২০২৫ সালে আন্দামান-বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ৯০০ রোহিঙ্গার মৃত্যু বা নিখোঁজ

ডেস্ক নিউজঃ আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ২০২৫ সালে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সমুদ্রপথে চলাচলের ক্ষেত্রে এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর।

শুক্রবার জেনেভায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র বাবার বালোচ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ২০২৫ সালে সাড়ে ছয় হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাদের মধ্যে প্রতি সাতজনে একজন নিখোঁজ বা মৃত বলে জানা গেছে, যা বিশ্বের যেকোনো প্রধান সমুদ্রপথের মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যুহার।

ইউএনএইচসিআরের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই পথে যাত্রা করা মানুষের অর্ধেকেরও বেশি নারী ও শিশু। এই ধারা ২০২৬ সালেও অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৩ এপ্রিলের মধ্যে ২ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি রোহিঙ্গা বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রা করেছেন।

সাম্প্রতিক এক মর্মান্তিক ঘটনায় পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। গত ২৬ মার্চ বাংলাদেশ থেকে ছেড়ে যাওয়া অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি নৌকা আন্দামান সাগরে ডুবে যায়। এতে আনুমানিক ২৫০ জন নিখোঁজ হন। পরে ৯ এপ্রিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, বেঁচে যাওয়া রোহিঙ্গাদের কাউন্সেলিং, চিকিৎসা ও মনোসামাজিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করা হচ্ছে।

মানব পাচার, শোষণ ও সমুদ্রে মৃত্যুর মতো ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও হাজার হাজার রোহিঙ্গা এই যাত্রা অব্যাহত রেখেছেন। সাধারণত অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ও নিরাপত্তাহীন নৌকা বাংলাদেশর কক্সবাজার বা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের সুযোগ না থাকায় রোহিঙ্গারা বাধ্য হয়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ পথে পা বাড়াচ্ছেন। চলমান সংঘাত, নিপীড়ন ও নাগরিকত্ব সংকট তাদের সামনে কোনো বাস্তব বিকল্প রাখছে না।

এদিকে তহবিল সংকটের কারণে বাংলাদেশে মানবিক সহায়তাও কমে গেছে। ক্যাম্পে অস্থিরতা, শিক্ষা ও জীবিকার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

ইউএনএইচসিআর রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, বাস্তুচ্যুতির মূল কারণগুলো মোকাবিলা, নিরাপদ ও বৈধ পথ সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে জীবনরক্ষা ও মানব পাচার প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

বর্তমানে এই অঞ্চলে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ১২ লাখ বাংলাদেশে আশ্রিত। ২০২৫ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা মাত্র ৫৩ শতাংশ অর্থায়ন পাওয়ায় আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালো হয়েছে।




জামায়াতে ইসলামী ভদ্র দল, সংসদে তারা খুব ভালো ব্যবহার করে: স্পিকার

ডেস্ক নিউজঃ জামায়াতে ইসলামীর প্রশংসা করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামী ভদ্র দল, সংসদে তারা খুবই ডিসিপ্লিন্ড, সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকালে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পিকারকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

এদিন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘দলবাজি আর করবেন না। রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কাউকে হয়রানি করবেন না।’

তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রশংসা করে বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামী ভদ্র দল, সংসদে তারা খুবই ডিসিপ্লিন্ড, সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে। তারা পাশের লোকের সঙ্গেও কথা বলেন না। নিয়মকানন মেনে চলেন। একসময় তারা আমাদেরই মিত্র দল ছিল। তাদেরকে অনুরোধ করব, আপনারা ও বিএনপি মিলেমিশে চলবেন।’

স্পিকার আরও বলেন, তিনি সংবর্ধনা গ্রহণের জন্য নয়, বরং এলাকার জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে এসেছেন।

তিনি বলেন, ‘ভোলা-৩ আসনের মানুষ সব সময় আমার পাশে থেকেছেন। তাদের ভালোবাসা ও সমর্থনেই আজ আমি এ অবস্থানে পৌঁছেছি। এলাকার উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং ভবিষ্যতেও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘স্পিকারের হয়তো প্রশাসনিক বিশাল কোনো ক্ষমতা নেই, কিন্তু এই পদের অনেক সম্মান আছে। আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে সেই সম্মানের আসনে বসার সুযোগ করে দিয়েছেন। আমি স্পিকার হই আর যাই হই, দিনশেষে আমি আপনাদেরই সংসদ সদস্য।’

স্পিকার বলেন, ‘আওয়ামী লীগের উদাহরণ আমাদের চোখের সামনে আছে। অন্যায়, অবিচার, লুটপাট ও সন্ত্রাস করলে কী ফলাফল হয়, তা তো দেখছেন। ছয়বারের এমপিকে ঘর থেকে বের হতে দেয়নি। তারা ভেবেছিল এভাবেই দিন যাবে। সে জন্যই আল্লাহর গজব তাদের ওপর পড়েছে।’ এ সময় তিনি ছাত্রসমাজকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তারা মাফিয়া সরকারকে বিদায় করে বাংলাদেশের উন্নয়নের পথকে সুগম করেছে।

স্পিকার আরও বলেন, ‘যারা মাফিয়া সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ছিল, এই ঐক্য যেন আর না ভাঙে। এ ঐক্য ভাঙলে আবার ভারত থেকে দাদারা চলে আসবে। তারা এসে এ দেশে আবারও আগের মতো লুণ্ঠনের রাজত্ব কায়েম করতে চাইবে। আমরা আর এ ধরনের বাংলাদেশ দেখতে চাই না; যেখানে মানুষ গুম হবে, ভয়ে থাকবে, আতঙ্কে ঘুমাতে পারবে না। এ অবস্থার অবসান চাই।’

ক্ষমতাসীন দল বিএনপির দায়িত্ব অনেক বেশি উল্লেখ করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জনগণকে আশ্বস্ত করতে হবে যে, এটা আওয়ামী লীগ নয়। আমরা সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করব না। আগামী দিনে স্থানীয় সরকার বা যেকোনো নির্বাচন হোক, আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করব; যাতে করে আপনারা সঠিকভাবে ভোট দিতে পারেন।’

অনুষ্ঠানে তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক ওমর আসাদ রিন্টু, ভোলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম বাছেত, উপজেলা বিএনপি নেতা হাসান মাকসুদুর রহমান, জাকির হোসেন হাওলাদারসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। এতে রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।




সরকারের ২ মাস পূর্তিতে সংবাদ সম্মেলন আজ

ডেস্ক নিউজঃ সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের দুই মাস পূর্তি উপলক্ষে আজ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। 

শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রেস সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র সালেহ শিবলী। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রেস উইংয়ের সদস্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের গত দুই মাসের কার্যক্রম, অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হতে পারে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যুতেও বক্তব্য আসতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিতে সাংবাদিকদের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ৪ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করতে বলা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।




হজ ফ্লাইট কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ আসন্ন ২০২৬ সালের পবিত্র হজ মৌসুমকে সামনে রেখে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে হজ ফ্লাইটের কার্যক্রম। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সৌদি সরকার ঘোষিত হজ ব্যবস্থাপনার বিশেষ ‘রোডম্যাপ’ অনুসরণ করে এবার আগেভাগেই ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হজযাত্রীদের সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের পবিত্র দায়িত্ব। তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে হজযাত্রীদের সাথে সর্বোচ্চ ধৈর্য ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে আচরণ করার নির্দেশ দেন।

২০২৬ সালের হজের রোডম্যাপ অনুযায়ী, এবার হজযাত্রীদের সৌদি আরবের ইমিগ্রেশন কার্যক্রম বাংলাদেশেই (রুট-টু-মক্কা ইনিশিয়েটিভের আওতায়) সম্পন্ন করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এতে করে সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর হাজিদের দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে হবে না। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে হজযাত্রীদের সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ সফরের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ধর্ম মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সৌদি দূতাবাসের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সির মালিকরা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী প্রথম হজ ফ্লাইটের যাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের হাতে উপহার সামগ্রী তুলে দেন।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ থেকে এ বছরের প্রথম হজ ফ্লাইটটি ১৮ এপ্রিল রাত ১২টা ২০ মিনিটে যাত্রা করবে। ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের জেদ্দার বাদশাহ আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে।

প্রথম দিনে মোট ১৪টি ফ্লাইট পরিচালনার কথা রয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৬টি, সাউদিয়ার ৩টি এবং ফ্লাইনাসের ৩টি ফ্লাইট থাকবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বর্ধিত ফ্লাইট শিডিউল ও বিমান ভাড়া কমানোসহ সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরই হজ ফ্লাইট শুরু হচ্ছে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হজ যাত্রী পাঠানো দেশ হিসেবে বাংলাদেশ থেকে এ বছর প্রায় ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী সৌদি আরব যাবেন। তাদের মধ্যে ৪ হাজার ৫৬৫ জন সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন বেসরকারি অ্যাজেন্সির মাধ্যমে হজ পালন করবেন।

আগামী ২১ মে হজ পূর্ব ফ্লাইট শেষ হবে। এ বছর মোট ২০৭টি হজ পূর্ব ফ্লাইট নির্ধারিত রয়েছে। যার মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১০২টি, সাউদিয়া ৭৫টি এবং ফ্লাইনাস ৩০টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। মোট হজযাত্রীর প্রায় ৫০ শতাংশ বহন করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বাকি হজযাত্রীদের বহন করবে সাউদিয়া এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স।

চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ৩০ মে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে, এটি চলবে ১ জুলাই পর্যন্ত।




এবারও হরমুজ পার হতে পারল না বাংলার জয়যাত্রা

ডেস্ক নিউজঃ এবারও হরমুজ পাড়ি দিতে পারল না বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা। যাত্রা শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বেতারবার্তায় ইরানের বাহিনী জাহাজটি পারস্য উপসাগরে ফেরত যাওয়ার নির্দেশনা দেয়। নির্দেশনা পেয়ে আবারও পারস্য উপসাগরে নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে যাচ্ছে জাহাজটি।

জাহাজের ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম খান শুক্রবার রাত পৌনে একটায় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা শুনে আমরা শুক্রবার রাতে হরমুজ পাড়ি দিতে রওনা হয়েছিলাম। তবে ইরানের বাহিনী জাহাজটি হরমুজ পার হওয়ার অনুমতি দেয়নি। জাহাজটি ফেরত নেওয়ার নির্দেশনা পাওয়ার পর আমরা আগের জায়গায় অর্থাৎ পারস্য উপসাগরে ফেরত যাচ্ছি।’

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের ওয়েবসাইটে শুক্রবার রাত ১১টায় দেখা যায়, ইরানের কর্তৃপক্ষ এই প্রণালি উন্মুক্ত ঘোষণার পর পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা একের পর এক জাহাজ নোঙর তুলতে শুরু করে। শতাধিক জাহাজ পূর্ণ গতিতে হরমুজ প্রণালির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। তবে রাত পৌনে একটায় মেরিন ট্রাফিকের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, সব কটি জাহাজ আবার পারস্য উপসাগরে ফেরত যাচ্ছে। এই তালিকায় বাংলার জয়যাত্রাও রয়েছে।

এর আগে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছিলেন, পারস্য উপসাগর থেকে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটে বাংলার জয়যাত্রা হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করেছে। রাত তিনটা নাগাদ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারে।




দেশের ৪ বিভাগে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত

ডেস্ক নিউজঃ দেশের চার বিভাগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই সঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিও হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। 

শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এসব বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে।

এসময় সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আবহাওয়ার এ পরিস্থিতিতে নৌযানগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শও দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে গতকাল রাতে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত সারা দেশের সম্ভাব্য পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

একইসঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

একইসঙ্গে সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।




প্রয়াত কমিউনিস্ট বিপ্লবীনেতা কমরেড আব্দুর রউফ (মুকুল)-এঁর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি ও শোকসভা আয়োজিত করলো জাতীয় কমিটি

বিশেষ প্রতিবেদকঃ জাতীয় কমিটির শোকসভায় বক্তারা কমিউনিস্ট বিপ্লবীনেতা কমরেড আব্দুর রউফ (মুকুল)-আত্মত্যাগ ও তাত্ত্বিক নেতৃত্ব প্রদানে অনন্য উদাহরণ।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের আপসহীন বিপ্লবী নেতা কমরেড আব্দুর রউফ (মুকুুল) দীর্ঘ ৫৫ বছর চলৎ শক্তিহীন অবস্থায় এদেশের বিপ্লবী আন্দোলন অগ্রসর করার ক্ষেত্রে মাকর্সবাদ-লেনিনবাদ প্রতিষ্ঠায় তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক ক্ষেত্রে নেতৃত্ব প্রদান করে যে উদাহরণ তৈরি গেছেন তা শুধু এদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনেই নয় কমিউনিস্ট আন্দোলনেই অনন্য।

১৭ এপ্রিল শুক্রবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে প্রয়াত কমরেড আব্দুর রউফ (মুকুল)-এঁর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি ও শোকসভা আয়োজক জাতীয় কমিটি আয়োজিত শোকসভায় বক্তারা এ কথা বলেন। শোকসভা আয়োজক জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) ডাঃ এম. জাহাঙ্গীর হোসেন। শুরুতে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয় ও তার জীবনী পাঠ করেন তফাজ্জল হোসেন। শোকসভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী বিডি রহমত উল্লাহ, সাপ্তাহিক সেবা পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক এ্যাডঃ মনসুর হাবীব, ভাসানী পরিষদের আহ্বায়ক ডা. হারুন অর রশিদ, শহীদ বুদ্ধিজীবী ও দেশপ্রেমিক স্মৃতি সংসদ-এর আহ্বায়ক হাসান ফখরী, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান, ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শ্যামল কুমার ভৌমিক, গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক রহিমা জামাল, কন্ঠশিল্পী কৃষ্ণকলি, নয়া গণতান্ত্রিক গণমোর্চার সভাপতি জাফর হোসেন, প্রয়াতে বোন জেবুন্নেছা, কবি মোজাফ্ফর আহমেদ বাবু, জাতীয় ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি, ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা এডভোকেট মনসুরুল হাই সোহান প্রমুখ। সভাটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন শাহজাহান কবির ও প্রকাশ দত্ত।

 

WhatsApp Image 2026 04 17 at 10.29.45 PM

 

শোকসভায় বক্তাগণ বলেন, আজ বিশ্বব্যাপি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সাথে সাম্রাজ্যবাদী চীন-রাশিয়ার প্রতিযোগিতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাজার ও প্রভাব বলয় নিয়ে ইউক্রেনযুদ্ধ, প্যালেস্টাইনে ইসরায়েলের আগ্রাসন, ইরানে আমেরিকা-ইসরায়েলের যুদ্ধ যা আঞ্চলিকযুদ্ধের ধারায় পারমাণবিকযুদ্ধের বিপদ বৃদ্ধি করছে। এই বিরুদ্ধে বিশে^র দেশে দেশে জনগণের প্রতিবাদ-বিক্ষোভ বৃদ্ধি পাচ্ছে। জাতীয় ক্ষেত্রে সম্ভাব্যযুদ্ধে সম্পৃক্ত করার বিপদ যেমন বাড়ছে তেমনি আমাদের দেশে অর্থনীতির সঙ্কট ঘনীভূত হয়ে দ্রব্যমূল্য লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি, জ¦ালানী সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ, বেকারত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে জনগণের ক্ষোভ-বিক্ষোভকে সকল সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের দালালদের বিরুদ্ধে শ্রমিক-কৃষক জনগণের রাষ্ট্র, সরকার ও সংবিধান প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অগ্রসর করতে আহ্বান জানানো হয়।

কমরেড আব্দুর রউফ (মুকুল)-এর জীবনের উপর আলোকপাত করে বক্তারা বলেন, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী)-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পলিটব্যুরোর সদস্য। তিনি ১৯৫১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা থানার পদ্মাপাড়ের ফারাকপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দৌলতপুর মহসিন স্কুল থেকে ১৯৬৭ সালে মেট্রিক এবং ১৯৬৯ সালে বিএল কলেজ থেকে আইএসসি পাশ করেন। ১৯৬৯-৭০ শিক্ষাবর্ষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবস্থায় পার্টি বিপ্লব অগ্রসর করার লক্ষ্যে ব্যক্তিগত সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য এবং আত্মপ্রতিষ্ঠার মোহ ত্যাগ করে সার্বক্ষণিক কর্মি হিসেবে নিজেকে আত্মনিয়োগ করেন।

সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নে ১৯৫৩ সালে কমরেড স্ট্যালিনের মৃত্যু এবং ১৯৫৪ সালে সংশোধনবাদী ক্রুশ্চেভচক্র ক্ষমতাসীন হয়ে ১৯৫৬-এর ধারাবাহিকতায় ১৯৬০-এর দশকে ক্রুশ্চেভ-ব্রেজনেভ সংশোধনবাদ-এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক এই মহাবিতর্কে কমরেড আবদুল হক-এর নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল)-এর বিকল্প বিপ্লবী ধারা অগ্রসর করে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ প্রতিষ্ঠায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে খুলনায় মন্ত্রী সবুর খানের বাড়ী ঘেরাও কর্মসূচির রূপকার ও নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৬৯ সালে পার্টির সভ্যপদ লাভ করেন।

১৯৭০-৭১ সালে পার্টির খুলনা জেলা কমিটির নবীন ও সর্বকনিষ্ঠ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ১৯৭১ সালের বিপ্লবী যুদ্ধে নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করেন। এ সময়ে ২৬ নভেম্বর ১৯৭১ সালে কমরেড রউফ গুলিতে আহত হন। আহত হয়ে প্যারালাইজড অবস্থায় তাঁকে স্ট্রেচারে করে চলাচল করতে হতো। বাংলাদেশ হওয়ার পর ১৯৭২ সালে কমরেড রউফকে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় পাঠানো হয়। চিকিৎসায় কমরেড আব্দুর রউফ জীবনে বেঁচে গেলেও তাঁর নিম্নাঙ্গ অর্থাৎ মেরুদ-ের নীচের অংশ দুই পা অকার্যকর হয়ে যায়। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং ক্রাচে ভর দিয়ে চলাফেরা করতেন। দেশে ফিরে আসার পর প্রথমে তিনি খুলনা জেলা পার্টির সাথে যুক্ত হন।

বাংলাদেশে কমিউনিস্ট আন্দোলনে মতাদর্শিক ও রাজনৈতিক সংগ্রামে তিনি উগ্র বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে কমরেড আবদুল হক-এর নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল)-এর আন্তর্জাতিকতাবাদী লাইনের পক্ষে কমরেড রউফ দৃঢ় ভূমিকা পালন করেন। তিনি ‘তিন বিশ্ব তত্ত্ব’-এর বিরুদ্ধে কমরেড আবদুল হক-এর নেতৃত্বে পার্টির তুলে ধরা মার্কসবাদ-লেনিনবাদী লাইনকে প্রতিষ্ঠায় তিনি নেতৃত্বকারী ভূমিকা রাখেন। তিনি কমরেড আবদুল হক-এর জীবদ্দশায় কমরেড আব্দুর রউফ পার্টির ৮ম কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ৯ম কেন্দ্রীয় কমিটিতে তিনি সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে অব্যাহত থাকেন। শারীরিক কারণে ২০০৬ এবং ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত দশম ও একাদশ কংগ্রেসে তিনি সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে না থাকলেও কার্যত তিনিই ছিলেন বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল)-এর তাত্ত্বিক নেতা।

দীর্ঘ দিন বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগে অবশেষে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গতকাল ৫ ফেব্রুয়ারি ’২৬ সকাল ৯টা ৪০মিনিটে ৭৫ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গত ৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রয়াত নেতার মরদেহে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে খুলনায় তাঁকে সমাহিত করা হয়।




“থালাপতি বিজয়ের বিরুদ্ধে মামলা”

বিনোদন ডেস্কঃ সময়টা ভালো যাচ্ছে না দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা এবং রাজনীতিক থালাপতি বিজয়ের। কিছুদিন আগে তার আসন্ন সিনেমা মুক্তির আগেই এইচডি প্রিন্টে পাইরেসি হয়। এমন দুঃসময়ের মাঝে আইনি বিপাকে অভিনেতা। নতুন খবর, তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে চেন্নাই পুলিশ।

জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে অনুমতি ছাড়া বিশাল জনসভা ও র‍্যালি করার অভিযোগে বৃহস্পতিবার তার বিরুদ্ধে এই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, চেন্নাইয়ের টি-নগর এলাকায় বিজয়ের রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে একটি র‍্যালির আয়োজন করা হয়েছিল। তবে এই কর্মসূচির জন্য আগে থেকে কোনো পুলিশি অনুমোদন নেওয়া হয়নি। জনবহুল এলাকায় এই র‍্যালির কারণে দীর্ঘ যানজট এবং জনদুর্ভোগ তৈরি হয়।

নির্বাচন কমিশনের বিশেষ ফ্লাইং স্কোয়াড কর্মকর্তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে চেন্নাইয়ের মাম্বালাম থানা পুলিশ বিজয় এবং তার দলের নেতা এন আনন্দের নামে এই মামলাটি দায়ের করে। ভারতীয় দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় বেআইনি সমাবেশ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

র‍্যালির সময় থালাপতি একটি হুডখোলা গাড়িতে চড়ে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে হাত নাড়ছিলেন, যার অনেক ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। হাজার হাজার ভক্ত ও আলোকসজ্জার কারণে ওই এলাকায় দীর্ঘক্ষণ যানচলাচল বন্ধ থাকে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিজয় আনুষ্ঠানিকভাবে তার রাজনৈতিক দল ‘তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম’ গঠনের ঘোষণা দেন। তিনি জানিয়েছিলেন, অভিনয়ের চেয়ে এখন থেকে জনসেবা ও রাজনীতিতেই বেশি সময় দেবেন।




“সিরিজের প্রথম ম্যাচে ২৬ রানের হার বাংলাদেশের”

খেলাধুলা ডেস্কঃ সাইফ হাসান, লিটন দাসের পর তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাটে বাংলাদেশ বেশ ভালো অবস্থানে ছিল। কিন্তু আফিফ হোসেন বিদায় নেওয়ার পর ধস দেখে স্বাগতিকরা।

ডেথ ওভারের শুরুতে দলীয় ১৮৪ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তারপর ব্লেয়ার টিকনারের তোপ। এই পেসার তার শেষ তিন ওভারে চার উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের জয়ের আশা শেষ করে দেন।

১০ ওভারে ৪০ রান দিয়ে চার উইকেট নেন টিকনার। শেষ জুটিতে হৃদয় ছক্কা মেরে ৫৮ বলে ফিফটি করেন। কিন্তু দলকে জেতানোর জন্য তার ইনিংস যথেষ্ট ছিল না। ৪৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলে তিনি ক্যাচ হন। ৩৭ রানে শেষ ৬ উইকেট হারাল বাংলাদেশ। তাতে ২২১ রানে থেমে যায় ইনিংস।

এর আগে, মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা দুর্দান্ত হলেও শেষটা ভালো হলো না নিউজিল্যান্ডের। হেনরি নিকোলস ও ড্যান ফক্সক্রফটের ফিফটি পরও ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৪৭ রানে থামল কিউইদের ইনিংস। ফলে জিততে হলে বাংলাদেশকে করতে হবে ২৪৮ রান।

মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক টম লাথাম। ব্যাটিংয়ে নেমে সপ্তম ওভারে ওপেনার নিক ক্যালিকে হারায় কিউইরা। শরিফুল ইসলামের করা বলে ব্যক্তিগত ৭ রান করে আউট হন ক্যালি।

দ্বিতীয় উইকেটে খেলতে নেমে হেনরি নিকোলসের সঙ্গে ৭৩ রানের জুটি গড়েন উইল ইয়াং। এই জুটি ভাঙেন বাংলাদেশের লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। আউট হওয়ার আগে ৪২ বল থেকে ৩০ রান করেন ইয়াং। ক্রিজে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি দলনেতা টম লাথাম। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ১৫ বলে ৯ রান করেন তিনি।

এদিকে আপনতালে খেলতে থাকা ওপেনার হেনরি নিকোলস ব্যক্তিগত অর্ধশতক তুলে নেন। তার ইনিংস থামে ৬৮ রানে। রিশাদ হোসেনের করা বলে কটবিহাইন্ড হন তিনি। ৮৩ বলে খেলা তার এই অনবদ্য ইনিংসটি নয়টি চারে সাজানো। এরপর মাত্র ৮ রানে আউট হন জশ ক্লার্কসন।

হুট করেই নিউজিল্যান্ড খেই হারিয়ে ফেললেও ক্রিজে খুঁটি গেড়ে ব্যাট করতে থাকেন ড্যান ফক্সক্রফট। ৫২ বলে ফিফটি পূরণ করেন তিনি। তার ইনিংস থামে ৫৯ রানে। ৫৮ বলে খেলা ইনিংসটি আটটি চারে সাজানো। এছাড়া ব্লাইর টিকনার ৭, নাথান স্মিথ ২০ ও লেনক্স ১ রান করেন।

বাংলাদেশের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ, রিশাদ হোসেন ও শরিফুল ইসলাম। একটি করে উইকেট নেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাহিদ রানা।




“ভারত থেকে ৫ হাজার টন ডিজেল পাম্পিং কার্যক্রম শুরু”

বাণিজ্য ডেস্কঃ ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে আমদানি করা ৫ হাজার মেট্রিক টন পরিশোধিত ডিজেল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পাম্পিং শুরু হয়েছে।

এই ডিজেল বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে পদ্মা অয়েল পিএলসির ডিপোতে পৌঁছাবে।

বৃহস্পতিবার মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশন) কাজী মো. রবিউল আলম জানান, বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার  সন্ধ্যা ৭টার দিকে নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে পাম্পিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, এই চালানে ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আসছে এবং পাম্পিং শুরুর পর থেকে ৪৫ ঘণ্টার মধ্যে পুরো চালান পার্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছাবে। অর্থাৎ আগামী শনিবার বিকাল ৫টার দিকে ডিজেল চলে আসবে।

তিনি আরও জানান, দেশে ডিজেলের কোনো ঘাটতি নেই। মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক আছে।

মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডে জানিয়েছে, চলতি এপ্রিল মাসে ২৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে, ইতোমধ্যে ৮ হাজার মেট্রিক টন দেশে পৌঁছেছে।

এর আগে, গত ৭ এপ্রিল মধ্যরাতে নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে আসা ৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেলের আরেকটি চালানের পাম্পিং শুরু হয় এবং তা শুক্রবার মধ্যরাতে পার্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছে। বর্তমানে ওই আমদানিকৃত ডিজেল বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে ১১ ও ২৩ মার্চ দুই দফায় ৫ হাজার করে মোট ১০ হাজার মেট্রিক টন এবং ১ এপ্রিল আরও ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল একই পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশে আমদানি করা হয়।