রম্যার বদলে ঐশ্বরিয়া রাইকে নেওয়ার ইচ্ছা ছিল রজনীকান্তের

বিনোদন ডেস্কঃ দক্ষিণী সিনেমার ইতিহাসের অন্যতম আইকনিক খলনায়িকা ‘নীলাম্বরি’। ১৯৯৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পডিয়াপ্পা’ সিনেমায় এই চরিত্রে রম্যা কৃষ্ণানের দাপুটে অভিনয় আজও দর্শকের মনে জায়গা করে আছে।

তবে ২৬ বছর পর সিনেমাটি পুনরায় মুক্তির ঠিক আগ মুহূর্তে এক বিস্ফোরক তথ্য জানালেন সুপারস্টার রজনীকান্ত। তিনি জানান, এই কালজয়ী চরিত্রের জন্য নির্মাতাদের প্রথম পছন্দ রম্যা ছিলেন না। বরং তারা চেয়েছিলেন বলিউড সুন্দরী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনকে!

আগামীকাল ১২ ডিসেম্বর বিশ্বজুড়ে পুনরায় মুক্তি পাচ্ছে কে. এস. রবিকুমার নির্মিত ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘পডিয়াপ্পা’। এ উপলক্ষে ‘দ্য রিটার্ন অব পডিয়াপ্পা’ শিরোনামে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন রজনীকান্ত। সেখানেই তিনি এই গোপন তথ্যটি সামনে আনেন।

রজনীকান্ত জানান, নীলাম্বরি’ চরিত্রটি যখন কল্পনা করা হয়েছিল, তখন তার মনে কেবল ঐশ্বরিয়া রাইয়ের ছবিই ভেসে উঠেছিল। কারণ চরিত্রটি ছিল তামিল সিনেমার অন্যতম শক্তিশালী নারী চরিত্র। তিনি বলেন, চরিত্রটিতে কাস্ট করার জন্য আমাদের টিম তিন মাস চেষ্টা করেছিল। এমনকি, ঐশ্বরিয়ার আত্মীয়স্বজনদের মাধ্যমেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি রাজি হলে দুই থেকে তিন বছর অপেক্ষা করতেও আমার অসুবিধা ছিল না, কারণ চরিত্রটি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

রজনীকান্ত পরিচালককে বলেছিলেন, ‘নীলাম্বরি’ চরিত্রে এমন কাউকে নিতে হবে যার চোখে শক্তি আছে এবং যার উপস্থিতি দাপুটে। উপযুক্ত অভিনেত্রী না পাওয়া গেলে প্রজেক্টটি স্থগিত রাখার কথাও ভাবা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত পরিচালকের প্রস্তাবে রম্যা কৃষ্ণানকে নেওয়া হয় এবং বাকিটা ইতিহাস।

আসছে কি ‘পডিয়াপ্পা ২’? পুরনো স্মৃতিচারণের পাশাপাশি ভক্তদের জন্য নতুন আশার আলোও দেখিয়েছেন রজনীকান্ত। ভিডিও বার্তায় তিনি কালজয়ী সিনেমাটির সিক্যুয়েল নির্মাণের প্রস্তাব দেন। তিনি নামও প্রস্তাব করেন—‘নীলাম্বরি: পডিয়াপ্পা টু’। তবে নির্মাতারা এ নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেননি।




শুধু লালগালিচায় হাঁটা নয়, জেদ্দায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন আনা-ঐশ্বরিয়ারা

বিনোদন ডেস্কঃ নায়িকারা শুধু লালগালিচায় হাঁটবেন, অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য বাড়াবেন—এমনটাই ছিল প্রচলিত ধারণা। কিন্তু এবার এটির ব্যতিক্রম দেখা গেছে সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত রেড সি ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের পঞ্চম আসরে। যেখানে অভিনেত্রীরা শুধু অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য বাড়ানোয় নয়, বরং রীতিমতো নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে তাদের।

ফেস্টিভ্যালের তৃতীয় দিনের শুরুতে দর্শকদের শুভেচ্ছা জানিয়ে মঞ্চে আসেন বলিউড অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। মাতৃত্ব ও ক্যারিয়ার সামলানোর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, বিশ্বসুন্দরী খেতাব নিয়ে তার ভাবনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেন তিনি। ঐশ্বরিয়ার মতে, নিরাপত্তাহীনতা কখনো তার চালিকাশক্তি ছিল না, বরং সততা ও দৃঢ়তাই তাকে পথ দেখিয়েছে।

অন্যদিকে হলিউড অভিনেত্রী আনা দে আরমাস ছিলেন পুরোপুরি বাস্তববাদী। হাভানা থেকে মাদ্রিদ হয়ে হলিউডে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার যাত্রা, ভাষার বাধা, কঠিন সময় নিয়ে কথা বলেন তিনি। চরিত্রের প্রস্তুতি, পর্যবেক্ষণ ও পরিশ্রম নিয়ে তার শিল্পভিত্তিক আলোচনা শিক্ষার্থী ও তরুণ নির্মাতাদের বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।

মার্কিন সংগীতশিল্পী ও অভিনেত্রী কুইন লতিফা উৎসবে যোগ করেন প্রতিনিধিত্ব ও শিল্পে নারী নেতৃত্বের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি কথা বলেন সহযোগিতা এবং শিল্পে নারীর কণ্ঠ শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে। তার বক্তব্যে উঠে আসে একজন নারীর সাফল্য মানে অন্য নারীর জন্য নতুন দরজা খুলে দেওয়া।

প্রসঙ্গত, গত ৪ ডিসেম্বর জেদ্দায় বসেছে রেড সি ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের পঞ্চম আসর। চলবে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এবারের আয়োজনে ‘সিনেমার প্রতি ভালোবাসা’ স্লোগানে প্রদর্শিত হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১১১ সিনেমা।