৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, ৫ দিন বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা

আবহাওয়া ডেস্কঃ দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে একটি লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর প্রভাবে আগামী পাঁচদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যার তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকবে উত্তরাঞ্চল ও সিলেট বিভাগে।

রোববার (১০ মে) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আব্দুল হামিদ মিয়ার দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অফিস জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশে দিনের এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

সোমবার (১১ মে) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

মঙ্গলবার (১২ মে) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

বুধবার (১৩ মে) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দেশের অন্যত্র তা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

এছাড়া আগামী পাঁচদিন পরও দেশের উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।




আদালতের স্থিতাবস্থা উপেক্ষা করে জমি দখলের অভিযোগ, গৃহায়নের কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমানকে ঘিরে ক্ষোভ

এসএম বদরুল আলমঃ রাজধানীর রূপনগর এলাকার দুয়ারীপাড়া মৌজায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও আদালতের স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস কো) অমান্যের অভিযোগে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মাহমুদুর রহমানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ কর্তৃক দায়েরকৃত সিভিল পিটিশন নং-১৫২১/২১ এ উক্ত জমির ওপর স্থিতাবস্থা (Status quo) জারি রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা বহাল থাকা অবস্থায় অভিযুক্তরা বিভিন্ন ব্যক্তি ও বাহিনী নিয়ে জমিতে ঘরবাড়ি নির্মাণসহ দখল কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, মোঃ মাহমুদুর রহমানের নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছে। এ ঘটনায় কয়েকজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখ করা হয়েছে আইনুদ্দিন হায়দার ও ফয়জুন্নেসা ওয়াকফা স্টেট এর ৪৮ একর জমি অবৈধভাবে গৃহায়ন মিরপুর ১ জোনের এর উপ প্রকৌশলী মোঃ মাহমুদুর রহমান চক্রটি বিভিন্ন নামে বেনামে বরাদ্দ দিয়ে দুয়ারীপাড়া এলাকায় থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ওয়াকফা সম্পত্তি গরিব-দুঃখীরা দখলে থাকার পরও প্রতিনিয়ত প্রভাবশালী লোক দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছেন। আর এগুলোকে ইন নন দিচ্ছে দুর্নীতিবাজ মাহমুদুর রহমানের মত ব্যক্তিরা। বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি সহ নামে বেনামে সাংবাদিকদের দ্বারা আইনুদ্দিন হায়দার ও ফয়জুন্নেসা ওয়াক্কা স্টেট এর সিটি জরিপম্পন্ন জমিগুলো দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অতি দ্রুত এই দুর্নীতিবাজ উপপ্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান যিনি কোটি কোটি টাকার মালিকবনে গেছেন এলাকার মানুষ দ্রুত তার বিচার দাবি করেন।

অভিযোগকারী মোঃ শিহাব উদ্দিন জানান, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে এলাকায় উত্তেজনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। এখানে জাতীয় গৃহায়নের জমি ১৯ একর বিরাজমান একই সাথে আইনুদ্দিন হায়দার ও ফয়জুন্নেসা ওয়াকফা স্টেটের ৪৮ একর জমি রয়েছে যাহা আইনুদ্দিন হায়দার ও ফয়জুন্নেসা স্টেট এর লোকজন প্রায় ৪০-৫০বছর ধরে হোক দখল করে আসছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন অভিযোগকারী। স্থানীয়দের মধ্যেও ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা মনে করেন অবিলম্বে গৃহায়নের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কর্মচারী দের আইনের আওতায় এনে তাদের সম্পদের হিসাব নেয়া জরুরী। কারণ তারা স্ট্যাটাসকো বহাল থাকা অবস্থায় কিভাবে মানুষকে বরাদ্দ দেয়। যাহার রীতিমতো দুর্নীতির শামিল। অবিলম্বে এদেরকে বিচারের আওতায় আনার দাবি এলাকাবাসীর।




পুলিশকে ওভারটাইম ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের

ডেস্ক নিউজঃ দেশে পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও যুগোপযোগী করতে একগুচ্ছ নতুন পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার জন্য ওভারটাইম ভাতা প্রবর্তন এবং অবসরকালীন সময়ে বিশেষ পদোন্নতির সুযোগ। রোববার (১০ মে) রাজারবাগে পুলিশ অডিটরিয়ামে ‘প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কল্যাণ সভায়’ এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।

রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬-এর উদ্বোধনের পর কল্যাণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, কনস্টেবল থেকে পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) পর্যন্ত যেসব সদস্য অতিরিক্ত সময় দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের জন্য বিশেষ নীতিমালার ভিত্তিতে ওভারটাইম ভাতার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা করছে সরকার।

পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় হাসপাতালগুলোকে আধুনিকায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উন্নত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নতুন ও বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের কাজ সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

দীর্ঘদিন একই পদে কর্মরত থেকে অবসরে যাওয়া পুলিশ সদস্যদের মনোবল বাড়াতে ‘অনারারি পদোন্নতি’র ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সন্তোষজনক চাকরির রেকর্ড থাকলে কনস্টেবল থেকে অনারারি এএসআই। এএসআই থেকে অনারারি এসআই। এসআই থেকে অনারারি পরিদর্শক পদে পদোন্নতি দেওয়া হবে।

এছাড়া পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের আবাসন সংকট নিরসনে ভূমি অধিগ্রহণ এবং নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করা হচ্ছে বলে সভায় জানানো হয়।

‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্য নিয়ে শুরু হওয়া এবারের পুলিশ সপ্তাহ আগামী ১৩ মে শেষ হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্ণিল প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনসেবায় পুলিশের পেশাদারিত্ব বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বিগত বছরের কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং আগামী বছরের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের লক্ষ্যে আয়োজিত এই পুলিশ সপ্তাহ বাহিনীর সদস্যদের জন্য নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ওভারটাইম ভাতার বিষয়টি দীর্ঘদিনের দাবি হওয়ায় সাধারণ পুলিশ সদস্যদের মধ্যে এটি ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।




আবু ত্বহা-সাবিকুন নাহারের বিচ্ছেদ, গুরুতর ৪ অভিযোগ

ডেস্ক নিউজঃ আলোচিত তরুণ ইসলামি বক্তা আবু ত্বহা মুহাম্মদ আদনান ও সাবিকুন নাহার সারার সংসার আবারও ভেঙে গেছে। প্রথমবার বিচ্ছেদের পর কিছুদিন আগে তারা পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে দ্বিতীয়বার সংসার শুরুর মাত্র চার মাসের মধ্যেই তাদের সম্পর্কের ইতি ঘটেছে।

রোববার (১০ মে) এই বিবাহ বিচ্ছেদের বিষয়ে সাবিকুন নাহার সারার বড় বোন মোছাম্মাত হাজেরা বলেন, পারিবারিক অশান্তি ও মতবিরোধের জের ধরে আদনান-সারা দম্পতির সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এক পর্যায়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবাহ বিচ্ছেদের পথ বেছে নেন তারা।

ত্বহা ও নাহার নতুনভাবে সংসার শুরু করার চেষ্টা করেছিলেন উল্লেখ করে মোছাম্মাত হাজেরা বলেন, ‘দুই পরিবারও বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নিয়েছিল। কিন্তু সেই সম্পর্ক আর টেকেনি। শেষ পর্যন্ত গত পবিত্র রমজান মাস শেষে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার রাতে অর্থাৎ ঈদের আগের রাতে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়।’

বিচ্ছেদের কারণ জানতে চাইলে আদনানের নামে গুরুতর অভিযোগের কথা তুলে ধরেন মোছাম্মাত হাজেরা। ছোট বোন সাবিকুন নাহারের বরাত দিয়ে তিনি জানান-

  • আদনান চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মেয়েদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেন। বিয়ের কথা বলে মেয়েদের ছবি নেন, তাদের সঙ্গে কফি খান; কিন্তু বিয়ে করেন না।
  • তিনি মারাত্মক বদমেজাজি। দ্বিতীয়বার বিয়ে হওয়ার পর তিনি সাবিকুন নাহারের কাছ থেকে টাকা নেন এবং তাকে নিজের মা ও ভাই-বোনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে নিষেধ করেন।
  • বিলাসিতা করে শুধু ঋণ করেন আর মানুষকে বোঝান, তিনি ঋণী, কেউ তাকে ঋণ শোধের জন্য টাকা দিলে তার সওয়াব হবে।
  • পাবনায় অনার্সপড়ুয়া আয়শা নামের এক মেয়েকে মাদ্রাসা করে দিয়েছেন। মেয়েটির সঙ্গে তার নোংরা সম্পর্ক ছিল।

হাজেরার দাবি, উল্লিখিত বিষয়গুলো নিয়ে সাবিকুন নাহার আপত্তি জানালে ত্বহা ক্ষুব্ধ হন এবং দাম্পত্য সম্পর্কের ইতি ঘটানোর জন্য তালাকের কথা বলেন। এক পর্যায়ে তাদের তালাক হয়ে যায়।

বিচ্ছেদ ও অভিযোগের বিষয়ে জানতে আবু ত্বহা আদনানের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করা হয়। বিচ্ছেদের বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ‘উভয় পক্ষের সম্মতিতে যৌথ ও চূড়ান্ত তালাক হয়েছে।’

উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘একদিন না হয় সময় করে অফিসে আসেন। যা বলার সামনাসামনি বলি। এসব অপবাদের জবাব দেওয়ার জন্য এক আল্লাহই আদনানের জন্য যথেষ্ট।’

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২ ডিসেম্বর পারিবারিকভাবে দ্বিতীয়বারের মতো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন আবু ত্বহা আদনান ও সারা। প্রথম বিচ্ছেদের পর দুই পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের উদ্যোগে তাদের মধ্যে পুনর্মিলন ঘটে। নতুন করে সংসার শুরু করলেও সেই সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হলো না।




সুনামগঞ্জে ধান আনতে গিয়ে বজ্রপাতে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ : সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নে বজ্রপাতে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১০ মে) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে নলুয়ারপাড় গ্রামে ধানের খলা থেকে ধান আনতে গিয়ে আঁখি আক্তার (১৫) নামের ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. রতন শেখ।

মৃত আঁখি আক্তার নলুয়ারপাড় গ্রামের জাহির উদ্দিনের মেয়ে। সে ইয়াকুব উল্লাহ পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকালে বৃষ্টি শুরু হলে ঘরের সামনে খলায় শুকাতে দেওয়া ধান আনতে যায় আঁখি। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই সে গুরুতর আহত হয়। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।




ভয়াবহ সংকটে ইসরাইলি সেনাবাহিনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইসরাইলি সেনাপ্রধান ইয়াল জামির রোববার (১০ মে) এক জরুরি বার্তায় জানিয়েছেন, বর্তমানে বিভিন্ন ফ্রন্টে চলমান সামরিক তৎপরতা এবং হারিদি বা কট্টর অর্থোডক্স ইহুদিদের সামরিক বাহিনীতে যোগদানের সংকটময় পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর জন্য অবিলম্বে অতিরিক্ত সৈন্য প্রয়োজন।

ইসরাইলের সংসদ নেসেটের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা কমিটির এক বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওত আহরনোতের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইয়াল জামির উল্লেখ করেন, গাজা ছাড়াও লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইল বর্তমানে বহুমুখী ফ্রন্টে যুদ্ধের মধ্যে রয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে বর্তমানে এই সংঘর্ষগুলোতে বিরতি চলছে, তবুও ইসরাইলি বাহিনীর সামরিক তৎপরতা নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত আছে।

জামির স্পষ্ট করে বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক বা আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে চিন্তিত নন, বরং তার পুরো মনোযোগ এখন শত্রুকে পরাজিত করার দিকে। আর এই লক্ষ্য অর্জনে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বজায় রাখতে হলে এখনই নতুন জনবল নিয়োগ করা অপরিহার্য।

এর আগে গত মার্চ মাসে জামির সতর্ক করেছিলেন, কট্টর অর্থোডক্স ইহুদিদের সামরিক সেবা এবং রিজার্ভ ডিউটি সংক্রান্ত আইন পাসে সরকারের ব্যর্থতা এবং বাধ্যতামূলক সেবার মেয়াদ ৩৬ মাস পর্যন্ত বৃদ্ধি না করায় ইসরাইলি সেনাবাহিনী ভেতর থেকে ভেঙে পড়ছে।

সেনাপ্রবক্তা ইফি দেফরিন জানান, সেনাবাহিনীর জন্য বর্তমানে আনুমানিক ১৫ হাজার অতিরিক্ত সৈন্য প্রয়োজন, যার মধ্যে অন্তত ৭ থেকে ৮ হাজার হতে হবে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে লড়ার মতো যোদ্ধা। এই সংকট নিরসনে দ্রুত একটি কার্যকর নিয়োগ আইন প্রণয়ন করাকে অপরিহার্য বলে মনে করছে সামরিক নেতৃত্ব।

ইসরাইলের প্রায় ৯৯ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে হারিদি বা কট্টর অর্থোডক্স ইহুদিদের হার প্রায় ১৩ শতাংশ। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তারা সামরিক সেবার পরিবর্তে কেবল তোরাহ পাঠে মনোনিবেশ করার সুযোগ পেয়ে আসছে, যা ইসরাইলি সমাজে একটি অত্যন্ত বিতর্কিত বিষয়। যদিও ১৮ বছর ঊর্ধ্ব সকল নাগরিকের জন্য সামরিক সেবা বাধ্যতামূলক, তবুও হারিদিদের এই বিশেষ ছাড় পাওয়ার বিষয়টি বর্তমানে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। সেনাবাহিনীর সাম্প্রতিক এই দাবি সরকারকে নতুন করে চাপে ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।




সন্তান নিয়ে একা ববিতার সংগ্রাম, যে কথাগুলো আগে বলেননি ববিতা

বিনোদন ডেস্ক : ব্যবসায়ী ইফতেখারুল আলমকে ১৯৮২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বরে বিয়ে করেন অভিনয়শিল্পী ফরিদা আক্তার ববিতা। বিয়ের প্রায় সাড়ের ছয় বছর পর, ১৯৮৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সন্তান অনিক ইসলামের জন্ম। অনিকের জন্মের তিন বছর পর ১৯৯৩ সালের ১০ জানুয়ারি মারা যান ববিতার স্বামী। এর পর থেকে তাঁর জীবনে অনেকে আসতে চেয়েছিলেন। পরিবার আর আত্মীয়স্বজনও চাপ দিচ্ছিলেন বিয়ের জন্য। কিন্তু অনড় ববিতা সন্তানের কথা ভেবে দ্বিতীয়বার সংসারজীবন শুরু করেননি। আজ মা দিবসে মা ববিতা বললেন তাঁর সংগ্রামী জীবনের গল্প।

সিনেমা ঘিরে স্বপ্ন ছিল ববিতার। স্বামী ইফতেখারুল আলমও তাঁকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন। বলেছিলেন, বাড়ির কোনো কিছু নিয়ে ভাবতে হবে না তাঁকে, যেন শুধুই সিনেমা নিয়ে ভাবেন। তিনিও সেভাবেই জীবন পার করছিলেন। স্বামী আর পেশাগত জীবন দুটিই সুন্দরভাবে মানিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু কে জানত, এত অল্প সময়ের সংসারজীবন হবে তাঁর। ববিতার মতে, ‘মাত্র ১১ বছরের দাম্পত্য জীবন। হঠাৎ অনিকের বাবার মৃত্যুতে চারদিকে ঘোর অন্ধকার নেমে আসে। কী করব, কীভাবে জীবন চলবে, যেন দিশাহারা আমি। তবে মনোবল হারানোর মানুষ তো আমি নই। মনটাকে শক্ত করি। আমার সন্তান আছে, তাঁকে নিয়েই আমাকে এগিয়ে যেতে হবে। তাঁকে গড়ে তুলতে হবে। আবার আমার ক্যারিয়ার। দুটোকে সমন্বয় করেই এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করি।’

অনিকের বাবা ইফতেখারুল আলম নানা ধরনের রোগে ভুগছিলেন। কিডনি, লিভার, হার্টের নানান রোগ ছিল তাঁর। তবে এত তাড়াতাড়ি ছেড়ে চলে যাবেন, তা ভাবতে পারেননি ববিতা। মারা যাওয়ার পরের সময়টুকু তাই অকুলপাথারে পড়লেও সামলে নেন।

ববিতা বললেন, ‘পরিবারের কেউ আমাকে সারা দিন দেখাশোনা করত না। মাঝেমধ্যে করবে। কারণ, তাদের সবারও তো আলাদা সংসার, পেশাগত জীবন।। তাই সব আমাকে একাই করতে হতো। শুটিং, আয়রোজগার, সংসার চালানো, অনিককে দেখভাল—সব একাই করতে হতো।

অনিকের জন্মের আগে ‘লেডি স্মাগলার’ নামে একটি ছবির শুটিংয়ে ফিলিপাইনে যান ববিতা। নিজের প্রযোজনাপ্রতিষ্ঠানের এই ছবির বেশির ভাগ শুটিং হয় ফিলিপাইনে। অ্যানি সি স্কোভা নামের এক তরুণী ফিলিপাইনে ছবিটির শুটিংয়ের প্রোডাকশনে কাজ করতেন। সেই মেয়েটিকে পছন্দ হয় ববিতার। তাঁকে দেশে আনার পরিকল্পনা করেন, যাতে বাসার কাজে সহযোগিতা পাওয়া যায়। একটা পর্যায়ে প্রস্তাবও দেন। ফিলিপাইনের সেই তরুণী অনিকের জন্মের পর তাঁর দেখভালও করেছেন।

 

ববিতা বললেন, ‘ফিলিপাইনে “লেডি স্মাগলার” ছবির শুটিংয়ের সময়ে অ্যানিকে বলেছিলাম, তুমি কি বাংলাদেশে যেতে চাও? তখন কিন্তু অনিকের জন্ম হয়নি। সে বলে কি, আমার তো পাসপোর্ট নেই। তখন বলেছিলাম, আমি পাসপোর্ট করিয়ে নেব। আমি ভাবলাম, আমি একজন শিল্পী মানুষ, শুটিংয়ের কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। এমন একজন মানুষ দরকার, যে খুব বিশ্বাসী। তখন বাংলাদেশি, কাজ যারা করত, তাদের ওপর খুব একটা আস্থা রাখা যেত না। নানা ধরনের দুর্ঘটনা ঘটত। আবার তারা ঠিকমতো কাজ করত না। অ্যানিকে আনলাম, মেয়েটা এত বিশ্বাসী ছিল, আমার বাসার সবকিছু সামাল দিত। ঘরসংসার, বাজারসদাই, সব করত। আমার শুটিংয়ের কাজেও সহযোগিতা করত। শুরুতে টানা পাঁচ-ছয় বছর ছিল। এরপর একবার গিয়ে আবার এল। ফিরে এসে আবার পাঁচ-ছয় বছর ছিল। তারপর একদিন মেয়েটা বলল, বাবা-মায়ের বয়স হয়েছে, আমাকে একেবারে চলে যেতে হবে। মেয়েটা চলে গেল। এরপর আবার অন্য মিশন শুরু।’

ববিতার ছেলে অনিকের স্কুলজীবন শুরু বনানীর প্লে–পেন স্কুলে। ববিতা বললেন, ‘আমার ড্রাইভার অনিককে স্কুলে দিয়ে আসত। মেয়েটা নিয়ে আসত। ওই মেয়েটা আমি যখন ছবি বানাতাম প্রোডাকশনের কাজও করত। সব কাজ জানত। খুবই স্মার্ট ছিল। বাংলাদেশে তখন বাসাবাড়িতে বিদেশি কাজের লোক রাখা যেত না। আমি তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটা চিঠি লিখেছিলাম। লিখেছিলাম, আমি একজন শিল্পী মানুষ, দেশ-বিদেশ নানা জায়গায় শুটিংয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। আমার সন্তানের বাবা বেঁচে নাই। আমার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে গৃহপরিচারিকা রাখার অনুমতি দিলে ভালো হয়। অনুমতি পাই।’

প্লে–পেন স্কুলে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত পড়ার পর অনিকের স্কুলজীবন শুরু স্কলাস্টিকায়। এখান থেকেই ও লেভেল আর এ লেভেল শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন কানাডার ওয়াটার লু ইউনিভার্সিটিতে। কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে। এখন চাকরি করছেন।

ববিতা সেই সময়ের কথা মনে করে বললেন, ‘অনিক যখন বনানীর স্কুলে যাওয়া শুরু করে, তখন শুরুর দিকে আমি ওর ক্লাসরুমের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতাম। পরীক্ষায় সময় এটা বেশি করতে হতো। ববিতা নায়িকা, ওসব বিষয়ে আমার মধ্যে কাজ করত না।’

ফিলিপাইনের গৃহপরিচারিকা অ্যানি চলে যাওয়ার পর ববিতার আবার চিন্তায় পড়ে যান। শুটিং করতে হলে তো বাসাবাড়ির কাজের সহযোগিতার জন্য গৃহপরিচারিকা লাগবে। এবার অনেকটা বাধ্য হয়ে দেশ থেকে নিলেন। তবে বাইরে গেলে মনটা পড়ে থাকত বাসায়। অনিক কী করছে, খাচ্ছে তো ঠিকমতো। ঘুম হচ্ছে কি? পড়াশোনা করছে কি?

এদিকে ববিতার স্বামীর মারা যাওয়ার একটা সময় পর তাঁর ওপর বিয়ের চাপ আসতে থাকে। পরিবারের লোকজন, আত্মীয়স্বজন সবারই একটা চাপ ছিল। অন্যদিকে স্বামী যেহেতু নেই, প্রেমের প্রস্তাবও বাদ যায়নি। অনেকেই তাঁকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছেন, বিয়ে করে সংসারী হতে চেয়েছেন। কিন্তু ববিতা ছেলে অনিকের কথা ভেবে বিয়ের কথা ভাবেননি।

ববিতা বললেন, ‘আত্মীয়স্বজন আর অভিভাবকেরা বলত, তুমি এত অল্প বয়সে স্বামীহারা হলে, আবার বিয়ে করা উচিত। কারণ, আমি সব মিলিয়ে সংসার করেছি দশ-এগারো বছর। তারপর তো অনিকের বাবা মারাই গেল। আমি বললাম, বিয়ে আমি আর করব না। আমার সন্তান, আমার অভিনয়জীবন—এ নিয়েই আগামী জীবন কাটিয়ে দিতে চাই। সন্তানের দেখভাল, শুটিং—একা জীবনে যতটুকু পারি করেছি। তবে ওই সময়টায় সিঙ্গেল মাদার হওয়ার কারণে অনেক স্যাক্রিফাইস করতে হয়েছে। আউটডোর শুটিং পারতপক্ষে করতে পারতাম না। নিতাম না। ভাবতাম, আমি যদি ঢাকায় না থাকি, তাহলে বাসায় যদি কোনো সমস্যা হয়, কীভাবে সামাল দেব।

এফডিসিতে থাকলে তো গাড়ি টান দিয়ে বাসায় যেতে পারব। কিন্তু কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মানিকগঞ্জ, সিলেট, গাজীপুরে যদি শুটিংয়ে থাকি, তাহলে তো ছেলের খোঁজখবর নিতে পারব না। এরপরও কতবার যে এমন হয়েছে, আমি শুটিংয়ে যাওয়ার সময় অনিক খুব কাঁদছিল। বলছিল, “আম্মা তুমি যেয়ো না, আম্মা তুমি যেয়ো না।” কিন্তু ছবিগুলো তো আমার সাইন করা। যেতেই হবে। শুটিং না করলে সংসারজীবনই–বা চলবে কী করে। এসব নিয়ে আমার পুরো জীবনটা কেটেছে।’

সিঙ্গেল মাদার হিসেবে যে জীবন কাটিয়ে এসেছেন, তা নিয়ে ববিতা বললেন, ‘আমার জীবনটা অনেক কঠিন ছিল, আবার শান্তিরও। অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে, কষ্ট স্বীকার করা লাগছে। কিন্তু সবকিছুর পর যখন সন্তানের মুখটা দেখতাম, শান্তিতে মনটা ভরে যেত।’ছেলে অনিক যখন ও লেভেলের শিক্ষার্থী তখন তিনি মায়ের বিয়ের ব্যাপারে কথা বলেন। সেই সময়ের কথা মনে করে ববিতা বললেন, ‘অনিক যখন বড় হয়েছে, বুঝতে শিখেছে, তখন আমাকে বলত, “আম্মা তুমি একা। তোমার অনেক কষ্ট হয়। তুমি একটা আব্বু নিয়ে আসো।” আমি সন্তানকে বুঝিয়েছিলাম, “না বাবা, এটা হয় না। তুমি থাকলে আমার কিছুই লাগবে না। তোমাকে নিয়েই তো আমি ভালো আছি।”

কথা প্রসঙ্গে ববিতা আরও বললেন, ‘সবাই যে এত বলত বিয়ে করো, বিয়ে করো, তখন এটাও ভাবতাম, আমি যদি একটা মানুষকে বিয়ে করি, সেই সংসারে হয়তো সন্তান হবে। আর সন্তান যদি হয়, কেমন হবে, কী হবে? অনিককে মেনে নেবে কি নেবে না। অনিক আবার তাদের সাথে অ্যাডজাস্ট করতে পারবে কি পারবে না, কত কি যে আমার মাথার মধ্যে চলত। কত মানুষ আমাকে সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে। চাইলে বিয়ে করতেই পারতাম, কিন্তু করিনি। আমাদের সঙ্গে আরও কয়েকজন বিয়ে করেছে, সেটা একান্তই তাঁদের বিষয়। অনেক কিছু ভেবে আর দ্বিতীয়বার বিয়ের কথা ভাবিনি।’

দেশে আর দেশের বাইরে—সবার কাছে ববিতা তাঁদের প্রিয় একজন অভিনেত্রী, কিন্তু একমাত্র ছেলে অনিকের কাছে শুধুই ‘সংগ্রামী মা’। তাই তো সংগ্রামী মায়ের স্বপ্নপূরণে ছেলে অনিক পড়াশোনা ছাড়া আর কিছুই ভাবতেন না।

ববিতা দীর্ঘ অভিনয়জীবনে ২৭৫টি ছবিতে অভিনয় করেছেন। দেশের বিখ্যাত সব নির্মাতার পাশাপাশি কাজ করেছেন দেশের বাইরের বিখ্যাত নির্মাতার ছবিতেও। সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’ ছবির জন্য ববিতা দেশে ও দেশের বাইরে প্রশংসা কুড়ান।




পাকিস্তানের চেয়ে ৩৪ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক : ঢাকা টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা শেষে ৩৪ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে এক সেঞ্চুরি আর দুই ফিফটিতে বাংলাদেশ ৪১৩ রানে। জবাবে এক সেঞ্চুরি আর তিন ফিফটিতে ৩৬৮ রান করে পাকিস্তান ক্রিকেট দল।

প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পেয়ে রোববার তৃতীয় দিনের শেষ বিকেলে ব্যাট করতে নেমে কোনো উইকেট না হারিয়ে বাংলাদেশ সংগ্রহ করে ৭ রান।

আগামীকাল চতুর্থ দিনে ফের ব্যাট করতে নামবেন ২ ও ০ রানে অপরাজিত থাকেন বাংলাদেশ দলের দুই ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান ইসলাম অনিক।

গতকাল শনিবার দ্বিতীয় দিনে পাকিস্তান করেছিল ১ উইকেটে ১৭৯ রান। আজ তৃতীয় দিনে ৯ উইকেট হারিয়ে সফরকারীরা করে ২০৭ রান।

শনিবার ৮৫ রানে অপরাজিত থাকা আজান আওয়াইস আজ আউট হওয়ার আগে সেঞ্চুরি তুলে নেন। তিনি ১৬৫ বলে ১৪টি বাউন্ডারির সাহায্যে ১০৩ রান করেন।

অভিষেক টেস্টে খেলতে নেমে সেঞ্চুরি করার পাশাপাশি এই টেস্টে অভিষেক হওয়া আব্দুল্লাহ ফজলকে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে ১০৪ রানের জুটি গড়েন আজান।

২ উইকেটে পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল ২১০ রান। এরপর ব্যাটিংয়ে নেমেই আউট হয়ে ফেরেন অধিনায়ক শান মাসুদ ও সৌদ শাকিল। তারা দুই অঙ্কের ফিগার রান করতে পারেননি।

শনিবার ৩৭ রানে অপরাজিত থাকা আব্দুল্লাহ ফজল আউট হন দলীয় ২৩০ রানে। সাজঘরে ফেরার আগে ১২০ বলে ৭টি চার আর এক ছক্কায় করেন ৬০ রান।

৫ উইকেটে পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল ২৩০ রান। এরপর দলের হাল ধরেন দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলি আগা। তারা ষষ্ঠ উইকেটে ২৩০ রানের জুটি গড়েন। এই জুটিতে দুই জনে ফিফটি তুলে নেন।

দলীয় ৩৪৯ ও ৩৫৩ রানে ফেরেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলি আগা। ৭৯ বলে ৮টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৫৯ রান করেন রিজওয়ান আর ৯৪ বলে ৬টি চার আর এক ছক্কায় ৫৮ রান করে ফেরেন আগা সালমান। রিজওয়ান ও আগা সালমান আউট হওয়ার মধ্য দিয়ে স্বীকৃত ব্যাটসম্যানদের হারায় পাকিস্তান।

এরপর নোমান আলি, শাহিন শাহ আফ্রিদি, হাসান আলি ও মোহাম্মদ আব্বাসরা স্কোর বোর্ডে ৩৩ রানের বেশি যোগ করতে পারেননি। যে কারণে ১০০.৩ ওভারে ৩৮৬ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান।

বাংলাদেশ দলের হয়ে ১০২ রান খরচ করে ৫ উইকেট নেন মেহেদি হাসান মিরাজ। দুটি করে উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলাম।

শুক্রবার শুরু হয় দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে স্বাগতিক বাংলাদেশ।

প্রথম দিনে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩০১ রান করে বাংলাদেশ। আজ শনিবার দ্বিতীয় দিনে আরও ১১২ রান করতেই ৬ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪১৩ রান।

দলের হয়ে সেঞ্চুরি করেছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তিনি ১৩০ বলে ১২টি চার আর দুটি ছক্কায় ১০১ রান করেন। ২০০ বল খেলে ১০টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৯১ রান করে সেঞ্চুরির আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়েন সাবেক অধিনায়ক মুমিনুল হক সৌরভ।

১৭৯ বলে ৮টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৭১ রান করে ফেরেন জাতীয় দলের সাবেক আরেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। ৬৭ বলে ৩৩ রান করেন লিটন দাস। মাত্র ১৯ বলে তিন চার আর এক ছক্কায় ২৮ রান করে ফেরেন পেস বোলার তাসকিন আহমেদ।

পাকিস্তানের হয়ে ৯২ রানে ৫ উইকেট নেন মোহাম্মদ আব্বাস। ১১৩ রানে ৩ উইকেট নেন পেস বোলার শাহিন শাহ আফ্রিদি।




সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৫০ হাজার ৯০৪ বাংলাদেশি হজযাত্রী

ডেস্ক নিউজ : এ বছর পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে রোববার (১০ মে) পর্যন্ত ১৩০টি হজ ফ্লাইটে মোট ৫০ হাজার ৯০৪ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।

বাংলাদেশ হজ অফিসের পরিচালক মো. লোকমান হোসেন জানান, আজ সকাল ১০টা পর্যন্ত জেদ্দায় মোট ১৩০টি হজ ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে।

হজ বুলেটিন অনুযায়ী, গতকাল পর্যন্ত ১২ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ এবং দুইজন নারী। এদের মধ্যে ১০ জন মক্কায় এবং দুজন মদিনায় মারা যান।

বুলেটিনে আরও বলা হয়েছে, সৌদি মেডিকেল টিম গতকাল পর্যন্ত ২১ হাজার ১৪ জন হজযাত্রীকে চিকিৎসা সেবা দিয়েছে। আর আইটি হেল্পডেস্ক ১৩ হাজার ৭৮০ জনকে সেবা দিয়েছে।

হজ অফিসের পরিচালক জানান, এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জনকে হজ পালনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪ হাজার ৫৬৫ জন হজযাত্রী সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করবেন।

মোট ৬৬০টি এজেন্সি হজ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩০টি প্রধান এজেন্সি এবং ৬৩০টি সমন্বয়কারী এজেন্সি।

এয়ারলাইনভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৬০টি ফ্লাইটে ২৩ হাজার ৯৬০ জন, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ৪৮টি ফ্লাইটে ১৮ হাজার ৪৮৮ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের ২২টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ৪৫৬ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।

বাকি ২৭ হাজার ৪৬৯ জন হজযাত্রী নির্ধারিত এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সৌদি আরব পৌঁছবেন বলে জানান হজ অফিসের পরিচালক।

এর আগে, গত ১৭ এপ্রিল রাত ১১টা ৫৭ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪১৮ জন হজযাত্রী নিয়ে প্রথম হজ ফ্লাইট (বিজি৩০০১) জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ফ্লাইটটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ঢাকাস্থ সৌদি দূতাবাস এখন পর্যন্ত মোট ৭৮ হাজার ৩৭৩টি ভিসা ইস্যু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৪৫৪টি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯১৯টি।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ৩০ মে জেদ্দা থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে এবং ৩০ জুন পর্যন্ত তা চলবে।




নৈশ প্রহরী থেকে কোটি টাকার মালিক! কর বিভাগের কর্মচারীর বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও দুর্নীতির বিস্ফোরক তথ্য

এসএম বদরুল আলমঃ মো: জুলহাস উদ্দিন আহমেদ কর বিভাগে নৈশ প্রহরী হিসেবে চাকুরীতে প্রথম যোগদান করেন ২৩ মে ১৯৯৩ সালে। একই বিভাগে ৭ বছর চাকরি করার পর ১০ সেপ্টেম্বর ২০০০ সালে অফিস সহায়ক ( পিয়ন ) পদে প্রথম পদোন্নতি পান। একটানা একই বিভাগে ২৫ বছর চাকরি করেন তিনি। অন্তর্বর্তী সরকার থাকাকালীন “অফিস সহকারী কাম কমপিউটার মুদ্রাক্ষরিক ” পদে ৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে দ্বিতীয় পদোন্নতি পেয়ে বর্তমানে তিনি কর অঞ্চল – ৩, সার্কেল – ৫৯, পুরানা পল্টন ঢাকায় নিয়মিত চাকরি করে যাচ্ছেন। উনার বর্তমান মাসিক বেতন সর্বসাকুল্যে ২২,৪৯০ টাকা।

 

354

 

জুলহাস উদ্দিন আহমেদ ভূয়া ঠিকানায় চাকরি নিয়েছেন মর্মে অনুসন্ধানী প্রতিবেদকের হাতে বেশ কিছু তথ্য-উপাত্ত ও প্রমান আসে। উনার সম্পর্কে বিভিন্ন ভাবে অনুসন্ধান করে জানা যায় তিনি সরকারের চোখ ফাঁকি দিয়ে কাগজ-পত্র জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া স্থায়ী ঠিকানা মানিকগঞ্জ জেলা দেখিয়ে সরকারী চাকরি বাগিয়ে নেন। পরবর্তীতে চাকরি স্থায়ী করনের জন্য পুলিশ ভেরিফিকেশনে তিনি ঘুষের মাধ্যমে পুলিশকে ম্যানেজ করে মানিকগঞ্জের ভূয়া স্থায়ী ঠিকানাকে সঠিক স্থায়ী ঠিকানা দেখিয়ে পুলিশ তদন্ত রিপোর্টটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়ান। সংশ্লিষ্ট দপ্তর পুলিশ তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী উনার চাকরি স্থায়ী করন করেন।

জুলহাস উদ্দিন সম্পর্কে মানিকগঞ্জ জেলায় অনুসন্ধান চালানো হলে তার কোন স্থায়ী ঠিকানার অস্তিত্ব খুজে পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদকের হাতের তথ্য-উপাত্ত ও খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, উনার সঠিক স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম / রাস্তা ৯৯৯, ডাকঘর – সুলতানপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, জেলা – ব্রাহ্মণবাড়িয়া। যাহা উনার এন আই ডি পূর্বের নাম্বার ১৯৭৩২৬৯৩৬২৫৬৮৮৭২৯ এবং বর্তমান স্মার্ট কার্ড নাম্বার ৬৪০০৭১৫১২১ অনুযায়ী সত্যতা পাওয়া যায়।

এসব করে এখানেই তিনি ক্ষ্যান্ত হননি, চাকরি চলাকালীন অবস্থায় নিয়মিত ভাবে সরকারের সাথে প্রতারণা করেই যাচ্ছেন। বাংলাদেশ সরকার প্রত্যেক সরকারী কর্মকর্তা –
কর্মচারীদের আয়কর রির্টান জমা বাধ্যতামূলক করেছে । নতুন TIN ( ট্যাক্সপেয়ার আইডেন্টি নাম্বার ) যখন অনলাইন থেকে বের করা হয়। সেক্ষেত্রে ফরম পুরনের সময় পেশা সরকারী চাকুরীজীবি এবং কর্মস্থল ঢাকা দেখালে সয়ংক্রিয় ভাবে কর অঞ্চল – ৪ অন্তর্ভুক্ত হবে। এই কর অঞ্চলেই ঢাকায় অবস্থানরত সকল সরকারী চাকুরীজীবি আয়কর রির্টান জমা করে থাকেন।

কিন্তু জুলহাস উদ্দিন আহমেদের ৩৪ বছর ধরে নিজের কর্মস্থল কর অঞ্চল – ৩ হওয়ায় নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে লাগাতার একই জায়গায় চাকরি করে যাচ্ছেন। সব নিয়ম যেন তার হাতের মুঠোয়।কিন্তু তিনি সরকারকে বৃদ্ধাংগুলি দেখিয়ে নিজের রাজ্য কর অঞ্চল -৩, সার্কেল – ৬২ থেকেই নতুন TIN অনলাইন থেকে বের করেন। সব অনিয়ম তার কাছে এখন নিয়মে পরিনত হয়েছে। দেখার যেন কেউ নেই।
সরাসরি সাক্ষাৎকারে উনার কাছে ভুয়া ঠিকানা ও এসব অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার ভুল হয়েছে।

বিষয়টি এখানেই শেষ নয়, উনার TIN সার্টিফিকেট যাচাই করে দেখা যায় রাজধানী ঢাকাতেও উনার একটি স্থায়ী ঠিকানা পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে উনার স্থায়ী ঠিকানা হলো ৩ টি। প্রশ্ন থেকে যায় – একই ব্যাক্তির স্থায়ী ঠিকানা কয়টি হতে পারে ? মুলত এর ভিতরে রহস্য কি ? হ্যাঁ গভীরে আরো রহস্য লুকিয়ে আছে।

জুলহাস উদ্দিন আহমেদের ভূয়া ঠিকানায় চাকরি, সরকারের সাথে প্রতারণা ও একাধিক স্থায়ী ঠিকানার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে কেচো খুড়তে সাপ বেরিয়ে এলো। তিনি গোপনে গড়েছেন টাকার পাহাড় ও নামে বেনামে সম্পদের পাহাড়। ঢাকার স্থায়ী ঠিকানার সূত্র ধরে অনুসন্ধানে জানা যায় – খিলগাও দক্ষীন বনশ্রী মেইন রোড এইচ ব্লকে বাড়ি নং – ৩ তার নিকট আত্তীয়ের নামে কিনেছেন কোটি টাকার ফ্ল্যাট। তার সঠিক স্থায়ী ঠিকানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সুলতানপুরে তার নিজের নামে ও ভাইদের নামে গড়েছেন রাজকীয় প্রাসাদ। এবং বাড়ির ভিতর রয়েছে অভিজাত ফার্নিচার। নিকট আত্তীয় স্বজনের নামে কিনেছেন প্রচুর জায়গা জমি। ৭ ভাইয়ের মধ্যে তিনি তার সবচেয়ে ছোট ভাইকে পাঠিয়েছেন আমেরিকার টেক্সাসে। অন্য আরেক ভাইকে পাঠিয়েছেন সৌদিআরবে।

 

657

 

জুলহাস উদ্দিন আহমেদ ২ মেয়ে ১ ছেলের পিতা। ছেলেকে দেশের সুনামধন্য প্রাইভেট ইষ্ট ওয়েষ্ট ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করিয়েছেন। শুধু তাই নয় – সেখানে পড়াশোনা সম্পন্ন করার পর বর্তমানে উনার ছেলেকে লন্ডন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করাচ্ছেন। উনার সাক্ষাৎকার নিতে গিয়ে উনাকে যখন প্রশ্ন করা হয় – ৭ বছর নৈশ প্রহরী এবং ২৫ বছর যাবৎ আপনি পিয়ন পদে চাকরি করেছেন। তখন আপনার মাসিক বেতন কত ছিল ? উত্তরে তিনি বলেন – পূর্বে অতি সামান্য বেতন থাকলেও তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার টাকায়। ছেলেকে ইষ্ট ওয়েষ্ট ইউনিভার্সিটির খরচ এবং লন্ডনে পড়াশোনা করতে যাওয়ার খরচ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে উনি কোন সদ উত্তর না দিয়ে রেগে যান এবং বলেন – আপনারা যা পারেন নিউজ করেন!

তার সম্পর্কে আরও বিভিন্ন ভাবে অনুসন্ধান করে প্রমান পাওয়া যায়, তিনি সুলতানপুর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় খেলাধুলার অনুষ্ঠান, স্কুলের অনুষ্ঠান, বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে ডোনেশন করে বিশেষ অতিথি হিসেবে মঞ্চে বসেন এবং উপহার সামগ্রী ও অনুদান বিতরন করেন।

 

786

 

এসব বিষয়ে সরাসরি উনাকে প্রশ্ন করা হয় যে – আপনি বেতন পান ১৬ হাজার টাকা। কিন্তু বাস্তব চিত্রে আপনার মাসিক খরচ লাখ লাখ টাকা। বাকী টাকাগুলো আপনার কোথা থেকে আসে ? তিনি উত্তর না দিয়ে প্রতিবেদকের উপর রেগে যান।

দেশের সচেতন মহলের দাবি, এই ধরনের অসাধু কর্মচারী রাষ্ট্রের জন্য খুবই ভয়ংকর। তার সমস্ত অপরাধের বিষয় গুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষ আমলে নিবেন এবং আশাবাদী যথাযথ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শাস্তির ব্যাবস্থা গ্রহণ করবেন।