টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সম্প্রচার সংকটে আইসিসি বিপাকে

খেলাধুলা ডেস্কঃ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে দু’মাস বাকি। মাঠের প্রস্তুতির পাশাপাশি দল নির্বাচন নিয়ে যখন উত্তেজনা চূড়ান্ত, ঠিক তখনই বড় বিপাকে পড়েছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। বিশ্বকাপের ঠিক আগে ভারতীয় মিডিয়া পার্টনার জিও হটস্টার (JioHotstar) চুক্তি ভাঙতে চাইছে, ফলে টুর্নামেন্টের সম্প্রচার ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে বড় অনিশ্চয়তা।

২০২৪-২০২৭ মেয়াদে আইসিসিরর সম্প্রচার অংশীদার ছিল জিও হটস্টার। কিন্তু একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে চার বছরের এই চুক্তি ভেঙে বেরিয়ে যেতে চায় তারা।

চুক্তির অংশ হিসেবে আইসিসি প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার দাবি করেছিল, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২৭,০৩৪ কোটি রুপি।

২০২৩-২৪ আর্থিক বছরে জিও হটস্টারের ক্ষতি ছিল প্রায় ১২,৩১৯ কোটি রুপি। পরের বছর সেটি দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়ায় ২৫,৭৬০ কোটি রুপি।

স্পোর্টস কনটেন্ট কেনার বিপুল ব্যয়, সঙ্গে ভারতজুড়ে অনলাইন বেটিং ও রিয়াল মানি গেমিং নিষিদ্ধ হওয়ায় বিজ্ঞাপন ও আয়ের বড় অংশ হারায় সংস্থাটি।

জিও হটস্টারের সম্ভাব্য সরে দাঁড়ানোর খবর পাওয়ার পরই নতুন মিডিয়া পার্টনার খুঁজতে তৎপর আইসিসি। ২০২৬-২০২৯ মেয়াদে সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রির চেষ্টা চলছে। নেটফ্লিক্স, সোনি স্পোর্টস নেটওয়ার্ক ও অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওর সঙ্গে যোগাযোগও করেছে সংস্থা।

কিন্তু রিপোর্ট বলছে, মাত্র দুই বছরের চুক্তির জন্য আইসিসি প্রস্তাব করেছে ২.৪ বিলিয়ন ডলার।




টি–টোয়েন্টি সিরিজের আগে গিলকে ঘিরে ইতিবাচক খবর

খেলাধুলা ডেস্কঃ ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের সহ-অধিনায়ক শুভমান গিল চোটমুক্ত হয়ে অবশেষে মাঠে ফিরতে প্রস্তুত। বিসিসিআইয়ের সেন্টার অব এক্সেলেন্স (সিওই) শনিবার জানায়, ঘাড়ের ইনজুরি থেকে সেরে ওঠা গিলকে খেলায় ফেরার জন্য মেডিকেল ও স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগ সবুজ সংকেত দিয়েছে। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতেই তাকে মাঠে দেখা যেতে পারে।

গত মাসে সাউথ আফ্রিকার বিরুদ্ধে কলকাতা টেস্টের প্রথম ইনিংসে তিন বল খেলার পরেই ঘাড়ের সমস্যা নিয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন শুভমান গিল। পরে দ্বিতীয় টেস্টেও খেলতে পারেননি ডানহাতি এই ব্যাটার। এমনকি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের স্কোয়াডেও রাখা হয়নি তাকে।

তবে গত ৩ ডিসেম্বর গিলকে সহ-অধিনায়ক করে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দল ঘোষণা করে বিসিসিআই। কিন্তু স্কোয়াডে রাখলেও কেবল ফিটনেসের ছাড়পত্র পেলেই তিনি খেলতে পারবেন বলে জানানো হয়।

অবশেষে বিসিসিআইয়ের মেডিকেল ও স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগ গিলকে খেলার সবুজ সংকেত দিয়েছে। বিসিসিআইয়ের সিওই থেকে দল ব্যবস্থাপনার স্পোর্টস সায়েন্স অ্যান্ড মেডিসিন টিমকে পাঠানো বার্তায় বলা হয়েছে, শুভমান গিল সফলভাবে সব রিহ্যাব ধাপ সম্পন্ন করেছে এবং সব ফরম্যাটের ক্রিকেটে ফেরার জন্য প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ করেছে।

উল্লেখ্য, আগামী ৯ ডিসেম্বর কুটাকে শুরু হবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। এরপর চন্ডীগড়ে ১১, ধর্মশালায় ১৪, লখনৌতে ১৭ ও আহমেদাবাদে ১৯ তারিখ সিরিজের শেষ ম্যাচে লড়বে দুই দল।




এক বছরে সর্বাধিক ম্যাচ খেলে নতুন রেকর্ড গড়লেন সালমান

খেলাধুলা ডেস্কঃ ২০২৫ সাল পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসে হয়ে উঠেছে ব্যতিক্রমী। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তান দল ইতিমধ্যেই খেলেছে ৫৪টি ম্যাচ, যা চলতি বছরে বিশ্বের অন্য কোনো দলের চেয়ে অনেক বেশি। দলের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সালমান আঘা অংশ নিয়েছেন সবকটিতে, যা তাকে ইতিহাস গড়ার সুযোগ দিয়েছে।

রবিবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচে মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই আগা এই রেকর্ড গড়েন। এই ম্যাচে তিনি এক ক্যালেন্ডার বছরে সর্বাধিক আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার রেকর্ডে পৌঁছান ৫৪ ম্যাচে। এই রেকর্ডের আগে এক ক্যালেন্ডার বছরে সর্বাধিক ম্যাচ খেলার রেকর্ড ছিল ৫৩ ম্যাচ। তা দখল করেছিলেন রাহুল দ্রাবিড় (ভারত, ১৯৯৯), মোহাম্মদ ইউসুফ (পাকিস্তান, ২০০০) এবং এমএস ধোনি (ভারত/এশিয়া একাদশ, ২০০৭)। ১৯৯৭ সালে শচীন টেন্ডুলকার প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ৫০টির বেশি ম্যাচ খেলেছিলেন।

ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচে পাকিস্তান প্রথমে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৯৫ রান সংগ্রহ করে। ইনিংসের নায়ক ছিলেন বাবর আজম, খেলেন দৃষ্টিনন্দন ৭৪ রান (৫২ বল)। সালমান আঘা ৬ নম্বরে নেমে করেন মাত্র ১ রান। অন্যদিকে, ফখর জামান মাত্র ১০ বলে ২৭ রান করে ঝড় তোলেন।

জবাবে জিম্বাবুয়ে ১২৬ রানে অলআউট হয়। পাকিস্তানের বড় জয়ে অবদান রাখেন তরুণ স্পিনার উসমান তারিক, তিনি মাত্র দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১৮ রান খরচায় ৪ উইকেট নেন এবং হ্যাটট্রিকও পূর্ণ করেন।