বিছানাকান্দিতে নিখোঁজ শাবি শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ : সিলেটের বিছানাকান্দি পর্যটন এলাকায় ঘুরতে গিয়ে গোসলে নেমে নিখোঁজ হওয়া এক শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সীমান্তবর্তী বিছানাকান্দি পর্যটন এলাকার জিরো পয়েন্ট থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত শান্ত চন্দ্র বণিক ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার কীর্তিশ চন্দ্র বণিকের ছেলে। তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন গোয়াইনঘাট থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান।

এর আগে শুক্রবার বিকাল ৫টার দিকে বিছানাকান্দির জিরো পয়েন্ট এলাকায় পানিতে নেমে স্রোতের টানে তলিয়ে গিয়ে তিনি নিখোঁজ হন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শান্তসহ শাবিপ্রবির ১১ জন শিক্ষার্থী বিছানাকান্দিতে ঘুরতে আসেন। বিকালের দিকে তাদের মধ্যে পাঁচজন মিলে জিরো পয়েন্টে গোসলে নামেন। একপর্যায়ে স্রোতের টানে শান্তসহ তিনজন পানিতে তলিয়ে যান। স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পেয়ে নৌকা নিয়ে দুজনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও নিখোঁজ শান্তকে উদ্ধার করতে পারেননি।

খবর পেয়ে স্থানীয় টুরিস্ট পুলিশ, গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় ডুবুরিরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা চালায়। পরে ঘটনার প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।




সালমান শাহ হত্যা মামলার প্রতিবেদন দাখিল ফের পেছাল

বিনোদন ডেস্ক : ঢালিউডের ক্ষণজন্মা অভিনেতা সালমান শাহকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে তার স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৩ জুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল না করায় বিচারক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এ দিন ধার্য করেন।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর মৃত্যুর পর রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়। তবে গত বছরের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদী পক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এরপর ২১ অক্টোবর সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন। ১১ আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর অভিযোগ করেছেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন— সালমান ঘুমাচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর প্রোডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। তখন দ্রুত তারা বাসায় ফিরে দেখেন যে, সালমান শয়নকক্ষে নিথর পড়ে আছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সারিরার আত্মীয় রুবি বসে ছিলেন।

তিনি বলেন, সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান। তারা সালমান শাহকে প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান— সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন। সালমানের বাবার মৃত্যুর পর তিনি তার বোনের পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করছেন।

মোহাম্মদ আলমগীর এজাহারে আরও উল্লেখ করেন, সালমানের বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী তার মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এতে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান।

মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে থাকলে, প্রমাণ সাপেক্ষে তারা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন। এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজশে সালমান শাহকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন— সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হক, চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলঅভিনেতা ডন, লতিফা হক লুছি, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাত আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।




‘খেলোয়াড়রা ভালো থাকলে দেশ ভালো থাকবে’

ক্রীড়া ডেস্ক : কেউ যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর হাত কাধে নিয়ে ছবি তুললেন। কেউ আবার তার বুকে মাথা রেখে স্নেহ খুঁজে পেলেন। ক্রীড়াঙ্গনের প্রতিমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে যেন নিজেদের নতুনভাবে খুঁজে পেলেন শারীরিক প্রতিবন্ধীরা।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও ন্যাশনাল প্যারালিম্পিক কমিটি অব বাংলাদেশের আয়োজনে এমন ক্রীড়াবিদদের মেলায় এসে স্বইচ্ছায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ঘোষণা দিলেন, ‘খেলোয়াড়রা ভালো থাকলে দেশ ভাল থাকবে।’

শুক্রবার গুলশান ইয়ুথ ক্লাবে প্রথম প্যারা স্পোর্টস কার্নিভালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমিনুল হক ঘোষণা দিলেন, ‘এশিয়ান প্যারা গেমসের মতো বড় মঞ্চে অংশগ্রহণের জন্য খেলোয়াড়দের যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন, তার আবেদন পাওয়ামাত্রই তা পরিপূর্ণভাবে প্রদান করা হবে।’

সারা দেশের প্রায় পাঁচ শতাধিক প্যারা অ্যাথলেট ও ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড ক্রিকেটার দেড় মাসব্যাপী এই ক্রীড়া উৎসবে অংশ নিয়েছেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মাহবুব-উল-আলম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ প্যারা গেমসের আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান, এনপিসি বাংলাদেশের সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম এবং মহাসচিব ড. মারুফ আহমেদ মৃদুল।

এই গেমসের মূল লক্ষ্য হলো জাপানের আইচি নাগোয়াতে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান প্যারা গেমসসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য সেরা খেলোয়াড় নির্বাচন করা এবং নিবিড় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা।




চামড়া শিল্পকে বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি খাত হিসেবে গড়ে তোলা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ : চামড়া শিল্পকে দেশের অন্যতম প্রধান বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয়কারী খাত হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

শুক্রবার দুপুরে সিলেট নগরীর রিকাবীবাজারের জিমনেসিয়াম হলে আয়োজিত বিভাগীয় পর্যায়ের ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ২০২৬-এর উদ্বোধনী মেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বাংলাদেশের চামড়া খাতের বিদ্যমান দুর্বলতাগুলো ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এই শিল্পের উন্নয়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে একাধিকবার ফলপ্রসূ আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে এ খাতটি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের শক্তিশালী অবস্থানের জানান দেবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সরকারের সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র আড়াই মাস এবং এ স্বল্প সময়ের মধ্যে বড় কোনো আমূল পরিবর্তন সম্ভব না হলেও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের কাজ পুরোদমে চলছে। তিনি চামড়া শিল্পের উন্নয়নে জনসাধারণের কাছে কিছুটা সময় প্রার্থনা করেন এবং পর্যায়ক্রমে এ খাতের উন্নতির প্রতিফলন দৃশ্যমান হবে বলে আশ্বস্ত করেন।

শিল্প রক্ষায় জনসচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, চামড়া দেশের একটি অমূল্য সম্পদ এবং এটি যেন কোনোভাবেই অপচয় বা নষ্ট না হয় সেদিকে আমাদের সবার সজাগ দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন। সম্পদ সংরক্ষণে প্রত্যেকের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সম্পদের সীমাবদ্ধতার মাঝে কোনো ধরনের অপচয় কাম্য নয়।

বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা পুনরায় চালু করার বিষয়েও অনুষ্ঠানে আশার বাণী শোনানো হয়। জানানো হয়, দেশের শিল্প খাতে বিশেষ করে বন্ধ কলকারখানাগুলোতে বিনিয়োগের ব্যাপারে চীন সরকার ও বিনিয়োগকারীরা গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বর্তমান সরকার এই শিল্পগুলোকে একটি সুশৃঙ্খল পর্যায়ে নিয়ে আসার কাজ করছে এবং খুব শীঘ্রই কাজের অগ্রগতি সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে। কলকারখানাগুলো পুনরায় সচল করার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতির সঞ্চার হবে বলে অনুষ্ঠানে উল্লেখ করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্পগুলো স্বচক্ষে পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের সৃজনশীল চিন্তাধারা ও নতুন নতুন উদ্ভাবন নিয়ে আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসারে এ ধরনের আয়োজন তরুণ প্রজন্মকে আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ করে তুলবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিক, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএম সরওয়ারউদ্দীন চৌধুরী ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আলিমুল ইসলামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

মেলায় আগত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এই আয়োজনকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা প্রদর্শন করেন।




ভারতের উত্তর প্রদেশে বজ্রপাত ও ভারী বর্ষণে নিহত ১১১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের উত্তর প্রদেশে প্রবল শিলাবৃষ্টি, ভারী বর্ষণ ও বজ্রপাতে অন্তত ১১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৭২ জন। রাজ্যের ২৫টি জেলায় গতকাল বুধবার থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে হতাহতের এসব ঘটনা ঘটে।

উত্তর প্রদেশের ত্রাণ কমিশনার ঋষিকেশ ভাস্কর যশোদের কার্যালয় জানিয়েছে, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে প্রয়াগরাজে। সেখানে মারা গেছেন ২১ জন।

এ ছাড়া মির্জাপুরে ১৯ জন, সন্ত রবিদাসনগরে ১৬ জন এবং ফতেহপুরে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ১৭০টি গবাদিপশুর মৃত্যু এবং ২২৭টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ত্রাণ কমিশনার জানান, ইন্টিগ্রেটেড কন্ট্রোল অ্যান্ড কমান্ড সেন্টারের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলার পরিস্থিতি নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

৫০ ফুট ওপরে উঠে যান এক ব্যক্তি

উত্তর প্রদেশের বেরেলি জেলার ভামোরা এলাকায় একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। জেলার বাবিয়ানা গ্রামের নানহে আনসারি নামের এক বাসিন্দা বাতাসের তোড়ে একটি টিনের চালের সঙ্গে প্রায় ৫০ ফুট ওপরে উঠে যান বলে জানা গেছে। পরে তিনি একটি ভুট্টাখেতে আছড়ে পড়ে গুরুতর আহত হন। আনসারির শূন্যে উড়ে যাওয়ার সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

ঝড়, বৃষ্টি ও বজ্রপাতে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে কর্মকর্তাদের দ্রুত ত্রাণতৎপরতা শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন।

জেলা প্রশাসকদের (ডিএম) নিজ নিজ জেলায় উদ্ধার অভিযান ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টিতে হতাহত ব্যক্তিদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

রাজ্য সরকারের একজন মুখপাত্র জানান, কর্মকর্তাদের দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন, দুর্গত ব্যক্তিদের সহায়তা এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন যোগী আদিত্যনাথ।




এ দেশে কেউ সংখ্যালঘু নয়, সবাই বাংলাদেশের নাগরিক: ডেপুটি স্পিকার

ডেস্ক নিউজ : জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, বাংলাদেশে কোনো ধরনের ধর্মীয় বৈষম্য হতে দেওয়া হবে না। এখানে কেউ সংখ্যালঘু নয়, সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। রাষ্ট্রের সম্পদের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার বড়খাপন ইউনিয়নের কেশবপুর এলাকায় এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, আমি নির্বাচনের আগেই বলেছিলাম—এক মানবের দুই হাত, এক হাত হিন্দু আর এক হাত মুসলমান। উন্নয়নমূলক টিআর, কাবিখা বা অন্যান্য বরাদ্দ যাই আসুক না কেন, আমি মসজিদ, মন্দির ও গির্জাসহ সবাইকে সমানভাবে ভাগ করে দিই। বাংলাদেশে কোনো ধরনের ধর্মীয় বৈষম্য হতে দেওয়া হবে না।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি সহায়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, যারা প্রকৃতপক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের আগামী তিন মাস সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

কায়সার কামাল আরও বলেন, সরকারি অনুদান নিতে কাউকে কোনো ধরনের ঘুস দিতে হবে না। অতীতে বিভিন্ন সরকারি অনুদান নিয়ে অনেক দুর্নীতি হয়েছে। আমি নির্বাচনের আগেই বলেছিলাম, সরকারি অনুদান নিয়ে আমি নিজে দুর্নীতি করব না এবং কাউকে দুর্নীতি করতেও দেব না।

সুমেশ্বরী নদী শাসন প্রসঙ্গে ডেপুটি স্পিকার বলেন, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইতোমধ্যে সার্ভে সম্পন্ন হয়েছে এবং একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে নদী ও হাওড় এলাকার দুর্ভোগ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, গত ১৫-১৬ বছর এ ধরনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে দুর্ভোগ দিনদিন বেড়েছে। এখন যে পরিকল্পনাগুলো হাতে নেওয়া হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে বলে আমরা আশা করছি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি স্পিকারের একান্ত সচিব সাইফুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান ভূঁইয়া, বড়খাপন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম এবং কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাসেমসহ স্থানীয়রা।




কান উৎসবে নেই ঐশ্বরিয়া, কিন্তু কেন?

বিনোদন ডেস্ক : শুরু হয়েছে কান চলচ্চিত্র উৎসব। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বিশ্বের জনপ্রিয় তারকারা হাজির হয়েছেন এ আসরে। তারকাদের পোশাক আর লুক নিয়ে চলে সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

দীর্ঘ দিন ধরে বলিউডের অন্যতম অভিনেত্রী সাবেক বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের কানে উপস্থিতি নিয়ে চমক থাকছে। তবে কান ২০২৬ সালের আগে লরিয়াল প্যারিসের নতুন প্রোমোতে ঐশ্বর্য রাই বচ্চনের অনুপস্থিতি নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। এবারের কান উৎসবের পোস্টারেও দেখা যায়নি অভিনেত্রীকে।

যদিও এর আগে ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন ২০০২ সাল থেকে কান চলচ্চিত্র উৎসবে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন এবং ২০০৩ সাল থেকে লরিয়ালের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে যুক্ত আছেন। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তার উপস্থিতি কান রেড কার্পেটে গ্ল্যামার ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন সাবেক এ বিশ্বসুন্দরী। এবার দেখার পালা ঐশ্বরিয়া কানে হাজির হন কিনা।

ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ও লরিয়ালের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়েও এবারের চলচ্চিত্র উৎসবে ঐশ্বরিয়াকে না দেখায় হতাশা প্রকাশ করেছেন তার ভক্ত-অনুরাগীরা। ফ্রান্সের কান শহরে চলমান কান চলচ্চিত্র উৎসবের একটি প্রচারণামূলক আয়োজনে ছয় লরিয়াল প্যারিসের অ্যাম্বাসাডরের ছবি দেখা যায়। সেখানে বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাটসহ অন্যান্য তারকা থাকলেও অনুপস্থিত ছিলেন সাবেক বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন।

এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। এক নেটিজেন লিখেছেন— ঐশ্বরিয়া না থাকলে লরিয়ালকে কল্পনাও করা যায় না। আরেক নেটিজেন লিখেছেন—তিনি ছিলেন পুরো এশিয়ার জন্য ব্র্যান্ডটির মুখ।

বিষয়টি ভাইরাল হওয়ার পর ব্র্যান্ডটির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম পোস্টের কমেন্টে সরাসরি প্রশ্ন করেন অনেকেই। শেষ পর্যন্ত মুখ খোলে লরিয়াল প্যারিস। তারা জানিয়েছে, ঐশ্বরিয়া একজন জীবন্ত কিংবদন্তি এবং তিনি জানেন কীভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে হয়। প্রতি বছরই কানে তিনি থাকেন এটাই নিয়ম।




বাংলাদেশের ফিল্ডিংকে বিশ্বের তিন নম্বর বললেন ফিল্ডিং কোচ

ক্রীড়া ডেস্ক : একসময় ফিল্ডিংয়ে বেশ দুর্বল অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তবে গত কয়েক বছরে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে বলে মনে করেন ফিল্ডিং কোচ আশিক মজুমদার। এখনো কিছু জায়গায় ঘাটতি থাকলেও, তার বিশ্বাস—বিশ্ব ক্রিকেটে ফিল্ডিংয়ের দিক থেকে বাংলাদেশ শীর্ষ তিন দলের মধ্যেই আছে।

সিলেটে দ্বিতীয় টেস্টের আগে সংবাদ সম্মেলনে আশিক বলেন, স্লিপ ক্যাচিংয়ে বাংলাদেশ দলের উন্নতি চোখে পড়ার মতো। টেস্ট ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও খেলোয়াড়রা সেই জায়গায় ভালোভাবে ফিরে এসেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, প্রথম ও দ্বিতীয় ইনিংসে স্লিপ ক্যাচিং ছিল বেশ সন্তোষজনক।

ফিল্ডারদের প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, দলের খেলোয়াড়দের পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা বেশ ভালো। বিভিন্ন পরিবেশে তারা দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারে এবং নিজেদের প্রস্তুতিও তারা খুব ভালোভাবে নেয়। ঢাকা টেস্টে সাদমান ইসলামের নেওয়া একটি কঠিন ক্যাচের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেটি খুব কাছ থেকে নেওয়া সহজ ছিল না, বিশেষ করে যখন ব্যাটসম্যান কাট শট খেলেছিল।

সাদমান সম্পর্কে কোচ আশিক বলেন, তার মানসিক শক্তি ও মনোযোগ অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের। পুরো দলের মধ্যেই এমন মানসিকতা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে দলের ফিল্ডিং এনার্জি আরও বেড়ে গিয়েছিল, যা তাকে মুগ্ধ করেছে বলেও জানান তিনি।

ফিল্ডিং উন্নয়ন নিয়ে আশাবাদী আশিক বলেন, প্রতিদিনই শেখার সুযোগ আছে এবং উন্নতির কোনো শেষ নেই। খেলোয়াড়দের ফিল্ডিংয়ের প্রতি নিবেদন ও আগ্রহ যদি আরও সামান্য বাড়ানো যায়, তাহলে পারফরম্যান্স আরও উন্নত হবে। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা শারীরিকভাবে ফিট ও অ্যাথলেটিক, যা ভবিষ্যতে আরও ভালো ফিল্ডিংয়ের ভিত্তি তৈরি করছে।

সবশেষে আশিক মজুমদার নিজের বিশ্বাসের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিল্ডিংয়ের মানদণ্ডে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের শীর্ষ তিন দলের একটি। এই ধারা অব্যাহত থাকলে সামনের সিরিজগুলোতেও ভালো ফলাফল আশা করা যাবে।




ঢাকার যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভা

ডেস্ক নিউজ : রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক এবং কার্যকর করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌ-পরিবহণ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রবি, রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন ও এমপি অ্যাডভোকেট শিমুল বিশ্বাস এই সভায় উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের থেকে জানানো হয়, ঢাকার যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে এটি দ্বিতীয় সভা।

সভায় নগরীর সড়ক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, গণপরিবহণ ব্যবস্থার সমন্বয়, ট্রাফিক সিগন্যাল আধুনিকায়ন এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয় বলেও জানা গেছে।




দুয়ারীপাড়ার ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে নতুন বিতর্ক, আদালতের নির্দেশ উপেক্ষার অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ রাজধানীর মিরপুরের দুয়ারীপাড়া, মরুল ও বাউনিয়া মৌজার কয়েকটি জমি ঘিরে আবারও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আইন উদ্দিন হায়দার ও ফয়জুন্নেছা ওয়াকফা এস্টেটের প্রতিনিধিরা সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেছেন, আদালতের স্পষ্ট স্থিতাবস্থা আদেশ থাকার পরও প্রভাবশালী একটি চক্র ওই সম্পত্তিতে দখল, নির্মাণ ও বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের দাবি, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কিছু অসাধু কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সহযোগিতায় এসব কর্মকাণ্ড হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আমজাদ হোসেন মোল্লা ও মোবারক হোসেন মেম্বার বলেন, ওয়াকফা এস্টেটের অফিসিয়াল মোতায়ওয়ালি আব্দুল কালাম আনসারী (জামাল) দীর্ঘদিন ধরে জমির মালিকানা ও সংরক্ষণ নিয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল নং-১৫২১/২০২১ দায়ের করা হয়। মামলায় ভূমি মন্ত্রণালয়, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষসহ কয়েকটি পক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ বিতর্কিত জমির ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। সেই আদেশ এখনও কার্যকর রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, আদালতের নির্দেশ থাকার পরও সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ওই জমিতে মাটি ভরাট, ঘরবাড়ি নির্মাণ, বিল্ডিং তৈরির প্রস্তুতি এবং বিভিন্ন অবকাঠামোগত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ওয়াকফা এস্টেটের পক্ষ থেকে বলা হয়, এতে আদালতের আদেশ সরাসরি অমান্য করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, ওয়াকফ সম্পত্তির খালি জায়গাগুলো ধীরে ধীরে দখল করে সেখানে অবৈধভাবে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রাজউকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় যে, বিতর্কিত ভূমিতে ভবন নির্মাণের অনুমোদন ও ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে। তাদের দাবি, যেসব জমি নিয়ে মামলা বিচারাধীন এবং যেখানে আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশ রয়েছে, সেখানে এ ধরনের অনুমোদন দেওয়া আইন ও আদালতের নির্দেশনার পরিপন্থী।

ওয়াকফা এস্টেটের প্রতিনিধিরা জানান, আদালতের নির্দেশ অমান্যের ঘটনায় কন্টেম্পট পিটিশন নং-৬২/২০২৪ দায়ের করা হয়েছে। মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন আগামী ২২ জুন ২০২৬ নির্ধারণ করা হয়েছে। তারা বলেন, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মিরপুর জোন হাউজিং সেকশন-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলীর নির্দেশেই এখনও ওই জমিতে বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। বিষয়টি একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তাদের দাবি, আদালতের আদেশ দ্রুত বাস্তবায়ন, অবৈধ দখল ও নির্মাণকাজ বন্ধ এবং প্রকৃত মালিকদের অধিকার রক্ষায় প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। তারা আরও বলেন, ওয়াকফ সম্পত্তি রক্ষায় আইনি লড়াই অব্যাহত থাকবে এবং আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বিতর্কিত জমিতে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখা উচিত।