অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নতুন মাঠে ইতিহাস গড়তে নামবে বাংলাদেশ

খেলাধুলা ডেস্কঃ ২৩ বছর পর আবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ২০০৩ সালের পর প্রথমবারের মতো দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে আগামী ২০২৬ সালের আগস্টে অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবে টাইগাররা। আর এই সিরিজের অন্তত একটি ম্যাচ হতে পারে অজিদের একেবারে নতুন টেস্ট ভেন্যু ম্যাকাইয়ের ‘গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এরেনা’তে।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কুইন্সল্যান্ডের এই নতুন ভেন্যুটিকে অস্ট্রেলিয়ার ১২তম টেস্ট মাঠ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। নতুন স্টেডিয়ামটি ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের সক্ষমতা দেখিয়েছে।

রাজ্য সরকারের অর্থায়নে এখানে নির্মাণ করা হয়েছে ১০ হাজার আসনের গ্র্যান্ডস্ট্যান্ড, আধুনিক সম্প্রচার এলাকা ও উন্নতমানের প্রশিক্ষণ সুবিধা।

২০২৬ সালের আগস্টে সিরিজটি হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার প্রধান টেস্ট ভেন্যুগুলো ব্যবহারের সুযোগ নেই। তাই সারা বছর উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে দেশের উত্তরাঞ্চলের মাঠগুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছে সিএ।

ম্যাকাইয়ের পাশাপাশি কেয়ার্নস, ডারউইন ও টাউনসভিলও সম্ভাব্য ভেন্যুর তালিকায় রয়েছে। কেয়ার্নস ও ডারউইনে আগে টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ।

ক্রিকেট নর্দার্ন টেরিটরির প্রধান নির্বাহী গ্যাভিন ডোভি জানান, ডারউইন কমপক্ষে একটি ম্যাচ আয়োজন করতে পারবে বলে তারা আশাবাদী।




পাকিস্তানকে হারিয়ে সিরিজের নিয়ন্ত্রণ নিল বাংলাদেশ

খেলাধুলা ডেস্কঃ হার দিয়ে মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৯ টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তবে বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের পর পাকিস্তানের বিপক্ষে সহজ জয় তুলে নিল তারা। রবিবার (৭ ডিসেম্বর) কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে সফরকারীদের ৭ উইকেটে হারিয়েছে স্বাগতিকরা।

এই জয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজে এগিয়ে গেল জুনিয়র টাইগ্রেসরা। এদিন টস জিতে ব্যাট করতে নেমেই বিপর্যয়ে পড়ে পাকিস্তান। ইনিংসের শুরুতেই কোনো বল না খেলেই রানআউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার রাভাইল ফারহান। এরপর বাংলাদেশি বোলারদের তোপে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা।

মাত্র ২৪ রানে ৩ উইকেট এবং ৩১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা পাকিস্তান নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে কোনোমতে ৮৬ রান সংগ্রহ করে। দলের পক্ষে ইমান নাসির ২৩ ও মেমুনা খালিদ ১৯ রান করেন। বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে হাবিবা ও অতশী ২টি করে উইকেট শিকার করেন।

৮৭ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশেরও। দলীয় ৮ রানের মাথায় দুই ওপেনারকে হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়েছিল স্বাগতিকরা। তবে তৃতীয় উইকেটে প্রতিরোধ গড়েন জান্নাত ইমান্তা ও সাদিয়া ইসলাম। সাদিয়া ২৮ বলে ৩৫ রান করে ফিরলেও ইমান্তা ২৫ বলে ৩০ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন। শেষ পর্যন্ত ৩৯ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

অধিনায়ক সাদিয়ার হাতে ওঠে ম্যাচ সেরার পুরস্কার। একই মাঠে আগামী বুধবার (১০) সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল।




পাকিস্তানকে কম রানেই থামিয়েও জিততে পারলো না মেয়েরা

খেলাধুলা ডেস্কঃ তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দলকে মাত্র ৮৮ রানে আটকে দিয়ে ১৩ রানে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দল।

বুধবার কক্সবাজার একাডেমি মাঠে পাকিস্তানের দেয়া ৮৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ১৮.৫ ওভারে ৭৫ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। ফলে হাতের নাগালে থাকা সহজ লক্ষ্যটা স্পর্শ করতে পারল না স্বাগতিকরা।

৮৯ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। স্কোরবোর্ডে ২২ রান যোগ করতেই সাজঘরে ফেরেন শীর্ষ চার ব্যাটার। এরপর অরিত্র নির্জনা মণ্ডল (২০) এবং সাদিয়া আক্তার (১৬) বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।

শেষদিকে ববি খাতুন ১৩ রান করে কিছুটা আশা জাগালেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। পাকিস্তানি বোলারদের দাপটে ১৮.৫ ওভারে ৭৫ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।

পাকিস্তানের জয়ে বল হাতে বড় ভূমিকা রাখেন শাহর বানু ও রোজিনা আকরাম। শাহর বানু ৩টি উইকেট শিকার করেন। অন্যদিকে রোজিনা ৪ ওভারে মাত্র ৫ রান দিয়ে তুলে নেন ২ উইকেট।

এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শুরু থেকেই ধুঁকতে থাকে সফরকারীরা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১৯.৪ ওভারে ৮৮ রানেই অলআউট হয় তারা। তবে দলের বিপর্যয়ের মুখে ঢাল হয়ে দাঁড়ান অধিনায়ক ইমা নাসির। তিনি ৪১ বলে ৩০ রানের ধৈর্যশীল ইনিংস খেলেন। এছাড়া আরিশা আনসারি ২৩ বলে ২২ রান করে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন।

বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে উজ্জ্বল ছিলেন জারিন তাসমিন লাবণ্য। ৪ ওভারে মাত্র ১৪ রান খরচ করে তিনি তুলে নেন ২ উইকেট। সমানসংখ্যক উইকেট শিকার করেন হাবিবা ইসলাম পিংকিও।




হার দিয়ে অভিযান শুরু, সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ

খেলাধুলা ডেস্কঃ ব্যাটিং বিপর্যয়ে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৩৯ রানে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ। তাওহিদ হৃদয়ের লড়াকু হাফ-সেঞ্চুরিতে ১৪২ রানে শেষ হয় টাইগারদের ইনিংস।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১৮২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুতেই দ্রুত উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে টাইগাররা। পাওয়ার প্লের ছয় ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তুলতে পারে মাত্র ২০ রান। শুরুর এমন ধাক্কা সামাল দেন জাকের আলি ও তাওহিদ হৃদয়। দুজনই পরিস্থিতি সামলে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

একপর্যায়ে জাকের আলী ২০ রানে আউট হলেও একাই লড়াই চালিয়ে যান তাওহিদ হৃদয়। দলের বিপর্যয়ের মধ্যে তার লড়াকু ৫০ বলে অপরাজিত ৮৩ রানের ইনিংস বাংলাদেশকে কিছুটা স্বস্তি এনে দেয়। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেওয়ার লোগ না থাকায় বাংলাদেশের ইনিংস থামে ৯ উইকেটে ১৪২ রানে। এতে ৩৯ রানে পরাজয় হয় বাংলাদেশের। ফলে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় টাইগারদের।

এর আগে, টস হেরে ব্যাট করতে নামা আয়ারল্যান্ডের শুরুটা খারাপ হয়নি। দুই ওপেনার পল স্টার্লিং এবং টিম টেক্টর মিলে ওপেনিং জুটিতে তুলে ফেলেন ৪০ রান। ১৮ বলে ২১ রানের ইনিংস খেলে বিদায় নেন স্টার্লিং। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৪৮ রান তোলে আয়ারল্যান্ড।

তিনে নেমে টিমের সাথে যোগ দেন হ্যারি টেক্টর। পাওয়ারপ্লে শেষেও চলেছে আইরিশদের ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিং। দুই টেক্টরের উইলোবাজিতে চলেছে আইরিশ ঝড়। ১৯ বলে ৩২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে টিম থামেন দলের ৭১ রানের মাথাতে। চারে নেমে বেশি একটা সুবিধা করতে পারেননি লরকান টাকার। ১৪ বলে ১৮ রান করে সাজঘরে ফিরেছেন তিনি।

এরপর হ্যারি টেক্টরের সাথে যোগ দিয়েছেন কার্টিস ক্যাম্ফার। চলেছে দুজনের তাণ্ডব। টেক্টর তুলে নেন দারুণ এক ফিফটি। ক্যাম্ফার ১৭ বলে ২৪ রানের ইনিংস খেলেছেন। এরপর টেক্টরের সাথে যোগ দিয়েছেন জর্জ ডকরেল। শেষের দিকে ঝড় তুলেছেন হ্যারি টেক্টর। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে আয়ারল্যান্ডের রান ১৮০ পার করিয়েছেন টেক্টর। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৮১ রানের সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে আয়ারল্যান্ড। ৭ বলে ১২ রান করে টিকে ছিলেন জর্জ ডকরেল। ৪৫ বলে ৬৯ রান করে অপরাজিত ছিলেন হ্যারি টেক্টর। শেষ ওভারে এসেছে ১৭ রান।




ত্রিদেশীয় সিরিজ: বাংলাদেশ ঘোষণা করল ২৩ সদস্যের স্কোয়াড

খেলাধুলা ডেস্কঃ ত্রিদেশীয় নারী ফুটবল টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে ২৩ সদস্যের জাতীয় দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। আগের মতোই দলের নেতৃত্বে থাকছেন আফঈদা খন্দকার। সিরিজে বাংলাদেশ ২৬ নভেম্বর মুখোমুখি হবে মালয়েশিয়ার এবং ২ ডিসেম্বর খেলবে আজারবাইজানের বিপক্ষে।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) বাফুফে ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়া ও আজারবাইজানকে নিয়ে অনুষ্ঠিতব্য তিন জাতি সিরিজের জন্য দল ঘোষণা করেন প্রধান কোচ পিটার জেমস বাটলার। প্রত্যাশা থাকলেও আলোচিত পাঁচ সিনিয়র সাবিনা খাতুন, কৃষ্ণা রানী সরকার, সানজিদা ইসলাম, সুমাইয়া মাতসুশিমা ও মাসুরা পারভীন জায়গা পাননি স্কোয়াডে। সাফ ২০২৪ শেষে তারা এখনো জাতীয় দলের বাইরে রয়েছেন।

আগামী মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এএফসি উইমেন্স এশিয়ান কাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলছে বাংলাদেশ। এশিয়ার সর্বোচ্চ মঞ্চে এবারই প্রথমবার অংশ নিতে যাচ্ছে আফঈদারা।

সর্বশেষ অক্টোবরে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ নারী দল। সেই স্কোয়াডের ২৩ জনই জায়গা পেয়েছেন এই দলের মূল তালিকায়। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন মামনি চাকমা, যিনি মূল স্কোয়াডে আছেন, এবং তনিমা বিশ্বাস, যিনি স্ট্যান্ডবাই তালিকায় রয়েছেন। তার সঙ্গে রুমা আক্তারও স্ট্যান্ডবাই হিসেবে স্কোয়াডে নাম লিখিয়েছেন।

ত্রিদেশীয় সিরিজের জন্য বাংলাদেশের দল:
রুপনা চাকমা, মিলি আক্তার, স্বর্ণা রানী, নবীরন খাতুন, আফঈদা খন্দকার, কোহাতি কিসকু, মামনি চাকমা, শামসুন্নাহার সিনিয়র, হালিমা আক্তার, জয়নব বিবি, শিউলি আজিম, মারিয়া মান্দা, মনিকা চাকমা, মুনকি আক্তার, স্বপ্না রানী, উমহেলা মারমা, শাহেদা আক্তার, মোসাম্মত সুলতানা, মোসাম্মত সাগরিকা, তহুরা খাতুন, শামসুন্নাহার জুনিয়র, ঋতুপর্ণা চাকমা, সিনহা জাহান, রুমা আক্তার ও তনিমা বিশ্বাস।