললাইনের স্লিপার ফেলে ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা। বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায় ঢাকাগামী কালনী এক্সপ্রেস ট্রেনটি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশনস বিভাগের ডিসি মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, ১ থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত ১৫টি স্থানে ২৭টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। কোনো হতাহতের খবর নেই। তবে দেশের নিরাপত্তা বাহিনী এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং আইনের আওতায় আনার কাজ করছে। ঢাকা ও আশপাশের জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।

গতকাল দুপুরে রাজধানীর শাহ আলী থানা এলাকায় শতাব্দী পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মিরপুর-২ নম্বর এলাকা থেকে নিউমার্কেটের দিকে যাওয়ার পথে যাত্রীবেশে থাকা তিনজন বাসটিতে আগুন দেয়। বাসের সামনের কয়েকটি আসন পুড়ে যায়, তবে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

শাহ আলী থানার ওসি গোলাম আযম বলেন, মিরপুর-২ নম্বরের দিক থেকে সনি সিনেমা পেরিয়ে নিউমার্কেটের দিকে যাওয়ার পথে যাত্রীবেশে থাকা তিনজন বাসটিতে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নেভানো হয়।

গতকাল রাতে রাজধানীর দোলাইরপাড়ে মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মুখে সড়কে আরেকটি বাস আগুনে পুড়েছে। এর বাইরে ঢাকার কাকরাইলে রমনা থানার সামনে পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান এবং উত্তরায় একটি মাইক্রোবাসও আগুনে পুড়ে যায়। তবে এই দুটি ঘটনা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।

এছাড়া গতকাল রাত ৯টা ২০ মিনিটের দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সামনে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে জাহাঙ্গীর আলম চাকলাদার নামের এক পথচারী আহত হয়েছেন। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজে নেওয়া হয়েছে।

রাত সাড়ে নয়টায় পল্লবীতে জুলাই ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী চলার সময় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে এবং প্রায় একই সময়ে মৌচাকে ফরচুন টাওয়ারের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এ ছাড়া রাত ১০টার পর কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারার কাছে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

এদিকে গতকাল রাত সাড়ে ৯টায় তেজগাঁও রেলস্টেশনের পরিত্যক্ত লাইনে থাকা ট্রেনের কোচে আগুন দেয় দুষ্কৃতকারীরা। স্থানীয় লোকজনের তৎপরতায় আগুন দ্রুত নিভিয়ে ফেলা হয়। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সহযোগিতায় ঘটনাস্থলের পাশ থেকে সন্দেহভাজন দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।

এর আগে গত মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডের প্রিপারেটরি স্কুলের সামনে দুটি পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করা হয়। একই রাতে ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় সড়কের পাশে পার্ক করা আলিফ পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। বাসের ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা চালক আহত হন এবং বাসটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

গাজীপুরে সাত ঘণ্টার মধ্যে তিনটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গত মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত গাজীপুর নগর ও শ্রীপুরে এসব ঘটনা ঘটে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি।

এদিকে সিলেট-আখাউড়া রেলপথের ভানুগাছ-শ্রীমঙ্গল স্টেশনের মধ্যবর্তী মৌলভীবাজার কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতরে রেললাইনের স্লিপার ফেলে ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করা হয়। তবে ঢাকাগামী কালনী এক্সপ্রেস ট্রেনটি সময়মতো থামিয়ে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। এসব ঘটনার পর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি সদস্যদের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার রয়েছে। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মোট ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যেকোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে এবং সাধারণ মানুষ যেন নিরাপদে চলাচল করতে পারে, তা নিশ্চিত করা হবে।

এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে গ্রামীণ ব্যাংকে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির আসবাবসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পুড়ে গেছে। তবে টাকার ভল্টের কোনো ক্ষতি হয়নি। কে বা কারা এই অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়েছে, সেটাও জানা যায়নি।

ব্যাংকের চান্দুরা শাখার ম্যানেজার মো. কলিম উদ্দিন জানান, মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে বাইরে থেকে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগানো হয়। নৈশপ্রহরী বিষয়টি বুঝতে পেরে তাঁদের অবহিত করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এরই মধ্যে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে আগুন পুরোপুরি নেভান। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হবে বলে উল্লেখ করেন এই কর্মকর্তা।

রাত সাড়ে ৩টার দিকে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় একটি পেপার মিলের সামনে ট্রাকে আগুন দেওয়া হয়, আর ভোর পৌনে ৫টার দিকে গোপালগঞ্জের গণপূর্ত কার্যালয়ের সামনে একটি পিকআপে আগুন দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই পিকআপটি পুড়ে যায়।

ফেনী-চট্টগ্রাম সড়কের মহিপালে রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে দাঁড়িয়ে থাকা রনি-রানা পরিবহনের একটি বাসে দুর্বৃত্তরা আগুন দেয়। এতে বাসের ভেতরের সামনের অংশ পুড়ে যায়, তবে কেউ আহত হয়নি।

ফেনী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবদুল মজিদ বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই স্থানীয়রা আগুন নিভিয়েছে। আগুনে বাসের ভেতরে সামনের অংশ পুড়ে গেছে। এটি নাশকতা হতে পারে।

গত বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার ভুলতা বিশনন্দী আঞ্চলিক মহাসড়কের আড়াইহাজার উপজেলার প্রবেশ পথ চৌরাস্তায় পায়রা চত্বর এলাকায় এ ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে মোবারককে আটক করা হয়।

আটক মোবারক নরসিংদী জেলার মাধবদী থানার কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের নোয়াকান্দি গ্রামের মৃত জবেদ আলীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভুলতা বিশনন্দী আঞ্চলিক মহাসড়কের আড়াইহাজার উপজেলার প্রবেশ পথ চৌরাস্তায় পায়রা চত্বর এলাকায় পর পর তিনটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এসময় চারিদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন ছুটোছুটি করতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলের এসে মোবারক নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় দাঁড়িয়ে থাকা বাসে দেওয়া আগুনে চালক জুলহাস মিয়া নিহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় ফুলবাড়িয়ার পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শ বাজার এলাকা থেকে আনোয়ার হোসেন নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার  আনোয়ার হোসেন (৩৬) ফুলবাড়িয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। তিনি ওই এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে। বুধবার (১২ নভেম্বর) ভোররাতে ফুলবাড়িয়া থানার ওসি মো. রুজনুজ্জামান এ তথ্য জানান।

ফুলবাড়িয়া থানার (ওসি) রুজনুজ্জামান বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আনোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছি। বাকি দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

নিরাপত্তা জোরদার

বুধবার সকাল থেকে শাহবাগে অবস্থিত হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, হাইকোর্ট এলাকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল এলাকা এবং মিন্টু রোডে বিজিবি সদস্যদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকতে দেখা যায়।

এছাড়া কাকরাইলসহ ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পুলিশ ও র‍্যাবের সদস্যদের অবস্থান নিতে দেখা গেছে। উদ্ভুত প্রেক্ষাপটে ঢাকা ও আশেপাশের জেলাগুলোর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঢাকা মহানগর, নারায়ণগঞ্জ এবং গাজীপুর জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

রাজধানীতে ১২ প্লাটুন এবং ঢাকার বাইরে আরো দুই প্লাটুনসহ মোট ১৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বিজিবি মোতায়েন থাকবে।

অনলাইনে ক্লাস, পেছানো হয়েছে পরীক্ষা

ঢাকার মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডের প্রিপারেটরি স্কুলের সামনে মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় দুইটি পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করেছে দুর্বৃত্তরা। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

তবে সকাল থেকেই স্কুলের নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছেন পুলিশ ও র‍্যাব সদস্যরা।

স্কুলের বেশ কয়েকজন অভিভাবক ও শিক্ষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ ঘটনার পর বুধবারের অনুষ্ঠিতব্য সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এই পরীক্ষার সময়সূচি পরে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্কুলের একজন শিক্ষক।

নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের লকডাউন কর্মসূচি এবং রায়কে ঘিরে বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আজকে অনলাইনে পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইংরেজি মাধ্যমের ইউরোপীয়ান স্ট্যান্ডার্ড স্কুল, সানবীম স্কুল বৃহস্পতিবার সব শিক্ষা কার্যক্রম অনলাইনে অনুষ্ঠিত হবে বলে শিক্ষার্থীদের জানিয়েছে।

এদিকে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শান্তা-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি মঙ্গলবারই জরুরি এক নোটিশে, ১২ ও ১৩ই নভেম্বরের সব ক্লাস ও পরীক্ষা অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করার কথা জানিয়েছে।

পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল সার্ভিস ও সব রুটের বাস সার্ভিস বন্ধ থাকবে বলেও জানিয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়।

গত সোমবার শান্তা-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়েরই একটি বাসে ধানমন্ডিতে অগ্নিসংযোগ করেছিল দুর্বৃত্তরা। এদিকে, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ১৩ই নভেম্বরের সব ক্লাস অনলাইনে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে।




প্রত্যেক শিশুর একটা না একটা প্রতিভা আছে: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশে বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরামর্শ দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, প্রত্যেক শিশুর একটা না একটা প্রতিভা আছে। মা বাবা, স্কুলের শিক্ষক ও প্রতিবেশী সবাই মিলে শিশুদের সেই প্রতিভাকে সামনে নিয়ে আসার সুযোগ তৈরি করে দিতে পারেন।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের শাপলা হলে বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘নতুন কুঁড়ি-২০২৫’ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, শিশু কিশোরদের মধ্যে প্রেরণা সৃষ্টি করা প্রতিযোগিতার একটি বড় অংশ। এর মাধ্যমে শিশুদের নিজেদের আবিষ্কার করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তারা নিজেকে জানতে শেখে। প্রতিযোগিতা তাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার উৎসাহ যোগায়।

তিনি বলেন, শিশু-কিশোরদের জন্য বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিযোগিতা (রচনা, প্রযুক্তি , ব্যবসা,খেলাধুলা, বিজ্ঞান, ফ্যাশন ডিজাইন, খাবার তৈরি, নাটক ও গল্প বলা) আয়োজনের মাধ্যমে তাদের নিজেকে আবিষ্কার করার সুযোগ তৈরি করে দিতে পারে সরকার।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিশু-কিশোররা তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাচ্ছে এবং তারা যাতে তাদের প্রতিভা বিকশিত করতে থাকে সে জন্য নিয়মিত অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতা শিশু-কিশোরদের জন্য একটি মঞ্চ তৈরি করেছে, যেখানে তারা নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরতে পারছে এবং নতুন করে নিজেদের আবিষ্কার করতে পারছে।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘যে নিজেকে আবিষ্কার করতে পারে, সে-ই প্রকৃত অর্থে এগিয়ে যেতে পারে। এই প্রতিযোগিতাটি সেই আত্ম-আবিষ্কারেরই সুযোগ করে দিয়েছে। না হলে আমি কখনোই জানতাম না যে আমি ক্লাসে প্রথম হতে পারি।’

প্রতিযোগিতার পেছনে থাকে আরও বহু অনানুষ্ঠানিক প্রতিযোগিতা—পরিবারে, সমাজে, শিক্ষাঙ্গনে। তাই এটি শুধু অংশগ্রহণকারীদের নয়, পরিবার, শিক্ষক ও বিচারকদের জন্যও এক আনন্দের উপলক্ষ।

বিচারকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা তাদের মেধা ও সময় দিয়ে বিচারকার্যে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তাদের জন্য এক জোরে হাততালি প্রাপ্য। অভিভাবকরাও প্রশংসার দাবিদার—কারণ তারা সন্তানদের পাশে থেকেছেন, সহযোগিতা করেছেন। শিক্ষক-শিক্ষিকারাও এই সাফল্যের অংশীদার।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এই হাততালিগুলো এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। সারা বাংলাদেশের আনাচে কানাচে যারা এই প্রতিযোগিতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তারা সবাই এই আনন্দের অংশীদার। যারা বিজয়ী হয়েছেন, তাদের অভিনন্দন। আবার যারা অংশ নিয়েও জিততে পারেননি, তাদেরও সমান অভিনন্দন— কারণ অংশগ্রহণ করাটাই বড় অর্জন।’

তিনি বলেন, যারা জিততে পারেনি, তাদের মনে একটা জেদ কাজ করবে—‘আমি কেন পারলাম না?’ এই জেদই মানুষকে বদলে দেয়। এই প্রতিযোগিতা সেই প্রেরণাই সৃষ্টি করে। পরের বছর তারা আরও ভালো করবে, আরও এগিয়ে যাবে, এটাই আত্ম-আবিষ্কারের শুরু।

প্রতিযোগিতার তাৎপর্য তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, ‘এই প্রতিযোগিতা আমাদের ভেতরে লুকিয়ে থাকা প্রতিভাকে জাগিয়ে তোলে। না হলে আমরা যেভাবে আছি সেভাবেই থেকে যেতাম। প্রতিযোগিতা আমাদের জানায়— আমারও সক্ষমতা আছে, আমি আরও কিছু করতে পারি।’

মন্ত্রণালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই প্রতিযোগিতা নতুনভাবে শুরু করার জন্য আমি উপদেষ্টাকে বিশেষ ধন্যবাদ জানাই। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব, কারণ এর মাধ্যমেই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা প্রথম আয়োজন, তাই কিছু ভুলভ্রান্তি থাকতেই পারে। এতে লজ্জার কিছু নেই, বরং এটি পরবর্তী আয়োজনকে আরও পরিপূর্ণ করবে। ভবিষ্যতে যেন আরও প্রতিভাবান অংশগ্রহণকারীকে আমরা আবিষ্কার করতে পারি, সে লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এই প্রতিযোগিতা ফ্যাশন ডিজাইন, খাদ্য প্রস্তুতি, বিজ্ঞান, ব্যবসা ইত্যাদি নানা ক্ষেত্রে নতুন প্রতিভা তুলে আনবে। কেউ ভালো গায়ক না হলেও ভালো বিজ্ঞানী হতে পারে, ভালো উদ্যোক্তা হতে পারে—এই প্রতিযোগিতা সেই সুযোগ তৈরি করে দেবে।’

শেষে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন আর সীমার মধ্যে নেই— বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের তরুণ প্রজন্ম সেই বিশ্বমানে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবে। আমি সবাইকে আবারও অভিনন্দন জানাই—আয়োজক, অংশগ্রহণকারী, অভিভাবক, শিক্ষক সবাইকে। আগামী বছর এই প্রতিযোগিতা আরও জাঁকজমকপূর্ণ ও আনন্দময় হোক— এই কামনা করি।’

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতায় সারা দেশের হাজারো শিশু অংশ নেয়। নাচ, গান, আবৃত্তি, কৌতুক, গল্প বলা, অভিনয়সহ মোট ১২টি বিভাগে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

আঞ্চলিক ও বিভাগীয় পর্ব শেষে নির্বাচিত প্রতিযোগীদের নিয়ে হয় চূড়ান্ত পর্ব। আজ প্রধান উপদেষ্টা ‘ক’ ও ‘খ’ গ্রুপের সেরাদের  হাতে পুরস্কার তুলে দিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ‘নতুন কুঁড়ি-২০২৫’ প্রতিযোগিতার ক শাখা চ্যাম্পিয়ন প্রিয়শী চক্রবর্তী ও খ শাখার চ্যাম্পিয়ন শুভমিতা তালুকদারের হাতে ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট ও তিন লাখ টাকার পুরস্কার তুলে দেন।




শেখ হাসিনার মামলার রায় ঘোষণা ১৭ নভেম্বর

ডেস্ক নিউজঃ জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের রায়ের দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ মামলার রায় আগামী ১৭ নভেম্বর ঘোষণা করা হবে। 

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বেলা ১২টা ৯ মিনিটে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন নির্ধারণ করেন। ট্রাইব্যুনালের বাকি সদস্যরা হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদসহ অন্যরা।



সাবেক বিমানবাহিনী প্রধানের উপহার পাওয়া ফ্ল্যাটে আলোচনায় সংবাদ উপস্থাপিকা সাঞ্জিদা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর নিকুঞ্জে বিলাসবহুল জীবনযাপন ও অজানা উৎসের সম্পদ ঘিরে আলোচনায় এসেছেন বেসরকারি টেলিভিশনের সংবাদ উপস্থাপিকা সাঞ্জিদা আক্তার। সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে। দুদকের অভিযানে জানা যায়, তার নামে থাকা দুটি ফ্ল্যাটের মূল্য প্রায় ৯৫ লাখ টাকা, পাশাপাশি ৪৫ লাখ টাকার এফডিআর এবং ২৬ লাখ টাকার বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া গেছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, এসব সম্পদের মূল উৎস হিসেবে উঠে এসেছে বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান শেখ আব্দুল হান্নান এর নাম। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সংবাদ উপস্থাপিকা সাঞ্জিদাকে কোটি টাকার উপহার দিয়েছেন। সম্পদের উৎস যাচাই করতে গিয়ে বিষয়টির সত্যতা খতিয়ে দেখছে দুদক।

অভিযানের পর দুদকের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত সাঞ্জিদার নামে থাকা দুটি ফ্ল্যাট ও ব্যাংক হিসাবের ৪০ লাখ টাকা জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য, “এই সম্পদ কীভাবে অর্জিত হয়েছে, তার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

একই দিনে দুদক আরও কয়েকটি দুর্নীতির ঘটনায় মামলা দায়ের করেছে। মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে চারটি রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে মামলা হয়। সরকার নির্ধারিত ৭৯ হাজার টাকার পরিবর্তে এসব এজেন্সি শ্রমিকদের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই চারটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৩১১ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলা রুজু হয়েছে।

এছাড়া, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও আরও ১৯ জনের বিরুদ্ধে চারটি মামলা করেছে দুদক। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক হিসাব খুলে ঋণের নামে প্রায় ৩১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

দুদকের মহাপরিচালক জানান, “যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে, সেগুলোর প্রমাণ মিললেই মামলা হবে। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্টদের সম্পদ জব্দ ও অবৈধ অর্থ উদ্ধারের প্রক্রিয়াও চলছে।”

এই ঘটনায় আবারও স্পষ্ট হয়েছে—অবৈধ সম্পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে দুদক কঠোর অবস্থানে রয়েছে।




দুদকের মামলায় বন কর্মকর্তা সুলতানুল আলমের জামিন নাকচ, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় বন বিভাগের এক রেঞ্জ কর্মকর্তা সুলতানুল আলম চৌধুরী (৫৭) কে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার (১২ নভেম্বর) চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্পেশাল জজ মিজানুর রহমানের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত তা নাকচ করেন।

সুলতানুল আলম ফেনী জেলার দাগনভূঞা রেঞ্জের বর্তমান কর্মকর্তা। তার বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পূর্ব গোমদণ্ডীর মধ্যম কড়লডেঙ্গা এলাকায়। তিনি মৃত আজহারুল হক চৌধুরীর ছেলে। এর আগে তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের পটিয়া রেঞ্জে দায়িত্ব পালন করেছেন।

দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রনি জানান, জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে অবৈধভাবে বিপুল সম্পদ অর্জন ও তা ভোগদখলের অভিযোগে দুদক মামলা করেছিল। এই মামলায় আত্মসমর্পণের সময় সুলতানুল আলম জামিন চেয়েছিলেন, তবে আদালত তার আবেদন খারিজ করে দেন এবং কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে সুলতানুল আলম চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালত থেকে জামিন নিয়েছিলেন। তবে জামিনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বুধবার তিনি পুনরায় আত্মসমর্পণ করে নতুন করে জামিন আবেদন করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, সম্পদের বিবরণীতে তিনি ১ লাখ ৬১ হাজার ৬৪৮ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য গোপন করেন। পাশাপাশি, তিনি ৫১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৩৪ টাকার জ্ঞাত আয়ের বাইরে সম্পদ অবৈধভাবে অর্জন করে নিজের দখলে রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০২৩ সালের ১৬ এপ্রিল দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এর সহকারী পরিচালক আব্দুল মালেক বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১২ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।




মাধবপুরে সাব-রেজিস্ট্রার মাসুদ রানার বিরুদ্ধে দুর্নীতির ঝড়, অভিযোগে তোলপাড় দপ্তর

হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মাসুদ রানার বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতি, অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। তার দপ্তরে এখন চলছে চরম অস্বচ্ছতা ও ভীতিকর কর্মপরিবেশ— এমনটাই অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও দপ্তরের কর্মচারীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কথিত ‘অলিখিত নির্দেশ’ দেখিয়ে মাসুদ রানা স্থানীয় নিশান এনজিওর বিভিন্ন সম্পত্তির দলিল সম্পাদন বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে অনেক গ্রাহক তাদের বৈধ সম্পত্তির দলিল নিতে পারছেন না। অভিযোগ উঠেছে, তিনি এসব সিদ্ধান্ত নিতে আইন মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মকর্তার নামও ব্যবহার করেন প্রভাব খাটাতে।

অফিসের নকলনবিশ জান্নাত আরা জানান, তিনি মাসুদ রানার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনলেও সেটি যথাযথভাবে গ্রহণ বা তদন্ত করা হয়নি। বরং অভিযোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তার ভাষায়— “আমি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম, কিন্তু তিনি গ্রহণ করেননি। পরে জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে অভিযোগ জানাই এবং শেষ পর্যন্ত আদালতের শরণাপন্ন হই।”

অফিসের অন্যান্য কর্মচারীরাও জানিয়েছেন, সাব-রেজিস্ট্রার অনেক সময় অফিসের নিয়ম ভেঙে এজলাসে না বসে নিজ কামরাতেই দলিল সম্পাদন করেন। আবার অনেক নকলনবিশকে তিনি ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত রাখেন। কেউ প্রতিবাদ করলে বিভিন্নভাবে চাপের মুখে পড়তে হয়।

এছাড়া অভিযোগ আছে, দলিল সম্পাদনের সময় স্থানীয় একটি মসজিদের নামে অনুদান হিসেবে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত নেওয়া হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি— এই টাকা সম্পূর্ণভাবে মসজিদের তহবিলে জমা হয় না, বরং বেশিরভাগ অর্থ সাব-রেজিস্ট্রার ও তার সহযোগীদের পকেটে চলে যায়।

নিশান এনজিওর ভুক্তভোগী নয়ন মিয়া বলেন, “আমাদের দলিল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে টাকার বিনিময়ে। আমরা লাখ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছি। এখন হাইকোর্টে রিট করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

অফিসের কয়েকজন কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “এখানে নারী কর্মীদের জন্য কোনো নিরাপদ পরিবেশ নেই। কেউ অনিয়মের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই তাকে প্রশাসনিকভাবে চাপে ফেলা হয়।”

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাব-রেজিস্ট্রার মাসুদ রানা নিজ কক্ষে বসেই দলিল সম্পাদন করছেন। অনেক নকলনবিশকে তার ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত দেখা যায়। অফিসে কর্মচারীদের অর্থ আদায়ের দৃশ্যও চোখে পড়ে।

অভিযোগের বিষয়ে মাসুদ রানা বলেন, “প্রতি দলিলের কিছু টাকা নেওয়া হয়, তবে সবটুকু মসজিদের অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়। নারী কর্মচারীর অভিযোগ তদন্তাধীন আছে। অফিসে বসে দলিল করতে হয় প্রয়োজনে। অন্য সব অভিযোগ মিথ্যা।”

এ বিষয়ে নিবন্ধন অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগের পরিদর্শক মীর মাহবুব মেহেদী বলেন, “তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আমরা পেয়েছি। তদন্ত চলছে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

হবিগঞ্জ জেলার রেজিস্ট্রার কে. এম. রফিকুল কাদির জানান, “অভিযোগগুলো আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




৩০০ কোটি টাকায় মনোনয়ন কেনার ঘোষণা ও ২ হাজার কোটি টাকার সম্পদের অনুসন্ধান দাবি- মোস্তফা জামানের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব হাজী মোস্তফা জামান-এর বিরুদ্ধে বিপুল সম্পদ অর্জন ও অস্বচ্ছ আর্থিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে, যেখানে অনুসন্ধান চাওয়া হয়েছে তার সম্পদের উৎস ও নির্বাচনী তহবিলের অর্থের উৎস সম্পর্কে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী হতে গিয়ে মোস্তফা জামান তিনশত কোটি টাকা ব্যয় করতে ইচ্ছুক—এমন মন্তব্য তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি ও গণমাধ্যমে প্রকাশ্যে করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৮ থেকে ১০ বছরে মোস্তফা জামান রাজধানীর উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২০ একর জমি, ১০ থেকে ১২টি বহুতল ভবন এবং ২০টিরও বেশি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। অভিযোগকারীরা বলেন, তার দৃশ্যমান কোনো বড় ব্যবসা বা প্রকাশ্য আয়ের উৎস নেই, কিন্তু তিনি হঠাৎ করেই প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দুদকে জমা দেওয়া নথিতে বলা হয়, ২০২০ সালের ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন মোস্তফা জামান। নির্বাচনের সময় দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, তার মালিকানাধীন জমির পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৭৭ শতাংশ, এবং বার্ষিক আয় উল্লেখ করা হয়েছিল মাত্র ৫ লাখ ৩১ হাজার টাকা।

কিন্তু অভিযোগকারীদের দাবি, বর্তমানে তার ভাড়াজনিত আয়ই মাসিক প্রায় দুই কোটি টাকা, যা বাৎসরিক হিসাবে ২৪ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। অথচ আয়কর বিবরণীতে এমন কোনো পরিমাণ অর্থের উৎস বা ঘোষণা দেখা যায় না।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, “২০২০ সালের পর থেকে মোস্তফা জামানের সম্পদ বৃদ্ধির হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। কৃষক পরিবার থেকে উঠে এসে মাত্র এক দশকের মধ্যে শত শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হওয়া একটি বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।”

এছাড়া, অভিযোগে দাবি করা হয়, জুলাই বিপ্লবের পর বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন মোস্তফা জামান। এর আগে তিনি তুরাগ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। দলীয় রাজনীতিতে পুনরায় প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে তিনি নাকি ২০ কোটি টাকার বিনিময়ে মহানগর উত্তর বিএনপির পদ অর্জন করেছেন, এমন অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে চিঠিতে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, “মোস্তফা জামান প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, প্রয়োজনে তিনশত কোটি টাকা খরচ করে হলেও তিনি ঢাকা-১৮ আসনের মনোনয়ন নিশ্চিত করবেন। প্রকাশ্যে কোনো ব্যবসা-বাণিজ্য না থাকলেও কীভাবে তার পরিবার হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদের মালিক হলো—দুদকের উচিত বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান করা।”

এ বিষয়ে মোস্তফা জামানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

দুদক সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগপত্রটি কমিশনের রিসিভ সেকশনে জমা হয়েছে এবং প্রাথমিক যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় পাঠানো হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের অভিযোগ বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।




‘‘জামাত-ই- ইসলামীর সাথে জাতীয় পার্টির জোটবদ্ধ নির্বাচন ও বৈঠক করার খবরটি অসত্য’’- জিএম কাদের

এসএম বদরুল আলমঃ ‘‘জামাত-ই- ইসলামীর সাথে জাতীয় পার্টির জোটবদ্ধ নির্বাচন করার জন্য বৈঠক করেছে মর্মে কিছু প্রচার মাধ্যমে প্রকাশিত খবরটি অসত্য।’’

আবার কোন কোন মিডিয়ায় প্রচার করা হচ্ছে যে ‘‘সুযোগ পেলে জাতীয় পার্টি বিএনপি অথবা জামাত-ই-ইসলামীর সাথে জোটবদ্ধ নির্বাচন করবে’’- প্রচারিত এ সংবাদটিও ভিত্তিহীন। আজ এক বিবৃতিতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের এই কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন জাতীয় পার্টি এখনো কোন জোটের সাথে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করে নাই।




ঢাকা-১৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের প্রায় লক্ষাধিক লোকের বিশাল শোডাউন

এসএম বদরুল আলমঃ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা-১৫ আসনের জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন-এর নেতৃত্বে মঙ্গলবার বিকেলে এক বিশাল শোডাউন অনুষ্ঠিত হয়।

সরকারি আয়ুর্বেদিক কলেজ থেকে শুরু হয়ে এই মহাশোভাযাত্রা শেওড়াপাড়া তালতলা প্রদক্ষিণ করে শেওড়াপাড়া কেন্দ্রীয় মঞ্চে এসে শেষ হয়। পুরো এলাকাজুড়ে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, কৃষক দল, তাঁতি দল, শ্রমিক দলসহ দলের সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিলের সারিতে যোগ দেন।

প্রায় লক্ষাধিক মানুষের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি ঢাকায় এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক সমাবেশে পরিণত হয়। শোভাযাত্রার পুরো পথজুড়ে “ধানের শীষের জয়ধ্বনি” ও “গণতন্ত্র মুক্তির লড়াইয়ে শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের নেতৃত্ব”–এর স্লোগানে মুখরিত ছিল বাতাস।

শোভাযাত্রার আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর এই এলাকার মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। জনগণ এবার পরিবর্তন চায়, ভোটের মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে চায়। আমি এই আসনকে একটি গ্রীন ঢাকা, ক্লিন ঢাকা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় এই আসনকে মডেল সিটি করব ইনশাআল্লাহ।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা ভোট চাই জনগণের বিশ্বাসে, জনগণের শক্তিতে। কিন্তু জামায়াত ইসলামের আমির ড. শফিকুর রহমান ভোটে বিশ্বাসী নন। তারা গণভোট বিলম্বিত করতে বিভিন্ন পাঁয়তারা করছে। আমি স্পষ্ট করে বলছি—যদি তারা এ ধরনের তালবাহানা করে, তাহলে জনগণ তাদের মন থেকে চিরতরে মুছে ফেলবে।”

শফিকুল ইসলাম মিল্টন বলেন, “ঢাকা-১৫ হবে ঐক্যের প্রতীক। আমি রাজনীতি করি মানুষের জন্য, উন্নয়নের জন্য। এই এলাকার রাস্তা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে আমূল পরিবর্তন আনবো। আমি চাই তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন পূরণের রাজনীতি।”

তিনি আরও যোগ করেন যে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের এই ধারা অব্যাহত রেখে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য জনগণের ঐক্য এখন অপরিহার্য।

শোভাযাত্রা ঘিরে এলাকাজুড়ে উৎসবের আমেজ দেখা যায়। নারীরা ছাদে দাঁড়িয়ে হাত নাড়েন, তরুণরা শ্লোগানে মাতেন, বৃদ্ধরা বলেন—“এবার ভোট চাই, পরিবর্তন চাই।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ঢাকা-১৫ আসনে শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এখন জনমতের শীর্ষে অবস্থান করছেন এবং তাঁর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়ে চলেছে।

একজন প্রবীণ নেতা বলেন, “মিল্টন ভাই শুধু রাজনীতিক নন, তিনি এলাকার উন্নয়নের প্রতীক। তরুণদের হৃদয়ে তাঁর নাম এখন আশার আলো।”

শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের এই মহাশোডাউন প্রমাণ করেছে—ধানের শীষের পক্ষে ঢাকায় এখনো ব্যাপক গণজোয়ার রয়েছে। জনগণ এবার পরিবর্তনের স্বপ্নে উজ্জীবিত, আর এই পরিবর্তনের নেতৃত্বে রয়েছেন শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, যিনি দৃঢ়ভাবে বলছেন— “গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনব, মানুষকে তার ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেব। এটা শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, এটি আমার অঙ্গীকার।”




0x97a9ff8a

0x97a9ff8a