কোন বিশ্বকাপে কতটি আত্মঘাতী গোল হয়েছে

ক্রীড়া ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে শুক্রবার রাতে শেষ ৩২ দলের রাউন্ডে মিসর–অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে আত্মঘাতী গোল করেন আফ্রিকার দলটির রাইটব্যাক মোহামেদ হানি। চলতি বিশ্বকাপে এটা ছিল ১৩তম আত্মঘাতী গোল। এই গোলেই ভেঙেছে বিশ্বকাপে এক আসরে সর্বোচ্চ আত্মঘাতী গোলের রেকর্ড।

বিশ্বকাপে এত দিন এক আসরে সর্বোচ্চ আত্মঘাতী গোলের রেকর্ড ছিল ২০১৮ আসরে। সেবার ১২টি আত্মঘাতী গোল হয়েছে। এবার শেষ ৩২ দলের রাউন্ডে ভেঙে গেল আট বছর আগের আসরের সে রেকর্ড। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ১৪টি আত্মঘাতী গোল হয়েছে। সামনে এখনো শেষ ষোলো, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল। আত্মঘাতী গোলের নতুন এ রেকর্ড কোন উচ্চতায় গিয়ে থামে, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

২০২২ সালে ২টি, ২০১৮ সালে ১২টি, ২০১৪ সালে ৪টি, ২০১০ সালে ২টি, ২০০৬ সালে ৪টি, ২০০২ সালে ২টি, ১৯৯৮ সালে ৫টি, ১৯৯৪ সালে ১টি, ১৯৯০ সালে আত্মঘাতী গোল হয়নি। ১৯৮৬ সালে ২টি, ১৯৮২ সালে ১টি, ১৯৭৮ সালে ২টি, ১৯৭৪ সালে ২টি, ১৯৭০ সালে ১টি, ১৯৬৬ সালে ২টি, ১৯৬২ সালে আত্মঘাতী গোল হয়নি। ১৯৫৪ সালে ৪টি, ১৯৫০ সালে আত্মঘাতী গোল হয়নি, ১৯৩৮ সালে ২টি, ১৯৩৪ সালে আত্মঘাতী গোল হয়নি ও ১৯৩৪ সালে ১টি আত্মঘাতী গোল হয়েছে।




ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজ : যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মার্কিন জনগণকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার পাঠানো এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি এ অভিনন্দন জানান।

শুভেচ্ছা বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সরকার, জনগণ ও আমার নিজের পক্ষ থেকে আপনাকে এবং আপনার মহান দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক উপলক্ষে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। আমরা আশাবাদী যে, আপনার বাস্তববাদী নেতৃত্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আগামী দশকগুলোতে আরও মহানতার পথে এগিয়ে চলেছে।

তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও উন্নয়নমূলক যাত্রায় এক মূল্যবান বন্ধু ও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে পাশে রয়েছে। বিগত ৫ দশকে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শিক্ষা, প্রতিরক্ষা এবং ব্যাপক জনগণের সম্পর্ক অন্তর্ভুক্ত হয়ে একটি শক্তিশালী ও বহুমুখী অংশীদারিত্ব বিকশিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আমরা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন একটি অধ্যায়ে প্রবেশ করেছি, যেখানে চলতি বছরের শুরু থেকে বাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এ ছাড়াও রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সমর্থন ও উদারতার জন্য আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।

তিনি আরও বলেন, আমি এবং আমার সরকার অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে আমাদের অংশীদারিত্বকে আরও সুসংহত ও গভীর করতে আপনার এবং আপনার প্রশাসনের সাথে কাজ চালিয়ে যেতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

সবশেষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সাফল্য কামনা করেন এবং বন্ধুপ্রতিম মার্কিন জনগণের জন্য টেকসই শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুখের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।




গোসল করতে পুকুরে নেমে প্রাণ গেল ৩ শিশুর

ডেস্ক নিউজ : নরসিংদীর মনোহরদীতে পুকুরে গোসল করতে নামার পর পানিতে ডুবে তিন কন্যা শিশু নিহত হয়েছে। আজ শনিবার বিকেলে উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের চর-আহমদপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো খিদিরপুর এলাকার সাইফুল ইসলামের মেয়ে ফাতেমা (৮), তার ফুপাতো বোন ও একই এলাকার তুহিন মিয়ার মেয়ে আয়েশা ওরফে আশামনি (১২) এবং তাদের খালা ময়মনসিংহের গফরগাঁও এলাকার মুফাচ্ছের ওরফে শুক্কুর আলীর মেয়ে সুমাইয়া আক্তার (১৩)।

নিহতের স্বজনরা জানান, বিকেলে বাড়ির পাশেই একটি পুকুরে গোসল করতে নামে তিন শিশু। দীর্ঘ সময় পার হলেও তিন শিশু পানির ওপর ভেসে না উঠলে বাড়ির এক ছোট শিশু বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানায়। পরে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন পুকুরে নেমে তাদের উদ্ধার করে। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও ততক্ষণে তাদের মৃত্যু হয়।

মনোহরদী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর বাদশা বলেন, নিহতদের মধ্যে দুইজন স্থানীয় কওমি মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী এবং একজন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তাদের অকালমৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




পাকিস্তানে মানব প্লাসেন্টা পাচারকারী আন্তর্জাতিক চক্রের সন্ধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বার্ধক্যরোধী (অ্যান্টি-এজিং) ইনজেকশন তৈরির উদ্দেশ্যে হাসপাতাল থেকে মানব প্লাসেন্টা সংগ্রহ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে একটি আন্তর্জাতিক চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে পাকিস্তান। দেশটির ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এফআইএ) জানিয়েছে, এটি মানব প্লাসেন্টা পাচারের সঙ্গে জড়িত প্রথম সংগঠিত আন্তর্জাতিক চক্র, যার কার্যক্রম দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদের বাইরে আরও কয়েকটি বড় শহরেও বিস্তৃত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

এফআইএর তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত চক্রটি প্রতি মাসে বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে প্রায় ২০০ কেজি মানব প্লাসেন্টা কিনত। পরে সেগুলো শুকিয়ে বিশেষ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করে বিদেশে পাঠানো হতো, যেখানে এগুলো দিয়ে উচ্চমূল্যের বার্ধক্যরোধী ইনজেকশন তৈরি করা হতো। বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

গত সপ্তাহে ইসলামাবাদের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে কর্মকর্তারা প্রায় ৫০০ কেজি সন্দেহভাজন মানব প্লাসেন্টা জব্দ করেন। বাড়িটিকে প্লাসেন্টা সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অবৈধ কারখানায় রূপান্তর করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে এফআইএ। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সংস্থাটির প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, ট্রলিতে সাজানো ট্রের ওপর বিপুল পরিমাণ শুকনো প্লাসেন্টা রাখা ছিল, যা প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল।

এদিকে বুধবার ইসলামাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ভিয়েতনামগামী ১০০ কেজি মানবদেহের টিস্যুবাহী একটি চালানও আটক করেছে এফআইএ। কর্মকর্তাদের ধারণা, এটিও একই পাচারচক্রের অংশ।

পাকিস্তানের মানব অঙ্গ প্রতিস্থাপন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা হিনা কানওয়াল জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃতব্যক্তিরা ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডির বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে প্রতিটি প্লাসেন্টা প্রায় ৮০০ পাকিস্তানি রুপিতে কিনতেন। পরে সেগুলো বিদেশে রপ্তানি করা হতো।

এফআইএর দাবি, এসব প্লাসেন্টা দিয়ে তৈরি প্রতিটি অ্যান্টি-এজিং ইনজেকশনের বাজারমূল্য প্রায় সাত লাখ পাকিস্তানি রুপি।

তদন্তকারীরা মনে করছেন, চক্রটির কার্যক্রম ইসলামাবাদ ছাড়াও লাহোর, পেশোয়ার ও রাওয়ালপিন্ডিসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বিস্তৃত। এ ঘটনায় অভিবাসন কর্মকর্তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এবং কয়েকটি হাসপাতালের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পাকিস্তানের আইনে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে মানব অঙ্গ বা মানবদেহের অংশ সংগ্রহ ও পাচারের দায়ে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ রুপি পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

এফআইএর এক কর্মকর্তা বিবিসি উর্দুকে বলেন, এর আগে অবৈধ মানব অঙ্গ প্রতিস্থাপনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হলেও মানব প্লাসেন্টা নিয়ে পরিচালিত আন্তর্জাতিক সংগঠিত চক্রের সন্ধান এই প্রথম পাওয়া গেল।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা প্রথমে দাবি করেছিলেন, তারা ভেড়ার প্লাসেন্টা সংরক্ষণ করছিলেন। তবে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা স্বীকার করেন, সেগুলো আসলে মানব প্লাসেন্টা।

এ বিষয়ে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ সাদাফ তারিক বলেন, প্লাসেন্টা অত্যন্ত সংক্রমণপ্রবণ চিকিৎসা বর্জ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। সন্তান জন্মের পর এটি সাধারণত ক্লিনিক্যাল বর্জ্য হিসেবে ধ্বংস করা হয় এবং এর নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কঠোর বিধিমালা অনুসরণ করতে হয়।

তিনি জানান, পাকিস্তানসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশে কেবল সরকার অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানই চিকিৎসা বর্জ্য হিসেবে প্লাসেন্টা সংগ্রহ ও ধ্বংস করার অনুমতি পায়। হাসপাতালগুলোকে এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত নথিও সংরক্ষণ করতে হয়।

প্লাসেন্টা হলো গর্ভাবস্থায় জরায়ুর ভেতরে তৈরি হওয়া একটি অস্থায়ী অঙ্গ, যা গর্ভস্থ শিশুর পুষ্টি ও অক্সিজেন সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সন্তান জন্মের পর এর স্বাভাবিক কার্যকারিতা শেষ হয়ে যায়।

তবে বিশ্বের কিছু অঞ্চলে প্লাসেন্টায় থাকা প্রোটিন, আয়রন ও চর্বিকে পুষ্টিকর মনে করে তা দিয়ে বড়ি বা ইনজেকশন তৈরির প্রচলন রয়েছে। যদিও এসব ব্যবহারের কার্যকারিতা নিয়ে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত এবং বিভিন্ন দেশে এ বিষয়ে আইন ও বিধিনিষেধও ভিন্ন।




আজ শুরু হচ্ছে ষোলোর লড়াই, মুখোমুখি মরক্কো-কানাডা

ক্রীড়া ডেস্ক : বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে মরক্কো ও কানাডা। বাংলাদেশ সময় শনিবার (৪ জুলাই) রাত ১১টায় হিউস্টনের রিলায়ান্ট স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দু’দল। জয়ী দল নিশ্চিত করবে শেষ আট, আর হেরে গেলেই শেষ হবে বিশ্বকাপ অভিযান। তবে দুইদলই দুর্দান্ত খেলার ছন্দে আছে।

গ্রুপ পর্ব ও রাউন্ড অব ৩২ পেরিয়ে এবার বিশ্বকাপ যেন পা রেখেছে মহাযুদ্ধে। আজ রাত থেকেই শুরু হচ্ছে শেষ ষোলোর লড়াই। কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটতে মুখোমুখি মরক্কো ও কানাডা। রাউন্ড অব ৩২-এ স্বাগতিক কানাডা দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে নকআউটে এসেছে। অন্যদিকে মরক্কো টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে টিকিট কেটেছে শেষ ষোলোর।

কানাডার জন্য শেষ ষোলো বিশেষ কিছুই। তারা ১৯৮৬ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেললেও কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি। ২০২২ সালেও বিদায় নিতে হয়েছিল গ্রুপ পর্ব থেকেই। চলতি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো নকআউট জিতে শেষ ষোলোয় উঠে তারা গোটা দেশের ফুটবল মানচিত্র বদলে দিয়েছে। তৃতীয় সারির দল থেকে এক লাফে তারা অভিজাত ক্লাবে চলে এসেছে।

নকআউট পর্বে একটা ম্যাচ জয় করার জন্য কোনো দলকে যুগের পর যুগ অপেক্ষা করতে হয়। কানাডা সেই অপেক্ষাটা ঘুচিয়েছে অল্পতেই। স্বাগতিক হওয়ার মর্যাদাও রক্ষা করেছে তারা। অন্যদিকে মরক্কো তো লিখে চলেছে রূপকথা। কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠে বিশ্বকে চমকে দেয়ার পর তাদের বিস্ময়করযাত্রা চলছেই। চলতি আসরেও ডার্ক হর্স হিসেবেই দেখা হচ্ছে মরক্কোকে।

আফ্রিকান নেশন্স কাপজয়ী এই দলের পক্ষে যেকোনো কিছুই করা সম্ভব! চার বছরে বেশ শক্তি জমা করেছে তারা। টানা ৩২টির বেশি ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড নিয়ে এই ম্যাচে মাঠে নামছে মরক্কো।

এবার বিশ্বকাপে আশরাফ হাকিমি, ইয়াসিন বোনোর সাথে ইসমাইল সাইবারিও নিজেকে তারকার কাতারে নিয়ে গেছেন। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে ডাক পেয়েছেন বায়ার্ন মিউনিখ থেকে।

অতীতের পরিসংখ্যানও মরক্কোর পক্ষে। দু’দল এর আগে চারবার মুখোমুখি হয়েছে। সেখানে তিনবার জিতেছে মরক্কো, একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। কানাডা এখনো মরক্কোর বিপক্ষে জয়ের দেখা পায়নি। দু’দলের সর্বশেষ দেখা হয়েছিল ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে। সেবার হাকিম জিয়েচ ও ইউসুফ আন-নেসিরির গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছিল মরক্কো।

অবশ্য ইতিহাস নয়, বর্তমান ছন্দই কানাডার সবচেয়ে বড় ভরসা। নিজেদের সমর্থকদের সামনে আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলছে তারা। গতিময় আক্রমণ, উচ্চ প্রেসিং এবং দ্রুত ট্রানজিশন এই দলের মূল শক্তি। তবে ইতিহাস আর সম্ভাবনা যাইহোক; নকআউট পর্বের ম্যাচে ভুলের সুযোগ নেই। একটি মুহূর্তই বদলে দিতে পারে পুরো ম্যাচের চিত্র। তাই হিউস্টনে সতর্ক কিন্তু রোমাঞ্চকর একটি লড়াইয়ের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।




দ্বিতীয় বিয়ে ও মা হওয়ার খবর দিলেন মৌসুমী

বিনোদন ডেস্ক : প্রথম বিয়ের কয়েক মাসের মাথায় চলতি বছরের শুরুর দিকেই ভেঙে যায় লাক্স তারকা মৌসুমী হামিদের সংসার। এবার দ্বিতীয় বিয়ের খবর সামনে আনলেন এই অভিনেত্রী। শুধু তাই নয়, সঙ্গে জানালেন সুখবরও। মা হতে চলেছেন তিনি।

গতকাল শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যায় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকির একটি অনুষ্ঠানে প্রথমবার তার বেবিবাম্প দেখা যায়। এ সময় অভিনেত্রীর সঙ্গে ছিলেন তার নতুন স্বামী আবদুল ওয়াদুদ সজীব। অনুষ্ঠানে সহকর্মীদের উদ্দেশে হাসিমুখে মৌসুমী বলেন, ‘আমি মা হতে চলেছি। এই দেখ, আমার সন্তান।’

তিনি জানান, সবাইকে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য এরকম আয়োজনে স্বামী-সন্তানের বিষয়টি সামনে এনেছেন তিনি। যাতে একসঙ্গে সবাইকে জানানো যায়। জীবনের নতুন এ অধ্যায়ে সবার কাছে দোয়াও চেয়েছেন মৌসুমী।

এ সময় মৌসুমী হামিদ আরও বলেন, ‘অনেকেই ভুলভাবে খবর প্রকাশ করবে- এই ভেবে এতদিন কাউকে কিছু জানাইনি। তাই চরকি কার্নিভ্যালেই সবাইকে একসঙ্গে সুখবরটি দিতে চেয়েছি। আমি এবং আমার অনাগত সন্তান ভালো আছি। জীবনের এক নতুন অনুভূতির মধ্যদিয়ে যাচ্ছি। সবার কাছে দোয়া চাই।’

কবে বিয়ে করেছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে অভিনেত্রী জানান, বেশ কিছুদিন আগেই তাদের বিয়ে হয়েছে। তবে এখন তিনি বিয়ের চেয়ে মাতৃত্বের আনন্দ নিয়েই থাকতে চান।

স্বামীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে মৌসুমী বলেন, ‘আমরা ১৪ বছরের পুরোনো সেরা বন্ধু। আমাদের চিন্তাভাবনায় অনেক মিল ছিল। সেখান থেকেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের জন্য সবাই দোয়া করবেন।’




সৌদির প্রতিনিধিদের সুরা আল ইমরানের ১৩ নম্বর আয়াত শোনাল ইরান

ডেস্ক নিউজঃ বিদেশি অতিথিদের  জন্য গতকাল শুক্রবার সাবেক সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কফিন রাখা হয়। এতে অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সৌদির পাঁচ সদস্যদের একটি দলও আসে। সৌদির এ দলটিকে নেতৃত্ব দেন দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল-খেরেজি।

খামেনিকে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় যেসব বিদেশিরা এসেছেন তাদের সবাইকে পবিত্র কোরআন থেকে আলাদা আলাদা আয়াত তেলাওয়াত করে শুনিয়েছে ইরান। এরমধ্যে সৌদির প্রতিনিধিদের শোনানো হয়েছে সুরা আল ইমরানের ১৩ নম্বর আয়াত। যেখানে ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধের কথা বলা হয়েছে। ওই যুদ্ধে আল্লাহর ওপর ইমান আনা বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসীদের মধ্যে লড়াই হয়।

এই আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন— তোমাদের জন্য অবশ্যই নিদর্শন আছে সেই দু’দল সৈন্যের মধ্যে যারা পরস্পর প্রতিদ্বন্দীরূপে দাঁড়িয়েছিল (বদর প্রান্তরে)। একদল আল্লাহর পথে যুদ্ধ করেছিল এবং অপরদল ছিল কাফির, কাফিররা মুসলিমদেরকে প্রকাশ্য চোখে দ্বিগুণ দেখছিল। আল্লাহ যাকে ইচ্ছে স্বীয় সাহায্যের দ্বারা শক্তিশালী করে থাকেন, নিশ্চয়ই এতে দৃষ্টিমানদের জন্য শিক্ষা রয়েছে।”

সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, এই আয়াত শোনানোর মাধ্যমে ইরান সম্ভবত সৌদিকে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছে তারা আল্লাহর পথে আছে। অপরদিকে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীরা কাফিরদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

এদিকে সৌদির প্রতিনিধিদের এ আয়াত শোনানোর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনা তৈরি করেছে।

তথ্যসূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল




গোয়েন্দা জালে বিমানের হুন্ডি চক্র

ডেস্ক নিউজঃ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রুদের ওভারসিজ অ্যালাউন্স উত্তোলনকে কেন্দ্র করে হুন্ডির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন ও সম্ভাব্য অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠেছে। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একটি নথিতে দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘদিনের প্রচলিত নিয়ম পরিবর্তন করে প্রায় দুই শতাধিক কেবিন ক্রুর ওভারসিজ অ্যালাউন্স এক কর্মীর নামে ইস্যু করা চেকের মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, গত ১৪ মে দুবাইয়ে জনতা ব্যাংক থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুবাই স্টেশনের ১৯৬টি বিলের বিপরীতে মোট ১৩ লাখ ৪৬ হাজার ৮৪৭ দিরহাম উত্তোলন করা হয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার আনুমানিক মূল্য সাড়ে ৪ কোটি টাকারও বেশি। অভিযোগ অনুযায়ী, পুরো অর্থ কেবিন ক্রু ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফ্লাইট স্টুয়ার্ড মো. আব্দুস শাকুর মুজাহিদের নামে ইস্যু করা একটি চেকের মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়।
নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পরদিন ১৫ মে সকালে বিজি-২৪৮ ফ্লাইটে ঢাকায় ফেরার সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গোয়েন্দা সংস্থার তল্লাশিতে আব্দুস শাকুর মুজাহিদের কাছ থেকে ১০ হাজার মার্কিন ডলার ও ২ হাজার দিরহাম উদ্ধার করা হয়। একই ফ্লাইটের আরও কয়েকজন কেবিন ক্রুর কাছ থেকেও বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ ছিল প্রায় ৭৮ হাজার ৩৬০ দিরহাম সমমূল্যের।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট নথি ও চিঠিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, উত্তোলিত মোট অর্থের বিপরীতে প্রায় ১২ লাখ ৬৮ হাজার ৪৮৭ দিরহামের কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এই অর্থের বড় একটি অংশ দুবাইয়ের একটি মানি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে হুন্ডি চক্রের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে বাংলাদেশে সংশ্লিষ্ট এজেন্টদের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের কাছে সমপরিমাণ অর্থ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া গত ২২ এপ্রিল ১৬৮ জন কেবিন ক্রুর বিলশিট ইউনিয়নের নামে প্রস্তুত করা হয়, যা তদন্ত-সংশ্লিষ্টদের মতে প্রচলিত বিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়নের প্রভাব ব্যবহার করে বিল প্রস্তুত, অর্থ উত্তোলন এবং ঢাকায় ইউনিয়ন কার্যালয়ের মাধ্যমে হুন্ডির টাকা বিতরণের মতো কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগে প্রতিটি কেবিন ক্রুর নামে পৃথকভাবে ওভারসিজ অ্যালাউন্স বা প্রয়োজন অনুযায়ী অথরিটি বিল ইস্যু করা হতো। কিন্তু সম্প্রতি সেই পদ্ধতি পরিবর্তন করে একত্রে বড় অঙ্কের অর্থ উত্তোলনের অনুমোদন দেওয়া হয়। কেন এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং কারা অনুমোদন দিয়েছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট নথিতে আরও বলা হয়েছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অর্থ বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও এ প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার অভিযোগ ও সন্দেহের তথ্য পাওয়া গেছে। একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে নাম আসার পর সংস্থাটির এক শীর্ষ কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলেও অভিযোগে নাম থাকা আব্দুস শাকুর মুজাহিদসহ অন্যরা এখনো দায়িত্বে বহাল রয়েছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ১৫ মে দুপুরে বিমান প্রশাসনিক ভবনে কেবিন ক্রু অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট বিল বিতরণের প্রস্তুতি চলছিল। তবে বিমানবন্দরে গোয়েন্দা তল্লাশির ঘটনার পর তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। পরে অন্যত্র ওই অর্থ বিতরণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুমোদিত ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে বৈদেশিক মুদ্রা স্থানান্তরের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা Foreign Exchange Regulation Act, 1947 এবং Money Laundering Prevention Act, 2012 অনুযায়ী গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে অভিযোগের সত্যতা এবং দায় নির্ধারণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থা ও আদালতের এখতিয়ার।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট নথিতে ভবিষ্যতে প্রতিটি কেবিন ক্রুর নামে পৃথকভাবে চেক ইস্যুর ব্যবস্থা পুনর্বহাল, অনুমোদিত ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে ওভারসিজ অ্যালাউন্স পরিশোধ, পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেবিন ক্রু ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আব্দুস শাকুর মুজাহিদ বলেন, ১৯৬টি বিলের বিপরীতে তাঁর নামে ১৩ লাখ ৪৬ হাজার ৮৪৭ দিরহামের চেক ইস্যুর বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে পারবেন না। তিনি বলেন, ‘আমি বর্তমানে যাত্রী বোর্ডিংয়ের কাজে ব্যস্ত। পরে এ বিষয়ে কথা বলব।’
অন্যদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার বোশরা ইসলাম বলেন, কেবিন ক্রুদের ওভারসিজ অ্যালাউন্সকে কেন্দ্র করে হুন্ডির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন ও অর্থ পাচারের অভিযোগের বিষয়ে বিমানের কাছে কোনো তথ্য নেই। 



পে-স্কেলের গ্রেডভিত্তিক তালিকা প্রকাশ, গেজেট চলতি মাসেই

ডেস্ক নিউজঃ সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন পে-স্কেল বা বেতন কাঠামো নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সরকার। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণে একবারে পুরো বেতন কাঠামো কার্যকর না করে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়ন করা হবে। যার প্রথম ধাপে কেবল মূল বেতন বা বেসিক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, চলতি জুলাই মাসের মাঝামাঝি বা শেষ দিকে এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ হতে পারে। এরই মধ্যে প্রস্তাবিত ২০টি গ্রেডের নতুন মূল বেতনের একটি রূপরেখাও সামনে এসেছে।

সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই পে-স্কেল বাস্তবায়নের ধরন নিয়ে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি জানান, সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ও রাজনৈতিক নির্দেশনার আলোকেই নতুন বেতন কাঠামোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় একসঙ্গে সব সুবিধা কার্যকর না করে প্রথম দফায় শুধু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কোন গ্রেডে ঠিক কত টাকা বা কত শতাংশ বেতন বাড়ছে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের আগে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। বর্তমানে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো গেজেট চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এর আগে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার সময় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল চালুর বিষয়টি সামনে আনেন। জাতীয় সংসদে দেওয়া ওই বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করেছিলেন যে, আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন এই বেতন কাঠামো কার্যকর করা হবে। দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর ধরে একই কাঠামোতে বেতন পাওয়ায় এবং বর্তমান সময়ের উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে বলে সে সময় জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী।

এদিকে নতুন পে-স্কেলের একটি প্রস্তাবিত রূপরেখা নিয়ে এরই মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেলে আগের মতো ২০টি গ্রেডই বহাল রাখা হয়েছে। এই কাঠামোতে প্রথম বা সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ধরা হয়েছে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা। এরপর দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতন প্রস্তাব করা হয়েছে যথাক্রমে এক লাখ ৩২ হাজার, এক লাখ ১৩ হাজার, এক লাখ এবং ৮৬ হাজার টাকা।

অন্যদিকে, প্রস্তাবনায় ষষ্ঠ থেকে দশম গ্রেডের মূল বেতনের কাঠামো যথাক্রমে ৭১ হাজার, ৫৮ হাজার, ৪৭ হাজার ২০০, ৪৫ হাজার ১০০ এবং ৩২ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। একইভাবে ১১তম থেকে ১৫তম গ্রেড পর্যন্ত যথাক্রমে ২৫ হাজার, ২৪ হাজার ৩০০, ২৪ হাজার, ২৩ হাজার ৫০০ এবং ২২ হাজার ৮০০ টাকা মূল বেতন প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া নিচের সারির গ্রেডগুলোর মধ্যে ১৬তম গ্রেডে ২১ হাজার ৯০০, ১৭তম গ্রেডে ২১ হাজার ৪০০, ১৮তম গ্রেডে ২১ হাজার, ১৯তম গ্রেডে ২০ হাজার ৫০০ এবং সর্বনিম্ন বা ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে খসড়া প্রস্তাবে। সংশ্লিষ্টরা প্রত্যাশা করছেন, জুলাই মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়েই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই পে-স্কেল বাস্তবায়নের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হবে।




আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতলে অবাক হবো: সাকিব আল হাসান

ডেস্ক নিউজঃ এবারের বিশ্বকাপে নিজের প্রিয় দল আর্জেন্টিনা শিরোপা জিতলে অবাক হবেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা এই তারকা ক্রিকেটারের মতে, এবারের আসরে স্পেন ও ফ্রান্স সবচেয়ে শক্তিশালী দল। ২০২২ সালের তুলনায় বর্তমান আর্জেন্টিনা দল অনেকটাই দুর্বল হওয়ায় তাদের টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয়ে ভাগ্যের ব্যাপক সহায়তা লাগবে বলে মনে করেন তিনি।

বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর খেলা শেষে টুর্নামেন্টের গতিপথ নিয়ে নিজের এমন পর্যালোচনার কথা জানিয়েছেন সাকিব। কট্টর আর্জেন্টিনা সমর্থক হিসেবে পরিচিত এই ক্রিকেটার জানান, প্রিয় দল চ্যাম্পিয়ন হোক—সেটি তিনি মন থেকেই চান। তবে বাস্তবতার নিরিখে এবার তাদের হাতে শিরোপা উঠলে সেটি তার কাছে বিস্ময়করই মনে হবে। কারণ হিসেবে তিনি লিওনেল মেসির ওপর দলের অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতার বিষয়টি উল্লেখ করেন। বয়সের ভারে থাকা মেসির ওপর পুরো দলের এই নির্ভরতাকে তিনি দলগত দিক থেকে ‘দুঃখজনক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে ব্যক্তিগতভাবে মেসির ছন্দে থাকাটা উপভোগ করছেন বলেও জানান এই অলরাউন্ডার।

সার্বিক বিশ্বকাপ পরিস্থিতি নিয়ে সাকিব জানান, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার দলগুলোর দারুণ পারফরম্যান্সের কারণে এবারের আসরটি বেশ রোমাঞ্চকর হয়ে উঠেছে। তবে শিরোপার মূল দাবিদার হিসেবে তিনি ইউরোপের দুটি দেশকে এগিয়ে রাখছেন। তার মতে, এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সবচেয়ে সেরা দুই দল হলো স্পেন ও ফ্রান্স। মেক্সিকোসহ আরও কয়েকটি দল ভালো করলেও শেষ পর্যন্ত শিরোপা ফ্রান্স বা স্পেনের কারও হাতেই উঠবে বলে তিনি জোরালো সম্ভাবনা দেখছেন।

এদিকে, এর আগে গ্যালারিতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের জার্সি গায়ে সাকিবের উপস্থিতি নিয়ে ভক্তদের মাঝে বেশ আলোচনা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। এ বিষয়ে অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি জানান, সেদিন মাঠে ব্রাজিল ও মরক্কোর মধ্যকার ম্যাচ ছিল। রবিন নামের এক পরিচিত ব্যক্তি তাকে ওই ম্যাচের টিকিট ও জার্সি উপহার দিয়েছিলেন। কেবল সেই কারণেই তিনি ব্রাজিলের জার্সি গায়ে মাঠে গিয়েছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন।

টুর্নামেন্টে স্পেন ও ফ্রান্সকে ফেভারিট মানলেও একজন নিখাদ সমর্থক হিসেবে ফাইনালে প্রিয় দলকেই দেখতে চান এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের মতো এবারও শিরোপার চূড়ান্ত লড়াইয়ে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে—এমনটাই প্রত্যাশা সাকিব আল হাসানের।