অটোরিকশার ধাক্কায় এসএসসি পরীক্ষার্থী নিহত

ডেস্ক নিউজ : নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে দ্রুতগতির সিএনজিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় এসএসসি পরীক্ষার্থী তন্ময় কুরী (১৬) নিহতের ঘটনায় ঘাতক চালক মো. নাজমুলকে (২০) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১।

সোমবার দুপুরের দিকে আসামিকে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়।

এর আগে রোববার রাত ৮টার দিকে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানা এলাকার কলেজ গেইট সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার নাজমুলের উপজেলার নাজিরপুর এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে। নিহত কুরী বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী ডেলটা জুট মিল উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। সে চলতি এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিল।

র‌্যাব জানায়, গত ৬ মে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে মিনিটে বেগমগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ গেটের সামনে রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুত ও বেপরোয়া গতির একটি নম্বরবিহীন সিএনজিচালিত অটোরিকশা তন্ময় কুরী ও তার সহপাঠী জিৎ দেবনাথকে ধাক্কা দেয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তন্ময়ের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে নোয়াখালীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর। তিনি বলেন, এ ঘটনায় নিহতের বাবা কার্তিক কুরী বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর র‌্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে অভিযুক্ত চালককে শনাক্ত করে গ্রেফতার করে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে বেগমগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।




বিটিভিতে তারার মেলা

বিনোদন ডেস্ক : ঈদ উপলক্ষে নতুন আঙ্গিক ও বর্ণিল আয়োজনে সাজানো হয়েছে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) বিশেষ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘আনন্দমেলা’। এক ঝাঁক জনপ্রিয় তারকার অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হবে ঈদের দিন রাত ১০টায়।

অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনায় থাকছেন জনপ্রিয় অভিনেতা আফরান নিশো। প্রযোজনা করেছেন আফরোজা সুলতানা, মো. হাসান রিয়াদ, ইয়াসির আরাফাত ও ইয়াসমিন আক্তার।

বিশেষ কোরিওগ্রাফির মাধ্যমে ‘এই বৃষ্টি ভেজা রাতে চলে যেও না’ গানে নতুনভাবে হাজির হয়েছেন উপমহাদেশের খ্যাতিমান সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা। অন্যদিকে ‘কাল সারারাত ছিল স্বপ্নের রাত’ গান পরিবেশন করেছেন কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন। এই গানের কোরিওগ্রাফিতে অংশ নিয়েছেন অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী চাঁদনী ও শাওন। অনুষ্ঠানে আরও থাকছেন ফেরদৌস ওয়াহিদ।

এছাড়া নতুন গান ‘কৃষ্ণচূড়া’ নিয়ে হাজির হচ্ছেন ন্যানসি ও ইমরান। গানটির গীতিকার কবির বকুল এবং সংগীতায়োজনে রয়েছেন ইমরান মাহমুদুল।

অনুষ্ঠানের নৃত্য পরিবেশনাতেও থাকছে বৈচিত্র্য। ‘রূপনগরের রাজকন্যা’ সাজে নৃত্য পরিবেশন করবেন মডেল, অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পীসাদিয়া ইসলাম মৌ। আর ‘দূর দ্বীপবাসিনী’ গানে নৃত্য পরিবেশন করবেন মেহজাবীন চৌধুরী ও সাবিলা নূর। নৃত্য পরিচালনায় রয়েছেন ইভান শাহরিয়ার সোহাগ ও নৃত্যভূমি।

দর্শক অংশগ্রহণে ‘রঙ’ শিরোনামের একটি বিশেষ পর্বে উপস্থিত থাকবেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। এছাড়া কয়েকজন তারকাকে নিয়ে থাকছে একটি কুইজ শো। এখানে অংশ নিয়েছেন কেয়া পায়েল, আতিয়া আনিসা, জেফার রহমান, ফররুখ আহমেদ রেহান, ফারহান আহমেদ জোভান এবং খায়রুল বাশার। একটি বিশেষ পারফরমেন্স নিয়ে হাজির হবেন কৌতুকশিল্পী আবু হেনা রনি।

অনুষ্ঠানে আরও অংশ নিচ্ছেন জনপ্রিয় অভিনেতা ফারুক আহমেদ, শামীম জামান ও মুকিত মোহাম্মদ জাকারিয়া। ‘অ-মানুষ’ শিরোনামের একটি বিশেষ স্টেজ পারফরম্যান্সে থাকছেন অভিনেতা সুমন এবং কৌতুকশিল্পী শাওন।

গান, নৃত্য, কৌতুক, কুইজ ও বিশেষ পরিবেশনায় সাজানো এবারের ‘আনন্দমেলা’ এই ঈদে দর্শকদের জন্য হয়ে উঠবে বাড়তি বিনোদনের আয়োজন।




বর্ষসেরা ক্রিকেটার রিশাদ, ফুটবলার হামজা

ক্রীড়া ডেস্ক : গত বছর দারুণ পারফরম্যান্সের সুখবর পেলেন জাতীয় দলের তারকা স্পিনার রিশাদ হোসেন। বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতির ২০২৫ সালের বর্ষসেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছেন এই লেগ স্পিনার।

অন্যদিকে বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ ও বর্ষসেরা ফুটবলারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় আছেন হামজা চৌধুরী। এই বিভাগে হামজার সঙ্গী ঋতুপর্ণা চাকমা আর হকি বিশ্বকাপে রেকর্ড গড়া আমিরুল ইসলাম।

আজ সোমবার (১৮ মে) বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) ডাচ বাংলা ব্যাংক মিলনায়তনে এ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মনোনয়ন প্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেন বিএসপিএ-র সভাপতি রেজওয়ান উজ জামান রাজিব।

এছাড়া পপুলার চয়েজ অ্যাওয়ার্ড ২০২৫-এর সংক্ষিপ্ত তালিকায় আছেন (মনোনয়ন) হামজা চৌধুরী (ফুটবল), ঋতুপর্ণা চাকমা (নারী ফুটবল), তানজিদ হাসান তামিম (ক্রিকেট), আমিরুল ইসলাম (হকি)।

বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ ও পপুলার চয়েজ অ্যাওয়ার্ড বিভাগের বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের দিন। এ বছর ১৫টি বিভাগে সর্বমোট ১৪জন বর্তমান ও সাবেক ক্রীড়াবিদ, সংগঠক এবং সংস্থাকে পুরস্কৃত করা হবে। থাকছে অর্থ পুরস্কারও।

২০২৫ সালে সেরা কোচের পুরস্কার পাচ্ছেন বৃটিশ কোচ পিটার বাটলার। তার পারফরম্যান্স থাকলেও অনেক ইস্যুতে সমালোচনা রয়েছে।

বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএসপিএ) ১৯৬৪ সালে দেশে প্রথম ক্রীড়াক্ষেত্রে পুরস্কারের প্রবর্তন করে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ২২ মে শুক্রবার বেলা ৩টায় প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে অনুষ্ঠিত হবে এই আয়োজন।

পূর্ণাঙ্গ মনোনয়ন তালিকা

বর্ষসেরা ফুটবলার: হামজা চৌধুরী, ঋতুপর্ণা চাকমা

বর্ষসেরা ক্রিকেটার: রিশাদ হোসেন

বর্ষসেরা হকি খেলোয়াড়: আমিরুল ইসলাম

বর্ষসেরা আরচার: আব্দুর রহমান আলিফ

বর্ষসেরা টেবিল টেনিস খেলোয়াড়: খই খই সাই মারমা

বর্ষসেরা ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়: আল আমিন জুমার

উদীয়মান ক্রীড়াবিদ: রিপন মন্ডল (ক্রিকেট)

বর্ষসেরা কোচ: পিটার বাটলার (নারী ফুটবল)

সেরা আম্পায়ার: সেলিম লাকী

সেরা সংগঠক: কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল

তৃণমূলের ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব: আলমগীর কবীর (ক্রিকেট কোচ)

বিশেষ সম্মাননা: শাহনাজ পারভীন মালেকা

সক্রিয় ফেডারেশন: বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশন

পপুলার চয়েজ অ্যাওয়ার্ড (মনোনয়ন): হামজা চৌধুরী (ফুটবল), ঋতুপর্ণা চাকমা (নারী ফুটবল), তানজিদ হাসান তামিম (ক্রিকেট), আমিরুল ইসলাম (হকি)

বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ (মনোনয়ন): হামজা চৌধুরী (ফুটবল), ঋতুপর্ণা চাকমা (নারী ফুটবল), আমিরুল ইসলাম (হকি)




ভূমি সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেওয়া হবে: ভূমিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, জমির মালিকানা যাতে কৃষকদের হাতেই থাকে, ভূমি ব্যবস্থায় যাতে দখলদারিত্ব না থাকে, এক্ষেত্রে ভূমি সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোমবার (১৮ মে) সচিবালয়ে ভূমি সেবা মেলা উপলক্ষে ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, অতীতে জমি সংক্রান্ত যে মামলা জটিলতা ছিল, জমির মালিকরা ভূমি সংক্রান্ত কাজে নানাভাবে বিভ্রান্ত হতেন, হয়রানির শিকার হতেন, এ সকল জটিলতা দূর করা হবে।
এ সময় ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত করার পাশাপাশি হয়রানিমুক্তভাবে জনগণকে সেবা দিতে চাই। এ ব্যাপারে জনগণকে সচেতন করার লক্ষ্যে মঙ্গলবার থেকে ভূমিসেবা মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এখন থেকে সারাদেশে ৮৯৩ টি সার্ভিস সেন্টারের মাধ্যমে সেবা নিতে পারবেন। 



চুক্তি না হলে ইরানে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যদি কোনো চুক্তিতে খুব তাড়াতাড়ি রাজি না হয়, তাহলে চরম পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে।

ট্রুথ সোশ্যাল একাউন্টে দেওয়া একটি পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, ”ইরানের জন্য সময় খুব তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে আসছে, তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। না হলে ইরানে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।”

ইসরায়েলি সংবাদ মাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের একটি প্রতিবেদনে অনুযায়ী, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে কথা বলার পরেই ট্রাম্পের এই হুমকি সামনে এলো।

এর আগে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, যুদ্ধ অবসানে ইরান কোনো চুক্তিতে রাজি না হলে ইরানের পুরো সভ্যতা ধ্বংস করে দেওয়া হবে।

কয়েকদিন আগেই ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধবিরতি এখন ‘মুমুর্র্ষ অবস্থায়’ রয়েছে। সূত্র: বাসস




কোন হাটে যাবে কোরবানির পশু, ট্রাকে লিখতে হবে নাম-ঠিকানা

ডেস্ক নিউজঃ পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে কোরবানির পশু পরিবহনে ট্রাকের সামনে সংশ্লিষ্ট হাটের নাম ও ঠিকানা সুস্পষ্টভাবে ব্যানারে প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।

সোমবার (১৮ মে) সংবাদ মাধ্যমে সমিতির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. জোবায়ের মাসুদের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম বলেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের যে কোনো স্থান থেকে কোরবানির পশু—গরু, ছাগল, মহিষসহ অন্যান্য পশু—ট্রাকে করে যে হাটে বিক্রির জন্য নেওয়া হবে, সেই হাটের নাম ও ঠিকানা ট্রাকের সামনে দৃশ্যমানভাবে ব্যানারে লিখে রাখতে হবে। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা গ্রহণ সহজ হবে এবং রাস্তায় অন্য কারও দ্বারা বাধা বা হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা কমবে।

এতে আরও বলেন, পরিবহনের সময় কোনো ধরনের বাধার সম্মুখীন হলে সংশ্লিষ্টদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নিতে হবে। বিষয়টি যথাযথভাবে পালনের জন্য সব ট্রাক মালিক ও চালকদের প্রতি বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলো।




মাঝ আকাশে একটু বাইরে গিয়ে সিগারেট খেতে চাইলেন, শেষমেশ কামড় দিলেন বিমানকর্মীকে

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ৩৫ হাজার ফুট ওপরে উড়তে থাকা বিমানে হঠাৎই সৃষ্টি হয় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি। এক যাত্রীর অস্বাভাবিক আচরণে শেষ পর্যন্ত জরুরি অবতরণে বাধ্য হয় উড়োজাহাজটি।

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসগামী কান্টাসের কিউএফ২১ ফ্লাইটে ঘটে এই ঘটনা। গত শুক্রবার বেলা আড়াইটায় উড্ডয়নের পর প্রায় সাত ঘণ্টা সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও হঠাৎই এক যাত্রী বিশৃঙ্খল আচরণ শুরু করেন।

অভিযোগ উঠেছে, ওই যাত্রী বিমানের ভেতরে উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং ‘একটু বাইরে গিয়ে সিগারেট খেয়ে আসি’ বলেন। পরে একপর্যায়ে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকে কামড়ে দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেবিন ক্রুদের পাশাপাশি অন্য যাত্রীরাও এগিয়ে আসেন।

কান্টাসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বিমানে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল বা হুমকিমূলক আচরণের বিষয়ে তাদের শূন্য সহনশীলতা নীতি রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ওই যাত্রী কেবিন ক্রুদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় জড়াচ্ছেন। তাকে বিমানের পেছনের দিকে যেতে বলা হলে তিনি অশালীন ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান। একপর্যায়ে তিনি দাবি করেন, তিনি বাইরে গিয়ে সিগারেট খেতে চেয়েছিলেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে উড়োজাহাজটি ফরাসি পলিনেশিয়ার রাজধানী পাপিতেতে জরুরি অবতরণ করে। অবতরণের পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ওই যাত্রীকে বিমান থেকে নামিয়ে নেয়।

পরে কান্টাস জানায়, ওই যাত্রীকে আজীবনের জন্য তাদের এবং জেটস্টারের সব ফ্লাইটে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

প্রায় ৩৫ মিনিট বিরতির পর বিমানটি আবার ডালাসের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে এবং পরদিন গন্তব্যে পৌঁছে।

সূত্র: গার্ডিয়ান




চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন রাষ্ট্রপতি

ডেস্ক নিউজঃ ফলো-আপ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে দেশে ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

সোমবার (১৮ মে) সকালে তিনি দেশে ফেরেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং।

গত ৯ মে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ফলো-আপ চিকিৎসার জন্য লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন রাষ্ট্রপতি। যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে তার হৃদযন্ত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্লক শনাক্ত হয়। পরে ১২ মে জরুরি ভিত্তিতে সফলভাবে এনজিওপ্লাস্টি করা হয় এবং একটি স্টেন্ট (রিং) স্থাপন করা হয়।

যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজে অবস্থিত রয়াল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতাল-এ ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. স্টিফেন হোলি-এর তত্ত্বাবধানে রাষ্ট্রপতির এনজিওগ্রাম সম্পন্ন হয়।

পরীক্ষার সময় হৃদযন্ত্রে উল্লেখযোগ্য ব্লক ধরা পড়লে চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিকভাবে এনজিওপ্লাস্টি করেন এবং স্টেন্ট স্থাপন করেন।
বঙ্গভবন সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি এর আগেও হৃদরোগজনিত সমস্যার চিকিৎসা নিয়েছেন।

২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে তিনি ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হসপিটাল-এ ওপেন হার্ট সার্জারি করান। এরপর থেকে হৃদযন্ত্র-সংক্রান্ত জটিলতার চিকিৎসার অংশ হিসেবে নিয়মিতভাবে ক্যামব্রিজের রয়াল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতালে ফলো-আপ চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বিশ্বমানের হৃদরোগ চিকিৎসা ও গবেষণার জন্য পরিচিত রয়াল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতাল বিশ্বে প্রথম সফল হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট সম্পন্নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম হিসেবে স্বীকৃত। রাষ্ট্রপতির সর্বশেষ চিকিৎসাও সেখানেই সম্পন্ন হয়।




টেন্ডার বাণিজ্য থেকে সিনিয়রিটি কারসাজি: গণপূর্ত অধিদপ্তরে প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ স্বৈরাচারী আওয়ামী শাসনামলে গণপূর্ত অধিদপ্তরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ, সিনিয়রিটি বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ আবারও সামনে এসেছে। বিশেষ করে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জাহাঙ্গীর আলমকে ঘিরে নতুন করে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নিয়মিত বিসিএস পদ্ধতি এড়িয়ে বিশেষ সুবিধায় তাকে সরাসরি ৬ষ্ঠ গ্রেডে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ও শত শত কোটি টাকার টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী বিসিএসের মাধ্যমে ৯ম গ্রেডে সহকারী প্রকৌশলী নিয়োগ দেওয়ার বিধান থাকলেও একটি প্রভাবশালী চক্র সেই নিয়ম ভেঙে কয়েকজনকে সরাসরি উচ্চ পদে বসানোর ব্যবস্থা করে। এই তালিকায় ছিলেন মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, সমীরণ মিস্ত্রী, জিয়াউর রহমান ও মোঃ আবু তালেবসহ আরও কয়েকজন। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী কবির আহমেদ ভূইয়া এবং সাবেক এমপি শেখ সেলিম ও শেখ হেলালের প্রভাবেই পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়।

অভিযোগ আরও গুরুতর হয়ে ওঠে যখন দাবি করা হয়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নাকি পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান এটিএম আহমেদুল হককে সরাসরি নির্দেশ দেন যাতে লিখিত বা প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ছাড়াই নির্ধারিত প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে শুধু আনুষ্ঠানিক ভাইভা নিয়ে ১১ জনকে চাকরি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিসিএস ক্যাডারের একাংশ আদালতের শরণাপন্ন হলে হাইকোর্ট ১৭টি পদ বিসিএস কর্মকর্তাদের জন্য সংরক্ষণের নির্দেশ দেন। কিন্তু সেই নির্দেশ কার্যত উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু চাকরিতে বহালই রাখা হয়নি, বিতর্কিতভাবে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের অনেককে সিনিয়রিটিতেও এগিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে চাকরিতে যোগদান ও বেতন উত্তোলন নিয়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, আদালতের স্থগিতাদেশ চলাকালে প্রায় ১১ মাসের ব্যাকডেট দেখিয়ে যোগদানপত্র তৈরি করা হয়। অথচ ওই সময় অনেকেই বাস্তবে চাকরিতে উপস্থিত ছিলেন না। এরপরও সরকারি কোষাগার থেকে বকেয়া বেতন উত্তোলন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সূত্র বলছে, সেই সময় মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বিআইডাব্লিউটিএতে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং সেখান থেকে নিয়মিত বেতন নিচ্ছিলেন। একই সময়ে গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকেও তিনি বেতন উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অর্থাৎ একই সময়ে দুই সরকারি প্রতিষ্ঠানের বেতন গ্রহণের মাধ্যমে সরকারি চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘন ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে।

একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে আরও কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও। বলা হচ্ছে, মোঃ আইয়ুব আলী তখন মেরিন একাডেমিতে চাকরিতে ছিলেন এবং মোঃ নাফিজ আহমেদ রাজশাহীতে সরকারি চাকরিতে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া কয়েকজন ব্যক্তি বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলেও পরে ব্যাকডেট দেখিয়ে সরকারি চাকরিতে যোগদানের সুবিধা নেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব অনিয়মের পেছনে সাবেক সচিব শহীদ উল্লাহ খন্দকার, শেখ সেলিম, শেখ হেলাল এবং সাবেক প্রধান প্রকৌশলী কবির আহমেদ ভূইয়ার সরাসরি প্রভাব কাজ করেছে।

সম্প্রতি গণপূর্ত অধিদপ্তরের “পি পি ডব্লিউ ডি উড ডিভিশন” নিয়েও নতুন করে নানা অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৩০০ কোটি টাকার কাঠ ও ফার্নিচার প্রকল্পকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম একটি নির্দিষ্ট ইউনিটে পদায়নের জন্য প্রভাবশালী এক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে মোটা অঙ্কের ঘুষ দেন। পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ডিপিপির আওতাধীন প্রকল্পকে দুই ভাগে ভাগ করে কমিশন নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া প্রধান প্রকৌশলীর সামনেই দুই পক্ষ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। প্রধান প্রকৌশলীর ভাই “মামুন”-এর নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছ থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টার কথাও শোনা যাচ্ছে। পুরো সিন্ডিকেট পরিচালনায় নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম সক্রিয়ভাবে জড়িত বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও অভিযোগ রয়েছে, হাতিল, পশ ফার্নিচার, রিগেল ফার্নিচার, আকতার ফার্নিচার ও ডট ফার্নিচারসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন কাজ ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়েছে। তদন্ত চলমান থাকার পরও কীভাবে তিনি প্রায় দেড়শ কোটি টাকার টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে সংস্থাপন শাখার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সরোয়ার জাহান বিপ্লব বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন অনেক আগেই দেওয়ার কথা ছিল। কেন সেটি জমা পড়েনি তা খতিয়ে দেখা হবে এবং দ্রুত রিপোর্ট দেওয়ার জন্য আবারও নির্দেশনা পাঠানো হবে।

এখন সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন, রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও শক্তিশালী সিন্ডিকেটের সহায়তা ছাড়া এত বিতর্কের পরও কীভাবে একজন কর্মকর্তা বছরের পর বছর গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করে যেতে পারেন। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রমাণ মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।




ইরানকে বাগে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ৫ শর্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ও সংঘাত নিরসনের প্রক্রিয়ায় ইরানকে বাগে আনতে ৫টি বড় এবং অত্যন্ত কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের পক্ষ থেকে দেওয়া শান্তি প্রস্তাবের জবাবে ওয়াশিংটন এই পাল্টা শর্তগুলো দিয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ইরানের উৎপাদিত ৪০০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরাসরি আমেরিকার হাতে হস্তান্তর করা। এ ছাড়া পূর্ববর্তী মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে ইরানের যে বিপুল আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ দিতেও সাফ অস্বীকৃতি জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

রোববার (১৭ মে) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সির এক বিশেষ প্রতিবেদন বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মার্কিন প্রশাসনের এই অনমনীয় ও কঠোর অবস্থানের কারণে দুই দেশের মধ্যকার শান্তি আলোচনা এখন এক গভীর অচলাবস্থার দিকে মোড় নিচ্ছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শর্তগুলোর বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনার টেবিল থেকে সুবিধা আদায় করতে ওয়াশিংটন শর্ত দিয়েছে যে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির আওতাধীন যতগুলো স্থাপনা রয়েছে, তার মধ্যে কেবল একটিমাত্র পারমাণবিক স্থাপনা বা কেন্দ্র ভবিষ্যতে সচল বা চালুর অনুমতি পাবে। এর পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে আটকে বা ফ্রিজ করে রাখা ইরানের বিপুল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সম্পদের অন্তত ২৫ শতাংশও অবমুক্ত বা ছেড়ে দেওয়ার দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন প্রশাসন।

শুধু তাই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ফ্রন্টে চলমান সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটার বিষয়টি এই আলোচনার ধারাবাহিকতা ও সফল সমাপ্তির ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল বলে লিংক বা জুড়ে দিয়েছে তারা। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট নিউজের এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ইরান যদি আমেরিকার এই সবকটি শর্ত মেনেও নেয়, তবুও ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের স্থায়ী হুমকি পুরোপুরি বহাল থাকবে।

মার্কিন এই পাল্টা শর্তের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের গণমাধ্যমগুলো রোববার ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছে, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে তেহরানের দেওয়া যৌক্তিক শান্তি প্রস্তাবের জবাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের দৃশ্যমান বা বাস্তবসম্মত ছাড় দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের এক সম্পাদকীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ‘আমেরিকা নিজে কোনো ত্যাগ বা ছাড় না দিয়ে, মূলত যুদ্ধের ময়দানে যেসব সুবিধা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছিল, তা এখন আলোচনার টেবিলে ছলে-বলে-কৌশলে আদায় করতে চাচ্ছে; ওয়াশিংটনের এই অতি লোভী মানসিকতা চলমান শান্তি আলোচনাকে নিশ্চিতভাবে একটি স্থায়ী অচলাবস্থার দিকে ঠেলে দেবে।’

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া ১৪ দফার একটি ব্যাপক শান্তি প্রস্তাব সরাসরি এবং আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ট্রাম্পের এই প্রত্যাখ্যানের পর ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ক্যালিবাফ এক কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মার্কিন প্রশাসন যদি ইরানের দেওয়া প্রস্তাব মেনে না নেয়, তবে এর জন্য মার্কিন করদাতাদের ভবিষ্যতে অত্যন্ত ভারী ও চড়া মূল্য দিতে হতে পারে।

এর বিপরীতে আলোচনার টেবিলে বসার জন্য ইরানের পক্ষ থেকেও আন্তর্জাতিক মহলে পাঁচটি ‘আস্থা-বিল্ডিং’ বা বিশ্বাসযোগ্য পূর্বশর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। তেহরানের এই শর্তগুলোর মধ্যে প্রধানতম হলো—লেবাননে ইরান-সমর্থিত প্রতিরোধ বাহিনী হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েলের চলমান হামলাসহ সবকটি ফ্রন্টে অবিলম্বে সামরিক সংঘাতের স্থায়ী অবসান ঘটাতে হবে, ইরানের ওপর আরোপিত সমস্ত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের সব ফান্ড বা অর্থ অবিলম্বে ছেড়ে দিতে হবে।

এর পাশাপাশি যুদ্ধের কারণে ইরানের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারের অন্যতম প্রধান নৌ রুট হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিজস্ব একচ্ছত্র সার্বভৌমত্বের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিতে হবে। ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছেন, তাদের দেশে নতুন করে যেকোনো ধরনের সামরিক বা বিমান হামলা চালানো হলে তার জবাবে আরও বেশি ‘বিধ্বংসী ও ভয়াবহ পাল্টা আঘাত’ হানা হবে।

আন্তর্জাতিক এই চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের বিষয়ে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা করে অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটন মূলত তাদের সামরিক ও সাম্রাজ্যবাদী উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য কূটনীতিকে একটি সস্তা ঢাল বা কভার হিসেবে ব্যবহার করছে।

বাঘাই অত্যন্ত কড়া ভাষায় লেখেন, ‘এটি তাদের দীর্ঘদিনের অত্যন্ত সুপরিচিত এবং কুৎসিত একটি কৌশল—প্রথমে তারা নিজেরাই কৃত্রিমভাবে সংকট ও যুদ্ধ তৈরি করে, এরপর আবার সেই যুদ্ধকে আরও উসকে দেয় এবং সবশেষে তার ওপর ‘স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার’ ও ‘শান্তি রক্ষা’র এক মহৎ ব্যানার ঝুলিয়ে দেয়। মূলত তারা বিশ্বজুড়ে একটি ধ্বংসস্তূপ বা মরুভূমি তৈরি করে এবং পরবর্তীতে ধূর্ততার সঙ্গে সেটাকেই শান্তি বলে দাবি করে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বাহিনী ইরানের অভ্যন্তরে একযোগে ব্যাপক সামরিক ও বিমান হামলা চালালে এই অঞ্চলের পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই আগ্রাসনের পর ইরানও লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে পাল্টা প্রতিরোধমূলক হামলা চালায়, যার ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম হু হু করে বাড়ে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়।

পরবর্তীতে বন্ধু রাষ্ট্র পাকিস্তানের বিশেষ কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি অর্জিত হয়েছিল। তবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো সম্ভব হলেও মূল নীতিগত বিরোধগুলোর সমাধান না হওয়ায় এবং উভয় পক্ষের শর্তের মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান থাকায় স্থায়ী কোনো শান্তি চুক্তি এখনো আলোর মুখ দেখেনি।

সূত্র: এনডিটিভি