নেসলে বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘দ্য গাট নেক্সাস’ বৈজ্ঞানিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

স্বাস্থ্য ডেস্কঃ নেসলে বাংলাদেশের আয়োজনে গত ৪ ও ৫ নভেম্বর রেডিসন ব্লু ঢাকায় দুই দিনব্যাপী বৈজ্ঞানিক সম্মেলন ‘দ্য গাট নেক্সাস’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে দেশ-বিদেশের ২৫০-এর বেশি গবেষক, বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল গাট মাইক্রোবায়োমের বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব ও মানুষের সার্বিক সুস্থতার সঙ্গে এর নিবিড় সম্পর্ক তুলে ধরা।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, মানুষের পেটে থাকা উপকারী জীবাণু বা গাট মাইক্রোবায়োম হজমশক্তি, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা এবং মানসিক সুস্থতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সম্মেলনে বিভিন্ন সেশন, প্রেজেন্টেশন, ইন্টারঅ্যাকটিভ আলোচনা এবং হাতে-কলমে শেখার কার্যক্রমের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা গাট হেলথ সংক্রান্ত আধুনিক গবেষণা ও বাস্তব প্রয়োগ সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন।

আন্তর্জাতিক আলোচকদের মধ্যে ছিলেন শ্রীলঙ্কার অধ্যাপক ড. শামান রাজেন্দ্রজিথ, যিনি শিশুদের গাট মাইক্রোবায়োমের বিকাশ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকে সঠিক মাইক্রোবায়োম গড়ে উঠলে জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়। নেদারল্যান্ডসের অধ্যাপক ড. মার্ক এ বেনিঙ্গা শিশুদের কলিক সমস্যা ও গাটের ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্যহীনতার ওপর তাঁর গবেষণা উপস্থাপন করেন।

বাংলাদেশি বাস্তবতা সামনে রেখে ড. মো. ইকবাল হোসেন গাটবান্ধব খাবার, প্রিবায়োটিক, প্রোবায়োটিক ও সিনবায়োটিক গ্রহণের সুবিধা এবং শিশুদের পুষ্টি উন্নয়নে করণীয় বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, “দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় বায়োটিকস যুক্ত হলে হজমশক্তি ও সার্বিক সুস্থতায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসে, যা জীবনমান উন্নত করতে সহায়তা করে।”

কর্মশালায় প্রোবায়োটিক ও সিনবায়োটিক সম্পর্কিত আধুনিক গবেষণার ভিত্তিতে প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা সরাসরি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও গবেষণা পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পান, যা নেসলে বাংলাদেশের গবেষণানির্ভর নিউট্রিশন উদ্ভাবনের প্রতিশ্রুতি আরও দৃঢ় করে।

নেসলে বাংলাদেশ জানিয়েছে, এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা নিশ্চিত ও বিজ্ঞাননির্ভর সমাধানের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর জীবনধারা গড়ে তোলার অংশ। বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগের মাধ্যমে নেসলে বিশ্বব্যাপী গাট হেলথ এডুকেশনে নেতৃত্ব দিচ্ছে।




মল পানিতে ভেসে গেলে কি স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে?

স্বাস্থ্য ডেস্কঃ সম্প্রতি ইউরোপিয়ান জার্নাল অব গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি অ্যান্ড হেপাটোলজিতে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু মানুষের মল পানিতে ভাসতে পারে। সাধারণত মল পানির চেয়ে ভারী হওয়ায় এটি ডুবে যায়, তবে মলে যদি বাতাস বা চর্বি বেশি থাকে, মল ভেসে যেতে পারে।

গবেষণায় ১,২৫২ জন রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। দেখা গেছে, ফাংশনাল বাওয়েল ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত রোগীদের ২৬ শতাংশের মল পানিতে ভেসেছে। অন্য ফাংশনাল পরিপাকতন্ত্র সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে এ হার ৩ শতাংশ।

ফাংশনাল বাওয়েল ডিজঅর্ডার হল এমন একটি সমস্যা যেখানে অন্ত্রে গঠনগত কোনো ত্রুটি না থাকলেও অন্ত্র স্বাভাবিকভাবে কাজ করে না। এছাড়া অতিরিক্ত আঁশ বা চর্বিযুক্ত খাবার, দুধের ল্যাকটোজ ও ফলের ফ্রুকটোজও মলকে ভাসমান করতে পারে।

তবে বিশেষ কোনো অসুবিধা না থাকলেও কিছু লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি:

  • মল দীর্ঘদিন ভেসে থাকা

  • স্বাভাবিকের চেয়ে দুর্গন্ধযুক্ত বা আঠালো মল

  • রক্তসহ মল বা টয়লেট পেপারে রক্ত দেখা

  • ওজন কমা, পেট ব্যথা, অতিরিক্ত গ্যাস

গবেষকরা জানাচ্ছেন, মল ভেসে থাকা সাধারণত স্বাভাবিক হলেও খাবার ও অভ্যাসের প্রতি মনোযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।