ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলের দিকে মোড় নিচ্ছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট

খেলাধুলা ডেস্কঃ নিউজিল্যান্ডে ব্যক্তি মালিকানায় ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে চালু হতে যাচ্ছে। এনজেড টুয়েন্টি২০ নামে প্রতিযোগিতা ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে শুরুর পরিকল্পনা করছেন তারা।

প্রাথমিকভাবে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (সিপিএল) অনুরূপ মডেলে টুর্নামেন্টটি পরিচালিত হবে বলে আশা করছেন তারা। এর অনুমোদন দিবে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড। যদিও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব থাকবে ফ্র্যাঞ্চাইজির এর হাতে। মোট ৬টি ফ্র্যাঞ্চাইজি রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড এ নিয়ে এখনও কিছু জানায়নি।

নিউজিল্যান্ডে বর্তমানে সুপার স্ম্যাশ নামে ঘরোয়া টি-২০ টুর্নামেন্ট চালু আছে। এই টুর্নামেন্টে অকল্যান্ড অ্যাসেস, ক্যান্টারবেরি কিংস, সেন্ট্রাল স্ট্যাগস, নর্দার্ন ব্রেভ, ওটাগো ভলটস ও ওয়েলিংটন ফায়ারবার্ডস।

এনজেড টুয়েন্টি২০ এর প্রকল্পের সাথে জড়িত কর্মকর্তারা বিশ্বাস করেন লাইসেন্স নিশ্চিত হলে, তারা ঘরোয়াভাবে চালু হলে সুপার স্ম্যাশকে প্রতিস্থাপন করবে।

এনজেড টুয়েন্টি২০ এর প্রতিষ্ঠা কমিটির প্রধান ডন ম্যাককিনন বলেন, এই ধারণাটি নিউজিল্যান্ডের সাবেক খেলোয়াড়দের একটি দল থেকে এসেছে, যার মধ্যে স্টিফেন ফ্লেমিংও ছিলেন। এরপর তারা ফ্র্যাঞ্চাইজি-ভিত্তিক লীগে আগ্রহ যাচাই করার জন্য নিউজিল্যান্ড প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (এনজেডপিএ) এর সাথে যোগাযোগ করে।

ম্যাককিনন উল্লেখ করেন, সুপার স্ম্যাশ ক্রমবর্ধমানভাবে একটি উন্নয়নমূলক প্রতিযোগিতা হিসেবে কাজ করছে এবং ভক্তদের আগ্রহ অর্জনের জন্য লড়াই করছে। তিনি বিশ্বাস করেন, বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে এনজেড ঘরোয়া ক্রিকেটকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারে।




“উইন্ডিজকে উড়িয়ে সিরিজ জিতল নিউজিল্যান্ড”

খেলাধুলা ডেস্কঃ পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৮ উইকেটে হারিয়ে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতল নিউজিল্যান্ড। সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচের ফলাফল এসেছিল শেষ ওভারে। চতুর্থ ম্যাচ পরিত্যক্ত হয় বৃষ্টিতে। শেষ ম্যাচে লড়াই জমাতেই পারল না ক্যারিবিয়ানরা।

ডানেডিনে আজ বৃহস্পতিবার ক্যারিবিয়ানদের ১৪০ রানে আটকে রেখে কিউইরা জিতে যায় ২৬ বল বাকি রেখে। ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা জেকব ডাফি। ১০ উইকেট নিয়ে সিরিজের সেরাও এই পেসারই।

ক্যারিবিয়ানদের শুরুর ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা দূর করতে এ দিন তিন নম্বর ছেড়ে ওপেন করেন শেই হোপ। তবে ও ছক্কা-চার মেরেই তিনি বিদায় নেন। শুরুটা যদিও আলিক আথানেজকে দিয়ে। ১২ রানের প্রথম ওভারের পর দ্বিতীয় ওভারেই ফেরেন আথানেজ। এরপর তৃতীয় ওভারে ডাফি শিকার করেন তিন উইকেট! শর্ট বলে বড় শটের চেষ্টায় ফেরেন হোপ, মুভমেন্ট ও গতিতে বোল্ড হন আকিম ওগিস, বাজে শটে শূন্য রানে ফেরেন শেরফেন রাদারফোর্ড। এই নিয়ে চার ইনিংসে তৃতীয়বার শূন্যতে ফিরলেন রাদারফোর্ড। সবশেষ ১২ ইনিংসে শূন্যতে আউট হলেন পঞ্চমবার।

২১ রানে ৪ উইকেট হারানো ওয়েস্ট ইন্ডিজ সেভাবে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি। মিডল অর্ডারে কেবল রোস্টন চেইস ৩২ বলে ৩৮ রান করলেও অন্যরা দাঁড়াতে পারেননি। এক পর্যায়ে একশর নিচে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় ছিল তারা। আটে নেমে তিনটি করে চার ও ছক্কায় ২২ বলে ৩৬ রান করে দলকে ১৪০ রানে নিয়ে যান রোমারিও শেফার্ড।

ওই পুঁজি লড়াইয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি অনুমিতভাবেই। উদ্বোধনী জুটিতেই প্রায় অর্ধেক পথ পাড়ি দেয় নিউজিল্যান্ড। ৭ ওভারে ৬৯ রান তোলেন টিম রবিনসন ও ডেভন কনওয়ে। ২৪ বলে ৪৫ করে আউট হন রবিনসন। তিনে নেমে রাচিন রাভিন্দ্রা আউট হন ১৬ বলে ২১ করে। তবে কনওয়ে অপরাজিত রয়ে যান ৪২ বলে ৪৭ রান করে। শেষ দিকে দুটি ছক্কায় ম্যাচ দ্রুত শেষ করে দেন মার্ক চ্যাপম্যান (১৩ বলে ২১)। দুই দল এখন লড়বে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে। ক্রাইস্টচার্চে সিরিজটি শুরু আগামী রবিবার, পরের দুই ম্যাচ নেপিয়ার ও হ্যামিল্টনে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৮.৪ ওভারে ১৪০ (হোপ ১১, আথানেজ ১, ওগিস ৮, চেইস ৩৮, রাদারফোর্ড ০, পাওয়েল ১১, হোল্ডার ২০, শেফার্ড ৩৬, ফোর্ড ০, স্প্রিঙ্গার ৯*, সিলস ০; ডাফি ৪-০-৩৫-৪, জেমিসন ২-০-১৩-১, নিশাম ৩.৪-০-৩১-২ ব্রেসওয়েল ২-০-১৪-১, সোধি ৪-০-২৯-১, স্যান্টনার ৩-০-১৬-১)।

নিউজিল্যান্ড: ১৫.৪ ওভারে ১৪১/২ (রবিনসন ৪৫, কনওয়ে ৪৭*, রাভিন্দ্রা ২১, চ্যাপম্যান ২১*; ফোর্ড ৩-০-১৭-০, সিলস ৩-০-৪১-০, হোল্ডার ২-০-২৩-০, চেইস ৩-০-২৮-০, শেফার্ড ২.৪-০-২১-১, স্প্রিঙ্গার ২-০-৮-০)।

ফল: নিউজিল্যান্ড ৮ উইকেটে জয়ী।

সিরিজ: পাঁচ ম্যাচ সিরিজে নিউ জিল্যান্ড ৩-১ ব্যবধানে জয়ী।

ম্যান অব দা ম্যাচ: জেকব ডাফি।

ম্যান অব দা সিরিজ: জেকব ডাফি।