পাকিস্তানের বিপক্ষে ইতিহাস গড়ার পথে বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক : পাকিস্তানের বিপক্ষে ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। চলতি সিরিজেই ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়ের স্বাদ পেয়েছে টাইগাররা।

সিলেটে চলমান টেস্টে জয় পেলে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়বে বাংলাদেশ।

দুই ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্টে ঢাকায় ১০৪ রানের ব্যবধানে জয় পায় স্বাগতিক বাংলাদেশ। সিলেট টেস্টেও জয়ের অপেক্ষায় নাজুমল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন দলটি।

সিলেট টেস্টের চতুর্থ দিনের খেলা শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ৩১৬ রান। শেষ দিনে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন মাত্র ৩ উইকেট। তবে পরাজয় এড়াতে হলে আরও ১২০ রান করতে হবে পাকিস্তানকে।

৭৫ রানে অপরাজিত আছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ান। তার পক্ষে টেলেন্ডার তিন ব্যাটসম্যান সাজিদ খান, খুররম শেহজাদ ও মোহাম্মদ আব্বাসকে সঙ্গে নিয়ে পরাজয় এড়ানোয় লড়াই চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব।

তিন বোলারকে নিয়ে পঞ্চম দিনে পুরো তিন সেশন তথা ৯০ ওভার প্রতিরোধ গড়ে তোলা রিজওয়ানের জন্য কার্যত অসম্ভব। শেষ দিনের খেলা বৃষ্টিতে ভেসে না গেলে; বাংলাদেশ ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের স্বাদ পাবে।

তবে শেষ দিনে রোমাঞ্চকর কিছু হবে না, এমনটিও হলফ করে বলা যায় না। দলটি যেহেতু ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ পাকিস্তান; তাদের দিয়ে সবকিছু্ই সম্ভব! তারা শেষ দিনে অবিশ্বাস্য কিছু দেখাতেও পারে!




বিআইডব্লিউটিএতে ‘আওয়ামী দোসর’ সিন্ডিকেটের দাপট, নিয়োগ কমিটির বিরুদ্ধেই অনিয়মের বিস্ফোরক অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষের বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ অনিয়ম, প্রশ্নফাঁস, ডামি পরীক্ষার্থী এবং কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গড়ে ওঠা একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট এখনও সক্রিয় থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে দুর্নীতির অভয়ারণ্যে পরিণত করেছে।

সূত্রমতে, গত ১৬ মে রাজধানীর মিরপুরের বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ (বালক ও বালিকা শাখা) এবং মিরপুর গার্লস আইডিয়াল কলেজে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির বিভিন্ন পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৩টা থেকে ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলা ওই পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁস করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, নিয়োগ সিন্ডিকেট তাদের মনোনীত প্রার্থীদের হাতে আগেভাগেই প্রশ্ন ও উত্তর পৌঁছে দেয়। এমনকি দুপুর ২টা ৫৪ মিনিটেই প্রশ্নের উত্তরপত্র গণমাধ্যমের হাতে পৌঁছে যায়। এরপর পুরো পরীক্ষাকেন্দ্রে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ।

অভিযোগ রয়েছে, জনপ্রতি ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার চুক্তিতে চাকরি দেওয়া হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। অথচ ১৯৯০ সালের নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী এসব চতুর্থ শ্রেণির পদে মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু সেই নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে লিখিত পরীক্ষার নামে সাজানো নিয়োগ নাটক পরিচালনা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি-০৩/২০২৫ অনুযায়ী বিআইডব্লিউটিএতে ২১ জন লস্কর, ১ জন বাস হেলপার, ২৩ জন শুল্ক প্রহরী, ৬ জন মার্কম্যান, ১৩ জন পরিচ্ছন্ন কর্মী এবং ২ জন ড্রাইভার নিয়োগের কার্যক্রম চলছে। বাংলাদেশ গেজেট অতিরিক্ত, নভেম্বর-৮ (১৯৯০) অনুযায়ী এমএলএম, গার্ড, নৈশ্যপ্রহরী, শুল্কপ্রহরী, মালি, ঝাড়ুদার, ক্লিনার, হেলপারসহ বিভিন্ন চতুর্থ শ্রেণির পদে মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী প্রার্থী নির্বাচন করার বিধান রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, এই বিধি উপেক্ষা করে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দিয়ে দুর্নীতিবাজ চক্র নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছে।

“ডামি পরীক্ষার্থী” দিয়ে পাস করানো হয়! বিআইডব্লিউটিএ’র এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পুরো নিয়োগ জালিয়াতি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথমে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে চাকরির নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। এরপর মূল পরীক্ষার্থীর বদলে “ডামি” বা “বডি চেঞ্জ” পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেয়। লিখিত পরীক্ষায় পাসের পর একইভাবে প্রাকটিক্যাল ও ভাইভাতেও প্রক্সি পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর চুক্তির ৩০ শতাংশ, প্রাকটিক্যাল শেষে আরও ৩০ শতাংশ এবং চূড়ান্ত ভাইভা শেষে বাকি ৪০ শতাংশ টাকা লেনদেন হয়। পরে সেই অর্থ ভাগবাটোয়ারা করে নেয় সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পরীক্ষার্থীদের ছবি ও স্বাক্ষর যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। হাজিরা শিট ও উত্তরপত্রের স্বাক্ষর মিলিয়ে দেখা হয়নি। ফলে ভুয়া পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এমনকি পরীক্ষার হলে মোবাইল ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারেরও অভিযোগ উঠেছে।

আওয়ামী দোসরদের সিন্ডিকেট এখনও সক্রিয় ! অভিযোগে উঠে এসেছে, বিআইডব্লিউটিএ’র সাবেক শ্রমিক লীগ নেতা আকতার ও ছরোয়ারের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ বাণিজ্য পরিচালিত হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী-এর প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন জেলার শত শত লোককে চাকরি দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, আওয়ামী আমলে গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেট এখনও অপ্রতিরোধ্য। ফলে মেধাবীরা বঞ্চিত হচ্ছেন আর টাকার বিনিময়ে অযোগ্যরা সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করছেন।

নিয়োগ কমিটির বিরুদ্ধে সরাসরি নিয়োগের অভিযোগ :
এই নিয়োগ পরীক্ষার আহ্বায়ক ছিলেন মোঃ সাজেদুর রহমান, যুগ্ম সচিব ও সদস্য (পরিকল্পনা ও পরিচালন)। সদস্য সচিব ছিলেন মোঃ কবির হোসেন, অতিরিক্ত পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ)। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন গোপাল বাবু (পরিচালক, হিসাব), মোঃ গোলাম ফারুক (নিরীক্ষা) এবং মোঃ মিজানুর রহমান (যুগ্ম পরিচালক, প্রশাসন ও মানবসম্পদ)।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ : নিয়োগ কমিটির ছত্রচ্ছায়াতেই পুরো অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে আহ্বায়ক মোঃ সাজেদুর রহমান দাবি করেন, পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব ছিল মেরিডিয়ান ইউনিভার্সিটির এবং খাতা মূল্যায়নও তারাই করেছে। তার ভাষ্য, “প্রশ্নফাঁসের সুযোগ নেই।” তবে মৌখিক পরীক্ষার বিধান থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমেই নিয়োগ নেওয়া হয়।”

“একই হাতের লেখায় একাধিক খাতা”—তদন্তের দাবি :
ভুক্তভোগীরা দাবি জানিয়েছেন—একই হাতের লেখায় একাধিক উত্তরপত্র আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে হবে,
হাজিরা শিট ও উত্তরপত্রের স্বাক্ষর মিলিয়ে দেখতে হবে, টপশিটে দেওয়া তথ্য ও স্বাক্ষরের সঙ্গে পরীক্ষার্থীর প্রকৃত তথ্য মিলছে কি না তা যাচাই করতে হবে, নির্ধারিত কেন্দ্রের বাইরে কারা পরীক্ষা দিয়েছে তা তদন্ত করতে হবে এবং পরীক্ষার হলে মোবাইল ব্যবহারের বিষয় অনুসন্ধান করতে হবে তাদের দাবি, সুষ্ঠু তদন্ত হলে পুরো নিয়োগ সিন্ডিকেটের মুখোশ উন্মোচিত হবে।

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, বিআইডব্লিউটিএ’র মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে যদি নিয়োগেই এমন ভয়াবহ দুর্নীতি হয়, তবে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ সুশাসন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে। ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী ও তাদের পরিবার নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে নতুন বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া চালুর দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।




আফগানিস্তান-ইয়েমেনে ওষুধ রপ্তানির দ্বারপ্রান্তে Albion, সামনে কোটি টাকার চেক জালিয়াতি ও ষড়যন্ত্র মামলা

এসএম বদরুল আলমঃ চট্টগ্রামভিত্তিক Albion Laboratories Limited এখন দেশের উদীয়মান রপ্তানিমুখী ওষুধ শিল্পের অন্যতম আলোচিত নাম। আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদন সক্ষমতা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী জিএমপি সনদ অর্জন এবং একের পর এক বিদেশি বাজারে প্রবেশের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি যখন বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে, ঠিক তখনই একটি সুবিধাবাদী চক্রের বিরুদ্ধে ভয়ংকর অপপ্রচার, হুমকি ও সাইবার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ সামনে এসেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আফগানিস্তান, ইয়েমেন, কম্বোডিয়া, মিয়ানমার ও ভুটানসহ একাধিক দেশে ওষুধ রপ্তানির প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করেছে Albion Laboratories Limited। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের এই সাফল্যকে কেন্দ্র করেই নানামুখী ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

আফগানিস্তানে প্রথম চালান, ইয়েমেনে দ্বিতীয় ধাপ : সূত্র জানায়, আফগানিস্তানের কাবুলে প্রায় ৬৬ হাজার ৬৯০ ডলারের ওষুধ রপ্তানির প্রথম চালান প্রস্তুত করেছে এলবিয়ন। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে শিগগিরই এই চালান জাহাজীকরণ করা হবে। এরইমধ্যে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান অগ্রিম অর্থও পরিশোধ করেছে।

অন্যদিকে ইয়েমেনের এডেন সমুদ্রবন্দরের উদ্দেশ্যে ৫৩ হাজার ৬৫০ ডলারের ১০ ধরনের ওষুধ পণ্য পাঠানোর প্রক্রিয়াও শেষ পর্যায়ে। খুব দ্রুত ঋণপত্র খোলা হলে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক চালানও পাঠানো হবে। এছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে প্রবেশের লক্ষ্যে কম্বোডিয়া, মিয়ানমার ও ভুটানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রক্রিয়া চলছে। পরবর্তী ধাপে শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া এবং আফ্রিকার কয়েকটি দেশের বাজার বিশ্লেষণ করছে এলবিয়নের গবেষণা দল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প বর্তমানে তৈরি পোশাক খাতের পর দ্বিতীয় বৃহৎ সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত হিসেবে উঠে আসছে। সেই বাস্তবতায় চট্টগ্রাম থেকে আন্তর্জাতিক রপ্তানিকারক হিসেবে এলবিয়নের আত্মপ্রকাশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

১০০ কর্মী থেকে ৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান : ১৯৯১ সালে মাত্র ১০০ কর্মী নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল Albion Laboratories Limited। প্রতিষ্ঠাতা Mohammad Nezam Uddin–এর হাত ধরে চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার একটি ভাড়া ভবনে সীমিত আকারে শুরু হয়েছিল উৎপাদন কার্যক্রম। বর্তমানে সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড এলাকায় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে গড়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক মানের অত্যাধুনিক কারখানা। নতুন প্রকল্প Albion Specialized Pharma Limited পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে গেলে সরাসরি প্রায় তিন হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

বর্তমান চেয়ারম্যান Raisul Uddin Soikot অস্ট্রেলিয়ায় কম্পিউটার সায়েন্সে পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়নে নেতৃত্ব দেন। ব্যবস্থাপনা পরিচালক Muntahar Uddin Sakib মালয়েশিয়ায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্সি সম্পন্ন করে ব্যবসায় যোগ দেন। আর পরিচালক Tasnuva Afrin নিজেও একজন ফার্মাসিস্ট। তাদের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি এখন অ্যান্টিবায়োটিক, ইনজেকশন, সিরিঞ্জ, ক্যাপসুল, ড্রপসহ প্রায় ৪৫০ ধরনের ওষুধ উৎপাদন করছে।

কোটি টাকার চেক, মামলা আর সাইবার অপপ্রচার :
এই সাফল্যের বিপরীতে সামনে এসেছে এক বিস্ফোরক অভিযোগ। Albion Laboratories Limited–এর কর্মকর্তাদের দাবি, পাওনা অর্থ পরিশোধ এড়াতে একটি সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালাচ্ছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন Kazi Mohammad Shahidul Hasan. মামলার নথি অনুযায়ী, তার প্রতিষ্ঠান Innovative Pharma এলবিয়নের কাছ থেকে ওষুধ ক্রয় করে প্রায় ৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকার পাঁচটি চেক প্রদান করে। পরে নির্ধারিত সময়ে সেই চেকের অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় আদালতে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়।

এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ফেইক আইডি ব্যবহার করে এলবিয়নের চেয়ারম্যান ও কোম্পানির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপপ্রচার, মানহানিকর পোস্ট এবং হুমকির ঘটনা ঘটতে থাকে বলে অভিযোগ করেন এলবিয়নের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক Mohammad Rafiq Ahmad। মামলায় আরও যাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে তারা হলেন—Md. Jahidul Karim Rimon. Md. Shawkat Ali Rifat. Kazi Mohammad Rubaidul Hasan & Kamal Hossain.

আদালতের হস্তক্ষেপ, তদন্তে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট :
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় Chattogram Cyber Tribunal মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের নির্দেশে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের গ্রহণযোগ্যতা যখন বাড়ছে, তখন একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার দেশের সামগ্রিক রপ্তানি ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

“Made in Bangladesh” ওষুধকে বিশ্বমঞ্চে নিতে চায় এলবিয়ন : চেয়ারম্যান Raisul Uddin Soikot বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা অত্যন্ত কঠিন হলেও বাংলাদেশের ওষুধকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করাই তাদের লক্ষ্য। তিনি জানান, সরকারের ১০ শতাংশ রপ্তানি প্রণোদনা এবং আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণের কারণে বাংলাদেশের ওষুধের প্রতি বিদেশি বাজারে আস্থা বাড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চট্টগ্রামভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান যখন আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল বাজারে জায়গা করে নিতে শুরু করেছে, তখন সেই সাফল্যকে ঘিরে স্বার্থান্বেষী মহলের সক্রিয় হয়ে ওঠা অস্বাভাবিক নয়। তবে শিল্প সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাইবার অপপ্রচার ও ভয়ভীতি নয়—গুণগত মান, স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক সক্ষমতাই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের ভবিষ্যৎ।




দৌলতপুর ডিগ্রি কলেজে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তদন্ত আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ স্বনামধন্য দৌলতপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিধি মোতাবেক পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করতে শিক্ষা ছুটি নিয়ে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করার সুযোগে উপ অধ্যক্ষ আব্দুস সালামের নেতৃত্বে কলেজটি এখন ধ্বংসের মুখে। এমন বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বরাবর একটি তদন্তের আবেদন করা হয়েছে। যার উল্লেখ্য বিষয় কলেজের উপাধ্যক্ষ ও একটি স্বার্থান্বেষী মহলের নানাবিধ অনিয়ম, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং প্রশাসনিক দুর্নীতির তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন। আবেদনটি করেছিলেন দৌলতপুর কলেজের একজন প্রাক্তন ছাত্র এবং সচেতন নাগরিক হিসেবে, মোঃ নাজমুল হাসান প্রাত্তন ছাত্র, দৌলতপুর কলেজ পিতা: মোঃ আরজত আলী গ্রাম: কলেজ মোড়, ডাকঘর: রিফাইতপুর উপজেলা: দৌলতপুর, জেলা: কুষ্টিয়া।

যেখানে উল্লেখিত তদন্ত গুলোর মধ্যে ১. সরকারি সম্পদ লুণ্ঠন ও অর্থ আত্মসাৎ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সমূহের মধ্যে গত ২৪/০১/২০২৫ খ্রি. তারিখ (শুক্রবার), সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মহামান্য হাইকোর্ট কর্তৃক স্থগিতকৃত এডহক কমিটির সভাপতি মোঃ আলতাফ হোসেন এবং স্থানীয় সাবেক কৃষক লীগ নেতা মোঃ আরিফুল ইসলাম (নান্নু)-এর প্রভাবে উপাধ্যক্ষ মোঃ আব্দুস ছালাম, মেঃ মাহফুজ আলম (বাবলু), সহকারী অধ্যাপক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, স.ম সরওয়ার, সহকারী অধ্যাপক, পরিসংখ্যান বিভাগ এবং ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের প্রদর্শক মোঃ জহুরুল আলম (সাবেক উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি) কোনো প্রকার সরকারি নিলাম ছাড়াই কলেজের ৫টি মূল্যবান গাছ কর্তন করেন। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫,০০,০০০/- (পাঁচ লক্ষ) টাকা। এই অর্থ কলেজ তহবিলে জমা না দিয়ে তারা পরস্পর যোগসাজশে আত্মসাৎ করেছেন। যা কুষ্টিয়ার স্থানীয় পত্রিকাসহ প্রথম আলো, যুগান্তর ও বিভিন্ন অনলাইন পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।

২. দৌলতপুর কলেজে ৩ টি বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স, ১১ টি অনার্স কোর্স, ডিগ্রী (পাস) কোর্স, উচ্চমাধ্যমিক (মানবিক বিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা) এবং উচ্চ মাধ্যমিক (বিএমটি) শাখা চালু আছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং-৩৭,০০,০০০০,০৭২,৪৪,০৫,২২-১৮ (তারিখ: ০৯/০২/২০২৬ খ্রি.) অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের সকল আয় সোনালী পেমেন্ট গেটওয়ে বা নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে আদায়ের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু উপাধ্যক্ষ মহোদয় সরকারি নীতিমালা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কলেজের প্রাতিষ্ঠানিক হিসাব ব্যবহার না করে শিক্ষক মোঃ মাহফুজুল আলম ও স.ম সরওয়ারের নামে ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব নং (৩১৯৪০১০০৩৩২২৫, রূপালি ব্যাংক পিএলসি) খুলে ম্যানুয়ালি শিক্ষার্থীদের ফি ও অন্যান্য অর্থ সংগ্রহ করছেন, যা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং অর্থ আত্মসাতের সুস্পষ্ট অপকৌশল।

৩. বর্তমান উপাধ্যক্ষ মোঃ আব্দুস ছালাম নিয়োগ পরীক্ষায় ২য় স্থান অর্জন করেও বিগত সরকারের রাজনৈতিক প্রভাবে অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। এছাড়া ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের প্রদর্শক মোঃ জহুরুল আলম এর প্রদর্শক পদ এমপিও নীতিমালায় না থাকার পরেও অনৈতিক ভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে এমপিওভুক্ত (যাহা বিভাগীয় তদন্ত হয় পরবর্তীতে প্রভাব বিস্তার করে তদন্ত রিপট বাস্তবায়েনে বাধা প্রদান করেন, সমাজবিজ্ঞান বিভাগে পদের অতিরিক্ত (৩য় শিক্ষক) হিসেবে মোঃ মাহফুজুল আলম এবং পরিসংখ্যান বিভাগে (শুধুমাত্র এইচ, এস সি তে স্বকৃতী) অতিরিক্ত হিসেবে স.ম সরওয়ার এমপিও সুবিধা ভোগ করছেন, যা সরাসরি এমপিও নীতিমালার পরিপন্থী এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থের অপচয়।

৪. উপাধ্যক্ষ মোঃ আব্দুস ছালাম ও তার সহযোগী মেষ্ট জহুরুল আলম, মোঃ মাহফুজুল আলম (বাবলু), স.ম সরওয়ার এবং স্থানীয় কৃষক দলের সভাপতি আরিফুল ইসলাম নান্নু কলেজে এক প্রকার ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। তারা সাধারণ শিক্ষক-কর্মচারীদের অনৈতিকভাবে হয়রানি ও অর্থ দাবি করে আসছেন। ফলে ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর থেকে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং ৪০০০ শিক্ষার্থীর এই কলেজে বর্তমানে ছাত্র সংখ্যা ১০০০-এর নিচে নেমে এসেছে। কিন্তু প্রতিদিন কলেজ সময়ে কোন ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিতি ও নিয়মিত ক্লাস হই না। অনেক শিক্ষক কলেজে এসে বাজার ঘুরে বেড়ায়, সঠিক সময়ে কলেজে উপস্থিত থাকে না। কলেজ সময়ে বিভিন্ন কাজে বাইরে অবস্থান করে।

৫. মহামান্য হাইকোর্ট কর্তৃক বৈধ সভাপতি নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও, স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তির বাঁধার কারণে অদ্যাবধি কলেজে প্রবেশ করতে পারছেন না। স্থানীয় কৃষক দলের সভাপতি আরিফুল ইসলাম নান্নু এবং তাঁর একটি সহযোগী চক্রদের মধ্যে রয়েছেন উপাধ্যক্ষ মোঃ আব্দুস ছালাম, প্রদর্শক মেঃ জহুরুল আলম, মোঃ মাহফুজুল আলম (বাবলু) এবং স.ম সরওয়ার। এই চক্রটি সম্মিলিতভাবে কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ আমানুল হককে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। যা আদালতের অবমাননা। মহামান্য হাইকোর্টের সুনির্দিষ্ট রায় ও নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও, তারা আইন অমান্য করে আরিফুল ইসলাম নাড়ুকে ‘অবৈধ সভাপতি’ হিসেবে বহাল রেখেছে। যা আর্থিক তছরুপ। এই চক্রটি কলেজের সাধারণ তহবিল ও উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ নিয়মবহির্ভূতভাবে ভাগ-বাটোয়ারা করে নিচ্ছে এবং তা কমিটির ব্যক্তিগত স্বার্থে খরচ করছে। বৈধ সভাপতিকে কলেজে প্রবেশ করতে না দেওয়ায় প্রশাসনিক চেইন অফ কমান্ড ভেঙে পড়েছে। ফলে ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি আজ ফাংসের দ্বারপ্রান্তে। শিক্ষক-কর্মচারীদের নিরাপত্তাহীনতা কলেজের সাধারণ শিক্ষক বা কর্মচারীগণ এই অনিয়মের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই তাদের ওপর নেমে আসে নানা প্রকার হয়রানি ও হুমকি। চক্রটির ভয়ে বর্তমানে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে, যার ফলে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং উচ্চ আদালতের রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং বৈধ সভাপতিকে সসম্মানে দায়িত্ব পালনের সুযোগ করে দেওয়া জরুরী বলে মনে করা হচ্ছে।

এর আগে একটি তদন্তের জন্য আবেদন করা হয়েছিল তাতে ভূগোল বিষয়ের প্রদর্শক মোঃ জহুরুল আলম এর অবৈধ নিয়োগ, কলেজের শৃঙ্খলা ভঙ্গ, অসদাচরণ ও কর্তব্যে অবহেলার প্রমান মেলে তদন্ত কমিটি এ বিষয়ে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ ও মোঃ জহুরুল আলমকে জিঙ্গাসাবাদ করলে তারা পূর্বের একটি নিয়োগ বোর্ডের কথা উল্লেখ করেন। কমিটি বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে পায় যে, ০৫/১১/১৯৯৭ তারিখে দৈনিক বাংলাদেশ বার্তায় অন্যান্য বিষয়ের সাথে ভূগোল বিষয়ের প্রদর্শক চেয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি দেয়া আছে এবং সে অনুযায়ী ২২/০৩/১৯৯৮ তারিখে একটি নিয়োগ বোর্ড গঠিত হয়। উক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মোঃ রেফাজ উদ্দিন প্রথম স্থান এবং মোঃ জহুরুল আলম দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। নিয়োগ বোর্ড মোঃ রেফাজ উদ্দিনকে প্রদর্শক, ভূগোল পদে নিয়োগ দানের সুপারিশ করেন এবং উক্ত সুপারিশে আরো উল্লেখ করা হয় যে, প্রথম স্থান অধিকারী মোঃ রেফাজ উদ্দিন, প্রদর্শক, ভূগোল পদে যোগদান না করলে দ্বিতীয় স্থান অধিকারী মোঃ জহুরুল আলম-কে উক্ত পদে নিয়োগ দেয়া যাবে। কিন্তু তদন্তে দেখা যায় যে, মোঃ রেফাজ উদ্দিন ২২/০৯/১৯৯৮ তারিখে প্রদর্শক, ভুগোল, দৌলতপুর কলেজ, দৌলতপুর পদে যোগদান করেন এবং এপ্রিল ২০০১ পর্যন্ত চাকুরী করেন এবং সরকারি বেতন ভাতাদি উত্তোলন করেন। তার এমপিও ভুক্তির তারিখ মে/২০০০ এবং ইনডেক্স নং DEM-4194431। তদন্ত কমিটির মতামত অনুযায়ী মোঃ জহুরুল আলম-এর বিরুদ্ধে অন্যান্য যে সব অভিযোগ আনীত হয়েছে কমিটি তদন্তে তার যথেষ্ট প্রমাণাদি পেয়েছে যা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্ত বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের চাকুরীর শর্তাবলী রেগুলেশন (সংশোধিত) ২০১৫ এর ধারা ১৬ এবং উপধারা ১,৩,৫ ও ৬-এর পরিপন্থী।

সাধারণ শিক্ষার্থী, স্থানীয় ও সচেতন মহলের দাবি কলেজটি তার আগের ধারায় ঐতিহ্য ফিরে পাবে। সেই সাথে যারা কলেজের এই দুরবস্থা সৃষ্টি করেছে তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূল শাস্তির দাবি জানিয়েছে তারা।




মিরপুর-১০ নম্বর ফুটপাতের চাঁদাবাজির অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি ব্যবসায়ীদের

স্টাফ রিপোর্টারঃ রাজধানীর ব্যস্ততম বাণিজ্যিক ও জনবহুল এলাকা মিরপুর-১০ নম্বরের ফুটপাত ঘিরে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে ওঠা চাঁদাবাজির অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব বলে দাবি করেছেন স্থানীয় হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। সরেজমিনে এলাকাটি ঘুরে ব্যবসায়ী, পথচারী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে তারা তুলনামূলকভাবে স্বস্তি ও নিরাপত্তার মধ্যে ব্যবসা পরিচালনা করছেন এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছে জোরপূর্বক অর্থ দিতে হচ্ছে না। দীর্ঘদিন পর তারা একটি স্থিতিশীল পরিবেশে ব্যবসা করতে পারছেন বলেও মন্তব্য করেন।
একজন ফল বিক্রেতা বলেন, “আমরা অনেকদিন পর একটু শান্তিতে ব্যবসা করছি। আগে নানা ধরনের ঝামেলা ছিল, এখন সেসব নেই। কেউ এসে আমাদের ভয়ভীতি দেখায় না।”

আরেকজন হকার বলেন, “বর্তমান সরকার আসার পর থেকে আমরা নিরাপদে ব্যবসা করতে পারছি। আগে যেসব সমস্যা ছিল, এখন সেই পরিস্থিতি নেই। আমরা প্রতিদিন যা বিক্রি করি, সেটাই আমাদের আয়—এখানে কাউকে আলাদা করে কোনো টাকা দিতে হয় না।”
ব্যবসায়ীরা জানান, সন্ধ্যার পর দোকানপ্রতি ৩০ টাকা করে বিদ্যুৎ বিল বাবদ অর্থ হকার সমিতির কাছে পরিশোধ করা হয়। এটি ফুটপাতের দোকানগুলোতে ব্যবহৃত লাইটের বিদ্যুৎ খরচ ও কিছু যৌথ ব্যবস্থাপনার জন্য নেওয়া হয় বলে তারা জানান।

একজন পোশাক বিক্রেতা বলেন, “আমরা শুধু ৩০ টাকা করে কারেন্টের লাইট বিল দিই। এটা সমিতির নিয়ম অনুযায়ী নেওয়া হয়। এর বাইরে কোনো ধরনের চাঁদা নেই।” হকার সমিতির এক সদস্য জানান, “সমিতি নিয়ম মেনে সীমিত পরিসরে কিছু যৌথ খরচের জন্য অর্থ সংগ্রহ করে। এতে আলো, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো দেখভাল করা হয়। এখানে অবৈধ কোনো অর্থ আদায়ের প্রশ্নই আসে না।”

ফুটপাতের এক চা বিক্রেতা বলেন, “ফুটপাতে আমরা সবাই মিলেমিশে ব্যবসা করি। কেউ কোনো ধরনের চাপ বা জোরজবরদস্তি করছে—এমন কিছু আমরা দেখিনি।” আরেকজন হকার বলেন, “যদি কোথাও সমস্যা থাকত, আমরা নিজেরাই আগে বলতাম। কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভালো। তাই এসব অভিযোগ শুনে আমরা অবাক হয়েছি।”

কয়েকজন দোকানদার জানান, সম্প্রতি তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিরপুর-১০ ফুটপাতে চাঁদা তোলা হচ্ছে—এমন কিছু পোস্ট দেখেছেন। তবে বাস্তবে তাদের কাছে কেউ কখনও চাঁদা দাবি করেনি।

একজন দোকানদার বলেন, “আমরা কিছুদিন ধরে শুনতে পাচ্ছি চাঁদা তোলা হচ্ছে, কিন্তু আমাদের কাছে কেউ কখনও চাঁদা চাইতে আসেনি। এটা সম্পূর্ণ গুজব।” আরেকজন ব্যবসায়ী মন্তব্য করেন, “গুজব ছড়ালে আমাদের ব্যবসার ক্ষতি হয়। মানুষ ভুল ধারণা পোষণ করলে ক্রেতারাও ভয়ে আসতে চায় না।” একজন ভ্যানগাড়ি চালক বলেন, “আমরা সারাদিন কষ্ট করে রোজগার করি। আমাদের নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানো হলে সেটা আমাদের জন্য খুব কষ্টের।” ফুটপাতের এক পুরনো ব্যবসায়ী বলেন, “আগে বিশৃঙ্খলা বেশি ছিল। এখন সবাই নিজ নিজ জায়গায় বসে নিয়ম মেনে ব্যবসা করছে। পরিবেশ অনেক ভালো।”

স্থানীয় পথচারীদের সঙ্গেও কথা বলে জানা যায়, আগের তুলনায় ফুটপাত দিয়ে হাঁটা এখন সহজ হয়েছে। একজন পথচারী বলেন,
“আগে হাঁটতে কষ্ট হতো, এখন অনেকটাই স্বাভাবিক। পরিবেশ আগের চেয়ে ভালো মনে হচ্ছে।” আরেকজন বলেন, “ফুটপাত এখন তুলনামূলকভাবে গোছানো। সন্ধ্যার পর আলো থাকায় চলাচলও নিরাপদ মনে হয়।”

স্থানীয়দের মতে, গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হলে ব্যবসায়ীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হন, তেমনি সাধারণ মানুষও ভুল ধারণার শিকার হন।
একজন ব্যবসায়ী বলেন, “আমাদের অনুরোধ—যাচাই ছাড়া যেন কেউ কোনো তথ্য প্রচার না করেন। এতে সাধারণ ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হয়।”

হকাররা প্রশাসনের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন, এ ধরনের গুজব ছড়ানো বন্ধে নজরদারি জোরদার করার জন্য। তারা বলেন,
“যদি কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ছড়ায়, তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এতে আমাদের মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা স্বস্তিতে থাকতে পারবে।”

স্থানীয়দের আশা, ভবিষ্যতেও মিরপুর-১০ ফুটপাতে বর্তমান স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় থাকবে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন।




ইতিহাসের একটি দলিল এবং আগামী প্রজন্মের জন্য এক প্রেরণার উৎস হবে বইটি এসএম জিলানী, এমপি

স্টাফ রিপোর্টারঃ গতকাল বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘জিয়াউর রহমান: এক দূরদর্শী নেতা ও দেশ গঠনের রূপকার’ বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং গোপালগঞ্জ ০৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এস এম জিলানী বইটি’র মোড়ক উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বইটি ইতিহাসের একটি দলিল এবং আগামী প্রজন্মের জন্য এক প্রেরণার উৎস হবে বলে মন্তব্য করেন এসএম জিলানী এমপি।

এতে আরো উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি নেছার উদ্দিন সফী, নাছির আহমেদ মোল্লা, সহ সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম রনি মৃধা, স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এর সাধারণ সম্পাদক সাদ মোর্শেদ পাপ্পা শিকদার, সহ সভাপতি মনির হোসেন মৃধা, সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক, যুগ্ম সম্পাদক কাজী মহিউদ্দিন মহি, হাসান আলী, দপ্তর সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলাম পলাশ, সবুজবাগ থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মোঃ বিল্লাল হোসেন সহ থানা ও ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিভা প্রকাশের প্রকাশক ও কবি মঈন মুরসালিন।

মোহাম্মদ মাসুদ রচিত “জিয়াউর রহমান: এক দূরদর্শী নেতা ও দেশ গঠনের রূপকার” বইটি বাংলাদেশের ইতিহাসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবন ও কর্মের উপর একটি বিস্তৃত ও তথ্যবহুল আলোচনা। এটি কেবল একটি সাধারণ জীবনীগ্রন্থ নয়, বরং একজন মহান নেতার বহুমাত্রিক অবদানকে তুলে ধরার একটি গভীর প্রয়াস। লেখক বইটিতে ১২টি ভিন্ন প্রবন্ধ সংকলন করেছেন, যেখানে জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, রাষ্ট্র পরিচালনার কৌশল এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে তার বাস্তবধর্মী চিন্তাভাবনাগুলো সুনিপুণভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

লেখক তার পর্যালোচনায় জিয়াউর রহমানের জীবনকে কেবল একজন সামরিক নেতা হিসেবে নয়, বরং একজন রাষ্ট্রনায়ক, রাজনীতিবিদ এবং সমাজ সংস্কারক হিসেবে তুলে ধরেছেন। এতে মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা, স্বাধীনতার ঘোষণা এবং জেড ফোর্স গঠনের মতো ঐতিহাসিক দিকগুলো বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে। একইসঙ্গে, তিনি কীভাবে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে দেশের রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা এনেছিলেন, সেই বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে উঠে এসেছে।

অর্থনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের অবদান এই বইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ‘সবুজ বিপ্লব’-এর স্থপতি হিসেবে তার খাল খনন কর্মসূচির কথা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে, যা বাংলাদেশের কৃষি ও অর্থনীতিতে এক মহাবিপ্লব ঘটিয়েছিল বলে লেখক দাবি করেন। এটি প্রমাণ করে যে জিয়াউর রহমান কেবল সামরিক বা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার বিষয়েও কতটা দূরদর্শী ছিলেন।

বইটিতে জিয়াউর রহমানের সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের কথাও লেখা হয়েছে। ‘নতুন কুঁড়ি’-এর মতো সৃজনশীল উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি শিশুদের প্রতিভা বিকাশে যে সহায়তা করেছিলেন, তা তার উদার ও সংবেদনশীল ব্যক্তিত্বের পরিচয় বহন করে। পাশাপাশি, ইসলামী শিক্ষা ও জীবনবোধের প্রসারে তার ভূমিকাও আলোচিত হয়েছে।

লেখক এই বইটিকে কেবল ইতিহাসের একটি দলিল হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশের আগামী প্রজন্মের জন্য এক প্রেরণার উৎস হিসেবে দেখছেন। তার এই প্রয়াস জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও দেশপ্রেম সম্পর্কে পাঠককে গভীরভাবে জানতে সাহায্য করবে এবং একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রেরণা যোগাবে।




গণপূর্তে ‘মাফিয়া নেটওয়ার্ক’ সক্রিয়: আবু নাসের–আবু তালেবের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের বিস্ফোরক অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গড়ে ওঠা গণপূর্ত অধিদপ্তরের কথিত ‘মাফিয়া নেটওয়ার্ক’ এখনো সক্রিয়—এমন বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির একাধিক প্রভাবশালী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান মুন্সী ওরফে টিপু মুন্সির ঘনিষ্ঠ আত্মীয় এবং গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু নাসের চৌধুরী ও ই/এম বিভাগ-৮ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু তালেবকে ঘিরে বেরিয়ে আসছে দুর্নীতি, কমিশন বাণিজ্য, টেন্ডার সিন্ডিকেট, ভুয়া বিল এবং অবৈধ সম্পদের ভয়ংকর সব তথ্য। অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের দাবি, আওয়ামী ফ্যাসিবাদী আমলে রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেট এখনো গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ নিয়ন্ত্রণ করছে। আর সেই প্রভাব খাটিয়েই চলছে শত কোটি টাকার লুটপাট।

ঢাকায় পোস্টিং পেতে ১০ কোটি টাকার তদবির ! অভিযোগ রয়েছে, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী টিপু মুন্সির ভায়রা আবু নাসের চৌধুরী ঢাকায় “লাভজনক” পোস্টিং নিশ্চিত করতে অন্তত ১০ কোটি টাকার তদবির ও ঘুষ বাণিজ্য পরিচালনা করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, টিপু মুন্সির প্রত্যক্ষ প্রভাবেই তিনি ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল–২-এ নিজের পোস্টিং নিশ্চিত করেন। এর আগে গণপূর্ত সম্পদ বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে টেন্ডার সিন্ডিকেট, কমিশন বাণিজ্য, অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠলেও রহস্যজনক কারণে কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি। বরং পুরোনো সেই রাজনৈতিক বলয় ব্যবহার করেই তিনি আবারও প্রভাবশালী অবস্থানে ফিরে এসেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বগুড়ায় ওটিএম কেলেঙ্কারি: এলটিএম এড়িয়ে কমিশন বাণিজ্য : বগুড়া গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী থাকাকালে আবু নাসের চৌধুরীর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে এলটিএম পদ্ধতি এড়িয়ে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র অনুমোদনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দ ও এপিপিভুক্ত কাজগুলোতে ওটিএম অনুমোদনের আড়ালে কোটি কোটি টাকার কমিশন বাণিজ্য চালানো হয়।

সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমপক্ষে ১০ শতাংশ কমিশন আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগে উল্লেখিত ওটিএম টেন্ডার আইডিগুলোর মধ্যে রয়েছে— ১১১১৭৮১, ১১১৯৩১৬, ১১১৩০৭৯, ১১১১৫৬৩, ১১১১৫৫৮, ১১১১৫৫৯, ১১১১৫৬০, ১১১১৫৭০, ১১১১৫৬৭, ১১১১৫৬৯, ১১১১৫৬১, ১১১১৫৬৪, ১১১১৫৬৫, ১১১১৫৬৬, ১০৮১৫৪৬, ১১০০৭৯০, ১১০২০২৮, ১০৯১৯৭৩, ১০৯১৯৭৪, ১০৯১৯৭৫, ১০৯১৯৭৬, ১০৯১৯৭৭, ১০৯১৯৭৮, ১০৯১৯৭৯, ১০৮২১৫৯, ১০৮০২৩৫, ১০৮০২৩৬, ১০৬৯১৩১, ১০৭০৮৭৪, ১০৭০৮৭৫, ১০৭০৮৭৬, ১০৭১২৬৫, ১০৪৩২৪৮, ১০২৯৫৯৬ ও ১০১৮১৫৯।

ভেরিয়েশন বাণিজ্যে কোটি কোটি টাকা লোপাট : শুধু টেন্ডার নয়, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে “ভেরিয়েশন” সুবিধা দেখিয়েও কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আবু নাসের চৌধুরীর বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকল্প ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে ঠিকাদারদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের কমিশন আদায় করা হতো নিয়মিতভাবে।

সপ্তাহে দুই দিন অফিস, বাকি সময় পোস্টিং তদবির : অভিযোগ রয়েছে, বগুড়া সার্কেলে দায়িত্বে থাকলেও সপ্তাহে মাত্র দুই দিন অফিস করতেন আবু নাসের চৌধুরী। বাকি সময় কাটাতেন ঢাকায়—ওয়াকিং সার্কেল এবং পরবর্তীতে ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল–২-এ পোস্টিং নিশ্চিত করার তদবিরে। বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, বগুড়া গণপূর্ত সার্কেলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলেই তার অনিয়মিত উপস্থিতির বাস্তব চিত্র বেরিয়ে আসবে।

ফ্ল্যাট, জমি ও ব্যাংক ব্যালেন্সের পাহাড় : আবু নাসের চৌধুরীর বিরুদ্ধে নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী তার সম্পদের তালিকায় রয়েছে— বসুন্ধারা আবাসিক এলাকার আই ব্লকে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট মোহাম্মদপুরে আরেকটি ফ্ল্যাট বারিধারা ও গুলশান–২ এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট গাজীপুরে প্রায় ২০ একর জমি Uttara Bank PLC-এ বিপুল অঙ্কের অর্থ জমা এসব সম্পদের বৈধ উৎস কী—তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

টিপু মুন্সির ছায়ায় ‘অপ্রতিরোধ্য’ দাপট : গণপূর্তের একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী টিপু মুন্সির ভায়রা হওয়ার সুবাদেই আওয়ামী আমলে কার্যত অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন আবু নাসের চৌধুরী। তার বিরুদ্ধে কথা বললেই বদলি, হয়রানি কিংবা পদোন্নতি আটকে দেওয়ার ভয় কাজ করত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে। বর্তমানেও সেই পুরোনো “ফ্যাসিবাদী আচরণ” ফিরে আসছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গণপূর্তের অনেকে।

বিসিএস ছাড়াই ‘ক্যাডার’ পরিচয়! নির্বাহী প্রকৌশলী আবু তালেবের বিরুদ্ধে ভয়ংকর জালিয়াতির অভিযোগ : গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম বিভাগ-৮ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু তালেবের বিরুদ্ধে উঠেছে আরও বিস্ফোরক অভিযোগ। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি কোনো বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়েও রাজনৈতিক প্রভাবে অবৈধভাবে ক্যাডার পদে নিয়োগ পান এবং পরবর্তীতে জালিয়াতির মাধ্যমে জ্যেষ্ঠতা অর্জন করে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি নেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একজন নন-ক্যাডারের এভাবে ক্যাডার পরিচয়ে পদোন্নতি পাওয়া গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা।

কাজ না করেই ৫ কোটি টাকার বিল উত্তোলন : অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে অন্তত ১৬টি উন্নয়ন ও মেরামত প্রকল্পে কোনো কাজ না করেই ৫ কোটি ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা বিল উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে আবু তালেবের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য— কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে ৫৬.৩ লাখ টাকা এবং ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউটে ৩৬.১২ লাখ টাকা, সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নথিতে কাজ সম্পন্ন দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো সংস্কার কাজই হয়নি। সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালসহ আরও ১৬টি প্রতিষ্ঠানের মেরামত কাজের সম্পূর্ণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

ভুয়া প্রত্যয়নপত্রে বিল উত্তোলন : অভিযোগ রয়েছে, কাজ সম্পন্ন হয়েছে—এমন মর্মে ব্যাকডেটেড ভুয়া প্রত্যয়নপত্র তৈরি করে নথিতে সংযুক্ত করা হয়েছে। সরকারি ক্রয় আইন ও দণ্ডবিধি লঙ্ঘন করে এই জালিয়াতির মাধ্যমে পুরো বিল তুলে নেওয়া হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, অফিসের পিয়ন থেকে শুরু করে কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকেও “ম্যানেজ” করে এই সিন্ডিকেট পরিচালনা করা হতো।

কমিশন ছাড়া কাজ নয় ! গণপূর্তের ই/এম বিভাগ-৮ এ আবু তালেব গড়ে তুলেছেন কথিত “কমিশন রাজ”—এমন অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি প্রাক্কলন অনুমোদনের আগেই ১০ শতাংশ নগদ কমিশন নিশ্চিত করতে হতো। তার নিজস্ব সিন্ডিকেটের বাইরে কোনো ঠিকাদারের পক্ষে কাজ পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, আবু তালেবের দুর্নীতির কারণে সৎ ব্যবসায়ীরা কাজ হারিয়ে ব্যবসা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

অবৈধ সম্পদের পাহাড় : অভিযোগ রয়েছে, সরকারি চাকরির আয়ের তুলনায় কয়েকশ গুণ বেশি সম্পদের মালিক হয়েছেন আবু তালেব। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ঢাকা ও আশপাশে তার নামে-বেনামে একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট ও বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। তার সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংস্থা কাজ শুরু করেছে বলেও জানা গেছে।

দুদকের অনুসন্ধান শুরু : আবু তালেবের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে নথিপত্র যাচাই শুরু করেছে। অভিযোগকারী আমিনুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে জরুরি তদন্ত, সাময়িক বরখাস্ত এবং দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি জানিয়েছেন। অভিযুক্ত আবু তালেবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গণপূর্তে দুর্নীতির ‘ফ্যাসিবাদী সিন্ডিকেট’ কি এখনো বহাল ? গণপূর্ত অধিদপ্তর দীর্ঘদিন ধরেই টেন্ডার সিন্ডিকেট, কমিশন বাণিজ্য, ভুয়া বিল এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আলোচিত। বিশেষ করে ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল বিভাগে অনিয়ম আরও প্রকট বলে অভিযোগ রয়েছে। একাধিক ঠিকাদার জানিয়েছেন, “সমঝোতা” ছাড়া কোনো কাজ পাওয়া যায় না। অনেক ক্ষেত্রে প্রাক্কলন অনুমোদনের আগেই কমিশনের হার নির্ধারণ করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অভিযোগ গ্রহণ নয়—দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের বিরুদ্ধে মামলা, সম্পদ জব্দ এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে ই-টেন্ডারিং, থার্ড পার্টি মনিটরিং ও ডিজিটাল ডকুমেন্টেশন জোরদার করা প্রয়োজন। দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক ভবনের নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তরে যদি এমন দুর্নীতি চলতে থাকে, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে পুরো রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন ব্যবস্থা—এমন আশঙ্কাই করছেন সংশ্লিষ্টরা।




ফায়ার সার্ভিসে রেজায়ে রাব্বী বিতর্ক: কোয়ার্টার বাণিজ্য, পদায়ন সিন্ডিকেট ও আন্দোলনকালীন ভূমিকা নিয়ে তোলপাড়

এসএম বদরুল আলমঃ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সাময়িক বরখাস্তকৃত ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মোঃ রেজায়ে রাব্বীকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ, বিতর্ক ও প্রশাসনিক তৎপরতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে সরকারি কোয়ার্টার ভাড়া দেওয়া, প্রভাব খাটিয়ে পদায়ন বাণিজ্য এবং আন্দোলনকালীন ভূমিকা নিয়ে তার বিরুদ্ধে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পিএন-১০০৩১৮ নম্বরধারী রেজায়ে রাব্বী দীর্ঘদিন ঢাকা অঞ্চলে ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সালের ৮ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ৩০ আগস্ট পর্যন্ত তিনি ঢাকার বিভিন্ন লাইসেন্সিং এলাকায় কর্মরত ছিলেন। এই সময়েই তাকে ঘিরে নানা অনিয়ম ও বিতর্কের অভিযোগ সামনে আসে।

অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি একাধিকবার বদলি ও পদায়নে সুবিধা নিয়েছেন। স্থানীয় ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় প্রশাসনিক সুবিধা ভোগের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিভিন্ন সময়ে আচরণগত কারণে বদলি করা হলেও রহস্যজনকভাবে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি বলেও দাবি সংশ্লিষ্টদের। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় তার ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।

অভিযোগ অনুযায়ী, দায়িত্বস্থলে অনুপস্থিত থেকে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। পরে এ ঘটনায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং রংপুরে পদায়ন দেওয়া হয়। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে। সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি সরকারি কোয়ার্টার নিয়ে।

অভিযোগ আছে, নিজের নামে বরাদ্দ নেওয়া সরকারি বাসা তিনি নিজে ব্যবহার না করে ভাড়া দিয়ে নিয়মিত অর্থ আদায় করছেন। এমনকি চাকরিচ্যুত এক ফায়ার ফাইটার হান্নানের কাছে সেই কোয়ার্টার ভাড়া দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি ফায়ার সার্ভিসের অভ্যন্তরে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

এদিকে অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি মহাপরিচালক জায়েদ কামালের ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আবারও পদায়ন বাগিয়ে নিয়েছেন রেজায়ে রাব্বী। এতে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্তাধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।




কিডস হার্ট ফাউন্ডেশন ও কাতার চ্যারিটির উদ্যোগে ১৫৩ হৃদরোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা

ডেস্ক নিউজ : জন্মগতভাবে হৃদরোগে (কনজেনিটাল হার্ট ডিজিজ) আক্রান্ত ১৫৩ শিশুকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দিয়েছে কিডস হার্ট ফাউন্ডেশন ও কাতার চ্যারিটি ফাউন্ডেশন।

২ থেকে ৯ মে পর্যন্ত রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চ্যারিটি কার্ডিয়াক মিশনের মাধ্যমে এ সেবা দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার কিডস হার্ট ফাউন্ডেশন সংশ্লিষ্টরা যুগান্তরকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

এ সময় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রায় ১০৮ জন জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুর হার্টে ডিভাইস স্থাপন ও বিভিন্ন ইন্টারভেনশন সম্পন্ন করা হয়। এর আগে রমজান উপলক্ষে এ উদ্যোগের আওতায় আরও ৩১ জন জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এছাড়াও ১৪ শিশুকে ওপেন হার্ট সার্জারির জন্য নির্বাচন করা হয়। যার মধ্যে ইতোমধ্যে পাঁচজনের সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট নয়জন শিশুর সার্জারি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।

শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. নুরুন্নাহার ফাতেমা বেগম কিডস হার্ট ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ফাউন্ডেশনটি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় আর্থিকভাবে অসচ্ছল জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে।

সর্বশেষ চ্যারিটি মিশনটি সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের প্রধান কিডস হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. নুরুন্নাহার ফাতেমা বেগম।

বাংলাদেশ টিমের সহযোগী হিসেবে ছিলেন ডা. আশিক মো. রায়হান চৌধুরী, ডা. প্রিয়াঙ্কা দাস, ক্যাথ ল্যাব চীফ টেকনিশিয়ান মো. আনোয়ার হোসেন, কালাম, নায়িম, আশরাফ, শাহ-আলম প্রমুখ।

কাতার চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিদল, বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, যুক্তরাষ্ট্র থেকে চিকিৎসক মো. নোমান, জর্ডান থেকে ডা. ইয়াদ আল অমৌরি, ফিলিস্তিন থেকে ডা. হাসান, কাতার থেকে ডা. আব্দুল্লাহ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করেন।
উল্লেখ জন্মগত হৃদরোগ (কনজেনিটাল হার্ট ডিজিজ) শিশুদের জন্য এক নীরব ঘাতক। বিশ্বব্যাপী প্রতি হাজারে প্রায় ৮ থেকে ১০ জন শিশু জন্মগত হৃদরোগে নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। বাংলাদেশে এ হার আরও উদ্বেগজনক। প্রতি হাজারে প্রায় ১৮ থেকে ২৫ জন শিশু এ রোগে আক্রান্ত। এসব শিশুর একটি উল্লেখযোগ্য অংশের চিকিৎসা বর্তমানে কাটা-ছেঁড়া ছাড়াই ইন্টারভেনশন পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা সম্ভব হলেও চিকিৎসা ব্যয় অত্যন্ত বেশি হওয়ায় বহু পরিবার এ ব্যয় বহনে অক্ষম। ফলে প্রতিবছর অসংখ্য শিশু প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়ে প্রাণ হারায়।



ট্রাম্পের পর এবার চীন যাচ্ছেন পুতিন, বৈশ্বিক কূটনীতিতে কী ঘটতে চলেছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফর শেষ হওয়ার মাত্র চার দিনের মাথায় এবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন। পরপর দুই পরাশক্তির শীর্ষ নেতার বেইজিং সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এ ঘটনা।

সোমবার (১৮ মে) চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।

তথ্যমতে, আগামী ১৯ ও ২০ মে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের বেইজিং সফরের কথা রয়েছে। এ সফরের প্রাক্কালে গত রোববার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একে অপরকে ‘অভিনন্দন বার্তা’ পাঠিয়েছেন।

শি জিনপিং তার বার্তায় উল্লেখ করেন, দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্বের ৩০ বছর পূর্তির এ বছরে রাশিয়া ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ‘আরও গভীর ও সুসংহত’ হয়েছে।

চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে একই দেশে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মতো দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সফর স্নায়ু যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে অত্যন্ত বিরল। বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা এটিই প্রমাণ করে যে বেইজিং দ্রুত বৈশ্বিক কূটনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।

এদিকে, ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে মস্কোর প্রতি বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন বাড়তে থাকে। সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চীনের কাছে রাশিয়ার গুরুত্ব আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পর থেকে চীন রাশিয়ার জ্বালানি তেলের ওপর ব্যাপক নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ারের (সিআরইএ) তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত বেইজিং রাশিয়ার কাছ থেকে প্রায় ৩৬৭ বিলিয়ন ডলারের জীবাশ্ম জ্বালানি ক্রয় করেছে। চীন বর্তমানে রাশিয়ার মোট রপ্তানির চার ভাগের এক ভাগেরও বেশি পণ্য একা ক্রয় করছে, যা ক্রেমলিনকে যুদ্ধের বিশাল ব্যয় মেটাতে সাহায্য করছে।

আন্তর্জাতিক থিংক ট্যাংক আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো জোসেফ ওয়েবস্টার তার এক বিশ্লেষণে জানিয়েছেন, পুতিন ও শি জিনপিংয়ের আসন্ন বৈঠকের মূল বিষয় হতে পারে ‘তাইওয়ান সংকট’। বেইজিং ভবিষ্যতে তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সম্ভাব্য সংঘাতের সৃষ্টি হলে নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মস্কোর সঙ্গে আরও দীর্ঘমেয়াদি জীবাশ্ম জ্বালানি চুক্তি সই করতে চায়।

রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া ২’ গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার জন্য চীনকে তাগিদ দিয়ে আসছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের মধ্যে বছরে আরও ৫০ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা তৈরি হবে, যা রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি যেকোনো বৈশ্বিক সংকটে চীনের জ্বালানি নিরাপত্তাকে সম্পূর্ণ নিশ্ছিদ্র করবে।