জ্বালানি তেল নিতে আজ থেকে গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা, কোনটায় দাম কত বাড়ল

ডেস্ক নিউজঃ বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের অস্থিরতার মধ্যেই দেশের ইতিহাসে জ্বালানি তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে সরকার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রলের নতুন দাম ঘোষণা দিয়েছে; যা আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে।

গতকাল রাতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা করে।

একনজরে নতুন দাম (প্রতি লিটার):

ডিজেল: ১১৫ টাকা (আগে ছিল ৯৯ টাকা, বৃদ্ধি ১৫%)

কেরোসিন: ১৩০ টাকা (আগে ছিল ১১২ টাকা)

অকটেন: ১৪০ টাকা (আগে ছিল ১২০ টাকা)

পেট্রল: ১৩৫ টাকা (আগে ছিল ১১৬ টাকা)

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। এর আগে ২০২২ সালের আগস্টে ডিজেলের দাম ১১৪ টাকা করা হয়েছিল, যা ছিল সেই সময় পর্যন্ত সর্বোচ্চ। তবে এবার ১১৫ টাকা নির্ধারণের মাধ্যমে সেই রেকর্ড ভেঙে গেল।

এদিকে বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমায় ফিলিং স্টেশনে ভিড় বেড়ে গেছে। এখন সরবরাহ বাড়িয়ে মানুষের ভোগান্তি কমানোর পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। সংস্থাটির তিনজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, বাড়তি তেল সরবরাহ করতে গতকাল রাতেই তেল বিপণন কোম্পানিগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিপিসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় তেলের চাহিদা হঠাৎ ৩০ শতাংশ বেড়ে গেছে। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, ‘বাজারে যে অস্বাভাবিক চাহিদা দেখা যাচ্ছে তা আসলে যৌক্তিক নয়। মানুষের ভোগান্তি কমাতে আমরা সরবরাহ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছি।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। যদিও মাঝে হরমুজ প্রণালি খোলার ঘোষণায় দাম কিছুটা কমে ৯০ ডলারে এসেছিল, কিন্তু ইরান আবারও প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিপিসির তথ্যানুসারে, বর্তমানে দেশে প্রায় ১ লাখ ২ হাজার টন ডিজেল মজুত আছে এবং পথে থাকা আরও জাহাজে ১ লাখ টনের বেশি ডিজেল যুক্ত হবে। এছাড়া পেট্রল ও অকটেনের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। আজ থেকে ডিজেলের দৈনিক সরবরাহ ১১ হাজার ১০৭ টন থেকে বাড়িয়ে ১৩ হাজার ৪৮ টন এবং অকটেনের সরবরাহ ১ হাজার ১২৯ টন থেকে বাড়িয়ে আরও ২৩৭ টন করার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, দেশে মোট ব্যবহৃত জ্বালানির ৬৩ শতাংশই হলো ডিজেল। তাই এর দাম বাড়ার প্রভাব গণপরিবহন এবং কৃষি খাতে পড়ার আশঙ্কা করছে সাধারণ মানুষ।




এসএসসি পরীক্ষায় সিসি ক্যামেরা ও প্রশ্নপত্র নিয়ে জরুরি নির্দেশনা

ডেস্ক নিউজঃ চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে কেন্দ্রগুলোর জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।

কেন্দ্রগুলোকে সিসি ক্যামেরা সংক্রান্ত তথ্য ও প্রশ্নপত্র গ্রহণকারী সংশ্লিষ্টদের বিস্তারিত তথ্য জরুরি ভিত্তিতে পাঠাতে বলা হয়েছে। বিষয়টিকে ‘অতীব জরুরি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) বোর্ডের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিসি টিভি ক্যামেরার আইডি ও পাসওয়ার্ড এবং ট্রেজারি থেকে যেসব শিক্ষক, কর্মচারী প্রশ্নপত্র গ্রহণ করবে তাদের নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর controller@dhakaeducationboard.gov.bd ই-মেইলে পাঠাতে হবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, আজ রবিবার অফিস সময়ের মধ্যে নির্ধারিত ই-মেইলে এসব তথ্য পাঠাতে হবে।

শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ২১ এপ্রিল। প্রথম দিনে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে ২০ মে। ৭ জুন থেকে শুরু হবে ব্যবহারিক পরীক্ষা, যা চলবে ১৪ জুন পর্যন্ত।




জানা গেল ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশে ১৪৪৭ হিজরি সনের জিলকদ মাস শুরু হতে যাচ্ছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দেশের কোথাও চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে রবিবার (১৯ এপ্রিল) শাওয়াল মাস ৩০ দিন পূর্ণ হচ্ছে। আগামী সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে নতুন মাসের গণনা শুরু হতে যাছে।

ইসলামি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, জিলকদ মাসের পরের মাস হলো জিলহজ এবং মাসটির ১০ তারিখে উদযাপিত হয় পবিত্র ঈদুল আজহা।

২০ এপ্রিল থেকে আগামী মে মাসের ১৮ তারিখ পর্যন্ত ২৯ দিন জিলকদ মাস। জিলহজ মাস শুরু হতে পারে ১৯ মে। সে হিসেবে জিলকদ মাস ২৯ দিনে শেষ হলে ২৮ মে ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে, জিলকদ মাস ৩০ দিনের হলে ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হবে ২৯ মে।

তবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করেই নির্ধারিত হবে জিলহজ মাসের শুরু এবং ঈদুল আজহার সঠিক দিন। এ বিষয়ে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি চূড়ান্ত ঘোষণা দেবে।




হরমুজে এখন আর টোল দিয়েও জাহাজ চলতে দেবে না ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ হরমুজ প্রণালীতে এখন আর টোল দিয়েও জাহাজ চলাচল করতে দেবে না ইরান। ইরানের বন্দর ও জাহাজের ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

এর আগে জাহাজ চলাচলের জন্য যে বিশেষ পথ বা করিডোর খোলা রাখা হয়েছিল, সেটিও এখন থেকে বন্ধ থাকবে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিপ্লবী গার্ড বলেছে, আগে ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে এবং ফি দিয়ে জাহাজ চলাচলের যে সুযোগ ছিল, তা বাতিল করা হয়েছে।

আইআরজিসির নৌবাহিনী শাখা সতর্ক করে বলেছে, এই নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী যেকোনও জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

তেহরানের মতে, ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধ দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন। সূত্র: মিডল ইস্ট আই




ই-ভ্যালি–কিউকমের পর আবারও ফাঁদ? বিতর্কিতদের ঘিরে ‘বাইক স্ক্যাম’ ঘিরে আবারও আলোচনায় বাজাজ মামুন

বিশেষ প্রতিবেদকঃ দেশের ই-কমার্স খাতে একের পর এক কেলেঙ্কারির পর যখন ভুক্তভোগীরা এখনো ক্ষত সামলাতে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময় নতুন করে আরেকটি সম্ভাব্য প্রতারণা চক্রের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে—পুরনো বিতর্কিত ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতায় আবারও সক্রিয় হতে পারে “বাইক স্ক্যাম”।

বিভিন্ন সূত্র ও ভুক্তভোগীদের দাবি অনুযায়ী, এসকে ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী হিসেবে পরিচিত আল মামুন, যিনি “বাজাজ মামুন” নামেও পরিচিত, নতুন করে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মোটরসাইকেল বিক্রির নামে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনায় যুক্ত থাকতে পারেন।

পুরনো অভিযোগ, নতুন আশঙ্কা : অভিযোগ রয়েছে, অতীতে ই-ভ্যালি, আলেশা মার্ট ও কিউকমের মতো ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তির মাধ্যমে বাইক সরবরাহের নামে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। অনেক ক্ষেত্রেই নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ না হওয়ায় গ্রাহকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।

বর্তমানে সংশ্লিষ্ট মহলে আশঙ্কা—একই ধরনের মডেল ব্যবহার করে নতুন ওয়েবসাইট খুলে আবারও অর্ডার নেওয়া হতে পারে, যেখানে পণ্য সরবরাহ বিলম্বিত বা অনিশ্চিত হতে পারে।

সিআইডির নজরে পুরনো নেটওয়ার্ক : আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, অতীতের ই-কমার্স জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। এর মধ্যে অর্থ পাচার ও প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মামলাগুলোও রয়েছে, যেগুলো সিআইডির ফিনান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট খতিয়ে দেখছে। একটি মামলার তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগসাজশের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি, তবে তদন্ত সংস্থাগুলো বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।

‘চেক ডেলিভারি’ কৌশল—পুরনো ছকের পুনরাবৃত্তি ?
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অতীতে বাইক সরবরাহের আড়ালে ‘চেক ডেলিভারি’ নামের একটি আর্থিক কৌশল ব্যবহার করে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছিল। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুত সময়ের মধ্যে বাইক না দিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের স্কিমে সাধারণত দ্রুত লাভের লোভ দেখিয়ে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করা হয়, যা শেষ পর্যন্ত আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

অর্থপাচার ও সম্পদ বৃদ্ধির অভিযোগ : তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অতীতের এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব তথ্য এখনো বিচারাধীন, তবুও সংশ্লিষ্টদের সম্পদের উৎস ও লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সবচেয়ে ঝুঁকিতে তরুণ ক্রেতারা :
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেকার বা তরুণ উদ্যোক্তারা সহজ কিস্তি বা কম দামে বাইক পাওয়ার আশায় এমন স্কিমে বেশি ঝুঁকে পড়েন। ফলে তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় থাকেন।

সতর্কতার বার্তা : অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, অবাস্তব ছাড় বা অফার দেখলে সতর্ক থাকতে হবে, অপরিচিত ওয়েবসাইটে বড় অঙ্কের অগ্রিম পরিশোধ এড়িয়ে চলা উচিত, কোম্পানির লাইসেন্স, ডেলিভারি রেকর্ড ও পূর্ব ইতিহাস যাচাই করা জরুরি।




ভারত থেকে এলো আরও ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে আরও ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করা হয়েছে।

ভারত থেকে আসা এ ডিজেল পদ্মা অয়েল পিএলসি’র পার্বতীপুর ডিপোতে শনিবার বিকেল পৌনে ৬টার দিকে পৌঁছেছে।

শনিবার মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (অপারেশন) কাজী মো. রবিউল আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে ডিজেল পাম্পিং শুরু হয় এবং আজ বিকেল পৌনে ৬টার দিকে পুরো ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল ডিপোতে পৌঁছে।

তিনি আরও জানান, ভারত থেকে ডিজেল আমদানি একটি চলমান প্রক্রিয়া। ডিপোতে বর্তমানে পর্যাপ্ত ডিজেল মজুত রয়েছে। বিতরণ কার্যক্রমও স্বাভাবিক রয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আরও ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেলের একটি চালান পাম্পিং শুরু হবে।

উল্লেখ্য, চলতি এপ্রিলে মোট ২৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে গত ১১ এপ্রিল ৮ হাজার মেট্রিক টন আমদানি করা হয়েছে।

এ নিয়ে এ মাসে দুই দফায় মোট ১৩ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেশে এসেছে।




সোমবার থেকে সারা দেশে একযোগে হামের টিকা পাবে শিশুরা

ডেস্ক নিউজঃ প্রতিদিনই বাড়ছে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। আনুপাতিক হারে বাড়ছ মৃত্যুও। তাই হামের প্রাদুর্ভাব রোধে আগামীকাল সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে সারা দেশে একযোগে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী,  চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২২ হাজার। আর হাম ও উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে ২১৩ শিশুর।

গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। পরে ১২ এপ্রিল ঢাকাসহ চার সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকা দেয়া শুরু করে সরকার।

গত শুক্রবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে ম্যাসিভভাবে হামের টিকার কার্যক্রম শুরু হবে। দেশে কোনো টিকার ঘাটতি নেই, তাই অপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান দেয়া যাবে না।

তবে চিকিৎসকরা বলছেন, শুধু হামের কারণে মৃত্যুর রেকর্ড নেই, যে শিশুরা মারা যাচ্ছে তাদের হামের সঙ্গে রয়েছে শরীরের অনান্য জটিলতা।

হাম হলে ভয় বা আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি। দেশব্যাপী প্রাদুর্ভাব কমাতে ঘরে ঘরে টিকা কার্যক্রম সফল করার তাগিদ দেন তারা।

চিকিৎসকরা বলেন, এর জন্য সবচেয়ে বেশি সচেতন হতে হবে অভিভাবকদের। শিশুকে টিকা দেয়ার পাশাপাশি নিশ্চিত করতে হবে পুষ্টিকর খাবারের।




দুই মাসে প্রধানমন্ত্রীর ৬০ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার ১৮০ দিনের যে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তার প্রথম দুই মাসেই অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এটি গণতন্ত্রের পুনরুত্থান ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।

শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন মাহদী আমিন।

সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা প্রধানমন্ত্রীর ৬০টি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো-

১. ফ্যামিলি কার্ড: নারীর ক্ষমতায়নে ৩৭ হাজার ৫৬৭ পরিবারকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা সহায়তার কার্ড দেওয়া।
২. কৃষক কার্ড: প্রান্তিক কৃষকদের ১০টি সুবিধা সংবলিত কার্ড বিতরণ শুরু।
৩. ঋণ মওকুফ: ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ।
৪. সংসদীয় গণতন্ত্র: রেকর্ড সময়ে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তি এবং গুম প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান।
৫. নদী খনন: ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও জলাশয় খননের কাজ শুরু।
৬. জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ: বিশ্ববাজারে দাম বাড়লেও দেশে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা ও ভর্তুকি বৃদ্ধি।
৭. সৌরশক্তি: জাতীয় গ্রিডে ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াটের লক্ষ্য।
৮. ফুয়েল কার্ড: জ্বালানি সংগ্রহের জন্য ফুয়েল কার্ডের পাইলটিং শুরু।
৯. দ্রব্যমূল্য: প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও রমজান ও পরবর্তী সময়ে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা।
১০. ধর্মীয় সম্প্রীতি: ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের মাসিক সম্মানী দেওয়া এবং সংখ্যালঘুবিষয়ক বিশেষ সহকারী নিয়োগ।
১১. জাকাত আধুনিকায়ন: দারিদ্র্য বিমোচনে জাকাত ব্যবস্থার বৈজ্ঞানিক আধুনিকায়ন।
১২. প্রবাসী কার্ড: প্রবাসীদের জন্য বিশেষ কার্ড চালুর উদ্যোগ।
১৩. হজ খরচ হ্রাস: হজযাত্রার খরচ ১২ হাজার টাকা কমানো ও নুসুক হজ কার্ড দেওয়া।
১৪. নিয়োগ পরিকল্পনা: সরকারি অফিসের ৪ লাখ ৬৮ হাজার শূন্যপদ পূরণে ৩ মেয়াদি পরিকল্পনা।
১৫. বন্ধ কারখানা: চিনিকল, রেশম ও পাটকলসহ বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর উদ্যোগ।
১৬. ইন্ডাস্ট্রি ইকোসিস্টেম: হাই-টেক পার্ক ও ইপিজেডে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ইকোসিস্টেম তৈরি।
১৭. ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি: ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ।
১৮. জিডিপি লক্ষ্যমাত্রা: ২০৩০ সালের মধ্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে উন্নীত করার কৌশল।
১৯. বিদেশি বিনিয়োগ: বিনিয়োগ সহজীকরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা শিথিল।
২০. শ্রমিক অধিকার: মালিক-শ্রমিক সমন্বয়ে ঈদুল ফিতরে শতভাগ বেতন-বোনাস নিশ্চিতকরণ।
২১. মালয়েশিয়া শ্রমবাজার: অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু।
২২. ইউরোপে শ্রমবাজার: সার্বিয়া, গ্রিস ও রোমানিয়াসহ ৭টি দেশের সঙ্গে শ্রম চুক্তি।
২৩. দক্ষতা বৃদ্ধি: বিদেশে দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে টিটিসি ও কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়ন।
২৪. উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন: উত্তরবঙ্গকে ‘অ্যাগ্রো প্রসেসিং হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ।
২৫. পে-পাল: বাংলাদেশে পে-পাল ও গ্লোবাল পেমেন্ট গেটওয়ে আনার কাজ শুরু।
২৬. স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ: ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা, যেখানে ৮০ শতাংশই নারী।
২৭. ই-হেলথ কার্ড: ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবায় ই-হেলথ কার্ড ও হাসপাতালের নিরাপত্তা বৃদ্ধি।
২৮. শিক্ষা ফি বাতিল: প্রতিবছর পুনরায় ভর্তি ফি নেওয়া বাতিল ও বৃত্তি দ্বিগুণ করা।
২৯. উচ্চশিক্ষায় ঋণ: বিদেশে পড়তে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টি।
৩০. শিক্ষক নিয়োগ: মাদরাসাসহ বিভিন্ন স্তরে ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ।
৩১. বাধ্যতামূলক খেলাধুলা: চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক ও নতুন ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ।
৩২. নতুন কুঁড়ি: শিশুদের প্রতিভা অন্বেষণে আবারও ‘নতুন কুঁড়ি’র যাত্রা শুরু।
৩৩. স্কুল কিট: ২ লাখ শিশুর মাঝে ড্রেস, জুতা ও ব্যাগ বিতরণ এবং ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’।
৩৪. মাদরাসা আধুনিকায়ন: মাদরাসায় স্মার্ট ক্লাসরুম ও কারিগরি কোর্স চালু।
৩৫. স্পোর্টস কার্ড: ক্রীড়াবিদদের জন্য স্পোর্টস কার্ড ও মাসিক ভাতা চালুর উদ্যোগ।
৩৬. সবুজ বনায়ন: ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু।
৩৭. মিতব্যয়িতা: যমুনার বদলে প্রধানমন্ত্রীর নিজের বাড়িতে অবস্থান ও নিজের গাড়ি ব্যবহার।
৩৮. প্রটোকল সংস্কার: ট্রাফিক জট এড়াতে ভিভিআইপি প্রটোকল সীমিতকরণ ও শনিবারও অফিস।
৩৯. ডিজিটাল ভূমি সেবা: ই-নামজারি ও অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর বাধ্যতামূলক করা।
৪০. পদ্মা ব্যারেজ: উত্তরবঙ্গকে মরুকরণ থেকে বাঁচাতে ‘পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প’ গ্রহণ।
৪১. মন্ত্রীদের শুল্কমুক্ত গাড়ি বাতিল: এমপি-মন্ত্রীদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট না নেওয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত।
৪২. পাটের ব্যবহার: সরকারি-বেসরকারি খাতে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাধ্যতামূলককরণ।
৪৩. ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার।
৪৪. টিকাদান কর্মসূচি: বন্ধ থাকা হামের টিকা পুনরায় সারাদেশে চালু।
৪৫. চাঁদাবাজিবিরোধী অভিযান: চাঁদাবাজি বন্ধে গোয়েন্দা নজরদারি ও পুলিশের সংস্কার।
৪৬. ইলেকট্রিক বাস: ঢাকায় পরিবেশবান্ধব বাস ও নারীদের জন্য ‘পিংক বাস’ সার্ভিস।
৪৭. নদী রক্ষা আইন: নদী দখলকারীদের ৫ বছরের জেল ও ১৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান।
৪৮. জ্বালানি সাশ্রয়: সরকারি অফিসে এসি ও লাইট ব্যবহারে কঠোর ১১ নির্দেশনা।
৪৯. মেধাভিত্তিক নিয়োগ: এনটিআরসিএ-র মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ নিয়োগ।
৫০. জ্বালানি নিরাপত্তা: ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ।
৫১. ফুটপাত পুনর্বাসন: ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের সুশৃঙ্খলভাবে পুনর্বাসনের কাজ।
৫২. বাকস্বাধীনতা: প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সমালোচনার পরও কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া।
৫৩. থার্ড টার্মিনাল: শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর পদক্ষেপ।
৫৪. ফ্রি ইন্টারনেট: দেশের বড় সব বিমানবন্দরে যাত্রীসেবায় ফ্রি ওয়াই-ফাই।
৫৫. ট্রেনে ইন্টারনেট: চলন্ত ট্রেন ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ইন্টারনেট সংযোগ।
৫৬. অর্থনৈতিক কূটনীতি: বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি ও বিনিয়োগ আকর্ষণকে দূতাবাসের অগ্রাধিকার।
৫৭. আন্তর্জাতিক সম্পর্ক: প্রতিবেশী ও বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে পানি ও সীমান্ত সমস্যা সমাধানে জোর।
৫৮. অর্থ পাচার রোধ: ১০টি দেশের সঙ্গে পাচারকৃত অর্থ শনাক্ত ও ফেরত আনার চুক্তি।
৫৯. উপকূল রক্ষা: জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
৬০. মানবাধিকার রক্ষা: গত দুই মাসে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কোনো নজির না থাকা ও আইনি সুরক্ষা।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




দেশে জ্বালানি তেলের নতুন দাম আজ থেকে কার্যকর

ডেস্ক নিউজঃ ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের বিক্রয়মূল্য পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অকটেনের দাম বেড়ে প্রতি লিটার ১৪০ টাকা এবং পেট্রোলের দাম ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। এই দাম আজ রবিবার থেকে সারাদেশে কার্যকর হবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে গতকাল শনিবার পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

মন্ত্রণালয়ের বার্তায় জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে দেশের বাজারেও এই দাম সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতি লিটার অকটেন ১৪০ টাকা এবং পেট্রোল ১৩৫ টাকা দরে বিক্রি হবে।

একইসঙ্গে ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া কেরোসিনের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ১৩০ টাকা।

মূল্যবৃদ্ধির আগে ভোক্তাপর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেলের মূল্য ১০০ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা ও পেট্রোলের মূল্য ১১৬ টাকা ছিল।




যে অঞ্চলে সন্ধ্যার মধ্যে ঝড় ও বজ্রসহ বৃষ্টির আশঙ্কা

আবহাওয়া ডেস্কঃ সিলেট অঞ্চলে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। একইসঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়া অধিদফতরের দেওয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে।

তাই সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেয়া সতর্কবার্তায় এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।