নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে দায়িত্ব পালনের আহ্বান চরমোনাই পীরের

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়ে তাকে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও জাতির স্বার্থে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।

বৃহস্পতিবার দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য, নেক হায়াত ও সার্বিক কল্যাণ কামনা করেন।

বিবৃতিতে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, রাষ্ট্রপতি দেশের সার্বজনীন ঐক্য ও সর্বজনের আস্থার প্রতীক। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে দলীয় বৃত্তের বাইরে থেকে দায়িত্ব পালন করতে হয়। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের আগে বিএনপির মহাসচিবের পদ ছেড়েছেন। ফলে বঙ্গভবনে গিয়ে তিনি দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও জাতির স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবেন—এটাই প্রত্যাশা।

তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সততার ক্ষেত্রে একজন পরীক্ষিত ব্যক্তি। এমন একজন ব্যক্তির রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হওয়া দেশের রাজনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। যে আশাবাদ নিয়ে তিনি বঙ্গভবনে যাচ্ছেন, সেই আশাবাদকে বাস্তবে রূপ দিতে সক্ষম হবেন বলে আমরা প্রত্যাশা করি।




বাংলাদেশের প্রথম বৃহত্তম অপো ফটোগ্রাফি কনটেস্ট ২০২৬-এর গ্র্যান্ড ফিনালেতে রেকর্ড ২৩ হাজারেরও বেশি সাবমিশন

নিজেস্ব প্রতিনিধিঃ ২৩ হাজারেরও বেশি তরুণ বাংলাদেশি যখন তাদের স্মার্টফোন হাতে তুলে প্রতিদিনের মুহূর্তগুলোকে গল্পে রূপান্তরিত করে, তখন কী হয়? এই ওয়ার্ল্ড ফটোগ্রাফি ডে-তে অপো ঠিক সেই অসাধারণ সৃজনশীলতাকেই উদযাপন করছে। ‘এভরি ফটো টেলস আ স্টোরি’ শীর্ষক অপো রেনো১৫ সিরিজ ফাইভজি প্রেজেন্টস অপো ফটোগ্রাফি কনটেস্ট ২০২৬, গ্র্যান্ড ফিনালেতে পৌঁছেছে; আর সারাদেশ থেকে এতে রেকর্ড পরিমাণ ২৩ হাজারেরও বেশি সাবমিশন এসেছে।

ফটোগ্রাফি আজ আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজলভ্য। একসময় যা কেবল পেশাদার ফটোগ্রাফার ও বিশেষ যন্ত্রপাতির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, সেই ফটোগ্রাফি আজ এক সর্বজনীন ভাষা হয়ে উঠেছে। ঢাকার কোনো রাস্তার একটি মুহূর্ত, প্রকৃতির নিভৃত সৌন্দর্য, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, পোর্ট্রেট বা কম আলোয় ধারণ করা দৃশ্য; সঠিকভাবে দেখলে এর সবই একেকটি গল্প হয়ে উঠতে পারে।

অপোর কাছে ফটোগ্রাফি সবসময়ই উদ্ভাবনের কেন্দ্রে রয়েছে। সেলফি প্রযুক্তিতে পথ দেখানো থেকে শুরু করে এআই-সক্ষম ইমেজিং, পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফি, নাইট ফটোগ্রাফি সহ বিভিন্ন ইমেজিং সক্ষমতা উন্নত করা পর্যন্ত, অপো সবসময় সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছে ফটোগ্রাফি আরও সহজলভ্য করতে কাজ করে যাচ্ছে। ব্র্যান্ডটি বিশ্বাস করে, ফটোগ্রাফি কেবল প্রযুক্তির বিষয় নয়; এটি মানুষকে নিজের মতো করে দেখতে, সৃষ্টি করতে ও গল্প বলতে সক্ষম করে তোলার বিষয়।

বাংলাদেশে এই দর্শনকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে ‘অপো রেনো১৫ সিরিজ ফাইভজি প্রেজেন্টস অপো ফটোগ্রাফি কনটেস্ট ২০২৬’, যা দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ফটোগ্রাফি ও ভিজ্যুয়াল আর্টস প্রতিষ্ঠান পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের সাথে অংশীদারিত্বে আয়োজন করা হয়েছে।

প্রতিযোগিতায় সারা বাংলাদেশের ফটোগ্রাফিপ্রেমীদের স্মার্টফোনে তোলা ছবি পাঁচটি বিশেষ ক্যাটাগরিতে জমা দিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়। ক্যাটাগরিগুলো হলো- পোর্ট্রেট; নেচার অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ; স্ট্রিট অ্যান্ড আর্কিটেকচার; লো লাইট; ও হেরিটেজ অ্যান্ড কালচার।

এতে অভূতপূর্ব সাড়া মিলেছে। প্রতিযোগিতায় ২৩ হাজারেরও বেশি সাবমিশন পড়েছে, যা বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ফটোগ্রাফির প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহ ও সৃজনশীল প্রকাশের হাতিয়ার হিসেবে স্মার্টফোনের জনপ্রিয়তাকে প্রতিফলিত করে।

গ্র্যান্ড ফিনালের দিকে এগিয়ে আসার সাথে সাথে যেন উদ্দীপনা আরও বাড়ছে; হাজারো এন্ট্রির মধ্য থেকে কোন ফটোগ্রাফারের দৃষ্টিভঙ্গি ও গল্প আলাদাভাবে বোঝা যাবে? বিজয়ীদের একাধিক ধাপে স্বীকৃতি দেওয়া হবে, যেন প্রতিটি ধাপে সৃজনশীলতার উদযাপন যথাযথভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

প্রতিযোগিতায় গ্র্যান্ড উইনার পাবেন ১,০০,০০০ টাকা নগদ পুরস্কার, একটি অপো ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন ও পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের একটি ফটোগ্রাফি কোর্স। এলিট উইনার পাবেন ৫০,০০০ টাকা, একটি অপো স্মার্টফোন ও পাঠশালার একটি ফটোগ্রাফি কোর্স। মাস্টার উইনার পাবেন ৩০,০০০ টাকা, একটি অপো স্মার্টফোন ও পাঠশালার একটি ফটোগ্রাফি কোর্স। এবং প্রতিটি ক্যাটাগরি উইনার পাবেন ২০,০০০ টাকা, একটি অপো স্মার্টফোন ও পাঠশালার একটি ফটোগ্রাফি কোর্স।

এ বিষয়ে অপো বাংলাদেশ অথোরাইজড এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউটরের জেনারেল ম্যানেজার ডেমন ইয়াং বলেন, “অপোতে আমরা সবসময় বিশ্বাস করি যে, ফটোগ্রাফি তরুণদের জন্য নিজেদের পরিচয় ও বিশ্বকে দেখার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যমগুলোর একটি। ওয়ার্ল্ড ফটোগ্রাফি ডে আমাদের জন্য প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করার একটি অসাধারণ সুযোগ। এটি কেবল ইমেজিং প্রযুক্তির প্রতি নয়; বরং, দেশজুড়ে আমরা যে সৃজনশীল কমিউনিটি গড়ে তুলতে চাই তার প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতাও। ২৩ হাজারেরও বেশি মানুষ আমাদের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তাদের গল্পগুলো ভাগাভাগি করে নিয়েছেন; এটি অত্যন্ত অনুপ্রেরণামূলক। এই আবেগ ও সৃজনশীলতাকে আরও বিকশিত হতে সহায়তা করবে আমরা এমন প্ল্যাটফর্ম ও সুযোগ তৈরি করতে চাই।”

এই প্রতিযোগিতা বাংলাদেশে সৃজনশীল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার প্রতি অপোর প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। স্মার্টফোন প্রযুক্তি, পাঠশালার মতো পেশাদার ফটোগ্রাফি প্রতিষ্ঠান ও হাজারো উদীয়মান ফটোগ্রাফারকে একত্রিত করার মধ্য দিয়ে এই উদ্যোগের লক্ষ্য কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়; বরং তারচেয়েও বেশি কিছু। এটি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে যেখানে উদীয়মান ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলাররা স্বীকৃতি পাবেন, পেশাদারদের কাছ থেকে শিখতে পারবেন এবং তাদের অনুভূতিকে আরও এগিয়ে নিতে পারবেন।

এবারের ওয়ার্ল্ড ফটোগ্রাফি ডে-তে ২৩ হাজারেরও বেশি সাবমিশন এক শক্তিশালী স্মারক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে; যেখানে ফটোগ্রাফি এখন আর দামি ক্যামেরা বা পেশাদার স্টুডিও দিয়ে পরিমাপ করা হয় না। কেবল অনুভূতি আর এর তীব্র বহিঃপ্রকাশের মধ্য দিয়েই ফুটে ওঠে এই দৃষ্টিভঙ্গি।

আর গ্র্যান্ড ফিনালে এগিয়ে আসার সাথে সাথে একটি প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, ২৩ হাজারেরও বেশি গল্পের মধ্য থেকে কোন ছবিটি সবাইকে ছাড়িয়ে যাবে!




নতুন পে-স্কেলের চূড়ান্ত ঘোষণা কবে, জানালেন অর্থ উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজ : সরকারি চাকরিজীবীদের বহু প্রতীক্ষিত নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এটি কবে থেকে এবং কত ধাপে কার্যকর করা হবে, সে বিষয়ে শিগগিরই মন্ত্রিসভার বৈঠকে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপদেষ্টা দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা, নতুন পে-স্কেলের অগ্রগতি এবং জ্বালানি খাতের সামগ্রিক পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

তিনি জানান, বেতনকাঠামো নির্ধারণে সাধারণত তিনটি পর্যায়ে কাজ সম্পন্ন হয়। ইতোমধ্যে পে সার্ভিস কমিশন ও সশস্ত্র বাহিনীর পে কমিটি তাদের সুপারিশ দিয়েছে, যা সচিব কমিটি পর্যালোচনা করে মতামত পাঠিয়েছে। এছাড়া জুডিশিয়াল পে কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি তাদের কাজ শুরু করেছে। এ সংক্রান্ত কাজ শেষ হলে পুরো প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উঠবে এবং সেখান থেকেই বাস্তবায়নের চূড়ান্ত সময়সীমা ও পদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে।

মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ নিয়মিত চাকরিজীবী এবং পেনশনভোগীসহ প্রায় ২০ লাখ মানুষের স্বার্থ জড়িত এই বেতনকাঠামোয়। তবে বেতন বৃদ্ধির মাধ্যমে দুর্নীতি সম্পূর্ণ দূর হয়ে যাবে—সরকার এমন কোনো দাবি করছে না; বরং একটি যৌক্তিক ও কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকারি ও বেসরকারি খাতের বেতনকাঠামোর তুলনা সরাসরি করা যায় না, এটি কাজের ধরন ও দায়িত্বের ওপর নির্ভর করে।

অর্থসংস্থানের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, অতিরিক্ত কর না চাপিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংগ্রহের পরিধি বাড়ানো সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। ঋণ নিয়ে উন্নয়ন বা বেতন বাস্তবায়নের প্রসঙ্গে তিনি জানান, যেকোনো প্রতিষ্ঠানের মতো রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও ঋণ নেওয়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে ঋণের সুদের হার, শর্ত, পরিশোধের মেয়াদ এবং তা জিডিপির কত শতাংশ—সেসব বিবেচনা করাই প্রধান। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষার ব্যয় এবং বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ঋণের সুদ ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পরও ভুল ও বিভ্রান্তিকর পরিসংখ্যানের মাধ্যমে উন্নয়নের প্রচার চালানো হয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উপদেষ্টা আশ্বস্ত করে বলেন, আসন্ন শীতে পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং আগামী গ্রীষ্মে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত হবে। এছাড়া ২০২৯ সাল নাগাদ বড় অর্থনীতির উপযোগী দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এলএনজি সরবরাহে জটিলতার কারণ হিসেবে তিনি অপ্রত্যাশিত বৈশ্বিক সংকট বা ‘ফোর্স মেজারস’ এবং হরমুজ প্রণালির সংকটের কথা উল্লেখ করেন। বিকল্প হিসেবে কাতার ছাড়াও অন্যান্য উৎস এবং নতুন পরিবহন পথ খোঁজা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যেকোনো সংকট এড়াতে খাদ্যের মতোই জ্বালানির ‘বাফার মজুত’ গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আগামী নভেম্বর নাগাদ সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন ব্লকের দরপত্র আহ্বানের পরিকল্পনা রয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জ্বালানি আমদানিতে ‘নো পাওয়ার, নো পে’ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।




মুক্তি পেলে সেনাপ্রধানের সঙ্গে বিরোধে জড়াবেন না ইমরান খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সেনাবাহিনী বা সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়াবেন না বলে জানিয়েছেন তার দলের শীর্ষ এক নেতা। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) মুখপাত্র ও ইমরানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী জুলফিকার বুখারি এ ইঙ্গিত দিয়েছেন।

বুধবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বুখারি জানান, শীর্ষ আদালতের আইনি অগ্রগতির পর দেশের বৃহত্তর স্বার্থে অতীত ভুলে সমঝোতার পথ বেছে নিতে পারে পিটিআই। ইমরান খানকে ‘মহানুভাব’ হিসেবে উল্লেখ করে বুখারি বলেন, ইমরান খান কাল মুক্তি পেলে দেশের ক্ষতি হয় এমন কিছু করবেন না। এর মানে এই নয় যে আপনাকে প্রতিষ্ঠানের বা সামরিক প্রধানের মুখোমুখি হতে হবে। দেশের ভালোর জন্য নিজের ক্ষোভ ও কষ্ট চেপে রাখতে হয়।

মঙ্গলবার পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খানকে কারাগার থেকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়। এই রায়কে সেনাপ্রধান আসিম মুনির ও পিটিআই-এর মধ্যকার মনস্তাত্ত্বিক উত্তেজনা কমানোর একটি প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বুখারি এই সিদ্ধান্তকে ‘নতুন আশার আলো’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি আরও বলেন, সেনাপ্রধান যদি অভিভাবকের মতো ভূমিকা পালন করেন এবং ‘সহানুভূতির হাত’ বাড়িয়ে দেন, তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব রাজনৈতিক বন্দি মুক্তি পেতে পারেন।

তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কারাগারে থাকা ইমরানের নিজের চিন্তাভাবনা বুখারিদের মতো সহযোগীদের চেয়ে ভিন্ন হতে পারে। কারণ গত নভেম্বরেও সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে মারাত্মক নিপীড়নের অভিযোগ এনে ইমরান খান শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত মাথা নত না করার বার্তা দিয়েছিলেন। তা ছাড়া আট মাস ধরে পিটিআই নেতারা ইমরানের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পাননি।

জুলফিকার বুখারির এ বক্তব্যের বিষয়ে পাকিস্তান সরকার বা দেশটির সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এদিকে আইনি লড়াই ও ইমরান খানকে হাসপাতালে স্থানান্তরের খবরের মধ্যেই সেপ্টেম্বর থেকে দেশজুড়ে বড় ধরনের রাজপথের আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে রেখেছে পিটিআই। দলটির দাবি, রাজনৈতিক কারণে আটক ইমরান খানকে পূর্ণ মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি তার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।




সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনা আরামকোতে হুথিদের হামলার দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যেন প্রতিনিয়ত নতুন মোড় নিচ্ছে। একদিকে আকস্মিক হামলার খবর, অন্যদিকে চলছে সামরিক শক্তির নতুন বিন্যাস ও অর্থনৈতিক কৌশল। এমন অস্থিরতার মাঝেই সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা।

হুথি পরিচালিত সংবাদমাধ্যম আল-মাসিরাহ জানিয়েছে, তারা নাজরান শহরের বিমানবন্দর এবং আরামকো তেল স্থাপনার মতো সংবেদনশীল জায়গাগুলোতে হামলা চালিয়েছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য বা নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।

এসব উত্তেজনার মাঝেই সাগরপথে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি নতুন করে সাজাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের রণতরি ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’ এখন ওই অঞ্চলে অবস্থান করছে। দীর্ঘ সময় ধরে সাগরে থাকা ‘ইউএসএস লিংকন’-এর কর্মীদের একধরনের সংকট তৈরি হওয়ার পর নতুন এই রণতরি সেখানে পাঠানো হলো।

অন্যদিকে, ইরানের ওপর ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চাপ খুব একটা কাজে আসছে না। তেহরানের ফলিত বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোস্তফা খোশচেশম জানান, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই দফা সংঘাত প্রমাণ করে, ইরান বিকল্প পথ খুঁজে নিয়েছে। প্রতিবেশীদের সঙ্গে বাণিজ্য করে তারা প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি সচল রেখেছে।

তার মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপের বদলে অর্থনৈতিক চাপের কথা বলছেন মূলত বৈশ্বিক বাজার স্বাভাবিক রাখতে এবং তেলের দাম কমাতে। তবে আগামী শরতে ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নতুন সামরিক অভিযানে নামতে পারে বলে ধারণা করছেন এই বিশ্লেষক।




ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সোয়া ১০ লাখ মানুষকে খাওয়ানো হবে কলেরা টিকা

ডেস্ক নিউজ : শনিবার শুরু হবে জেলা পর্যায়ে প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা সদর নবীনগর উপজেলার প্রায় সোয়া ১০ লাখ মানুষকে খাওয়ানো হবে এই ওরাল কলেরা টিকা।

বৃহস্পতিবার সকালে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত প্রতিরোধমূলক ওরাল কলেরা টিকা কার্যক্রম-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে জেলা পর্যায়ে পরিকল্পনা ও সমন্বয় সভায় এই তথ্য জানানো হয়।

সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ নোমান মিয়ার সভাপতিত্বে ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের  মেডিকেল অফিসার ডাঃ মাহমুদুল হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত পরিকল্পনা ও সমন্বয় সভায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রঞ্জন চন্দ্র দে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) পিয়াস বসাক, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের সহকারি পরিচালক ডাঃ শাখাওয়াত হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ বাহারুল ইসলাম মোল্লা, জেলা তথ্য অফিসার দীপক চন্দ্র দাস প্রমুখ।

সভায় বলা হয়, কলেরা একটি মারাত্মক সংক্রামক ডায়রিয়াজনিত রোগ, যা দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়। দ্রুত পানিশুন্যতায় রোগীর অবস্থা গুরুত্বর হতে পারে। তবে সময় মতো চিকিৎসায় অধিকাংশ রোগী সুস্থ্য হয়।
ক্যাম্পেইনের আওতায় শনিবার (২২ আগষ্ট) থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম রাউন্ড (প্রথম ডোজ) এবং ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে-২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দ্বিতীয় রাউন্ড (দ্বিতীয় ডোজ) টিকাদান কর্মসূচী চলবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও নবীনগর উপজেলায় মোট ১০ লাখ ২৪ হাজার ৫০৯ জনকে খাওয়ানো হবে এই টিকা। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ৩৩টি ওয়ার্ডে ৪ লাখ ২১ হাজার ৪৬০জন এবং নবীনগর উপজেলার ২০টি ইউনিয়নের ৬০ ওয়ার্ডে ৬ লাখ ৩ হাজার ৪৯জন জনকে এই টিকা খাওয়ানো হবে।

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল এবং নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র হিসেবে টিকাদান কার্যক্রম চলবে। মাঠ পর্যায়ে ১ হাজার ১২৩জন স্বাস্থ্য সহকারি ও টীম সদস্য এবং ৯৩জন সুপারভাইজার এর দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়াও টিম সদস্যগন বাড়ি-বাড়ি ও ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষকে টিকা দিবেন। আলোচনা সভার আগে কলেরা রোগ বিষয়ে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. সুবল দাস পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টশন করেন।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ নোমান মিয়া বলেন, সরকার জনগনের স্বাস্থ্য সেবার বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। কলেরা টিকার কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। টিকাদান সফলে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

পরিকল্পনা ও সমন্বয় সভায় সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোস্তাফিজুর রহমান, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মো. শাহীন ভূঁইয়া, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. হাসিবুল হকসহ বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।




বিপিএল না হলে আর্থিকভাবে খেলোয়াড়দের ক্ষতি, স্বীকার করেন তামিম

ক্রীড়া ডেস্ক : বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) আরেক নাম বিতর্ক। প্রতিটি আসরই ছিল নানান সমস্যায় জর্জরিত। জোড়াতালির বিপিএল আর আয়োজন করতে চায় না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিপিএল না হলে খেলোয়াড়রা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তা খোলামেলাভাবেই স্বীকার করেছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। তবে টুর্নামেন্টের শৃঙ্খলা ও দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থে বিসিবি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে তামিম বলেন,  ‘১২ মাস কিংবা ১৪ মাস লাগুক আমি ভালোভাবে বিপিএল করবো। নাহলে করবো না। আর আমার মনে হয় না, এবার বিপিএল আয়োজন করা হবে।’

বার বিপিএল না হলে খেলোয়াড়েরা যে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, সেটিও মাথায় আছে তামিমের। তিনি আরও বলেন, ‘আমি খেলোয়াড় থাকলে নিজেও হতাশ হতাম। তাদের আর্থিক ক্ষতি হবে এটা আমি অস্বীকার করি না। কিন্তু তারাও বোঝে যে এই টুর্নামেন্টটা এমন হওয়া উচিত, যা নিয়ে বিসিবি গর্ব করতে পারে। গত কয়েক বছরে যা হয়েছে তা নিয়ে কি আমরা গর্বিত? হয়তো না।’

বিসিবি প্রধান বলেন, ‘বিপিএলের শেষ দুই আসরে ৪০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বিসিবি’র। তাই যে টুর্নামেন্টে আমার ২০ কোটি টাকা ক্ষতি হবে, সেই টুর্নামেন্ট আমার প্রায়ারোটি লিস্টে নাই এই মুহূর্তে।’




‘ভারত সিরিজ আয়োজন নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে’

ক্রীড়া ডেস্ক : ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে আগস্টের শেষ দিকে বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট দলের। যদিও এই সিরিজ ২০২৪ সালে হওয়ার কথা ছিল। তবে দুই দফায় তা পিছিয়ে দেয় ভারত। গুঞ্জন রয়েছে, তৃতীয় দফায় সিরিজটি পিছিয়ে দিতে পারে ভারত। তবে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল জানালেন, নির্ধারিত সময়ে সিরিজ আয়োজন করতে এখনো আলোচনা চলছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে ভারত সিরিজ প্রসঙ্গে তামিম বলেন, ‘ভারত সিরিজ নিয়ে আমাদের এখনো আলোচনা হচ্ছে। তারিখ এদিক ওদিক হতে পারে। যদি ভারত সিরিজ হয় তখন জিডি ট্রফি মিরপুর থেকে অন্য ভেন্যুতে চলে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো পুরোপুরি স্বচ্ছ ক্রিকেট বজায় রেখে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মর্যাদা অটুট রাখা এবং তারপর সামনে এগোনো। এটার জন্য যদি আপনাদের থেকে আমাকে ১০টা সমালোচনাও শুনতে হয়, আমি তাতে রাজি আছি।’
বাংলাদেশ সফরে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলার কথা ভারতের। সেপ্টেম্বরের ১ তারিখে শুরু হওয়া ওয়ানডে সিরিজের বাকি দুটি ম্যাচ ৩ ও ৬ সেপ্টেম্বর। এরপর ৯, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর তিন টি-টোয়েন্টি।



মাত্র ৬ হাজার টাকায় নির্মিত সিনেমার আয় ২৬ কোটি টাকা!

বিনোদন ডেস্ক : এতটাই বাজে সিনেমা যে, মানুষ তা দেখতে এখন প্রেক্ষাগৃহে লাইন দিচ্ছে! এমনই এক অভিনব ঘটনার জন্ম দিয়েছে চীনের স্বল্প বাজেটের অ্যানিমেশন সিনেমা ‘নিউ লাই’।

একটি গরুর স্বপ্নের অদ্ভুত কাহিনি এবং অত্যন্ত নিম্নমানের গ্রাফিক্সের জন্য নেটদুনিয়ায় ট্রোলের শিকার হয়ে রাতারাতি ভাইরাল হয়ে গেছে সিনেমাটি, আর তাতেই রকেট গতিতে বেড়েছে এর টিকিট বিক্রি। অথচ ছবিটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে মোটে ৪৭ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ হাজার ৭০০ টাকা)।

মুভি ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘মাও ইয়ান’-এর তথ্য অনুযায়ী, মুক্তির প্রথম ১০ দিনে ছবিটির আয় ছিল মাত্র ৭,৭০৫ ইউয়ান (প্রায় ১,১৪০ ডলার)। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা।

কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় শুরুর পর ইতোমধ্যে চলচ্চিত্রটির মোট আয় ১৪.৯ মিলিয়ন ইউয়ান (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা) ছাড়িয়ে গেছে। এমনকি বর্তমানে প্রেক্ষাগৃহে ‘দ্য ওডিসি’ কিংবা ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’-র মতো হলিউড ব্লকবাস্টার ছবির সঙ্গে টেক্কা দিচ্ছে এই স্বল্প বাজেটের সিনেমাটি।

চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক জনপ্রিয় পোস্টে বলা হয়েছে, ‘সিনেমাটি দেখলে আপনি হয়তো ৮০ মিনিটের জন্য অনুশোচনা করবেন, কিন্তু না দেখলে অনুশোচনা থেকে যাবে সারাজীবনের জন্য!’

বর্তমান যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদমে যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্টের ছড়াছড়ি, তখন নেটিজেনদের একাংশ এই সিনেমাটিকে একটি ব্যতিক্রমী ‘প্রতিষেধক’ হিসেবে দেখছেন। এর বাজে অ্যানিমেশন কোয়ালিটিকে উপহাসের ছলে ‘হস্তশিল্প’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন দর্শকেরা। এটি যে কোনো এআই দিয়ে তৈরি নয়, বরং মানুষের হাতেই তৈরি—সেটিরই প্রমান হিসেবে ক্লিপগুলো শেয়ার করা হচ্ছে।

চীনের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ওয়েইবো-তে ব্যবহারকারীরা ছবিটিকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন।

ছবিটি জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে আরও এক অদ্ভুত কারণ রয়েছে। চীনে ‘ষাঁড়’ এবং ‘গরু’—দুটোকেই একই চীনা অক্ষর দিয়ে প্রকাশ করা হয়। শেয়ার বাজারের চাঙ্গা ভাবকে বলা হয় ‘বুলিশ মার্জিন’। ফলে চাঙ্গা শেয়ার বাজারের প্রত্যাশায় অনেকে কেবল নামের খাতিরেই সিনেমাটিকে সমর্থন জানাচ্ছেন!

এক নেটিজেন লিখেছেন, ‘আগামীকাল সূচক যদি ৪,০০০ পয়েন্টে পৌঁছায়, তবে আমি সিনেমা হলে গিয়ে এই সিনেমাকে সমর্থন দিয়ে আসব।’ অন্য একজন মন্তব্য করেন, ‘সিনেমাটি বাজে হলেও নামটা দুর্দান্ত!’

একে তো নামমাত্র বাজেটের সিনেমা, তার ওপর মুক্তির আগে কোনো বড় প্রচারণাও ছিল না। সিনেমাটি এতটা অবহেলিত ছিল যে এর কোনো অফিশিয়াল পোস্টারও প্রকাশ করা হয়নি। এখন হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে প্রদর্শনীর সংখ্যা বাড়িয়েছে প্রেক্ষাগৃহগুলো।

মজার বিষয় হলো, ছবিটির কোনো পোস্টার না থাকায় অনেক সিনেমা হলের কর্মীরা নিজেরাই হাতে ছবি এঁকে অভিনব পোস্টার বানিয়ে দর্শকদের আকর্ষণ করছেন!

চলচ্চিত্র পর্যবেক্ষণকারী এক জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের মতে, ‘বক্স অফিসের এই রেকর্ড অভূতপূর্ব এবং হয়তো ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি আর দেখা যাবে না।’

তবে সবাই কিন্তু এই অভাবনীয় সাফল্যকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন না। গত সপ্তাহের শেষে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ‘বেইজিং নিউজ’-এর এক সম্পাদকীয়তে এ বিষয়ে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, এভাবে প্রদর্শনীর সংখ্যা বাড়িয়ে নিচু মানের সিনেমা প্রচার করতে থাকলে প্রেক্ষাগৃহগুলো দর্শকদের ‘বিশ্বাস হারাতে’ পারে।

বেইজিং নিউজের নিবন্ধে বলা হয়, ‘অতীতে বাজে কাজের জন্য সমালোচিত হওয়া সিনেমাগুলোর মতো ‘নিউ লাই’ ছবিটির মাধ্যমে বাজে চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে দর্শকদের প্রত্যাশার মান আরও এক ধাপ নিচে নেমে গেল।’

এর পাশাপাশি প্রেক্ষাগৃহগুলোকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারা আরও উল্লেখ করে, ‘সিনেমা হলগুলোর উচিত দর্শকদের জন্য সচেতন অভিভাবক হিসেবে কাজ করা। স্ট্যান্ডার্ডের নিচে থাকা এমন নিম্নমানের সিনেমাকে প্রশ্রয় না দিয়ে শুরুতেই প্রত্যাখ্যান করা।’




নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রীর

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার বিকালে জাতীয় সংসদে তাকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মোট ৩৪৩টি বৈধ ভোটের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন ২৫৫ ভোট, আর কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় শুরু হয়ে বিকাল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়।

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‌‘আগামীকাল ২১ অগাস্ট (শুক্রবার) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’

নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল।

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর দেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন হলো। এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একক প্রার্থী থাকায় ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয়নি।