বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন ভিসা ফি নির্ধারণ কর‌ল মিসর

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন ভিসা ফি ঘোষণা করেছে মিসর। সিংগেল এন্ট্রি, মাল্টিপল এন্ট্রি এবং পাঁচ বছর মেয়াদি ভিসার ফি পরিবর্তন করা হ‌য়ে‌ছে।

আজ রবিবার (১৭ মে) ঢাকার মিসর দূতাবাস এক বার্তায় এ‌ তথ্য জানি‌য়ে‌ছে।

দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, এখন থেকে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের সিংগেল এন্ট্রির ক্ষেত্রে ৯ হাজার ২০০ টাকা, মাল্টিপল এন্ট্রির ক্ষেত্রে ১২ হাজার ১৫০ টাকা এবং পাঁচ বছর মেয়াদি ভিসার ফি ৯৫ হাজার ২০০ টাকা।




১ জুলাই থেকেই পে-স্কেল বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজঃ সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) এবার বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন এই বেতন কাঠামো কার্যকর করার নীতিগত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পুরো পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে বলে হিসাব রয়েছে। এই বিশাল আর্থিক চাপ এবং মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি সামলাতে একসঙ্গে নয়, তিনটি ধাপে এটি বাস্তবায়নের কৌশল নিয়েছে সরকার। প্রথম ধাপেই বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ দেওয়া হবে, যার জন্য আসন্ন বাজেটে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখার প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

গত বুধ ও বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে বাজেট সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের ধারাবাহিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। টানা দুদিনের এই আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন পে-স্কেলের রূপরেখা, খাতভিত্তিক বরাদ্দ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর আহরণের সার্বিক চিত্র প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। সব দিক পর্যালোচনার পর প্রধানমন্ত্রী নতুন বেতন কাঠামো চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সবুজ সংকেত দেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। ফলে জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন কাঠামোতে বেতন পাবেন, এ নিয়ে এখন আর কোনো সংশয় নেই।’ অর্থমন্ত্রীর আসন্ন বাজেট বক্তৃতার খসড়াতেও এই ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পুরো কর্মপরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।

অর্থ বিভাগ ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে-স্কেলের প্রস্তাব পুরোপুরি কার্যকর করতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। এই বিশাল ব্যয়ের চাপ সামলাতেই সরকার কৌশলগতভাবে ধাপে ধাপে এগোনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী অর্থবছর থেকেই নতুন বেতন কাঠামোর অধীনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হবে। এ জন্য আসন্ন বাজেটে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখার প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে মূল বেতনের বাকি ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হবে এবং তৃতীয় ধাপে মূল বেতনের সঙ্গে বিভিন্ন আনুষঙ্গিক ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পুরোপুরি সমন্বয় করা হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, তিন বছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ফলে দেশের সামগ্রিক বাজারে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন করে কোনো চাপ পড়বে না এবং সরকারের নগদ অর্থায়ন ব্যবস্থাপনাও অনেক সহজ হবে।

এর আগে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের বেতন কমিশন গত ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল। বর্তমানে দেশের প্রায় ১৪ লাখ কর্মরত সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর বেতন-ভাতা মেটাতে সরকারের বার্ষিক ব্যয় হয় প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।

বেসামরিক প্রশাসন, জুডিশিয়াল সার্ভিস ও সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামো বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরির জন্য সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিশন ও কমিটির খসড়া অনুযায়ী, সরকারি চাকরির গ্রেড আগের মতোই ২০টি বহাল থাকছে। তবে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ রয়েছে। এই কাঠামো অনুমোদিত হলে গ্রেডভেদে কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৯.৪ থেকে কমিয়ে ১:৮-এ নামিয়ে আনা হচ্ছে।

বৈঠকে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং অর্থ সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।




“দেশে এখন স্বাধীনভাবে কথা বলাও কঠিন”-বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘অপশাসনের ধারাবাহিকতা’ বললেন জিএম কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের দাবি করেছেন, ২০১৪ সালের পর থেকে দেশে যেসব জাতীয় নির্বাচন হয়েছে, সবই আগে থেকেই পরিকল্পিত ও নিয়ন্ত্রিত ছিল। তাঁর অভিযোগ, ভোটের ফল জনগণের রায়ে নয়, বরং কৌশল আর প্রভাব খাটিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে। শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে নিজের দু’টি বইয়ের প্রকাশনা ও আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

জিএম কাদের বলেন, সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনেও ভোটের প্রকৃত চিত্র আড়াল করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভোটার সংখ্যা বাড়লেও ভোটকেন্দ্রের বুথ কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল পরিকল্পিতভাবে। তিনি বলেন, দায়িত্বশীল মহল আগেই বুঝেছিল সাধারণ মানুষ ভোট দিতে কেন্দ্রে আসবে না। তাই কৃত্রিমভাবে ভোটের পরিবেশ তৈরি করতে এবং পরে ফলাফল নিজেদের মতো সাজাতে বুথ সংখ্যা কমানো হয়।

তিনি নির্বাচন কমিশনের দেওয়া ভোটের হার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, ঘোষিত ভোটের হিসাব বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। তিনি গাণিতিক ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এত বিপুল সংখ্যক ভোট গ্রহণ করা বাস্তবে সম্ভব নয়। ভোটারের পরিচয় যাচাই, আঙুলে কালি দেওয়া, ব্যালট নেওয়া, ভোট দিয়ে বাক্সে ফেলা—সব মিলিয়ে যে সময় লাগে, তাতে ঘোষিত ভোটের সংখ্যা বিশ্বাসযোগ্য নয় বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, বাস্তবে অধিকাংশ কেন্দ্রে দীর্ঘ সময় ভোটারশূন্য অবস্থা ছিল এবং প্রকৃত ভোট পড়েছে অনেক কম।

জাপা চেয়ারম্যান আরও অভিযোগ করেন, বিপুল সংখ্যক ভুয়া ভোট দেখিয়ে পছন্দের প্রার্থীদের জেতানো হয়েছে। তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী বাস্তব ভোটের চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যা দেখিয়ে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, সাধারণ মানুষের ভোটাধিকারকে কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ করে ফেলা হয়েছে।

গণমাধ্যম নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন জিএম কাদের। তিনি বলেন, দেশে এখন আর প্রকৃত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই। সংবাদমাধ্যমের অনেকেই চাপ, ভয় কিংবা বিভিন্ন কারণে আত্মনিয়ন্ত্রণের মধ্যে কাজ করছে। তাঁর অভিযোগ, তিনি যে তথ্য ও হিসাব তুলে ধরেছেন, তা দেশের সংবাদমাধ্যম প্রকাশ করতে সাহস পায়নি।

সাংবাদিক আনিস আলমগীরমঞ্জুরুল হাসান পান্না-সহ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপেরও সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর দাবি, ভিন্নমত দমন করতে এখনও আগের মতো ভয়ভীতি ও নিয়ন্ত্রণের রাজনীতি চলছে। মানুষের বাকস্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার সংকুচিত হয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও দুর্নীতি বেড়েছে বলে অভিযোগ করে জিএম কাদের বলেন, দেশে এখন নতুন ধরনের “মামলা বাণিজ্য” শুরু হয়েছে। নিরীহ মানুষকে মামলা, গ্রেফতার বা “শোন অ্যারেস্ট” দেখানোর ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে টাকা আদায় করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, কেউ রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন মতের হলেই তাকে হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। বিমানবন্দরে আটকে রেখে ভয় দেখানো, পরে অর্থ আদায়ের মতো ঘটনাও ঘটছে বলে দাবি করেন তিনি।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-র সমালোচনা করে তিনি বলেন, একতরফাভাবে সংবিধান পরিবর্তনের চেষ্টা অতীতেও স্থায়ী হয়নি। বর্তমান সরকারও যদি রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের মতামত উপেক্ষা করে নিজেদের মতো সংস্কার চালাতে চায়, তাহলে সেই উদ্যোগও দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে জিএম কাদের বলেন, প্রতীক নিয়ে তারা চিন্তিত নন। মামলা বা চাপ যাই আসুক, দলকে ধরে রেখে রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাবেন। তবে দলের ভেতরে বিশ্বাসঘাতকতা করলে কাউকে আর ছাড় দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রকাশক আলমগীর সিকদার লোটন। প্রধান আলোচক ছিলেন আবুল কাশেম ফজলুল হক। এছাড়া বক্তব্য দেন আব্দুস সাত্তার, শামীম হায়দার পাটোয়ারী, কাজী রওনক হোসেন, মাসুদ কামাল-সহ আরও অনেকে।




ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা সোমবার

ডেস্ক নিউজঃ পবিত্র ঈদুল আজহার সুনির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ এবং ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার লক্ষ্যে আগামীকাল সোমবার (১৮ মে) জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

রোববার (১৭ মে) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) এমপি।

বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেলে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটিকে জানানোর জন্য দেশের সকল নাগরিকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ করা হয়েছে। চাঁদ দেখার তথ্য জানানোর জন্য নির্দিষ্ট কিছু টেলিফোন নম্বর দেওয়া হয়েছে, সেগুলো হলো: ০২-৪১০৫৩২৯৪, ০২-২২৬৬৪০৫১০, ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭

এছাড়া, সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) অথবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও (ইউএনও) বিষয়টি অবহিত করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।




ট্রেনে ঈদযাত্রার শেষ দিনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি আজ

ডেস্ক নিউজঃ পবিত্র ঈদুল আজহা আগামী ২৮ মে হতে পারে—এমনটি ধরে নিয়ে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সেই হিসেবে ঈদযাত্রার শেষ দিন অর্থাৎ ২৭ মে’র আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হচ্ছে আজ রোববার (১৭ মে)। বরাবরের মতোই যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে শতভাগ আসনের টিকিট অনলাইনে (অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে) বিক্রি করা হচ্ছে।

রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রোববার সকাল ৮টা থেকে পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। আর দুপুর ২টা থেকে শুরু হবে পূর্বাঞ্চলে চলাচলকারী ট্রেনের টিকিট বিক্রি।

ঈদ উপলক্ষে রেলওয়ের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, ঈদের আগের ৫ দিনের টিকিট অগ্রিম দেওয়া হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ মে দেওয়া হয়েছে ২৩ মে’র টিকিট, ১৪ মে দেওয়া হয়েছে ২৪ মে’র, ১৫ মে দেওয়া হয়েছে ২৫ মে’র এবং ১৬ মে দেওয়া হয়েছে ২৬ মে’র টিকিট। আজ ১৭ মে দেওয়া হচ্ছে ২৭ মে’র টিকিট। তবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ২৮, ২৯ ও ৩০ মে’র টিকিট পরবর্তী সময়ে বিক্রি করা হবে।
রেলওয়ে জানিয়েছে, একজন যাত্রী ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট সর্বোচ্চ একবারই কিনতে পারবেন এবং একটি আইডিতে সর্বোচ্চ ৪টি টিকিট কেনা যাবে। এই টিকিট কোনোভাবেই রিফান্ড বা ফেরত দেওয়া যাবে না। তবে সাধারণ ও কর্মজীবী যাত্রীদের অনুরোধে যাত্রার দিন স্টেশন কাউন্টার থেকে মোট আসনের (উচ্চ শ্রেণি ব্যতীত) ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং বা আসনবিহীন টিকিট বিক্রি করা হবে।



হঠাৎ কালবৈশাখীর মতো পরিস্থিতি, আবহাওয়া অফিসের জরুরি বার্তা

আবহাওয়া ডেস্কঃ দেশের ১৪ জেলায় আজ দুপুরের মধ্যেই ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। হঠাৎ দমকা হাওয়ার সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টিও হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রবিবার (১৭ মে) দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, মাদারীপুর, কুমিল্লা, নোয়াখালী, সিলেট অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এ সময় অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।




আইফেল টাওয়ারে ফিলিস্তিনি পতাকা, আটক ৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের আইফেল টাওয়ারে ফিলিস্তিনের একটি বড় পতাকা ঝুলিয়ে প্রতিবাদ প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ফরাসি পুলিশ অন্তত ৬ জনকে আটক করেছে।

শুক্রবার (১৫ মে) স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে পরিবেশবাদী ও সামাজিক আন্দোলন সংগঠন “Extinction Rebellion France”-এর সদস্যরা আইফেল টাওয়ারের প্রথম তলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে প্রবেশ করেন এবং সেখানে একটি বড় ফিলিস্তিনি পতাকা ঝুলিয়ে দেন।

ঘটনার সময় টাওয়ার এলাকায় পর্যটক চলাচল সাময়িকভাবে সীমিত করা হয়। পরে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালিয়ে সংশ্লিষ্টদের আটক করে। প্রাথমিকভাবে অন্তত ছয়জনকে আটক করা হয়েছে বলে ফরাসি কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।

পুলিশ জানায়, অনুমতি ছাড়া সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অ্যাক্টিভিস্টরা এটিকে প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে উল্লেখ করেন। তারা ফিলিস্তিনে চলমান সংঘাত ও মানবিক পরিস্থিতির প্রতি আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্দেশ্যে এ কর্মসূচি পালন করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ একে রাজনৈতিক প্রতিবাদ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বিশ্বখ্যাত স্থাপনার নিরাপত্তা লঙ্ঘন হিসেবে সমালোচনা করছেন।




হবিগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বাবা-ছেলের

ডেস্ক নিউজ : হবিগঞ্জ-শায়েস্তাগঞ্জ সড়কে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে ধাক্কা লেগে প্রাণ গেল বাবা-ছেলের।

শনিবার রাত ১০টার দিকে হবিগঞ্জ-শায়েস্তাগঞ্জ বাইপাস সড়কের পোদ্দারবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন সদর উপজেলার সুলতান মাহমুদপুর গ্রামের আব্দুল কাইয়ুম (৫৫) ও তার ছেলে জাকির হোসেন (২০)।

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি জাহিদুল হক দুঘর্টনায় মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, লাশ দুটি উদ্ধার করে সদর আধুনিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শনিবার রাতে আব্দুল কাইয়ুম তার ছেলে জাকির হোসেনকে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে ধুলিয়াখালের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে পোদ্দারবাড়ি এলাকায় পৌঁছলে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বাবা-ছেলেকে মৃত ঘোষণা করেন।




ওয়েব ফিল্ম দিয়ে ঈদে পর্দায় ফিরছেন মৌ

বিনোদন ডেস্ক : আসন্ন ঈদুল আজহায় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আইস্ক্রিন-এ মুক্তি পাবে ওয়েব ফিল্ম ‘সারার সংসার’। প্রয়াত কথাসাহিত্যিক কাজী আনোয়ার হোসেনের জনপ্রিয় উপন্যাস ‘আর্তনাদ’ অবলম্বনে এটি নির্মিত হয়েছে। এই ওয়েব ফিল্মের কেন্দ্রীয় চরিত্রে থাকছেন নন্দিত মডেল, নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রী সাদিয়া ইসলাম মৌ।

সম্প্রতি ওয়েব ফিল্মটির ফার্স্ট লুক পোস্টার প্রকাশ করা হয়েছে। এই পোস্টার প্রকাশের মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সারার সংসার’-এর মুক্তির ঘোষণা দেয় কর্তৃপক্ষ। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন আকা রেজা গালিব।

আর্তনাদ উপন্যাসে সত্তরের দশকের প্রেক্ষাপট থাকলেও ‘সারার সংসার’ ওয়েব ফিল্মে সময়টি এগিয়ে আনা হয়েছে। চিত্রনাট্য লেখা হয়েছে বর্তমান সময়ের উপযোগী করে। চিত্রনাট্য লিখেছেন কাজী আনোয়ার হোসেনের পুত্রবধূ মাসুমা মায়মুর। প্রযোজনা করেছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম।

সিনেমাটির গল্পে দেখা যাবে, মৌ অভিনীত ‘সারা’ চরিত্রটি এক রাতে ঘটনাক্রমে মেয়ের গোপন প্রেমিককে হত্যা করে ফেলে।

পরে মেয়ের সম্মান রক্ষায় পুরো ঘটনা গোপন করার চেষ্টা করে সে। লাশ সরিয়ে ফেললেও পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। নিখোঁজ ব্যক্তিকে ঘিরে পুলিশ তদন্ত শুরু করলে পরিবার, অপরাধবোধ, আতঙ্ক ও রহস্যে গল্প এগিয়ে যায় টানটান উত্তেজনায়।

সিনেমাটি নিয়ে সাদিয়া ইসলাম মৌ বলেন, ‘অনেক দিন পর এমন একটি চরিত্রে কাজ করলাম, যেখানে আবেগ, ভয়, মানসিক টানাপোড়েন–সব একসঙ্গে রয়েছে। সারা চরিত্রটি খুব চ্যালেঞ্জিং ছিল। গল্পটা পড়েই মনে হয়েছে, দর্শক নতুন ধরনের কিছু দেখতে পাবেন।’

নির্মাতা আকা রেজা গালিব বলেন, ‘মূলত পারিবারিক আবহে গড়ে উঠলেও সারার সংসারে রয়েছে একটি জোরালো থ্রিলার উপাদান, যা দর্শকদের এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা দেবে। সিনেমায় কিছু প্লট ও চরিত্রের নামে পরিবর্তন আনা হয়েছে। কারণ আমরা চেয়েছি গল্পটি সময়োপযোগী করে দর্শকের সামনে উপস্থাপন করতে। পুরোটাই করা হয়েছে কাজী আনোয়ার হোসেনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে।’

মৌসহ সিনেমাটিতে আরও অভিনয় করেছেন গাজী রাকায়েত, রাশেদ মামুন অপু, নাফিস আহমেদ, নাফিসা মালিয়াত প্রমি এবং ইহতেশাম আহমেদ টিংকু।




ছাব্বিশের বিশ্বকাপই মেসি-রোনালদোর ‘লাস্ট ড্যান্স’

ক্রীড়া ডেস্ক : ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতানোর পর মনে হয়েছিল লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারের বৃত্ত বুঝি পূর্ণ হয়ে গেছে। তবে ফুটবল মাঠে টিকে থাকার তাড়না যে মেসির এখনো ফুরিয়ে যায়নি, সেটা জাতীয় দলের হয়ে তার খেলা চালিয়ে যাওয়াই প্রমাণ করে। একইভাবে ফুরিয়ে যাননি তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও।

উত্তর আমেরিকার মাটিতে এ বছরের ফুটবল বিশ্বকাপে এক নতুন ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে প্রস্তুত হচ্ছেন এই দুই কিংবদন্তি। ফুটবল বিশ্বের দুই মহাতারকার জন্য এটিই হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক মঞ্চে শেষ লড়াই বা ‘লাস্ট ড্যান্স’।

দুই দশক আগে তরুণ হিসেবে বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া মেসি ও রোনালদো এবার ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ মঞ্চে পা রাখতে যাচ্ছেন। ফুটবল মাঠ ছাড়িয়ে যারা আজ বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি তরুণের আইকন। মধ্যবয়সে পা রাখা এবং অবসরের দোড়গোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা এই দুই তারকা ফুটবল ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা আকর্ষণ।

কাতার বিশ্বকাপের পর মেসি নিজেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তার আর পাওয়ার কিছু বাকি নেই। দোহার সেই রোমাঞ্চকর ফাইনালে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারানোর পর ফুটবল মাঠের এই ক্ষুদে জাদুকর বলেছিলেন, ‘অবশ্যই আমি আমার ক্যারিয়ারটা এভাবেই শেষ করতে চেয়েছিলাম। এর চেয়ে বেশি আর কিছু চাওয়ার থাকতে পারে না। আমার ক্যারিয়ার শেষের দিকে চলে এসেছে, কারণ এগুলোই আমার শেষ বছর। এরপর আর কী-ই বা পাওয়ার থাকতে পারে?’

তবে ভাগ্য যেন তাদের জন্য আরও বড় কিছুর পরিকল্পনা করে রেখেছিল।

কাতারের সেই সাফল্যের সময় মেসি প্যারিস সেন্ট-জার্মেইতে (পিএসজি) কিছুটা কঠিন সময়ই পার করছিলেন। এর ছয় মাস পরেই তিনি পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে (এমএলএস)। ইন্টার মায়ামির হয়ে গত বছরই তিনি এমএলএস কাপের শিরোপাও জিতেছেন।

যদিও মেসি এখন আর ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে খেলছেন না, তবুও আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের জন্য তিনি এখনও অপরিহার্য।

২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত কোপা আমেরিকায় তার নেতৃত্বেই চ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা। এছাড়া দক্ষিণ আমেরিকান অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও তিনি ছিলেন শীর্ষ গোলদাতা। সম্প্রতি মেসি পুনরায় জানিয়েছেন, ‘আমি ফুটবল খেলতে ভালোবাসি এবং যতদিন পারব, ততদিন খেলে যাব।’

২০০ ম্যাচের মাইলফলক ও ক্লোসার রেকর্ডের হাতছানি 

২০০৬ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে সার্বিয়া ও মন্টিনিগ্রোর বিপক্ষে ৬-০ গোলে জয়ের ম্যাচে গোল করে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করেছিলেন মেসি।

যদিও দীর্ঘ সময় পর আবারও তার বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে মাঝে কিছুটা সংশয় তৈরি হয়েছিল, তবে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, ‘সে যেন বিশ্বকাপে থাকে, তার জন্য আমি সবকিছু করব।’

বর্তমানে মেসি আন্তর্জাতিক ফুটবলে ২০০ ম্যাচের মাইলফলক ছোঁয়া থেকে মাত্র দুটি ম্যাচ দূরে আছেন। পাশাপাশি ২০১৪ সালের রানার্সআপ হওয়াসহ বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত রেকর্ড ২৬টি ম্যাচ খেলার কীর্তি রয়েছে তার।

বিশ্বকাপে মেসির বর্তমান গোলসংখ্যা ১৩টি। আর্জেন্টিনার গ্রুপ পর্বের প্রতিপক্ষদের শক্তি বিবেচনা করলে মিরোস্লাভ ক্লোসার অল-টাইম রেকর্ড ১৬টি গোল ভেঙে দেওয়া তাই মেসির জন্য খুব একটা কঠিন হওয়ার কথা নয়।

গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনার প্রথম দুই প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়া। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে জর্ডানের মুখোমুখি হবে আলবিসেলেস্তেরা, যা অনুষ্ঠিত হবে মেসির ৩৯তম জন্মদিনের ঠিক তিন দিন পর।

৪১ বছর বয়সেও অনড় রোনালদো 

বয়সের দিক থেকে মেসির চেয়ে কিছুটা এগিয়ে রোনালদো। তবে ৪১ বছর বয়সি এই পর্তুগিজ মহাতারকা ক্যারিয়ারের শেষবেলায় বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর বলাই যায়।

২০০৪ সালের ইউরো ফাইনালে ঘরের মাঠে হেরে যখন গোটা পর্তুগাল অশ্রুসিক্ত, রোনালদো তখন এক কিশোর। ২০১৬ সালে সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে রোনালদোর নেতৃত্বেই পর্তুগাল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ইউরো চ্যাম্পিয়ন হয়।

তবে বিশ্বকাপের মঞ্চটি সিআরসেভেনের জন্য সবসময়ই কিছুটা কঠিন প্রমাণিত হয়েছে, বিশেষ করে ২০০৬ সালে পর্তুগাল সেমিফাইনালে ওঠার পর থেকে। এরপর থেকে পর্তুগাল বিশ্বকাপে মাত্র একটি নকআউট ম্যাচ জিততে পেরেছে। সেটাও ২০২২ বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে। সেই ম্যাচে ৬-১ গোলের জয় পায় পর্তুগাল। ওই ম্যাচে শুরুর একাদশে ছিলেন না আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলের মালিক এই পর্তুগিজ সুপারস্টার। এ নিয়ে অবশ্য তৎকালীন হেড কোচ ফার্নান্দো সান্তোসকে কম প্রশ্নবাণে জর্জরিত হতে হয়নি। পরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলে কোচের দায়িত্ব থেকেও সরে যেতে হয় তাকে।

‘অনবদ্য প্রতিশ্রুতি’ 

২০২২ বিশ্বকাপের পর রবার্তো মার্টিনেজ পর্তুগালের কোচের দায়িত্ব নিয়ে রোনালদোকে আবারও দলের প্রধান স্ট্রাইকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। ২০২৪ সালের ইউরোতে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে পর্তুগাল বিদায় নিলেও এবং রোনালদো কোনো গোল করতে না পারলেও, কোচের ভরসা এখনও তার ওপরেই। ইতোমধ্যে মার্টিনেজের অধীনে ২০২৫ সালে নেশন্স লিগের শিরোপা জিতেছে পর্তুগাল। ওই ম্যাচে দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোল করেছিলেন সিআরসেভেন।

২২৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে পুরুষ ফুটবলে সর্বকালের সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডটি বর্তমানে রোনালদোর দখলে। রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই সাবেক সুপারস্টার বর্তমানে আল নাসরের হয়ে সৌদি প্রো লিগের শিরোপা জয়ের একদম দ্বারপ্রান্তে।

সম্প্রতি রোনালদো নিশ্চিত করেছেন যে, এটিই তার শেষ বিশ্বকাপ। তিনি বলেন, ‘আমার বয়স ৪১ বছর হতে চলেছে এবং আমি মনে করি এটাই বিদায়ের সঠিক সময়।’

তিন দেশের আয়োজিত বিশ্বকাপে কলম্বিয়া, উজবেকিস্তান ও ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে লড়বে পর্তুগাল। দলে রোনালদোর উপস্থিতি নিয়ে পর্তুগালের প্রতিভাবান তরুণ স্কোয়াডে কিছু বিতর্কের গুঞ্জন শোনা গেলেও, তাদেরকে এবার বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। গোলস্কোরার হিসেবেও ‘বুড়ো’ রোনালদোর এখনো বিকল্প খুঁজে পায়নি তারা।

আর ব্যক্তিগতভাবে রোনালদো বিশ্বকাপে তার বর্তমান ৮টি গোলের খাতা আরও বড় করতে এবং নকআউট পর্বে নিজের প্রথম গোলটি পেতেও যে মরিয়া হয়ে থাকবেন তা নিশ্চিত করেই বলা যায়।

পর্তুগিজ গণমাধ্যম আরটিপি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রোনালদোকে প্রশংসায় ভাসিয়ে পর্তুগাল কোচ মার্টিনেজ বলেছিলেন, ‘সে কেবল একজন ফুটবলারই নয়, জাতীয় দলের জন্য সে তার চেয়েও বেশি কিছু। সে দলের অধিনায়ক এবং দেশের প্রতি তার প্রতিশ্রুতি অনবদ্য। সে সত্যিই অবিশ্বাস্য।’

ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য সবকিছুই জেতা হয়েছে ফুটবলের এই জীবন্ত কিংবদন্তির। বিশ্বকাপের শিরোপাই এখন কেবল বাকি আছে। তাই এই ৪১ বছর বয়সে বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরা রোনালদোর জন্য হবে রূপকথার মতো এক সমাপ্তি।

আর ফুটবলপ্রেমীদের জন্য সবচেয়ে বড় রোমাঞ্চের বিষয় হলো—আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল যদি নিজ নিজ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হতে পারে, তবে আগামী ১১ জুলাই কানসাস সিটিতে কোয়ার্টার ফাইনালেই মুখোমুখি হতে পারেন লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ফুটবল ভক্তরাও যে বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে সবচেয়ে প্রতীক্ষিত মহারণ দেখার অপেক্ষাতেই দিন গুণছেন সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।