বিশ্ববাজারে কমলো স্বর্ণের দাম

ডেস্ক নিউজঃ ইরান যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার অনিশ্চয়তা ঘনীভূত হওয়ায় বিশ্ববাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী অপরিশোধিত তেলের দাম। এর ফলে মূল্যস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১১ মে) বাংলাদেশ সকাল সাড়ে ৮টা ২৩ মিনিট পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম ০.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৬৮৪.৩২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া জুন মাসে সরবরাহের জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ০.৮ শতাংশ কমে ৪,৬৯২.৭০ ডলারে বিক্রি হয়েছে।

কেসিএম ট্রেড-এর প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার রয়টার্সকে বলেন, ‘মূলত মার্কিন-ইরান চুক্তির বিষয়ে তাৎক্ষণিক যে আশা ছিল, তা ফিকে হয়ে যাওয়ায় আমরা এই পরিস্থিতি দেখছি। পাশাপাশি অপরিশোধিত তেলের দাম নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বর্ণের বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।’

গতকাল রবিবার (১০ মে) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া শান্তি আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এতে প্রায় ১০ সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার আশা ভেঙে যায়। এই সংঘাতে ইরান ও লেবাননে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।




পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্ব গুরুত্ব সহকারে পালনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজঃ গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। তাই নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্ব গুরুত্ব সহকারে পালনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (১১ মে) দুপুরে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশক আমরা ফ্যাসিবাদী শাসনের মধ্যে ছিলাম। ২৪-এর পর বর্তমান সরকার জনগণের কাছে একটি গণতান্ত্রিক সরকার। আমরা এই সরকারকে জবাবদিহিমূলক সরকার হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এই সরকার পুলিশ বাহিনীকে এমন একটি রূপ দিতে চায়, যেখানে পুলিশ হবে সত্যিকার অর্থে জনবান্ধব। সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গা হবে পুলিশ।

তিনি আরও বলেন, যেকোনো দেশে সাধারণ জনগণ পুলিশ প্রশাসনকে সরকারের আয়না হিসেবে বিবেচনা করে। পুলিশ প্রশাসন সফল হলে সেটিকে সরকারের সফলতা হিসেবেই ধরা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শক্তিশালী, জবাবদিহিমূলক, আইনসম্মত ও জনবান্ধব রাষ্ট্র গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা অনস্বীকার্য।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে কোনো আপস করতে চায় না। দুর্নীতি ও সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং যে বা যারা অপরাধে লিপ্ত হবে, তাদের অপরাধী হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো ব্যক্তি বা দল আপনাদের দল নয়, বরং আপনারাই আইনের রক্ষক। আপনারা দায়িত্ব পালন করবেন রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণে। জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক হবে আইনগত এবং মানবিক।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, অন্যান্য কার্যক্রমের পাশাপাশি রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের উল্লেখযোগ্য সময় ব্যয় হয়। বর্তমান সরকার দেশে জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে চায়। তবে কেউ যেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে না পারে, সেটিও সবাইকে মনে রাখতে হবে।




মিয়ানমারে ৫ মাত্রার ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল চট্টগ্রাম

ডেস্ক নিউজঃ মিয়ানমারে মধ্যরাতে ৫ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও অনুভূত হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় মৃদু কম্পনের খবর পাওয়া গেছে।

রোববার (১০ মে) দিবাগত রাত ১টা ৩৬ মিনিটে বাংলাদেশ সময় ভূমিকম্পটি সংঘটিত হয় বলে জানিয়েছে জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস ।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার নিচে। প্রাথমিকভাবে এর অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ দশমিক ৪৬ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯৩ দশমিক ৯৪ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।

অন্যদিকে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের সিদোকতাইয়া এলাকা থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

ভূমিকম্পের কম্পন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলেও অনুভূত হয়। চট্টগ্রাম নগরীর কয়েকটি এলাকার বাসিন্দারা জানান, কয়েক সেকেন্ডের জন্য হঠাৎ ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠে। এতে আতঙ্কিত হয়ে অনেকেই বাসা থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন।

এর আগে শনিবার (৯ মে) বিকেলেও দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। বিকেল ৩টা ১০ মিনিটের দিকে হওয়া ওই কম্পনে বড় ধরনের ক্ষতি না হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, শনিবারের ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৪ থেকে ৪ দশমিক ৫ এর মধ্যে। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ৪ দশমিক ৫ উল্লেখ করলেও ইউএসজিএস জানিয়েছে, এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৪।

ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প বিজ্ঞান কেন্দ্র জানিয়েছে, ওই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল ভারতের আসামের বিলাসিপাড়া এলাকায়। ভূমিকম্পটির গভীরতা কম হওয়ায় সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের জেলাগুলোতে কম্পন বেশি অনুভূত হয়।

লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা থেকে স্থানীয়রা মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার ঝাঁকুনি অনুভবের কথা জানিয়েছেন। কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী এই কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই ঘরবাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন।




৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, ৫ দিন বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা

আবহাওয়া ডেস্কঃ দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে একটি লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর প্রভাবে আগামী পাঁচদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যার তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকবে উত্তরাঞ্চল ও সিলেট বিভাগে।

রোববার (১০ মে) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আব্দুল হামিদ মিয়ার দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অফিস জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশে দিনের এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

সোমবার (১১ মে) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

মঙ্গলবার (১২ মে) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

বুধবার (১৩ মে) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দেশের অন্যত্র তা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

এছাড়া আগামী পাঁচদিন পরও দেশের উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।




আদালতের স্থিতাবস্থা উপেক্ষা করে জমি দখলের অভিযোগ, গৃহায়নের কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমানকে ঘিরে ক্ষোভ

এসএম বদরুল আলমঃ রাজধানীর রূপনগর এলাকার দুয়ারীপাড়া মৌজায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও আদালতের স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস কো) অমান্যের অভিযোগে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মাহমুদুর রহমানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ কর্তৃক দায়েরকৃত সিভিল পিটিশন নং-১৫২১/২১ এ উক্ত জমির ওপর স্থিতাবস্থা (Status quo) জারি রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা বহাল থাকা অবস্থায় অভিযুক্তরা বিভিন্ন ব্যক্তি ও বাহিনী নিয়ে জমিতে ঘরবাড়ি নির্মাণসহ দখল কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, মোঃ মাহমুদুর রহমানের নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছে। এ ঘটনায় কয়েকজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখ করা হয়েছে আইনুদ্দিন হায়দার ও ফয়জুন্নেসা ওয়াকফা স্টেট এর ৪৮ একর জমি অবৈধভাবে গৃহায়ন মিরপুর ১ জোনের এর উপ প্রকৌশলী মোঃ মাহমুদুর রহমান চক্রটি বিভিন্ন নামে বেনামে বরাদ্দ দিয়ে দুয়ারীপাড়া এলাকায় থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ওয়াকফা সম্পত্তি গরিব-দুঃখীরা দখলে থাকার পরও প্রতিনিয়ত প্রভাবশালী লোক দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছেন। আর এগুলোকে ইন নন দিচ্ছে দুর্নীতিবাজ মাহমুদুর রহমানের মত ব্যক্তিরা। বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি সহ নামে বেনামে সাংবাদিকদের দ্বারা আইনুদ্দিন হায়দার ও ফয়জুন্নেসা ওয়াক্কা স্টেট এর সিটি জরিপম্পন্ন জমিগুলো দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অতি দ্রুত এই দুর্নীতিবাজ উপপ্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান যিনি কোটি কোটি টাকার মালিকবনে গেছেন এলাকার মানুষ দ্রুত তার বিচার দাবি করেন।

অভিযোগকারী মোঃ শিহাব উদ্দিন জানান, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে এলাকায় উত্তেজনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। এখানে জাতীয় গৃহায়নের জমি ১৯ একর বিরাজমান একই সাথে আইনুদ্দিন হায়দার ও ফয়জুন্নেসা ওয়াকফা স্টেটের ৪৮ একর জমি রয়েছে যাহা আইনুদ্দিন হায়দার ও ফয়জুন্নেসা স্টেট এর লোকজন প্রায় ৪০-৫০বছর ধরে হোক দখল করে আসছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন অভিযোগকারী। স্থানীয়দের মধ্যেও ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা মনে করেন অবিলম্বে গৃহায়নের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কর্মচারী দের আইনের আওতায় এনে তাদের সম্পদের হিসাব নেয়া জরুরী। কারণ তারা স্ট্যাটাসকো বহাল থাকা অবস্থায় কিভাবে মানুষকে বরাদ্দ দেয়। যাহার রীতিমতো দুর্নীতির শামিল। অবিলম্বে এদেরকে বিচারের আওতায় আনার দাবি এলাকাবাসীর।




পুলিশকে ওভারটাইম ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের

ডেস্ক নিউজঃ দেশে পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও যুগোপযোগী করতে একগুচ্ছ নতুন পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার জন্য ওভারটাইম ভাতা প্রবর্তন এবং অবসরকালীন সময়ে বিশেষ পদোন্নতির সুযোগ। রোববার (১০ মে) রাজারবাগে পুলিশ অডিটরিয়ামে ‘প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কল্যাণ সভায়’ এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।

রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬-এর উদ্বোধনের পর কল্যাণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, কনস্টেবল থেকে পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) পর্যন্ত যেসব সদস্য অতিরিক্ত সময় দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের জন্য বিশেষ নীতিমালার ভিত্তিতে ওভারটাইম ভাতার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা করছে সরকার।

পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় হাসপাতালগুলোকে আধুনিকায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উন্নত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নতুন ও বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের কাজ সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

দীর্ঘদিন একই পদে কর্মরত থেকে অবসরে যাওয়া পুলিশ সদস্যদের মনোবল বাড়াতে ‘অনারারি পদোন্নতি’র ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সন্তোষজনক চাকরির রেকর্ড থাকলে কনস্টেবল থেকে অনারারি এএসআই। এএসআই থেকে অনারারি এসআই। এসআই থেকে অনারারি পরিদর্শক পদে পদোন্নতি দেওয়া হবে।

এছাড়া পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের আবাসন সংকট নিরসনে ভূমি অধিগ্রহণ এবং নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করা হচ্ছে বলে সভায় জানানো হয়।

‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্য নিয়ে শুরু হওয়া এবারের পুলিশ সপ্তাহ আগামী ১৩ মে শেষ হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্ণিল প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনসেবায় পুলিশের পেশাদারিত্ব বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বিগত বছরের কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং আগামী বছরের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের লক্ষ্যে আয়োজিত এই পুলিশ সপ্তাহ বাহিনীর সদস্যদের জন্য নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ওভারটাইম ভাতার বিষয়টি দীর্ঘদিনের দাবি হওয়ায় সাধারণ পুলিশ সদস্যদের মধ্যে এটি ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।




আবু ত্বহা-সাবিকুন নাহারের বিচ্ছেদ, গুরুতর ৪ অভিযোগ

ডেস্ক নিউজঃ আলোচিত তরুণ ইসলামি বক্তা আবু ত্বহা মুহাম্মদ আদনান ও সাবিকুন নাহার সারার সংসার আবারও ভেঙে গেছে। প্রথমবার বিচ্ছেদের পর কিছুদিন আগে তারা পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে দ্বিতীয়বার সংসার শুরুর মাত্র চার মাসের মধ্যেই তাদের সম্পর্কের ইতি ঘটেছে।

রোববার (১০ মে) এই বিবাহ বিচ্ছেদের বিষয়ে সাবিকুন নাহার সারার বড় বোন মোছাম্মাত হাজেরা বলেন, পারিবারিক অশান্তি ও মতবিরোধের জের ধরে আদনান-সারা দম্পতির সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এক পর্যায়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবাহ বিচ্ছেদের পথ বেছে নেন তারা।

ত্বহা ও নাহার নতুনভাবে সংসার শুরু করার চেষ্টা করেছিলেন উল্লেখ করে মোছাম্মাত হাজেরা বলেন, ‘দুই পরিবারও বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নিয়েছিল। কিন্তু সেই সম্পর্ক আর টেকেনি। শেষ পর্যন্ত গত পবিত্র রমজান মাস শেষে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার রাতে অর্থাৎ ঈদের আগের রাতে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়।’

বিচ্ছেদের কারণ জানতে চাইলে আদনানের নামে গুরুতর অভিযোগের কথা তুলে ধরেন মোছাম্মাত হাজেরা। ছোট বোন সাবিকুন নাহারের বরাত দিয়ে তিনি জানান-

  • আদনান চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মেয়েদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেন। বিয়ের কথা বলে মেয়েদের ছবি নেন, তাদের সঙ্গে কফি খান; কিন্তু বিয়ে করেন না।
  • তিনি মারাত্মক বদমেজাজি। দ্বিতীয়বার বিয়ে হওয়ার পর তিনি সাবিকুন নাহারের কাছ থেকে টাকা নেন এবং তাকে নিজের মা ও ভাই-বোনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে নিষেধ করেন।
  • বিলাসিতা করে শুধু ঋণ করেন আর মানুষকে বোঝান, তিনি ঋণী, কেউ তাকে ঋণ শোধের জন্য টাকা দিলে তার সওয়াব হবে।
  • পাবনায় অনার্সপড়ুয়া আয়শা নামের এক মেয়েকে মাদ্রাসা করে দিয়েছেন। মেয়েটির সঙ্গে তার নোংরা সম্পর্ক ছিল।

হাজেরার দাবি, উল্লিখিত বিষয়গুলো নিয়ে সাবিকুন নাহার আপত্তি জানালে ত্বহা ক্ষুব্ধ হন এবং দাম্পত্য সম্পর্কের ইতি ঘটানোর জন্য তালাকের কথা বলেন। এক পর্যায়ে তাদের তালাক হয়ে যায়।

বিচ্ছেদ ও অভিযোগের বিষয়ে জানতে আবু ত্বহা আদনানের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করা হয়। বিচ্ছেদের বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ‘উভয় পক্ষের সম্মতিতে যৌথ ও চূড়ান্ত তালাক হয়েছে।’

উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘একদিন না হয় সময় করে অফিসে আসেন। যা বলার সামনাসামনি বলি। এসব অপবাদের জবাব দেওয়ার জন্য এক আল্লাহই আদনানের জন্য যথেষ্ট।’

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২ ডিসেম্বর পারিবারিকভাবে দ্বিতীয়বারের মতো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন আবু ত্বহা আদনান ও সারা। প্রথম বিচ্ছেদের পর দুই পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের উদ্যোগে তাদের মধ্যে পুনর্মিলন ঘটে। নতুন করে সংসার শুরু করলেও সেই সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হলো না।




সুনামগঞ্জে ধান আনতে গিয়ে বজ্রপাতে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ : সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নে বজ্রপাতে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১০ মে) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে নলুয়ারপাড় গ্রামে ধানের খলা থেকে ধান আনতে গিয়ে আঁখি আক্তার (১৫) নামের ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. রতন শেখ।

মৃত আঁখি আক্তার নলুয়ারপাড় গ্রামের জাহির উদ্দিনের মেয়ে। সে ইয়াকুব উল্লাহ পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকালে বৃষ্টি শুরু হলে ঘরের সামনে খলায় শুকাতে দেওয়া ধান আনতে যায় আঁখি। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই সে গুরুতর আহত হয়। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।




ভয়াবহ সংকটে ইসরাইলি সেনাবাহিনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইসরাইলি সেনাপ্রধান ইয়াল জামির রোববার (১০ মে) এক জরুরি বার্তায় জানিয়েছেন, বর্তমানে বিভিন্ন ফ্রন্টে চলমান সামরিক তৎপরতা এবং হারিদি বা কট্টর অর্থোডক্স ইহুদিদের সামরিক বাহিনীতে যোগদানের সংকটময় পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর জন্য অবিলম্বে অতিরিক্ত সৈন্য প্রয়োজন।

ইসরাইলের সংসদ নেসেটের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা কমিটির এক বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওত আহরনোতের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইয়াল জামির উল্লেখ করেন, গাজা ছাড়াও লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইল বর্তমানে বহুমুখী ফ্রন্টে যুদ্ধের মধ্যে রয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে বর্তমানে এই সংঘর্ষগুলোতে বিরতি চলছে, তবুও ইসরাইলি বাহিনীর সামরিক তৎপরতা নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত আছে।

জামির স্পষ্ট করে বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক বা আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে চিন্তিত নন, বরং তার পুরো মনোযোগ এখন শত্রুকে পরাজিত করার দিকে। আর এই লক্ষ্য অর্জনে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বজায় রাখতে হলে এখনই নতুন জনবল নিয়োগ করা অপরিহার্য।

এর আগে গত মার্চ মাসে জামির সতর্ক করেছিলেন, কট্টর অর্থোডক্স ইহুদিদের সামরিক সেবা এবং রিজার্ভ ডিউটি সংক্রান্ত আইন পাসে সরকারের ব্যর্থতা এবং বাধ্যতামূলক সেবার মেয়াদ ৩৬ মাস পর্যন্ত বৃদ্ধি না করায় ইসরাইলি সেনাবাহিনী ভেতর থেকে ভেঙে পড়ছে।

সেনাপ্রবক্তা ইফি দেফরিন জানান, সেনাবাহিনীর জন্য বর্তমানে আনুমানিক ১৫ হাজার অতিরিক্ত সৈন্য প্রয়োজন, যার মধ্যে অন্তত ৭ থেকে ৮ হাজার হতে হবে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে লড়ার মতো যোদ্ধা। এই সংকট নিরসনে দ্রুত একটি কার্যকর নিয়োগ আইন প্রণয়ন করাকে অপরিহার্য বলে মনে করছে সামরিক নেতৃত্ব।

ইসরাইলের প্রায় ৯৯ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে হারিদি বা কট্টর অর্থোডক্স ইহুদিদের হার প্রায় ১৩ শতাংশ। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তারা সামরিক সেবার পরিবর্তে কেবল তোরাহ পাঠে মনোনিবেশ করার সুযোগ পেয়ে আসছে, যা ইসরাইলি সমাজে একটি অত্যন্ত বিতর্কিত বিষয়। যদিও ১৮ বছর ঊর্ধ্ব সকল নাগরিকের জন্য সামরিক সেবা বাধ্যতামূলক, তবুও হারিদিদের এই বিশেষ ছাড় পাওয়ার বিষয়টি বর্তমানে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। সেনাবাহিনীর সাম্প্রতিক এই দাবি সরকারকে নতুন করে চাপে ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।




সন্তান নিয়ে একা ববিতার সংগ্রাম, যে কথাগুলো আগে বলেননি ববিতা

বিনোদন ডেস্ক : ব্যবসায়ী ইফতেখারুল আলমকে ১৯৮২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বরে বিয়ে করেন অভিনয়শিল্পী ফরিদা আক্তার ববিতা। বিয়ের প্রায় সাড়ের ছয় বছর পর, ১৯৮৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সন্তান অনিক ইসলামের জন্ম। অনিকের জন্মের তিন বছর পর ১৯৯৩ সালের ১০ জানুয়ারি মারা যান ববিতার স্বামী। এর পর থেকে তাঁর জীবনে অনেকে আসতে চেয়েছিলেন। পরিবার আর আত্মীয়স্বজনও চাপ দিচ্ছিলেন বিয়ের জন্য। কিন্তু অনড় ববিতা সন্তানের কথা ভেবে দ্বিতীয়বার সংসারজীবন শুরু করেননি। আজ মা দিবসে মা ববিতা বললেন তাঁর সংগ্রামী জীবনের গল্প।

সিনেমা ঘিরে স্বপ্ন ছিল ববিতার। স্বামী ইফতেখারুল আলমও তাঁকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন। বলেছিলেন, বাড়ির কোনো কিছু নিয়ে ভাবতে হবে না তাঁকে, যেন শুধুই সিনেমা নিয়ে ভাবেন। তিনিও সেভাবেই জীবন পার করছিলেন। স্বামী আর পেশাগত জীবন দুটিই সুন্দরভাবে মানিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু কে জানত, এত অল্প সময়ের সংসারজীবন হবে তাঁর। ববিতার মতে, ‘মাত্র ১১ বছরের দাম্পত্য জীবন। হঠাৎ অনিকের বাবার মৃত্যুতে চারদিকে ঘোর অন্ধকার নেমে আসে। কী করব, কীভাবে জীবন চলবে, যেন দিশাহারা আমি। তবে মনোবল হারানোর মানুষ তো আমি নই। মনটাকে শক্ত করি। আমার সন্তান আছে, তাঁকে নিয়েই আমাকে এগিয়ে যেতে হবে। তাঁকে গড়ে তুলতে হবে। আবার আমার ক্যারিয়ার। দুটোকে সমন্বয় করেই এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করি।’

অনিকের বাবা ইফতেখারুল আলম নানা ধরনের রোগে ভুগছিলেন। কিডনি, লিভার, হার্টের নানান রোগ ছিল তাঁর। তবে এত তাড়াতাড়ি ছেড়ে চলে যাবেন, তা ভাবতে পারেননি ববিতা। মারা যাওয়ার পরের সময়টুকু তাই অকুলপাথারে পড়লেও সামলে নেন।

ববিতা বললেন, ‘পরিবারের কেউ আমাকে সারা দিন দেখাশোনা করত না। মাঝেমধ্যে করবে। কারণ, তাদের সবারও তো আলাদা সংসার, পেশাগত জীবন।। তাই সব আমাকে একাই করতে হতো। শুটিং, আয়রোজগার, সংসার চালানো, অনিককে দেখভাল—সব একাই করতে হতো।

অনিকের জন্মের আগে ‘লেডি স্মাগলার’ নামে একটি ছবির শুটিংয়ে ফিলিপাইনে যান ববিতা। নিজের প্রযোজনাপ্রতিষ্ঠানের এই ছবির বেশির ভাগ শুটিং হয় ফিলিপাইনে। অ্যানি সি স্কোভা নামের এক তরুণী ফিলিপাইনে ছবিটির শুটিংয়ের প্রোডাকশনে কাজ করতেন। সেই মেয়েটিকে পছন্দ হয় ববিতার। তাঁকে দেশে আনার পরিকল্পনা করেন, যাতে বাসার কাজে সহযোগিতা পাওয়া যায়। একটা পর্যায়ে প্রস্তাবও দেন। ফিলিপাইনের সেই তরুণী অনিকের জন্মের পর তাঁর দেখভালও করেছেন।

 

ববিতা বললেন, ‘ফিলিপাইনে “লেডি স্মাগলার” ছবির শুটিংয়ের সময়ে অ্যানিকে বলেছিলাম, তুমি কি বাংলাদেশে যেতে চাও? তখন কিন্তু অনিকের জন্ম হয়নি। সে বলে কি, আমার তো পাসপোর্ট নেই। তখন বলেছিলাম, আমি পাসপোর্ট করিয়ে নেব। আমি ভাবলাম, আমি একজন শিল্পী মানুষ, শুটিংয়ের কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। এমন একজন মানুষ দরকার, যে খুব বিশ্বাসী। তখন বাংলাদেশি, কাজ যারা করত, তাদের ওপর খুব একটা আস্থা রাখা যেত না। নানা ধরনের দুর্ঘটনা ঘটত। আবার তারা ঠিকমতো কাজ করত না। অ্যানিকে আনলাম, মেয়েটা এত বিশ্বাসী ছিল, আমার বাসার সবকিছু সামাল দিত। ঘরসংসার, বাজারসদাই, সব করত। আমার শুটিংয়ের কাজেও সহযোগিতা করত। শুরুতে টানা পাঁচ-ছয় বছর ছিল। এরপর একবার গিয়ে আবার এল। ফিরে এসে আবার পাঁচ-ছয় বছর ছিল। তারপর একদিন মেয়েটা বলল, বাবা-মায়ের বয়স হয়েছে, আমাকে একেবারে চলে যেতে হবে। মেয়েটা চলে গেল। এরপর আবার অন্য মিশন শুরু।’

ববিতার ছেলে অনিকের স্কুলজীবন শুরু বনানীর প্লে–পেন স্কুলে। ববিতা বললেন, ‘আমার ড্রাইভার অনিককে স্কুলে দিয়ে আসত। মেয়েটা নিয়ে আসত। ওই মেয়েটা আমি যখন ছবি বানাতাম প্রোডাকশনের কাজও করত। সব কাজ জানত। খুবই স্মার্ট ছিল। বাংলাদেশে তখন বাসাবাড়িতে বিদেশি কাজের লোক রাখা যেত না। আমি তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটা চিঠি লিখেছিলাম। লিখেছিলাম, আমি একজন শিল্পী মানুষ, দেশ-বিদেশ নানা জায়গায় শুটিংয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। আমার সন্তানের বাবা বেঁচে নাই। আমার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে গৃহপরিচারিকা রাখার অনুমতি দিলে ভালো হয়। অনুমতি পাই।’

প্লে–পেন স্কুলে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত পড়ার পর অনিকের স্কুলজীবন শুরু স্কলাস্টিকায়। এখান থেকেই ও লেভেল আর এ লেভেল শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন কানাডার ওয়াটার লু ইউনিভার্সিটিতে। কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে। এখন চাকরি করছেন।

ববিতা সেই সময়ের কথা মনে করে বললেন, ‘অনিক যখন বনানীর স্কুলে যাওয়া শুরু করে, তখন শুরুর দিকে আমি ওর ক্লাসরুমের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতাম। পরীক্ষায় সময় এটা বেশি করতে হতো। ববিতা নায়িকা, ওসব বিষয়ে আমার মধ্যে কাজ করত না।’

ফিলিপাইনের গৃহপরিচারিকা অ্যানি চলে যাওয়ার পর ববিতার আবার চিন্তায় পড়ে যান। শুটিং করতে হলে তো বাসাবাড়ির কাজের সহযোগিতার জন্য গৃহপরিচারিকা লাগবে। এবার অনেকটা বাধ্য হয়ে দেশ থেকে নিলেন। তবে বাইরে গেলে মনটা পড়ে থাকত বাসায়। অনিক কী করছে, খাচ্ছে তো ঠিকমতো। ঘুম হচ্ছে কি? পড়াশোনা করছে কি?

এদিকে ববিতার স্বামীর মারা যাওয়ার একটা সময় পর তাঁর ওপর বিয়ের চাপ আসতে থাকে। পরিবারের লোকজন, আত্মীয়স্বজন সবারই একটা চাপ ছিল। অন্যদিকে স্বামী যেহেতু নেই, প্রেমের প্রস্তাবও বাদ যায়নি। অনেকেই তাঁকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছেন, বিয়ে করে সংসারী হতে চেয়েছেন। কিন্তু ববিতা ছেলে অনিকের কথা ভেবে বিয়ের কথা ভাবেননি।

ববিতা বললেন, ‘আত্মীয়স্বজন আর অভিভাবকেরা বলত, তুমি এত অল্প বয়সে স্বামীহারা হলে, আবার বিয়ে করা উচিত। কারণ, আমি সব মিলিয়ে সংসার করেছি দশ-এগারো বছর। তারপর তো অনিকের বাবা মারাই গেল। আমি বললাম, বিয়ে আমি আর করব না। আমার সন্তান, আমার অভিনয়জীবন—এ নিয়েই আগামী জীবন কাটিয়ে দিতে চাই। সন্তানের দেখভাল, শুটিং—একা জীবনে যতটুকু পারি করেছি। তবে ওই সময়টায় সিঙ্গেল মাদার হওয়ার কারণে অনেক স্যাক্রিফাইস করতে হয়েছে। আউটডোর শুটিং পারতপক্ষে করতে পারতাম না। নিতাম না। ভাবতাম, আমি যদি ঢাকায় না থাকি, তাহলে বাসায় যদি কোনো সমস্যা হয়, কীভাবে সামাল দেব।

এফডিসিতে থাকলে তো গাড়ি টান দিয়ে বাসায় যেতে পারব। কিন্তু কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মানিকগঞ্জ, সিলেট, গাজীপুরে যদি শুটিংয়ে থাকি, তাহলে তো ছেলের খোঁজখবর নিতে পারব না। এরপরও কতবার যে এমন হয়েছে, আমি শুটিংয়ে যাওয়ার সময় অনিক খুব কাঁদছিল। বলছিল, “আম্মা তুমি যেয়ো না, আম্মা তুমি যেয়ো না।” কিন্তু ছবিগুলো তো আমার সাইন করা। যেতেই হবে। শুটিং না করলে সংসারজীবনই–বা চলবে কী করে। এসব নিয়ে আমার পুরো জীবনটা কেটেছে।’

সিঙ্গেল মাদার হিসেবে যে জীবন কাটিয়ে এসেছেন, তা নিয়ে ববিতা বললেন, ‘আমার জীবনটা অনেক কঠিন ছিল, আবার শান্তিরও। অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে, কষ্ট স্বীকার করা লাগছে। কিন্তু সবকিছুর পর যখন সন্তানের মুখটা দেখতাম, শান্তিতে মনটা ভরে যেত।’ছেলে অনিক যখন ও লেভেলের শিক্ষার্থী তখন তিনি মায়ের বিয়ের ব্যাপারে কথা বলেন। সেই সময়ের কথা মনে করে ববিতা বললেন, ‘অনিক যখন বড় হয়েছে, বুঝতে শিখেছে, তখন আমাকে বলত, “আম্মা তুমি একা। তোমার অনেক কষ্ট হয়। তুমি একটা আব্বু নিয়ে আসো।” আমি সন্তানকে বুঝিয়েছিলাম, “না বাবা, এটা হয় না। তুমি থাকলে আমার কিছুই লাগবে না। তোমাকে নিয়েই তো আমি ভালো আছি।”

কথা প্রসঙ্গে ববিতা আরও বললেন, ‘সবাই যে এত বলত বিয়ে করো, বিয়ে করো, তখন এটাও ভাবতাম, আমি যদি একটা মানুষকে বিয়ে করি, সেই সংসারে হয়তো সন্তান হবে। আর সন্তান যদি হয়, কেমন হবে, কী হবে? অনিককে মেনে নেবে কি নেবে না। অনিক আবার তাদের সাথে অ্যাডজাস্ট করতে পারবে কি পারবে না, কত কি যে আমার মাথার মধ্যে চলত। কত মানুষ আমাকে সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে। চাইলে বিয়ে করতেই পারতাম, কিন্তু করিনি। আমাদের সঙ্গে আরও কয়েকজন বিয়ে করেছে, সেটা একান্তই তাঁদের বিষয়। অনেক কিছু ভেবে আর দ্বিতীয়বার বিয়ের কথা ভাবিনি।’

দেশে আর দেশের বাইরে—সবার কাছে ববিতা তাঁদের প্রিয় একজন অভিনেত্রী, কিন্তু একমাত্র ছেলে অনিকের কাছে শুধুই ‘সংগ্রামী মা’। তাই তো সংগ্রামী মায়ের স্বপ্নপূরণে ছেলে অনিক পড়াশোনা ছাড়া আর কিছুই ভাবতেন না।

ববিতা দীর্ঘ অভিনয়জীবনে ২৭৫টি ছবিতে অভিনয় করেছেন। দেশের বিখ্যাত সব নির্মাতার পাশাপাশি কাজ করেছেন দেশের বাইরের বিখ্যাত নির্মাতার ছবিতেও। সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’ ছবির জন্য ববিতা দেশে ও দেশের বাইরে প্রশংসা কুড়ান।