সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা

আবহাওয়া ডেস্কঃ উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দরসহ উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

অপরদিকে আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে আজ (১৯ জুলাই) দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কি.মি. বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা ও ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।




এআই-পরমাণু ঝুঁকি নিয়ে সম্মেলন, ঘোষণাপত্রে ড. ইউনূসের সই

ডেস্ক নিউজঃ ভ্যাটিকানে আয়োজিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও পারমাণবিক যুদ্ধবিষয়ক ‘গ্লোবাল নোবেল লরিয়েটস অ্যাসেম্বলি’তে অংশ নিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও পারমাণবিক অস্ত্রের ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনটি গত ১৬ জুলাই রোমের ক্যাপিটোলাইন হিলে ‘হিউম্যানিটি অ্যাট দ্য থ্রেশহোল্ড’ শীর্ষক ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

এ সম্মেলনে রোমানো প্রোদি, জোডি উইলিয়ামস, মারিয়া রেসা, ডেনিস মুকওয়েগে এবং হুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোসসহ বিশ্বের বিভিন্ন নোবেলজয়ীর অংশগ্রহণে একটি যৌথ ঘোষণাপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে।

ঘোষণাপত্রে সতর্ক করে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং পারমাণবিক অস্ত্রের সমন্বয় মানবজাতির ভবিষ্যতের জন্য এক নজিরবিহীন হুমকি তৈরি করছে। এতে পারমাণবিক যুগের সূচনা এবং বর্তমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগের মধ্যে সরাসরি তুলনা টেনে বলা হয়েছে, বিশ্ব এখন এমন এক এআই অস্ত্র প্রতিযোগিতার দিকে এগোচ্ছে, যা একই সঙ্গে চলমান পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতাকে আরও বিপজ্জনক করে তুলছে। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা না নিলে মানবজাতি আবারও ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে পারে।

নোবেলজয়ীরা সতর্ক করে বলেছেন, এআই পারমাণবিক কমান্ড ব্যবস্থায় মানুষের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভূমিকা দুর্বল করে দিচ্ছে, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে সাইবার হুমকি বাড়াচ্ছে এবং তথ্যযুদ্ধকে এমনভাবে উৎসাহিত করছে, যা আন্তর্জাতিক শান্তির জন্য প্রয়োজনীয় পারস্পরিক আস্থা ক্ষুণ্ন করছে।

ভ্যাটিকানের কাস্তেল গানদোলফোতে অবস্থিত বর্গো লাউদাতো সি’তে আয়োজিত এই সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রফেসর ইউনূস।

এ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বর্গো লাউদাতো সি’-এর সভাপতি কার্ডিনাল ফাবিও বাজ্জিও, ডিকাস্টারি ফর দ্য ইনস্টিটিউটস অব কনসেক্রেটেড লাইফ অ্যান্ড সোসাইটিজ অব অ্যাপোস্টলিক লাইফ-এর প্রো-প্রিফেক্ট কার্ডিনাল অ্যাঞ্জেল ফার্নান্দেজ আরতিমে এবং গ্লোবাল নোবেল লরিয়েটস অ্যাসেম্বলির সভাপতি ও ডোমুস কমিউনিস ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট এমেরিটাস কার্ডিনাল সিলভানো মারিয়া তোমাসি।

সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন— বুলেটিন অব দ্য অ্যাটমিক সায়েন্টিস্টস-এর সায়েন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড্যানিয়েল হোলজ, পন্টিফিক্যাল অ্যাকাডেমিজ অব সায়েন্সেস-এর চ্যান্সেলর কার্ডিনাল পিটার টার্কসন, পন্টিফিক্যাল অ্যাকাডেমি ফর লাইফ-এর সভাপতি আর্চবিশপ রেনজো পেগোরারো, হলিউড অভিনেত্রী শ্যারন স্টোনসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

ঘোষণাপত্রে ছয়টি মূল নীতির কথা তুলে ধরা হয়েছে—

১. পরবর্তী অস্ত্র প্রতিযোগিতা রোধ: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও পারমাণবিক অস্ত্রকে কেন্দ্র করে নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতা ঠেকাতে সংযম, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং কার্যকর বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান।

২. দায়িত্বশীল প্রযুক্তি উন্নয়ন: এআই প্রযুক্তি উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং মানব তত্ত্বাবধানবিহীন, রিকারসিভ সেলফ ইম্প্রুভিং এআই (এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে একটি এআই সিস্টেম তার নিজের কোড বা সক্ষমতা পরিবর্তন করতে পারা) ব্যবস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ।

৩. দায়িত্বশীল ব্যবহার: পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে এআইকে সম্পূর্ণ দূরে রাখতে এবং পারমাণবিক অবকাঠামোকে সাইবার হস্তক্ষেপ থেকে সুরক্ষিত রাখতে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তির আহ্বান।

৪. দায়িত্বশীল বৈশ্বিক শাসন: এআই নিয়ে জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক প্যানেল এবং এআই তদারকির জন্য নতুন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রতি সমর্থন।

৫. দায়িত্বশীল নেতৃত্ব: এই বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব এবং শিক্ষার গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া।

৬. পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ: নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে যাচাইযোগ্য উপায়ে পারমাণবিক অস্ত্র সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করা এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) ও পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তিসহ বিদ্যমান আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান।




বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ সামরিক মহড়া ‘টাইগার লাইটনিং’ শুরু হচ্ছে আজ

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর যৌথ বার্ষিক মহড়া ‘টাইগার লাইটনিং’ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে আজ। দুই দেশের সামরিক বাহিনীর ১৬০ জনের বেশি সদস্য এই মহড়ায় অংশ নিচ্ছেন।শনিবার (১৮ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস। 

এতে বলা হয়, এই যৌথ মহড়ার মাধ্যমে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে এবং বাস্তব পরিস্থিতিতে কাজ করার সক্ষমতা বাড়বে।

জানা যায়, এবারের ‘টাইগার লাইটনিং-২৬’ মহড়ায় বনাঞ্চলে অভিযান, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম এবং যুদ্ধক্ষেত্রে আহতদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়ে যৌথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই প্রশিক্ষণ দুই দেশের সামরিক বাহিনীকে একে অপরের কর্মদক্ষতা ও কৌশল সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানার সুযোগ করে দেবে বলে আশা করা হয়।

মার্কিন দূতাবাস জানায়, ‘টাইগার লাইটনিং’ ইউএস আর্মি প্যাসিফিকের থিয়েটার আর্মি ক্যাম্পেইন প্ল্যান এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা কর্মসূচির অংশ। এর মূল লক্ষ্য দুই দেশের সামরিক বাহিনীর পেশাগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা, প্রস্তুতি ও অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক আন্তঃকার্যক্ষমতা (ইন্টারঅপারেবিলিটি) উন্নত করা।

২০১৭ সালে শুরু হওয়া ‘টাইগার লাইটনিং’ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নিয়মিত আয়োজিত দ্বিপক্ষীয় যৌথ সামরিক মহড়া। কোভিড-১৯ মহামারির সময় এটি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও পরবর্তীতে আবার নিয়মিতভাবে আয়োজন করা হচ্ছে।

মহড়াটি শ্রেণিকক্ষভিত্তিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের অনুশীলনের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। সমাপনী পর্বে অংশগ্রহণকারী সেনাসদস্যদের নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ফিল্ড ট্রেনিং এক্সারসাইজ অনুষ্ঠিত হবে।




গণপূর্তের ইএম কারখানা বিভাগে অনিয়মের অভিযোগ: সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ইউসুফকে ঘিরে দুদক ও মন্ত্রণালয়ের তদন্ত

বিশেষ প্রতিবেদকঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইএম (ইলেকট্রোমেকানিক্যাল) কারখানা বিভাগের সদ্য সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউসুফকে ঘিরে কমিশন বাণিজ্য, ঠিকাদার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম, ভুয়া বিলের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে দাখিল করা লিখিত অভিযোগ, ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ বণ্টন, বিল ছাড়ে কমিশন আদায় এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। অভিযোগের পর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় তদন্তের নির্দেশ দেয় এবং বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এও জমা পড়েছে।

অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, দায়িত্ব পালনকালে মো. ইউসুফ নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকতেন না। ঠিকাদার ও সেবাপ্রত্যাশীরা প্রায়ই তাকে অফিসে কিংবা মোবাইল ফোনে পেতেন না। ফলে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও বিল দীর্ঘদিন আটকে থাকত বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার জানান, কোনো কাজের বিল ছাড় করতে হলে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দিতে হতো। কমিশন না দিলে মাসের পর মাস বিল আটকে রাখা হতো। অভিযোগ রয়েছে, আগারগাঁওয়ের একটি সরকারি প্রকল্পে বিল ছাড়ের জন্য এক ঠিকাদারের কাছ থেকে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, মো. ইউসুফের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ঠিকাদার—বিশেষ করে বিহারী কাওসার ও নাজমা এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে অধিকাংশ কাজ নিয়ন্ত্রিত হতো। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অতিরিক্ত বিল, কাজ সম্পন্ন না করেই অর্থ ছাড় এবং সাধারণ ঠিকাদারদের বঞ্চিত করার অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, ইএম কারখানা বিভাগে পদায়ন ও বদলিকে কেন্দ্র করেও অর্থ লেনদেনের একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিল। অভিযোগকারীদের দাবি, মো. ইউসুফ নিজেও এ বিভাগে পদায়নের জন্য মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় করেন এবং পরে বিভিন্ন কমিশন ও অনিয়মের মাধ্যমে সেই অর্থ তুলে নেন।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, নিজের রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে তিনি ভুয়া প্যাড ও সিল ব্যবহার করে নিজেকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক নেতা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট নথিতে একাধিক অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।

বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে কাজ সম্পন্ন না করেই বিল পরিশোধ, নিম্নমানের মালামাল ব্যবহার এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। সম্প্রতি গণপূর্ত কারখানা উপবিভাগ-২-এর তিনটি পুরোনো ট্রান্সফরমার নিলামে বিক্রির ক্ষেত্রেও সরকারি কোষাগারে কম অর্থ জমা দেখিয়ে কমিশন গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে সংসদ সচিবালয়ের ১১২ ফ্ল্যাট প্রকল্পে পাম্প মোটর ও সিসিটিভি স্থাপনের কোটি টাকার দুটি চুক্তির সম্পূর্ণ বিল জুন ক্লোজিংয়ের আগেই পরিশোধ করা হলেও প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি সেই দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না বলে অভিযোগ রয়েছে। একই অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, জাতীয় আর্কাইভ ও লাইব্রেরি এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিভিন্ন বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক কাজেও নামমাত্র কাজ করে বা নিম্নমানের সরঞ্জাম ব্যবহার করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব কাজে উপসহকারী প্রকৌশলী মিল্টন কুমার দাস নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউসুফের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন। তার বিরুদ্ধে একই মালামাল একাধিক প্রকল্পে দেখিয়ে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এছাড়া পিএসসি প্রিন্টিং প্রেস, পাসপোর্ট অধিদপ্তর, সমাজসেবা অধিদপ্তর, বন অধিদপ্তর, এনবিআর, বিটিআরসি, স্পারসো, বিআইসিসি, বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও আবাসন প্রকল্পসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের বৈদ্যুতিক, যান্ত্রিক, লিফট ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজেও অতিরিক্ত বিল ও অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, কমিশন বাণিজ্য, ভুয়া বিল, ঠিকাদার সিন্ডিকেটকে সুবিধা দেওয়া এবং বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের মাধ্যমে মো. ইউসুফ বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার নামে-বেনামে বাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লট, গাড়ি, ব্যাংক হিসাবসহ বিপুল সম্পদ, অর্থ পাচার এবং কর ফাঁকির অভিযোগও দুদকে জমা পড়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিযোগের ভিত্তিতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। তবে তদন্তের অগ্রগতি বা ফলাফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কোনো কর্মকর্তা দুর্নীতিতে জড়িত থাকলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকা এবং গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাব দেওয়া উচিত।

অভিযোগের বিষয়ে মো. ইউসুফের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে কল ও হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। তার কার্যালয়ে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।




পাবনা গণপূর্তে কোটি টাকার বিল বিতর্ক: নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ কবিরের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদক : পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ কবিরকে ঘিরে একের পর এক অনিয়ম, আর্থিক অসঙ্গতি ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসছে। অভিযোগ উঠেছে, দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন প্রকল্পে অগ্রিম বিল প্রদান, দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগও উঠেছে। এ কারণে তাকে ঘিরে প্রশাসনিক মহলে নানা আলোচনা চলছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, রাশেদ কবির এর আগে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগের ধানমন্ডি সাবডিভিশনে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকার বিভিন্ন কাজের বিল প্রদান প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ওই সময়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম ফারুক চৌধুরীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। পরবর্তীতে শাহ আলম ফারুক চৌধুরীর দেশত্যাগের বিষয়টি নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান কর্মস্থল পাবনা গণপূর্ত বিভাগে দায়িত্ব নেওয়ার পর রাশেদ কবিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা সিদ্ধান্ত এখনো পাওয়া যায়নি।

চাকরিচ্যুত প্রকৌশলীকে ১৮ লাখ টাকার বেশি বেতন-ভাতা প্রদান নিয়ে প্রশ্ন :
দপ্তরসংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, পাবনা গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মো. শাহীন উদ্দিন ও মো. ফজলে হক অসদাচরণের অভিযোগে দীর্ঘদিন সাময়িক বরখাস্ত ছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পৃথক আদেশে তাদের বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়। এরপর শাহীন উদ্দিন বকেয়া বেতন-ভাতার আবেদন করলে পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ কবির তা সুপারিশসহ জেলা অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসে পাঠান। ওই সুপারিশের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর শাহীন উদ্দিনকে ১৮ লাখ ৮১ হাজার ৪২ টাকা পরিশোধ করা হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার ভিত্তিতে ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে চিঠি দেওয়া হয়।

পাবনা মেডিকেল কলেজ প্রকল্পে অগ্রিম বিলের অভিযোগ : পাবনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্পের রিমেইনিং ওয়ার্কের দরপত্র এবং বিল পরিশোধ নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষ দিকে প্রকল্পের একটি কাজে ৬০ থেকে ৭০ কোটি টাকার বিল কাজের অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে পরিশোধ করা হয়েছে অভিযোগকারীদের দাবি, বাস্তবে কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে অগ্রিম অর্থ প্রদান করা হয়। এ বিষয়ে তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চাওয়া হলেও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বুয়েটের অধ্যাপক এ কে এম আক্তার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ৬০ থেকে ৭০ কোটি টাকার একটি ভবন নির্মাণ কাজের বিল অগ্রিম পরিশোধ করা হলে একটি জেলা শহরে বাস্তবায়ন করতে সময়ের বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে।

দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন : ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গণপূর্ত বিভাগের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রধান প্রকৌশলীর নির্দেশনা অমান্য করে কিছু কাজ এলটিএম পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এতে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, কয়েকটি দরপত্রের আইডি নম্বর— Id No: 1297074
Id No: 1396658
Id No: 1295473
Id No: 1295309
Id No: 1286844
Id No: 1283767
Id No: 1286240

এসব কাজের দরপত্র খোলা, মূল্যায়ন ও বিল পরিশোধের সময়সীমা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ রয়েছে, জুন মাসে অল্প সময়ের ব্যবধানে কয়েকটি বড় অঙ্কের বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এ ছাড়া পাবনা নার্সিং ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের সমাপ্ত কাজের পর পুনরায় ‘রিমেইনিং ওয়ার্ক’ দেখিয়ে সরকারি অর্থ ব্যয়ের অভিযোগও উঠেছে।

তদন্ত দাবি, বক্তব্য মেলেনি রাশেদ কবিরের :
অভিযোগকারীদের দাবি, এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি, বিল পরিশোধের যৌক্তিকতা এবং দরপত্র প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা স্পষ্ট হবে।

তাদের কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, অতীতে আলোচিত কয়েকজন প্রকৌশলীর মতো রাশেদ কবিরও দেশত্যাগ করতে পারেন। তবে দেশত্যাগের আশঙ্কার বিষয়ে কোনো সরকারি নিষেধাজ্ঞা বা সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ কবিরের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য প্রতিবেদনটিতে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি।




রাজউকের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ: উত্তর কাফরুলে বহুতল নির্মাণ ঘিরে বিতর্ক, ভুক্তভোগীদের আইনি পদক্ষেপের দাবি

বিশেষ প্রতিবেদকঃ রাজধানীর উত্তর কাফরুল এলাকার এজার সিয়া গলি, বাড়ি নং–৫১২-এ একটি বহুতল ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে অবৈধ নির্মাণ, জমি দখল, নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন এবং স্থানীয়দের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘ দেড় বছর ধরে বিভিন্ন সংস্থার নোটিশ ও স্থানীয়দের আপত্তি সত্ত্বেও নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাজ্জাক নামে এক ব্যক্তি, যাকে তারা স্থানীয়ভাবে একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করছেন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও বিধিমালা অনুসরণ না করেই পনে তিনকাটা জমির উপর (ফাউন্ডেশন) ভবন ১০ তলা পর্যন্ত নির্মাণ করছেন।

এলাকাবাসীর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্লট-সংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধা নেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো সরকারি নথি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, রাজউকের জোন-৩ (মহাখালী) কার্যালয় থেকে নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়ে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা, ২০০৮ অনুযায়ী নির্মাণকাজ শুরুর অন্তত ১৫ দিন আগে নির্ধারিত ফরমের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়নি এবং ভবনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর সাইনবোর্ডও প্রদর্শন করা হয়নি।

এছাড়া, অভিযোগে বলা হয়েছে যে, রাজউক অবৈধ নির্মাণ ঘোষণা করে কেন ভবনটি অপসারণ করা হবে না—সে বিষয়ে মালিকপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিলেও তারা সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি এবং নির্দেশনা অনুযায়ী নির্মাণকাজে প্রয়োজনীয় সংশোধনও আনেননি।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, নির্মাণস্থলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় ভবনের ওপর থেকে ইট পড়ে পাশের একটি বাড়ির এক নারী বাসিন্দার চোখে আঘাত লাগে। পাশাপাশি ভবনের চারপাশে অন্যের জমির অংশ দখল করে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

বাসিন্দাদের ভাষ্য, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার এলাকার মুরব্বি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সমাধানের উদ্যোগ নিলেও কোনো ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়নি। বরং প্রতিবাদ করলে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে আওয়ামীঃ ফ্যাসিবাদের রাজ্জাক প্রভাবশালী হিসেবে পরিচয় দিয়ে কারও কথা আমলে নেন না এবং সামাজিক বা প্রশাসনিক উদ্যোগকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত রাজ্জাকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণকাজ অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।




রোববার শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া ‘টাইগার লাইটনিং’

ডেস্ক নিউজ : বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণে বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া ‘টাইগার লাইটনিং-২৬’ রোববার (১৯ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে। এবারের মহড়ায় দুই দেশের ১৬০ জনের বেশি সামরিক সদস্য অংশ নেবেন।

শনিবার (১৮ জুলাই) ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এই যৌথ মহড়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর মধ্যে পেশাগত সহযোগিতা, পারস্পরিক সমন্বয় এবং বাস্তব পরিস্থিতিতে যৌথভাবে কাজ করার সক্ষমতা আরও জোরদার হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মহড়ায় জঙ্গলাঞ্চলে অভিযান পরিচালনা, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এবং যুদ্ধক্ষেত্রে আহতদের কৌশলগত চিকিৎসা (ট্যাকটিক্যাল কমব্যাট ক্যাজুয়ালটি কেয়ার) বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে উভয় দেশের সেনাসদস্যরা একে অপরের কৌশল, দক্ষতা ও কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে আরও সম্যক ধারণা লাভ করবেন।

মার্কিন দূতাবাস জানায়, ‘টাইগার লাইটনিং’ ইউএস আর্মি প্যাসিফিকের থিয়েটার আর্মি ক্যাম্পেইন প্ল্যান এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা কর্মসূচির অংশ। এর মূল লক্ষ্য দুই দেশের সামরিক বাহিনীর পেশাগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা, প্রস্তুতি ও অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক আন্তঃকার্যক্ষমতা (ইন্টারঅপারেবিলিটি) উন্নত করা।

২০১৭ সালে শুরু হওয়া ‘টাইগার লাইটনিং’ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নিয়মিত আয়োজিত দ্বিপক্ষীয় যৌথ সামরিক মহড়া। কোভিড-১৯ মহামারির সময় এটি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও পরবর্তীতে আবার নিয়মিতভাবে আয়োজন করা হচ্ছে।

মহড়াটি শ্রেণিকক্ষভিত্তিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের অনুশীলনের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। সমাপনী পর্বে অংশগ্রহণকারী সেনাসদস্যদের নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ফিল্ড ট্রেনিং এক্সারসাইজ অনুষ্ঠিত হবে।




যুক্তরাজ্যে শিশু যৌন নিপীড়ন চক্রে ৩ বাংলাদেশিসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাজ্যে একটি সংঘবদ্ধ শিশু যৌন নিপীড়ক ও গ্রুমিং গ্যাংয়ের আটজন সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে। ভয়ংকর এই অপরাধী চক্রের অভিযুক্ত আট সদস্যের মধ্যে তিনজনই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। দীর্ঘদিন তদন্তের পর এই চক্রের সন্ধান মেলায় দেশটিতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস (সিপিএস) এই আটজনের বিরুদ্ধে মোট ৩৪টি অভিযোগ অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে ১৭টি অভিযোগই ধর্ষণের।

‘অপারেশন ওক’ নামে পরিচিত দীর্ঘমেয়াদি তদন্তের অংশ হিসেবে একাধিক নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে এ মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা শৈশব ও কৈশোরে এই চক্রের হাতে নির্যাতিত হয়েছিলেন। অভিযুক্তরা অপরাধের সময় নিজেরাও অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন। ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে সংঘটিত এসব ঘটনার তদন্ত করছে গোয়েন্ট পুলিশ।

ল্যাঙ্কাশায়ারের স্থানীয় পত্রিকা ল্যাঙ্কসলাইভের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৪ জুলাই ল্যাঙ্কাশায়ার, নিউপোর্ট, সোয়ানসি, লন্ডন, বার্মিংহাম, এডিনবরা এবং স্কটল্যান্ডের আর্গিল ও বুট এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ আটজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের জামিন দেওয়া হয় এবং আগামী ২৪ জুলাই নিউপোর্ট ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হওয়ার শর্ত দেওয়া হয়।

গোয়েন্ট পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আটজনই ব্রিটিশ নাগরিক এবং তাদের বয়স ৫৪ থেকে ৭৩ বছরের মধ্যে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিনজন ৫৪ বছর বয়সী মোহাম্মদ শেখ আব্দুল হান্নান, ৭৩ বছর বয়সী শেখ মোহাম্মদ তাহির উল্লাহ এবং ৫৮ বছর বয়সী আমিনুর রহমান চৌধুরী।

হান্নানের বিরুদ্ধে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীকে দু’বার ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন, ধর্ষণে তিনবার সহায়তা ও উসকানি এবং ধর্ষণের জন্য দু’বার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।

তাহির উল্লাহর বিরুদ্ধে এক নারী ও এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ এবং আমিনুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে।

বাকি পাঁচ আসামি: শাকিল বাবর, শফাক আহমেদ, আশান তাকভি, মুরাদ আলী ও কেভিন লরেন্স। কেভিন ছাড়া বাকি চারজন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত।

শাকিল বাবরের বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে চারবার যৌন নির্যাতন, শফাক আহমেদের বিরুদ্ধে এক নারী ও কিশোরীকে সাতবার ধর্ষণ, ধর্ষণে সহায়তা এবং যৌন পেশায় বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে। আশান তাকভির বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে তিনবার ধর্ষণ এবং মুরাদ আলীর বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে দু’বার ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। কেভিন লরেন্সের বিরুদ্ধে ধর্ষণের ষড়যন্ত্র ও যৌন পেশায় বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে।

যুক্তরাজ্যে এ ধরনের ‘গ্রুমিং গ্যাং’ নিয়ে আগেও ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। এর আগে ব্রিটিশ এমপি রুপার্ট লো পার্লামেন্টে এ বিষয়ে বক্তব্য দেন। সরকারি তথ্য অনুসারে, গত এক দশকে এসব চক্রের হাতে আড়াই লাখের বেশি ব্রিটিশ তরুণী ও শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গোয়েন্ট পুলিশের ডিটেক্টিভ চিফ সুপারিনটেনডেন্ট অ্যান্ড্রু টুর্ক বলেন, অপারেশন ওক সাউথ ওয়েলসে দলবদ্ধ শিশু যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে একটি জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি তদন্ত। সিপিএসের সঙ্গে আমাদের অংশীদারত্বের মাধ্যমে আমরা এখন গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যায়ে পৌঁছেছি। ভুক্তভোগীদের সহায়তা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের তদন্ত সমাজে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে, তবে ভুক্তভোগীদের স্বার্থে তদন্ত অব্যাহত রাখা জরুরি। একই সঙ্গে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন কোনো পোস্ট না করার আহ্বান জানিয়েছেন যা আদালতের কাজে প্রভাব ফেলতে পারে।




জানাজারত অবস্থায় গাজায় ইসরায়েলের ড্রোন হামলা, নিহত ১৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি মানুষ একটি জানাজার নামাজ ও দাফনের সময় হামলার শিকার হন।

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার নয় মাস পেরিয়ে গেলেও ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই চুক্তি ভঙ্গ করে গাজায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) গাজার সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি ও আল-আওদা হাসপাতাল জানিয়েছে, মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের আল-বালাতা বাজার এলাকায় একটি সমাবেশে ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় আটজন নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, সেখানে ইসরায়েলের হামলায় নিহত এক ফিলিস্তিনির জানাজার নামাজ শেষে মরদেহ বহন করে বের হওয়ার সময় এই হামলা চালানো হয়। আহমেদ ইয়াসিন মসজিদের বাইরে শোকাহত মানুষের ওপর ড্রোন থেকে সরাসরি বোমা ফেলা হয়।

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী এই হামলার কথা স্বীকার করেছে। তারা দাবি করেছে, মধ্য গাজায় একটি সন্ত্রাসী সেলকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের খবর জেনেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করছে বলেও জানিয়েছে।

হামাস এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মধ্যস্থতাকারীদের সামনেই ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার লঙ্ঘন করে নিরীহ ফিলিস্তিনিদের হত্যা করছে।

শুক্রবারের (১৭ জুলাই) এই ঘটনার পাশাপাশি গাজার বিভিন্ন এলাকায় আরও কয়েকটি হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ায় আবু তামাম স্কুলের কাছে ড্রোন হামলায় এক নারী নিহত হয়েছেন। আজ-জাওয়ায়দা, নুসেইরাত ও গাজা সিটিতেও আলাদা আলাদা হামলায় আরও কয়েকজন প্রাণ হারিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা এসিএলইডি জানিয়েছে, নামমাত্র যুদ্ধবিরতি থাকলেও মে মাস থেকে ইসরায়েলের হামলা বেড়েছে। গত মাসে ৪০টির বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল, যা যুদ্ধবিরতির পর সবচেয়ে বেশি।

ইসরায়েলের সংবাদপত্র ‘হারেৎজ’ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে গাজায় শিশুদের নিয়মিত হত্যা করা হচ্ছে। গত নয় মাসে অন্তত ২৭৪ জন ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে, অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে একজন শিশু।

গাজাজুড়ে ড্রোনের অবিরাম গুঞ্জন আর ধ্বংসের ছবি সেখানকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সব আশা নষ্ট করে দিচ্ছে।

সূত্র: আল-জাজিরা




ভাঙনে কুতুবদিয়ায় বাড়ছে ভূমিহীন মানুষের সংখ্যা, আতঙ্কে উপকূলবাসী

ডেস্ক নিউজ : কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় সাগরের ভাঙন ও জোয়ারের পানিতে প্রতিবছরই বসতভিটা হারাচ্ছেন শত শত মানুষ। বর্ষা মৌসুম এলেই তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে দেখা দেয় নতুন আতঙ্ক। অকার্যকর জিও ব্যাগ ও ভাঙাচোরা বেড়িবাঁধের কারণে ভাঙন রোধ সম্ভব না হওয়ায় দিন দিন ভূমিহীন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গত কয়েক বছরে সাগরভাঙনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য বসতভিটা বিলীন হয়েছে। সরকারি হিসাবের চেয়েও বাস্তব পরিস্থিতি অনেক বেশি ভয়াবহ বলে দাবি স্থানীয়দের। একসময় স্বচ্ছল থাকা অনেক পরিবার এখন অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

গত বছর আলী আকবর ও বড়ঘোপ ইউনিয়নের মুস্তফা, বদর উদ্দিন, মো. বাবুল, আব্দুল গফুর, জাহাঙ্গীর আলম, ফরিদ আলম, গোলাম মোস্তফা ও মোক্তার আহমেদসহ অনেকেই ভিটেমাটি হারিয়ে ভূমিহীন হয়েছেন। চলতি বর্ষায় একই এলাকার আব্দুল কাদের, আব্দু শুক্কুর, রুবেল, জসিম উদ্দিন, নুরুল হোছাইন, আমির হোছাইন, আবুল হোছাইন ও শাহাবুদ্দিনসহ প্রায় শতাধিক পরিবার নতুন করে ভাঙনের শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। একই পরিস্থিতি উত্তর ধূরুং, দক্ষিণ ধূরুং, কৈয়ারবিল ও লেমশীখালী ইউনিয়নেও।

ভুক্তভোগী মোস্তফা বেগম (৬০) বলেন, ‘সাগর আমার সব কেড়ে নিয়েছে। এখন পরিবার নিয়ে অন্যের আশ্রয়ে আছি। নিজের কোনো ঘর নেই, নেই কোনো ঠিকানা। দ্রুত সরকারি সহায়তা ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা চাই।’

আরেক ভুক্তভোগী আব্বাস উদ্দিন বলেন, দুই বছর আগে একবার ভিটেমাটি হারিয়েছিলেন। অনেক কষ্টে নতুন করে ঘর তুললেও এবার সেটিও সাগরে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাদের।

বড়ঘোপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ.ন.ম শহিদ উদ্দিন ছোটন বলেন, ইতোমধ্যে ১৫ থেকে ২০টি বসতবাড়ি সাগরগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলার কথা থাকলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় জিও ব্যাগ সরবরাহের পাশাপাশি কুতুবদিয়াকে রক্ষায় স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, সাগরভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।