পে-স্কেলের গেজেট জুলাইয়ে হচ্ছে না, চূড়ান্ত সময় নির্ধারণ

ডেস্ক নিউজঃ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল সংক্রান্ত গেজেট চলতি জুলাই মাসে প্রকাশ হচ্ছে না। যদিও অর্থমন্ত্রীর বাজেট ঘোষণা অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন এই কাঠামো বাস্তবায়ন হওয়ার কথা ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও সফটওয়্যার সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি বা শেষ সপ্তাহের মধ্যে এই গেজেট জারি হতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সরকার আর্থিক সক্ষমতা, প্রশাসনিক বাস্তবতা এবং ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধান করেই গেজেট জারি করতে চাইছে। এ কারণে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কিছুটা দেরি হচ্ছে। তবে গেজেট প্রকাশ যখনই হোক না কেন, নতুন বেতন কাঠামোর কার্যকারিতা ১ জুলাই থেকেই ধরা হতে পারে বলে জানা গেছে। ফলে চাকরিজীবীরা বকেয়াসহ বর্ধিত বেতনের সুবিধা পাবেন।

গেজেট প্রকাশে দেরি হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবী এবং অবসরপ্রাপ্তদের মধ্যে ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নতুন বেতন কত হবে, কোন ধাপে বেতন বৃদ্ধি কার্যকর হবে, ভাতা কবে যুক্ত হবে এবং অবসরপ্রাপ্তরা কী সুবিধা পাবেন—এসব বিষয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। এর আগে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ধাপে ধাপে এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

গেজেট প্রকাশে বিলম্বের পেছনে বড় কারণ হিসেবে সামনে এসেছে সফটওয়্যার সংক্রান্ত জটিলতা। ২০১৫ সালের অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের সময় বেশিরভাগ কাজ ম্যানুয়ালি করা হলেও এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। বর্তমানে চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা, ইনক্রিমেন্ট, পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও জিপিএফসহ সব আর্থিক কার্যক্রম ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) এবং আইবাস সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে ধাপে ধাপে মূল বেতন কার্যকর করতে গেলে সফটওয়্যারে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হবে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক বলেন, ‘আগের মতো হাতে বেতন নির্ধারণের সুযোগ এখন আর নেই। যদি একাধিক ধাপে মূল বেতন কার্যকর করা হয়, তাহলে একই কর্মচারীর জন্য বারবার পে-ফিক্সেশন করতে হবে। এতে সফটওয়্যার পরিবর্তন, প্রশাসনিক জটিলতা এবং ভুল হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে।’ এ ছাড়া পদোন্নতি, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড ও অবসরজনিত সুবিধা নির্ধারণেও জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

তবে এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে পড়েছেন অবসরের দ্বারপ্রান্তে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। যেহেতু তাদের পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও ছুটির নগদায়নসহ অধিকাংশ আর্থিক সুবিধা শেষ প্রাপ্ত মূল বেতনের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়, তাই দুই বা তিন ধাপে অবসরকালীন সুবিধা সমন্বয়ের সুযোগ ডিজিটাল ব্যবস্থায় নেই। এ কারণে তারা ভবিষ্যৎ প্রাপ্যতা নিয়ে আশঙ্কার মধ্যে রয়েছেন।

এমন পরিস্থিতিতে আব্দুল মালেক প্রস্তাব দিয়েছেন, প্রথম ধাপেই শতভাগ মূল বেতন কার্যকর করে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করা হোক। এরপর বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা পর্যায়ক্রমে যুক্ত করা যেতে পারে। এতে সফটওয়্যার পরিবর্তনের চাপ কমবে এবং অবসরপ্রাপ্তদের সঙ্গে কোনো ধরনের বৈষম্য তৈরি হবে না।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি বর্তমানে নতুন বেতন কাঠামোর আর্থিক প্রভাব, সফটওয়্যার সামঞ্জস্য এবং প্রশাসনিক দিকগুলো পর্যালোচনা করছে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির এই উদ্যোগ যথেষ্ট সময়োপযোগী। তবে বেতন বৃদ্ধির ফলে বাজারে মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলায় সরকারকে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এ জন্য বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি নিত্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।




জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং পারস্পরিক অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয়ের মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় উদযাপিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস। শনিবার (৪ জুলাই) ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ মিউজিক্যাল পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক আস্থা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন বিশিষ্টজনেরা।

অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিখ্যাত মার্কিন স্থপতি লুই কান যেমন বাংলাদেশের সংসদ ভবনের নকশা করে ইতিহাস গড়েছেন, ঠিক তেমনি বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রকৌশলী ফজলুর রহমান খান যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপত্যশিল্পে অনন্য অবদান রেখেছেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন কিংবদন্তি শিল্পী জর্জ হ্যারিসনের ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’-এর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, রোববারের এই সংগীতায়োজন মূলত সেই একই মানবিক ও সাংস্কৃতিক চেতনারই ধারাবাহিকতা। আগামী দিনে বাণিজ্য, জলবায়ু পরিবর্তন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সন্ত্রাসবাদ দমন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং শিক্ষা ও প্রযুক্তিসহ নানা খাতে দুই দেশের কাজ করার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যে ১৭৭৬ সালের ৪ জুলাইয়ের ঐতিহাসিক ঘোষণার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, আমেরিকার প্রতিষ্ঠাতারা ঘোষণা করেছিলেন ‘সব মানুষ সমান’। তিনি জানান, ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির আলোকেই বিশ্বব্যাপী অংশীদারিত্ব জোরদার করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ওপর জোর দিয়ে তিনি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে টেকসই নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক শান্তি রক্ষাকে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু হিসেবে আখ্যায়িত করেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর মানবিক সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক সহায়তার প্রশংসা করে তিনি বলেন, পারস্পরিক স্বার্থ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র রক্ষার ভিত্তিতে দুই দেশের এই সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে।

অন্যদিকে, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেন, সংসদ ভবনের মতো আইকনিক স্থাপনার সামনে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের এই আয়োজন দুই দেশের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বন্ধুত্ব ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের একটি বড় প্রতীক। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে উভয় দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।

জমকালো এই আয়োজনে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, ককাস সদস্য, সংসদ সদস্য, মার্কিন ও বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে স্মারক ডাক টিকেট উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজঃ “উন্নত পল্লী সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস- ২০২৬ উপলক্ষে স্মারক ডাক টিকেট উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ রবিবার সকাল ৯ টা ৩০ মিনিটে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই স্মারক ডাক টিকেটের উদ্বোধন করা হয়। ১০ টাকা মূল্যমানের স্মারক ডাক টিকেটের সঙ্গে একটি উদ্বোধনী খাম ও পাঁচ টাকা মূল্যমানের একটি ডাটাকার্ডও প্রকাশ করা হয়।

এ সময়, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

৬ জুলাই ‘জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস’ উপলক্ষে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ প্রতি বছর বিশেষ স্মারক ডাক টিকেট, উদ্বোধনী খাম ও ডাটাকার্ড প্রকাশ করে থাকে। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি ও পল্লী উন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতি প্রদান এবং দিবসটির তাৎপর্য জনসমক্ষে তুলে ধরা।




সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ

ডেস্ক নিউজঃ সরকারি কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে তৈরি করা ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ডসহ সব ধরনের প্রচারসামগ্রীতে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে সরকার। পাশাপাশি এসব প্রচারসামগ্রীতে অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু, উদ্দেশ্য ও জনসচেতনতামূলক বার্তাকে প্রাধান্য দিয়ে স্পষ্টভাবে উপস্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (৫ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক পরিপত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

পরিপত্রে বলা হয়, সরকারি কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রস্তুত করা ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি (থ্রিডি বা অন্য কোনো আঙ্গিকে) ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হলো।

এতে আরও বলা হয়, সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড প্রস্তুতের ক্ষেত্রে অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তুকে প্রাধান্য দিয়ে প্রয়োজনীয় ও সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করতে হবে। ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডের নকশা এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য, বার্তা ও বিষয়বস্তু সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।

বিষয়টি অতীব গুরুত্বপূর্ণ এবং অনতিবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও পরিপত্রে জানানো হয়েছে।




সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে চতুর্মাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর: রাষ্ট্রপতি

ডেস্ক নিউজঃ সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক চতুর্মাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

তিনি বলেছেন, ‘সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক চতুর্মাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল নির্ধারণে সবার আগে বাংলাদেশ নীতি ধারণ করা হচ্ছে। এই নীতির মধ্য দিয়েই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আধুনিক ও শক্তিশালী হবে।’

রোববার (৫ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল নির্ধারণে সবার আগে ‘বাংলাদেশ নীতি’ ধারণ করা হচ্ছে এবং এর মধ্য দিয়েই দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আধুনিক ও শক্তিশালী হবে।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সেনাবাহিনীর সুনাম আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুবিদিত। প্রেসিডেন্ট রেজিমেন্ট গার্ডও তার অবিচ্ছেদ্য অংশ।’

তিনি বলেন, ‘প্রচলিত নিরাপত্তা ঝুঁকির পাশাপাশি এখন সাইবার হামলা, এআইয়ের অপব্যবহার এবং বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা হুমকির চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। এসব মোকাবিলায় প্রযুক্তি সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কার্যকর কৌশলের বিকল্প নেই।’




দুপুরের মধ্যে দেশের ৯ অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা জারি

আবহাওয়া ডেস্কঃ দেশের কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে দুপুরের মধ্যে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একইসঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি। 

রোববার (৫ জুলাই) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এমতাবস্থায় সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে নির্দেশ দিয়েছে সংস্থাটি।




আমির খান-গৌরীর আজ বিয়ে, থাকছে না জাঁকজমক

বিনোদন ডেস্কঃ বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খান আজ জীবনের তৃতীয় ইনিংস শুরু করতে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সঙ্গী গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করছেন তিনি।

তবে আলোঝলমলে তারকাদের ভিড় নয়, বরং পরিবারের মানুষ, কাছের বন্ধু আর শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভালোবাসা নিয়েই শুরু হচ্ছে অভিনেতার জীবনের নতুন অধ্যায়।

বলিউডের তারকাখচিত জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন নয়, বরং পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের নিয়ে একেবারেই ব্যক্তিগত পরিসরে নতুন জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই তারকা জুটি।

ভারতীয় একাধিক গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, রোববার (৫ জুলাই) মুম্বাইয়ে আমির খানের নিজ বাসভবনেই অনুষ্ঠিত হবে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। উপস্থিত থাকবেন মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ জন অতিথি। তাদের মধ্যে দুই পরিবারের সদস্য, ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং চলচ্চিত্র অঙ্গনের অল্প কয়েকজন সহকর্মী থাকবেন।

অতিথির তালিকা থেকে শুরু করে বিয়ের মধ্যাহ্নভোজের মেনু—সবকিছুই নিজেরা ঠিক করেছেন আমির ও গৌরী। এমনকি অতিথিদের জন্য পরিবেশিত খাবারের প্রস্তুতিও তারা নিজেরা তদারকি করেছেন।

একটি সূত্রের ভাষ্য, ‘এটি কোনো তারকাসুলভ জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন নয়। আমির ও গৌরী চেয়েছেন, দিনটি যেন শুধুই পরিবারের মানুষ ও সবচেয়ে কাছের বন্ধুদের সঙ্গে কাটে।’

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার পর অতিথিদের জন্য থাকবে বিশেষ মধ্যাহ্নভোজ। সূত্রের দাবি, মেনু তৈরিতে দুজনের ব্যক্তিগত পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আমির ও গৌরী দুজনই তাদের প্রিয় খাবারগুলো রাখতে বলেছেন। অনুষ্ঠানটি যতটা সম্ভব আন্তরিক ও পারিবারিক আবহে আয়োজনের চেষ্টা করা হয়েছে।

বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন আমির খানের তিন সন্তান—জুনায়েদ খান, ইরা খান ও আজাদ রাও খান। এ ছাড়া আমন্ত্রণ পেয়েছেন তার দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সহকর্মীদের কয়েকজন।

তাদের মধ্যে রয়েছেন পরিচালক আশুতোষ গোয়ারিকর ও রাজকুমার হিরানি। বলিউডের আরও কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানা গেছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ে নতুন সিরিজ ‘প্রীতম অ্যান্ড পেড্রো’র প্রচারণায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রথমবারের মতো বিয়ের খবর নিশ্চিত করেন আমির খান।

তিনি বলেন, ‘৫ জুলাই আমাদের বিয়ে। একেবারেই ছোট পরিসরে, নিজের বাড়িতেই আয়োজন করা হয়েছে। দিনটি আমাদের জন্য খুবই বিশেষ। দুই পরিবারের সদস্য ও কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু উপস্থিত থাকবেন। আমরা খুব সীমিত পরিসরে উদ্‌যাপন করতে চাই। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন, যেন আমরা সুখে থাকতে পারি এবং জীবনের নতুন পথচলা সুন্দর হয়।’

কয়েক মাস ধরেই আমির ও গৌরীর বিয়ে নিয়ে নানা গুঞ্জন ছিল। সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ ঘরোয়া আয়োজনে নতুন জীবনের পথে হাঁটছেন বলিউডের এই জনপ্রিয় অভিনেতা।

গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে আমির খানের পরিচয় প্রায় ২৫ বছরের। তবে দীর্ঘ সময় যোগাযোগ না থাকলেও কয়েক বছর আগে আবারও তাদের দেখা হয়। পুরোনো বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে ভালোবাসায় রূপ নেয়।

২০২৫ সালের মার্চে নিজের ৬০তম জন্মদিনে প্রথমবারের মতো গৌরীকে সংবাদমাধ্যমের সামনে পরিচয় করিয়ে দেন আমির। তখনই তিনি জানান, জীবনের এই পর্যায়ে এসে গৌরীর মধ্যে তিনি এমন এক ধরনের শান্তি ও স্থিরতা খুঁজে পেয়েছেন, যা আগে কখনো অনুভব করেননি।

একাধিক সাক্ষাৎকারে আমির বলেছেন, ‘আমি এমন একজন মানুষকে খুঁজছিলাম, যার সঙ্গে শান্তিতে থাকতে পারব। গৌরীর মধ্যে আমি সেই মানুষটিকেই খুঁজে পেয়েছি।’

আরেক সাক্ষাৎকারে আমির বলেন, ‘আমি খুব সৌভাগ্যবান যে গৌরী আমার জীবনে এসেছে। মনে হয়, জীবনের এই পর্যায়ে এসে আমি যেন পূর্ণতা পেয়েছি।’

বেঙ্গালুরুতে বেড়ে ওঠা গৌরী স্প্র্যাট পেশায় একজন উদ্যোক্তা ও লাইফস্টাইল–সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী। দীর্ঘদিন একটি পরিচিত স্যালন ও বিউটি চেইনের সঙ্গে কাজ করার পর বর্তমানে তিনি আমির খান প্রোডাকশনের সঙ্গেও যুক্ত আছেন। আগের সংসারে তার সাত বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।

গৌরী বরাবরই প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, তিনি এমন একজন জীবনসঙ্গী চেয়েছিলেন, যিনি ভদ্র, যত্নশীল ও মানবিক। আমিরকে তিনি কখনো সুপারস্টার হিসেবে দেখেননি, বরং একজন নির্ভরযোগ্য মানুষ ও সঙ্গী হিসেবে দেখেছেন।

এটি হবে আমির খানের তৃতীয় বিয়ে। ১৯৮৬ সালে রিনা দত্তকে বিয়ে করেন তিনি। তাদের সংসারে জন্ম নেয় দুই সন্তান—জুনায়েদ খান ও ইরা খান। ২০০২ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়।

পরে ২০০৫ সালে চলচ্চিত্র নির্মাতা কিরণ রাওকে বিয়ে করেন আমির। তাদের ছেলে আজাদ রাও খান। ২০২১ সালে বিচ্ছেদের ঘোষণা দিলেও আজও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন তারা। সন্তানের সহ-অভিভাবক হিসেবে একসঙ্গেই দায়িত্ব পালন করছেন।




আমরাও কুৎসিত ফুটবল খেলতে জানি: এমবাপ্পে

ক্রীড়া ডেস্কঃ ম্যাচ যত গড়িয়েছে, ততই বেড়েছে উত্তেজনা। একদিকে প্যারাগুয়ের দুর্ভেদ্য রক্ষণ। অন্যদিকে, ফ্রান্সের অবিরাম আক্রমণ। প্রায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট) তাপমাত্রায় খেলা ম্যাচটিতে পেনাল্টি থেকে জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে।

অধিনায়কের একমাত্র গোলেই বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে ফরাসিরা। এদিন ফ্রান্সকে শুধু প্রতিকূল আবহাওয়ার সঙ্গে নয়, মাঠে প্যারাগুয়ের আগ্রাসী ও শারীরিক ফুটবলের সঙ্গেও লড়তে হয়েছে। ম্যাচের প্রায় পুরোটা সময় প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়েরা শারীরিকভাবে আগ্রাসী ফুটবল খেলেছেন। ফাউল, ট্যাকল এবং সংঘর্ষে ফ্রান্সের খেলোয়াড়দের বিরক্ত করে গেছেন লাগাতার। ম্যাচ শেষে এ নিয়ে স্পষ্টতই অসন্তোষ জানিয়েছেন এমবাপ্পে।

তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে তার দলও ‘ডার্টি ফুটবল’ খেলতে জানে। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে যে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে, সেটি আগে থেকেই জানা ছিল ফ্রান্সের। খেলা শেষে এমনটাই জানিয়ে এমবাপ্পে বলেন, ‘আমরা জানতাম, কী ধরনের ম্যাচ অপেক্ষা করছে। আমার মনে হয়, আজ আমরা সেটি খুব ভালোভাবেই সামলেছি।’

প্রতিপক্ষের কৌশল নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে এমবাপ্পে বলেন, ‘ওরা ভেবেছিল আমরা বুঝি টাক্সেডো (আভিজাত্যপূর্ণ ও ভদ্র ফুটবল খেলা অর্থে) পরে মাঠে নামব এবং শুধু চোখধাঁধানো কিছু কৌশল দেখাব। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। প্রয়োজন হলে আমরাও কুৎসিত ফুটবল খেলতে জানি। আজ সেটাই করেছি।’

ম্যাচে মোট চারটি হলুদ কার্ড দেখিয়েছেন উজবেক রেফারি ইলগিজ তানতাশেভ। এর মধ্যে তিনটিই দেখেছে ফ্রান্স।




রাতে ঝড় হতে পারে যেসব জেলায়

ডেস্ক নিউজ : দেশের বেশ কয়েকটি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আজ শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে দিবাগত রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর সমূহের জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হামিদ মিয়া জানান, রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা, কুষ্টিয়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলসমূহের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়োহাওয়াসহ অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে এক নম্বর সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।




মালিজুড়ে নতুন করে সমন্বিত বিদ্রোহী হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আল-কায়েদা-সংশ্লিষ্ট শসস্ত্রগোষ্ঠী ও তাদের মিত্র তুয়ারেগ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা শনিবার আফ্রিকার দেশ মালিজুড়ে নতুন করে সমন্বিত হামলা চালিয়েছে। কয়েক মাস আগে একই ধরনের হামলায় দেশটির সামরিক জান্তাকে বড় ধাক্কা দেয়ার পর এটি তাদের আরেকটি বড় আক্রমণ।

বামাকো থেকে এএফপি জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ৫টার দিকে (গ্রিনিচ সময় ০৫০০) শুরু হওয়া এ হামলায় উত্তরাঞ্চলের গাও, আনেফিস ও আগেলহক শহর, মধ্যাঞ্চলের সেভারে শহর এবং রাজধানীর কাছে কেনিয়েরোবার একটি কারাগার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।

গত এপ্রিলের শেষ দিকে আল-কায়েদা-ঘনিষ্ঠ জেএনআইএম (জামাআত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন) এবং তুয়ারেগ এফএলএ (আজাওয়াদ মুক্তি ফ্রন্ট) উত্তরাঞ্চলের কৌশলগত শহর কিদাল দখল করে এবং মালির প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে হত্যা করে।

২০২০ ও ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে মালি সামরিক শাসনের অধীনে রয়েছে। ক্ষমতা দখলের সময় সামরিক নেতৃত্ব দেশটিতে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে ২০১২ সাল থেকে বিস্তীর্ণ মরুভূমি অধ্যুষিত এ দেশটি উগ্রবাদী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সহিংসতায় জর্জরিত।

২৫-২৬ এপ্রিলের বড় হামলার পর মালির সেনাবাহিনী, রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত আফ্রিকা কোরের সহায়তায় সামরিক অভিযান জোরদার করে।

প্রায় এক বছর আগে তুয়ারেগ এফএলএ ও জেএনআইএম জোটবদ্ধ হয়। এরপর থেকে তারা যৌথভাবে সামরিক সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়ে আসছে।

ডাকারভিত্তিক টিম্বুক্তু ইনস্টিটিউটের পরিচালক বাকারি সাম্বে এএফপিকে বলেন, ‘বৃহত্তর আক্রমণের আগে মধ্যবর্তী ধাপ হিসেবে পরিচালিত এসব অভিযান সরকারকে দুর্বল ও বিচ্ছিন্ন করে তুলছে।’

সেনাবাহিনীর দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

মালির সেনাবাহিনী শনিবার সকালে ফেসবুকে এক বিবৃতিতে চারটি শহর ও কেনিয়েরোবার ওপর হামলার কথা নিশ্চিত করে। তাদের দাবি, ‘হামলাগুলো শক্ত হাতে প্রতিহত করা হয়েছে’ এবং ‘পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’

তবে এএফপির সাথে কথা বলা বিভিন্ন সূত্র জানায়, দুপুর পর্যন্তও কয়েকটি এলাকায় সংঘর্ষ চলছিল।

এফএলএর মুখপাত্র মোহামেদ এলমাউলুদ রমাদানে এএফপিকে বলেন, আনেফিসে ‘বেশ কয়েকটি অবস্থান’ বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে, যদিও শনিবার সকাল পর্যন্ত সেখানে লড়াই চলছিল।

আনেফিসের এক বাসিন্দা বলেন, ‘সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো শহরের ভেতরে রয়েছে। তবে সেনাবাহিনী এখনো প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। সেনা শিবির এখনো দখল হয়নি।’

এপ্রিলের হামলার পর উত্তরাঞ্চলের কিদাল অঞ্চলে আনেফিস ও আগেলহকই এখন শেষ দুটি এলাকা, যেখানে মালির সেনাবাহিনীর উপস্থিতি রয়েছে।

উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর গাওয়ের বাসিন্দারা জানান, সেনা ঘাঁটির কাছে গুলির শব্দ ও বিকট বিস্ফোরণ শোনা গেছে।

সন্ত্রাসবাদবিরোধী আন্তর্জাতিক একাডেমির কৌশলগত গবেষণা ইনস্টিটিটের এক গবেষক এএফপিকে বলেন, ‘এ মুহূর্তে তাদের লক্ষ্য সম্ভবত উত্তরাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা, এরপর আরো দক্ষিণে অগ্রসর হওয়া।’

মধ্যাঞ্চলের সেভারে শহরে, যেখানে একটি বড় সেনা ঘাঁটি ও বিমানবন্দর রয়েছে, স্থানীয় এক নিরাপত্তা সূত্র জানায়, ‘সকাল ৫টার দিকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপর কয়েকটি যুদ্ধবিমান এলাকাটির ওপর দিয়ে উড়তে দেখা যায়।’

রাজধানী বামাকো থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে কেনিয়েরোবা কারাগার কমপ্লেক্সেও হামলা চালানো হয়। সেখানে উগ্রবাদীসহ বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত বন্দীদের রাখা হয়।

এক বন্দী এএফপিকে বলেন, ‘আমরা বিছানার নিচে লুকিয়ে আছি। এখনো গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে।’ এরপরই তার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

কেনিয়েরোবা কেন্দ্রীয় কারাগার মালির সবচেয়ে বড় আধুনিক কারাগার, যেখানে আড়াই হাজারের বেশি বন্দী রাখার ব্যবস্থা রয়েছে।