বন্ধুদের সঙ্গে না পেরে ভিন্ন চেষ্টা, ‘গোপন প্রতিভা’ ফাঁস করলেন জাহ্নবী

বিনোদন ডেস্কঃ প্যারিস ফ্যাশন উইকের মঞ্চ থেকে শুরু করে এআই বিতর্ক—কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের এক অদ্ভুত ও অজানা গুণ নিয়ে আলোচনায় এলেন বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি প্রকাশ করেছেন, তিনি নিজের জিভকে প্রায় ৩৬০ ডিগ্রি ঘোরাতে সক্ষম। নিজের এই ব্যতিক্রমী দক্ষতাকে অবশ্য নিজেই বেশ রসিকতার সুরে ‘একদমই অনর্থক ও বেকার একটি কৌশল’ বলে বর্ণনা করেছেন বি-টাউনের এই জনপ্রিয় তারকা।

আমেরিকান জীবনধারা ও ফ্যাশনবিষয়ক প্রকাশনা ‘দ্য কাট’-এর সঙ্গে এক বিশেষ আলাপচারিতায় অংশ নিয়েছিলেন জাহ্নবী। সেখানে তাকে এমন কোনো একটি লুকিয়ে রাখা দক্ষতার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়, যা সাধারণ মানুষের অজানা। এই প্রশ্নের জবাবে হাসিমুখেই তিনি তার এই ৩৬০ ডিগ্রি জিভ ঘোরানোর সক্ষমতার কথা ফাঁস করেন। সেই সঙ্গে জানান, বিষয়টি শুনতে যতটা অদ্ভুত লাগে, বাস্তবে এটি করা তার জন্য ততটাই সহজ।

এই বিশেষ দক্ষতাটি কীভাবে তিনি আয়ত্ত করলেন, সেটির পেছনে থাকা শৈশবের মজার ইতিহাসও শেয়ার করেছেন ‘দেভারা’ খ্যাত এই অভিনেত্রী। তিনি জানান, স্কুলের দিনগুলোতে তার সহপাঠীরা প্রায়ই জিভ দিয়ে নিজেদের নাক স্পর্শ করার চেষ্টা করত এবং প্রতিযোগিতা চলত। তবে চেষ্টার পরও তিনি সহপাঠীদের মতো জিভ দিয়ে নাক স্পর্শ করতে পারছিলেন না। বন্ধুদের কাছে নিজের বিশেষত্ব তুলে ধরা এবং তাদের তাক লাগিয়ে দেওয়ার তাগিদ থেকেই তিনি অন্য কিছু করার চেষ্টা শুরু করেন। সেই চেষ্টার ধারাবাহিকতায় শেষ পর্যন্ত জিভ ঘোরানোর এই অভিনব ও অস্বাভাবিক ‘পার্টি ট্রিক’ বা কৌশলটি তিনি রপ্ত করে ফেলেন।

তবে ব্যক্তিগত জীবনের এই হাল্কা মেজাজের খবরের পাশাপাশি সম্প্রতি একটি মারাত্মক এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সংক্রান্ত বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতেও পড়তে হয়েছে এই অভিনেত্রীকে। ২০২৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তার ও জুনিয়র এনটিআরের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘দেভারা: পার্ট ১’-এর ‘ছুটামাল্লে’ গানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি ডিপফেক বা বিকৃত এআই ভিডিও সম্প্রতি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভুয়া ভিডিওটিতে জাহ্নবীকে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অশালীনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, যা নিয়ে ইন্টারনেট দুনিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়।

এই ঘটনার পর চুপ থাকেননি জাহ্নবী। নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি দীর্ঘ বিবৃতি প্রকাশ করে প্রযুক্তির এমন অপব্যবহারের কড়া প্রতিবাদ জানান তিনি। নারীদের বস্তু হিসেবে তুলে ধরতে প্রযুক্তিকে ঢাল বানানোর তীব্র সমালোচনা করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া যেকোনো ধরনের কাল্পনিক বা বিকৃত কনটেন্ট ছড়ানো কেবল অপরাধই নয়, এটি অত্যন্ত পীড়াদায়ক এবং কারও ব্যক্তিগত পরিসরে গুরুতর আঘাত।

আইনি ও প্রযুক্তিগত জটিলতার এই নেতিবাচক পরিস্থিতি কাটিয়ে জাহ্নবী কাপুর এখন তার ভবিষ্যতের কাজগুলোতে মনোযোগ দিচ্ছেন। সামনের দিনে রাজ মেহতা পরিচালিত নতুন চলচ্চিত্র ‘লাগ যা গলে’-তে মুখ্য চরিত্রে দেখা যাবে তাকে। এই ছবিতে তার সহশিল্পী হিসেবে অভিনয় করছেন টাইগার শ্রফ এবং লক্ষ্য। বিগ বাজেটের এই সিনেমাটি ২০২৭ সালে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।




বগুড়ায় পুন্ড্র বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক সেমিনার

বগুড়া ব্যুরোঃ বগুড়ায় পুন্ড্র ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে শিক্ষকদের মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স সেল (আইকিউএসি) আয়োজিত এ সেমিনারের শিরোনাম ছিল ‘স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট ফর টিচার্স’।

সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ও সাবেক পুলিশ স্টাফ কলেজের রেক্টর এম. নাজমুল হক।

আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. আবু হানিফের সভাপতিত্বে সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. চিত্তরঞ্জন মিশ্র, বিওটির ভাইস চেয়ারম্যান রোটারিয়ান ডা. মো. মতিউর রহমান, ট্রেজারার (ডেজিগনেট) অধ্যাপক মুহাম্মদ মুনজুর মুরশিদুল আবেদীন, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল আহসান, মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. শহীদুর রহমানসহ বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও শিক্ষকরা।

সেমিনারে শিক্ষকদের পেশাগত জীবনে মানসিক চাপের কারণ, এর নেতিবাচক প্রভাব, কর্মক্ষেত্রে চাপ মোকাবিলার কার্যকর কৌশল এবং মানসিক সুস্থতা বজায় রাখার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক অনিন্দিতা পালের সঞ্চালনায় প্রাণবন্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্বের মধ্য দিয়ে সেমিনারটি শেষ হয়।




পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে কক্সবাজারে ৩০টি ইয়ামাহা মোটরসাইকেল হস্তান্তর

পর্যটক ডেস্কঃ কক্সবাজারে পর্যটকদের যাতায়াত আরও সহজ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও আনন্দদায়ক করতে মোটরসাইকেল রেন্টাল ব্যবসায়ীদের কাছে ৩০টি ইয়ামাহা এফজেড-এস ভার্সন ৪.০ মোটরসাইকেল হস্তান্তর করেছে ইয়ামাহা বাংলাদেশ। পর্যটকেরা যাতে মোটরসাইকেল ভাড়া নিয়ে কক্সবাজার শহর ও আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

‘ড্রাইভিং ট্যুরিজম, মোবিলিটি ইন কক্সবাজার’ ভাবনাকে সামনে রেখে এ আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের মতে, পর্যটকদের ব্যক্তিগত পরিবহনের সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি কক্সবাজারের পর্যটন অভিজ্ঞতাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

সম্প্রতি কক্সবাজারের হোটেল সি গালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মোটরসাইকেলগুলো ব্যবসায়ীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে এসিআই মোটরস ও ইয়ামাহার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং কক্সবাজারে ইয়ামাহার অনুমোদিত ডিলার মাহিন মোটরসের স্বত্বাধিকারী উপস্থিত ছিলেন।

হস্তান্তর করা মোটরসাইকেলগুলোর মধ্যে রয়েছে ইয়ামাহা এফজেড-এস ভার্সন ৪.০ মডেল। উন্নত নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার পাশাপাশি এতে রয়েছে অ্যান্টি-লক ব্রেকিং সিস্টেম (এবিএস) ও ট্র্যাকশন কন্ট্রোল সিস্টেমের (টিসিএস) মতো আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি। এসব সুবিধা মোটরসাইকেল চালানোর সময় নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সহায়তা করে। এ ছাড়া ফুয়েল ইনজেকশন (এফআই) প্রযুক্তি থাকায় বাইকটি জ্বালানি সাশ্রয়ী।

প্রতিটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে চালক ও আরোহীর জন্য দুটি করে সার্টিফায়েড হেলমেটও দেওয়া হয়েছে। এর ফলে পর্যটকেরা নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে মোটরসাইকেল ভাড়া নিয়ে কক্সবাজারের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার সুযোগ পাবেন।




সিংড়ায় ৫০ বক জবাই, তিন শিকারির কারাদণ্ড

নাটোর প্রতিনিধিঃ নাটোরের সিংড়ায় ৫০টি বকপাখি জবাই করে হত্যার অপরাধে তিন পাখি শিকারিকে দুই মাস করে কারাদণ্ড ও ২ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও সাত দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এ ছাড়া জবাই করা পাখি বস্তায় ভরে গোপনে বিক্রিতে সহযোগিতা করায় দুজনকে মোট ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে উপজেলার ডাহিয়া-বিয়াস সড়কে অভিযান চালিয়ে এ দণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রিফাত।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন পাকুরিয়া গ্রামের জনাব আলী (৩৮), বিলপাকুরিয়া গ্রামের কাহার (১৯) ও লিটন (৩০)। সহযোগী আবু হানিফকে ৭ হাজার এবং হোসেন আলীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জানান, কয়েক দিন ধরে একটি চক্র বকসহ বিভিন্ন পাখি শিকার করে জবাইয়ের পর বস্তায় ভরে সিংড়া পৌর শহরের পারসিংড়া বেদেপল্লীতে গোপনে বিক্রি করছিল। স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা ভ্যানচালক আবু হানিফের গতিবিধি অনুসরণ করে পাখিগুলো ভ্যানে তোলার সময় শিকারিদের আটক করেন।

সাইফুল ইসলাম বলেন, বর্ষা শেষে চলনবিলে বকসহ বিভিন্ন অতিথি পাখির আগমন ঘটে। দুর্গম এলাকায় রাতের আঁধারে এসব পাখি শিকার করে পরে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হয়। পাখি শিকার বন্ধে স্থানীয় মানুষের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।




আজকের নামাজের সময়সূচি, ৬ অক্টোবর ২০২৬

ইসলামিক ডেস্কঃ আজ মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩, ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৮।

ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—

জোহরের সময় শুরু দুপুর ১১টা ৫০ মিনিটে।

আসরের সময় শুরু ৪টা ২ মিনিটে।

মাগরিব ৬টা ৪৪ মিনিটে।

এশার সময় শুরু ৬টা ৫৭ মিনিট।

আগামীকাল ফজর শুরু ৪টা ৪১ মিনিটে

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৫টা ৪৩ মিনিট এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ৫১ মিনিটে।




ডেঙ্গুতে একদিনে রেকর্ড ১০ জনের মৃত্যু

ডেঙ্গু ডেস্কঃ ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৯৬ জন। চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ২৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ২০৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৫২ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ৪৮০ জন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ২৯৪ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ১৮৭ জন, খুলনা বিভাগে ৩০২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৯৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৯৯ জন, রংপুর বিভাগে ৭৫ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৮ জন রয়েছেন।

চলতি বছরের ৬ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ৯০ হাজার ৩৫৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে মোট ৮৪ হাজার ২৯৯ জন ডেঙ্গুরোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড়পত্র পেয়েছেন এক হাজার ৯৬৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে সারা দেশে মোট ২৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হন। এ সময়ে ডেঙ্গুতে ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়।

২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হন। এ সময়ে ডেঙ্গুতে ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়।

২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।




বিআইডব্লিউটিএর মেগা প্রকল্পে পাইলিং কেলেঙ্কারির অভিযোগ: ৫০০ মিমির বদলে ৩০০, ৪০.৫০ মিটারের স্থলে ২৩ মিটার—১০ রডের জায়গায় ৭, নকশা বদলে কোটি টাকা আত্মসাতের দাবি

বিশেষ প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) একটি বড় প্রকল্পের পাইলিং কাজে অনুমোদিত নকশা ও নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন মানা হয়নি—এমন অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নে পাইলের ব্যাস ও দৈর্ঘ্য কমানো এবং নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে কম রড ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রকল্পের ব্যয় ও কাজের হিসাব নিয়ে যেমন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তেমনি ভবিষ্যতে স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন প্রকল্প পরিচালক (পিডি) আবুল কালাম আজাদ মোল্লা এবং মূল ঠিকাদার আরশাদ পারভেজ। অভিযোগকারীদের দাবি, কার্যাদেশে যে ধরনের পাইলিং করার কথা বলা হয়েছিল, বাস্তবে তার চেয়ে ছোট আকারের পাইল তৈরি করা হয়েছে। অথচ এসব কাজের বিপরীতে বিল প্রস্তুত ও অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে কি না, সেটি যাচাই করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রকল্পের অনুমোদিত কার্যাদেশ ও সংশ্লিষ্ট নথিতে প্রতি পাইলের ব্যাস ৫০০ মিলিমিটার এবং দৈর্ঘ্য ৪০ দশমিক ৫০ মিটার রাখার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি পাইলের জন্য ১৬ মিলিমিটার ব্যাসের ১০টি রড ব্যবহারের কথা রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, বাস্তবে ৫০০ মিলিমিটারের পরিবর্তে প্রায় ৩০০ মিলিমিটার ব্যাসের পাইল করা হয়েছে। একইভাবে নির্ধারিত ৪০ দশমিক ৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের বদলে প্রায় ২৩ মিটার দৈর্ঘ্যের পাইল ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

শুধু পাইলের আকারেই নয়, রড ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পার্থক্যের অভিযোগ রয়েছে। কার্যাদেশে ১০টি রড ব্যবহারের কথা থাকলেও বাস্তবে সাতটি রড ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অর্থাৎ নকশা অনুযায়ী পাইলের ব্যাস, দৈর্ঘ্য ও রডের সংখ্যা—তিন ক্ষেত্রেই পরিবর্তন আনার অভিযোগ সামনে এসেছে।

এ ধরনের পরিবর্তন যদি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলগত অনুমোদন ছাড়া করা হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি শুধু আর্থিক অনিয়মের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। কারণ কোনো স্থাপনার ভিত্তি তৈরির ক্ষেত্রে পাইলের ব্যাস, গভীরতা, দৈর্ঘ্য এবং রডের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় প্রকৌশলগত হিসাবের ভিত্তিতে। তাই অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে এসব পরিবর্তন করা হলে স্থাপনার ধারণক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ উঠেছে, প্রকল্পের মূল অনুমোদিত নকশা অনুসরণ না করে সাইটে ‘TYPE-1’ ও ‘TYPE-2’ নামে দুটি বিকল্প ড্রয়িং ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব ড্রয়িংয়ের মাধ্যমে পাইলিংয়ের আকার বা নির্মাণ পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়ে থাকলে তার পেছনে কার অনুমোদন ছিল, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

প্রকল্পের মূল নকশা পরিবর্তন করতে হলে সাধারণত সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের যাচাই, প্রয়োজনীয় কারিগরি মতামত এবং অনুমোদন প্রয়োজন হয়। সংশোধিত নকশা অনুমোদনের পরই তা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের সুযোগ থাকার কথা। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, ‘TYPE-1’ ও ‘TYPE-2’ ড্রয়িং ব্যবহারের ক্ষেত্রে যথাযথ অনুমোদন ও ভেটিংয়ের বিষয়টি পরিষ্কার নয়।

এই দুটি ড্রয়িং কে তৈরি করেছেন, কোন কর্তৃপক্ষ তা অনুমোদন করেছে এবং মূল ডিজাইনের পরিবর্তনের আগে কোনো কারিগরি কমিটি বা সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর মতামত নেওয়া হয়েছিল কি না—এসব বিষয় নথিপত্র যাচাই করে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পাইলিংয়ের কাজ কম করার পাশাপাশি বিল তৈরিতেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বাস্তবে যতটুকু কাজ করা হয়েছে, তার চেয়ে বেশি কাজ দেখিয়ে মাপবই (এমবি) এবং রানিং বিল তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি অর্থের অতিরিক্ত বিল উত্তোলনের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, এসব বিলের মাধ্যমে প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম আজাদ মোল্লা ও ঠিকাদার আরশাদ পারভেজের মধ্যে অর্থ ভাগাভাগি হয়েছে। মূল কার্যাদেশ, বিল অব কোয়ান্টিটিজ বা BOQ, মাপবই, রানিং বিল, পেমেন্ট ভাউচার এবং প্রকল্পের অর্থ ছাড়ের নথি পর্যালোচনা করার পাশাপাশি সরেজমিনে পাইলের ব্যাস ও গভীরতা পরিমাপ করা প্রয়োজন।

প্রকল্পের পাইলিংয়ের রড সংক্রান্ত কাজ ‘মায়ের দোয়া কনস্ট্রাকশন’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে সাব-কন্ট্রাক্ট দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। মূল ঠিকাদার আরশাদ পারভেজের অধীনে থাকা কাজ অন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার ক্ষেত্রে চুক্তির শর্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

সরকারি প্রকল্পে সাব-কন্ট্রাক্টের সুযোগ থাকলে সেটি টেন্ডার ডকুমেন্ট ও মূল চুক্তির শর্ত অনুযায়ী হতে হয়। কোথাও অনুমোদন প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত সম্মতিও থাকার কথা। তাই ‘মায়ের দোয়া কনস্ট্রাকশন’ কীভাবে এই কাজে যুক্ত হলো, প্রতিষ্ঠানটির যোগ্যতা কী ছিল এবং এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর অনুমোদন ছিল কি না—এসব তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

এ ছাড়া প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম আজাদ মোল্লার পক্ষ থেকে পাঠানো ঠিকাদারি লাইসেন্স এবং কথিত সাব-কন্ট্রাক্টের মধ্যে কী সম্পর্ক রয়েছে, সেটিও স্পষ্ট করা দরকার বলে অভিযোগকারীরা মনে করছেন।

প্রকল্পের অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুললে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে। বিআইডব্লিউটিএর কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেছেন, তৎকালীন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রীর এপিএস বাশার এবং ঠিকাদার আরশাদ পারভেজের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে প্রকল্পের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে চাননি।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, প্রকল্প পরিচালক দায়িত্ব নেওয়ার পর কাজের গুণগত মানের চেয়ে অর্থনৈতিক সুবিধা নেওয়ার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। প্রকল্পের অনিয়ম নিয়ে কেউ তথ্য সংগ্রহ বা প্রশ্ন করলে তাকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে। এমনকি কথিত ভাড়াটে লোকজন ব্যবহার করে সাংবাদিকদের ভয় দেখানোর অভিযোগও করা হয়েছে।

তবে রাজনৈতিক প্রভাব, ভয়ভীতি কিংবা অর্থ ভাগাভাগির অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, আর্থিক লেনদেন এবং প্রকল্পের প্রশাসনিক নথি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

এই প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা বের করতে প্রথমেই দেখা প্রয়োজন কার্যাদেশে ৫০০ মিলিমিটার ব্যাস ও ৪০ দশমিক ৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের পাইল নির্ধারণের পর তা কীভাবে ৩০০ মিলিমিটার ও ২৩ মিটারে নামিয়ে আনা হলো। এই পরিবর্তনের লিখিত অনুমোদন ছিল কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

একইভাবে ১০টির পরিবর্তে সাতটি রড ব্যবহারের অনুমতি কে দিয়েছেন, তার কোনো লিখিত নথি রয়েছে কি না, ‘TYPE-1’ ও ‘TYPE-2’ ড্রয়িং কারা তৈরি করেছেন এবং কোন কর্তৃপক্ষ তা অনুমোদন করেছে—এসব প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন।

এর পাশাপাশি প্রকল্পের মাপবইয়ে কী পরিমাণ কাজ দেখানো হয়েছে এবং বাস্তবে কতটুকু কাজ হয়েছে, তার তুলনা করা জরুরি। ঠিকাদার আরশাদ পারভেজকে যে পরিমাণ বিল দেওয়া হয়েছে, সেটি বাস্তব কাজের পরিমাণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটিও যাচাই করতে হবে।

‘মায়ের দোয়া কনস্ট্রাকশন’-কে কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে মূল চুক্তিতে অনুমোদন ছিল কি না এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত সম্মতি নেওয়া হয়েছিল কি না, তাও তদন্তের অংশ হওয়া প্রয়োজন।

প্রকল্পের পাইলিংয়ের কাজে অনিয়ম হয়ে থাকলে এর প্রভাব শুধু সরকারি অর্থের ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভবিষ্যতে ওই পাইলের ওপর নির্মিত স্থাপনার ভার বহনের সক্ষমতা কমে যেতে পারে। বিশেষ করে পাইলের গভীরতা, ব্যাস ও রডের পরিমাণ প্রকৌশলগত হিসাবের বাইরে কমানো হলে কাঠামোর স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে।

এ কারণে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে শুধু কাগজপত্র দেখলেই হবে না; প্রয়োজনে প্রকল্পের পাইলগুলো প্রযুক্তিগতভাবে পরীক্ষা করাও প্রয়োজন। প্রকল্পের অনুমোদিত ডিজাইন, সংশোধিত ডিজাইন, ভেটিং নথি, BOQ, মাপবই, রানিং বিল, অর্থ পরিশোধের রেকর্ড, ব্যাংক লেনদেন, পাইলের বাস্তব মাপ এবং সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার রিপোর্ট একসঙ্গে পর্যালোচনা করা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।

বিআইডব্লিউটিএর গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পে অভিযোগগুলো সত্য কি না, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। বিশেষ করে অনুমোদিত নকশার সঙ্গে বাস্তব কাজের পার্থক্য, বিকল্প ড্রয়িংয়ের বৈধতা, পাইলের প্রকৃত মাপ, ব্যবহৃত রডের সংখ্যা, বিল-ভাউচারের যথার্থতা এবং সাব-কন্ট্রাক্ট দেওয়ার প্রক্রিয়া যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম আজাদ মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে তার বক্তব্য এই প্রতিবেদনে যুক্ত করা যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

এখন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং বিআইডব্লিউটিএর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সামনে মূল বিষয় হলো—প্রকল্পের নকশা ও কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ হয়েছে কি না, পরিবর্তন করা হয়ে থাকলে তার অনুমোদন ছিল কি না এবং সরকারি অর্থের বিপরীতে বাস্তবে যথাযথ কাজ সম্পন্ন হয়েছে কি না। এসব প্রশ্নের উত্তর বের করতে স্বাধীন প্রকৌশলগত ও আর্থিক তদন্ত প্রয়োজন।

তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সরকারি অর্থের ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে তা উদ্ধারের পাশাপাশি দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। আর অভিযোগের ভিত্তি না থাকলে সংশ্লিষ্ট নথি ও প্রকৌশলগত পরীক্ষার মাধ্যমে সেটিও স্পষ্ট করা দরকার। এতে প্রকল্পের স্বচ্ছতা যেমন নিশ্চিত হবে, তেমনি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়মের সুযোগও কমবে।




ঢাকা কাস্টম হাউসের উপকমিশনার আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে শুল্ক ফাঁকি, ঘুষ ও চোরাচালানে সহযোগিতার অভিযোগ—৩০ কোটি টাকার পণ্য খালাসের তদন্ত দাবি

বিশেষ প্রতিবেদকঃ ঢাকা কাস্টম হাউসের প্রিভেন্টিভ শাখার উপকমিশনার মো. আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে শুল্ক ফাঁকি, ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে পণ্য খালাস, ঘুষ গ্রহণ, চোরাচালানে সহযোগিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে সোহেল রানা নামে এক ব্যক্তি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।

আবেদনে সবচেয়ে গুরুতর যে অভিযোগটি করা হয়েছে, সেটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো কমপ্লেক্সকে ঘিরে। সোহেল রানার দাবি, একটি এয়ারওয়ে বিলের বিপরীতে প্রায় ৫৬ কার্টন পণ্য কাস্টমসের নিয়মিত বিল অব এন্ট্রি ও ক্লিয়ারেন্স ছাড়াই কার্গো এলাকা থেকে বের করে নেওয়া হয়েছে। এসব পণ্যের মোট ওজন আনুমানিক ১ হাজার ৯৬২ কেজি এবং অভিযোগকারীর হিসাবে এগুলোর মূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই চালানে মোবাইল ফোন, মোবাইল ফোনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, এলসিডি, ই-সিগারেট এবং সিগারেটের ব্যান্ডেরোল বা সরকারি রাজস্ব স্ট্যাম্পের মতো পণ্য থাকতে পারে। নিয়ম অনুযায়ী শুল্ক ও কর পরিশোধ এবং প্রয়োজনীয় কাস্টমস প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই এসব পণ্য বের হয়ে থাকলে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাতে পারে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সোহেল রানা দাবি করেছেন, এই ঘটনার প্রকৃত চিত্র জানতে বিমানবন্দরের কার্গো এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ, গেট পাস, পণ্য বের হওয়ার রেকর্ড, ওয়্যারহাউসের মজুত তালিকা, কার্গো মুভমেন্টের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট এয়ারওয়ে বিল ও বিল অব এন্ট্রি পরীক্ষা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ওই সময় দায়িত্বে থাকা কাস্টমস কর্মকর্তাদের ডিউটি রোস্টারও যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কয়েকটি বন্ধ বা কার্যক্রমহীন বন্ড প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ভুয়া বা অসঙ্গতিপূর্ণ নথি তৈরি করে শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য খালাস করা হয়ে থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে কোন প্রতিষ্ঠানের নামে পণ্য আমদানি হয়েছে, প্রতিষ্ঠানগুলো তখন কার্যকর ছিল কি না, তাদের বন্ড সুবিধা বহাল ছিল কি না এবং আমদানির পর পণ্য কোথায় গেছে—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আনার অনুরোধ করা হয়েছে।

শিশুখাদ্য, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন পণ্যের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ এনেছেন সোহেল রানা। তাঁর দাবি, প্রয়োজনীয় বিএসটিআই ছাড়পত্র বা অন্যান্য বাধ্যতামূলক অনুমোদন না থাকলেও প্রভাব খাটিয়ে এসব পণ্য খালাসের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট আমদানি নথি, পরীক্ষাগারের ছাড়পত্র এবং কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের কাগজপত্র পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মো. আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগও করা হয়েছে। সোহেল রানার দাবি, বিভিন্ন কাস্টমস কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৮০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে থাকেন। তবে এই অর্থ লেনদেনের কোনো নির্দিষ্ট ব্যাংক রেকর্ড, রসিদ বা স্বাধীন তদন্তের তথ্য আবেদনের সঙ্গে রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। ফলে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে আবেদনকারী উল্লেখ করেছেন।

ঘুষের অভিযোগ যাচাইয়ের জন্য আমিনুল ইসলাম ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের লেনদেন, নগদ অর্থের গতিবিধি, সম্পত্তি কেনাবেচা এবং আয়কর নথি পরীক্ষা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তার নামে বা পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা জমি, ফ্ল্যাট, গাড়ি, ব্যবসায়িক বিনিয়োগ ও অন্যান্য সম্পদের তথ্যও যাচাইয়ের দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগে ‘গুনগুন এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠানের কাস্টমস সরকার মো. আবু হানিফ এবং হানিফ/শরীফ নামে পরিচিত কয়েকজনের সঙ্গে আমিনুল ইসলামের যোগাযোগ ও যোগসাজশের কথাও বলা হয়েছে। তবে এই যোগাযোগের ধরন বা কোনো আর্থিক লেনদেনের নির্দিষ্ট প্রমাণ আবেদনে উপস্থাপন করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও তদন্তের অংশ হিসেবে নেওয়া যেতে পারে।

এ ছাড়া ‘ক্লোজেট ক্লাউড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য আমদানি করে শুল্ক ফাঁকির অভিযোগও আনা হয়েছে। অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা, আমদানির নথি, বিল অব এন্ট্রি, পণ্যের প্রকৃত মূল্য, ঘোষিত মূল্য, পরিশোধিত শুল্ক এবং পণ্যের প্রকৃত সুবিধাভোগী কারা—এসব বিষয় খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।

মো. আমিনুল ইসলামের ব্যক্তিগত আয় ও সম্পদের মধ্যেও সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, সেটি যাচাইয়ের দাবি করা হয়েছে। সোহেল রানার আবেদনে তাঁর আয়কর রিটার্ন, সম্পদ বিবরণী, ব্যাংক হিসাব, জমি ও ফ্ল্যাটের দলিল, গাড়ির মালিকানা, ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব, বিনিয়োগ এবং দেশে-বিদেশে থাকা সম্ভাব্য সম্পদের তথ্য পরীক্ষা করার কথা বলা হয়েছে।

অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, কাস্টমস কার্যক্রম থেকে কথিতভাবে পাওয়া অবৈধ অর্থের একটি অংশ মার্কিন ডলারে রূপান্তর করে বিদেশে পাঠানো হয়ে থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে কোনো অর্থপাচারের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা যাচাই করতে ব্যাংকিং লেনদেন, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন, রেমিট্যান্স বা বৈদেশিক অর্থ স্থানান্তরের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথি পরীক্ষা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সোহেল রানা দাবি করেছেন, আমিনুল ইসলাম এর আগে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস ও ঢাকা উত্তর ভ্যাট কমিশনারেটসহ বিভিন্ন দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেসব কর্মস্থলেও তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা অনিয়মের নথি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। অভিযোগকারীর মতে, আগের কর্মস্থলের দায়িত্বকালীন কার্যক্রমও পর্যালোচনা করা হলে অভিযোগের সামগ্রিক চিত্র পাওয়া যেতে পারে।

বিমানবন্দর কার্গোতে কথিত ৩০ কোটি টাকা মূল্যের পণ্য খালাসের অভিযোগটি তদন্তের ক্ষেত্রে আলামত সংরক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন সোহেল রানা। তাঁর আবেদনে কার্গো এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ, ওয়্যারহাউস ইনভেন্টরি, কার্গো মুভমেন্ট রেকর্ড, গেট পাস, ডেলিভারি রেকর্ড, এয়ারওয়ে বিল, বিল অব এন্ট্রি, কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ডিউটি রোস্টার সংরক্ষণের অনুরোধ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সংশ্লিষ্ট অভ্যন্তরীণ তদন্ত বা প্রশাসনিক নথি থাকলে সেগুলোও সংগ্রহ করে যাচাই করার দাবি জানানো হয়েছে। এতে পণ্যগুলো আসলে কখন কার্গোতে প্রবেশ করেছে, কোন প্রক্রিয়ায় বের হয়েছে এবং বের করার সময় কারা দায়িত্বে ছিলেন—এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন অভিযোগকারী।

তবে লিখিত আবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো এখনো তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়নি। বিশেষ করে ঘুষের পরিমাণ, ৩০ কোটি টাকার পণ্য খালাস, অর্থপাচার এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথিত যোগসাজশের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সরকারি নথি ও আর্থিক তথ্য যাচাই প্রয়োজন।

এ বিষয়ে উপকমিশনার মো. আমিনুল ইসলামের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান, মো. আবু হানিফ, হানিফ/শরীফ নামে পরিচিত ব্যক্তিরা এবং ‘ক্লোজেট ক্লাউড’-এর সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তদন্তের চিত্র আরও পরিষ্কার হতে পারে।

সোহেল রানা তাঁর আবেদনে অভিযোগগুলোর স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অন্যদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এখন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআর, অর্থ মন্ত্রণালয় বা দুদক কী ধরনের অনুসন্ধান করে এবং বিমানবন্দরের কার্গো-সংক্রান্ত নথি ও আর্থিক লেনদেন যাচাইয়ের মাধ্যমে কী তথ্য বেরিয়ে আসে, সেটিই দেখার বিষয়। অভিযোগগুলো সত্য হলে তা সরকারি রাজস্ব ক্ষতি, প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আর্থিক অনিয়মের গুরুতর ঘটনায় পরিণত হতে পারে; আর অভিযোগের ভিত্তি না থাকলে তদন্তের মাধ্যমেই সেটিও স্পষ্ট হবে।




বন উজাড়, জোত-টিপি ও বদলি-বাণিজ্যের অভিযোগ: লামার ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রাম বনাঞ্চলের বান্দরবানের লামা বন বিভাগে চলছে অবৈধ অর্থ ও গাছ কেটে পাচারের হিড়িক। নিয়মের তোয়াক্কা না করে হরহামেশাই চলছে গাছ কাটা ও জবরদখলের রাজত্ব। এ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোস্তাফিজুর রহমান অধীনস্থ একাধিক অসাধু বন কর্মকর্তার যোগসাজশে বেপরোয়া লুটপাটের কারণে অবৈধ দখলদারত্ব থেকে অভিনব কায়দায় পাল্টে যাচ্ছে বনের নাম। যেন দুর্নীতির শীর্ষে উঠছে লামা বন বিভাগ। ফলে প্রতিদিনই লাখ লাখ টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বন বিভাগ তথা সরকার।

জানা গেছে, বন রক্ষার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেই উঠেছে বন উজাড়, জোত ও ট্রানজিট পারমিটের আড়ালে গাছ পাচার, বদলি-পদায়নে অনৈতিক অর্থ লেনদেন, বিভিন্ন চেকস্টেশনে মাসোহারা আদায় এবং বনায়ন প্রকল্পে সরকারি অর্থের অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ। এসব অভিযোগের তীর লামা বন বিভাগের ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। তবে রহস্যজনক কারণে ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমানের অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ-বাণিজ্য দেখেও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) মিহির কুমার দে। লামা বন বিভাগে বনাঞ্চল ধ্বংস, অবৈধ দখল, চাঁদাবাজি, গাছ কাটা কিংবা বন বিভাগের অভ্যন্তরীণ নানা দুর্নীতি ও বদলি-বাণিজ্য নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না তিনি। একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার এমন নিষ্ক্রিয়তা ও পরোক্ষ প্রশ্রয়ের কারণে বন কর্মকর্তারা বনজ সম্পদ উজাড়ে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে জানান বন-সংশ্লিষ্টরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে ফরেস্টার রনি পারভেজকে বন বিভাগে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আরও ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে আব্দুল মালেক নামে এক রেঞ্জারকে লামা সদর রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া জোত পারমিট অনুমোদন থেকে শুরু করে রেঞ্জ, বিট ও চেকস্টেশনে পদায়ন পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তো আছেই।

অভিযোগ অনুযায়ী, রনি পারভেজ বর্তমানে লামা বন আদালনের এফসিসিও, বমুবিলছড়ি বিট, বিশেষ টহল দল, লামা রেঞ্জ ও লামামুখ চেকস্টেশনের দায়িত্বে রয়েছেন। একই ব্যক্তির হাতে একসঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থাকায় বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে গাছ পাচারের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগকারীদের দাবি, সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে কাঠ পাচারের সুযোগ করে দেওয়া এবং লাকড়ি পোড়ানো ইটভাটা থেকে ৫ লাখ টাকা করে ঘুষ নিয়েছেন ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান। ফার্নিচার পরিবহনের অনুমোদনের নামে ১ হাজার টাকা আদায়ের মতো অনৈতিক বা অবৈধ কর্মকাণ্ডও চলছে দীর্ঘদিন ধরে।

ইটভাটার মালিকরা অভিযোগ করেন, লামা বন বিভাগের আওতাধীন লাকড়ি পোড়ানো ৪০টি ইটভাটা থেকে এককালীন পাঁচ লাখ টাকা এবং মাসে ১০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমানকে। টাকা না দিলে ভাটায় কিনে আনা লাকড়ি জব্দ ও বারবার অভিযান পরিচালনা করেন ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ৮০ হেক্টর এলাকায় বাগান সৃজনের বিপরীতে বাস্তবে মাত্র ৩০ হেক্টর বাগান করা হয়েছে। বাকি ৫০ হেক্টরের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলেও দাবি করেছেন বন-সংশ্লিষ্টরা। ডলুছড়ি রেঞ্জ নিয়েও রয়েছে নিয়মিত মাসোহারা আদায়ের নানা অভিযোগ।

এদিকে, বর্ষা মৌসুমে বাঁশ কাটা ও পরিবহন বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশনা থাকার পরও লামা বন বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে কাঁচা বাঁশ কাটা ও পরিবহনের জন্য মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে টিপি (পরিবহন পাশ) দেওয়া হচ্ছে। প্রতি বাঁশে ডিএফও ৫ টাকা করে নেন। কাগজে-কলমে মাতামুহুরি সংরক্ষিত বনের বাঁশ মহাল বন্ধ থাকলেও রাতে বিপুল পরিমাণ বাঁশ ভুয়া টিপি দিয়ে পরিবহন করা হচ্ছে। তাতেও আলাদা টাকা নেন ডিএফও।

ডিএফওর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো লামা বন বিভাগের ইয়াংছা মৌজার ৫০ নম্বর এফএল জোত। বন বিভাগের নথি অনুযায়ী, ওই জোতে সেগুন ও গামারীসহ মোট ২ হাজার ৬৬০টি গাছ কাটার অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে ২ হাজার ৪২২টি সেগুন ও ২৩৮টি গামারী গাছ রয়েছে। এসব গাছের বিপরীতে সেগুনের প্রায় ১৮ হাজার ঘনফুট এবং গামারীর প্রায় ২ হাজার ৭০০ ঘনফুট কাঠের সাইজলিস্ট অনুমোদন দেওয়া হয়।

নথি অনুযায়ী, ২ হাজার ৩৮৮টি গাছের সাইজলিস্টের বিপরীতে প্রায় ১৬ হাজার ঘনফুট কাঠ পরিবহনের জন্য প্রায় ৪৮টি ট্রানজিট পারমিট (টিপি) নেওয়া হয়েছে লামা বন বিভাগ থেকে।

স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, বিভিন্ন বেকারিতে জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার বিনিময়ে প্রতি মাসে প্রায় ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমানের কথিত অনিয়মের ক্ষেত্রে ডলুছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা এ কে এম আলতাফ হোসেন ও ফরেস্টার রনি পারভেজ ক্যাশিয়ারের ভূমিকায় রয়েছেন বলেও অভিযোগ দীর্ঘদিনের। আলতাফ হোসেন প্রায় দেড় বছর লামার চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনের পর প্রায় আট মাস আগে ডলুছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রগুলোর অভিযোগ, ডলুছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা এ কে এম আলতাফ হোসেন ফাইতং সড়কটি কাঠ চোরাকারবারিদের কাছে মাসিক চুক্তিতে অঘোষিতভাবে লিজ দিয়েছেন। এর ফলে ওই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন সেগুন, গর্জনসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ পাচার হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আলতাফের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের দাবি, জোত ও ট্রানজিট পারমিটের আড়ালে বনাঞ্চলের গাছ পাচারের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডে বিশেষ টহল দলের ওসি ফরেস্টার রনি পারভেজ সহযোগিতা করছেন বলেও অভিযোগ। এর আগে লামা বন বিভাগে জোত পারমিট ও ট্রানজিট পারমিট ব্যবহার করে বন উজাড়ের অভিযোগ নিয়ে তদন্তের আদেশ হলেও তা মাঝপথে থেমে যায় বলে জানা যায়।

আরও জানা যায়, লামা বন বিভাগের বিভিন্ন রেঞ্জে প্রতি মাসে বিপুলসংখ্যক জোত অনুমোদন দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব জোত থেকে কাঠ পরিবহনের ক্ষেত্রে প্রতি ঘনফুটে ৪০ টাকা করে ডিএফও মোস্তাফিজের নামে আদায় করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন। এছাড়া লামা বন বিভাগের সদর রেঞ্জের ট্রানজিট পারমিট (টিপি চলাচল পাশ) শাখায় গত প্রায় ১০ বছর ধরে মো. সেলিম নামে একজন দায়িত্ব পালন করছেন।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, লামা বন বিভাগে প্রতি মাসে আড়াই শতাধিক ট্রানজিট পারমিট (টিপি) পাশ হয়। প্রতিটি টিপির বিপরীতে ১০ হাজার টাকা করে ডিএফওর জন্য আদায় করেন সেলিম, এমন অভিযোগও রয়েছে। সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ অফিসের ট্রানজিট পারমিট (টিপি) শাখায় সরকারি কর্মচারীর পরিবর্তে একজন বেসরকারি ব্যক্তিকে দীর্ঘদিন দায়িত্বে রাখার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ রয়েছে, এসব অর্থ আদায়ের বাইরে কথিতভাবে রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলকে ঘনফুটপ্রতি পাঁচ টাকা দেওয়ার একটি বিষয় স্থানীয় পর্যায়ে প্রচলিত রয়েছে। লামা বন বিভাগের বিভিন্ন রেঞ্জ, বিট ও চেকস্টেশনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পোস্টিং ও বদলিতেও লাখ লাখ টাকার লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

ডিএফও মোস্তাফিজের বিরুদ্ধে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্টরা বলেন, পছন্দের কর্মস্থলে পদায়ন পেতে অর্থ দিতে হয় ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমানকে। তবে এ অভিযোগও দীর্ঘদিন ধরে উঠে আসছে।

অভিযোগ রয়েছে, লামা বন বিভাগে ছয়জন আউটসোর্সিং কর্মচারী রয়েছেন। তাদের প্রত্যেককে সরকারিভাবে প্রায় ১৮ হাজার টাকা করে মাসিক বেতন-ভাতা দেওয়া হয়। কিন্তু সরকারি কাজে ব্যবহার না করে এসব আউটসোর্সিং কর্মচারীকে ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে লামা বন বিভাগের ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলে তার নম্বরে সংযোগ পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক সিএফ মিহির কুমার দের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গাড়িতে আছেন বলে নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে কল কেটে দেন।

এদিকে, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট জোত পারমিট, ট্রানজিট পারমিট, বনায়ন প্রকল্পের বরাদ্দ ও ব্যয়ের নথি, পোস্টিং-বদলির আদেশ, টিপি শাখার রেকর্ড এবং বিভিন্ন চেকস্টেশনের আদায়সংক্রান্ত হিসাব নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং সরকারি অর্থের লুটপাট বন্ধে পুরো সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলেও জানিয়েছেন বন-সংশ্লিষ্টরা।




কক্সবাজারে এক লাখ ইয়াবা উদ্ধার

ডেস্ক নিউজঃ কক্সবাজারে বিজিবির বিশেষ অভিযানে এক লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল সাতটার দিকে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)–এর অধীন বাইশফাঁড়ী বিওপির একটি টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান চালায়।

বিজিবি জানায়, সীমান্ত পিলার-৩৬ থেকে প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কাস্টম নামক এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় মালিকবিহীন ও পরিত্যক্ত অবস্থায় এক লাখ পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, উদ্ধার করা ইয়াবার বিষয়ে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

তিনি বলেন, সীমান্ত পাহারার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও বিজিবি কাজ করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।