জুলাই স্মৃতি স্মারক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন-২০২৬’-এ শহীদ পরিবারের সদস্য এবং জুলাই আন্দোলনে আহতদের হাতে জুলাই স্মৃতি স্মারক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আন্দোলনে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সম্মানে এই স্মৃতি স্মারক প্রদান করা হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) সকাল সোয়া ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে।
জানা যায়, অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ মিরাজের বাবা আব্দুর রব মিয়া প্রতিনিধি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে স্মৃতি স্মারক গ্রহণ করেন। এরপর একইসঙ্গে শহীদ সেলিমের ভাই উজ্জ্বল হোসেন, জুলাই আন্দোলনে আহত আল মিরাজ এবং জুলাই যোদ্ধা মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম ইমন প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্মৃতি স্মারক গ্রহণ করেন।
এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রতিনিধি হিসেবে কয়েকজন স্মৃতি স্মারক গ্রহণ করলেও জুলাই স্মৃতি পরিবারের সকল সদস্যের জন্য স্মৃতি স্মারক সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানান সঞ্চালক।
পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে সেগুলো প্রত্যেক শহীদ পরিবার ও জুলাই আন্দোলনে আহতদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদ, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাই কমিশনার, সামরিক ও বেসামরিক ঊধর্তন কর্মকর্তা ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত রয়েছেন। জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি এবং আমরা জুলাই যোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে।



বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

আবহাওয়া ডেস্কঃ উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

শনিবার (৪ জুলাই) সহকারী আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানার স্বাক্ষরিত এক সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

সতর্কবার্তায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, লঘুচাপের প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল থাকতে পারে। তাই উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে বলা হয়েছে।




দেশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে জৈব পদার্থের ঘাটতি

ডেস্ক নিউজঃ দেশে বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষিজমিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছেনি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ কৃষি পরিসংখ্যান বলছে, দেশের উল্লেখযোগ্য অংশের কৃষিজমিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ এখনো নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। একই সঙ্গে অনেক কৃষি-প্রতিবেশ অঞ্চলের মাটির স্বাভাবিক উর্বরতাও নিম্ন অথবা নিম্ন থেকে মাঝারি পর্যায়ে অবস্থান করছে।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, মাটির জৈব পদার্থের পরিমাণ কম থাকলে মাটির পানি ধারণক্ষমতা, পুষ্টি ধরে রাখার ক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি উত্পাদনশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে টেকসই কৃষি নিশ্চিত করতে মাটির জৈব পদার্থ সংরক্ষণ ও বৃদ্ধির বিষয়টি এখন আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত ‘ইয়ারবুক অব এগ্রিকালচারাল স্ট্যাটিস্টিকস অব বাংলাদেশ ২০২৫’ বা বিবিএসের প্রকাশিত কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষপঞ্জি ২০২৫-এ দেশের মোট ভূমিকে ২০টি প্রধান ভৌগোলিক একক এবং ৩০টি কৃষি-প্রতিবেশ অঞ্চলে ভাগ করে প্রতিটি অঞ্চলের মাটির গঠন, অম্লতার মাত্রা, জৈব পদার্থের অবস্থা, ভূমির ধরন এবং সাধারণ উর্বরতার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বিবিএসের মতে, অঞ্চলভেদে মৃত্তিকার বৈশিষ্ট্যের এই পার্থক্য কৃষি উত্পাদন, ফসল নির্বাচন, সারের ব্যবহার এবং কৃষি পরিকল্পনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, লেভেল বরেন্দ্র ট্র্যাক্ট (কৃষি-প্রতিবেশ অঞ্চল-২৫), হাই বরেন্দ্র ট্র্যাক্ট (কৃষি-প্রতিবেশ অঞ্চল-২৬), উত্তর-পূর্ব বরেন্দ্র ট্র্যাক্ট (কৃষি-প্রতিবেশ অঞ্চল-২৭), মধুপুর ট্র্যাক্ট (কৃষি-প্রতিবেশ অঞ্চল-২৮), উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকা (কৃষি-প্রতিবেশ অঞ্চল-২৯), পুরোনো হিমালয় পাদদেশ সমভূমি (কৃষি-প্রতিবেশ অঞ্চল-১), সক্রিয় তিস্তা বন্যাপ্রবাহ অঞ্চল (কৃষি-প্রতিবেশ অঞ্চল-২), তিস্তা মিয়ান্ডার বন্যাপ্রবাহ অঞ্চল (কৃষি-প্রতিবেশ অঞ্চল-৩) এবং সক্রিয় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা বন্যাপ্রবাহ অঞ্চল (কৃষি-প্রতিবেশ অঞ্চল-৭) সহ একাধিক অঞ্চলের মাটিতে জৈব পদার্থের অবস্থা নিম্ন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অঞ্চলের অনেক ক্ষেত্রেই মাটির স্বাভাবিক উর্বরতাও নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।

বরেন্দ্র অঞ্চলের ক্ষেত্রে বিবিএস বলছে, মাটির পানি ধারণক্ষমতা কম, জৈব পদার্থের পরিমাণ কম এবং উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক পুষ্টি উপাদান সীমিত। মধুপুর ট্র্যাক্টের মাটিও তুলনামূলকভাবে অম্লীয়, জৈব পদার্থ কম এবং পানি ধারণক্ষমতা কম। উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকাগুলোর মাটিতেও জৈব পদার্থের পরিমাণ ও উর্বরতার অবস্থা তুলনামূলকভাবে নিম্ন।

তবে দেশের সব অঞ্চলের চিত্র একই নয়। লোয়ার আত্রাই বেসিন (কৃষি-প্রতিবেশ অঞ্চল-৫), গঙ্গা জোয়ার-ভাটা বন্যাপ্রবাহ অঞ্চল (কৃষি-প্রতিবেশ অঞ্চল-১৩), গোপালগঞ্জ-খুলনা বিল (কৃষি-প্রতিবেশ অঞ্চল-১৪) এবং সিলেট অববাহিকা (কৃষি-প্রতিবেশ অঞ্চল-২১)-এর মতো অঞ্চলে জৈব পদার্থের অবস্থা মাঝারি থেকে উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এসব অঞ্চলের অনেক স্থানে মাটির স্বাভাবিক উর্বরতাও মাঝারি বা উচ্চ হিসেবে উল্লেখ করেছে বিবিএস।

বাংলাদেশে মাটির জৈব পদার্থের ঘাটতি নতুন কোনো বিষয় নয়। মৃত্তিকা বিষয়ক তথ্যভান্ডার বাংলাপিডিয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের অধিকাংশ মাটিতেই জৈব পদার্থের পরিমাণ কম এবং উচ্চ ও মাঝারি উচ্চভূমির প্রায় ৭০ শতাংশ আবাদি জমিতে মাটির জৈব পদার্থ ২ শতাংশেরও কম। এতে অনেক কৃষিজমির উত্পাদনশীলতা সীমিত হয়ে পড়ে বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বলছে, মাটির জৈব পদার্থ শুধু উদ্ভিদের পুষ্টির উত্স নয়; এটি মাটির গঠন উন্নত করে, পানি ধারণক্ষমতা বাড়ায়, মাটিতে পুষ্টি ধরে রাখতে সহায়তা করে এবং মাটির অণুজীবের কার্যক্রম সচল রাখে। কৃষিজমি থেকে জৈব পদার্থের ঘাটতি হলে মাটির উর্বরতা ও টেকসই উত্পাদন ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

মৃত্তিকা বিজ্ঞানীদের মতে, একই জমিতে বছরের পর বছর নিবিড় চাষাবাদ, জৈব সার ও কম্পোস্টের সীমিত ব্যবহার, ফসলের অবশিষ্টাংশ মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া এবং সুষম মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনার অভাবে মাটির জৈব পদার্থ কমে যেতে পারে। এ কারণে অনেক দেশে রাসায়নিক সারের পাশাপাশি জৈব সার, সবুজ সার, ফসলের অবশিষ্টাংশ মাটিতে ফিরিয়ে দেওয়া এবং সংরক্ষণমূলক কৃষি ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব বাড়ানো হচ্ছে। এফএও টেকসই কৃষির জন্য এ ধরনের ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিয়েছে।

বিবিএসের কৃষি বর্ষপঞ্জিতে দেশের মাটির উর্বরতা অতীতের তুলনায় বেড়েছে বা কমেছে- এমন কোনো সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণ দেওয়া হয়নি। বরং প্রতিবেদনে দেশের বর্তমান মৃত্তিকা বৈশিষ্ট্যের একটি চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, দেশের উল্লেখযোগ্য অংশের কৃষি-প্রতিবেশ অঞ্চলে জৈব পদার্থের অবস্থা এখনো নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। অন্যদিকে কিছু অঞ্চলে জৈব পদার্থ ও উর্বরতার অবস্থা তুলনামূলকভাবে ভালো।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উত্পাদনে (জিডিপি) কৃষি খাতের অবদান ১১ দশমিক ৭১ শতাংশ। একই সময়ে কৃষি খাতে কর্মরত মানুষের সংখ্যা ৩ কোটি ৮ লাখ ৭০ হাজার। অর্থনীতিতে কৃষির এই গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রেক্ষাপটে অঞ্চলভিত্তিক মৃত্তিকার বৈশিষ্ট্য, জৈব পদার্থের অবস্থা এবং মাটির উর্বরতা সম্পর্কিত তথ্য কৃষি পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অঞ্চলভিত্তিক মাটি ব্যবস্থাপনা, সুষম সার ব্যবহার, জৈব সার ও কম্পোস্টের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং ফসলের অবশিষ্টাংশ মাটিতে ফিরিয়ে দেওয়ার মতো উদ্যোগ মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।




দেশের ৯ অঞ্চলে ঝড়ের শঙ্কা নদীবন্দরে সতর্কতা

আবহাওয়া ডেস্কঃ দেশের ৯টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে শনিবার দুপুরের মধ্যে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। 

শনিবার (৪ জুলাই) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য প্রকাশিত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিও হতে পারে।

বৈরী আবহাওয়ার সম্ভাবনার কারণে এসব অঞ্চলের নদীবন্দরকে ১ নম্বর (পুনঃ) ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।




জুলাই জাতীয় সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণসভা জুলাই জাতীয় সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ১০টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।

‘৩৬ জুলাই’-এর দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যৌথভাবে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করছে ‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’ ও ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’।

এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ৯ দিনের কর্মসূচির শেষ দিন আগামী ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছাত্র সমাবেশেও প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার এই কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপির ছাত্রসংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে শুরু হবে এই কর্মসূচি, শেষ হবে আগামী ৩ আগস্ট।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত আছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।




ই/এম বিভাগ-৫-এর টেন্ডার মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগ, নির্বাহী প্রকৌশলী তামজিদ হোসেনকে আইনি নোটিশ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মেকানিক্যাল (ই/এম) বিভাগ-৫-এর একটি সরকারি টেন্ডার মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করার পরও একটি যৌথ উদ্যোগ (JV) প্রতিষ্ঠানকে অন্যায়ভাবে ‘নন-রেসপনসিভ’ (অযোগ্য) ঘোষণা করে অন্য একটি সংস্থাকে কাজ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী তামজিদ হোসেনের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
আজ শুক্রবার নির্ভরযোগ্য সূত্র ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কী ঘটেছিল?
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ‘Baset Prokousholi Limited–Versatile Technology Ltd JV’ নামের একটি যৌথ প্রতিষ্ঠান উক্ত টেন্ডারে অংশ নেয়। প্রতিষ্ঠানের আইনজীবীদের দাবি, টেন্ডারের শর্ত মোতাবেক প্রয়োজনীয় সমজাতীয় কাজের অভিজ্ঞতা (Similar Nature Work Experience), সমাপ্তি সনদ (Completion Certificate) এবং কাজের পরিধি (Scope of Work) সংক্রান্ত সব বৈধ কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল। টেন্ডার নথিতে নির্দিষ্ট কোনো প্রকল্পের নাম নয়, বরং কাজের ধরন ও কারিগরি জটিলতার সামঞ্জস্যতা চাওয়া হয়েছিল।

অভিযোগ রয়েছে, উক্ত যৌথ প্রতিষ্ঠানটি এর আগে একটি আধুনিক অডিটোরিয়াম প্রকল্পে ইন্টারনাল ইলেকট্রিক্যাল ওয়ার্কস, স্টেজ লাইটিং, সাউন্ড সিস্টেম, এলইডি ডিসপ্লে, এয়ার কন্ডিশনিং এবং অ্যাকোস্টিক ওয়ার্কসের মতো অত্যন্ত জটিল প্রযুক্তিগত কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। কিন্তু মূল্যায়ন কমিটি রহস্যজনকভাবে সেই অভিজ্ঞতাকে আমলে না নিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে অযোগ্য ঘোষণা করে এবং অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ‘Notification of Award (NOA)’ বা কার্যাদেশ জারির নোটিশ দেয়।

এই অনিয়মের প্রতিবাদে বঞ্চিত প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. সাজ্জাদ হোসেন পলাশ গত ২৮ জুন ২০২৬ তারিখে নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর একটি আইনি নোটিশ পাঠান।
নোটিশে বলা হয়, এই ধরনের মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সরকারি ক্রয়বিধির (PPR) স্বচ্ছতা, সমতা ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার নীতির পরিপন্থী। নোটিশে অবিলম্বে ৩টি দাবি জানানো হয়েছে:
১. প্রতিষ্ঠানটিকে ‘নন-রেসপনসিভ’ ঘোষণার সুনির্দিষ্ট কারণ লিখিতভাবে জানাতে হবে।
২. জমাকৃত অভিজ্ঞতার সনদসমূহ পুনরায় নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করতে হবে।
৩. তড়িঘড়ি করে জারি করা NOA-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
একই সাথে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ ও সন্তোষজনক পদক্ষেপ না নেওয়া হলে বিষয়টি বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (BPPA) রিভিউ প্যানেল এবং উচ্চ আদালতে নিয়ে যাওয়া হবে।

​আইনি নোটিশে শুধু বর্তমান টেন্ডারই নয়, বরং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নির্বাহী প্রকৌশলী তামজীদ হোসেনের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত একাধিক উচ্চমূল্যের প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে। নোটিশে সুনির্দিষ্টভাবে তিনটি বড় প্রকল্পের আর্থিক অনিয়মের খতিয়ান তুলে ধরা হয়:

​১. শাহবাগ বিসিএস প্রশাসন একাডেমি প্রকল্প (টেন্ডার আইডি-১১০৯৩০১): প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ ৩২ হাজার টাকা ব্যয়ে আধুনিক ক্লাসরুম নির্মাণ, সাউন্ড, কনফারেন্স ও ইন্টারনেট সিস্টেম স্থাপন।

২. কাকরাইল বিএমইটি ভবন প্রকল্প (টেন্ডার আইডি-১০৮১৮১০): প্রায় ৮৯ লাখ ৩৬ হাজার ৯০৩ টাকা ব্যয়ে ৫০০ কেভিএ সাবস্টেশন প্রতিস্থাপন।

৩. জিএসবি ভবন প্রকল্প (টেন্ডার আইডি-১০৭২১৪৫৮): প্রায় ১ কোটি ৫১ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে ১২৫০ কেভিএ সাবস্টেশন স্থাপন।

​নোটিশে অভিযোগ করা হয়, এসব প্রকল্পের দরপত্র মূল্যায়ন ও কার্যাদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার ন্যূনতম পরিবেশ বজায় রাখা হয়নি। বিশেষ করে লিমিটেড টেন্ডারিং মেথড (LTM)-এর অপব্যবহার করে অনেক ক্ষেত্রে মাত্র একটি সিডিউল বিক্রি ও একটি মাত্র দরপত্র জমা নিয়েই তড়িঘড়ি করে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের একতরফা প্রক্রিয়া সরকারি ক্রয়ের প্রতিযোগিতামূলক এবং উন্মুক্ত নীতির সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক বলে নোটিশে দাবি করা হয়।

সাংবাদিকতার নীতি মেনে এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী তামজিদ হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। গত ০২ জুলাই ২০২৬, বিকেল ৫টা পর্যন্ত চেষ্টা করেও তিনি কোনো লিখিত বা মৌখিক বক্তব্য দেননি। অভিযোগের বিষয়ে তার এই নীরবতা নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি উন্নয়ন কাজে স্বচ্ছতা ও সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম আইনি দায়িত্ব। যদি এই অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা কেবল একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি অন্যায় নয়, বরং গোটা সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার (Public Procurement) নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতাকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে। সচেতন মহল এই ঘটনার একটি নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।




রাজনৈতিক প্রভাবে বারবার শাস্তি এড়ানোর অভিযোগ, বিআরটিসির কর্মকর্তা নায়েব আলীকে ঘিরে নতুন বিতর্ক

বিশেষ প্রতিবেদক: বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার ছত্রচ্ছায়ায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি)-এর বিভিন্ন ডিপোতে সীমাহীন অনিয়ম, রাজস্ব আত্মসাৎ এবং প্রশাসনিক দুর্নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিপুল আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে বর্তমান গাবতলী বাস ডিপো ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইউনিট প্রধান এবং ম্যানেজার (টেকনিক্যাল) নায়েব আলীর বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, একাধিক ঘটনায় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক তদবির এবং প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করার মাধ্যমে তিনি বারবার শাস্তি এড়িয়ে গেছেন।

বিআরটিসির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নায়েব আলীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত হলে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ, দায়িত্বে অবহেলা এবং প্রশাসনিক অনিয়মের একাধিক গুরুতর ঘটনা সামনে আসতে পারে। এ কারণে তার বিরুদ্ধে পূর্বের সব অভিযোগ পুনরায় তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৬ সালে জোয়ারসাহারা বাস ডিপোর ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাসের মেরামত না করেই ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ওই বছরের ৮ মে তৎকালীন মন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনে ডিপোর ৫৭৩৯, ৫৭৪১ এবং ৫৩৮১ নম্বর বাস অত্যন্ত নিম্নমানের ও চলাচলের অনুপযোগী হিসেবে শনাক্ত হয়। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কর্পোরেশনের আদেশ নং-৩৫.০৪.০০০০.০১১.০০.৪৬৬.৮৮৭ অনুযায়ী নায়েব আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি ওই বরখাস্তাদেশ প্রত্যাহার করিয়ে পুনরায় কর্মস্থলে যোগদান করেন।

নায়েব আলীর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠে মতিঝিল বাস ডিপোতে ম্যানেজার (অপারেশন) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে, যা ছিল ২৭ মার্চ ২০১৯ থেকে ৩০ অক্টোবর ২০১৯ পর্যন্ত। অভিযোগ অনুযায়ী, LoC-2 ঋণ প্রকল্পের আওতায় ভারত থেকে আমদানিকৃত নতুন ৩৫টি বাস সরকারের নির্ধারিত ভাড়ার পরিবর্তে অনুমোদনহীনভাবে কম ভাড়ায় পরিচালনা করা হয়। এতে প্রতিদিন গড়ে ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৮৭ টাকা হারে কর্পোরেশনের মোট ৮ কোটি ২০ লাখ ৬২ হাজার ৬৮৩ টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়।

কর্পোরেশনের অডিট বিভাগের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নায়েব আলীর দায়িত্বে অবহেলার কারণে সরাসরি ১ কোটি ৭৭ লাখ ৪১ হাজার ৮০৭ টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২০ সালের ১৩ অক্টোবর পত্র নং-১৭৮৫ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামকে প্রভাবিত করে এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি প্রথমে প্রাপ্ত দুই বছরের বেতন বৃদ্ধি স্থগিতের দণ্ড (আদেশ নং-২৪২২) কমিয়ে এক বছরে নামিয়ে আনতে সক্ষম হন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে তদন্তযোগ্য গুরুতর অভিযোগ।

খুলনা বাস ডিপোতে ম্যানেজার (অপারেশন) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালেও তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ২০২২ সালের ২৪ নভেম্বর কর্পোরেশনের পত্র নং-২১০৯ অনুযায়ী ভুল তথ্য উপস্থাপন করে ৪ লাখ ৮৭ হাজার ১৯০ টাকা নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যয়ের অভিযোগে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করে তিনি ওই অভিযোগও ধামাচাপা দিতে সক্ষম হন এবং কার্যকর কোনো শাস্তির মুখোমুখি হননি।

বিআরটিসির একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর দাবি, বিগত সরকারের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার কারণে নায়েব আলীর মতো বিতর্কিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাদের মতে, রাষ্ট্রীয় অর্থের ক্ষতি, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত, বিআরটিসিকে দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে নায়েব আলীর বিরুদ্ধে ওঠা অতীতের সব অভিযোগের ফাইল পুনরায় খুলে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে রাষ্ট্রীয় অর্থ উদ্ধার, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিভাগীয়ভাবে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিও জোরালোভাবে উঠেছে।
উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো বিভিন্ন নথি, বিভাগীয় কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপিত। অভিযুক্ত কর্মকর্তা নায়েব আলীর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।




গণপূর্ত প্রকৌশলী আহসান হাবীবের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত—আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী Ahsan Habib-এর বিরুদ্ধে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগকে “ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অভিযুক্ত প্রকৌশলীর পক্ষ।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে কাজ না করে বিল পরিশোধ, দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, ইজিপি আর্কাইভ ও কোটেশন ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি—এ ধরনের একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। তবে এসব অভিযোগের কোনো প্রামাণ্য নথি, নিরপেক্ষ অডিট রিপোর্ট বা আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল উপস্থাপন করা হয়নি বলে প্রতিবাদপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

কোটেশন ও দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পর্কে ব্যাখ্যা : প্রতিবাদে বলা হয়, গণপূর্ত অধিদপ্তরের চলমান সরকারি ক্রয় বিধিমালা (PPR) ও ইজিপি সিস্টেম অনুসরণ করেই সকল কোটেশন ও দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

কোটেশন আহ্বান ও বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে: কাজ সম্পন্নের পর নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় বিল পরিশোধ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নথিপত্র, পরিদর্শন প্রতিবেদন ও ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে, কোনো ধরনের “কাজ ছাড়া বিল প্রদান” এর অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, প্রতিবাদপক্ষ দাবি করে, মাঠপর্যায়ের দৃশ্যমানতা না থাকাকে ভিত্তি করে কাজ হয়নি—এমন দাবি করা প্রশাসনিকভাবে ভুল ব্যাখ্যা।

ইজিপি আর্কাইভ ও রাজারবাগ প্রকল্প প্রসঙ্গে : রাজারবাগ পুলিশ ব্যারাক বিল্ডিং-৩ সংক্রান্ত অভিযোগের জবাবে বলা হয়, ইজিপি (e-GP) সিস্টেমে কোনো দরপত্র আর্কাইভ হওয়া মানেই কাজ শেষ ও বিল পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া বোঝায় না।

প্রতিবাদপত্রে উল্লেখ করা হয়:
প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত পর্যায়ে সম্পন্ন হয়েছে, ইজিপি ডাটা এন্ট্রি ও আর্কাইভিং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ, সরেজমিনে অসম্পূর্ণতা দাবি করলে তা যথাযথ টেকনিক্যাল যাচাই ছাড়া গ্রহণযোগ্য নয়, দরপত্র পদ্ধতি (LTM বনাম OTM) প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা,
প্রতিবাদে বলা হয়, এলটিএম (LTM) বা ওটিএম (OTM) নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে কাজের ধরন, অর্থমূল্য এবং সরকারি ক্রয় বিধিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। এখানে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের সুযোগ নেই বলে দাবি করে বলা হয়: OTM ব্যবহারের সিদ্ধান্ত বিধিসম্মত কাঠামোর মধ্যেই নেওয়া হয়েছে, প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য,কমিশন বা ব্যক্তিগত সুবিধার অভিযোগ সম্পূর্ণ অনুমাননির্ভর
রাজনৈতিক ও অন্যান্য অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রতিবাদপত্রে বলা হয়, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, অতীত কর্মস্থলের অনিয়ম বা “মিস্টার টেন পার্সেন্ট” ধরনের ট্যাগ সম্পূর্ণরূপে চরিত্রহননের চেষ্টা।

এ ধরনের অভিযোগের কোনো: তদন্ত প্রতিবেদন নেই, আদালতের রায় নেই, বা প্রশাসনিক শাস্তিমূলক প্রমাণ নেই, ফলে এগুলোকে ভিত্তিহীন অপপ্রচার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সামগ্রিক অবস্থান :প্রতিবাদপত্রে আরও বলা হয়, Ahsan Habib একজন দায়িত্বশীল সরকারি প্রকৌশলী হিসেবে নিয়মিত প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে: ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণাত্মক তথ্যবিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার অংশ বলে দাবি করা হয়েছে।

উপসংহার : সংশ্লিষ্ট পক্ষ মনে করে, সরকারি প্রকল্প ও প্রকৌশল খাত অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্টদের আরও যাচাই-বাছাই করা উচিত।

তারা নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রকৃত নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে সত্য উদঘটনের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে বিভ্রান্তি দূর হয়ে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয়।




বাংলাদেশ-চীন যুদ্ধবিমান আলোচনা ও করিডোর প্রস্তাব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : শুক্রবার (৩ জুলাই) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে এমন মন্তব্য করেছেন তিনি।

সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী চীন সফরে, চীনের প্রস্তাবিত জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার জন্য বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে আলোচনা করছে এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডোরের জন্য বেইজিংয়ের প্রস্তাব বিবেচনা করছে-এমন দুটি পৃথক প্রশ্নের জবাবে রণধীর বলেছেন, ‘আমরা আমাদের এলাকার এই ধরনের সব ঘটনা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করি।’

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পকে ঘিরে চলমান আলোচনা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, এই প্রকল্প বিষয়ে ভারতের মতামত ইতোমধ্যে বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে প্রকল্পগুলোর জন্য আমাদের উন্নয়নমূলক সহায়তা একটি পারস্পরিকভাবে সম্মত রোডম্যাপের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়, যা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়।’

রণধীর আরও বলেন, সামগ্রিক নীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট সমস্ত ঘটনাপ্রবাহকেই বিবেচনায় রাখবে ভারত।

প্রসঙ্গত, ভারত থেকে প্রবাহিত তিস্তা ও অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত নদীর ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করতে বাংলাদেশ ও চীন সম্মত হওয়ার কয়েকদিন পর এই মন্তব্যগুলো এসেছে।

এর আগে, গত সপ্তাহে চীন সফরকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, তিস্তা ব্যারেজ মাস্টার প্ল্যান একটি ‘জাতীয় অগ্রাধিকার’ এবং এটি ‘যেকোনো মূল্যে’ বাস্তবায়ন করা হবে। তবে চীনা কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে, বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের সহযোগিতার লক্ষ্য কোনো তৃতীয় দেশ নয়।

এদিন, সিন্ধু পানিচুক্তি প্রসঙ্গেও ফের ভারতের অবস্থান তুলে ধরেন জয়সওয়াল। তিনি বলেন, ইসলামাবাদের আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদে অব্যাহত পৃষ্ঠপোষকতার জবাবে সিন্ধু পানি চুক্তি (আইডব্লিউটি) স্থগিত রয়েছে বলে আজ পুনরায় জানিয়েছেন তিনি। জয়সওয়াল বলেন, সিন্ধু পানি চুক্তির বিষয়ে ভারতের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানকে অবশ্যই বিশ্বাসযোগ্যভাবে এবং অপরিবর্তনীয়ভাবে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের প্রতি তার সমর্থন ত্যাগ করতে হবে।




এআই দিয়ে ৩০ পণ্যের বাজার মনিটরিং করবে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ : শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, পণ্যের মূল্য তদারকিতে সরকারের একাধিক সংস্থা কাজ করছে। ভবিষ্যতে ৩০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে মনিটরিংয়ের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে নজরদারি আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও কার্যকর করা যায়।

তিনি বলেন, ‘এই ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎপাদন, আবহাওয়ার সম্ভাব্য প্রভাব, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, আমদানির প্রয়োজনীয়তা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে আগাম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হবে।’

আজ শুক্রবার বিকেলে সিলেট সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘এআই-ভিত্তিক এই ব্যবস্থা চালু হলে বাজার তদারকি আরও প্রাতিষ্ঠানিক, তথ্যনির্ভর ও কার্যকর হবে। এর ফলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং বাজারে অস্থিরতা প্রতিরোধে সরকার আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবে।’

পণ্যের মূল্য নির্ধারণ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে অধিকাংশ পণ্যের মূল্য বাজারব্যবস্থার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। তবে, সংবেদনশীল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার একটি কার্যকর মূল্য নির্ধারণ কাঠামো প্রণয়নের কাজ করছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে।’