পরীক্ষায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি সময়ের সুবিধা

বিশেষ ডেস্কঃ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪ সালের অনার্স ৩য় বর্ষের পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (অটিস্টিক, ডাউন সিনড্রোম, সেরিব্রাল পলসি আক্রান্ত) শিক্ষার্থী থাকলে তারা পরীক্ষায় ৩০ মিনিট অতিরিক্ত সময় পাবেন।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. এনামুল করিম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ বিশেষ সুবিধা পাওয়ার জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক প্রতিবন্ধী সনদ থাকতে হবে। পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে ২ কর্মদিবস আগে অধ্যক্ষ বা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের তথ্য (প্রবেশপত্রের কপি ও প্রতিবন্ধী সনদের কপি) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বা সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবরে পাঠাতে হবে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র পৃথকভাবে সিলগালা করে অতিরিক্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, অনার্স ৩য় বর্ষ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর-১৭০৪ এই ঠিকানায় পাঠাতে হবে। প্যাকেটের উপরে ‘প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র’ লাল কালিতে লিখতে হবে।




ব্রিটিশ হাউস অব কমন্সে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে গোলটেবিল বৈঠক

গাজীপুর প্রতিনিধিঃ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক সংস্কার কার্যক্রম, কারিকুলাম হালনাগাদ এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের উদ্যোগকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্সের সদস্য ও উন্নয়ন সহযোগীরা প্রশংসা করেছেন। যুক্তরাজ্যের স্যালফোর্ড ইউনিভার্সিটির সঙ্গে একাধিক শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতা বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর হাউস অব কমন্সে এ গোল টেবিল আলোচনার আয়োজন করা হয়।

গত ২৬ নভেম্বর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও স্যালফোর্ড ইউনিভার্সিটির মধ্যে ডেটা সায়েন্স, মেশিন লার্নিং, পাবলিক হেলথ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এর ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বৃহত্তর ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম, ওল্ডহ্যামের এমপি জিম ম্যাকমেহোন এবং ওল্ডহ্যাম কাউন্সিলর আবদুল জব্বার।

অনুষ্ঠানে মূল বক্তা হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএসএম আমানুল্লাহ বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষায় ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে তত্ত্বাবধান করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। তাদের দক্ষতায় রূপান্তরে কারিগরি শিক্ষা, ডিজিটাল শিক্ষার প্রসার এবং এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই।

ব্রিটিশ এমপি জিম ম্যাকমেহোন বলেন, বৈশ্বিক অংশীদারত্ব ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা সহায়তার জন্য তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংস্কার কর্মসূচিরও প্রশংসা করেন।

গ্রেটার ম্যানচেস্টার বাংলাদেশ পার্টনারশিপের চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার বলেন, আধুনিক কারিগরি শিক্ষা ও ডিজিটাল দক্ষতা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের চাবিকাঠি। স্যালফোর্ড ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল এনগেজমেন্টের অধ্যাপক নিক বিচ এবং ডেটা সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ ব্যক্ত করেন এবং এআই-ভিত্তিক শিক্ষা সহায়তার আশ্বাস দেন।

এ ছাড়া আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি নূরানী রোপমা, ব্রিটিশ কাউন্সিলের সাউথ এশিয়ার পরিচালক ডেভিড নকস, স্যালফোর্ড ইউনিভার্সিটির উপউপাচার্য অধ্যাপক ভিকি, ব্রিটিশ কারিগরি শিক্ষা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক পলসহ ব্রিটিশ সরকারের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তাঁরা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অংশীদারত্বের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

গোল টেবিল আলোচনার সভাপতিত্ব করেন ব্রিটিশ এমপি জিম ম্যাকমেহোন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায়।